10152019মঙ্গল
ডেস্ক ইঞ্জিনে আগুন ধরেছে এমন সংকেতের ভিত্তিতে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমান মেলবোর্নে জরুরি অবতরণ করেছে। মেলবোর্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওই মুখপাত্র জানান, মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট 'এমএইচ-১৪৮' শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা ২ টা ১৬ মিনিটে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে মেলবোর্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে। তবে উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরই বিমানটি মেলবোর্ন বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে। বিমানটিতে ৩০০ যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। এয়ারসার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়া জানায়, বিমানটির ইঞ্জিনে আগুন ধরেছে- এয়ারক্রাফট সিস্টেম থেকে এমন সংকেত পেয়ে এটিকে জরুরি অবতরণ করানো হয়। তবে অবতরণের পর বিমানটির বাইরের অংশে আগুনের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার পর এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জরুরি অবতরণের পর মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের প্রকৌশলী ও বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্টরা 'এয়ারবাস ৩৩০' পরীক্ষা করে দেখছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে বিমানটির বাইরের অংশে আগুনের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধান চলছে। 'নিরাপত্তাই মালয়েশিয়ার এয়ারলাইন্সের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ'- একথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, এমএইচ-১৪৮ ফ্লাইটটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। মেলবোর্নের মেট্রোপলিটন দমকল বাহিনী জানায়, বেলা ২ টা ২২ মিনিটে তাদেরকে তলব করা হয়। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাতে পারেননি তারা। এর আগে গত বছর মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের দুটি বিমান বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয়। এর মধ্যে গত বছরের মার্চে যাত্রী ও ক্রুসহ ২৩৯ জন আরোহী নিয়ে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে চীনের বেইজিং যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় ফ্লাইট 'এমএইচ-৩৭০'। এখন পর্যন্ত ওই ফ্লাইটের কোনো খোঁজ মেলেনি। এছাড়া গত জুলাইয়ে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম থেকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে যাওয়ার পথে ইউক্রেনের আকাশসীমায় ভূমি থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয় মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট 'এমএইচ-১৭'। ওই ঘটনায় ২৮৩ যাত্রী ও ১৫ ক্রুসহ বিমানটিতে থাকা ২৯৮ জন আরোহীর সবাই মারা যায়।
ডেস্ক, নিউজফ্ল্যাশ টুয়েন্টিফোরবিডি ডটকম মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সকে 'কার্যত দেউলিয়া' বলেছেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী। প্রায় ৬,০০০ কর্মী ছাটাই করে সংস্থাটির পুনর্গঠনের একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স। গতবছর দুটি বিমান দুর্ঘটনার পর সংস্থাটিকে জাতীয়করণ করা হয়। এয়ারলাইন্সটি বলছে, তারা তাদের ২০,০০০ কর্মীর মধ্যে ১৪,০০০ জনকে তারা চাকুরী রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। কর্মী ছাটাইয়ের ঘোষণা আগেই ধারণা করা হয়েছিল এবং মে মাসেই নতুন প্রধান নির্বাহী ক্রিস্টফ মুলারের নিয়োগের পরই ঘোষণাটি আসলো। "আমরা কার্যত: দেউলিয়া" এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন মি. মুলার। "২০১৪ সালের হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলোর অনেক আগেই আমাদের পতন শুরু হয়েছিলো।" তিনি বলেন। তবে এয়ারলাইন্সটি স্বাভাবিকভাবেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং কোন ফ্লাইটও প্রভাবিত হয়নি। গতবছরের মার্চে ২৩৯ জন যাত্রী এবং ক্রু নিয়ে এমএইচ ৩৭০ বিমানটি নিখোঁজ হয়। সেই বিমানটি এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর চার মাস পর, এমএইচ ১৭ ফ্লাইটটি ইউক্রেনের আকাশসীমায় মিসাইল হামলায় ভূপাতিত হয়। ঐ ঘটনায় ২৯৮ জন যাত্রী এবং ক্রু নিহত হয়। বিবিসি।
ডেস্ক মাঝ-আকাশে বিমানের দু’টি ইঞ্জিনই সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ভয়ানক সেই অভিজ্ঞতা পেরিয়ে অবশ্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন ১৮২ জন যাত্রী। সম্প্রতি সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের সাংহাইগামী বিমান এসকিউ৮৩৬ তেমন বিপত্তির মুখেই পড়েছিল। শেষমেশ খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার ফুট নীচে নেমে বড় দুর্ঘটনা এড়াতে পেরেছেন বিমানচালক। কিন্তু মাঝ-আকাশে কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল, তার তদন্ত শুরু করেছে বিমান সংস্থা। গত শনিবার সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর থেকে সাংহাইয়ের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল এসকিউ৮৩৬। বিমান সংস্থার মুখপাত্র জানান, ওড়ার সাড়ে তিন ঘণ্টা পরে ৩৯ হাজার ফুট উচ্চতায় ঘটনাটি ঘটে। বিমানের দু’টি ইঞ্জিনই সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বিমানচালক ১৩ হাজার ফুট নীচে নেমে পরিস্থিতি সামাল দেন। পরে সাংহাইয়ে ঠিকঠাক অবতরণও করেন। কিন্তু মাঝ আকাশে ১৮২ জন যাত্রী এবং ১২ জন বিমানকর্মীর এ ভাবে প্রাণসংশয় হওয়ায় ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সংস্থা। যদিও সংস্থার মুখপাত্রের দাবি, ওড়ার আগে বিমানের ইঞ্জিন দু’টি পরীক্ষা করা হয়েছিল। সাংহাই নামার পরেও সেগুলি ফের খতিয়ে দেখা হয়। কোনও অস্বাভাবিকতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিমান পরিষেবায় দু’টি ইঞ্জিনই বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা বিরল। তবে এমন ঘটলে কী করতে হবে, তার প্রশিক্ষণও পাইলটদের দেওয়া হয়। বিমানে ত্রুটি নেই অথচ মাঝ আকাশে তা বন্ধ হয়ে গেল কেন? অভিজ্ঞ পাইলট সর্বেশ গুপ্ত একটি সম্ভাবনার কথা বলছেন। তাঁর মতে, ৩৯ হাজার ফুট উচ্চতায় তাপমাত্রা অনেক কম থাকে। তখন বরফে ইঞ্জিন অনেক সময় জমে যেতে পারে। তার জন্য সাধারণত বিমানে অ্যান্টি আইসিং সিস্টেম থাকে। কিন্তু সেটি হয়তো এই বিমানের ক্ষেত্রে কাজ করেনি বলে মনে করছেন সর্বেশ। ওই বিমানের পাইলট দ্রুত অনেক কম উচ্চতায় নেমে এসেছিলেন, এই তথ্য জানিয়ে সর্বেশ বলছেন, যদি বরফের জন্যই ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে চালক কম উচ্চতায় নেমে আসায় তাপমাত্রা বেড়েছে। বরফ গলে গিয়ে ইঞ্জিন ফের চালু হয়ে গিয়েছে। তবে আদৌ এই কারণেই বিপত্তি ঘটেছিল কিনা, সে সবই এখন খতিয়ে দেখবে বিমান সংস্থা।
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের (এইচএসআইএ) তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে এগিয়ে নেওয়া এবং ক্রমবর্ধমান যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, দ্বিতীয় রানওয়ে এবং অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রণীত প্রাথমিক সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন ও খসড়া মাস্টারপ্লানের উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশনা দিয়ে বলেন, দেশের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় বাংলাদেশে অবশ্যই একটি আধুনিক ও বৃহৎ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে। এ ব্যাপারে দেশের বিমান বন্দরের উন্নয়নের জন্য তিনি তাঁর সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, তাঁর সরকারই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের দ্বিতীয় টার্মিনাল নির্মাণ করেছে। এছাড়া সিলেট ওসমানি এবং চট্টগ্রামে শাহ আমানত বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উন্নীত করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, কক্সবাজার ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঈশ্বরদী বিমান বন্দরের আরো উন্নয়ন করা হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদারে এসব বিমান বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র জানায়, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী হ্যান্ডেলিং সক্ষমতা প্রায় ৮ মিলিয়ন। চলতি অর্থ বছরে ৬ দশমিক ৭ মিলিয়ন যাত্রী এই বিমান বন্দর ব্যবহার করেছে এবং যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধির হার ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। বিমানবন্দরের বার্ষিক কার্গো হ্যান্ডেলিং সক্ষমতা ২ লাখ টন, বর্তমানে এই বিমান বন্দরের মাধ্য ২ দশমিক ৩৭ লাখ টন কার্গো পরিবহন করা হচ্ছে। অর্থাৎ বর্তমানে বিমানবন্দরের সক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত ১৮ শতাংশ কার্গো হ্যান্ডেলিং করছে। ক্রমবর্ধমান যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে একটি মাস্টারপ্লান তৈরিতে কোরিয়ার ইয়ুসহিন, সিঙ্গাপুরের সিপিজি এবং বাংলাদেশের ডিডিসি’র সমন্বয়ে একটি যৌথ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ১০ মাসের মধ্যে বিমান বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই ও একটি নতুন মাস্টারপ্লান তৈরি করে। মাস্টারপ্লান অনুযায়ী দু’টি পর্যায়ে বিমান বন্দর সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন করা হবে। মাস্টারপ্লানে প্রথম পর্যায়ে দ্বিতীয় রানওয়ে বাদে সকল অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে, তৃতীয় টার্মিনাল, কার্গো ভিলেজ, ভিভিআইপি কমপ্লেক্স এবং অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল। প্রথম পর্যায়ের কাজ চলতি বছর শুরু হয়ে ২০১৯ সালে শেষ হবে। প্রথম পর্যায়ের কাজে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৭ শ কোটি টাকা। দ্বিতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় রানওয়েসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে আনুমানিক ২ হাজার ৩ শ কোটি টাকা। সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ বাস্তবায়ন পুনঃমূল্যায়ন করা হতে পারে। সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে এইচএসআইএ সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সমীক্ষা রিপোর্টের আলোকে যথাসম্ভব দ্রুত প্রথম পর্যায়ের কাজ বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। সিএএবি মনে করে, এইচএসআইএ সম্প্রসারণের প্রথম কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি এখনই বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর নির্মাণ শুরু করা উচিত। অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, মন্ত্রণালয়ের সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম সানাউল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার, 09 মে 2015 08:20

পর্যটকশূন্য জাফলং

সিলেট সংবাদদাতা এবার দীর্ঘ হরতাল-অবরোধের কারণে পর্যটকরা ছিলেন এমনিতেই ত্যাক্ত-বিরক্ত। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সিলেটসহ সারাদেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো হয়ে পড়ে জনশূন্য। পর্যটন মৌসুম শীতকালটা এমনিতেই শেষ হয়ে যায় হরতাল-অবরোধে। বহু প্রতীক্ষিত সময়টা উপভোগ হয়নি পর্যটকদের। প্রকৃতিপ্রেমী বেশিরভাগ মানুষের আকর্ষণ শীতকাল। শীতে ঘুরতে সুবিধা বেশি। এবার শীতকালটা হয়ে পড়ে বৈরী। সেটা প্রাকৃতিক করণে নয়, ছিল রাজনৈতিক কারণ। এরপরও মার্চের শেষদিকে এপ্রিলের শুরুতে কিছু পর্যটক ছুটে আসেন সিলেটের পর্যটন এলাকাগুলোতে। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের নিকট সিলেটের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে হযরত শাহজালাল (র:) ও হযরত শাহপরান (র:)-এর মাজার। প্রকৃতি কন্যা জাফলং, মাধবকুণ্ড, পাহাড়, ঝর্ণাসহ সিলেটের নয়নাভিরাম চা-বাগান, বিশাল হাওর, পানির নীচে সাদা বোল্ডার পাথর, বন-বনানীসহ নানা প্রাকৃতিক সম্পদ দেখতে আসেন তারা। কিন্তু বিধিবাম কিছুদিন যেতে না যেতে শুরু হয় ঝড়-বৃষ্টি। সেই সাথে রাস্তা-ঘাটের অবস্থাও করুণ আকার ধারণ করেছে। আনন্দে আবার ভাটা। বিশেষ করে সিলেট-তামাবিল-জাফলং সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গা রাস্থাগুলো হয়ে উঠেছে আরো বিপদসংকুল। পর্যটকরা ত্যাক্ত বিরক্ত। স্থানে স্থানে ভাঙ্গা সড়কে যানবাহন আটকা পড়ে। রোদ উঠলে এসব সড়কের ধূলায় মানুষ অতিষ্ঠ। সারি সারি চা বাগান, উঁচু নিচু পাহাড় টিলা, গহীন অরণ্য ও ঝর্ণা ধারা দেখার স্বাদটি তেতো হয়ে উঠেছে পর্যটকদের। শীতের পর বর্ষায় অনেক পর্যটক আসেন পাহাড় থেকে নেমে আসা ভারতের ডাউকী ও বাংলাদেশের পিয়াইন নদীর সংযোগ দেখতে। কিন্তু আশপাশ এলাকায় যেনতেনভাবে পাথর তোলায় এলাকার দৃশ্যটি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অনেক আশা নিয়ে আশা শত শত পর্যটক এখানে এসে হতাশ হয়ে পড়েন। কয়েকদিন আগেও বেশকিছু পর্যটকের ভিড় ছিল জাফলং এলাকায়। কদিন থেকে আবার পর্যটক তেমন আসছেন না বলে জানান ঐ এলাকায় হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, মূলত এখন রাস্তাঘাটের দূরবস্থার দরুন পর্যটক আসছেন না। সৌন্দর্য পিয়াসী নানা বয়সের নারী-পুরুষ জাফলং-এর পাহাড়ী পিয়াইন নদীতে অবগাহনে যেখানে সরব থাকার কথা সেখানে অনেকটাই নীরব এখন। সিলেট-জাফলং-তামাবিল প্রায় ৫৮ কিলোমিটার সড়কের দেখভালের দায়িত্ব সড়ক ও জনপথের। কিন্তু সড়ক মেরামতের পরই ভেঙ্গে যাচ্ছে জানিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীরা বলেন, এই সড়ক দিয়ে ১৫ টন মালামাল পরিবহনের ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু সারা বছর এ পথে ২৫-৪০ টন পাথর পরিবহন করা হয়। এতে সড়কটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সওজ সূত্র জানায়, জৈন্তা উপজেলার সারীঘাট এলাকার ৪০০ মিটার সড়কে সংস্কার চলছে। কর্মকর্তারা জানান, আগামী শুষ্ক মৌসুমে ১৫-১৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভারি যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণে না আসলে আবার তা ভেঙ্গে যাবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বৃহস্পতিবার বিকেলে বিমান প্রধান কার্যালয়ে নব-নির্মিত ‘বিমান ডে-কেয়ার সেন্টার’-এর শুভ উদ্বোধন করেন। বিমানবন্দর এলাকায় কর্মরত বিমান মহিলা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শিশু ও নাবালক সন্তান-সন্ততিরা অফিস চলাকালীন সময়ে এই ডে-কেয়ার সেন্টার-এ থাকা ও প্রতিপালিত হওয়ার সুযোগ-সুবিধা পাবে। কর্মজীবি মায়েদের সন্তান-সন্ততিদের জন্য এই সুবিধার আয়োজন করা সংস্থার জন্য শ্রম আইনে আবশ্যিক।

মন্ত্রী ‘ডে-কেয়ার সেন্টার-টি নির্মানের জন্য বিমান ব্যবস্থাপনাকে ধন্যবাদ জানান। বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল জামাল উদ্দিন আহমেদ (অবঃ), বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কায়েল হেয়্যূড, বিমান সিবিএ-র সভাপতি মশিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মন্তাছার রহমানসহ বিমানের সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বিমান ডে-কেয়ার সেন্টার-টি বিমান প্রধান কার্যালয়, বলাকা ভবনের নীচ তলায় অবস্থিত। বাচ্চাদের থাকার জন্য এটিকে যথাসম্ভব সু-সজ্জিত করা হয়েছে। একটি ডে-কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য ২০১০ সালে বিমানের মহিলা কর্মচারীরা ব্যবস্থাপনাকে অনুরোধ জানায়।

বিমানবন্দর সংলগ্ন বিমান অফিসগুলিতে বর্তমানে ২৮ জন মহিলা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যেকের ৫ বছরের নীচে শিশু সন্তান রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিমানবাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, জাতীয় গৌরব, এভারেস্ট জয়ী ও বাংলাদেশের পর্যটন দূত মুসা ইব্রাহীম ও তাঁর টীমকে ঢাকা-লন্ডন-ঢাকা রুটে ৩টি সৌজন্য টিকেট দিয়েছে। মুসা ইব্রাহীমএবার যুক্তরাজ্যের ৩টি সর্বোচ্চ পাহাড় চূড়ায় ২৪ ঘন্টায় গমন করবেন। এ উদ্দেশে তিনি আগামী ১৯ এপ্রিল যুক্তরাজ্যেও উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। ৩টি চূড়ার প্রথমটি স্কটল্যান্ডেযার উচ্চতা ৪,৪০৯ ফিট,দ্বিতীয়টি ইংল্যান্ডেযার উচ্চতা ৩,২০৯ ফিট এবং তৃতীয়টি ওয়েলস-এযার উচ্চতা ৩,৫৬০ ফিট।

বুধবার বিমান প্রধান কার্যালয় বলাকা’-য় পরিচালক বিপণন ও বিক্রয় শাহ নেওয়াজ মুসা ইব্রাহীমের হাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের কর্পোরেট পতাকা হস্তান্তরকরেন, যেটি মুসা বাংলাদেশের হয়ে বিমানের পক্ষে সর্বোচ্চ চূড়ায় মেলে ধরবেন। 

বিমানের সহকারি জনসংযোগ ব্যবস্থাপক তাছমিন আকতার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার যাত্রীদের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে সেবার মান বৃদ্ধি এবং জাতীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজের ভাবমূর্তি রক্ষা করার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

বিকেলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে জাতীয় পতাকাবাহী বিমানের সাতটি অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা এবং নতুন কেনা দুইটি ‘ড্যাশ৮ কিউ৪০০’ উড়োজাহাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ বিমানকে আরও লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসাবে দেখতে চাই। এটা অর্জন করতে হলে জাতীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজকে সেবার মান বৃদ্ধি ও ভাবমূর্তি রক্ষার মাধ্যমে যাত্রীদের আরও বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তাই আমি বিমান কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব বিশেষ নজর দিতে, যাতে এর সেবা ও পরিচালনার মান আন্তর্জাতিক মানের, সময়োপযোগী এবং আরও আধুনিক হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানকে যাতে আরও লাভজনক করা যায় সেলক্ষ্যে জাতীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজকে সময়োপযোগী ও সেবাধর্মী করার জন্য কার্গো ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে, আর আমরা কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান নির্মাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। এ জন্য খাদ্যসামগ্রী রফতানির জন্য কার্গো ব্যবস্থা প্রয়োজন এবং শুধুমাত্র যাত্রী পরিবহন করে কোন বিমান সংস্থাই লাভজনক হয় না।
তিনি আরও বলেন, তাই আমরা চাই, এ লক্ষ্যে মনোযোগ সহকারে আপনারা যথাযথ পদক্ষেপ নিবেন।

অনুষ্ঠানে আর বক্তব্য রাখেন- বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী, বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) জামালউদ্দিন আহমেদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইল হেউড।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমান বহরে ড্যাশ-৮-কিউ-৪০০ মডেলের দু’টি এয়ারক্রাফ্ট সংযোজনের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে বিমানের ফ্লাইট পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। জনগণকে দেওয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি পুরণ হতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আজ থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ রাজশাহী, যশোর, বরিশাল, সৈয়দপুর এবং কক্সবাজারে বিমানের ফ্লাইট চলাচল জনগণের দীর্ঘদিনের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর পরই যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় সংস্থা ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স’ গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আমরা বিএনপি-জামাত জোটের ধ্বংসস্তুপ থেকে তুলে বিমানে আবার নতুন গতির সঞ্চার করি। বন্ধ হয়ে যাওয়া রুটগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেই। ঢাকা-দিল্লি, ঢাকা-ইয়াঙ্গুন ও ঢাকা-হংকং রুটে আবার ফ্লাইট চালু করি।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোট দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক করে রেখেছিল। আমরা সরকারে এসে বিমানবন্দরগুলোর মান বৃদ্ধি করি। নিরাপদ বিমান অবতরণ এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বিমানকে বিশ্বের উন্নত বিমান সংস্থাগুলোর সমকক্ষ করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছি। আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সন্নিবেশ করা হয়েছে। ই-টিকেটিং চালু, অনলাইন বুকিং, যাত্রীদের আসন সংরক্ষণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে টিকেট ক্রয়ের সুবিধা প্রবর্তন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিমানবন্দরের রানওয়ের উন্নয়ন, পার্কিং ফ্যাসিলিটি বৃদ্ধি এবং আপগ্রেডেশন বাস্তবায়নের কাজ করা হচ্ছে। তৃতীয় টার্মিনাল ও দ্বিতীয় রানওয়ে নির্মাণের কাজও হাতে নেয়া হয়েছে। যাত্রীসেবা বৃদ্ধির লক্ষে ৩২টি বোর্ডিং ব্রিজ সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করতে আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। বাগেরহাটে একটি বিমানবন্দর নির্মাণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার অদূরে আন্তঃমহাদেশীয় যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তাবিত সর্বাধুনিক বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের চূড়ান্ত স্থান নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশ বিমানের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষে ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ বিমান বহরে যুক্ত হয়েছে। এ বছরের মধ্যে আরও ২টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৪টি ৭৮৭-৮ উড়োজাহাজ আগামী ২০১৯ ও ২০২০ সালে বোয়িং কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে হস্তান্তর করবে। বিমান বহর বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২টি ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজ ঈজিপ্ট এয়ার হতে লীজে সংগ্রহ করা হয়েছে। ২০২৩ সাল নাগাদ বহরে বিমানের সংখ্যা ৩০টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বিমান শুধু সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও। দেশের-অভ্যন্তরে ঢাকার সাথে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ শহরের সংযোগ পুনঃস্থাপনের মধ্য দিয়ে বিমান আজ যে সাফল্যের সিঁড়ি অতিক্রম করল তা ধরে রাখতে হবে। বিমানের যাত্রী সেবা বিশেষ করে- ইন ফ্লাইট সার্ভিস, লাগেজ ব্যবস্থাপনা, কার্গো সার্ভিসের উন্নতি করতে হবে।
প্
রধানমন্ত্রী বিমানকে লাভজনক, যুগোপযোগী ও আরো সেবাধর্মী করার লক্ষে জয়েন্ট ভেঞ্চার এবং বৃহৎ এয়ারলাইন্স এর সাথে কোড শেয়ারিং এর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আহবান জানান। এ দু’টি কার্যক্রম গ্রহণে বিমানকে সরকারের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা লন্ডন, কুয়ালালামপুর, জেদ্দা, দাম্মাম, রিয়াদ এবং ব্যাংককে ফ্লাইট শিডিউল বৃদ্ধি করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছি। পর্যটন বর্ষে দেশি-বিদেশি প্রায় ১০ লক্ষ পর্যটক বাংলাদেশে আগমন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আমার প্রত্যাশা বাংলাদেশ বিমান এ সকল পর্যটক পরিবহন কাজে সর্বোচ্চ সেবা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখবে। দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

পরে প্রধানমন্ত্রী কেক ও ফিতা কেটে ‘মেঘদূত’ ও ‘ময়ুরপঙ্খী’ নামে বিমান দুইটির শুভ উদ্বোধন করেন। উল্লেখ্য, বিমান দুইটির নামকরন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই কনে।
তিনি বিমানের অভ্যন্তরীন ফ্লাইট পরিচালনারও শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
ডেস্ক

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অভ্যন্তরীণ রুটে আরও দুটি উড়োজাহাজ যুক্ত হয়েছে। 'ড্যাশ৮' ও 'কিউ৪০০' মডেলের উড়োজাহাজ দুটি শুক্রবার বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
 
আগামী ৫ এপ্রিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে বিমানের অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরদিন ৬ এপ্রিল থেকে উড়োজাহাজ দুটি অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। খবর বাসসের
 
কানাডায় তৈরি ৭৪ আসনের উড়োজাহাজ দুটি মিসরের স্মার্ট এভিয়েশেনের কাছ থেকে ৫ বছরের জন্য ভাড়া নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
 
৬ এপ্রিল থেকে সপ্তাহে কক্সবাজার রুটে ৬টি, যশোর রুটে ৫টি, রাজশাহী ও সৈয়দপুর রুটে ৩টি করে এবং বরিশাল রুটে ২টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান। এছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটে সপ্তাহে অতিরিক্ত ২৫টি ফ্লাইট বাড়ানো হবে। এসব ফ্লাইট মিলে অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি সপ্তাহে বিমান ১২০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

ডেস্ক, নিউজফ্ল্যাশ টোয়েন্টিফোরবিডি ডটকম

বাংলাদেশে বিমান দূর্ঘটনায় একজন শিক্ষানবীশ পাইলটের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ করছে তার পরিবার।

ঐ দূর্ঘটনায় শিক্ষানবীশ বৈমানিক তামান্না রহমান নিহত হন, তবে স্থানীয়দের তৎপরতায় বেঁচে যান প্রশিক্ষক।

প্রশিক্ষক প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি বলছে, তারা সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেই প্রশিক্ষন দিয়ে থাকেন।

পয়লা এপ্রিল রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে তামান্না রহমান এবং তার প্রশিক্ষকে নিয়ে প্রশিক্ষন বিমানটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই জরুরী অবতরণের সময় তাতে আগুন ধরে যায়।

দূর্ঘটনাকবলিত বিমানটি থেকে প্রশিক্ষককে তাৎক্ষনিকভাবে উদ্ধার করে স্থানীয়রা, কিন্তু আগুনের কারণে তামান্না রহমানকে তারা উদ্ধার করতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার তামান্না রহমানের বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমির অনুপযুক্ত বিমান এবং প্রশিক্ষকের অবহেলার কারণেই এই দূর্ঘটনা ঘটেছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করছেন বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমির প্রধান ক্যাপ্টেন মফিদুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, “এয়ারক্রাফটের কোন ত্রুটি থাকলে সেটা ওড়ানোর অনুমতি আমাদের নেই। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সবসময় আমাদের বিমানগুলো মনিটর করে।”

বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো বৈমানিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি। ১৯৪৮ সাল থেকে এই একাডেমি থেকে প্রশিক্ষন নিয়েছে ৭০০ এর বেশি পাইলট এবং প্রতিবছর গড়ে ৭-৮ জন বৈমানিক এখানে প্রশিক্ষন নেন। ফ্লাইং একাডেমি বলছে, বড় ধরণের দূর্ঘটনা তাদের খুব কম হয়েছে।

বাংলাদেশ পাইলট এসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন নাসিমুল হক বলছেন, সাধারণত: বাংলাদেশের প্রশিক্ষন কেন্দ্রগুলো নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন এবং বিমানবন্দরেও নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে। তবে নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা থাকেন তাদের অবহেলা থাকতে পারে।

মি. হক বলেন, “নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে, কিন্তু সেগুলোকে কে এবং কিভাবে ব্যবহার করছে সেটাই কথা। কোন ব্যাক্তির ব্যর্থতার কারণেই অবহেলা হয়। যেমন এখানে শোনা যাচ্ছে ফায়ার ব্রিগেড এসেছে অনেক পরে, এমনটা হবার কথা না।”

তামান্না রহমানের দূর্ঘটনার মূল কারণ কি প্রশিক্ষকের ভুল নাকি যান্ত্রিক গোলোযোগ তা হয়তো তদন্তের পর জানা যাবে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, দূর্ঘটনার পরপর নিরাপত্তা ব্যবস্থা যদি ঠিকভাবে কাজ করতো তবে হয়তো তাঁর জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো।বিবিসি বাংলা।