09302020বুধ
শিরোনাম:
কূটনৈতিক রিপোর্টার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে তার জীবন ও কর্মের ওপর অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার মানুকাআর্ট সেন্টারে ‘হুও ডেভিস’ গ্যালারিতে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ হাইকমিশনের আয়োজনে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া প্রদর্শনীটি ১৩ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকছে। প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক নেতা হিসেবে গড়ে ওঠা, বাঙালির অধিকার ও মুক্তির আন্দোলনে নেতৃত্ব দান, তৎকালীন বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ ও সখ্যতা ছাড়াও ব্যক্তি মুজিব ও পারিবারিক জীবনে অনন্য মুজিবকে বিভিন্ন দুর্লভ ছবির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। প্রায় একশ অতিথির উপস্থিতিতে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনীতে বাংলাদেশ হাইকমিশনার সুফিউর রহমান ছাড়াও ভারত, রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতসহ ২৫টি দেশের মিশন প্রধান অংশ নেন। এতে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও ফেডারেল কর্মকর্তাসহ অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রদর্শনীতে শুধু বঙ্গবন্ধুর দুর্লভ ছবিই নয়, তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণের লেখচিত্র, বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র, বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন মৌলিক অংশও এতে প্রদর্শিত হচ্ছে। এ ছাড়াও প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, বিভিন্ন সাক্ষাতকারসহ ১০টি ভিডিওচিত্রও প্রদর্শিত হচ্ছে।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক নীল জলরাশি, বালির সৈকত,সাগরের পানিতে ডলফিনের সাঁতার কাটার দৃশ্যসহ আরও অনেক মনোমুগন্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে ব্রাজিলের ফার্নান্দো দে নরোনহা দ্বীপটি বিশ্বের অন্য অনেক জায়গার চেয়ে পর্যটকদের কাছে দর্শনীয় একটি স্থান। গোটা বিশ্ব থেকে প্রতিবছরই পর্যটকরা এখানে ছুটে আসেন প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে অন্য সব পর্যটক কেন্দ্রের মতো এ দ্বীপটিও এতদিন বন্ধ ছিল। সম্প্রতি এটি উন্মুক্ত করা হয়েছে পর্যটকদের জন্য। তবে এর জন্য রাখা হয়েছে অদ্ভুত এক শর্ত। দ্বীপ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্বীপটিতে তারাই ভ্রমণ করতে পারবেন যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পের্নাম্বুকোর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম সেরা সমুদ্র সৈকতের স্থান হিসেবে পরিচিত ফার্নান্দো দে নরোনহা দ্বীপটি আগামী সপ্তাহেই পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। বৃহস্পতিবার দ্বীপ কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছে, কমপক্ষে ২০ দিন আগে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এমন পর্যটকরা নমুনা পরীক্ষার ফল দেখিয়ে দ্বীপে প্রবেশ করতে পারবেন। এছাড়া করোনা মোকাবিলায় যাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে তারাও সনদ দেখিয়ে দ্বীপে যেতে পারবেন। তবে ওই সংবাদ সম্মেলনে দ্বীপে শুধুমাত্র করোনাভাইরাসে আক্রান্তরাই কেন যেতে পারবেন তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফার্নান্দো দে নরোনহা দ্বীপপুঞ্জটি ২১ টি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। মহামারির কারণে মার্চের মাঝামাঝি থেকে এ দ্বীপে পর্যটকদের যাতায়ত বন্ধ ছিল। তবে গত ৩১ জুলাই এটি স্থানীয় গবেষক ও দ্বীপের বাসিন্দাদের জন্য আবার খোলা হয়েছিল। বিরল উদ্ভিদ এবং জীবজন্তু সমৃদ্ধ দ্বীপটি একটি সংরক্ষিত অঞ্চল। এই দ্বীপে একটি ন্যশনাল পার্ক আছে। এটি ব্রাজিলের সর্বাধিক দর্শনীয় স্থান। গত বছর, এখানে ১ লাখ ৬ হাজার পর্যটক এসেছিলেন। এদের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগই ব্রাজিলের বাসিন্দা ছিলেন। ২০০১ সালে এখানকার ন্যাশনাল পার্কটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা করে নেয়। সূত্র : সিএনএন
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: স্থানীয় পর্যায়ে যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে পর্যটনের কথা বিবেচনায় রেখে কাজ করার জন্য প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী,এমপি। স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় পর্যটনকে সম্পৃক্তকরণ ও পর্যটন সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আজ (২২.০৮.২০২০) বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক নাটোর জেলার সাথে আয়োজিত অনলাইন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে এ আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে যে কোন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে পর্যটন-কে বিবেচনায় রাখতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন পর্যটনের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবেন। পর্যটন আকর্ষণসমূহের নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও সংস্কার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করতে হবে। পর্যটন গন্তব্যের সাথে সম্পৃক্ত সকল অপ্রশস্ত রাস্তা প্রশস্ত করার পরিকল্পনা প্রণয়ন করে দ্রুততার সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক পুরাকীর্তি ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানসহ সকল পর্যটন আকর্ষণ সংরক্ষণে স্থানীয় প্রশাসনকে গুরুত্বের সাথে কাজ করতে হবে। কোন স্থানীয় টাউট ও ভূমিদস্যু যাতে এ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্থাপনার কোন ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যে সমস্ত স্থানে পর্যটন আকর্ষণ সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক স্থাপনাসমূহ বেদখল হয়েছে তা পুনরুদ্ধারের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যারা ঐতিহাসিক স্থাপনা ও পর্যটন আকর্ষণের ক্ষতি করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মাহবুব আলী বলেন, কোভিড-১৯ এর কারণে বর্তমানে মানুষ দীর্ঘদিন যাবৎ ঘরে অবস্থান করছে। কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে দেশের পর্যটন গন্তব্য গুলিতে পর্যটকের ভীড় বাড়বে। সেই সময়ের জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। পর্যটকেরা যেন সকল পর্যটন গন্তব্যে সঠিক ও উপযুক্ত পরিবেশ পায় স্থানীয় প্রশাসনকে তা নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, পর্যটন সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি না হলে পর্যটনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি ব্যাহত হবে। পর্যটনের সাথে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি,স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যম কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকে এই ব্যাপারে গুরুত্বের সাথে কাজ করার জন্য অনুরোধ করছি। পর্যটন সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করার জন্য পাঠ্যপুস্তকে পর্যটন বিষয়ক রচনা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কেও অনুরোধ করা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে ঘুরতে আসা পর্যটকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পার্শবর্তী দেশ সমূহের জনগণ। তারা আমাদের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনাসমূহ পর্যটনে আসেন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত,নেপাল ও ভুটানের নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা সহজীকরণের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাথে আলাপ-আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের-এর সঞ্চালনায় ও নাটোর জেলার জেলা প্রশাসক মোঃ শাহরিয়াজ-এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় আরো বক্তব্য রাখেন নাটোর ৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, নাটোর ২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল, নাটোর ১আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রত্না আহমেদ ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ প্রমুখ।
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা: করোনা দুর্যোগকে পেছনে ফেলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সমাগমে মুখরিত কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ঈদের চতুর্থদিনেও হাজার হাজার পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়ে মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে কুয়াকাটা। ঢেউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে সমুদ্রে হৈ হুল্লোর, গোসল, দৌড়ঝাঁপ ও উন্মাদনা। পূর্ণিমার জোঁ থাকায় উত্তাল সমুদ্রে ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালীতে মাতোয়ারা পর্যটক ও দর্শণার্থীরা। নেচে গেয়ে দীর্ঘদিনের ঘরবন্দি মানুষগুলো মিলিত হয়েছে প্রাণের স্পন্দনে। সবকিছুই মিলিয়ে দীর্ঘদিনের সুনশান পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা পুনরায় ফিরে পেয়েছে পূর্ণতা। সৈকতের দর্শণীয় স্থানগুলোতে বীচ বাইকে ঘুরে দেখছে ভ্রমণ পিপাষু নানা বয়সের মানুষ। ওয়াটার বাইক নিয়ে সমুদ্রের গভীরে এ্যাডভ্যাঞ্চার প্রিয়দের দাঁপিয়ে বেড়ানো সত্যিই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা অর্জন। এমন দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। সৈকতে নতুন যুক্ত হওয়া ঘোড়ার গাড়িতে চেপে শিশু ও বয়স্করা এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে সমুদ্র ও প্রাকৃতির নৈসর্গিক দৃশ্য অবলোকন করছে। কেউ কেউ আবার চার চাকা বিশিষ্ট বীচ বাইকার নিয়ে জলকেলিতে মিলিত হয়েছে। সুন্দরবনের পূর্বাংশ টেংরাগিরি বনাঞ্চল, লেম্বুরবন, গঙ্গামতির লেক, জাতীয় উদ্যান, লাল কাঁকড়ার চর, বৌদ্ধ বিহার ও রাখাইনপল্লীতে অসংখ্য পর্যটকের ভিড় দেখা গেছে। আবাসিক হোটেল মোটেলে রয়েছে চাহিদা মাফিক বুকিং। বেচাকেনা বেড়েছে খাবার হোটেলে, শামুক ঝিনুকের দোকান, শুটকি মাকের্ট, বার্মিজ পণ্যসহ পর্যটক নির্ভরশীল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর এই প্রথম পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণচাঞ্চল্যতা ফিরে পেয়েছে এমন দাবি ব্যবসায়ীদের। সমুদ্রের সান্নিধ্যে এসে বুক ভরে নিশ্বাস নিতে পেরে খুশী পর্যটকরা। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আফজালুল আহম্মেদ টিপুসহ তার সঙ্গীয় বন্ধুদের নিয়ে মটর বাইক নিয়ে সোমবার বিকেলে কুয়াকাটা এসেছেন। উঠেছেন আবাসিক হোটেল রেইন ড্রপে। সমুদ্র ভ্রমণের জন্য তারা বর্ষা মৌসুমকে প্রধান্য দেয়। পর্যটক টিপু জানান, উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ ও গর্জন তাদেরকে বিমোহীত করে। তাই ঈদের ছুটিকে উপভোগ্য করতে কুয়াকাটা সৈকতকে বেছে নিয়েছেন তারা। সমুদ্র লাগোয়া আবাসিক হোটেল “সৈকত” এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউর রহমান শেখ জানিয়েছেন, ঈদের দিন থেকেই পর্যটকরা কুয়াকাটায় আসতে শুরু করেছে। রোববার থেকে ধারাবাহিকভাবে বুধবার পর্যন্ত তার হোটেলের শতভাগ রুমই বুকিং আছে। প্রচ- ভ্যাপসা গরমের কারণে অধিকাংশ পর্যটকের এসি রুমের চাহিদা ছিল এমনটাই জানিয়েছেন জিয়া শেখ। কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও কুয়াকাটা গেষ্ট হাউজের স্বত্ত্বাধিকারী এম এ মোতালেব শরীফ বলেন, পর্যটকদের কুয়াকাটায় টানতে ৩০-৪০ ভাগ ছাড়ে রুম বুকিং দেয়া হয়। এমন ইতিবাচক সিদ্ধান্তে প্রত্যেক আবাসিক হোটেলে আশানুরূপ রুম বুকিং রয়েছে। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে করোনাকালীন লোকসান পুষিয়ে অচিরেই লাভের মুখ দেখবেন ব্যবসায়ীরা। ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. জহিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ঈদ পরবর্তী কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে অগণিত পর্যটকের নিরাপত্তায় দর্শণীয় স্থানগুলোতে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পর্যটকদের সেবা অব্যাহত রাখতে সার্বক্ষণিক নজরজারিতে ছিল ট্যুরিস্ট পুলিশ।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: বেজিং: বিশ্বের বৃহত্তম উভচর বিমানের সফল পরীক্ষা চালাল চিন। গভীর সমুদ্রে উভচর এই বিশাল বিমানের পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষাতে এটি সফল হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এজি ৬০০ নামের অত্যাধুনিক এই সুবিশালবিমানটি জটিল আবহাওয়াতেও উড়তে সক্ষম। একেবারে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিমানটি জাংতুং প্রদেশের জিংতাওয়ে সমুদ্রের ওপর সফলভাবে উড়েছে। বিমানটি জিংতাওয়ের সমুদ্র থেকে সকাল ১০টা ১৮ মিনিট নাগাদ ওরে। সফলভাবে প্রায় ৩১ মিনিটের টেস্ট ফ্লাইট সম্পন্ন করে। দেশের সরকারি বিমান নির্মাতা কোম্পানি অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অব চায়না (এভিক) জানিয়েছে, বিমানটি ভূমি থেকে ওড়ে ও ভূমিতে অবতরণ করে। পাশাপাশি সমুদ্র থেকেও বিমানটিকে ওড়ানো হয়। প্রায় ঘন্টাখানেক সেটি ওড়ার পর ফের সমুদ্রে অবতরণ করে। আর তা সফল ভাবে করে। সমুদ্র থেকে বিমানটির সফল পরীক্ষামূলক ওড়ানো ও টেস্ট ফ্লাইট সম্পন্ন করাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০১৭ সালে বিমানটি প্রথম আকাশে ওড়ে। ২০১৮ সালে একে একটি জলাশয় থেকে পরীক্ষামূলকভাবে আকাশে ওড়ানো হয়। এরপর সুবিশাল এই বিমানটিকে নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়। এরপর সমুদ্র থেকে টেস্ট ফ্লাইট সম্পন্ন হওয়ার পর বিমানটিকে আরও বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এমনটাই জানাচ্ছেন গবেষকরা। সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কেবল একে আনুষ্ঠানিকভাবে অপারেশনে নামানো হবে। এজি ৬০০ চিনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বৃহৎ পরিসরের ‘বিমান পরিবারের’ সদস্য। এই পরিবারের কোড নেম হচ্ছে ‘খুনলুং’। এই পরিবারের অন্য দুই সদস্য হচ্ছে ওয়াই-২০ এবং সি-৯১৯
বিবিসি: করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪০ লাখ জনবল বেকার হয়ে পড়েছে। তাদের ওপর নির্ভরশীল কমপক্ষে দেড় কোটি মানুষ আছেন কঠিন বিপদের মধ্যে। সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রে এখনও সম্ভাবনাময় এই খাতটি উপেক্ষিত থেকে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। রঞ্জনা সৌমী এবং তার ব্যবসায়ী অংশীদার গত কয়েক বছর ধরে সিলেট এবং খাগড়াছড়িতে দুটি রিসোর্ট পরিচালনা করে আসছেন। তারা ভেবেছিলেন সম্ভাবনাময় এই খাত থেকে ভালো লাভ করতে পারবেন। কিন্তু বছরের শুরুতেই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় সব ভেস্তে গেছে। রঞ্জনা সৌমী বলছেন একে তো গত চার মাস ধরে রিসোর্টগুলো থেকে কোন আয় নেই, উল্টো এই রিসোর্ট দেখভালে তাকে খরচ করে যেতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। "বিনিয়োগ যা করার করে ফেলেছি। কিন্তু মার্চ মাস থেকে কোন আয় নেই। অথচ রিসোর্ট মেইন্টেইন করতে খরচ করতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে কর্মচারীদের ছাঁটাই করেছি। যাদের একটা দুটা কটেজ, আর এগুলোর আয় দিয়েই চলে তাদের অবস্থা খুব খারাপ," মিসেস সৌমী বলেন। আয় রোজগার নেই পর্যটন সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। , এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত পর্যটনের বিভিন্ন মৌসুম থাকলেও সরকারি কড়াকড়ি এবং মানুষের আতঙ্কের কারণে পর্যটন স্পটগুলোয় মানুষের আনাগোনা দেখা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন। জীবন জীবিকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৭০% জনবল। সংখ্যার হিসেবে সেটা ৪০ লাখেরও বেশি। তারা রোজগারহীন অবস্থায় থাকায় তাদের ওপর নির্ভরশীল কমপক্ষে দেড় কোটি মানুষ কঠিন বিপদের মধ্যে আছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। এই বিপর্যয়কর অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সরকারের বিশেষ মনোযোগের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- টোয়াবের পরিচালক মো. শাহেদুল্লাহ। তিনি বলেন, "চার মাস পর্যটন সংশ্লিষ্ট সবকিছু বন্ধ। কিন্তু পরিচালনা খরচ তো বন্ধ নেই। ব্যাংকের সুদ, ভূমির ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল তো চলছেই। অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে গ্রামে চলে গেছেন। কেউ কেউ পেশা বদলেছেন।" বিলাসবহুল হোটেল। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী , করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশে ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অপরদিকে প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেলস এসোসিয়েশনের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হারিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিগগিরই পর্যটন স্পটগুলো সীমিত পরিসরে খুলে দেয়ার কথা জানিয়েছেন পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহিবুল হক। হোটেল, রেস্তোরাঁ বা বিনোদন স্পটগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে, বিশেষ করে যারা সেবা নেবেন বা যারা সেবা দেবেন, তাদের আচরণ কেমন হবে সে ব্যাপারে একটি নীতিমালা প্রণয়নের কথাও জানান তিনি। তবে এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা চাইলে ব্যাংকগুলো থেকে বন্ধকী ঋণ নিতে পারবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন সরকারের কাছে সহায়তার দাবি জানিয়ে আসলেও বাস্তবে কেউ সহজ শর্তে ঋণ নিতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন টোয়াবের পরিচালক মি. শাহেদুল্লাহ। তিনি বলেন, "যাদের ঋণের তেমন একটা প্রয়োজন নেই, তারা সহজেই ঋণ পাচ্ছে। অথচ পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীদের পথে বসার দশা হয়েছে কিন্তু তারা ঋণ পাচ্ছে না। উল্টো পর্যটন খাতের ব্যবসায়ী দেখে ব্যক্তিগত ঋণও দেয়া হচ্ছে না।" এমনটা চলতে থাকলে পর্যটন খাত ভেঙ্গে পড়বে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।। বান্দরবান। বর্ষাকাল পর্যটনের মৌসুম হলেও কোন ব্যবসা করতে পারেননি এ খাত সংশ্লিষ্টরা। বাজেটে নগন্য বরাদ্দ বিগত কয়েক মাস যাবত পর্যটন খাতে স্থবিরতা দেখা গেলেও সুনির্দিষ্ট কোন দিক নির্দেশনা আসেনি এবং সাম্প্রতিক বাজেটে এই খাতকে টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টা প্রতিফলিত হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতে ৩ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এবারে এই খাতে গত অর্থবছরের তুলনায় ২৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হলেও সেটা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। এর মধ্যে বরাদ্দের প্রায় ৮০% ব্যয় ধরা হয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন খাত বাবদ। আর বাকি ৭২৫ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে পর্যটনের অন্যান্য খাতের জন্য। উপায় কী করোনাভাইরাস পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে এবং প্রাদুর্ভাব কেটে যাওয়ার সাথে সাথেই পর্যটন ব্যবসা আগের রূপে ফিরে যাবে সেটাও বলা যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের টিকিয়ে রাখতে সহজ শর্তে ঋণ দেয়া না হলে বীমা করার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পর্যটন এলাকাগুলোয় কীভাবে নিরাপত্তা বজায় রেখে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা যায় এ ব্যাপারে সরকারকে নীতিমালা প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের শিক্ষক সামশাদ নওরীন। তিনি বলেন "বিনিয়োগকারীদের যদি বীমা করা থাকতো তাহলে কিংবা তাদের জন্য যদি বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকতো, তাহলে অনেক মানুষের জীবন জীবিকা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হতো। পর্যটনের সাথে অর্থনীতির অনেকগুলো খাত জড়িত, একে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।"
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ২৩ জুলাই থেকে বিদেশগামী যাত্রীদের করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হওয়ায় বিদেশগামী বাংলাদেশ বিমানের যাত্রীদের ১৬টি নির্ধারিত পিসিআর ল্যাব থেকে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করাতে যাত্রীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। শনিবার (১৮ জুলাই) বিমান বাংলাদেশের পাঠানো প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে এই প্রেস বিজ্ঞপ্তি শুধুমাত্র যেসব যাত্রী বাংলাদেশ বিমানে ভ্রমন করবেন তাদের জন্য। এতে বলা হয়, কেবল কোভিড-১৯ নেগেটিভ সার্টিফিকেটধারীরা বিদেশ গমন করতে পারবেন। যাত্রার ৭২ ঘণ্টার আগে কোনো নমুনা সংগ্রহ করা হবে না এবং যাত্রার ২৪ ঘণ্টা আগে রিপোর্ট ডেলিভারি গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে। নমুনা দেওয়ার সময় পাসপোর্টসহ যাত্রীদের বিমান টিকেট ও পাসপোর্ট উপস্থাপন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। কোভিড-১৯ পরীক্ষার নিমিত্তে নির্দিষ্টকৃত পরীক্ষাগার যে জেলায় অবস্থিত সে জেলার সিভিল সার্জন অফিসে স্থাপিত পৃথক বুথে তাদের নমুনা দেবেন। নমুনা দেওয়ার পর থেকে যাত্রার সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আবশ্যিকভাবে আইসোলেশনে থাকবেন। বিদেশ যাত্রীদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা সনদ প্রাপ্তির জন্য ল্যাবে গিয়ে নমুনা দেওয়ার ক্ষেত্রে ৩৫০০ টাকা এবং বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহে ৪৫০০ টাকা ফি দিতে হবে। এতে আরও বলা হয়, বিদেশগামীদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ, বরিশালের শেরে-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ, চট্টগ্রামের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিকেল অ্যান্ড ইনফেক্টিয়াস ডায়াসিস, কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরোটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার, ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ ঢাকা, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ, কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ, এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ দিনাজপুর ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাব থেকে করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। বিস্তারিত তথ্য বিমানের ওয়েবসাইট www.biman-airlines.com অথবা কল সেন্টারে ০১৭৭৭৭১৫৬১৩-১৬ ফোন করে জানা যাবে।
বৃহস্পতিবার, 16 জুলাই 2020 10:43

টাইটানিকের চেয়েও ২০ গুণ বড় জাহাজ

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজের নাম ‘হারমনি অব দ্য সিজ’। এ জাহাজটি টাইটানিকের চেয়ে ২০ গুণ বড়। সিনেমার কারণে টাইটানিক জাহাজের নাম কমবেশি সবারই জানা। একসময় টাইটানিক ছিল জানামতে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাহাজ। কিন্তু সেই দিন শেষ। এখন টাইটানিকের চেয়ে বড় জাহাজের অভাব নেই। তাই বলে টাইটানিকের চেয়ে ২০ গুণ বড় জাহাজ? কল্পনা করাও বেশ কষ্টকর। প্রযুক্তি যতই এগিয়ে যাচ্ছে মানুষ ততই আধুনিক আর বড় বড় জাহাজ তৈরি করে চলেছে। একসময় যা ছিল মানুষের কাছে কল্পনা আজ সেটাই বাস্তব। টাইটানিকের চেয়ে ২০ গুণ বড় এই জাহাজ ‘হারমনি অব দ্য সিজ’কে বলা হচ্ছে, ভাসমান মহানগরী। বিশ্বে এ পর্যন্ত নির্মিত সবচেয়ে বড় ও ভারী জাহাজ এটি। ইংল্যান্ডের সাউথহ্যাম্পটন বন্দর থেকে চোখ ধাঁধানো হারমনি অব দ্য সিজ-এর উদ্বোধন করা হয়। হারমনি অব দ্য সিজ যেন সমুদ্রের মধ্যে আরেক পৃথিবী। ভূমধ্যসাগর বা ক্যারিবিয়ানে ছুটিছাটায় সবচেয়ে বেশি বিনোদন দিতে জাহাজটি আয়োজনের কোনো কমতি রাখেনি। ১ হাজার ১৮৭ ফুট লম্বা ও ২৩০ ফুট উচ্চতার জাহাজটি ৬ হাজার ৭৮০ জন যাত্রী বহন করতে পারে। জাহাজটির নির্মাণে কাজ করেছেন মোট ২ হাজার ৫০০ শ্রমিক। রয়েল ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনাল নৌবহরের ২৫তম জাহাজ হারমনি অব দ্য সিজ নির্মাণ খাতে ব্যয় হয়েছে ৭০০ মিলিয়ন পাউন্ড। এর প্রথম বিশেষত্ব হল যাত্রী ধারণক্ষমতা। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ভ্রমণ জাহাজ এটি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় যাত্রীবাহী জেট এয়ারবাস এ৩৮০-তে সিটের সংখ্যা ৫২৫টি। ‘হারমনি অব দ্য সিজ’ তার চেয়েও দশগুণ বেশি যাত্রী বহন করতে পারে। দ্রুততার দিক থেকে জাহাজটি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার বেগে ছোটে। এতে রয়েছে মোট ১৮টি ডেক। এর মধ্যে ১৬টি ডেকে রয়েছে ২ হাজার ৭৪৭টি কেবিন। যা বর্তমানে যে কোনো জাহাজের চেয়ে অনেক বেশি। এটি এত বড় যে যাত্রীরা যাতে হারিয়ে না যান সে জন্য তাদের জিপিএস অর্থাৎ গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম ব্যবহার করতে হয়। দুটি তলা নিয়ে বিস্তৃত জাহাজের সিগনেচার রুমটিকে রয়েল লফট স্যুট বলা হয়। রয়েল লফট স্যুটের প্রথম তলায় রয়েছে ১ হাজার ৬০০ স্কয়ার ফুটের লিভিং স্পেস। অন্যদিকে ৮৭৪ স্কয়ার ফুটের দ্বিতীয় তলাটি শহরের বড় কোনো অ্যাপার্টমেন্টের চেয়েও অনেক বড়।
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ মহিবুল হক বলেছেন, দেশের প্রথম হেলিপোর্ট তৈরি করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুসারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। হেলিপোর্ট এর জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণও করা হয়েছে। হেলিপোর্ট তৈরির আনুষঙ্গিক কাজ সম্পাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে যা দ্রুততম সময়ে একটি প্রতিবেদন পেশ করবে। গঠিত কমিটি প্রতিবেদন পেশ করার পর হেলিপোর্ট তৈরির নানা বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করা হবে। আজ বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং ভ্রমণ ম্যাগাজিনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত "ট্যুরিজমঃ এ প্যানাল্টি শুট ফর দ্যা ইকোনোমি অব বাংলাদেশ" শীর্ষক জুম কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন তিনি। সিনিয়র সচিব বলেন, বাংলাদেশের পর্যটনের উন্নয়নের জন্য একটি নীতিমালা তৈরীর কাজ চলছে। এই নীতিমালায় পর্যটনের সাথে জড়িত প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করা হবে যাতে তারা তাদের অংশের কাজটুকু সঠিকভাবে সম্পাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটনের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন। পর্যটন উন্নয়নের জন্য দরকার সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ। সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া পর্যটনের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সাধন সম্ভব নয়। এ সময় তিনি বাংলাদেশের পর্যটন গন্তব্য সমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দক্ষতার সাথে কাজ করায় টুরিস্ট পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, টুরিস্ট পুলিশ ইউনিট গঠন করা বাংলাদেশের পর্যটনের উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বহুমাত্রিক নেতৃত্ব ও দূরদৃষ্টির ফসল। মহিবুল হক বলেন,পর্যটনের উন্নয়ন ও পর্যটকদের সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য জেলা প্রশাসকদের দৈনন্দিন কাজে পর্যটকদের সহায়তা করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে। জেলার প্রশাসন যাতে পর্যটক সংগঠক হিসেবে কাজ করতে পারে এ লক্ষ্যেই এই প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইতিমধ্যে প্রেরণ করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য উপজেলা পর্যন্ত এই কার্যক্রমকে অন্তর্ভূক্ত করা যাতে সকল পর্যটকের একটি আস্থার জায়গায় তৈরি হয়। প্রত্যেক দায়িত্বশীল মানুষকে তার জায়গা থেকে পর্যটনের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সিনিয়র সচিব বলেন, আমাদের দেশের ও পর্যটন গন্তব্য গুলোর ইতিবাচক প্রচারণা সহায়তা করার জন্য গণমাধ্যমকে অনুরোধ করছি। ইতিবাচক সংবাদ পরিবেশনা ও প্রচারণার মাধ্যমে গণমাধ্যম দেশের পর্যটন উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। জাতীয় আয় পর্যটনের ভূমিকা বাড়াতে ইতিবাচক এবং সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। ভ্রমণ ম্যাগাজিনের সম্পাদক আবু সুফিয়ানের সঞ্চালনায় ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান রাম চন্দ্র দাস-এর সভাপতিত্বে জুম কনফারেন্সে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ, গ্লোবাল টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নওয়াজীশ আলী খান, টোয়াবের সভাপতি মুহাম্মদ রাফিউজ্জামান, এভিয়েশন অপারেটর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ মফিজুর রহমান ও বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি মোঃ আরিফুর রহমান প্রমুখ।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী উড়োজাহাজে স্প্রে না করায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে সাড়ে ৪ লাখ রিয়াল জরিমানা করেছে সৌদি আরব সরকার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি টাকা (১ সৌদি রিয়াল=২২.৬১ টাকা হিসাবে)। জরিমানার ঘটনা তদন্তে গত শনিবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিমান। বিমানের পরিচালক প্রশাসন জিয়াউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, ব্যবস্থাপক গ্রাউন্ড সার্ভিস ( এয়ারপোর্টে সার্ভিসেস) মো. গোলাম সারওয়ারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটিকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা, দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যেন না ঘটে, সেজন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে।

ফেসবুক-এ আমরা