07232019মঙ্গল
স্পটলাইট

স্পটলাইট (851)

নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক বিশ্বের একমাত্র দেশ সৌদি আরব যেখানে মেয়েদের গাড়ি চালানোর অনুমতি নেই এবং এ কারণে ক্ষোভও বাড়ছিল। বিশ্বের একমাত্র দেশ সৌদি আরব যেখানে মেয়েদের গাড়ি চালানোর অনুমতি নেই এবং এ কারণে ক্ষোভ দিনদিন বাড়ছিল। 'মেয়েদের গাড়ি চালানোর মত বুদ্ধি নেই'- এক সপ্তাহ আগে একজন ধর্মীয় নেতার করা এমন মন্তব্য অসন্তোষ আরও উসকে দেয়। অবশেষে বহু বছর ধরে চলা প্রচারণার প্রেক্ষিতে সৌদি আরবের ইতিহাসে এই প্রথম মেয়েরা গাড়ি চালানোর অনুমতি পেতে যাচ্ছে। সৌদি বাদশাহ সালমান এ সংক্রান্ত একটি ডিক্রি জারি করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম এ খবর দিচ্ছে। দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় নেতাদের কাউন্সিল এই পদক্ষেপকে সমর্থন দিয়েছে। সৌদি আরবের চরম রক্ষণশীল সমাজে মেয়েদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়ার দাবিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার। গাড়ি চালানোর অভিযোগে অনেক নারীকে কারাগারেওযেতে হয়েছে। সৌদি সরকারের নতুন এই উদ্যোগকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র হিদার নাওর্ট বলেন, "আমি মনে করি সেদেশের জন্য এটি সঠিক দিক-নিদের্শনার মহান পদক্ষেপ। তারা যে এ ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে সেজন্য আমরা উচ্ছ্বসিত। আমি মনে করি এটি খুবই ইতিবাচক লক্ষণ"। সৌদি প্রেস এজেন্সির খবরে জানানো হয়েছে রাজকীয় এই ডিক্রি মোতাবেক নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করা হবে। তবে ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে তা কার্যকর হবে। যদিও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি তবে এই রাজকীয় আদেশে বলা হয়, প্রয়োজনীয় শরীয়াহ মানদণ্ড অনুসরণ করেই এই নির্দেশনা কার্যকর করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার, 21 সেপ্টেম্বর 2017 23:15

সদ্যোজাত মেয়ের নাম শেখ হাসিনা দিল রোহিঙ্গা নারী

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক ২০ বছর বয়সী রোহিঙ্গা মুসলিম নারী খাদিজা। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর জাতিগত নিধন শুরু হলে নাফ নদী পেরিয়ে শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশে আসেন আটমাসের অন্তঃসত্ত্বা খাদিজা। বাংলাদেশে এসে কন্যা সন্তানের জননী হয়েছেন তিনি। তাইতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরুপ মেয়ের নাম রেখেছেন শেখ হাসিনা। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়াটুডে’র প্রতিবেদন অনুসারে, খাদিজার পিতা নুরুদ্দিন ও স্বামী ফখরুদ্দীনকে মিয়ানমারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মা আলুম বাহারের হাত ধরে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে অাশ্রয় নেন অন্তঃসত্ত্বা খাদিজা। রাখাইনে নির্যাতনের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে খাদিজা সাংবাদিকদের বলেন, পুরো রাখাইন রাজ্য আগুনে জ্বলছে। আমাদের বাড়ি ঘরও পুরিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রাণভয়ে আমরা ঘর-বাড়ি থেকে পালিয়ে যাই, গর্ভে সন্তান নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে থাকি। একপর্যায়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করি। এখানেই আমি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেই। রাখাইনের সহিংসতায় আমি আমার স্বামীকে হারিয়েছি। মেয়ের নাম রেখেছি শেখ হাসিনা। ছয় সদস্যের পরিবারের মধ্যে থেকে এখন মেয়ে ও মা’ই তার বেঁচে থাকার সম্বল খাদিজার। শুধু খাদিজা একাই নয় বরং তার মত ৮০ হাজার রোহিঙ্গা নারী শরণার্থী আছেন যারা অন্তঃসত্ত্বা। খাদিজার মা আলুম বাহার সাংবাদিকদের বলেন, অনেক ব্যথা সহ্য করে আমরা বাংলাদেশে এসেছি। আমার কন্যা তখন গর্ভবতী ছিল। সে এখানেই একটি শিশুর জন্মদিয়েছে। আমরা তার নাম রেখেছি শেখ হাসিনা। সে আমাদের নতুন জীবনের আশা দেখিয়েছে, আমরা আমাদের জীবনে এখন কিছুটা শান্তি আশা করতে পারি। প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশের জাতিগত নিধন অভিযান শুরু হলে প্রাণভয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয়। উদার মন ও মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোহিঙ্গাদের দু:খ কষ্টে সমব্যথী হয়ে তিনি রোহিঙ্গাদের ‘মিয়ানমার সরকার যতদিন ফিরিয়ে না নেবে’ ততদিন আশ্রয় দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন। প্রয়োজনে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ খাবার ভাগাভাগি করে খাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সাধুবাদ জানিয়েছে গোটা বিশ্বের মানুষ। ব্রিটিশ গণমাধ্যম শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধিতে ভূষিত করেছেন। ইন্ডিয়া টুডে।
বিবিসি বাংলা মিয়ানমারে নেত্রী অং সান সু চি রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে যে ভাষণ দিয়েছেন তা প্রত্যাখ্যান করেছেন রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সংগঠন ও নেতারা। তারা বলছেন, মিজ সূ চি সব জেনেও না জানার ভান করেছেন এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মনে করে, এই ভাষণে সেনাবাহিনীর বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি করা হয়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা গত তিন সপ্তাহে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এখনো প্রতিদিন আরও ১০ থেকে ১৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে। রোহিঙ্গারা বলছে, নির্যাতনের কারণেই তারা তাদের নিজের গ্রাম ও ভিটেমাটি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন এবং মিজ সু চি সেটি ভালো করেই জানেন। তারপরেও কেন এতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে, সে সম্পর্কে জানা নেই বলে মিজ সু চির যে বক্তব্য সেটা ক্ষুব্ধ করেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে। রোহিঙ্গাদের একটি সংগঠন -আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম লন্ডনে থেকে সংগঠনটির কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। চালান। তিনি বলেছেন, রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে অং সান সূ চি পুরোপুরি অসত্য বক্তব্য তুলে ধরেছেন। রাখাইনে আগুনে পুড়ছে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর তিনি বলেন, "সু চি তার বক্তব্যে যা বলেছেন তা মোটেও সঠিক নয়। তার না জানার মতো কোন কারণ নেই। সময়ে সময়ে রোহিঙ্গারা তাকে সব জানিয়েছে- কি হচ্ছে আর না হচ্ছে। আর সু চি জেনেও না জানার মতো করছেন। শি ইজ অ্যা প্রিটেন্ডার। একই সময়ে তিনি মিথ্যা কথা বলেছেন। আমরা তো খালি হয়ে গেছি সেটা আপনারা দেখছেন তো। ওখানে আছে কি এখন? মানুষ তো একদমই নাই হয়ে গেছে সেখানে। আমার মন্তব্য হলো উনি ভনিতা করছেন ও মিথ্যা কথা বলছেন। জেনেও না জানার মতো আচরণ করছেন।" বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গারা মূলত অবস্থান করছেন কক্সবাজার জেলার শরণার্থী শিবিরগুলোতে। এই দফাতে নতুন করে আসা শরণার্থীদেরও একটি বড় অংশকে এসব শিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ভারতে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা হঠাৎ করেই কেন বিপজ্জনক হয়ে গেল? অং সান সু চি ও তার সরকার বালিতে মাথা গুঁজে রেখেছে: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এমনই একটি কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গাদের একজন নেতা মোহাম্মদ নূর বলেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের কারণেই লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। কিন্তু মিজ সূ চি এই সত্যকে গোপন করেছেন। "সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেছেন সু চি। অত্যাচার না করলে, নির্যাতন না করলে, গুলি না করলে, কাটাছেঁড়া না করলে মানুষ কেন আসবে এখানে। জীবনেও আসতো না। মিয়ানমারে মুসলিম ছিলো ১২ লাখ । এর মধ্যে সাত লাখই তো এখানে এসে পড়েছে। মানুষ শান্তিপূর্ণ ভাবে থাকতে পারলে কি একদেশ থেকে আরেক দেশে পালিয়ে আসে? সূ চি সামরিক বাহিনীর লোকজনকে ভয় পান। সেজন্যই এভাবে বলেছেন," বলেন তিনি। বাংলাদেশ থেকে দেখা যাচ্ছে ওপারের মিয়ানমারে আগুন জ্বলছে মিজ সু চি তার ভাষণে কি বলবেন তা নিয়ে অনেক আগ্রহ ছিলো রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সংগঠনের। কিন্তু তার ভাষণ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াই তৈরি করেছে রোহিঙ্গাদের মধ্যে। অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক রোহিঙ্গা ইন্টেলেকচুয়াল কমিউনিটির প্রেসিডেন্ট ড: লা মিন্ট বলেছেন, অং সান সূ চি-র বক্তব্য আর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বক্তব্যকে তারা আলাদা করতে পারছেন না। তিনি বলেন, "উনার বক্তব্য আর সেনাবাহিনীর বক্তব্যের সাথে কোন পার্থক্য নেই। একই কথা বলেন উনারা। এটা সেনাবাহিনীরই বক্তব্য। উনি যা বলেছেন তার বক্তব্যের ৯০ ভাগই মিথ্যা কথা। রোহিঙ্গাদের নিয়ে তিনি যা বলেছেন সবাই আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি।"
মঙ্গলবার, 12 সেপ্টেম্বর 2017 16:14

কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক কক্সবাজার উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত ও নারকীয় তাণ্ডব, নির্বিচারে হত্যা, লুণ্ঠন ও ধর্ষণের বর্ণনা শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। অশ্রুজল দেখা যায় চোখের কোণে। রোহিঙ্গা এক শিশু প্রধানমন্ত্রীকে তার পরিবারের ওপর সে দেশের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের কথা জানান। শিশুটি জানায়, তাদের জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে আগুন দেয়া হয়। তার বাবাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিষ্ঠুর নির্যাতনের হাত থেকে রেহায় পায়নি শিশুটিও। তার নাকে আঘাত করে থেঁতলে দেয়া হয়। শিশুটির কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় অশ্রুসিক্ত নয়নে ওই শিশুকে বুকে জড়িয়ে নেন। তাকে সান্ত্বনা দেন। নির্যাতিত নারী ও শিশুদের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী তাদের সবধরনের সাহায্য-সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দেন। এরআগে মঙ্গলবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে প্রথমে কক্সবাজার এবং সেখান থেকে সড়কপথে উখিয়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা দুর্ভাগা নারী, পুরুষ, শিশুদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা, পুত্রবধূ আইওএম কর্মকর্তা পেপ্পি সিদ্দিকও এ সময় উপস্থিত আছেন। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারে যা ঘটছে, সেটি ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’। বাকরুদ্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা দেখে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না। মানুষ মানুষের মতো বাঁচবে। মানুষের কেন এত কষ্ট! তারা (মিয়ানমার) আইন পরিবর্তন করে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করছে। আইন পরিবর্তন করে কেন এই ঘটনার সৃষ্টি করা হল?’ শেখ হাসিনা নিরীহ রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, যারা প্রকৃত দোষী তাদের খুঁজে বের করুন। এক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে যা যা সাহায্য করা দরকার, আমরা তা করব। মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ মিয়ানমারের শরণার্থীদের আশ্রয় দিলেও এ দেশের ভূমি ব্যবহার করে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানো হলে তা বরদাশত করা হবে না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, পূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, হুইপ ইকবালুর রহিম, কক্সবাজার-৩ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, আবু রেজা মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন নদভী, মন্ত্রী পরিষদ সচিব শফিউল আলম, মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, কক্সবাজারের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক ও র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার, 11 সেপ্টেম্বর 2017 23:29

মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রস্তাব পাস

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া ও তাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রস্তাব জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে।  সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ প্রস্তাব পাস হয়। এর আগের মাগরিবের নামাজের বিরতির পরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন সরকারি দলের ডা. দীপু মনি। আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, সরকারি দলের সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবদুল মতিন খসরু, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, ড. হাছান মাহমুদ, এ টি এম আবদুল ওয়াহাব, সাইমুম সরওয়ার কমল, জাতীয় পার্টির এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার, ফখরুল ইমাম, জাসদের মইনউদ্দীন খান বাদল ও শিরীন আখতার, তরীকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ১৭৪ (১)-এর আওতায় প্রস্তাব (সাধারণ)-এর ওপর আলোচনায় দীপু মনি তার উত্থাপিত প্রস্তাবে বলেন, 'সংসদের অভিমত এই যে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অব্যাহত নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধ, তাদের নিজ বাসভূম থেকে বিতাড়ন করে বাংলাদেশে পুশইন করা থেকে বিরত থাকা এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্বের অধিকার দিয়ে নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা গ্রহণে মিয়ানমার সরকারের ওপর জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানানো হোক।' প্রস্তাব উত্থাপনকালে ডা. দীপু মনি আরও বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যলঘু সম্প্রদায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অব্যাহত নির্যাতন-নিপীড়ন চরম আকার ধারণ করায় সেখানকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লাখ লাখ লোক ইতিমধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আশ্রয় নিয়েছে। সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিষ্ঠুর নির্মমতার শিকার- কেউ অর্ধমৃত, কেউ গুলিবিদ্ধ, কেউ বা আবার ক্ষত-বিক্ষত হাত-পা নিয়ে কোনো মতে জীবন নিয়ে ঢলের মতো প্রতিদিন বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। রোহিঙ্গাকে আখ্যায়িত করা হচ্ছে বাঙালি সন্ত্রাসী হিসেবে। নাফ নদীতে ভাসছে সারি সারি রোহিঙ্গা লাশ। নিজ ভূমি থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জাতিগতভাবে নির্মূলের লক্ষ্যে চালানো অব্যাহত নৃশংসতায় গর্ভবতী মা-বোন, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, বৃদ্ধ- এমনকি দুগ্ধপোষ্য শিশুকে রেহাই দেওয়া হচ্ছে না। রোহিঙ্গারা যাতে নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে না পারে তার জন্য তাদের প্রতিটি বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। দীপু মনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার মানবিক কারণে দুর্দশাগ্রস্ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আশ্রয় দিয়েছে। তাদের খাদ্য ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবেই রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের অধিবাসী। তারা ৫০০ বছরের অধিক সময় ধরে আরাকান রাজ্যে বসবাস করছে। চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতাব্দীতে আরাকান ছিল স্বাধীন মুসলিম রাজ্য। এই সময়েই আরাকান সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়। ১৪০৪ সাল থেকে ১৬১২ সাল পর্যন্ত ১৬ জন মুসলিম সম্রাট আরাকান শাসন করেছেন। রাজা বোধাপোয়া ১৭৮৪ সালে আরাকান দখল করে তৎকালীন বার্মার সঙ্গে যুক্ত করেন। ১৯৪৮ সালে ইউনিয়ন অব বার্মা ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের সময়েও আরাকান বার্মার অংশ থেকে যায়। দীপু মনি তার বক্তব্যে বলেন, কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন নিঃশর্তভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্ব দিতে হবে। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে সে জন্য আহ্বান জানায়। তিনি বলেন, 'এক আইলানের লাশ বিশ্ববিবেককে নাড়া দিয়েছিল। আজ কত আইলানের ক্ষত-বিক্ষত লাশ নাফ নদীর পানিতে ভাসছে। আমরা চাই বিশ্ববিবেক এগিয়ে আসুক। তাদের পাশে দাঁড়াক।' রওশন এরশাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। আশা করি এসব পদক্ষেপের পথ বেয়ে এই সমস্যার সমাধান বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তা মঙ্গল বয়ে আনবে না। তাদের ফিরে যেতে হবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের প্রতিবেদন যথাযথ বাস্তবায়ন করারও দাবি জানান রওশন এরশাদ। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া নেত্রী অং সান সু চি কীভাবে এত অশান্তি সৃষ্টি করতে পারেন। তিনি এ বিষয়ে ভারত ও চীনের পক্ষ থেকে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জায়গা দেওয়া হয়েছে মানুষ হিসেবে, রোহিঙ্গা বা মুসলমান হিসেবে নয়। এই রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান দরকার। এজন্য সময়ও প্রয়োজন। আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। সাইমুম সরওয়ার কমল মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পুরস্কৃত করা দরকার। গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিচার হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী বলেন, রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির নেতা আতাউল্লাহর জন্ম পাকিস্তানে। সে এসে এখানে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠী আরাকান থেকে আসাদের দলে ভেড়াচ্ছে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা তুরস্কেও পাঠানো যেতে পারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের। নোবেল পুরস্কার আগামীতে শান্তিতে দিতে হলে শেখ হাসিনা পেতে পারেন। মইনউদ্দীন খান বাদল বলেন, রোহিঙ্গারা মুসলমান বলে বাংলাদেশ তাদের জায়গা দেয়নি। তারা মানুষ বলে জায়গা দেওয়া হয়েছে। এখানে যেন কোনো ভুল না হয়। সু চিসহ বার্মা মিথ্যাচার করছে মন্তব্য করে বাদল বলেন, 'এটা সারা বিশ্বের কাছে জানানো হোক, ওরা আমাদের জাতিগোষ্ঠী নয়।' তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে 'সেফজোন' তৈরি করার দাবি জানান। রোহিঙ্গাদের ঢালাওভাবে সন্ত্রাসী না বলার দাবি জানিয়ে মইনউদ্দীন খান বাদল প্রশ্ন রাখেন, চোখের সামনে মা-বোনকে বলাৎকার করা হলে, হত্যা করা হলে অস্ত্র তুলে নেওয়ার অধিকার কি নেই? বাদল বলেন, 'আমরা চাই আপনারা বাংলাদেশকে বিপদমুক্ত রাখুন। সংঘাত এড়িয়ে চলতে চাই। সঙ্গে সঙ্গে জানান দিতে চাই গাঙে ভাইসা আসি নাই আমরা।' রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ইতিহাস তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, রোহিঙ্গাদের বাঙালি বলার কোনো সুযোগ নেই। বিভিন্ন সময়ে ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। তাদের ফার্টিলিটি বাংলাদেশের দ্বিগুণ। তিনি আনান কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন ও সেফজোন করার দাবি জানান। শিরীন আখতার বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে মানবিক, কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ এগোচ্ছে। বিএনপি বলছে, সরকার ব্যর্থ। আমি বলতে চাই, কোথায় সরকার ব্যর্থ? বিএনপি অপরাজনীতি করতে চাইছে। রোহিঙ্গারা তাদের ভূমিতেই ফিরে যাবে।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে শুরু হওয়া সহিংসতার কারণে গত ১৫ দিনে সে দেশ থেকে তিন লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। জাতিসংঘ শনিবার একথা বলেছে। এ পরিসংখ্যান লাফিয়ে দিনে প্রায় ২০ হাজার করে বাড়ছে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার একজন মুখপাত্র জোসেফ ত্রিপুরা বলেন, ‘গত ২৫ আগস্ট থেকে প্রায় দুই লাখ ৯০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।’ জাতিসংঘ কর্মকর্তারা জানান, আগে হিসেবে ধরা হয়নি এমন কয়েকটি গ্রাম ও এলাকাতেও অনেক রোহিঙ্গা রয়েছে।’ অধিকাংশ রোহিঙ্গা মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের ২৭৮ কিলোমিটার (যার এক চতুর্থাংশ জুড়ে রয়েছে নাফ নদী) বিস্তৃত সীমান্ত দিয়ে পায়ে হেঁটে বা নৌকায় করে আসছে। জাতিসংঘ জানায়, বুধবার রোহিঙ্গা আগমন সংখ্যা হুট করে খুব বেড়ে যায়। এ দিন ৩০০ বেশি নৌকা বাংলাদেশে এসেছে। বাসস
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় 'সেদেশের ধর্ম ও সংস্কৃতির বিরোধী'- এই কারণ দেখিয়ে ৫০টি নাম নিষিদ্ধ করেছে। সেদেশের অভিভাবকরা এখন থেকে তাদের সন্তানদের এসব নাম রাখতে পারবেন না। নিষিদ্ধ নামগুলোর মধ্যে আছে আবদুল নাসের, ইমান, আবরার, আমির, নবী, নাবিয়া (নারী নবী), আবদুল মুসলেহ, আবদুল নবী, আবদুল মু'ইন, আবদুল রসুল, মালিকা, তবারক, মায়া, রাম (হিন্দু দেবতা), বিনিয়ামিন, লিন্ড, এলিস ইত্যাদি। নিষিদ্ধ ৫০টি নামের একটি তালিকাও প্রকাশ করেছে সরকারের সিভিল এ্যাফেয়ার্স বিভাগ। গালফ নিউজ পত্রিকার এক রিপোর্টে বলা হয়, এসব নাম নিষিদ্ধ করার কারণ হলো এগুলোকে 'ধর্মদ্রোহী', অনারব, অনৈসলামিক, অথবা সৌদি আরব রাজ্যের সংস্কৃতি বা ধর্মের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। এ ছাড়া তালিকায় আরো কিছু নাম আছে যা 'বিদেশী' বা 'অসঙ্গত'। তালিকায় আরো কিছু নাম আছে যার অর্থ রাজা বা রাজকীয় ব্যাপারগুলোর সাথে সম্পর্কিত। যেমন সুমাও, মালেক (রাজা) বা মালিকা (রানি)। আর কিছু নাম আছে যা এরকম কোন শ্রেণীতে ফেলা যায় না। তাই এগুলো কেন নিষিদ্ধ করা হলো - তা যে যেমন খুশি ভেবে নিতে পারেন। পঞ্চাশটি নামের পুরো তালিকা: মালাক (দেবদূত), আবদুল আতি, আবদুল নাসের, আবদুল নাসের, আবদুল মুইন, আবদুল মুসলেহ, বিনিয়ামিন (বেঞ্জামিন-এর আরবি রূপ), নারিস, ইয়ারা, সিতাও, লোল্যান্ড, তিলাজ, বারাহ, আবদুল নবী, আবদুল রসুল, সুমাও (রাজকীয় মর্যাদা), আল-মামলাকা (রাজ্য), তাবারক(যার ওপর আশীর্বাদ বর্ষিত হয়েছে), নারদীন, স্যান্ডি, রাম(হিন্দু দেবতা), মালিন, এলেইন, ইনার, মালিকতিনা, মায়া, লিন্ডা, রান্ডা, বাসমালা (ঈশ্বরের নাম উচ্চারণ), জিবরিল, আবরার, ইমান, বায়ান, বাসেল, বিরিলাম, নবী, নাবিয়া, আমির (রাজপুত্র), তালিন, আরাম, নারিজ, রিতাল. এ্যালিস. লারিন, কিবরিয়াল, লরেন।
সোমবার, 14 আগস্ট 2017 23:53

এক যে ছিল খোকা

লিখেছেন
নূহ-উল-আলম লেনিন জন্ম তার মধুমতী নদীর তীরে। মধুমতী দুরন্ত পদ্মার শাখা নদী। সে কারণে মধুমতীর স্রোতেও ছিল এক ধরনের দুরন্তপনা। আর সেই দুরন্ত নদীর তীরে যার জন্ম, সে কি দুরন্ত না হয়ে পারে? ঘরের পাশের এক চিলতে ধারা স্রোত। ওমা, ওটিও নাকি নদী! নাম বাইগার নদী। ওই নদীর হাঁটুজলে খুব বেশি লুটোপুটি চলে না। পানি ঘোলা হয়ে যায়। দামাল ছেলেরা ছুটে যায় সামান্য দূরের মধুমতীতে। ধান-কাউনের ক্ষেত পেরিয়ে, মাঠের মাঝে একা দাঁড়িয়ে থাকা তালগাছটিকে পাহারাদার হিসেবে রেখে 'খোকা বাহিনী' আদুর গায়ে যায় মধুমতীর কাছে। নদীতে এক ঝটকা হাবুডুবু খেয়ে সদ্য ধান কাটা মাঠে শুরু হয় বল খেলা। কোন পক্ষে কতজন সে হিসাব কে করে! কিছুক্ষণ খর রোদ্দুরে বলের পেছনে ছুটে আবার মধুমতীর প্রশান্ত জলে সাঁতার কাটা। অতঃপর ধু-ধু প্রান্তরে ছাতা মাথায় মাস্টার মশায়কে আসতে দেখে, মুহূর্তে 'খোকা বাহিনী' হাওয়া। খুব জানতে ইচ্ছা করছে? কে এই খোকা? অন্যদের চেয়ে একটু বেশি লম্বা, চ্যাঙ্গা, শ্যামবর্ণের যে ছেলেটি, তার নাম খোকা। খোকা যেমন দুরন্ত, চটপটে, তেমনি বুদ্ধিমান। গ্রামের শিশু-কিশোররা তাকে তাদের সরদার বলেই মানে। হঠাৎ একসময় খোকার চোখে কী যেন একটা রোগ দেখা দিল। খোকার চোখ ফুলে ঢোল। ভালো করে তাকাতে পারে না। দেখতেও পারে না। বাবা দেখলেন, গ্রামে থাকলে তার চোখের নিয়মিত চিকিৎসা হবে না। নিয়ে গেলেন নিজের কর্মস্থল মাদারীপুর শহরে। ডাক্তার দেখে বলল, খোকার চোখে 'বেরিবেরি' রোগ হয়েছে। চোখ ভালো করতে হলে আপাতত পড়াশোনা বন্ধ। চোখ ভালো হলে আবার পড়াশোনা করা যাবে। খোকার স্কুলে যাওয়া বন্ধ। ওর মন খুবই খারাপ। বন্ধুরা স্কুলে যায়। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, দুরন্তপনা, ঘুরে বেড়ানো, পাখির বাসা থেকে ডিম নিয়ে আসা অথবা আহত পাখির ছানাটির সেবা-শুশ্রূষা করা, কোনোটিই আগের মতো করা যাবে না। খোকার খুব মন খারাপ। পাশের বাসার বন্ধু, ধরা যাক তার নাম জ্যোতি। সে প্রতিদিন বাসায় এসে বন্ধুকে সাহচর্য দেয়। স্কুলের গল্প করে। বাবা একজন গৃহশিক্ষক রেখে দিয়েছেন। তিনি ছাত্রকে বই পড়ে শোনান। মুখে মুখে অঙ্ক করেন। কিন্তু এরই ফাঁকে ফাঁকে মাস্টার মশাই ব্রিটিশদের তাড়াবার কথা বলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামী বিপ্লবীদের বীরত্বের নানা কাহিনী শোনান। খোকা গভীর আগ্রহে ক্ষুদিরামের কথা, বাঘা যতীনের কথা শোনে। ইংরেজ পুলিশ কর্মকর্তা টেগার্ট হত্যার দুঃসাহসী অভিযানের কথা শুনে রোমাঞ্চিত হয়। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে, ইংরেজদের এ দেশ থেকে তাড়াতে হবে। স্বাধীনতা আনতে হবে। হঠাৎ একদিন দেখে, মাস্টার মশাই আর আসে না। বাবা বললেন, মাস্টার মশাইকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। মাস্টার মশাই নাকি বিপ্লবী। দেখতে দেখতে দু'বছর পেরিয়ে যায়। চোখ অনেকটাই সেরে উঠেছে। তবে মোটা লেঞ্চের চশমা পরতে হচ্ছে। গ্রামে এসে প্রথমে গিমাডাঙ্গা স্কুলে ভর্তি হয়। কিন্তু ওই স্কুলে খোকার ভালো লাগে না। একটু ওপর ক্লাসে ওঠার পর গোপালগঞ্জের মিশনারি স্কুলে। ক্লাসের সতীর্থদের চেয়ে খোকা একটু বড়। চোখের অসুখের জন্য দুটি বছর নষ্ট হয়েছে। তাই একটুবা পিছিয়ে পড়া। এই মিশনারি স্কুলে পড়ার সময়ই তাদের শহরে এসেছিলেন বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা একে ফজলুল হক আর মন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তারা মিশনারি স্কুল পরিদর্শনে যান। স্কুলে তখন স্থান সংকুলানের সমস্যা। ভালো মাঠের সমস্যা। খেলাধুলার সমস্যা। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষের সাহস নেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ সমস্যা তুলে ধরার। খোকা ঠিক করল, সহপাঠীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ফজলুল হকের কাছে সে স্কুলের সমস্যা তুলে ধরবে। 'ভয় পাস না। তোরা শুধু আমার সাথে সাথে থাকবি।' সহপাঠীরা রাজি। পরিদর্শন শেষে স্কুল থেকে বের হওয়ার সময় পথ আগলে দাঁড়ায় খোকা বাহিনী। মাস্টার মশাইরা তো প্রমাদ গুনে। আর রক্ষা নেই। ভয়ঙ্কর একটা কিছু হবে হয়তো। পুলিশরা বাধা দিতে চাইলে শেরেবাংলা হাতের ইশারায় ওদের নিরস্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী এগিয়ে গিয়ে বলেন, 'কী চাও বাবারা?' সবাই চুপ! খোকা বুক চিতিয়ে দাঁড়ায়। দৃঢ় কিন্তু বিনয় নম্রস্বরে সে স্কুলের সমস্যার কথা তুলে ধরে। মুগ্ধ বিস্ময়ে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী তার কথা শোনেন। প্রধানমন্ত্রী স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয় নেতাদের ভর্ৎসনা করে বলেন, 'কৈ আপনারা তো কিছু বললেন না।' তিনি খোকাকে আশ্বস্ত করে ঘোষণা করেন, তার সব দাবি মেনে নেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসনকে বললেন অবিলম্বে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে। খুশি মনে খোকা বাহিনী অতিথিদের জিন্দাবাদ দিয়ে বিদায় জানাতে যায়। পুরো সময়টায় খোকার কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেন মন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। খোকার সাহস, প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব এবং চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখে মুগ্ধ হন। বিদায়ের আগে খোকাকে নিজের কাছে ডেকে নেন। বলেন, 'কলকাতা গেলে আমার সাথে দেখা করবে। স্কুল শেষ করে তো কলকাতায় পড়তে যাবে। এই আমার ঠিকানা। আমার সাথে দেখা করবে।' তার পরের ইতিহাস দীর্ঘ। আজ আর সব কথা নয়। শুধু একটাই সংবাদ। খোকা ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে কলকাতার বিখ্যাত ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। কলকাতা গিয়ে সত্যি সত্যি সোহরাওয়ার্দী সাহেবের সাথে দেখা করেন। শহীদ সাহেব তখন মুসলিম লীগের বড় নেতা। খোকা তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। শহীদ সাহেবের হাত ধরেই খোকা ইসলামিয়া কলেজের ছাত্রদের নেতা নির্বাচিত হন। পরবর্তী জীবনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যতদিন জীবিত ছিলেন, খোকা তার প্রিয় শিষ্য হিসেবেই নিজেকে মনে করতেন। কে ছিল খোকা? খুব জানতে ইচ্ছা করছে না? খোকার আসল নাম শেখ মুজিবুর রহমান। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে খোকার জন্ম। তার বাবার নাম শেখ লুৎফর রহমান এবং মায়ের নাম সায়েরা খাতুন। তিনি আমাদের জাতির পিতা এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। দেশবাসী তাকে আদর করে বলে 'বঙ্গবন্ধু'। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গ্রামের সাধারণ নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নিয়ে সমগ্র জীবন লড়াই-সংগ্রাম ও জেল-জুলুম-অত্যাচার সহ্য করে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আসলে তো তিনি কোনো রাজপুত্র ছিলেন না। গাঁও-গেরামের কৃষক-মজুর-জেলে-তাঁতি-শ্রমজীবী মানুষের প্রিয় নেতা ছিলেন বলে লোকে তাকে ইতিহাসের 'রাখাল রাজা' বলে অভিহিত করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা-বিরোধী ঘাতক চক্র বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। সেই থেকে ১৫ আগস্টকে আমরা জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করছি। রাজনৈতিক নেতা
বাসস : দেশ বরেণ্য ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকরা খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ‘বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী’ ব্যক্তি হিসেবে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের অবদানের কথা স্মরণ করেন। শেখ কামালের ৬৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তারা বলে, স্বাধীনতার পর তিনি (শেখ কামাল) দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও সংস্কৃতিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তিনি বেঁচে থাকলে এ সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক বেশি উপকৃত হতো বলেও জানান তারা। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সঙ্গে আলাপকালে শেখ কামালের স্কুল জীবনের বন্ধু ও বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব শাহেদ রেজা বলেন, ‘এটা ছিল অত্যন্ত দু:খের বিষয় যে তার জীবনের সেরা সময়েই আমরা তাকে হারিয়েছি। তিনি ছিলেন একজন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। তার আধুনিক চিন্তা-ভাবনায় বাংলাদেশ অনেক উপকৃত হতে পারত। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এক দল কাপুরুষের হাতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তিনি নির্মমভাবে নিহত হন। একাধারে ঢাকা ক্লাবের সভাপতি রেজা বলেন, কামাল অত্যন্ত আবেগ দিয়ে খেলাধুলা উপভোগ করতেন এবং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সাহায্যার্থে এগিয়ে আসতেন। এক সময় কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা এ ক্রীড়া সংগঠক বলেন, ‘অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে আমি আমার বন্ধুকে স্মরণ এবং তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।’ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বিএফএফ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে শেখ কামালকে একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘একটি বনেদি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে শেখ কামাল রাজনীতিতেও জড়িত ছিলেন। তবে ক্রীড়াঙ্গনে যুক্ত হয়ে দেশের যুব সমাজের সামনে তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।’ হারুন বলেন, বহু মাত্রিক প্রতিভার অধিকারী শেখ কামাল আবাহনী ক্রীড়া চক্র (বর্তমানে আবাহনী লিমিটেড) ও স্পন্দন শিল্প গোষ্ঠির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। সাবেক এ সংসদ সদস্য আরো বলেন, ‘তিনি ক্রীড়া, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সম-প্রতিভার অধিকারী ছিলেন এবং খেলাধুলার মাধ্যমে দেশের যুব সমাজকে সু-নাগরিক হতে আকৃষ্ট করেছিলেন। জীবন্ত ফুটবল কিংবদন্তী ও বাফুফে সভাপতি কাজি সালাউদ্দিন বলেন সব কিছু মিলিয়ে শেখ কামাল ছিলেন একজন সর্বোত্তম মানুষ। তিনি বলেন, ‘দু:খের বিষয় তার সোনালী ক্যারিয়ার পরিস্ফুটিত হওয়ার আগেই ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে হত্যা করা হয়। বেঁচে থাকলে শেখ কামাল আজ দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হতেন।’ শেখ কামালের ৬৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও কোচ হাসানুজ্জামান বাবলু ফেসবুকে শেখ কামালের সঙ্গে নিজের একটি ছবি পোস্ট করেছেন। যা কামালের হত্যার এক মাস আগে তোলা হয়েছিল। বাসস’র সঙ্গে আলাপকালে আজ বাবলু বলেন, ‘যথার্থ সম্মানের সঙ্গে আমি কামাল ভাইকে স্মরণ করতে চাই যিনি ছিলেন সত্যিকারের একজন ক্রীড়ানুরাগী, এই ছবিটি তার মৃত্যুর এক মাস আগে তোলা।’ বাবলু জানান, মালয়েশিয়ায় মারদেকা কাপ ফুটবলে অংশগ্রহণের জন্য অনুশীলনে থাকা জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্পে প্রতিদিন আসতেন তিনি (শেখ কামাল)। তিনি বলেন, ‘তার দৃষ্টি ভঙ্গি ফুটবলের ধারণাকেই পরিবর্তন করে আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তন শুরু করে। আমি ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের একজন বিশিষ্ঠ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও পরবর্তী মৌসুমে তিনি আমাকে আবাহনীতে যোগ দিতে বলেছিলেন এবং আমি প্রতিশ্রতি দিয়েছিলাম। কিন্তু এক দল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তাদের হাতে নিহত হওয়ায় তার বর্ণাঢ্য জীবনের ইতি ঘটে।’ যুক্তরাষ্ট্রের লস এ্যাঞ্জেলস ক্লাবের চেয়ারম্যান এম জামান টেলিফোনে বাসস’কে বলেন, ‘এই মহান ব্যাক্তিটিকে আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। যেহেতু জীবনের শুরু থেকেই আমি ব্রাদার্স ইউনিয়নের সঙ্গে জড়িত ছিলাম তাই ক্রীড়াঙ্গনে কামাল ভাইয়ের সান্নিধ্য পাওয়ার অনেক সুযোগ আমি পেয়েছি।’ জামান বলেন, মহান নেতা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলে হওয়া সত্ত্বেও শেখ কামালের অতি সাধারণ চলাফেরা দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন। ‘কামাল ভাইয়ের মধ্যে কোন প্রকার অহমিকা ছিল না এবং সব সময় খোলা মনে মিশতেন বলে স্মরণ করেন জামান। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামাল ১৯৪৯ সালের ৫ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার হাতে গড়া ক্লাব আবাহনী লিমিটেড এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন শেখ কামালের ৪৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসুচি গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে রয়েছেÑ দিবসটি উপলক্ষে সকালে আবাহনী ক্লাবে প্রতিষ্ঠিত তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও কোরআন খানি এবং বিকেলে কাঙ্গালি ভোজ ও ক্লাব প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা। বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবল প্রবর্তনের জন্য চিরদিন বেঁচে থাকবেন শেখ কামাল। এ ছাড়া তিনি আজাদ বয়েজের হয়ে প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেট এবং স্পার্সের হয়ে প্রথম শ্রেনীর বাস্কেটবলও খেলতেন। একজন ক্রীড়া সংগঠক ছাড়া কামাল বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কামাল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানির এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ ছাত্র লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও ছিলেন তিনি।
বুধবার, 02 আগস্ট 2017 23:37

শোকাবহ আগস্টের দ্বিতীয় দিন আজ

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক শোকাবহ আগস্টের দ্বিতীয় দিন আজ। ১৯৭৫ সালের এ মাসেই বাঙালি জাতি হারিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এই মাসেই ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড ছুঁড়ে হত্যার অপচেষ্টা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু কন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে গেলেও এই ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী, আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং ৫ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট কালরাতে ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এই ঘৃণ্যতম হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনি, তার সহধর্মিনী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন। সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপদগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নোবেল জয়ী পশ্চিম জার্মানীর নেতা উইলি ব্রানডিট বলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যেকোন জঘন্য কাজ করতে পারে। বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ শ্রী চৌধুরী বাঙালিদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে। টাইমস অব লন্ডন এর ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় বলা হয় ‘সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সবসময় স্মরণ করা হবে। কারণ তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই।’ একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকান্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।’ দেশের বিশিষ্টজনেরা মনে করেন, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচারের রায় কার্যকর করে জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। একইভাবে বাঙালির আত্মঘাতী চরিত্রের অপবাদেরও অবসান ঘটেছে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেশের মানুষ এখন অনুধাবন করতে পারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নস্যাৎ করে দেশে পাকিস্তানি ভাবধারা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই স্বাধীনতার বিরোধীতাকারী এবং দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। প্রতিবারের মত এবারও ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে প্রথম দিন থেকেই শুরু হচ্ছে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর মাসব্যাপী কর্মসূচি। শোকের মাসের প্রথম দিন মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথম প্রহরে আলোর মিছিলের মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী কর্মসূচির সূচনা ঘটবে। স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত এ মিছিলটি ধানমন্ডি ৩২নং সড়ক ধরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর অভিমুখে যাত্রা করবে। এদিন সকালে নগরীর ৩২ নম্বর ধানমন্ডিতে বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে । কর্মসূচির অংশ হিসাবে যুবলীগ আগামীকাল ১ আগস্ট শিল্পকলা একাডেমীতে সকাল ১০টায় মাসব্যাপী বঙ্গবন্ধুর জীবন ভিত্তিক সংবাদচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এ প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এদিকে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসসহ পুরো আগস্ট মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। এদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল সাড়ে ছয়টায় সরকারি কর্মসূচির সাথে সমন্বয় করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। এছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন এবং নগরীর প্রতিটি শাখা থেকে শোক মিছিলসহ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। সকাল সাড়ে সাতটায় রাজধানীর বনানী কবরস্থানে পনের আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। সকাল দশটায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। টুঙ্গীপাড়ার কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পক্ষ থেকে জাতীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়াও এদিন বাদজোহর দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল ও মন্দির ও গীর্জায় প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুরে অস্বচ্ছল, এতিম ও দুঃস্থদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করা হবে। বাদ আছর মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষ্যে ১৬ আগস্ট বিকেল চারটায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন এবং জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীগণ সভায় বক্তব্য রাখবেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাসব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিন আগামীকাল ১ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের বঙ্গবন্ধুর ম্যূরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে নার্সিং সেবার মানোন্নয়নসহ সকল সাধারণ ওয়ার্ডসমূহকে মডেল ওয়ার্ডে উন্নীতকরণের প্রত্যয়ে সেবিকাদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য বক্তব্য প্রদান। সকাল সাড়ে ১১টায় ‘চিকনগুনিয়া ২০১৭: ঢাকা এক্সপেরিয়েন্স’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন। বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসাবে আগামীকাল সকাল ৮টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে। আগস্ট মাসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলতুন্নেসা মুজিব, শেখ কামালের জন্মদিন পালন, ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা এবং ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা দিবস স্মরণ এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী পালন। বাসস।

ফেসবুক-এ আমরা