09162019সোম
শিরোনাম:
সোমবার, 07 জানুয়ারী 2019 19:40

কারও হারানোর কিছু নেই-কাদের

লিখেছেন 
আইটেম রেট করুন
(0 ভোটসমূহ)
বিশেষ প্রতিবেদক সরকার থেকে দলের ‘আলাদা সত্তা’ বজায় রাখতে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নতুন মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি বলে যুক্তি দেখিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং নতুন সরকারের সড়ক পরিবহন ও নেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল সোমবার বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের পর তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কারও হারানোর কিছু নাই। নোবডি ইজ গোয়িং টু লুজ এনিথিং। আমার মনে হয় এটা দায়িত্বের পরিবর্তন, দায়িত্বের রূপান্তর। আমাদের সরকারের মধ্যে দলটা হারিয়ে যাক, আমরা চাই না। সেখানে সরকার আর দলের যে আলাদা সত্তা আছে, সেটা রাখতে হলে রেসপন্সিবল লিডারদের একটা অংশকে দলের দায়িত্বে রাখতে হবে।’ টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যে মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন, তাতে দলের প্রবীণ নেতাদের প্রায় সবাই বাদ পড়েছেন। গত মন্ত্রিসভার বেশিরভাই ঠাঁই পাননি নতুন সরকারে। আওয়ামী লীগের ১৫ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর মাত্র একজন ড. আবদুর রাজ্জাক মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বাদে সম্পাদকমন্ডলীর ৩২ জনের মধ্যে আটজনের ঠাঁই হয়েছে মন্ত্রিসভায়। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কেউ বাদ পড়েছেন এটা আমি বলব না। কেউ সরকারে দায়িত্ব পালন করবেন, কেউ আরও বেশি করে দলের দায়িত্ব পালন করবেন।’ আগের ধারাবাহিকতায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের যে চ্যালেঞ্জ, তা মোকাবেলা করতে হলে দলকে আমাদের শক্তিশালী করতে হবে।’ জোটসঙ্গীদের কাউকে নতুন সরকারে না রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই একসঙ্গেই তো আছি। ১৪ দল আমাদের সঙ্গে আছে। এখন মন্ত্রী থাকা না থাকার উপর তো আমাদের অ্যালায়েন্স ভেঙে গেছে, এটা বলা যাবে না। মন্ত্রী তো পাঁচ বছরের ব্যাপার, মাঝে মাঝে এক্সপাংশন হবে, রিশাফল হবে, এর মধ্যে অনেকে যাবেন। আবার ভালো পারফর্মেন্স না থাকলে মাঝপথেও বিদায় নিতে হবে।’ বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জনগণের রায়ের প্রতি তাদের সম্মান থাকা উচিত। মানুষ তাদেরকে রায় যতটা দিয়েছে, সেটাকে সম্মান করা উচিৎ।’ নতুন মন্ত্রীরা কে কি বললেন গ্রামকে শহরে বাস্তবায়নই আমার লক্ষ্য: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি গ্রামকে শহর করার যে ঘোষণা নির্বাচনী ইশতেহারে দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করাই আমার প্রধান লক্ষ্য থাকবে’। দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবো: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা যথাযথভাবে পালন করা হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন নতুন মন্ত্রিসভার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সোমবার শপথগ্রহণ শেষে বঙ্গভবন চত্বরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই আমাদের লক্ষ্য : নতুন মন্ত্রিসভার তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘দীর্ঘ ছয় বছর প্রচার সম্পাদক হিসেবে দলের দায়িত্ব পালন করেছি। এখন প্রধানমন্ত্রী আমাকে রাষ্ট্রের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়েছেন, তা আমি যথাযথভাবে পালন করবো’। তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ আমাদের আবারও ক্ষমতায় এনেছেন। মানুষকে আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। এখন সে প্রতিশ্রুতি বাস্তায়নই আমাদের লক্ষ্য’। প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রীরা টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন বুধবার : প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ ও নতুন মন্ত্রিসভা গঠন শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে যাবেন নতুন মন্ত্রিসভার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা। সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে গণভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০টায় বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে হেলিকপ্টারযোগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠে নির্মিত হেলিপ্যাডে অবতরণ করবেন তিনি। বেলা ১১টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে উপস্থিত হয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেবেন। তখন সশস্ত্র বাহিনী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার প্রদান করবেন। সোমবার ২৪ মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী ও তিন উপমন্ত্রী শপথ নেন। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে ২৯৮ আসনের মধ্যে ২৫৭টিতে জয় পায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। জোটগতভাবে তারা পায় ২৮৮ আসন। অন্যদিকে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ও তাদের জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পায় মাত্র সাতটি আসন। তবে এ সাতজনের কেউ এখনও শপথ নেননি।
পড়া হয়েছে 83 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: সোমবার, 07 জানুয়ারী 2019 19:49

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা