12122019বৃহঃ
শিরোনাম:
স্পটলাইট

স্পটলাইট (873)

বৃহস্পতিবার, 14 নভেম্বর 2013 07:10

বাবার সাথে পুড়ছে ১৪ মাসের মরিয়মও

লিখেছেন


বাবার পোড়া বুকে কী নিশ্চিন্তেই না ঘুমাচ্ছে ১৪ মাসের মরিয়ম। ব্যান্ডেজ বাঁধা পোড়া হাতটি যেন সন্তানের মাথার ওপর ছায়া হয়ে আছে। কিন্তু এই সমাজ কি আজ রাজনীতি থেকে এতটুকু শান্তি, এতটুকু ছায়া পাচ্ছে? ফুটপাতের সবজি বিক্রেতা খবির উদ্দিনের শরীর পুড়িয়ে দিয়েছে সহিংস রাজনীতির আগুন। গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট থেকে তোলা ছবি ষ সাহাদাত পারভেজ
নিজস্ব প্রতিবেদক         
বাবার পোড়া বুকে কী নিশ্চিন্তেই না ঘুমাচ্ছে ১৪ মাসের মরিয়ম। ব্যান্ডেজ বাঁধা পোড়া হাতটি যেন সন্তানের মাথার ওপর ছায়া হয়ে আছে। কিন্তু এই সমাজ কি আজ রাজনীতি থেকে এতটুকু শান্তি, এতটুকু ছায়া পাচ্ছে? ফুটপাতের সবজি বিক্রেতা খবির উদ্দিনের শরীর পুড়ে দিয়েছে সহিংস রাজনীতির আগুন।
বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট বাবা খবির উদ্দিনের পাশে পরম নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছিল ১৪ মাস বয়সী মরিয়ম। খবির উদ্দিন কাতরাচ্ছিলেন যন্ত্রণায়। গত মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগে মিনিবাসে হরতাল-সমর্থকদের আগুনে দগ্ধ হন তিনি। তাঁর দুই হাত, বুক ও পিঠ কেবল পোড়েনি, যে কয়টি টাকা পকেটে ছিল, তা-ও পুড়ে যায়। পরে টাকা জোগাড় করে সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হন ফুটপাতের এই সবজিবিক্রেতা।

খবিরের চিন্তা তাঁর সন্তানদের নিয়ে। জেএসসি পরীক্ষার্থী বড় মেয়েসহ বাকি তিন মেয়েকে রেখে এসেছেন প্রতিবেশীর কাছে। স্ত্রী ও ছোট মেয়ে মরিয়মকে নিয়ে হাসপাতালে আছেন হতদরিদ্র এ ব্যক্তি।

গতকাল বুধবার রাজধানীর চকবাজারে ককটেলে আহত এক নারী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা মেডিকেলে। গত ১৯ দিনে হরতালে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ ও পেট্রলবোমায় ২জন নিহত ও ৭৬ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন প্রতিবন্ধী ও ১৩ জন শিশু। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সামন্ত লাল সেন জানান, গতকাল সকালে ওই হাসপাতালে হরতালে দগ্ধ ২৩ জন ভর্তি ছিলেন।

টাকাও পুড়েগেছে খবিরের: চিটাগাং রোডের ফুটপাতের সবজিবিক্রেতা খবির উদ্দিন গত মঙ্গলবার রায়েরবাগের কমল পরিবহনের যাত্রী ছিলেন। হরতাল-সমর্থকেরা বাসে আগুন দিলে খবিরসহ নয়জন দগ্ধ হন। এঁদের মধ্যে আটজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবির তাৎক্ষণিকভাবে ভর্তি হতে পারেননি। পোড়া শরীর নিয়ে তাঁকে বাড়ি ফরে যেতে  হয়েছে। কারণ, তাঁর কাছে হাসপাতালে যাওয়ার টাকা ছিল না। খবির উদ্দিন বলেন, ‘প্যান্টের পকেটে ছিল ৯৭০ টাকা। তা-ও পুড়ে গেছে।’

চার মেয়ে বাবা খবির থাকেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে। চিকিৎসকেরা জানান, খবিরের শরীরের ১৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।

খবির জানান, যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হন তিনি। ওই ইউনিটের চারতলায় এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে গিেেয় বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পাশে থাকা স্ত্রী অসুস্থ স্বামীর চোখের পানি মুছে দিচ্ছিলেন।

স্ত্রী তানিয়া বেগম বলেন, ‘শেষ আয়ের টাক্টাাও পুড়ে গেছে। সংসারের খরচ জোগাতে হরতালের মধ্যেও ওকে পাঠিয়ে ছিলাম দোকানদারি করতে। ক্যান যে পাঠালাম।’

গতকাল দুপুরে সেবিকা পরামর্শ দেন খবিরকে দিনে চারটা ডিম, টক ফল, ডাবের পানি খাওয়াতে। কিন্তু টাকার অভাবে স্বামীকে কিছুই খাওয়াতে পারেননি তানিয়া বেগম।

অগ্নিদগ্ধ অন্যদের অবস্থা: বার্ন ইউনিটের একজন চিকিৎসক জানান, গত মঙ্গলবার রায়েরবাগে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধ আটজনের মধ্যে তিনজন কিছুটা সুস্থ্য হয়ে বাসায়় গেছেন। তাঁরা হলেন রাবেয়া সুলতানা, আবু বক্কর সিদ্দিক ও আবদুল হাই। বার্ন ইউনিটের চারতলায় চিকিৎসাধীন আছেন আবদুল মান্নান, মো. শুভ, তারেক আহমেদ, আবুল কালাম আজাদ ও আবদুর রহিম।

শারীরিক প্রতিবন্ধী আবদুল মান্নানের স্ত্রী সাথী আক্তার বসে ছিলেন মাথায় হাত দিয়ে। নিঃসন্তানহীন এ দম্পতির ২৫ বছরের সংসারে এমন বিপর্যয় আগে আসেনি। হাসপাতালে স্বামী আবদুল মান্নানের পাশে নির্বাক বসে আছেন।

আবুল কালাম আজাদের মেয়ে কামরুন নাহার বাবার হাত ধরে রেখেছিলেন। যন্ত্রণায় বাবা হাত নাড়াতে পারছেন না। তাই ঘুমিয়ে থাকা বাবার হাত ধরে রেখেছেন তিনি। কামরুন নাহার বলছিলেন, ‘খুব জ্বর হলেও আব্বা শুয়ে থাকে না, আর এখন তো আব্বা চোখ খুলতেই পারতাছে না।’


মঙ্গলবার, 12 নভেম্বর 2013 07:40

সেনাবাহিনীর ১৫টি পদে রদবদল

লিখেছেন


বিশেষ প্রতিনিধি, নিউজফ্ল্যাশ টুয়েন্টিফোর বিডি ডট কম 
রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, ঢাকা সেনানিবাসের ৪৬ ব্রিগেডের কমান্ডারসহ সেনাবাহিনীর ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল হয়েছে। গত রোববার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সেনা সদর সূত্র জানায়, সেনা সদর দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ-ইএনসি) মেজর জেনারেল আবুল হোসাইনকে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সামরিক সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি মেজর জেনারেল ফখরুদ্দিনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। বাংলাদেশ অরডন্যান্স ফ্যাক্টরির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল আবদুল কাদিরকে সেনা সদর দপ্তরের ইএনসি করা হয়েছে।

সেনা সদরের সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবদুর রহমানকে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের প্রশিক্ষক (এসডিএস) করা হয়েছে। ৪৬ ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে মেজর জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে সেনা সদর দপ্তরের সামরিক সচিব করা হয়েছে। সাভার সেনানিবাসের ৮১ ব্রিগেডের কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন মিশন থেকে আসা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শারফুদ্দিন। তিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শিকদারের স্থলাভিষিক্ত হবেন, শিকদার কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে ইতুরি ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম মোস্তফাকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) থেকে সেনা সদরের ইএমই (প্রকৌশল) পরিদপ্তরের পরিচালক, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তামিম আহমেদকে আর্মি রিসার্চ ট্রেনিং অ্যান্ড ডকটিন কমান্ড (আরডক) থেকে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ, মিশন থেকে আসা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনিসুর রহমানকে বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক করা হয়েছে।

ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্সের (এনএসআই) পরিচালক কর্নেল আনোয়ার সোহেল সিদ্দিকীকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে উন্নীত করে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) কমান্ডার করা হয়েছে। তিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাকসুদের স্থলাভিষিক্ত হবেন। র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) কর্নেল মুজিবুর রহমানকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে ৪৬ ব্রিগেডের কমান্ডার করা হয়েছে।

কর্নেল সাইফ-উর-রহমানকে আরডক থেকে পদোন্নতি দিয়ে আরমার্ড সেন্ট্রাল স্কুলের কমান্ড্যান্ট, কর্নেল ওমর জাহিদকে সিগন্যাল সদর দপ্তর থেকে সেনা শিক্ষা ও প্রশাসন স্কুলে (আসিয়া), চট্টগ্রাম ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কর্নেল শাহরিয়ার আলমকে পদোন্নতি দিয়ে সামরিক গোয়েন্দা স্কুলের (এসএমই) কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে।

যশোর সেনানিবাসের লে. কর্নেল শামীম আহমেদকে পদোন্নতি দিয়ে আর্মি অ্যাভিয়েশনে কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে। মিশন থেকে আসা লে. কর্নেল আদিল চৌধুরীকে পদোন্নতি দিয়ে ডিজিএফআইয়ের কর্নেল জিএস করা হয়েছে।


রবিবার, 10 নভেম্বর 2013 08:49

২০০ গাড়িতে ভাংচুর-আগুন

লিখেছেন

  
যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় গতকাল সকালে বিআরটিসির একটি দোতলা বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। পথচারীরা মুঠোফোনে পুড়ে যাওয়া বাসের ছবি তুলছেন  প্রথম আলো
নিজস্ব প্রতিবেদক
যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় গতকাল সকালে বিআরটিসির একটি দোতলা বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা

 কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেপ্তার ও বাসায় পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদে আরও ১২ ঘণ্টা হরতাল বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, আজ রোববার সকাল ছয়টা থেকে শুরু হয়ে আগামী বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত টানা চার দিন হরতাল চলবে।

এদিকে হরতাল শুরুর আগেই গতকাল শনিবার রাজধানী ঢাকাসহ সিলেট, চট্টগ্রামের মিরসরাই, ফরিদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সাতক্ষীরায় দুই শতাধিক যানবাহন ভাঙচুর করেছেন হরতাল-সমর্থকেরা। এর মধ্যে ঢাকায় পাঁচটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গতকাল সন্ধ্যা থেকে রাজধানীতে আধা সামরিক বাহিনী বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মোতায়েন করা হয়েছে।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী হরতালের সময়সীমা বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপির পাঁচ নেতাকে গ্রেপ্তার ও অন্য নেতাদের বাসায় পুলিশি হানার প্রতিবাদে আগামীকাল রোববার (আজ) সকাল ছয়টা থেকে পূর্বঘোষিত টানা ৭২ ঘণ্টার সঙ্গে আরও ১২ ঘণ্টা বাড়িয়ে ৮৪ ঘণ্টা করা হয়েছে।’ এর আগে গত শুক্রবার নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আজ ছয়টা থেকে টানা ৭২ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিয়েছিল ১৮-দলীয় জোট। নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিএনপির ডাকা এটাই সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের হরতাল। এর আগে সর্বশেষ গত ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর এবং ৪ থেকে ৬ নভেম্বর বিরোধী দল টানা ৬০ ঘণ্টা করে দুই দফা হরতাল পালন করে।

গাড়িতে আগুন-ভাঙচুর: গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ফকিরেরপুল, শান্তিনগর, মহাখালী ও গুলিস্তানে পাঁচটি যানবাহনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল নয়টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় বিআরটিসির একটি দোতলা বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। যাত্রাবাড়ী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। দুপুর ১২টার দিকে মহাখালীর তিতুমীর কলেজের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ভূঁইয়া মাহবুব হাসান বলেন, বাসটি বিআরটিসির, তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়া করে। যাত্রীবেশে দুর্বৃত্তরা বাসে চড়ে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শিক্ষার্থীরা ধাওয়া করে আশিক নামের একজনকে আটক করেন এবং তাঁকে পুলিশের সোপর্দ করেন। এদিকে প্রায় একই সময়ে ফকিরেরপুলে পুলিশ হাসপাতালের সামনে একটি প্রাইভেট কারে আগুন লাগিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলেন।

বেলা দেড়টার দিকে শান্তিনগরে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার সহকারী কমিশনার (এসি) আবু ইউসুফের ব্যবহূত মাইক্রোবাসে আগুন ধরিয়ে দেন কয়েকজন যুবক। রাজারবাগে মেরামত শেষে চালক মাইক্রোবাসটি নিয়ে এসি আবু ইউসুফের কর্মস্থল রাজধানীর মিন্টো রোডে ফিরছিলেন। অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও স্থানীয় লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলেন। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে গুলিস্তানে গোলাপ শাহ মাজারের সামনে একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।প্রায় একই সময়ে রাজধানীর শাহবাগের শিশুপার্কের সামনে পেট্রলবোমায় আহত হন একটি বিমা কোম্পানির অফিস সহকারী আবদুর রাজ্জাক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এক সহকর্মীসহ তিনি শাহবাগ মোড় থেকে গুলিস্তান যাওয়ার জন্য বাসে ওঠেন। বাসের দরজার কাছেই ছিলেন তিনি। হঠাৎ বাসের দরজা বরাবর একটি পেট্রলবোমা বিস্ফোরিত হয়। এতে তাঁর হাত ও শরীরের কিছু জায়গায় জখম হয়।

বিভিন্ন জেলায় ভাঙচুর, সংঘর্ষ:  প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে জানা যায়, হরতালের সমর্থনে গতকাল ও আগের দিন শুক্রবার রাতে সিলেট শহর, চট্টগ্রামের মিরসরাই, ফরিদপুর শহর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ও সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় প্রায় ২০০ যানবাহন ভাঙচুর করেছেন বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। এ সময় পিকেটারদের সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশ ও বিএনপির নেতাসহ ৩০ জনের বেশি আহত হন।

বৃহস্পতিবার, 07 নভেম্বর 2013 22:45

মনিরের বাড়িতে শোকের মাতম

লিখেছেন



গাজীপুর সংবাদদাতা
বিএনপিসহ বিরোধী জোটের হরতালে আগুনে পুড়ে মৃত কিশোর মনিরের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে।

হরতালের আগুনে এমন নির্মমভাবে আর কোনো মায়ের বুক যাতে খালি না হয় সেজন্য নিহতের মা-বাবা ও আত্মীয়-স্বজনরাসহ এলাকাবাসীরা হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।

তিনদিন মৃত্যুও সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে মনির।

তার মৃত্যুর খবরে চাপাইরের বড়কাঞ্চনপুর গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী মনিরদের বাড়িতে ভিড় জমায়।

তখন মনিরের মা মিনারা বেগমের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছে পরিবেশ। তা দেখে অনেকে চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

মিনারা বিলাপ করে বলতে থাকেন, ‘আমরা তো কোনো রাজনীতি বুঝি না, রাজনীতিও করি না। এরপরও কেন হরতালের নির্মম বলি হতে হলো আমার ছেলেকে।’

ছেলের হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, হরতালের আগুনে এমন নির্মমভাবে আর কোন মায়ের বুক যাতে খালি না হয়।

এসময় উপস্থিত এলাকাবাসীরাও একই দাবি জানান।

বড়কাঞ্চনপুর এলাকার কাভার্ডভ্যান চালক মো: রমজান আলীর ছেলে মনির সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তা পূর্বপাশে জাতীয় আইন কলেজের সামনে দাঁড় করানো বাবার কাভার্ডভ্যানে ঘুমিয়ে ছিল। হরতালের সমর্থকরা কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরিয়ে দিলে মারাত্মক দগ্ধ হয় সে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ভোর পৌনে ৫টার দিকে হাসপাতালের মনিরের মৃত্যু হয়।

এদিকে মৃত্যুর খবর পেয়ে সকালেই গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হক ও চাপাইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো সাইফুজ্জামান সেতুসহ স্বজনরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান।

বিকেল ৩টার দিকে মনিরের লাশ বড়কাঞ্চনপুরে পৌঁছে। এসময় আত্মীয়স্বন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে পুরো এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। মনিরে মা-বাবা কয়েকবার মুর্ছা যান।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ হাজার হাজার গ্রামবাসী তাদের বাড়িতে উপস্থিত হন। কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, চাপাইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুজ্জামান সেতু, শ্রীফলতলী ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা রফিক উদ্দিন আহমেদ, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা রেজাউল করিম রাসেল সমবেদনা জানাতে নিহতে মনিরের বাড়িতে যান।

বাদ আসর নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মঙ্গলবার, 05 নভেম্বর 2013 23:42

এতো মৃত্যুদন্ডের নজির নেই

লিখেছেন

রায় ঘোষনার পর- ছবি: মনিরুল আলম
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাম্প্রতিক সময়ে একসঙ্গে দেড় শতাধিক আসামির মৃত্যুদণ্ডের নজির দেশে বা বিদেশে নেই বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষক ও আইনজীবীরা। একই সঙ্গে তাঁরা এ-ও বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের দিক থেকে কাছাকাছি সময়ে এটি একটি নৃশংসতম ঘটনা। এদিক থেকে এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেছেন, বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর দিকে আসামিরা অভিযোগ করেছিলেন, তাঁরা পছন্দমতো আইনজীবী নিয়োগ করতে পারছেন না, আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না। অভিযোগগুলো জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির মহাপরিচালক বরাবর জানিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি নিশ্চয়ই খুব সতর্কতার সাথে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিচারিক প্রক্রিয়ায় যদি কোনো গলদ থেকে যায়, তা হলে সেটা একটা বড় মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। এমন হতে পারে, উচ্চ আদালতে গিয়ে খালাস পাওয়ার যোগ্য নন, এমন কেউ জঘন্যতম অপরাধ করেও খালাস পেয়ে যেতে পারেন।’

বিশিষ্ট আইনজ্ঞ শাহদীন মালিক বলেছেন, ‘বেসামরিক কোর্টে এতজনের একসঙ্গে মৃত্যুদণ্ড মনে করতে পারছি না। এক’শ-দেড়’শ বছরের ইতিহাসেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে মনে পড়ে না। তবে, “ওপেন কোর্টে” বিচার হয়েছে। এক একটি ঘটনায় বিশ্বাসযোগ্য প্রচুর সাক্ষী ছিলেন, আসামিদের উচ্চতর আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক শেখ হাফিজুর রহমান বলেছেন, বিশ্বের বহু ‘হাই-প্রোফাইল’ হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন এফ কেনেডির মৃত্যুরহস্য এখনো উদঘাটিত হয়নি। জিয়াউর রহমানের সময়ে ক্যু-পাল্টা ক্যুতে বহু মানুষ কেন কীভাবে প্রাণ দিয়েছেন, জানা যায় না। সে হিসেবে সাম্প্রতিক ইতিহাসে নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের বিচার হলো, রায় ঘোষিত হলো। এটি খুবই ইতিবাচক। একটি স্বচ্ছ বিচার হয়েছে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসৃত হয়েছে।

মঙ্গলবার, 05 নভেম্বর 2013 07:58

টিভি থেকে সিনেমায় পরী

লিখেছেন



বিনোদন প্রতিবেদক
সিনেপর্দায় অভিনয়ের সুযোগ পেয়েই টিভিপর্দাকে বিদায় জানালেন পরী মনি। তার মতে, বড়পর্দাতেই নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ বেশি। সম্প্রতি তিনি অভিনয় করছেন শাহ আলম মণ্ডলের ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ সিনেমায়।
এ বিষয়ে পরী বলেন, “আমার লক্ষ্য ছিল সিনেমার অভিনেত্রী হব। বড়পর্দাতে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ বেশি। দর্শকের কাছেও পৌঁছুতে পারব সহজে। এ ভাবনাতেই সিনেমায় অভিনয় করছি। সিনেমার ব্যস্ততায় ছোটপর্দাতে আর অভিনয় করব না।”
‘ভালোবাসা সীমাহীন’ সিনেমায় পরীর বিপরীতে অভিনয় করছেন আনিসুর রহমান মিলন ও জায়েদ খান। গ্রামীণ পটভূমিকার গল্পে নির্মিত এ সিনেমায় দেখা যাবে, মির্জা পরিবারের জায়েদকে ভালোবাসেন তালুকদার পরিবারের মনি। তাদের এ ভালোবাসায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় দুই পরিবার। এক পর্যায়ে পরী মনি বিয়ে করেন মিলনকে। তখন শুরু হয় সম্পর্কের নানা টানাপড়েন।
পরী জানান, আরও কটি সিনেমার কথা চলছে। ব্যাটে-বলে মিলে গেলে সেসব সিনেমায় সাইন করবেন তিনি।
পরী মনির মিডিয়ায় যাত্রা শুরু মডেল হিসেবে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও ফ্যাশন ম্যাগাজিনের মডেল হয়ে নির্মাতাদের নজর কাড়েন তিনি। এরপর তিনি চারটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছেন। এগুলো হল ‘সেকেন্ড ইনিংস’,‘এক্সক্লুসিভ এক্সট্রা ব্যাচেলর’, ‘নারী’ ও ‘নবনীতা তোমার জন্য’। এর মধ্যে ‘নারী’ ও ‘নবনীতা তোমার জন্য’ নাটকে তিনি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন।



শুক্রবার, 01 নভেম্বর 2013 09:12

সহিংসতায় বান-কি মুনের উদ্বেগ

লিখেছেন




নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সঙ্কটের মুখে থাকা বাংলাদেশে সহিংস ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান-কি মুন

বাংলাদেশের চলমান ঘটনা প্রবাহ নিয়ে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র একথা জানিয়েছেন।

বান-কি মুন বাংলাদেশের সব পক্ষকে শান্ত থেকে আইন মেনে নিজের দৃষ্টিভঙ্গী প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দুই প্রধান দলের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে রাজনৈতিক সঙ্কটের মুখোমুখি বাংলাদেশ। এর মধ্যে এই সপ্তাহে বিরোধী দলের টানা ৬০ ঘণ্টার হরতালে অন্তত ১৪ জন নিহত হন।

দুই প্রধান দলকে সমঝোতায় আসতে জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষ থেকে এর আগেও আহ্বান জানানো হয়েছিল। কয়েক মাস আগে দুই নেত্রীকে টেলিফোন করে কথাও বলেছেন তিনি।

সঙ্কট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকেও ঢিাকায় পাঠিয়েছিলেন তিনি। তারাককো দুই নেত্রীর সঙ্গে কথাও বলে গেছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিবের ওই আহ্বানের পর চলমান ঘটনা প্রবাহে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া এক দফা টেলিফোনে কথা বলেছেন। তবে তাদের সেই সংলাপ এগিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

তবে জাতিসংঘ মহাসচিব আশা প্রকাশ করেছেন, দুই নেত্রীর সংলাপের এই প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে এবং এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ তৈরি হবে।



নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক : 
রাসায়নিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার চেষ্টার স্বীকৃতি হিসাবে এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পাচ্ছে আন্তর্জাতিক সংস্থা 'অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রোহিবিশন অফ কেমিক্যাল উইপনস (ওপিসিডব্লিউ)।

নরওয়ের নোবেল কমিটি শুক্রবার এই পুরস্কার ঘোষণা করে।

ঘোষণায় নোবেল কমিটি বলেছে, ‘এর মাধ্যমে রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসে ওপিসিডব্লিউর অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।’
১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করা ওপিসিডব্লিউর সদরদপ্তর নেদারল্যান্ডসের হেগে। বর্তমানে ১৯০ টি দেশ এই সংস্থার সদস্য।
ওপিসিডব্লিউ জাতিসংঘের সংস্থা না হলেও নীতিগত বিষয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে এ দুই প্রতিষ্ঠানের। কোনো দেশে রাসায়নিক অস্ত্রের বিষযে পরিদর্শন বা পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হলে জাতিসংঘ ওপিসিডব্লিউর সহায়তা নেয়। এ বিষয়ে ২০০০ সালে একটি চুক্তিও করে দুই সংস্থা।

সর্বশেষ সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টিও ওপিসিডব্লিউর নিরীক্ষকরাই তদন্ত করেন।

পুরস্কার বাবদ একটি সোনার মেডেল ও ৮০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার) পাবে ওপিসিডব্লিউ। আগামী ১০ ডিসেম্বর অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার দেওয়া হবে।

ইউরোপ মহাদেশকে শান্তি ও ঐক্যের বন্ধনে বাঁধতে ছয় দশকের চেষ্টার স্বীকৃতি হিসাবে গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পায় ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
বিশ্বের আরো খবর


শুক্রবার, 11 অক্টোবার 2013 11:31

মমিনুলের শতকে জবাব দিচ্ছে বাংলাদেশ

লিখেছেন

ডেস্ক রিপোর্ট

ওয়ানডে মেজাজে খেলেই নিজের প্রথম টেস্ট শতকের দেখা পেলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটার মমিনুল হক।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে ৯৮ বলে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান এ বাঁহাতি মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান।

তিনি ১০৪ রানে (১১৩বল)ব্যাট করছেন।  এ রিপোপর্ট লেখার সময় মার্শাল আইয়ুব আউট হয়ে গেলেন ২৫ রান যোগ করে। ব্যাট করতে নেমেছেন সাকিব আল হাসান।

নিউজিল্যান্ডের ৪৬৯ রানের জবাবে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩উইকেট হারিয়ে ১৩৫ রান।

গত মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে টেস্ট অভিষেক হয় ২২ বছর বয়সী এ ব্যাটসম্যান মমিনুলের। অভিষেকেই খেলেছিলেন ৫৫ রানের ঝকঝকে এক ইনিংস। তাদের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসের ৬৪ রানের পর পরের সিরিজে প্রথম টেস্টে দলে জায়গা পাননি।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে দুবারই সেট হওয়ার পর আউট হন মমিনুল। হারারে টেস্টে ২৩ ও ২৯ রানে সাজঘরে ফেরা এ ব্যাটসম্যান চট্টগ্রাম টেস্টে অনিশ্চিত ছিলেন। শেষ সময়ে নাঈম ইসলামের বদলে মমিনুলকেই বেছে নেয় স্বাগতিকরা।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভালোই জবাব দিচ্ছে বাংলাদেশ।



নিউজ ডেস্ক, নিউজ ফ্ল্যাশ টুয়েন্টিফোর বিডি ডট কম
আল জাজিরায় প্রচারিত প্রয়াত সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সামনে এগিয়ে যেতে হলে বাংলাদেশকে অবশ্যই একাত্তর সালে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে হবে।

শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ সময় ২টায় শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারভিত্তিক একটি তথ্যচিত্র প্রচার করে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন স্টেশনটি।

১৯৭২ সালে হাসিনার পিতা স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাক্ষাতকার নিতে ফ্রস্ট প্রথমবার বাংলাদেশে আসেন।

৪১ বছর পর বাংলাদেশে এসে একই বাড়িতে বসে তিনি সাক্ষাৎকার নেন জাতিরজনকের মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও। এটি তার দ্বিতীয় ও শেষ বাংলাদেশ আগমন।

বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে সর্বসাম্প্রতিক রানা প্লাজা ধস ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে এক পক্ষের সহিংস রাজনীতি নিয়ে ফ্রস্ট কথা বলেন বঙ্গবন্ধুকন্যার সঙ্গে।

এই বিচার নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করলে সামনে এগোনো যাবে না। যারা তাদের পরিবার-পরিজন হারিয়েছেন, বিচার পাওয়া তাদের অধিকার।”

ডেভিড ফ্রস্ট ইন্টারভিউ নামের অনুষ্ঠানটি শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় পুনঃপ্রচার করা হয়।

এতে বাংলাদেশকে পরিচয় দেয়ার সময় দারিদ্র ও সামরিক অভ্যুত্থানের ইতিহাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।এ সময় কয়েক দশক পুরনো রাস্তায় শুয়ে থাকা মানুষ এবং সাম্প্রতিক দায়িত্বরত র‌্যাব-সদস্যের ছবিও ভেসে উঠে।

তখনকার পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে বৈষম্যের নানা দিক তুলে ধরেন ভাষ্যকার ফ্রস্ট।

শেখ হাসিনা কথাপ্রসঙ্গে বলেন, শেখ মুজিব ১৯৪৮ সালে ভাষার জন্য আন্দোলন শুরু করেন। এবং তারপর থেকে বহুবার তাকে কারাবরণ করতে হয়েছিল।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুনেত্রীর ভুমিকার সমালোচনার কথা ধরে এক পর্যায়ে শেখ হাসিনা স্মিত হেসে বলেন, “পুরুষরা ঈর্ষাপরায়ণ।”

“ক্ষমতাসীন নারীদের প্রতি তাদের এমন মনোভাব?”- ফ্রস্টেরে এই প্রশ্নের জবাব হাসিনা মাথা নেড়ে ‘হ্যাঁ’ বলেন।

তথ্যচিত্রে শেখ হাসিনা কেন্দ্রে থাকলেও পার্শ্ব মন্তব্যকারী হিসেবে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ওরফে আসিফ নজরুল এবং সজীব ওয়াজেদ জয়কে দেখা যায়।

শহিদুল আলম ও অধ্যাপক হোসেন মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। আসিফ নজরুল যুদ্ধাপরাধের বিচারে স্বচ্ছতা নিয়ে  প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। সজীব ওয়াজেদ জয় বঙ্গবন্ধু হত্যা পরবর্তী শেখ হাসিনার সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন।



যদি সাঁকো পেরোতে গিয়ে পড়ে যাই

প্রথম প্রশ্ন ছিল, তিনি (শেখ মুজিব) পিতা হিসেব কঠোর ছিলেন কি? শেখ হাসিনা বলেন, “কঠোর ছিলেন, কিন্তু অত্যন্ত স্নেহশীল।”

১৯৫৪ সালের পরে শেখ মুজিবের কারাবাসের সময়ে শেখ হাসিনা গ্রামের বাড়ি টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর দাদীর শাসনে ছেলেবেলা কাটান।

“দাদী স্কুলে যেতে দিতে চাইতেন না, যদি সাঁকো পেরোতে গিয়ে নদীতে পড়ে যাই” 

দল চালানো মায়ের কাছেও শিখেছি

মা বেগম ফজিলাতুন্নেসার প্রসঙ্গে বলেন, “আম্মা কখনো কোনো কিছু নিয়ে নালিশ জানাতেন না।”

“আব্বার অবর্তমানে তিনিই দলের দেখাশোনা করতেন। পার্টি চালানো আব্বার কাছে যেমন শিখেছি তেমনি আম্মার কাছেও শিখেছি।”

এ সময় ইনসার্ট হিসেবে নেতাকর্মীদের সঙ্গে বেগম ফজিলাতুন্নেসার কথা বলার ছবি দেখা যায়।

‘৩০ লাখ’ চরম সত্য

ফ্রস্টের ট্যাবলেট পিসিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার ছবি দেখে অশ্রুসজল হয়ে ওঠেন হাসিনা। একসময় স্তপ হয়ে থাকা লাশের ছবি থেকে চোখ সরিয়ে নিতে দেখা যায় তাকে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিরিশ লাখ শহীদের তথ্যের সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি ধারণাও করতে পারি না কোন ধরনের লোক এরা যারা সংখ্যা কমাতে চায়!”

“প্রতিটি পরিবারে তারা [পাকিস্তানি সেনা ও তার সহযোগীরা] কাউকে না কাউকে হত্যা করেছে।”

‘বাকশাল একদলীয় শাসন নয়’

যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্রচালনায় শেখ মুজিবের চ্যালেঞ্জগুলোর উল্লেখ করা হয় তথ্যচিত্রে।

সেসময় বাকশালের প্রসঙ্গ উঠে আসে। ফ্রস্টের প্রশ্ন, “একদলীয় রাষ্ট্র কি ভালো বুদ্ধি ছিল?”

জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “আব্বা যেহেতু দেশের মানুষকে ভালবাসতেন, তিনি চাইছিলেন মানুষজন উন্নত জীবন পাক। সেসময় তিনি ভেবেছিলেন এই সিস্টেম [বাকশাল] চালু করলে দেশের অর্থনীতি খুব দ্রুত মেরামত করা যাবে।”

“এটা একদলীয় [ব্যবস্থা] ছিল না।তিনি চাইতেন জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উন্নয়নে সবাই একসঙ্গে কাজ করুক।”

তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু আমাকে বলেছিলেন, ‘তিন চার বছরের জন্য আমাদের এটা চালিয়ে নিতে হবে’।”

বাকশালের পরে “গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা” বঙ্গবন্ধুর ছিল কিনা ফ্রস্টের এমন প্রশ্নে শেখ হাসিনা প্রথমত প্রশ্নকর্তাকে তার দৃষ্টিকোণ থেকে শুধরে দেন।

“গণতন্ত্র কিন্তু বহাল ছিল।তিনি [বঙ্গবন্ধু] চেয়েছিলেন তিন বছর পরে ‘সংসদীয় গণতন্ত্র’ ফিরিয়ে আনতে।”

‘খালেদার সাথে সাক্ষাৎ প্রীতিকর ছিল’

খালেদা জিয়ার সঙ্গে ব্যক্তিগত রেষারেষি নেই দাবি করতে গিয়ে শেখ হাসিনা ১৯৭৫ এর আগের স্মৃতিচারণ করেন।

“আমার পিতা যখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন তখন জিয়াউর রহমান ছিলেন সামরিক কর্মকর্তা। অনেক সামাজিক অনুষ্ঠানে তার [খালেদা জিয়ার] সাথে আমার দেখা হয়েছে।সে সাক্ষাৎগুলো প্রীতিকর ছিল”

বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের পার্থক্য সম্পূর্ণ আদর্শগত বলে মন্তব্যে করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।