10162018মঙ্গল
সোমবার, 17 সেপ্টেম্বর 2018 18:35

পদ্মার ভাঙ্গন এলাকা নড়িয়ায় না যাওয়ায় মন্ত্রীদের উপর ক্ষোভ ঝাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

লিখেছেন 
আইটেম রেট করুন
(0 ভোটসমূহ)
বিশেষ প্রতিনিধি পদ্মার ব্যাপক ভাঙ্গনে নড়িয়া উপজেলা প্রায় বিলীন হওয়ার খবর না রাখায় মন্ত্রীদেও উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এ রকম একটি ভয়াল নদী ভাঙ্গনে একটি জনপদ প্রায় নিশ্চিহ্ন হওয়া পথে। আপনারা (মন্ত্রীরা) কেউ খবর রাখলেন না। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শুরুর আগ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তার ক্ষোভের কথা বলেছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মন্ত্রী বলেন, ব্যাপক ভাঙ্গনে নড়িয়া উপজেলার কয়েক মাইল ফসলি জমি ও হাটবাজার, বন্দর পদ্মা গর্ভে চলে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই ভাঙ্গন রোধের বিষয়ে পূর্ব প্রস্তুতি ছিল না। এজন্য প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদেও প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওই এলাকার মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে শেখ হাসিনা বলেন, নড়িয়ার একিট জনপদ পদ্মা গর্ভে বিলীন হচ্ছে, অথচ কোন মন্ত্রী ওই এলকা পরিদর্শনে যাননি। আপনারা কেউ বিষয়টি আমাকেও জানাননি। প্রধানমন্ত্রী নদীভাঙন কবলিত এলাকার সংসদ সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ এর সঙ্গে জড়িতদের উদ্দেশ্যে বলেন, ভাদ্র মাসে নদীতে পানির টান পড়ে। তাই এ সময় নদীভাঙনের ঘটনা ঘটে। তবে আগে থেকে বুঝা যায় না কোন এলাকায় নদীভাঙন হবে। তারপরও যেসব এলাকা নদীভাঙন কবলিত বলে চিহ্নিত সেসব এলাকায় পূর্ব প্রস্তুতি নেয়া উচিত ছিল। কিন্তু সে রকমভাবে নেয়া হয়নি। তবে একজন মন্ত্রী ওই এলাকার ভাঙ্গন রোধে সরকারের নেয়া প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প গ্রহনের কথা তো বললেন। তা বাস্তবায়নে সময় লাগে। বুঝলাম ভাঙ্গণের উপর আমাদেও হাত নেই, আপনারা তো নদী ভাঙ্গণে নি:শ্ব হয়ে পড়া মানুষের পাশে গিয়ে অন্তত তো দাড়াতে পারতেন। পত্র-পত্রিকায় নিউজ হওয়ার কারণে বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমনকি নদীভাঙন বিষয়ে তাকে কেউ জানায়ওনি। এজন্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। গত কয়েক মাস ধরে শরিয়তপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙনের ঘটনা ঘটেছে। শরীয়তপুরে এখনও অব্যাহত রয়েছে পদ্মার ভাঙন। গত দেড় বছরে পদ্মার ভাঙনে সেখানে নিঃস্ব হয়েছে ৫ হাজার ৮১টি পরিবার। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও ৮ হাজার পরিবার। ভাঙনে নড়িয়ার কেদারপুর, মোক্তারের চর ইউনিয়ন ও নড়িয়া পৌরসভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এছাড়া উত্তারাঞ্চলেরও বেশ কয়েকটি এলাকা নদীভাঙনে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিলিন হয়ে গেছে। হাজার হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে।
পড়া হয়েছে 17 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: সোমবার, 17 সেপ্টেম্বর 2018 18:58

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা