01192021মঙ্গল
শিরোনাম:
কক্সবাজার সংবাদদাতা: প্রেসিডেনশিয়াল স্যুট, বাংকার বেড কেবিন, টুইন বেড কেবিন, আরামদায়ক চেয়ারসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির আসনের পাশাপাশি একটি রেস্তোরাঁ, স্বয়ংক্রিয় ভেন্ডিং মেশিন, কয়েন পরিচালিত ঝরনাসহ অনেক কিছুই আছে জাহাজটিতে। সেন্ট মার্টিনে গিয়ে হোটেলের পরিবর্তে জাহাজটিতেই রাত্রি যাপন করা যাবে। পুরো সাততলা প্রমোদতরিটি সিসিটিভি ক্যামেরার অধীন। এতে ভ্রমণ যেন সাগরের বিশালতার মাঝে স্বস্তির পরশ। ‘কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড’ ভ্রমণপিপাসুদের জন্য চট্টগ্রাম থেকে সেন্ট মার্টিনের পথে এমন আরামদায়ক ও নিরাপদ সফরের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিলাসবহুল ক্রুজ শিপ ‘বে ওয়ান’ গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ওয়াটার বাস টার্মিনাল থেকে প্রথমবারের মতো সেন্ট মার্টিন দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা করে। প্রথম যাত্রায় জাহাজটির যাত্রী হয়ে দেখা যায়, পতেঙ্গা টার্মিনালে জাহাজটি দেখতে আসে অনেকে। কেউ কেউ এতে ভ্রমণের সুযোগ-সুবিধা এবং খরচের বিষয়টি জানার চেষ্টা করে। সোলায়মান আহমেদ নামের একজন বলেন, ‘এটি দেশের প্রথম প্রমোদতরি হওয়ায় আকর্ষণ একটু বেশি। আমার বাসা কদমতলী। সার্বিক বিষয়ে জানতে টার্মিনালে আসা।’ বৃহস্পতিবার রাত ৮টার পর থেকেই ধীরে ধীরে প্রথম সফরের যাত্রীরা আসতে শুরু করে। রাত ১০টা বাজতেই যাত্রীতে প্রায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে বে ওয়ান। ১১টা বাজতেই ঘোষণা আসে ছেড়ে যাওয়ার। ঘণ্টাখানেক পরেই দেখা দেয় সাগরের আসল রূপ। রাতের আঁধারেও সমুদ্রের আলোকচ্ছটা। সাড়ে ১১টার দিকে জাহাজের সপ্তম তলায় যাত্রীদের জন্য শুরু হয় কনসার্ট। এ সময় শিল্পীদের গান আর সাগরের গর্জন মিলেমিশে একাকার হয়। বেড়াতে যাওয়া পরিবারগুলোর শিশুদের আনন্দ ছিল বাঁধভাঙা। গানের তালে তালে সায়মা রহমান নামের ছোট্ট শিশুটির নাচ নজর কাড়ে সবার। সায়মার মা সাবিনা রহমান বলেন, ‘সেন্ট মার্টিন আগেও গিয়েছি। তবে এমন আনন্দঘন সুন্দর পরিবেশ আর পাইনি। সব মিলিয়ে সত্যি অসাধারণ।’ কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ বলেন, ‘দুই হাজার যাত্রী পরিবহনে সক্ষম জাহাজটিতে প্রাথমিকভাবে ৫০০ থেকে এক হাজার যাত্রী প্রত্যাশা করেছি। কিন্তু এখন প্রত্যাশার চাইতেও বেশি সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি, পর্যায়ক্রমে যাত্রী আরো বাড়বে। এখন সপ্তাহে তিন দিন চলাচল করলেও সপ্তাহে সাত দিনই চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে।’ জানা যায়, জাপানের কোবেই শহরে মিত্সুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজে তৈরি ক্রুজ শিপটির দৈর্ঘ্য ৪০০ ফুট, প্রস্থ ৫৫ ফুট। গড় গতি ঘণ্টায় ১৬.১ নটিক্যাল মাইল এবং সর্বোচ্চ গড় গতি ঘণ্টায় ২৪ নটিক্যাল মাইল। বাংলাদেশের উপকূলীয় সমুদ্রপথে এই জাহাজ প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১৮ থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম। কর্তৃপক্ষ জানায়, বে ওয়ান প্রথমে কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন রুটে চলাচল শুরু করলেও ‘জেটি’ সমস্যার কারণে চট্টগ্রাম-সেন্ট মার্টিনের মধ্যে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় চট্টগ্রাম থেকে সেন্ট মার্টিন এবং শনিবার সকাল ১১টায় সেন্ট মার্টিন থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাতায়াত করবে এটি। জাহাজটি আইএমও রেজিস্টার্ড সমুদ্রগামী তারকা মানসম্পন্ন হওয়ায় এটি চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ও আশপাশের দ্বীপাঞ্চলেও চালানোর চিন্তা করছে কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে জাহাজটি বার্থিংয়ের জন্য কক্সবাজারের দরিয়ানগরে জেটি ঘাট নির্মাণপ্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। প্রমোদতরিতে ভাড়া : যাতায়াতের জন্য একাধিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এমারেল্ড ক্লাসিক নামের প্যাকেজে ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে আসা-যাওয়া ও জাহাজে রাতযাপন খরচসহ। সঙ্গে থাকবে কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট ও ডিনার। দুজনের ভিভিআইপি কেবিনের ভাড়া পড়বে ৫০ হাজার টাকা। চারজনের স্পেশাল ক্লাস বাংকারের ভাড়া পড়বে ৫০ হাজার টাকা। দুজনের রয়াল স্যুটের ভাড়া পড়বে ৪৫ হাজার টাকা। দুজনের প্রেসিডেনশিয়াল স্যুটের ভাড়া পড়বে ৩০ হাজার টাকা। একজনের বাংকার বেডের ভাড়া পড়বে ১০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ইকোনমি প্যাকেজের আওতায় ইকোনমি সিটের ভাড়া পড়বে তিন হাজার টাকা, বিজনেস ক্লাস সিটের ভাড়া চার হাজার টাকা। তবে এই প্যাকেজে থাকবে শুধু কমপ্লিমেন্টারি স্ন্যাকস। ওশানস হ্যাভেন নামের আরেক প্যাকেজে নির্ধারণ করা হয়েছে রাতযাপনসহ একমুখী ভাড়া। এখানে থাকছে কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট। ভিভিআইপি কেবিনে দুজনের ভাড়া পড়বে ২৫ হাজার টাকা। ফ্যামিলি প্যাকেজে স্পেশাল ফার্স্ট ক্লাস বাংকার বেডের ভাড়া হবে ২৫ হাজার টাকা। রয়াল প্যাকেজে দুজনের রয়াল স্যুটের ভাড়া পড়বে ২০ হাজার টাকা। তবে প্রেসিডেনশিয়াল প্যাকেজের আওতায় দুজনের প্রেসিডেনশিয়াল স্যুটের ভাড়া পড়বে ১৫ হাজার টাকা। একজনের সিঙ্গেল বাংকার বেডের ভাড়া সাত হাজার টাকা। এ ছাড়া এমারেল্ড ক্লাসিক নামের আরেকটি প্যাকেজে শুধু একমুখী ভাড়া অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই প্যাকেজের আওতায় ভিভিআইপি কেবিনের ভাড়া ৩০ হাজার টাকা, ফ্যামিলি কেবিনের ভাড়া ৩০ হাজার টাকা। রয়াল স্যুটের ভাড়া ২৫ হাজার টাকা। প্রেসিডেনশিয়াল স্যুটের ভাড়া ২০ হাজার টাকা। সিঙ্গেল বাংকার বেডের ভাড়া ছয় হাজার টাকা। বিজনেস ক্লাস সিটের ভাড়া দুই হাজার ৫০০ টাকা। আর ইকোনমি সিটের ভাড়া দুই হাজার টাকা। উল্লেখ্য, জাহাজটি একসময় টোকিও থেকে জাপানের বিভিন্ন দ্বীপে চলাচল করত। তখন এর নাম ছিল ‘সালভিয়া মারু’। গত বছর এটি চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয়।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: চীনের হারবিনে চলছে তুষার ও বরফের তৈরি ভাস্কর্যের আন্তর্জাতিক উৎসব। বরফ কেটে বানানো হয়েছে কেল্লা, প্রাসাদ, ঘরবাড়ি। আলো আর বরফে তৈরি চোখ ধাঁধাঁনো পরিবেশ দেখতে সেখানে ভিড় জমাচ্ছে হাজার হাজার পর্যটক। চীনের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় হেইলংজিয়াং প্রদেশের হারবিন শহরে প্রতি বছর যে তুষার ভাস্কর্য উৎসব হয় তা পৃথিবীর অন্যতম সবচেয়ে বড় এধরনের উৎসব। বরফ কেটে বিশাল আকৃতির প্রমাণ সাইজের ভবন এবং অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ এই উৎসবের বিশেষত্ব। এছাড়াও এই উৎসবের মরশুমে হারবিনে আয়োজন করা হয় বরফের ঢাল বেয়ে স্লেজ চালানোর, চলে বরফে ফুটবল (আইস ফুটবল) এবং হকি (আইস হকি) খেলা। থাকে স্পিড স্কেটিং ও স্কি প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা। প্রতি বছর দূর দূরান্ত থেকে পর্যটকরা আসে এই চোখ ধাঁধানো বরফ উৎসবে যোগ দিতে। তবে করোনাভাইরাসের কারণে এবছর যেহেতু চীনে ঢোকার ব্যাপারে নানা বিধিনিষেধ রয়েছে, তাই এবছর এই বরফ ভাস্কর্য ও নানান ধাঁচের অভিনব সব বরফ ভবন দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন চীনের ভেতরে বিভিন্ন প্রদেশের মানুষ। অনেক দম্পতি এই উৎসবের সুযোগ নিয়ে হারবিনে তাদের বিয়ের আয়োজন করেন বরফ নগরীতে ও বরফ নগরীর ভাস্কর্যকে বিয়ের থিম হিসাবে ব্যবহার করে। জনপ্রিয় এই বিয়ের ভেন্যু বুক করার জন্য লম্বা লাইন পড়ে হবু দম্পতিদের। এই উৎসব শুরু হয়েছিল ১৯৬৩ সালে। একবারই এই উৎসবে ছেদ পড়েছিল চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময়। তখন অনেক বছরের জন্য এই উৎসব বন্ধ হয়ে যায়। আবার পুরোদমে এই জনপ্রিয় উৎসব শুরু হয় ১৯৮৫ সালে। বরফ খোদাই করে বরফ নগরীতে ভাস্কর্য ও ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয় ডিসেম্বর মাসে। প্রায় ৩০০ "বরফ খনিশ্রমিক" কাজ করেন সারা ডিসেম্বর মাস জুড়ে এবং গড়ে তোলেন এই সব অভিনব কাঠামো। এদের বেশিরভাগই সাধারণ সময়ে কাজ করেন হয় নির্মাণ শিল্পে শ্রমিক হিসাবে, নয় কৃষিকাজে। 1px transparent line বরফের এই নগরী গড়ে তুলতে হাজার হাজার বরফের ব্লক তুলে আনা হয় শীতে জমাট বেঁধে যাওয়া এক কিলোমিটার বিস্তৃত সনঘুয়া নদী থেকে। হারবিন শহরের চারদিক দিয়ে প্রবহমান এই সনঘুয়া নদী। এই বরফের ব্লকগুলো ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া যায় উৎসবস্থলে, যেখানে কর্মীরা বানান প্রমাণ আকৃতির কেল্লা, প্যাগোডা, সেতু, নানা ধরনের ভবন, ভাস্কর্য এমনকি বরফের তৈরি রেস্তরাঁও। বরফ শ্রমিক ওয়াং কিউশেং রয়টার্স সংবাদ সংস্থাকে বলেন কেন কৃত্রিম বরফের চেয়ে জমে যাওয়া নদীর বরফ তাদের পছন্দ: ''কৃত্রিম বরফ তেমন শক্ত হয় না এবং বাতাসের দাপট থাকলে সেই তেজের মুখে শক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না এসব শিল্পকর্ম। শ্রমিকরা হাঁটু পর্যন্ত বুট জুতো, গরম কোট, মোটা দস্তানা আর কান ঢাকা টুপি পরে হিমাঙ্কের চেয়ে কম তাপমাত্রায় দিনের পর দিন কাজ করেন এই ভাস্কর্য গড়ে তুলতে। ''আমরা প্রতিদিন কাজে যাই ভোর ছটায়,'' রয়টার্সকে বলেন ঝাং ওয়েই। ''সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ শেষ করতে কখনও কখনও ওভারটাইমও করতে হয় রাত ৮টা নটা পর্যন্ত, কখনও বা মধ্যরাতের পরও।'' বরফের ব্লক একটার ওপর একটা বসিয়ে দেয়াল তৈরি করা হয়। শ্রমিকরা এরপর করাত, চিশেল ও শাবল, গাঁইতি ব্যবহার করে বরফের মধ্যে ফুটিয়ে তোলেন জানালা দরোজা এবং সবরকম খুঁটিনাটি নক্সার কাজ। এমনকী পর্যটকদের বসে খাবার জন্য তারা তৈরি করেন বরফের রেস্তরাঁ, যেখানে টেবিল এবং অধিকাংশ আনুষঙ্গিক আসবাব সবই বরফ খোদাই করে তৈরি করা হয়। পর্যটকদের জন্য এটাও আলাদা আকর্ষণ। বরফ রেস্তরাঁয় খাচ্ছেন পর্যটকরা আর রাতের আলোকসজ্জা এই বরফ নগরীকে রঙিন ও অপূর্ব করে তোলে। হারবিন উৎসব চলবে ২৫শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: পঞ্চাশ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে আকাশে ওড়ার পর ইন্দোনেশিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান নিখোঁজ হয়েছে।শ্রীভিজায়া এয়ারের বোয়িংটি রাজধানী জাকার্তার বিমান বন্দর ত্যাগের পরই বিমানের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, বিমানটি পশ্চিম কালিমান্তান প্রদেশের পন্টিয়ানাক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। রেজিস্ট্রেশন তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি ২৭ বছর পুরোনো একটি বোয়িং ৭৩৭-৫০০। ফ্লাইট ট্র্যাকার ওয়েবসাইট ফ্লাইটরেডারটুয়েনটিফোরডটকম জানাচ্ছে, বিমানটির উচ্চতা এক মিনিটের মধ্যে ৩,০০০ মিটার (১০,০০০ ফুট) পড়ে গিয়েছিল। ইন্দোনেশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, নিখোঁজ বিমানটির জন্য তল্লাশি শুরু হয়েছে। শ্রীভিজয়া এয়ার স্থানীয় বিমান অপারেটার। তারা বলছে, ঐ ফ্লাইট সম্পর্কে তারা এখনও তথ্য জোগাড় করছে।তবে এই ফ্লাইটটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স নয় যেটি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুটি বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পড়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি ঘটে ইন্দোনেশিয়ায় ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে। স্থানীয় বিমান সংস্থা লায়ন এয়ারের ফ্লাইটটি ১৮৯ জন যাত্রী নিয়ে সাগরে বিধ্বস্ত হয়।
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের ৪৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। সকাল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতিতে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়। সোমবার সকাল ১০টায় বিমানের প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও সংস্থার নিজস্ব পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো: মোকাব্বির হোসেন এবং বিমানের পরিচালকবৃন্দ,পদস্থ কর্মকর্তা ও সকল স্তরের কর্মকর্তাকর্মচারী দোয়া মোনাজাতে অংশ গ্রহণ করেন। প্রধান কার্যালয়ের লবিতে কেক কেটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৪৯তম জন্ম বার্ষিকীপূর্তির উদ্বোধন শেষে ৫০তম জন্ম বার্ষিকীর শুভ সূচনা করা হয়। মোনাজাতে বিমানের সকল পর্যায়ের উত্তরোত্তর উন্নয়ন, সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা, করোনা মহামারী থেকে বিশ্বকে রক্ষা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুররহমানসহ স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করা হয়। এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়। বিমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোঃ মোকাব্বির হোসেন বিমানের ৪৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বক্তব্যে সকলকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্বপালন এবং সেবা ধর্মী আচরণ নিয়ে জাতীয় এয়ারলাইন্সকে বিশ্বের অন্যতম এয়ারলাইন্সে উন্নীত করার জন্য আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯এর কারণে যেখানে বিশ্ব বিখ্যাত বিমান সংস্থাগুলো একে একে বন্ধ হয়েগেছে, সেখানে স্বল্প পরিসরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স চার্টার্ড, বিশেষ, কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। কিছুটা ব্যয় সংকোচন করে হলেও বিমান তার কর্মকর্তা কর্মচারীকে বেতন ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করে যাচ্ছে। কোভিড এর কারণে বিমান এখন পর্যন্ত কোন কর্মকর্তাকর্মচারীকে চাকুরিচ্যূত করেনি। বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজের জন্য তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সর্ব কালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুররহমান ১৯৭২ সালের ৪ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী আকাশ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর বাণিজ্যিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ২০০৭ সালের ২৩ জুলাই বিমানকে একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা হয় যা সম্পূর্ণভাবে সরকারি মালিকানাধীন এবং এটি ১৩ সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন দেশের ১৯টি শহরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের গন্তব্য রয়েছে। বর্তমানে বিমান বহরে মোট১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি বোয়িং৭৭৭-৩০০ইআর, ২টি বোয়িং৭৮৭-৯ড্রিমলাইনার, ৪টি বোয়িং৭৮৭-৮ড্রিমলাইনার, ৬টি বোয়িং৭৩৭-৮০০ ও ৩টি ড্যাশ৮-৪০০উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে বিমানের বহর যে কোন সময়ের তুলনায় তারুণ্যদীপ্ত। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০৩০ সালের মধ্যে এশিয়ার সেরা ১০টি এয়ারলাইন্সের একটি হিসেবে বিশ্বমান অর্জনের রূপকল্প সামনে রেখে কাজ করছে।
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও কানাডা সরকারের মধ্যে জিটুজি ভিত্তিতে কেনা ৩টি উড়োজাহাজের প্রথমটি জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ২৪ নভেম্বর যুক্ত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই উড়োজাহাজের নাম রেখেছেন ‘‘ধ্রুবতারা’’। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ৩ টি ড্যাশ ৮ উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমান তার অভ্যন্তরীণ ও স্বল্প দুরত্বের আন্তর্জাতিক রুট গুলোতে ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি করবে। কানাডার বিখ্যাত এয়ারক্রাফট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডি হ্যাভিল্যান্ড নির্মিত অত্যাধুনিকনতুন ড্যাশ ৮-৪০০ চুয়াত্তরসিট সম্বলিত উড়োজাহাজ।পরিবেশবান্ধব এবং অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ এ উড়োজাহাজে রয়েছে হেপা (HEPA) ফিল্টার প্রযুক্তি যা মাত্র ৪ মিনিটেই ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসসহ অন্যান্য জীবাণু ধ্বংসের মাধ্যমে উড়োজাহাজের অভ্যন্তরের বাতাসকে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ করে যাত্রীদের যাত্রাকে করে তুলবে অধিক সতেজ ও নিরাপদ। এছাড়াও এউড়োজাহাজেবেশি লেগস্পেস, এল ই ডিলাইটিং এবং প্রশস্ত জানালা থাকার কারনে ভ্রমণ হয়ে উঠবে অধিক আরামদায়ক ও আনন্দময়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নতুন উড়োজাহাজটিসহ বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা হবে ১৯ । এর মধ্যে ১৪ টি নিজস্ব এবং ৫টি লীজ। নিজস্ব ১৪টির মধ্যে বোয়িং৭৭৭-৩০০ ইআর ৪টি, বোয়িং ৭৮৭-৮ ৪টি, বোয়িং ৭৮৭-৯ ২টি, বোয়িং ৭৩৭ ২টি এবং ড্যাশ-৮ ২টি।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: এখন থেকে রাতারগুল এলাকায় প্রবেশ, ভিডিও ধারণ ও নৌকা ভ্রমণের ক্ষেত্রে ফি দিতে হবে সরকারকে। ফি নির্ধারণ করে সম্প্রতি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপন বলা হয়েছে, রাতারগুল বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রবেশ ফি ৫০ টাকা, অপ্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ যাদের বয়স ১২ বছরের নিচে তাদের ফি ২৫ টাকা। পরিচয়পত্র ধারী ছাত্র-ছাত্রীদের প্রবেশ ফি ২৫ টাকা। আর বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ ফি ৫০০ টাকা। এছাড়া শুটিংয়ের ভিডিও ধারণ করতে ‘ফিল্মিং ফি’ দিতে হবে ১০ হাজার টাকা। এটা প্রতিদিনের জন্য ফি ক্যামেরার ফি। অপরদিকে দেশি দর্শনার্থীদের প্রতিবার নৌকা (ইঞ্জিনবিহীন) ভ্রমণের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা দিতে হবে। আর বিদেশিদের দিতে হবে এক হাজার টাকা। এছাড়া বাস বা ট্রাকের প্রতিবারের পার্কিং ফি ২০০ টাকা। পিকআপ/জিপ/কার/মাইক্রোবাস পার্কিং ফি ১০০ টাকা এবং সিএনজি/মোটরসাইকেল পার্কিং ফি ২৫ টাকা দিতে হবে। রাতারগুল ভ্রমণ ও ভিডিও ধারণে লাগবে ফি রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। যা সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত। এর মধ্যে ৫০৪ একর বনকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই বনকে বাংলাদেশ সরকারের বনবিভাগের অধীনে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক দেশের আট বিভাগে ৮০০ পর্যটন স্পট চিহ্নিত করেছে পর্যটন করপোরেশন। রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই তথ্য জানানো হয়। কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, আশেক উল্লাহ, আনোয়ার হোসেন খান এবং সৈয়দা রুবিনা আক্তার বৈঠকে অংশ নেন। সূত্র জানায়, এর আগের বৈঠকে সংসদীয় কমিটি নতুন নতুন পর্যটন স্পট চিহ্নিত করা এবং এগুলো আকর্ষণীয় করার উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করেছিল। তারই ধারাবাহিকতায় রোববারের বৈঠকে পর্যটন করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা আট শতাধিক স্পট চিহ্নিত করেছে। সংসদীয় কমিটি বলেছে, কীভাবে এসব এলাকাকে পর্যটন এলাকা হিসেবে তালিকভুক্ত করা যায়, তা দেখতে হবে। এসব স্থানকে কীভাবে পর্যটনের জন্য আকর্ষণীয় করা যায় এবং এ জন্য কী কী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, তাও নিতে হবে। এ কাজে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করতে হবে।
কক্সবাজার সংবাদদাতা: সেন্টমার্টিনে বেড়াতে যাওয়ার পর বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেখানে আটকে পড়া পাঁচ শতাধিক পর্যটক আজ ফিরছেন। আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) সেন্টমার্টিন থেকে পর্যটকবাহী জাহাজে চড়ে কক্সবাজার ফিরবেন তাঁরা। এর পর সেখান থেকে নিজস্ব গন্তব্যে রওনা হবেন এসব পর্যটক। গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে সেন্টমার্টিনে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। সাগর হয়ে ওঠে উত্তাল। আবহাওয়া অফিসের হুঁশিয়ারি সংকেত দেওয়ার পর বুধবার থেকে কক্সবাজার টেকনাফ সেন্টমার্টিন সমুদ্র পথে সব ধরনের ট্রলার ও জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এর ফলে কক্সবাজারের সঙ্গে সেন্টমার্টিন দ্বীপের যোগাযোগ হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে বুধবার বা তার আগের দিন সেন্টমার্টিনে বেড়াতে যাওয়া পাঁচ শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েন। বিআইডাব্লিউটিএ'র চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক নয়ন শীল বলেন, 'আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ায় নৌপথে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আজ পরিস্থিতি ভালো থাকলে কক্সবাজার থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিনে যাবে। ওই জাহাজে করে দ্বীপে আটকে পড়া পর্যটকরা ফিরবেন।' কক্সবাজার আবহাওয়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ায় কক্সবাজারের উপকূলে ৩ নম্বর স্থানীয় সর্তকতা সংকেত উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। নাফনদী ও সমুদ্র শান্ত রয়েছে। ফলে মাছ ধরার ট্রলারসহ সব ধরনের নৌযানকে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নূর আহমেদ বলেন, আটকে পড়া পর্যটকদের নিয়ে যাওয়ার জন্য কক্সবাজার থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ আসার কথা রয়েছে। রবিবার বিকেলে সেন্টমার্টিন ত্যাগ করবেন তারা। এদিকে টেকনাফে আটকে পড়া দ্বীপের বাসিন্দারও ফিরতে পারবেন। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ফের জাহাজ চলাচল শুরু হলে দ্বীপে আটকে পড়া পর্যটকদের ফেরত আনা হবে। পর্যটকবাহী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস জাহাজের কক্সবাজারের ব্যবস্থাপক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, বৈরী আবহাওয়া কেটে যাওয়ায় রবিবার পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিন যাবে। ফেরার পথে দ্বীপে আটকা পড়া পর্যটদের নিয়ে আসা হবে। সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই (উপপরিদর্শক) মো. তারেক মাহামুদ বলেন, বেড়াতে এসে বৈরী আবহাওয়ার কারণে দ্বীপে আটকে পড়া পর্যটকদের স্বার্বক্ষণিক খোঁজ রাখা হচ্ছে। তারা সবাই নিরাপদে আছেন। রবিবার জাহাজ চলাচল করলে পর্যটকরা দ্বীপ ত্যাগ করবেন।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক আপত্তিকর পোশাক পরেছিলেন সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের একজন যুবতী যাত্রী। তার শরীরের উপরের অংশে যে পোশাক ছিল, তা ছিল আসলে অন্তর্বাসের চেয়েও হালকা কিছু। তাতে শরীরের প্রায় পুরোটা অংশ দেখা যাচ্ছিল। এ অবস্থায় তিনি বিমানে আরোহন করলে অন্য যাত্রীরা ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকবেন। তাই তাকে বোর্ডিংয়ে থামানো হলো। একজন ক্যাপ্টেন তার গায়ের টি-শার্ট খুলে দিলেন। তাকে সেটা পরতে বাধ্য করা হলো। তারপর বোর্ডিং সম্পন্ন করে তিনি বিমানে আরোহন করলেন। গত মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে ওই ঘটনার শিকার নারী যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর বাসিন্দা। তার নাম কাইলা এউব্যাঙ্কস। তিনি নিজেই টুইটারে এ তথ্য প্রকাশ করেছেন। নিজেই বলেছেন, তিনি খুব বেশি বুক কাটা একটি কালো টপ পরেছিলেন। এতে তার শরীরের স্পর্শকাতর অংশ দেখা যাচ্ছিল। টুইটারে তিনি লিখেছেন, সাউথওয়েস্ট এয়ারের ফ্লাইট থেকে আমাকে দূরে রাখা হয়েছিল। কারণ, আমার শরীরের উপরের অংশ ছিল উস্কানিমুলক, আপত্তিকর। আমাকে বলা হয়েছিল, এমন পোশাক পরে বিমানে আরোহন করলে তাতে অন্য যাত্রীরা আমার দিকে তাকিয়ে থাকতে পারেন। এটা এক আপত্তিকর অবস্থা হবে। কাইলা এউব্যাঙ্কস টুইটারে তার বাথরুমের সেলফি দিয়ে এসব লিখেছেন। এ সময় তিনি ছিলেন একটি দীর্ঘ লাল স্কার্ট পরা।
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: সিলেট- লন্ডন রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আজ সকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী এমপি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন। সপ্তাহের প্রতি বুধবার এই ফ্লাইট পরিচালিত হবে। উদ্বোধনী ফ্লাইটটি সকাল ১১.১৫ মিনিটে ২৩২ জন যাত্রী নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশ্যে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী এমপি বলেন, হজরত শাহজালাল ( রঃ ) স্মৃতি বিজড়িত পুণ্যভূমি সিলেটের অধিবাসীদের জন্য আজকের দিনটি আনন্দের। আজ তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সিলেট-লন্ডন ফ্লাইট শুরু হয়েছে। এই সরাসরি ফ্লাইট সিলেটবাসী ও যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী ভাই-বোনদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রি শেখ হাসিনার উপহার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই উপহারের জন্য সিলেটের মানুষের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সরাসরি এই বিমান যোগাযোগের ফলে দেশ প্রেমিক প্রবাসী ভাই-বোনদের সাথে দেশের যোগাযোগ আরও দৃঢ়, সহজ ও আরামদায়ক হবে। তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রি শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে এখন আরও আধুনিক ও তারুণ্যদীপ্ত। তাঁর ঐকান্তিক আগ্রহ ও প্রচেষ্টায় জাতীয় পতাকাবাহী এই প্রতিষ্ঠানের বিমান বহরে যুক্ত হয়েছে বোয়িং ৭৮৭ (ড্রিম লাইনার), ৭৭৭ ও ৭৩৭ মডেলের বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ১২ টি উড়োজাহাজ। এই ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে আমরা কানাডা কর্মাসিয়াল কর্পোরেশন (সিসিসি) হতে স্বল্প পাল্লার ০৩ টি নতুন ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ ক্রয় করেছি।অচিরেই এই বিমানগুলো আমাদের বহরে সংযুক্ত হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রি শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আর্ন্তজাতিক এবং অভ্যন্তরীন অপারেশন এর পরিধি এবং ব্যাপ্তি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। নতুন গন্তব্য সংযোজন প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আকাশের পঞ্চম স্বাধীনতা নিশ্চিত করে আমরা বিমান চলাচল চুক্তি সম্পাদন করেছি। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোন শহরে, যেকোনো সংখ্যক বিমান চলাচল করতে পারবে। ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় অগ্রগতি। এছাড়াও, যুক্তরাস্ট্রের ফেডারেল ফ্লাইট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নির্ধারিত ক্যাটাগরি-১ অর্জনের কাজেও সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে। কোভিড-১৯ এর কারণে এফ এ এ কর্তৃপক্ষ সরোজমিনে পরিদর্শন কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় তা অনলাইনে সম্পাদন করবে বলে তারা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। এই পরিদর্শন কাজ সম্পন্ন হলেই আমরা ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালু করতে পারব বলে আশাবাদী। এছাড়াও ঢাকা থেকে কানাডার টরেন্টোতে এবং জাপানের নারিতায় সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। এ ব্যাপারে যথেষ্ট অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। খুব দ্রুতই আমরা এই দুই দেশে সরাসরি বিমান পরিচালনা শুরু করতে পারবো। মাহবুব আলী বলেন, সরকার জাতীয় প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে সত্যিকার অর্থে বিশ্বমানের একটি এয়ারলাইন্স হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধ পরিকর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বহুমাত্রিক নেতৃত্বে ও নির্দেশে বিমানের যাত্রীদের আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ করছি। তাঁর আগ্রহ, ঐকান্তিক ইচ্ছা, ও দূরদর্শী নেতৃত্বের স্পর্শে দ্রুত বিমান ও এভিয়েশন খাতের চিত্র বদলে যাচ্ছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিমানের যাত্রী সেবা এখন পূর্বের যে কোন সময়ের তুলনায় উন্নত ও আন্তরিক। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মফিদুর রহমান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মোকাব্বির হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুদ উদ্দিন আহমেদ প্রমূখ।