08192019সোম
স্পটলাইট

স্পটলাইট (855)

নিউজ ফ্ল্যাশ প্রিতেবদক নানা শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর পারিবারিকভাবে অনেক দুঃসময় গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেন, ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে আমাদের পরিবারকে বিদেশে থেকে যেতে হয়। এ সময় শুধুমাত্র একটি ব্রিফকেস ভর্তি কাপড় এবং ২০০-৩০০ ডলার ছাড়া আমাদের কাছে আর কিছুই ছিল না। এমন অবস্থায় একদেশ থেকে অন্যদেশে ছুটে বেড়াতে হয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারকে। পারিবারিক ভাবে এমন সব প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে থেকেও শেষ পর্যন্ত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মত আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। কষ্টের সময়গুলো পার করে বর্তমান সজীব ওয়াজেদ জয় হয়ে ওঠা আত্মবিশ্বাসের ফসল বলে জানান তিনি। আজ ২৭ জুলাই তার জন্মদিনের ঠিক আগের দিন সিআরআই আয়োজিত 'লেটস টক উইথ সজীব ওয়াজেদ জয়' অনুষ্ঠানে তরুণদের প্রেরণা যোগাতে তিনি এ সকল কথা বলেন। ১৯৭৫ সালের পরবর্তীতে সজীব ওয়াজেদ জয় তার বাবা ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া এবং মা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিদেশে থেকে যেতে বাধ্য হন।এ সময় তার বোর সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও ছিলেন তাদের সঙ্গে। মাত্র ২'শ থেকে ৩'শ ডলার হাতে নিয়ে সে সময় তার পরিবার জার্মান থেকে লন্ডন হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন সেখানেই নিজের কিশোর বয়স পার করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। পরবর্তীতে স্নাতক পর্ব শেষ করেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় 'দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে। তার বিষয় ছিল কম্পিউটার বিজ্ঞান। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে লোক প্রশাসন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পর্ব শেষ করার পর তিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা। এরই মধ্যে বিশ্বের বুকে তিনি বাংলাদেশকে আরো পরিচিত করে তুলেছেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরষ্কারের মাধ্যমে। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সজীব ওয়াজেদ জয় প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অর্জন করেন 'ইয়াং গ্লোবাল লিডার' অ্যাওয়ার্ড। আইসিটি খাতে বিশেষ দক্ষতার জন্য ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরাম তাকে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে। প্রতি বছর বিশ্বে ২৫০ জন তরুণ নেতৃত্বকে এই অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। যা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। এ ছাড়াও ২০১৬ সালে তিনি অর্জন করেন 'আইসিটি ফর ডেভলোপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড'। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশে আইসিটি খাতের উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়নের নিমিত্তে আইসিটি খাতের সর্বোচ্চ ব্যবহারের স্বীকৃতি স্বরূপ ত্রিদেশীয় সংস্থা 'প্লান ট্রিফিনি' আন্তর্জাতিক এনজিও 'গ্লোবাল ফ্যাশন ফর ডেভলোপমেন্ট' এবং নিউ হাভানা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুলের সঙ্গে একত্রে এই অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের ১ বছর পূর্তিতে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব গভর্নেন্স অ্যান্ড কম্পিটিটিভনেস।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইন থেকে ৫৭ ধারা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং নতুন কোনো আইনে এই ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। পরিষদ বলেছে, এই ধারা সংবিধান পরিপন্থী এবং সংবিধানে রক্ষিত স্বাধীন মতপ্রকাশ ও সাংবাদিকতার প্রতি হুমকি। গতকাল বৃহস্পতিবার দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে সম্পাদক পরিষদের এক সাধারণ সভায় গৃহীত প্রস্তাবে এই দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রস্তাবিত খসড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহ্‌ফুজ আনামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পরিষদের এই প্রস্তাবের কথা জানানো হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়ার ১৯ ধারায় বিদ্যমান তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার সব বিষয় বিদ্যমান থাকায় আমরা উদ্বিগ্ন। এই ১৯ ধারাতেও তথাকথিত মানহানি, সামাজিকভাবে অপদস্থ করার চেষ্টা বিশেষভাবে রাখা হয়েছে। যদিও আইনমন্ত্রী কিছুদিন আগে বলেছিলেন যে ৫৭ ধারাটি থাকছে না, কিন্তু প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ১৯ ধারায় আরও শক্তভাবে তা রাখা হচ্ছে। আমরা এটা ভেবেও উদ্বিগ্ন যে প্রস্তাবিত খসড়ার ১৫(৫) ধারা চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আরেকটি বড় বাধা হবে। কারণ এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে কোনো বক্তব্য সরকারি ভাষ্যের বিপরীত হলে তা “ডিজিটাল সন্ত্রাসী অপরাধ” হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক বিধান পর্যালোচনা ও সংশোধন করে দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনার সুযোগ করে দিতে আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। ‘সম্পাদক পরিষদ অনলাইন গণমাধ্যমবিষয়ক নীতিমালার খসড়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এতেও ৫৭ ধারাসহ তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিধানগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই খসড়া নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। কারণ, এতেও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কথিত মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। সম্পাদক পরিষদ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অন্তরায় হয় এমন সব বিধিবিধান বাদ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কথিত মানহানির অভিযোগকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে নেওয়ার বিধানও বাদ দেওয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছে। সম্পাদক পরিষদ এ ধরনের বিষয়ের প্রতিবিধানের জন্য সবার আগে প্রেস কাউন্সিলে যাওয়া বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানাচ্ছে। দেওয়ানি অভিযোগের ক্ষেত্রেও ক্ষতিপূরণ দাবির ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত।’ সম্পাদক পরিষদের প্রস্তাবে বলা হয়, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, সরকারের কোনো নীতিমালা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম, তাদের সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল মিডিয়া তথা ওয়েবসাইট, অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমে কোনো রকম হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমগুলোর প্রতি আমাদের আহ্বান, তারা যেন গণমাধ্যমের প্রচলিত নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে। ‘সম্পাদক পরিষদ সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত সব হামলার দ্ব্যর্থহীন নিন্দা করে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা ও ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা সম্পাদক ও সাংবাদিকদের হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য সারা দেশে যত মিথ্যা মামলা করেছেন, তা প্রত্যাহারের দাবি করছে সম্পাদক পরিষদ। একই সঙ্গে সম্পাদক ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় যত মামলা আছে, তা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি করছে। ‘সবশেষে আমরা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাই, আইসিটি আইন থেকে ৫৭ ধারা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করুন এবং কোনো নতুন আইনে এই ধারাগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কেননা, এই আইনের ধারাগুলো সংবিধান পরিপন্থী এবং সংবিধানে রক্ষিত স্বাধীন মতপ্রকাশ ও সাংবাদিকতার প্রতি হুমকি।’ সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক সমকাল-এর সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন মাহ্ফুজ আনাম, তাসমিমা হোসেন, রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, এ এইচ এম মোয়াজ্জেম হোসেন, মতিউর রহমান চৌধুরী, শ্যামল দত্ত, ইমদাদুল হক মিলন, নঈম নিজাম, খন্দকার মনিরুজ্জামান, সাইফুল আলম, দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, মতিউর রহমান প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি
বৃহস্পতিবার, 20 জুলাই 2017 06:59

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ঘুরে দেখলেন জয়

লিখেছেন
< > গাজীপুর সংবাদদাতা পরিবার নিয়ে গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তাঁর তথ্য ও যোগাযাগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। গতকাল বুধবার দুপুরে স্ত্রী ক্রিস্টিন ওভায়ার ওয়াজেদ ও একমাত্র মেয়ে সোফিয়া রেহানা ওয়াজেদকে সঙ্গে নিয়ে পার্কটি ঘুরে দেখেন তিনি। পরে স্থানীয় একটি রিসোর্টে দুপুরের খাবার খান। সেখান থেকে বিকেলে ঢাকায় ফেরেন। সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটা ছিল সজীব ওয়াজেদ জয়ের ব্যক্তিগত সফর। দুপুর ১২টা ১৬ মিনিট থেকে ১টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত তাঁরা পার্কটি ঘুরে দেখেন। পার্কের কোর সাফারি ও সাফারি কিংডমে অবমুক্ত এবং বেষ্টনীতে রাখা বন্য প্রাণী দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন জয়। পার্কটিকে সম্প্রসারণ এবং আরো সমৃদ্ধ করার পরামর্শও দেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র জয় স্ত্রী-কন্যাসহ পার্ক পরিদর্শনকালে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দেয়। তবে কঠোর নিরাপত্তার কারণে জয়ের সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। দলের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় লোকজন পার্কের বাইরে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থেকে তাঁদের স্বাগত জানায়। পার্কের কর্মকর্তারা জানান, পার্কে ঢুকে জয় পরিবার প্রথমে পার্কের তথ্য ও শিক্ষাকেন্দ্রসহ বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের দর্শনীয় কিছু স্থাপনা ঘুরে দেখে। এরপর পার্কের খয়েরি রঙের নিজস্ব গাড়িতে কোর সাফারির অবমুক্ত ও বেষ্টনীতে রাখা বন্য প্রাণী পরিদর্শন করেন তাঁরা। তাঁরা সাফারি কিংডমে ম্যাকাউ ল্যান্ড ও প্যারট অ্যাভিয়ারিও পরিদর্শন করেন। এ সময় ম্যাকাউ পাখির সঙ্গে ছবি তোলেন তাঁরা। ম্যাকাউ ল্যান্ডের জুনিয়র ওয়াইল্ড লাইফ স্কাউট সমীর সুর চৌধুরী বলেন, প্রায় ১০ মিনিট ম্যাকাউ ল্যান্ডে পাখি দেখেন তাঁরা। ছবিও তোলেন। পার্কের প্রকল্প পরিচালক উপপ্রধান বন সংরক্ষক শামসুল আজম বলেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয়ের এটা ছিল ব্যক্তিগত সফর। আগে থেকে কোনো চিঠি দিয়ে আমাদের জানানো হয়নি। গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আমরা জেনেছিলাম। পরিদর্শনের পর সন্তোষ প্রকাশ করে পার্কটি সম্প্রসারণ ও আরো সমৃদ্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। ’ এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপপ্রধান বন সংরক্ষক তপন কুমার দে, সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) ও পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাহাব উদ্দিন। সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে সজীব ওয়াজেদ জয় পরিবার নিয়ে পাশে ভাংনাহাটি গ্রিনভিউ রিসোর্টে যান। সেখানে দুপুরের খাবার খান তাঁরা। পরে কিছু সময় বিশ্রাম নেন। সেখানে অবস্থানকালে তাঁদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রহমত আলীর মেয়ে অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসি ও শ্রীপুর উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর আলম (সিরাজী)। বিকেল সাড়ে ৪টায় সেখান থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয় জয় পরিবার। ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ইন্দ্রবপুর এলাকায় তৈরি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিন হাজার ৬৯০ একর জমির ওপর ২৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পার্কটি এশিয়ার সবচেয়ে বড় সাফারি পার্ক। < >
বৃহস্পতিবার, 06 জুলাই 2017 09:55

২০৪৮ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক দেশের শীর্ষস্থানীয় চার মোবাইল ফোন কোম্পানির বিরুদ্ধে সিম পরিবর্তনের নামে নতুন সিম বিক্রির মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এনবিআরের আপিলাত ট্রাইব্যুনাল দাবীকৃত দুই হাজার ৪৮ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে রায় দিয়েছে। কোম্পানি চারটি হলো গ্রামীণ ফোন, রবি, বাংলালিংক ও এয়ারটেল (সাবেক ওয়ারিদ)। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখন তিন মাসের মধ্যে তাদেরকে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। অবশ্য এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ তাদের রয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত কোম্পানিগুলো মোবাইল ফোনের সিম পরিবর্তন সংক্রান্ত যে তথ্য দেয় তাতে সন্দেহ হয় এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ-ভ্যাট)। এরপর নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এনবিআর আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে হিসাব করে। কোম্পানিগুলোর কাছে ওই অর্থ পরিশোধের জন্য দাবিনামা জারি করে। কিন্তু মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো এটি চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করে। আদালত বিশদ পরীক্ষার জন্য তা ফের এনবিআরে পাঠায়। এরপর কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক শেষে দুই হাজার ৪৮ কোটি টাকা ফাঁকির বিষয়টি ঠিক করা হয়। কিন্তু কোম্পানিগুলো তা না মেনে দাবীকৃত ভ্যাটের ১০ শতাংশ জমা দিয়ে এনবিআরের আওতাধীন আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আপিল করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে আপিলাত ট্রাইব্যুনাল গত ২৩ জুন এ রায় দেয়। এলটিইউ ভ্যাটের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায় ইতোমধ্যে কোম্পানিগুলোর কাছে চলে গেছে। আমরা আশা করছি, এ অর্থ তারা বেশিদিন ধরে রাখতে পারবে না। এনবিআরের দাবি অনুযায়ী, গ্রামীণ ফোনের ফাঁকিই সবচেয়ে বেশি। কোম্পানিটির কাছে দাবীকৃত অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ২৩ কোটি টাকা। এছাড়া বাংলালিংকের কাছে ৫৩২ কোটি টাকা, রবি’র কাছে ৪১৪ কোটি ও এয়ারটেলের কাছে ৭৯ কোটি টাকা পাওয়া যাবে। আর সময়মতো অর্থ পরিশোধ না করায় এর সঙ্গে সুদের অর্থ যুক্ত হলে তা আড়াই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। নতুন গ্রাহকের কাছে মোবাইল ফোনের সংযোগ বা সিম বিক্রি করার জন্য সরকারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে হয়। কিন্তু সিম পরিবর্তনের জন্য ভ্যাট-ট্যাক্স প্রযোজ্য ছিল না (গত দুই বছর ধরে কর আরোপ করা হয়েছে)। ফোন হারিয়ে গেলে, চুরি হলে, বা সিম নষ্ট হওয়ার কারণে নম্বর অপরিবর্তিত রেখে সিম পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। এনবিআরের অভিযোগ, নতুন সিম বিক্রিকে পরিবর্তন হিসেবে দেখিয়েছে কোম্পানিগুলো। উদ্দেশ্য, ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া। সিম পরিবর্তনের স্বপক্ষে কোম্পানিগুলো প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দেখাতে পারেনি। আরো ৮৭৩ কোটি টাকার ফাঁকি উদ্ঘাটন এদিকে ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত একই কায়দায় ৮৭৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে এলটিইউ-ভ্যাট। হিসাব অনুযায়ী, গ্রামীণ ফোন ৩৭৯ কোটি টাকা, রবি ২৮৫ কোটি টাকা, বাংলালিংক ১৫৯ কোটি ও এয়ারটেল ৫০ কোটি টাকা ফাঁকি দিয়েছে। চূড়ান্ত হিসাবে এ অর্থের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শিগগিরই কোম্পানিগুলোর কাছে এসব অর্থের জন্য দাবিনামা জারি করা হবে। এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, এসব অর্থও কোম্পানিগুলোকে পরিশোধ করতে হবে। তবে তারা আইনি প্রক্রিয়ায় ফেলে অর্থ প্রদানে বিলম্বিত করার কৌশল নেয়।
বিবিসি বাংলা বাংলাদেশে বাল্য বিয়ে ঠেকাতে নানারকম উদ্যোগ নেয়া হলেও এখনও গ্রামের অনেক মেয়ের তার আগেই বিয়ে হয়ে যায় (ফাইল ছবি) বিশ্বের যেসব দেশে বাল্যবিয়ের ঘটনা সবচেয়ে বেশী ঘটে, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। তাই বলা যেতে পারে, দেশটিতে বাল্যবিয়ের ঘটনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু নিজের বিয়ে ভাঙতে হাত কেটে ফেলার কথা এর আগে শোনা যায়নি। তবে এমনই একটি ঘটনা ঘটিয়েছেন বিথী আক্তার। আর ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে। ওই গ্রামেরই একটি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বিথী আক্তার, বয়স ১৫ বছর। পড়াশোনা করতে আগ্রহী বিথীর অমতেই তার পরিবার এক বাস ড্রাইভারের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে। অল্প বয়সে বিয়ে করা ঠিক নয়, এই বিষয়টি তিনি বাবা-মাকে বুঝাতে ব্যর্থ হয়ে অনেকটা নিরুপায় হয়েই বিথী সিদ্ধান্ত নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন করার। "বয়স কম, ক্লাস নাইনে পড়ি । জোর করে বিয়ে দিতে চাইছিল ড্রাইভারের সঙ্গে"- উপজেলার সবচেয়ে বড় কর্মকর্তাকে ফোন করার কারণ ব্যাখ্যা করে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন বিথী আক্তার। কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাসারউদ্দিন জানান হঠাৎ করেই গত সপ্তাহে তার কাছে বিথী নামের ওই কিশোরীটি ফোন করে। "মেয়েটা আস্তে আস্তে বলছিল আপনি কি বাল্যবিয়ে ঠেকাতে পারবেন? আমি তখন বললাম পারবোনা কেন। মেয়েটি জানায় যে তারই বিয়ে ভাঙতে হবে। পরদিন বৃহস্পতিবারেই বিয়ে"। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ জুন মাসের ২৯ তারিখে বিথীর গ্রামে যান উপজেলার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদেরকে সহযোগিতা করতে হাজির হন এলাকার কিছু মানুষ। এরা সবাই বিথীদের বাড়িতে গিয়ে দেখেন যে সেখানে পারিবারিকভাবে বিয়ের সব প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু বিথীর বাবা বেল্লালকে যখন বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে বলা হয়, তখন তিনি এক নাটকীয় মুহুর্ত তৈরি করেন বলে জানান আবু নাসারউদ্দিন। বিয়ে নিয়ে নাটকীয়তা "আমরা যাওয়ার কিছু পর পুলিশও আসলো। তাদের অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করলাম। অনেক পরে আসলো মেয়ের বাবা বেল্লাল। মেয়েকে বয়সের আগেই বিয়ে দিচ্ছেন কেন, এটা জানতে চেয়ে মেয়েটিকে ডেকে আনতে বললে তিনি এমন এক মেয়েকে এনে বসালেন, যাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছিল বয়স একটু বেশি" - বলছিলেন মি: নাসারউদ্দিন। বিথী ওই কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি ক্লাস নাইনে পড়েন। কিন্তু যে মেয়েকে তার বাবা কর্মকর্তাদের সামনে নিয়ে এসেছিলেন, তিনি মেট্রিক পাশ করেছেন এমনটা জানার পর সন্দেহ হয় কর্মকর্তাদের। এরপর প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে জানা যায় নিজের মেয়ের পরিবর্তে অন্য আরেকজনকে বসিয়ে দিয়েছেন বিথীর বাবা। আবু নাসারউদ্দিন বলছিলেন "আমি যখন বললাম আপনি মেয়ের পরিবর্তে নিজের বোনকে বসিয়ে দিয়েছেন, এটা কি ঠিক হলো? এমন সময় ফিক করে হেসে দেন বেল্লাল। অনেক পরে বিথীকে সবার সামনে নিয়ে আসেন তার বাবা"। "এই মেয়েকে দেখলে আপনার অনেক খারাপ লাগবে যে এমন বাচ্চা মেয়েটাকে এক ড্রাইভারের সাথে বিয়ে দেয়ার চিন্তা করেছে তার পরিবার"- বলেন তিনি। ছবির কপিরাইট BBC/Getty মেয়ে ক্লাস নাইনে পড়ে, বিয়ের বয়স হয়নি, ১৮ বছরের আগে মেয়েকে বিয়ে দেয়া ঠিক নয় - এসব কথা বলে অনেক বুঝানো হয় বিথীর পরিবারকে। "মেয়ের বাবা বলেন যে বিয়ে উপলক্ষে অনেক খরচ হয়ে গেছে, গরীব মানুষ। তখন বলি যে পরে যখন মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হবে বিয়ের সব খরচ আমি দেখবো, তবু এই বিয়েটা বন্ধ করেন"-বলেন মি: নাসারউদ্দিন। তিনি জানান, বিথীর বাবার কাছ থেকে মুচলেকাও নেয়া হয়েছে যে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের দিবেন না। টেলিফোনে ছেলের বাড়িকে নিষেধ করে, পড়ালেখার সার্বিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন কর্মকর্তারা। তাহলে কেন বিথীকে নিজের হাত কাটতে হলো? বিথীকে জোর করে তার পরিবার বিয়ে দেবে না, এই আশ্বাস পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পুলিশের দল যখন বিথীদের বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর তার পরিবার আবারো তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিথী কান্নাকাটি করার পরও তার মা জোর করে তার বিয়ে দিতে চাইছিলেন। এমনকি বিথীকে মারধোরও করে তার মা - প্রতিবেশী ও উপজেলার তথ্য কর্মকর্তা এমনটাই জানিয়েছেন। যদিও বিথীর কথায়, "মা হালকা দুই-একটা থাপ্পর মারছে"। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিথীর ফোলা চোখের পাশে তিনি আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন। বিয়ে নিয়ে মা-মেয়ের বাকবিতন্ডার মধ্যে এক পর্যায়ে উঠানে থাকা বটি মেয়ের দিকে ছুঁড়ে মারে তার মা। প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে মি. নাসারউদ্দিন বলেন, ওই সময় বিথী বটিটি নিয়ে বলে যে "আমিই নিজেকে শেষ করে দিচ্ছি, বলে বাম হাতে কোপ মারে"। বিবিসির সাথে আলাপকালে একধরনের জড়তা নিয়েই বিথী বলছিলেন "মা বকাঝকা দিছে। কিছু করতে পারছিলাম না। তাই নিজের হাত নিজেই কাটছি। রাগের মাথায় কাজটা করছি"। বটি দিয়ে কোপ দেয়ার কারণে হাতের তিনটি রগ কেটেছে বিথীর। তবে হাতের ব্যান্ডেজ নিয়েই তিনি এখন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার বিথী নিজের হাত কাটলেও খবরটা তিনি পেয়েছেন রোববার, অর্থাৎ ২রা জুলাই। "বিথী স্কুলে গেছে কি-না তা জানতে শনিবার ওর স্কুলে ফোন দেই। হেডমাস্টার জানায় যে ঘরে আত্মীয়স্বজন আছে তাদের বিদায় দিলো, এজন্য সে আসেনি। এরপর রোববার ফোন দিয়ে যখন জানলাম যে আসেনি, তখন সন্দেহ জাগে মেয়েকে বিয়ে দিল কি-না"। এরপর আবার বিথীদের বাড়ি গিয়ে ও তথ্য কর্মকর্তার সাহায্যে পুরো ঘটনা জানতে পারেন তিনি। এবারে নিজের হাত কেটে বাল্যবিয়ে রুখলো বিথী। কিন্তু আবারো যদি পরিবার তাকে চাপ দেয় তাহলে সে কী করবে? "আর এমন করতে পারবে না বাবা-মা। বিয়ে দিতে চাইলে স্যারের কাছে শুনেই সেটা করবো"-বলেন বিথী। ভবিষ্যতে ডাক্তারি পড়ার ইচ্ছার কথাও জানালেন বিথী আক্তার।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডি.সি তে মঙ্গলবার ‘নারী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী’ শীর্ষক একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থটিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। গ্রন্থটির লেখক বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও শিক্ষাবিদ রিচার্ড ও’ব্রাইয়েন। তিনি বর্তমান বিশ্বের ১৮ জন নারী জাতীয় নেতার তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষভাবে উপস্থাপন করেছেন। বইয়ের প্রচ্ছদে বিশ্বের আরও ছয়জন শীর্ষ নেতৃবৃন্দর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিও স্থান করে নিয়েছে। লেখক গ্রন্থটিতে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একনিষ্ঠতা ও কঠোর পরিশ্রম, তাঁর জীবননাশের চেষ্টা এবং বাংলাদেশের ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক অর্জন লিপিবদ্ধে ৩ পৃষ্ঠা উৎসর্গ করেন। এ প্রসঙ্গে লেখক শেখ হাসিনার এই উক্তি উদ্ধৃত করেন যে, ‘বাংলাদেশকে যখন দারিদ্রমুক্ত, ক্ষুধা মুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হব তখন হয়ত আমি বলতে পারব যে আমি এখন গর্বিত।’ ওয়াশিংটন ডি. সি.র ওমেন্স ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ক্লাবে বইটির মোড়ক উন্মোচিত হয় । এসময় বিদেশি কূটনীতিক, নারী নেতৃবৃন্দসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ‘অধিকতরও স্থিতিশীল, অধিকতরও গণতান্ত্রিক ও কম সহিংসতাপূর্ণ’ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন গ্রন্থাকার রিচার্ড ও’ব্রাইয়েন। বইয়ে প্রধানমন্ত্রীর পারিবারিক পটভূমির কথা উল্লেখ করে বলা হয়, তাঁর পিতা শেখ মুজিবুর রহমান আধুনিক বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জনক ও দেশটির প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তারা পরিবারের অন্যান্যরা নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেও শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহেনা ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন। রিচার্ড বলেন, শেখ হাসিনা নির্বাচনী জালিয়াতি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে শক্ত হাতে রুখে দাঁড়াতে ১৯৮১ সালে নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে এসেছিলেন। সেসময় তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এজন্য ৮০’র দশকে তাকে অনেক নির্যাতন, জুলুম সহ্য করা সহ গৃহবন্দী হয়ে থাকতে হয়েছিল। লেখক আরও বলেন, তখনকার শাসনব্যবস্থায় নিপীড়িত হওয়া সত্ত্বেও শেখ হাসিনা এত শক্তিশালী ছিলেন যে তাঁর দৃঢ়তায় ১৯৯০ সালে একটি অভ্যুত্থানে তখনকার শাসককে (জেনারেল এরশাদ) পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিল। ২০০৪ সালে ঢাকায় শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নিয়ে ভয়ঙ্কর হামলা করা হয়। যে হামলায় বহু লোক হতাহত হয়েছিল। সেই সঙ্গে ২০০৭ সালে তাকে আবারো গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগেই তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। রিচার্ড আরও বলেন, বর্তমানসহ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন তিনবারের সরকারের সময়ে দেশকে অস্থিতিশীল ও সংহিংসতাপূর্ণ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা বারবার করা হয়ে হয়েছে। তবে এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন বেশকিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে। তারমধ্যে ১৯৯৭ সালে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি’, স্থলমাইনের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ ও ক্ষুদ্র ঋণ সম্মেলনে সভাপতিকে সহায়তা ও নারী কল্যাণ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাসহ অনেক কর্মকাণ্ড। রিচার্ড লেখেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র প্রচারণার জন্য শেখ হাসিনাকে তাঁর অসামান্য কর্মকাণ্ডের পুরষ্কার স্বরূপ ‘মাদার তেরে-সা অ্যাওয়ার্ড, ‘গান্ধী অ্যাওয়ার্ড’ এ ভূষিত করা হয়েছে।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার একমাত্র মেয়ে সায়মা হোসেন পুতুলের দেওয়া তাঁতের শাড়ি পরে জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর বক্তব্য দিলেন। বুধবার সংসদে বাজেট বক্তৃতার সময় নিজের সাধারণ জীবনযাপন প্রসঙ্গে বলার সময় মেয়ের এই উপহারের কথা বলেন তিনি। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, 'আজকে (বুধবার) আমি একটা শাড়ি পরে আসছি। আমার মেয়ে...আজকে তার কিছু বিদেশি বন্ধু এসেছিল। তারা সোনারগাঁ গিয়েছিল দেখতে। সেখানে তাঁতীরা তাঁত বুনে। সেখান থেকে এই শাড়িটা কিনে এনেছে। ছয় হাজার পাঁচশ টাকা দাম চেয়েছিল, সেখান থেকে নাকি আবার ৫০০ টাকা কম নিয়েছে।' শাড়ির দামের বিষয়ে তিনি বলেন, "কম নেয়ার জন্য জামাই বাবাজিকে (স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে) বললাম পাঁচশ টাকা কম দিলে কেন? বরং পাঁচশ' টাকা বেশি দিয়ে আসতে পারতে। সে বললো, 'কিনতে গেলে তো একটু বারগেইনিং করতেই হবে'।" বাজেটের ওপর প্রায় দেড় ঘণ্টা বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়নে তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও আগামী দিনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এটা কোনো ম্যাজিক নয়। আমার রাজনীতি ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাস, উচ্চাভিলাষের জন্য নয়। আমার রাজনীতি বাংলার জনগণের জন্য; যে শিক্ষা আমি পেয়েছি আমার পিতার কাছ থেকে।' তিনি বলেন, 'আমরা ক্ষমতাকে কখনো ভোগ-বিলাসের বস্তুতে পরিণত করিনি। ক্ষমতায় এসে কোনো ব্র্যান্ড পরব, কোন ব্র্যান্ড নিয়ে চলব, কোন গাড়িতে চড়ব, কোন দেশ থেকে ফার্নিচার আনব, কত বড় স্যান্ডেলিয়া (ঝাড়বাতি) লাগাব—ওই সব চিন্তা করি না। বসা চেয়ারখানাকে কতটা ডেকোরেট করব, ওই চিন্তা করি না। বরং স্যান্ডেলিয়া সরিয়ে দিয়েছি। গণভবনে বোধ হয় একটা-দুটো আছে। বাকি সব সরিয়ে দিয়েছি। চেয়ারও বদলে দিয়েছি।' শেখ হাসিনা বলেন, 'আজকে প্রধানমন্ত্রী আছি, কালকে না থাকলে চলে যাব। গাড়িতেও চড়তে পারি, ভ্যানেও চড়তে পারি, রিকশায়ও চড়তে পারি, পায়েও হাঁটতে পারি। সবই আমরা পারি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিমানের ফার্স্ট ক্লাসে যাই। আবার যখন থাকব না, ইকনোমি ক্লাসে চড়ব। আমরা সব কিছুর জন্য প্রস্তুত। পিতা-মাতা আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাক; এটাই একমাত্র কাম্য। আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করি বলেই দেশের উন্নতি করতে পারছি। নিজেদের কথা ভাবলে এটা করতে পারতাম না।'
সোমবার, 26 জুন 2017 11:21

ঈদের জামাতে দেশের কল্যাণ কামনা

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক এক মাস রোজার পর এসেছে খুশির ঈদ। সোমবার ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের মাধ্যমে এ দিন পালন করছে বাংলাদেশের মুসলমানরা। সকালে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন তারা। এবারও ঈদের প্রধান জামাত হয়েছে ঢাকার সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। ঈদের এই প্রধান জামাত সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে অংশ নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা, বয়সের লাখো মুসলমান। নামাজে ইমামতি করেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। নামাজ শেষে খুতবা পড়েন তিনি। পরে তিনি দেশ-জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করেন। এছাড়া সোমবার সকালে দলে দলে মানুষ রাজধানীর বিভিন্ন ঈদগাহ ময়দান ও মসজিদে ছোটে ঈদের নামাজ আদায় করতে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের প্রথম জামাত হয় সকাল ৭টায়। এখানে সকাল ৭টা থেকে এক ঘণ্টা পর পর পাঁচটি জামাত হচ্ছে। প্রতিবারের মতো এবারও পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের জন্য ঈদের নামাজ বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। জামাত শেষে পরস্পরের সঙ্গে কোলাকোলি ও কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সবাই। এদিকে ঈদ উপলক্ষে ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের সড়কগুলো সাজানো হয়েছে নতুন সাজে। রাতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবনে রয়েছে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা। গতবছর ঈদুল ফিতরের সকালে শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে এবার সব ঈদ জামাত ঘিরে রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামীকাল সোমবার গণভবনে দলের নেতাকর্মী, বিচারপতি, বিদেশি কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহ্সানুল করিম রোববার জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রথমে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত গণভবনে দলের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণ ও পেশাজীবীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেলা ১১টা থেকে একই জায়গায় বিচারপতি ও বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। বাসস
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক ব্রিটিশ রাজপরিবারের কেউ রাজা বা রানি হতে চায় না। রাজপরিবারের সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন শুধু জনগণের বৃহত্তর কল্যাণের কথা ভেবেই। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগাজিন নিউজউইককে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে প্রিন্স হ্যারি এ কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, প্রয়োজনের সময় আমরা আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করব। প্রিন্স হ্যারিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল রাজপরিবারের কেউ কি আছে যে রাজা বা রানি হতে চায়? জবাবে তিনি বলেন, আমার মনে হয় না। ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের আধুনিকীকরণে তিনি কাজ করছেন উল্লেখ করে বলেন, বিষয়টা অনেক জটিল। কৌশলগতভাবে ভারসাম্য বজায় রাখাটা আসলেই কষ্টকর। রাজপরিবারের সদস্যরা সাধারণ মানুষ ও বিশ্বাবাসীর সামনে নিজেদের হালকা দেখাতে চায় না। তবে প্রিন্সেস ডায়ানা যে তার দুই ছেলে হ্যারি ও উইলিয়ামকে সাধারণ মানুষের জীবন যাপনে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন সেটার প্রশংসা করেন প্রিন্স হ্যারি। তিনি বলেন, দুই ভাই সাধারণ জীবন যাপন করতেন যা জানলে লোকে অবাক হবে। এখনো আমি তেমনটাই করার চেষ্টা করি। তিনি ম্যাগাজিনটিকে বলেন, আমি নিজেই নিজের কেনাকাটা করি। যদিও মাঝে মধ্যে একটু চিন্তাও হয় এই ভেবে যে, কেউ তার মোবাইলে আমার ছবি তুলে ফেলল কি না। তবে আমি তুলনামূলক সাধারণ জীবন-যাপন করছি। আমার সন্তান হলে তাদেরও তেমনটা করতে উদ্বুদ্ধ করব। এমনকি আমি যদি রাজাও হই, নিজের কেনাকাটা নিজেই করব। সাক্ষাত্কারে মা প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর পর তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের বিষয়েও কথা বলেছেন প্রিন্স হ্যারি। তার মতে, মা প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর পর শেষযাত্রার অনুষ্ঠানে কফিনের পেছনে সন্তানদের হেঁটে যাওয়ার বিষয়টি একদমই সঠিক ছিল না। প্রিন্স হ্যারি বলেন, ১২ বছরের শিশুকে এমনটা করতে বলা মোটেও ঠিক কিছু নয়। ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট প্রিন্সেস ডায়ানা এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তার মৃত্যুর কয়েকদিন পর তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে যোগ দিয়েছিলেন রাজপরিবারের সকল সদস্য। প্রিন্স হ্যারি তার বাবা, দাদা, ১৫ বছর বয়সী ভাই প্রিন্স উইলিয়াম ও তার চাচাদের সঙ্গে লন্ডনের রাস্তা ধরে কফিনের পেছনে পেছনে হেঁটেছিলেন। সাক্ষাত্কারে প্রিন্স হ্যারি বলেছেন, মায়ের মৃত্যুর শোক কাটাতে তাকে কাউন্সিলিংও নিতে হয়েছিল। আমার মা মাত্র মারা গেছেন আর তার কফিনের পিছনে পিছনে আমাকে দীর্ঘসময় ধরে হাঁটতে হলো! আমার আশপাশে হাজার হাজার মানুষ। আমার মনে হয় না কোনো শিশুকে কোনো ধরনের পরিস্থিতিতেই এমন কিছু করতে বলা উচিত। রাজপরিবার সংক্রান্ত বিবিসির সংবাদদাতা পিটার হান্টের মতে প্রিন্স হ্যারির এই সাক্ষাত্কারটি অনেকের মনেই সমবেদনা জাগাবে যে, একজন প্রিন্স তার মায়ের মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে এখনো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। অন্যদিকে রাজপরিবারের একজন সদস্য বলছেন যে, রানির উত্তরাধিকারীদের বিশেষ সুযোগসুবিধা নিতে হয়, তারা না চাইলেও সেটি নিতে হয়—এ বিষয়টিও অনেকের মনে প্রশ্ন জাগাবে। এ ছাড়া প্রিন্স হ্যারি তার দীর্ঘ সাক্ষাত্কারে একবারও তার বাবার প্রসঙ্গ আনেনি—এটাও অনেকের কাছে ভাবনার বিষয় হবে।

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা