04062020সোম
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশে ১০ দেশের উড়োজাহাজ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। তবে ৪টি দেশের সঙ্গে ফ্লাইট যোগাযোগ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় যে ১০টি দেশ রয়েছে সেগুলো হলো কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ওমান, সিঙ্গাপুর ও ভারত। এসব দেশ থেকে বাংলাদেশের বিমানবন্দরে কোনো উড়োজাহাজ অবতরণ করতে পারবে না। তবে এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে রয়েছে চীন, ব্রিটেন, হংকং ও থাইল্যান্ড। আজ শনিবার মধ্যরাত থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের সব বিমানবন্দরে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তৌহিদ উল আহসান বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দেশের সব বিমানবন্দরে চায়না ইস্টার্ন, চায়না সাউদার্ন, ক্যাথে প্যাসিফিক ও থাই এয়ারওয়েজ বাদে অন্যান্য এয়ারলাইনসের সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট রাত বারোটার পর থেকে বন্ধ থাকবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।’ এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে রয়েছে চীন, ব্রিটেন, হংকং ও থাইল্যান্ড। নিষেধাজ্ঞার বাইরে যেসব বিমান সংস্থা রয়েছে সেগুলো হলো- চায়না সাউদার্ন, ক্যাথে প্যাসিফিক, থাই এয়ারওয়েজ এবং চায়না ইস্টার্ন। এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ রোধে ২১শে মার্চ রাত ১২.০০টা হতে ৩১শে মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ওমান, সিঙ্গাপুর এবং ভারত থেকে কোন সিডিউল আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক উড়োজাহাজকে বাংলাদেশের কোন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার অনুমতি প্রদান করা হবে না।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক বিশ্বের শতাধিক দেশে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রী সঙ্কটের মুখে ১০টি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচল সীমিত করেছে বিমান। এসব রুটের মধ্যে রয়েছে কুয়ালালামপুর, কাঠমান্ডু, কলকাতা, দিল্লি, ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, দোহা, জেদ্দা, মদিনা ও কুয়েত। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার ও কুয়েত ইতোমধ্যে বাংলাদেশ থেকে সে দেশে বিমান চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তর্জাতিক ১০টি রুটে ফ্লাইট সীমিত করায় এসব রুটে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমানের সাপ্তাহিক ফ্লাইট অর্ধেকে নেমে এসেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাব্বির হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “১০টি আন্তর্জাতিক রুটে বিমান সাপ্তাহিক (আসা-যাওয়াসহ) ১৪২টি ফ্লাইটের মধ্যে ৬৮টি ফ্লাইট চালু রেখেছে।” বাতিল হয়ে যাওয়া ফ্লাইটের যাত্রীরা চাইলে তাদের টিকিটের টাকাও ফেরত পাবেন বলে জানান বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের অনুমান, এই অবস্থা চলতে থাকলে বিমান সংস্থাগুলো ১১ হাজার কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়বে। শতাধিক দেশে ছড়িয়ে লাখের বেশি মানুষকে আক্রান্ত এবং সাড়ে তিন হাজার মৃত্যু ঘটানোর পর নভেল করোনাভাইরাস বাংলাদেশেও সংক্রমিত হয়েছে। রোববার বাংলাদেশে প্রথম তিনজন কভিড-১৯ রোগী ধরা পড়ে।
রবিবার, 09 ফেব্রুয়ারী 2020 23:06

নতুন ফ্লাইট চালু করছে ইউএস বাংলা

নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক আকাশপথে দেশের ভেতরের গন্তব্যগুলো ঢাকাকেন্দ্রীক হওয়ায় সবাইকে ঢাকা হয়েই পছন্দের গন্তব্যে যেতে হয়। এতে খরচ ও বাড়তি ভোগান্তি হয় যাত্রীদের। এবার সম্পূর্ণ নতুন উড়োজাহাজ দিয়ে সেই সমস্যার সমাধান নিয়ে এসেছে ইউ-এস বাংলা এয়ারলাইনস। দেশের শীর্ষ বেসরকারী বিমানসংস্থাটির বহরে সদ্য যোগ হওয়া ৬টি ব্যান্ডনিউ এটিআর ৭২-৬০০ উড়োজাহাজ দিয়ে ঢাকা থেকে দেশের প্রধান গন্তব্যগুলোর পাশাপাশি সিলেট থেকে চট্রগ্রাম, কক্সবাজার, যশোর থেকে চট্রগ্রাম এবং চট্রগ্রাম থেকে যশোর, যশোর থেকে কক্সবাজার ও সিলেট রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। রবিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেটের এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে নতুন যুক্ত হওয়া ব্র্যান্ডনিউ এটিআর এয়ারক্রাফট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উপদেষ্টা ক্যাপ্টেন সিকদার মেজবাহউদ্দিন আহমেদ। বর্তমানে ইউএস বাংলা অভ্যন্তরীণ রুটে ঢাকা থেকে সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহী, বরিশাল নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক রুট কলকাতা, চেন্নাই, মাস্কাট, দোহা, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ও গুয়াংজুতে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে। উদ্বেধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অভ্যন্তরীণ রুটে অধিকতর ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ব্র্যান্ডনিউ এটিআর ৭২-৬০০ এয়ারক্রাফটগুলোর প্রত্যেকটিতে ৭২টি আরামদায়ক আসনব্যবস্থা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ গন্তব্যের নতুন নতুন রুট নিয়ে ইতিমধ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স পরিকল্পনা করছে, যা দেশের আকাশ পথের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরো বেশী কার্যকরী ও শক্তিশালী করে তুলবে। ১৭ জুলাই ২০১৪ দু’টি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে ইউএস-বাংলা ঢাকা থেকে যশোরে উদ্বোধনী ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে ইউএস-বাংলার বিমান বহরে মোট তেরোটি এয়ারক্রাফট রয়েছে, যার মধ্যে ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০, তিনটি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ ও ছয়টি ব্যান্ডনিউ এটিআর ৭২-৬০০। যা বাংলাদেশে বেসরকারী এয়ারলাইন্সের মধ্যে সর্বোচ্চ। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উপদেষ্টা ক্যাপ্টেন সিকদার মেজবাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আনন্দময় ভ্রমণই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। এছাড়া ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা ও নিরাপত্তা প্রদান করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সকে একটি অন্যতম শীর্ষ দেশীয় এবং আঞ্চলিক এয়ারলাইন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। ব্র্যান্ডনিউ এটিআর ৭২-৬০০ এয়ারক্রাফট এর উদ্বোধনের সময় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পরিচালক ডিরেক্টর ফ্লাইট অপারেশন ক্যাপ্টেন মনিরুল হক জোয়ারদার, পরিচালক প্রশাসন মুসা মোল্লাহ, হেড অব ট্রেনিং মসিউল আজম, জেনারেল ম্যানেজার-পাবলিক রিলেশনস মো. কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক ঘন কুয়াশার কারণে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা সাময়িক বন্ধ রয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ৩টা থেকেই ফ্লাইট চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হয়। ভোরে বেশ কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করে। তবে আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে কোনো ফ্লাইট ছেড়ে যায়নি। নামেনি বিদেশ থেকে আসা কোনো বিমান। ভোর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচটি ফ্লাইট ব্যাংকক, মান্ডালা ও কলকাতায় নামানো হয়েছে বলে বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে। বিমানবন্দরের ফ্লাইট অপারেশন সূত্র জানায়, কুয়াশার কারণে ভোর থেকে ভিজিবিলিটি শূন্য হওয়ায় বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখতে হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে কোনো ফ্লাইট ছেড়ে যায়নি। ভোর পাঁচটা থেকে ভিজিবিলিটি একেবারে জিরো, এ অবস্থায় ওঠানামা করতে পারে না বিমান। জানা গেছে, রানওয়েতে সাধারণত দৃষ্টিসীমা ৬০০ থেকে ৮০০ মিটার থাকলে উড়োজাহাজ ওঠানামা করে। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, সাধারণত ভিজিবিলিটি বা দৃষ্টিসীমা তিন হাজার মিটার বা তার নিচে নামলেই আবহাওয়া অধিদপ্তর এভিয়েশন ওয়ার্নিং দেয়, সেটি দুই হাজার বা তার নিচে আসলে তখন বিমান নামতেও পারে না। কুয়াশা কমলে বিমান ওঠানামা ফের স্বাভাবিক হবে বলে সূত্র জানায়।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য নতুন কেনা বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৯ সিরিজের নতুন দুটি উড়োজাহাজ ‘সোনার তরী’ ও ‘অচিন পাখি’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘অচিন পাখি’ নাম রেখেছে রেহানা জানালেন তিনি। আজ শনিবার সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজ দুটির উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী উড়োজাহাজে আরোহণ করেন এবং ককপিটসহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়ালো ছয়টিতে। উদ্বোধনের পর কুর্মিটোলায় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘অচিন পাখি’ এই নামটি রেখেছেন প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট কন্যা শেখ রেহানা। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অত্যাধুনিক ১২টি বিমান কেনা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর দেশে ফিরে আসতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে আসা আমাদের নিষিদ্ধ ছিল। রেহানার তো পাসপার্টটাই রিনিউ করতে দেয়নি। ছয় বছর পর আমি দেশে আসি।’ তিনি বাংলাদেশে বিমান ও বিমানবন্দরের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। ভাষণ শেষ করার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভালো থাকুক আমার সোনার তরী ও অচিন পাখি।’ উদ্বোধনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, বিমানের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ইনামুল বারি, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান, বিমান সচিব মহিবুল হক, বিমানের এমডি মোকাব্বের হোসেন ও বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার প্রমুখ। এর আগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ বিমানের বহরে ড্রিমলাইনারের ‘আকাশবীণা’ ও ‘হংসবলাকা’ এবং চলতি বছরে যুক্ত হয় ‘গাঙচিল’ ও ’রাজহংস’। আগামী বছর কানাডা থেকে কেনা তিনটি ড্যাশ-৮ দেশে আসার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনের হিথ্রো ও ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে চলাচল করবে নতুন এ দুটি উড়োজাহাজ। এর আগে বিমান বাংলাদেশে এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মোকাব্বির হোসেন জানান, আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ম্যানচেস্টার রুটে বিমানের ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে। উড়োজাহাজ দুটি দিয়ে ম্যানচেস্টারের পাশাপাশি লন্ডনের হিথ্রো রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। ইতোমধ্যে ম্যানচেস্টার রুটের উদ্বোধনী ফ্লাইটের প্রায় সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। এছাড়া লন্ডনে আগে থেকেই আমাদের ফ্লাইট নিয়মিত যাওয়া-আসা করছে। ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম শহর ম্যানচেস্টারে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশির কথা চিন্তা করে ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই রুটে ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে বিজনেস ক্লাস ৩০টি, প্রিমিয়াম ইকোনমি শ্রেণি ২১টি ও ইকোনমি শ্রেণি ২৪৭টিসহ মোট ২৯৮টি আসন রয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে ‘সোনার তরী’ এবং গত ২৪ ডিসেম্বর রাত ৮টা ২০ মিনিটে অবতরণ করে ‘অচিন পাখি’। উড়োজাহাজ দুটিকে ওয়াটার স্যালুটের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। এ দুটি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিমান বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৮টি।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবন্দরের যাত্রী পরিবহন এবং মালপত্র আনা নেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বহুল প্রতীক্ষিত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনালের উদ্বোধন করেছেন। এই প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৩শ’কোটি টাকা। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ কাজের ভিত্তি স্থাপন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা হয়েছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরকেও আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত করা হবে। সে লক্ষে নির্মাণ কাজ চলছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে ২১ হাজার ৩শ’ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর মধ্যে সরকারি কোষাগার থেকে পাওয়া যাবে পাঁচ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি অর্থ জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) থেকে পাওয়া যাবে। নতুন আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনালটি হবে ২২ দশমিক ৫ লাখ বর্গফুট। বর্তমানে দুটি টার্মিনালে ১০ লাখ বর্গফুট স্পেস রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিমানবন্দরের বর্তমান যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮০ লাখ থেকে বেড়ে ২ কোটি হবে এবং কার্গোর ধারণক্ষমতা বর্তমান দুই লাখ টন থেকে বেড়ে পাঁচ লাখ টন হবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ মফিদুর রহমান, সচিব মো. মহিবুল হক ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত নোয়াকি ইতো।
বিনোদন ডেস্ক টেলিভিশন সিরিজ 'গেইম অব থ্রোনস' তারকা এমিলিয়া ক্লার্ক বলেছেন সিরিজটির জন্য খোলামেলা দৃশ্যে অভিনয় করা তার জন্য ‘কঠিন’ ছিল। অভিনেতা ড্যাক্স শেফার্ডের পডকাস্টে তিনি বলেন যে কিছু বিশেষ দৃশ্যে অভিনয় করার আগে তিনি বাথরুমে গিয়ে কাঁদতেন - তবে নগ্নতা নেই এমন অনেক দৃশ্যের ক্ষেত্রেও এরকম পরিস্থিতির সামনে তাকে পড়তে হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সিরিয়ালে ডেনেরিস টার্গারায়নে হিসেবে যেই চরিত্রতে তিনি অভিনয় করেন, সেখানে চরিত্রের খাতিরে প্রায়ই তাকে নগ্ন হতে হতো। তিনি মনে করেন কাহিনীর খাতিরে সেটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল - কিন্তু সিরিয়ালটি যদি বর্তমান সময়ে বানানো হতো তাহলে এটি 'ভিন্ন ধরণের' হতো। লন্ডনের বাসিন্দা এমিলিয়া ক্লার্ক যখন চরিত্রটিতে অভিনয়ের সুযোগ পান, তখন তার বয়স ২৩ বছর। সেটি ছিল অভিনয় জগতে তার প্রথম বড় কোনো কাজের সুযোগ। এমিলিয়া বলেন নগ্নতা সম্পর্কে তার ধারণা এখন ভিন্নরকম ‘আমি চরিত্রটিতে অভিনয় করবো বলে নিশ্চিত করার পর তারা আমাকে চিত্রনাট্য পাঠায়। সেটি পড়তে পড়তে আমার মনে হয় 'ওহ, তাহলে এই ব্যাপার!’ "কিন্তু আমি তখন মাত্র অভিনয় সম্পর্কে পড়াশোনা শেষ করেছি, তাই প্রস্তাবটিকে আমি চাকরি হিসেবেই গ্রহণ করি।" "যদি এতগুলো খোলামেলা দৃশ্য চিত্রনাট্যতে থাকে, তাহলেই নিশ্চয়ই কাহিনীর কারণেই এর প্রয়োজন রয়েছে। আর সেক্ষেত্রে আমার সেরকম দৃশ্যে অভিনয় করতে আপত্তি নেই।" সিরিজটির চিত্রায়ন করা শুরু হওয়ার পর প্রথম কিছুদিন হীনমন্যতায় ভুগেছেন বলে জানান এমিলিয়া ক্লার্ক। 'লাস্ট ক্রিসমাস' এর কলাকুশলীদের সাথে এমিলিয়া "নগ্ন বা খোলামেলা দৃশ্য থাক বা নাই থাক, প্রথম মৌসুমের প্রায় পুরো সময় টাতেই আমার মনে হয়েছে যে আমি এই কাজের জন্য যোগ্য নই। আমার কাছ থেকে কিছুই আশা করা যায় না।" "আমি বাথরুমে গিয়ে কাঁদতাম এবং ফিরে এসে ঐ দৃশ্যে অভিনয় করতাম। শেষপর্যন্ত ঠিকঠাকই হতো দৃশ্যায়ন।" তিনি জানান প্রথম মৌসুমে তার নির্যাতনকারী স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করা জেসন মোমোয়া পুরো প্রথম মৌসুমে তাকে সহায়তা করেছেন। ২০১৩ সালে গেইম অব থ্রোনস এর প্রিমিয়ারে এমিলিয়া ও জেসন মোমোয়া ২০০৯ ও ২০১০ এর দিকে এমিলিয়ার মনে হতো যে এই সিরিজে তিনি 'শুধু নগ্ন দৃশ্যেই অভিনয় করছেন।' কিন্তু তারপরেও চরিত্রটির দৃশ্যায়নে কোনো পরিবর্তন আনার অনুরোধ করেননি তিনি। "অনুষ্ঠানে খালিসি'র নগ্নতা নিয়ে অনেক মানুষ অনেকরকম কথা শুনিয়েছেন আমাকে। কিন্তু তাকে নির্যাতিত হতে না দেখলে মানুষ তাকে গুরুত্বই দেবে না। কাজেই আপনাকে তা দেখতেই হবে।" এমিলিয়া এখন রোমান্টিক কমেডি 'লাস্ট ক্রিসমাস' এ অভিনয় করছেন। তিনি জানান, এখন কোনো দৃশ্যে নগ্নতা থাকা প্রয়োজন কিনা, সেবিষয়ে তিনি রীতিমত তর্ক
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে ১৪ ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা শুরু হয়েছে। রোববার সকাল ৭টা থেকে ফ্লাইট ওঠানামা শুরু হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহাওয়া অধিদফতর চট্টগ্রাম বন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ঘোষণার পর বন্ধ হওয়া শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আজ সকালে চালু হয়েছে। বিমান ওঠানামা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গতকাল বিকাল চারটা থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে ঘূর্ণিঝড়টি খুলনা অঞ্চলের ওপর দিয়ে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করায় ঝুঁকি কমে আসায় বন্ধের ১৪ ঘণ্টা পর শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু করা হয়েছে। বিমানবন্দর চালু হওয়ার বিষয়টি শাহ আমানত বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারওয়ার ই জামান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
বিশেষ প্রতিনিধি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে যোগ হওয়া অত্যাধুনিক বিমান তৃতীয় ড্রিমলাইনার গাঙচিলের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার গাঙচিল যেন ভালোভাবে ডানা মেলে উড়তে পারে, সেই যত্ন সবাই নেবেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনাল থেকে গাঙচিলের বাণিজ্যিক যাত্রার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমানটির নামকরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নতুন বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি বাণিজ্যিক যাত্রায় প্রথম ফ্লাইট নিয়ে রওনা করবে বিকালে। সাড়ে ৫টায় উদ্বোধনী ফ্লাইটে আবুধাবির উদ্দেশে আকাশে ডানা মেলবে ‘গাঙচিল’। বোয়িং ৭৮৭-৮ এর উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমান আমাদের নিজস্ব সম্পদ, তাই এর সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বিমানের যাত্রীসেবার মান অধিকতর উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি প্রতিটি ফ্লাইট সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান। সারা বিশ্বে বিমানের ফ্লাইট যেন যেতে পারে, সেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড্রিমলাইনারের সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জেএফকে বিমানবন্দরে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। এ রুটে বিমান চালুর চেষ্টা চলছে। শুধু তাই নয়, পর্যায়ক্রমে বিশ্বের বিভিন্ন রুটে বিমানের ফ্লাইট যেন যেতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। লন্ডনে স্লট বৃদ্ধি করার চেষ্টা চলছে। পণ্য রফতানির জন্য কার্গো বিমান কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্য রফতানির জন্য দুটি কার্গো বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশে কার্গো বিমানের দাম যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ধার করে আর বিমান কেনা হবে না এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ঋণগ্রহণ করে উড়োজাহাজ কেনা হলেও এখন থেকে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নিজস্ব অর্থ ঋণের মাধ্যমে বিমান কেনা হবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উড়োজাহাজ ড্রিমলাইনার টানা ১৬ ঘণ্টা আকাশে উড়তে পারে। অন্য উড়োজাহাজের চেয়ে এর জ্বালানি খরচও ২০ শতাংশ কম। ড্রিমলাইনার গাঙচিলের ২৭১ আসনের মধ্যে ২৪টি বিজনেস ক্লাস এবং ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাসের আসন। বিজনেস ক্লাসের আসনগুলো ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত রিক্লাইন্ড এবং সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড সুবিধা রয়েছে। গাঙচিল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ও ওয়াইফাই সুবিধা দেবে যাত্রীদের। যাত্রীরা ইন্টারনেট ব্রাউস করতে পারবেন এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অবস্থিত বন্ধুবান্ধব ও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন। গত ২৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল থেকে আনা হয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ‘গাঙচিল’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পছন্দে এর নামকরণ করা হয়েছে ‘গাঙচিল’। ‘গাঙচিল’ যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াল তিনটিতে। ২০০৮ সালে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার জন্য ২১০ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর আগে এগুলোর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, দুটি নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮০০ যুক্ত হয়েছে। বাকি চারটি ড্রিমলাইনারের ২০১৮ সালে বাংলাদেশ বিমানের বহরে আকাশবীণা ও হংসবলাকা যুক্ত হওয়ার পর আজ যুক্ত হলো ড্রিমলাইনার গাঙচিল। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দেশে আসতে পারে চতুর্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’। ড্রিমলাইনার গাংচিল বিমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৃতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘গাংচিল’ উদ্বোধন করেছেন।বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি এটির উদ্বোধন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী উড়োজাহাজটিতে আরোহণ করেন এবং ককপিটসহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। বিকেল সাড়ে ৫টায় আবুধাবির উদ্দেশে আকাশে ডানা মেলবে ‘গাঙচিল’। ১৫তম বিমান হিসেবে তৃতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার গত ২৫ জুলাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে যুক্ত হয়। ২৫ জুলাই বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল অবস্থিত বোয়িং ফ্যাক্টরি থেকে থেকে সরাসরি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে। সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী সবকটি ড্রিমলাইনারের নামকরণ করেন। ‘আকাশবীণা’ নামের প্রথম বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি গত বছরের আগস্টে এখানে আসে। ‘হংসবলাকা’নামের দ্বিতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি আসে গত বছরের ডিসেম্বরে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০০৮ সালে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির ১০টি নতুন বিমান ক্রয়ের জন্য ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউএস ডলারের একটি চুক্তি করে। ইতোমধ্যে বহরে যুক্ত হয়েছে ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, ২টি ৭৩৭-৮০০ এবং ৩টি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। ‘রাজহংস’ নামের চতুর্থ ড্রিমলাইনারটি আগামী মাসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যুক্ত হবে। ২৭১ আসনের বোয়িং ৭৮৭-৮ গাংচিল ড্রিমলাইনারটি ২০ অন্য বিমানের তুলনায় শতাংশ জ্বালানি-সাশ্রয়ী করে তৈরি করা হয়েছে। এটি ঘণ্টায় গড়ে ৬৫০ মাইল বেগে বিরতিহীনভাবে ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম। অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার সমদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ও ওয়াইফাই সুবিধা পাবেন যাত্রীরা। পলে যাত্রীরা ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারবেন এবং বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে অবস্থিত বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক দেশে এলো বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ ‘গাঙচিল’। এর মধ্যে দিয়ে বিমান বহরে যুক্ত হলো বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির তৃতীয় নতুন বোয়িং-৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি। এ নিয়ে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটিতে তিনটি অত্যাধুনিক ড্রিমলাইনার রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে উড়োজাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল থেকে উড়ে সরাসরি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এসময় ড্রিমলাইনারটিকে ওয়াটার ক্যানন স্যালুটের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। বিমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফারহাত হাসান জামিল, পরিচালক (প্রশাসন) জিয়াউদ্দীন আহমেদ, চিফ ফাইনান্সিয়াল অফিসার ভিনীত সুদ, পরিচালক (প্রকৌশল) গ্রুপ ক্যাপ্টেন খন্দকার সাজ্জাদুর রহিম (অব.), পরিচালক (গ্রাহকসেবা) আতিক সোবহান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সাইদ মেহবুব খানসহ বিমান ও সিভিল অ্যাভিয়েশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের উপ মহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যম বিষয়টি নিশ্চিত হয়। গাঙচিল যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫টি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০০৮ সালে মার্কিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল। ইতোমধ্যে এ চুক্তির আওতায় তিনটি ড্রিমলাইনার আসল বাংলাদেশে। এছাড়া আরও একটি ড্রিমলাইনার আসবে। এর নাম ‘রাজহংস’। এ চারটি ড্রিমলাইনারের নাম পছন্দ করেছিলেন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে যে দু’টি ড্রিমলাইনার এসেছে, সেগুলোর নাম- ‘আকাশবীণা’ ও ‘হংসবলাকা’। গাঙচিলের আসন সংখ্যা ২৭১টি। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাস ২৪টি আর ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস। বিজনেস ক্লাসের ২৪টি আসন ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত রিক্লাইন্ড সুবিধা এবং সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড হওয়ায় যাত্রীরা আরামদায়ক পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারবেন। এ উড়োজাহাজটিতে যাত্রীরা অন্যান্য আধুনিক সেবাসহ ইন্টারনেট ও ফোন কল করার সুবিধা পাবেন।

ফেসবুক-এ আমরা