11192018সোম
স্পটলাইট

স্পটলাইট (825)

শনিবার, 27 মে 2017 08:07

একদিনের প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক কানাডার প্রধানমন্ত্রীর নাম জানতে চাইলে দশ বছরের বাচ্চাও বলে দেবে, জাস্টিন ট্রুডো। নিজের নানা কাণ্ডকারখানা দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন জাস্টিন ট্রুডো। তবে একদিনের জন্য কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মজার একটি দিন কাটালো পাঁচ বছরের মেয়ে বেলা থমপসন। যদিও দাপ্তরিক কোন দায়িত্ব দেয়া হয়নি বেলাকে। মূলত বাচ্চাদের একটি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার সুবাদে বেলা নামের ফুটফুটে মেয়েটি সুযোগ পায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সাথে গোটা একটা দিন কাটানোর। প্রধানমন্ত্রী যা করেছে বেলাও তা করার সুযোগ পেয়েছে। একসাথে খাওয়া-দাওয়া, লুকোচুরি খেলা সবই হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এমন উদার ব্যবহার বরাবরই সবার মন জয় করে। জাস্টিন ট্রুডোর চিন্তা-ভাবনাও মানুষকে মুগ্ধ করে। ট্রুডোর স্পষ্ট মন্তব্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রত্যেকের বাড়ি এবং নিরাপত্তার নিশ্চিত করবো। আমি সবাইকে জড়িয়ে ধরবো। চারপাশের পৃথিবী, পশু-পাখির নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো। কানাডার সব নাগরিকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করবো। সবার প্রতিই দেখাবো মহানুভবতা।-এনডিটিভি
শুক্রবার, 26 মে 2017 15:26

সবই জানি, কিছুই বলবো না : মৃণাল হক

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক কার নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে তা সবাই জানেন বলে জানিয়েছেন এ ভাস্কর্যের শিল্পী মৃণাল হক। ধর্মীয় সংগঠনগুলোর দাবির মুখে ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে স্থাপিত ওই ভাস্কর্যটি সরানোর কাজ শুরু হয় বৃহস্পতিবার রাতে। ভাস্কর্য অপসারণের সময় মৃণাল হক সাংবাদিকদের বলেন, আমি সবই জানি কেন এই ভাস্কর্যটি সরানো হচ্ছে। কার নির্দেশে তা হচ্ছে। তবে কিছুই বলবো না। তিনি বলেন, চাপের মুখে পড়ে এই ভাস্কর্য অপসারণ করা হচ্ছে। সরানোর সময় ভাস্কর্যের যেন কোনো ক্ষতি না হয় এ জন্য তদারকি করতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন বলে তখন সাংবাদিকদের জানান তিনি। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভাস্কর্য সরানোর কাজ শুরু হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে তার তত্ত্বাবধানেই এই ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভাস্কর্যটি অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। হেফাজতের এই দাবির নিন্দা জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকরা ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফী এক বিবৃতিতে বলেন, সর্বোচ্চ বিচারালয়ের সামনে গ্রিক দেবীর মূর্তি স্থাপন বাংলাদেশের গণমানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আদর্শিক চেতনার একেবারেই বিপরীত। অবিলম্বে এটি অপসারণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।
বুধবার, 24 মে 2017 20:22

লজ্জা পেলেন ট্রাম্প

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক আবারো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাড়িয়ে দেয়া হাত না ধরে তা প্রত্যাখ্যান করলেন ফার্স্টলেডি মেলানিয়া। নিজের প্রথম বিদেশ সফরে পরপর দু’বার একই ঘটনায় বেশ বিব্রত হয়েছেন ট্রাম্প। ক্যামেরার সামনে স্ত্রীর এমন আচরণে বিপাকে পড়া ট্রাম্পকে নিয়ে সরগরম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানাচ্ছে, ইতালির রোমে উড়োজাহাজ থেকে নামার সময় ট্রাম্পের বাড়িয়ে দেয়া হাত ধরেন নি মেলানিয়া। এর আগে, গত সোমবারে ইসরাইলেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, রোমের বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ থেকে নামতে শুরু করেছেন ট্রাম্প ও মেলানিয়া। আছেন পাশাপাশি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হাত ধরার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়ার দিকে। মেলানিয়া হাতটি না ধরে ধরলেন নিজের চুল। ঠিকঠাক করে নিলেন চুল। প্রেসিডেন্ট অবশ্য বিষয়টাকে বেশ স্মার্টলি সামলে নিয়েছেন। এর আগের ঘটনাটি ইসরায়েলের বিমানবন্দরে ঘটে। দেশটিতে পৌঁছে উড়োজাহাজ থেকে নামেন ট্রাম্প-মেলানিয়া দম্পতি। বিমানবন্দরের লালগালিচা দিয়ে হাঁটছিলেন দুজন। এর মাঝে ট্রাম্প স্ত্রীর দিকে হাত বাড়িয়ে দেন। কিন্তু তিনি তা ধরেননি, বরং হালকা চাপড় দিয়ে সরিয়ে দেন। ক্যামেরায় ধরা পড়া সে দৃশ্য যথারীতি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলার মধ্যেই দ্বিতীয়বার একই ধরনের ঘটনা ঘটল। আর তাই নিয়ে এবার চলছে বিচার-বিশ্লেষণ। এনডিটিভি।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক ইসরাইলে সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকির বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট রিউভেন রিভলিনের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ হতে দেয়া যাবে না। রিভলিনের বাসভবনেও ট্রাম্প বলেন, ‘প্রাণঘাতী খাতে ইরানের তহবিল, প্রশিক্ষণ এবং সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদেরকে সরঞ্জাম সরবরাহও বন্ধ করতে হবে।’ তেহরান জোর দিয়েই বলে আসছে তারা পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন করছে না। কিন্তু ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দিহান। সৌদি আরবে সফর শেষে ট্রাম্প ইসরাইল সফরে যান। ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনি নেতাদের সঙ্গেও তিনি আলাপ করবেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যে বন্ধনের ওপর জোর দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা কেবল দীর্ঘদিনের বন্ধু না। আমরা ভাল মিত্র এবং অংশীদারও। আমরা সবসময় একসঙ্গে আছি।’ রয়টার্স।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক ভিশন-২০৩০' ঘোষণা করায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, 'আওয়ামী লীগ দিয়েছে বলে তারাও ভিশন দিয়েছে। মানুষ মানুষের কাছেই শেখে। তারা আওয়ামী লীগের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েছে। এজন্য তাদের ধন্যবাদ। তবুও তো তারা একটি পথে এসেছে। তারা হত্যা-সহিংসতার পথ ছেড়ে জাতির সামনে একটা বিষয় তুলে ধরেছে। এটা ভালো।' প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের অর্জন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড জনগণের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার করতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, 'নৌকা বাংলার জনগণের মার্কা, গ্রামগঞ্জের মার্কা। নৌকায় ভোট দিয়ে মানুষ স্বাধীনতা ও ভাষার মর্যাদা পেয়েছে। নৌকা ছাড়া এদেশের মানুষের উন্নতি সম্ভব নয়। জনগণকে বোঝাতে হবে, যখনই নৌকা ক্ষমতায় এসেছে তখনই দেশের উন্নতি হয়েছে। মানুষের কল্যাণ হয়েছে। দেশের মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে এসেছে।' শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন চত্বরে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভার সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার তাগিদের পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে জয়ী হতে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত দলকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, 'দুঃখী মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের আগ পর্যন্ত এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে, যে পর্যন্ত না বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণের মাধ্যমে দুঃখী মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে।' বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিএনপির মধ্যে কোনো মানবতা নেই। এদের রাজনীতি লুটে খাওয়া ও মানুষ পুড়িয়ে মারার রাজনীতি। বিএনপির সময় দুর্নীতিতে দেশ পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানকে সুষ্ঠুভাবে চলতে দেয়নি তারা। কেবল দলীয়করণ ও দুর্নীতি করেছে। দলীয়করণ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিই তাদের লক্ষ্য।' বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এলে আবারও দেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি ও দুর্নীতি-লুটপাট ফিরে আসবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শেখ হাসিনা। এ প্রসঙ্গে ২০০১-০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসনের পাশাপাশি আন্দোলনের নামে ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে এই জোটের সন্ত্রাস-নৈরাজ্য ও মানুষ পুড়িয়ে মারার বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, 'কীভাবে অত্যাচার-নির্যাতন তারা করেছে, সেগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরা উচিত। তারা ক্ষমতায় আসতে চায়! ক্ষমতায় এলেই তো জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও লটুপাট করবে। ক্ষমতায় থাকতে এরা সন্ত্রাস ছাড়া আর কিছু দিতেও পারেনি। ক্ষমতা উপভোগ করেছে। আবারও ক্ষমতায় এলে তারা হাওয়া ভবন, খাওয়া ভবন ও খোয়াব ভবন সৃষ্টি করে লুটপাট করবে।' তিনি বলেন, 'বিএনপি তো ক্ষমতায় ছিল। জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ারাও ক্ষমতায় ছিলেন। তারা দেশের উন্নতি করতে পারেনি কেন? আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই কেবল দেশের উন্নতি হয়-এটাও তো বারবার প্রমাণিত হয়েছে।' ২২ ও ২৩ অক্টোবর জাতীয় সম্মেলনের সাত মাসের মাথায় অনুষ্ঠিত এই বিশেষ বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও জাতীয় পরিষদ সদস্য, দলীয় মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, জাতীয় সংসদ সদস্য, ৭৮টি সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, দফতর ও উপ-দফতর, প্রচার ও প্রকাশনা, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা এবং তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকরা সভায় যোগ দেন। তৃণমূল নেতাদের উপস্থিতিতে গণভবন চত্বর মুখরিত হয়ে ওঠে। বর্ধিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তার বক্তব্য শেষে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের পর শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন দলের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। পরে সূচনা বক্তব্য রাখার পর দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা ২০তম জাতীয় সম্মেলনে সংশোধিত দলের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্রের মোড়ক উন্মোচন করেন। এরপর সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে নিজের সদস্যপদ নবায়নও করেন শেখ হাসিনা। সদস্যপদ নবায়নে নির্ধারিত ফি ২০ টাকা হলেও শেখ হাসিনা ৫০০ টাকা দেন। এ সময় দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও তার সদস্যপদ নবায়ন করেন। পরে সদস্য ফরম পূরণের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শফিউল আলম ভূঁইয়া ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফারজানা বেগমকে দলের সদস্য করার মধ্য দিয়ে সদস্য সংগ্রহ অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এরপর দলের প্রতিটি সাংগঠনিক জেলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দেওয়া ল্যাপটপ হস্তান্তর করেন শেখ হাসিনা। পরে রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে আট বিভাগ থেকে আটটি জেলার তৃণমূল নেতা বক্তব্য রাখেন। পরে শেখ হাসিনার সমাপনী বক্তব্যের পর শেষ হয় বিশেষ বর্ধিত সভার কার্যক্রম। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। এক ঘণ্টারও বেশি সময়ের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা দুই মেয়াদে তার সরকারের আট বছরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, 'দেশবাসীর কাছে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সফলতা তুলে ধরতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের কাজের সঙ্গে অন্য সরকারের কাজের যে তফাৎ সেটাও তুলে ধরতে হবে। যে অর্জনগুলো আমরা করেছি, সেই অর্জনগুলোকে ধরে রেখে আমরা যেন দেশকে এগিয়ে নিতে পারি।' তিনি বলেন, '১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরেই দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রা শুরু হয়েছে। আবার ২০১৪ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার কারণেই দেশের এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে। এই উন্নয়নের গতিধারা যেন অব্যাহত থাকে। টেকসই উন্নয়নের প্রয়োজনে দলকে আবারও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নিয়ে আসতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের একযোগে কাজ করে যেতে হবে।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সবকিছুতেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোলমডেল। এটি এমনি এমনি হয়নি। আমরা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেশ চালাই না। কোন এলাকায়, কোথায় কী সমস্যা আমরা জানি। আওয়ামী লীগ যেটা বলে, সেটাই বাস্তবায়ন করে। সেটাই তারা প্রমাণ করেছে।' সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যাতে বাস্তবায়ন হয়, সেদিকে নজরদারি করতে নেতাকর্মীদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, 'উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে যেন কোনো অনিয়ম না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।' নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা আরও বলেন, 'ক্ষমতা ভোগের বস্তু নয়, দায়িত্ব পালনের। নিজে কী পেলাম বা না পেলাম, সেটি বড় কথা নয়। জাতিকে কী দিতে পারলাম, সেটিই বড় কথা। প্রতিটি দিন, প্রতিটি ঘণ্টা, প্রতিটি মিনিট ও প্রতিটি সেকেন্ড জনগণের জন্য দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে। এর আগে কোনো বিশ্রাম নেই। যে উন্নয়নগুলো আমরা করেছি, সেগুলো জনগণের কাছে পৌঁছতে হবে, জনগণকে জানাতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতিটি কর্মীর দায়িত্ব জনগণের পাশে থাকা, তাদের কল্যাণে কাজ করা।' সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঘোষিত 'ভিশন-২০৩০' প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, "বিএনপি নেত্রী একটি ভালো জিনিস শিখেছেন বহু যুগ পরে। তিনবার তারা ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু কোনোদিনই তাদের মুখে শুনিনি, ভিশন বলে একটা কিছু রয়েছে। এত যুগ পর তাদের মাথায় এলো, তারা 'ভিশন-২০৩০' দিয়েছে। তবে এটি বাস্তবায়নও তো করতে হবে। নকল করে হয়তো পাস করা যায়, কিন্তু দেশের জনগণের দায়িত্ব এটা বিবেচনা করার। চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা যদি ধরা না পড়ে।" প্রধানমন্ত্রী বলেন, "যারা ক্ষমতায় থাকতে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছে, দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং করেছে, ক্ষমতার বাইরে থেকে জ্বালাও-পোড়াও ও মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে-তারা জাতিকে কী দিতে পারবে? তাদের ওই ভিশন 'ভীষণ অগ্নিকাণ্ড' হয়ে বিভীষিকার সৃষ্টি না করে। এভাবে যারা বিভীষিকার অবস্থা সৃষ্টি করে, তারা জাতিকে কিছুই দিতে পারে না।" সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার সরকারের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি এ লক্ষ্যে জনগণকেও সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সন্ত্রাসের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাক না কেন, তিনি আওয়ামী লীগের হলেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।' এক্ষেত্রে দেশবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল এদেশের প্রতিটি মানুষ অন্ন পাবে, আশ্রয় পাবে, উন্নত জীবন পাবে। আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর দায়িত্ব জাতির পিতার সে স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করা। এদেশের দুঃখী মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানো এবং জনগণকে সেই কাঙ্খিত জায়গায় পৌঁছানোর জন্য দেশকে সঠিক রাস্তায় পরিচালিত করাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য।' ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে স্বাগত বক্তব্যে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, 'আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জন্য বিজয়ের বিকল্প কিছু নেই। নির্বাচনে জয়ের জন্য স্মার্ট, আধুনিক, সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ গড়ে তুলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচন মোকাবেলা করতে হবে। এজন্য জনগণের সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে। তাদের মনজয় করতে হবে। শেখ হাসিনার উন্নয়নকে জনগণের সামনে তুলে ধরে তা অর্থপূর্ণ করে তুলতে হবে।' উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্তরায় সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে পরাজিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, 'আসুন ঐক্যবদ্ধ হয়ে আদর্শ ও বিশ্বাসের সমন্বয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাই। এই হোক আমাদের আজকের শপথ।'
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে রিকশায় উঠলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ীতে প্রধানমন্ত্রীর রিকশায় চড়ার ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। ছবিতে সরকার প্রধানকে রিকশায় উঠে ইট বিছানো একটি পথে দিয়ে যেতে দেখা যায়। এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া গিয়ে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে রিকশা ভ‌্যানে উঠেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার রিকশায় উঠলেন প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী রিকশার চালক ছিলেন টিপু সুলতান। তার বাড়ি নেত্রকোনার দক্ষিণ বিশুহুরা এলাকায়। খালিয়াজুরী কলেজমাঠে নামার আগে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে তিনি কলেজ মাঠে সমাবেশে ভাষণ দেন। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমার বাবা এ দেশ স্বাধীন করেছে মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য। আমি এসেছি আপনারা যেন উন্নত জীবনযাপন করতে পারেন সেজন্য কিছু করতে। বাবার স্বপ্ন ও লক্ষ্য ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার। আমি আমার বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। নেত্রকোণার একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। হাওরাঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা করে গৃহনির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু দেয়া হবে।' তিনি আরও বলেন, 'আগামী ফসল ঘরে না ওঠা পর্যন্ত হাওর অঞ্চলের মানুষের মাঝে ১০ টাকা কেজির খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল, ওএমএস-এর চাল বিতরণ করা হবে। দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত আছে, খাদ্যের কোনো অভাব হবে না। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করা হবে। এ দেশের কোনো মানুষ না খেয়ে মারা যাবে না।' সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী খালিয়াজুরী কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১২৫০ জন ও নগর ইউনিয়নের বল্লভপুরে ২৫০ মানুষের মাঝে নগদ ১০০০ টাকা ও ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন। ত্রাণ বিতরণের পর প্রধানমন্ত্রী খালিয়াজুরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে যান। সেখান থেকে ১০ মিনিটের মতো রিকশায় চড়ে জেলা ডাকবাংলো পরিষদে পৌঁছান তিনি।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, সৃষ্টিকর্তা এবং জনগণ তার পাশে থাকলে তিনি এই লক্ষ্য অর্জনে কোনো কিছুকেই পরোয়া করেন না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি এসব ষড়যন্ত্র দেখে আসছি। আমি এগুলোর পরোয়া করি না। আমি বিশ্বাস করি যতদিন মহান আল্লাহ এবং বাংলার জনগণ পাশে রয়েছেন, মা-বাবার দোয়া ও আশির্বাদ রয়েছে ততদিন এই লক্ষ্য অর্জনকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। বুধবার সকালে গণভবনে ৩৬তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। খবর বাসসের উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের এই দিনে পঁচাত্তরের ১৫ আাগস্টের বিয়োগান্তক অধ্যায়ের পর প্রবাস জীবনে থাকতে বাধ্য হওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। এর আগে তিনি ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা শেখ হাসিনার স্বামী দেশের বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার কর্মস্থল জার্মানী যান। ১৫ আগস্ট তারা দুজন বেঁচে গেলেও জাতির পিতার পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে সেদিন হত্যা করা হয়। আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দিবসটি উপলক্ষে এদিন প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩০ জুলাই আমি ও শেখ রেহানা দেশ ছেড়ে যাই। সেসময় বিদেশে যাওয়াতো ছিল স্বপ্নের মত ব্যাপার। কিন্তু সেবার বিদেশে যেতে যেন কিছুতেই মন টানছিল না। আমরা খুব কাঁদছিলাম। কিন্তু যেতে হলো। এই তেজগাঁও এয়ারপোর্ট হয়েই আমরা দিল্লী এবং সেখান থেকে জার্মানী। কামাল, জামাল, রাসেল সবাইকে রেখে গিয়েছিলাম। কামাল-জামালের বউ সুলতানা রোজী সবাই এসেছিল এয়ারপোর্টে। আর এই ১৭ মে যেদিন ফিরে আসি, সেদিন লাখো মানুষ। হাজার-হাজার মানুষ সেই মানুষদের ভীড়ে আমি ৩০ জুলাই যাদের রেখে গিয়েছিলাম। তাদের কাউকে পাইনি। আর বনানীতে গিয়ে পেলাম সাঁড়ি সাঁড়ি কবর। জানি না, আল্লাহ আমাকে কত শক্তি দিয়েছেন সহ্য করতে। এই দেশের জন্যইতো আমার আব্বা সারাটা জীবন এতো কষ্ট করেছেন। কারাগারে যেখানে তিনি (বঙ্গবন্ধু) ছিলেন সেটাতো আজ উন্মুক্ত। সবাই গিয়ে দেখে আসতে পারেন। তিনি (বঙ্গবন্ধু) দুঃখকে কোনদিন দুঃখ, কষ্টকে কোনদিন কষ্ট মনে করেননি। বাংলাদেশের মানুষের কথাই ভেবেছেন, আমার আব্বা এবং আম্মা দু’জনেই। প্রধানমন্ত্রী স্মৃতি রোমন্থনে বলেন, একটাই লক্ষ্য নিয়ে সেদিন ফিরে এসেছিলোম এদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাব। সেটাই যেন করতে পারি। আর কোনো চাওয়া-পাওয়ার নেই। আওয়ামী লীগ সভাপতি এ সময় আবেগাপ্লুত কন্ঠে বলেন, আমি দুঃখিত এত কথা যে আমাকে বলতে হবে সেটা চিন্তাও করি নাই। তবুও মনে হয় আমাদের আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরও জানার দরকার রয়েছে। আমি যখন দেশে ফিরি সে সময় আজকের অনেকের জন্মই হয়নি। আর তখন যারা ছিলেন তাদের অনেকেও বেঁচেও নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি একটাই কথাই বলব আমরা যারা রাজনীতি করি তারা যদি জাতির পিতার রাজনীতির দিকে তাকাই এবং তার আদর্শটা ধারণ করে রাজনীতি করি তাহলে আমরা দেশকেও কিছু দিতে পারব, দেশের মানুষকেও দিতে পারবো। মানুষ ধন-সম্পদের জন্য কতকিছু করে, কিন্তু মৃত্যু হলেতো আর কিছুই সাথে নিয়ে যেতে পারে না। সান-শওকত, বিলাসিতায় জীবন কাটালে মৃত্যুর পর অনেক কিছুই মিথ্যা হয়ে যায়। কাজেই মানুষের জন্য যদি কিছু করে যাওয়া যায়, সেটাই সব থেকে বড়ো পাওয়া। আমরা আব্বার কাছ থেকে মায়ের কাছ থেকে সেটাই শিখেছি। আর আজকে যতটুকু যাই চেষ্টা করে যাচ্ছি সেই শিক্ষা থেকেই করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, এদেশকে এমন একটা জায়গায় পৌঁছানো আমার লক্ষ্য যেন আমার বাবার আত্মাটা শান্তি পায়। তিনি আরো বলেন, ৭৫ এর ১৫ আগস্ট সব হারিয়েছি, সব হারিয়ে নিঃস্ব রিক্ত অবস্থায় বিদেশে ছিলাম। পঁচাত্তরের বিয়োগান্তক অধ্যায় সম্পর্কে তিনি বলেন, কখনো ভাবতেও পারিনি এরকম ঘটনা আমাদের জীবনে আসবে। মাত্র ১৫ দিন আগে আমি আর রেহানা দেশে ছেড়ে বিদেশে যাই। অল্প সময়ের জন্য গিয়েছিলাম। চলে আসবো কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য ফিরতে পারলাম না। ’৭৫ এর কালো দিন আমাদের জীবনে সব কিছু কেড়ে নিয়েছিলো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু আমরা হারিয়েছি তা তো না বাংলাদেশের জনগণ যে স্বপ্ন নিয়ে, যে আকাঙ্খা নিয়ে জাতির পিতার ডাকে অস্ত্র হাতে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। ক্ষুধা, দারিদ্র মুক্ত সমাজ গঠন, মর্যাদাসম্পন্ন স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো। বিদেশে ১৫ আগস্টের সংবাদ শোনার প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, এ ঘটনাটা যখন আমরা শুনলাম তখন একদিকে যেমন স্বজন হারাবার বেদনা, অপর দিকে একথা বারবার মনে হচ্ছিল যে এ দেশটার জন্য সারা জীবন আমার বাবা কষ্ট করেছেন। আমরা সন্তান হিসেবে একটানা দুই বছর বাবাকে কাছে পাই নি। যে বয়সে ছেলে মেয়ে স্কুলে যায় বাবার হাত ধরে, আমাদের সে সৌভাগ্য কখনো হয়নি। যখন থেকে জ্ঞান হয়েছে বাবার সঙ্গে দেখা হয়েছে কারাগারে। স্কুল-কলেজ জীবনে সব সময় ঐ কারাগারে যেয়েই সাক্ষাত করতে হতো। আমার বাবা একটা জাতির জন্য, একটা দেশের জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তিনি নিজের জীবনের দিকে একবারও ফিরে তাকাননি। সব কিছু বিলীন করে দিয়েছিলেন এদেশের মানুষের জন্য। মানুষের স্বার্থে। শেখ হাসিনা বলেন, তখন এদেশের ৮০/৯০ ভাগ মানুষই তো দারিদ্র্যের নিচে ছিলো। তারা একবেলা খাবার পেতো না, পরণে জীর্ণ কাপড়, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। যা আমার বাবাকে সব সময় পীড়া দিতো। মানুষের ভাগ্য গড়ার জন্যই তো তিনি সব কিছু ত্যাগ করেছিলেন। এমনকি আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মী তারাও কম অত্যাচারিত-নির্যাতিত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে তাকে (বঙ্গবন্ধুকে) সাবধান করেছিলেন, যে এরকম ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু তিনি কখনো বিশ্বাস করতেন না। বলতেন যে ওরা তো আমার ছেলের মতো আমাকে কে মারবে। যিনি বাংলাদেশের জনগণকে এতটা ভালোবাসা দিয়েছিলেন তাদের একটা বিক্ষিপ্ত অংশের গুলিতে জীবন দিতে হলো বঙ্গবন্ধুকে। আমার এখনো মনে হয়, তাকে গুলি করছে তারই দেশের লোক, তার হাতে গড়া ঐ সেনাবাহিনীর সদস্য। তার হাতে গড়া মানুষ। জানি না তার মনে তখন কি প্রশ্ন জেগেছিলো? কিছু জানারও উপায় নেই, কারণ ঐ বাড়িতে তো কেউ বেঁচে ছিলো না। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার পরিবারের নিহত সকল সদস্যেও বিবরণ তুলে ধরেন। ১৫ আগস্টের পর অপপ্রচার চালানো হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তরে পরাজিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর যারা দোসর ছিলো, তাদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিলো। যারা এদেশের স্বাধীনতাই চায়নি। মূলত তারাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসলে ঘরের শত্রু বিভীষণ। ঘরের ভেতর থেকে শত্রুতা না করলে বাইরের শত্রু সুযোগ পায় না। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের অনেকে আমাদের বাসায় আসা যাওয়া করতো। তিনি বলেন, ডালিম, ডালিমের শাশুড়ি, ডালিমের বউ, ডালিমের শালী, ২৪ ঘণ্টা আমাদের বাসাই পড়ে থাকতো। ওঠা বসা, খাওয়া, দাওয়া সবই করতো। বঙ্গবন্ধুর হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, মেজর নূর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জেনারেল ওসমানীর এডিসি হিসেবে কর্মরত ছিলো। তখন কামালও ওসমানীর এডিসি ছিলো। দুই জন এক সঙ্গে কর্মরত ছিলো। এরাতো অত্যন্ত চেনা মুখ। তিনি বলেন, কর্নেল ফারুক কেবিনেটের অর্থমন্ত্রী মল্লিক সাহেবের শালীর ছেলে। এভাবে যদি দেখি এরা কেউ দূরের না, এরাই যড়যন্ত্র করলো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জিয়া জড়িত ছিলো। জিয়ার যে পারিবারিক সমস্যা ছিলো সেটা সমাধানের জন্য সেনাবাহিনীতে এক পদ সৃষ্টি করে সেখানে তাকে দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছিলো। তার পারিবারিক সমস্যা সমাধান করে দেয়া হয়েছিলো। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান প্রায়ই, প্রতি সপ্তাহে এক বার তার স্ত্রীকে নিয়ে ঐ ৩২ নম্বর বাড়িতে যেতো। ‘আন্তরিকতা' নয়, এদের লক্ষ্য ছিল চক্রান্ত করা। সত্যিকথা বলতে কি সেটা কেউ বুঝতে পারিনি। আমরা খোলামেলা মানুষের সঙ্গে মিশতাম, সকলের জন্য ছিল অবারিত দ্বার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে ইতিহাসকে সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা, মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা, স্বাধীনতার যে মূল লক্ষ্য সেটা থেকে বিচ্যুত করা এবং বিজয়কে একেবারে অর্থহীন করে দেয়ার জন্য। মোস্তাক তিন মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা এভাবে বেঈমানী করে, তারা থাকতে পারে না।.. মীর জাফরও তিন মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোস্তাক রাষ্ট্রপতি হওয়ার সাথে জিয়াউর রহমানকে সেনা প্রধান করা হয়। এতে স্পষ্ট যে তাদের মধ্যে একটা যোগসূত্র ছিলো এবং ষড়যন্ত্র জড়িত ছিলো। জার্মানীর বনে বসে ১৫ আগস্টে পরিবারের সব সদস্য নিহত হবার সংবাদ প্রাপ্তির দুর্বিসহ সময়টার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন শুনলাম সহ্য করাটা কঠিন ছিলো। ১৬ তারিখে ড. কামাল হোসেন আসলেন বনে হুমায়ন রশিদ সাহেবের বাসায়। রেহানা ছোট, সে বললো চাচা আপনি মোস্তাকের মন্ত্রীত্ব নেবেন না। আপনি প্রেস কনফারেন্স করেন, আপনি এ হত্যার প্রতিবাদ করেন। হুমায়ন রশিদ সাহেব প্রেস কনফারেন্সের ব্যবস্থা নিলেন কিন্তু উনি কোন কথা বলতে রাজি হলেন না। প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশবাসীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, গ্রামে গঞ্জে যখন ঘুরেছি তখন দেখেছি সাধারণ মানুষের ভালবাসা। সে ভালবাসাই কিন্তু আমাদের আরো প্রেরণা দিয়েছে।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক আজ ১৭ মে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩৭তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৮১ সালের এদিন দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তিনি বাংলার মাটিতে ফিরে আসেন। এদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বোয়িং বিমানে শেখ হাসিনা ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লী থেকে কোলকাতা হয়ে তৎকালীন ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ আজ দিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ১৯৭৫ থেকে দীর্ঘ ৬ বছর নির্বাসন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা বাংলার মাটিতে ফিরে আসেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের এটা একটি মাইলফলক। সুগম হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার মূল্যবোধ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ। হামিদ বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি এবং গণতন্ত্র বিকাশে বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার অবদান অপরিসীম। তাঁর দূরদৃষ্টি, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। ক্রমাগত প্রবৃদ্ধি¦ অর্জনসহ মাথাপিছু আয় বাড়ছে, কমছে দারিদ্র্যের হার। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। দেশকে একটি সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত করতে তিনি ‘ভিশন ২০২১’ ও ‘ভিশন ২০৪১’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে শেখ হাসিনার এসব যুগান্তকারী কর্মসূচি বাংলার ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশি- বিদেশি চক্রান্তে এক দল বিপদগামী সেনা কর্মকর্তাদের নির্মম বুলেটে সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন। এসময় তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে থাকায় ঘাতকদের হাত থেকে তারা রেহাই পান। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রয়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর জন্য উপস্থিত প্রায় ১৫ লাখ মানুষের হৃদয় ছোঁয়া ভালবাসার জবাবে এ দিন তিনি বলেন, বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য আমি দেশে এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসাবে, মেয়ে হিসাবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসাবে আপনাদের পাশে থাকতে চাই।’ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে এদেশের গণতন্ত্র নস্যাৎ ও স্বাধীনতার মূল্যবোধকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়। ১৯৮১ সালের ১৭ মে রাজনীতিবিদ হিসাবে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আবারো দেশে স্বাধীনতার মূল্যবোধ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর যারা ছিল অবহেলিত ও নির্যাতিত, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনে ও তার নেতৃত্বের পরশে তারা আবারো জেগে ওঠার সাহস ও প্রেরণা পেয়ে যায়। এদিন শেখ হাসিনার নামে যথার্থই জেগে উঠে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার, 16 মে 2017 22:14

ভোট সুষ্ঠু হবে তো: এরশাদ

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের। ভোটাররা ভোট দিলেও তা ব্যালট বাক্সে থাকবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, 'ভোট পাহারা দেওয়ার শক্তি অর্জন করতে হবে।' মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা মহানগর উত্তর জাপার পরিচিতি সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদ। নিজ দলের সাংগঠনিক শক্তির দৈন্যদশার কথাও স্বীকার করে জাপা চেয়ারম্যান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, 'আমাদের প্রার্থী নাই, কর্মী নাই।' তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'ঢাকায় ১৫টি আসনে মাত্র দুজন যোগ্য প্রার্থী পেয়েছি।' আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রায় পৌনে দু'বছর বাকি থাকলেও এরশাদের অভিমত ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, 'সারাদেশে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই সারাদেশে নৌকার জন্য ভোট চাইছেন।' তারপরও আগামী নির্বাচনে মানুষ লাঙ্গলে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসবে বলে আশাবাদী এরশাদ। কিন্তু সেই ভোট রক্ষা করা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে এরশাদের। তিনি বলেন, 'আমরা ভোটকেন্দ্রের প্রটেকশন দিতে পারব কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে।' সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনের উদাহরণ দিয়ে এরশাদ বলেন, 'কিছুদিন আগে আমাদের একটা নির্বাচন ছিল। আমার কর্মী বাহিনী ছিল না বলে যেতে পারি নাই। ভোটকেন্দ্র রক্ষা করতে পারি নাই।' আগামী নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন। এ চিন্তার বিরোধিতা করে এরশাদ বলেন, 'এখন কথা হচ্ছে সামনের নির্বাচন হবে কীভাবে? সরকার বলছে, ইভিএম সিস্টেমে। কিন্তু কত সিস্টেম! কোনোটাই গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না।' সরকারের সমালোচনা করে এরশাদ বলেন, 'সাত দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা শুনছি। কিন্তু খবরের কাগজে পড়ি, আমাদের এখান থেকে মানুষ লিবিয়ায় যায়। সেখান থেকে জাহাজে যায় ভূমধ্যসাগরে, সেখানে সমুদ্রে ডুবে মরে। প্রবৃদ্ধি যদি সাত দশমিক ৪ শতাংশই হয় তাহলে এই লোকগুলো দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে কেন? দেশে কর্মসংস্থান নাই, বিনিয়োগ নাই, শিল্প কারখানা নাই। তাহলে এই প্রবৃদ্ধি আসল কোথা থেকে? সেজন্য বলছি, সরকার কথায় এক, আর কাজে অন্য।' ঢাকা মহানগর উত্তর জাপার সভাপতি এস এম ফয়সাল চিশতির সভাপতিত্বে পরিচিত সভায় বক্তৃতা করেন দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম, মেজর (অব.) মো. খালেদ আখতার, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন প্রমুখ।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক পাকিস্তানে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ থেকে শুরু করে দক্ষিণ সুদানে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে সেনা মোতায়েন, নতুন বিশ্বশক্তি হিসেবে উত্থান হচ্ছে চীনের। মার্কিন সংবাদ সংস্থা- সিএনএন’র এক বিশেষ প্রতিবেদনে এমনটাই তুলে ধরা হয়েছে। সিএনএনের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার ‘এক বেল্ট, এক রোড’ নীতিতে আগামী ১৪ ও ১৫ মে অনুষ্ঠিতে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বব্যাপী বৃহৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন। এশিয়ার ২৮ টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও ৬০ টিরও অধিক রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সামনে তিনি চীনের পুরোনো বাণিজ্য ঐতিহ্যের ধারক ‘সিল্ক রোড’কে পুনস্থাপিত ও কার্যক্ষম করে বিশ্বকে নতুন অর্থনৈতিক শক্তির বার্তা দিতে চাচ্ছেন। আর এটিকে চীনের বিশ্বশক্তি হিসেবে বিবর্তনের পূর্ণাঙ্গ ধাপ বলে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা। আর এশিয়ার পরাশক্তি হিসেবে দেশটির উত্থান ও বিশ্বব্যাপী চীনের প্রভাব বিস্তার করার ক্ষেত্রে পাঁচটি ক্যাটাগরির আওতায় তার কিছুটা তুলে ধরার চেষ্টা করেছে সিএনএন। প্রতিবেদনে দেশটির অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও সংস্কৃতি, শিক্ষা, ভ্রমণ এবং সামরিক ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের মিত্র পাকিস্তানে সঙ্গে ‘এক বেল্ট, এক রোড’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সড়ক নেটওয়ার্ক, ফাইবার অপটিক ক্যাবল প্রকল্প, রেল লাইন, একটি গভীর সমুদ্র বন্দর, কয়লা খনি এবং সৌর খামার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। এর আগে, ২০১৪ সালে ইসলামাবাদ সফরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পাকিস্তানে ৪৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এছাড়া হিমালয় থেকে শুরু হওয়া সিল্ক রোডের কল্যানে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিকাশ প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে পৃথিবীর যেকোনো দেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে চীন। ২০০৮ সালের পর থেকে প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার শিক্ষার্থী শুধু আমেরিকাতেই গেছেন উচ্চশিক্ষা নিতে। তাছাড়া প্রতিবছর অসংখ্য চীনা শিক্ষার্থী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষালাভ করে আবার দেশে ফিরে এসে কাজে যোগ দিচ্ছেন। উন্নয়ন ও স্থাপনা তৈরিতেও যথেষ্ট এগিয়ে আছে চাইনিজরা। দরিদ্রপীড়িত আফ্রিকাকে অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিক মানে পোঁছে দিতে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে চীন। এর মধ্যে, কেনিয়ার স্বাধীনতা পরবর্তী দেশটির সবচেয়ে বড় প্রকল্পে অনুদান দিয়েছে চীন। ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের চীনা অনুদানে ৪৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ চালু হচ্ছে কেনিয়াতে। এছাড়া ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে চীন। প্রতিবছর সারা বিশ্বের প্রায় ১৩৫ মিলিয়ন নাগরিক চীনে ঘুরতে আসে বলে জানা গেছে। আর এতে দেশটির প্রায় ২৬১ বিলিয়ন ডলারের আয় হয়। সবশেষে রয়েছে চীনের বিশাল সামরিক ক্ষমতার পূর্বাভাস। মার্কিন ও রাশিয়ান সামরিক বাহিনীকে টেক্কা দিয়ে অভ্যন্তরীণ ও প্রযুক্তিগত সকল ক্ষেত্রেই চীনা সামরিক বাহিনীর নতুন সফলতার খবর আসছে প্রতিনিয়ত। কিছুদিন আগেই দেশে তৈরি নতুন একটি পারমাণবিক শক্তিশালী নৌ-তরী উদ্বোধন করেছে দেশটি। এছাড়া সেনার সংখ্যা দিয়েও পৃথিবীর প্রথম আসনে রয়েছে চীন। সিএনএন।

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা