09212018শুক্র
শিরোনাম:
স্পটলাইট

স্পটলাইট (819)

নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, সৃষ্টিকর্তা এবং জনগণ তার পাশে থাকলে তিনি এই লক্ষ্য অর্জনে কোনো কিছুকেই পরোয়া করেন না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি এসব ষড়যন্ত্র দেখে আসছি। আমি এগুলোর পরোয়া করি না। আমি বিশ্বাস করি যতদিন মহান আল্লাহ এবং বাংলার জনগণ পাশে রয়েছেন, মা-বাবার দোয়া ও আশির্বাদ রয়েছে ততদিন এই লক্ষ্য অর্জনকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। বুধবার সকালে গণভবনে ৩৬তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। খবর বাসসের উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের এই দিনে পঁচাত্তরের ১৫ আাগস্টের বিয়োগান্তক অধ্যায়ের পর প্রবাস জীবনে থাকতে বাধ্য হওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। এর আগে তিনি ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা শেখ হাসিনার স্বামী দেশের বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার কর্মস্থল জার্মানী যান। ১৫ আগস্ট তারা দুজন বেঁচে গেলেও জাতির পিতার পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে সেদিন হত্যা করা হয়। আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দিবসটি উপলক্ষে এদিন প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩০ জুলাই আমি ও শেখ রেহানা দেশ ছেড়ে যাই। সেসময় বিদেশে যাওয়াতো ছিল স্বপ্নের মত ব্যাপার। কিন্তু সেবার বিদেশে যেতে যেন কিছুতেই মন টানছিল না। আমরা খুব কাঁদছিলাম। কিন্তু যেতে হলো। এই তেজগাঁও এয়ারপোর্ট হয়েই আমরা দিল্লী এবং সেখান থেকে জার্মানী। কামাল, জামাল, রাসেল সবাইকে রেখে গিয়েছিলাম। কামাল-জামালের বউ সুলতানা রোজী সবাই এসেছিল এয়ারপোর্টে। আর এই ১৭ মে যেদিন ফিরে আসি, সেদিন লাখো মানুষ। হাজার-হাজার মানুষ সেই মানুষদের ভীড়ে আমি ৩০ জুলাই যাদের রেখে গিয়েছিলাম। তাদের কাউকে পাইনি। আর বনানীতে গিয়ে পেলাম সাঁড়ি সাঁড়ি কবর। জানি না, আল্লাহ আমাকে কত শক্তি দিয়েছেন সহ্য করতে। এই দেশের জন্যইতো আমার আব্বা সারাটা জীবন এতো কষ্ট করেছেন। কারাগারে যেখানে তিনি (বঙ্গবন্ধু) ছিলেন সেটাতো আজ উন্মুক্ত। সবাই গিয়ে দেখে আসতে পারেন। তিনি (বঙ্গবন্ধু) দুঃখকে কোনদিন দুঃখ, কষ্টকে কোনদিন কষ্ট মনে করেননি। বাংলাদেশের মানুষের কথাই ভেবেছেন, আমার আব্বা এবং আম্মা দু’জনেই। প্রধানমন্ত্রী স্মৃতি রোমন্থনে বলেন, একটাই লক্ষ্য নিয়ে সেদিন ফিরে এসেছিলোম এদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাব। সেটাই যেন করতে পারি। আর কোনো চাওয়া-পাওয়ার নেই। আওয়ামী লীগ সভাপতি এ সময় আবেগাপ্লুত কন্ঠে বলেন, আমি দুঃখিত এত কথা যে আমাকে বলতে হবে সেটা চিন্তাও করি নাই। তবুও মনে হয় আমাদের আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরও জানার দরকার রয়েছে। আমি যখন দেশে ফিরি সে সময় আজকের অনেকের জন্মই হয়নি। আর তখন যারা ছিলেন তাদের অনেকেও বেঁচেও নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি একটাই কথাই বলব আমরা যারা রাজনীতি করি তারা যদি জাতির পিতার রাজনীতির দিকে তাকাই এবং তার আদর্শটা ধারণ করে রাজনীতি করি তাহলে আমরা দেশকেও কিছু দিতে পারব, দেশের মানুষকেও দিতে পারবো। মানুষ ধন-সম্পদের জন্য কতকিছু করে, কিন্তু মৃত্যু হলেতো আর কিছুই সাথে নিয়ে যেতে পারে না। সান-শওকত, বিলাসিতায় জীবন কাটালে মৃত্যুর পর অনেক কিছুই মিথ্যা হয়ে যায়। কাজেই মানুষের জন্য যদি কিছু করে যাওয়া যায়, সেটাই সব থেকে বড়ো পাওয়া। আমরা আব্বার কাছ থেকে মায়ের কাছ থেকে সেটাই শিখেছি। আর আজকে যতটুকু যাই চেষ্টা করে যাচ্ছি সেই শিক্ষা থেকেই করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, এদেশকে এমন একটা জায়গায় পৌঁছানো আমার লক্ষ্য যেন আমার বাবার আত্মাটা শান্তি পায়। তিনি আরো বলেন, ৭৫ এর ১৫ আগস্ট সব হারিয়েছি, সব হারিয়ে নিঃস্ব রিক্ত অবস্থায় বিদেশে ছিলাম। পঁচাত্তরের বিয়োগান্তক অধ্যায় সম্পর্কে তিনি বলেন, কখনো ভাবতেও পারিনি এরকম ঘটনা আমাদের জীবনে আসবে। মাত্র ১৫ দিন আগে আমি আর রেহানা দেশে ছেড়ে বিদেশে যাই। অল্প সময়ের জন্য গিয়েছিলাম। চলে আসবো কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য ফিরতে পারলাম না। ’৭৫ এর কালো দিন আমাদের জীবনে সব কিছু কেড়ে নিয়েছিলো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু আমরা হারিয়েছি তা তো না বাংলাদেশের জনগণ যে স্বপ্ন নিয়ে, যে আকাঙ্খা নিয়ে জাতির পিতার ডাকে অস্ত্র হাতে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। ক্ষুধা, দারিদ্র মুক্ত সমাজ গঠন, মর্যাদাসম্পন্ন স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো। বিদেশে ১৫ আগস্টের সংবাদ শোনার প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, এ ঘটনাটা যখন আমরা শুনলাম তখন একদিকে যেমন স্বজন হারাবার বেদনা, অপর দিকে একথা বারবার মনে হচ্ছিল যে এ দেশটার জন্য সারা জীবন আমার বাবা কষ্ট করেছেন। আমরা সন্তান হিসেবে একটানা দুই বছর বাবাকে কাছে পাই নি। যে বয়সে ছেলে মেয়ে স্কুলে যায় বাবার হাত ধরে, আমাদের সে সৌভাগ্য কখনো হয়নি। যখন থেকে জ্ঞান হয়েছে বাবার সঙ্গে দেখা হয়েছে কারাগারে। স্কুল-কলেজ জীবনে সব সময় ঐ কারাগারে যেয়েই সাক্ষাত করতে হতো। আমার বাবা একটা জাতির জন্য, একটা দেশের জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তিনি নিজের জীবনের দিকে একবারও ফিরে তাকাননি। সব কিছু বিলীন করে দিয়েছিলেন এদেশের মানুষের জন্য। মানুষের স্বার্থে। শেখ হাসিনা বলেন, তখন এদেশের ৮০/৯০ ভাগ মানুষই তো দারিদ্র্যের নিচে ছিলো। তারা একবেলা খাবার পেতো না, পরণে জীর্ণ কাপড়, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। যা আমার বাবাকে সব সময় পীড়া দিতো। মানুষের ভাগ্য গড়ার জন্যই তো তিনি সব কিছু ত্যাগ করেছিলেন। এমনকি আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মী তারাও কম অত্যাচারিত-নির্যাতিত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে তাকে (বঙ্গবন্ধুকে) সাবধান করেছিলেন, যে এরকম ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু তিনি কখনো বিশ্বাস করতেন না। বলতেন যে ওরা তো আমার ছেলের মতো আমাকে কে মারবে। যিনি বাংলাদেশের জনগণকে এতটা ভালোবাসা দিয়েছিলেন তাদের একটা বিক্ষিপ্ত অংশের গুলিতে জীবন দিতে হলো বঙ্গবন্ধুকে। আমার এখনো মনে হয়, তাকে গুলি করছে তারই দেশের লোক, তার হাতে গড়া ঐ সেনাবাহিনীর সদস্য। তার হাতে গড়া মানুষ। জানি না তার মনে তখন কি প্রশ্ন জেগেছিলো? কিছু জানারও উপায় নেই, কারণ ঐ বাড়িতে তো কেউ বেঁচে ছিলো না। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার পরিবারের নিহত সকল সদস্যেও বিবরণ তুলে ধরেন। ১৫ আগস্টের পর অপপ্রচার চালানো হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তরে পরাজিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর যারা দোসর ছিলো, তাদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিলো। যারা এদেশের স্বাধীনতাই চায়নি। মূলত তারাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসলে ঘরের শত্রু বিভীষণ। ঘরের ভেতর থেকে শত্রুতা না করলে বাইরের শত্রু সুযোগ পায় না। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের অনেকে আমাদের বাসায় আসা যাওয়া করতো। তিনি বলেন, ডালিম, ডালিমের শাশুড়ি, ডালিমের বউ, ডালিমের শালী, ২৪ ঘণ্টা আমাদের বাসাই পড়ে থাকতো। ওঠা বসা, খাওয়া, দাওয়া সবই করতো। বঙ্গবন্ধুর হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, মেজর নূর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জেনারেল ওসমানীর এডিসি হিসেবে কর্মরত ছিলো। তখন কামালও ওসমানীর এডিসি ছিলো। দুই জন এক সঙ্গে কর্মরত ছিলো। এরাতো অত্যন্ত চেনা মুখ। তিনি বলেন, কর্নেল ফারুক কেবিনেটের অর্থমন্ত্রী মল্লিক সাহেবের শালীর ছেলে। এভাবে যদি দেখি এরা কেউ দূরের না, এরাই যড়যন্ত্র করলো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জিয়া জড়িত ছিলো। জিয়ার যে পারিবারিক সমস্যা ছিলো সেটা সমাধানের জন্য সেনাবাহিনীতে এক পদ সৃষ্টি করে সেখানে তাকে দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছিলো। তার পারিবারিক সমস্যা সমাধান করে দেয়া হয়েছিলো। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান প্রায়ই, প্রতি সপ্তাহে এক বার তার স্ত্রীকে নিয়ে ঐ ৩২ নম্বর বাড়িতে যেতো। ‘আন্তরিকতা' নয়, এদের লক্ষ্য ছিল চক্রান্ত করা। সত্যিকথা বলতে কি সেটা কেউ বুঝতে পারিনি। আমরা খোলামেলা মানুষের সঙ্গে মিশতাম, সকলের জন্য ছিল অবারিত দ্বার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে ইতিহাসকে সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা, মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা, স্বাধীনতার যে মূল লক্ষ্য সেটা থেকে বিচ্যুত করা এবং বিজয়কে একেবারে অর্থহীন করে দেয়ার জন্য। মোস্তাক তিন মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা এভাবে বেঈমানী করে, তারা থাকতে পারে না।.. মীর জাফরও তিন মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোস্তাক রাষ্ট্রপতি হওয়ার সাথে জিয়াউর রহমানকে সেনা প্রধান করা হয়। এতে স্পষ্ট যে তাদের মধ্যে একটা যোগসূত্র ছিলো এবং ষড়যন্ত্র জড়িত ছিলো। জার্মানীর বনে বসে ১৫ আগস্টে পরিবারের সব সদস্য নিহত হবার সংবাদ প্রাপ্তির দুর্বিসহ সময়টার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন শুনলাম সহ্য করাটা কঠিন ছিলো। ১৬ তারিখে ড. কামাল হোসেন আসলেন বনে হুমায়ন রশিদ সাহেবের বাসায়। রেহানা ছোট, সে বললো চাচা আপনি মোস্তাকের মন্ত্রীত্ব নেবেন না। আপনি প্রেস কনফারেন্স করেন, আপনি এ হত্যার প্রতিবাদ করেন। হুমায়ন রশিদ সাহেব প্রেস কনফারেন্সের ব্যবস্থা নিলেন কিন্তু উনি কোন কথা বলতে রাজি হলেন না। প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশবাসীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, গ্রামে গঞ্জে যখন ঘুরেছি তখন দেখেছি সাধারণ মানুষের ভালবাসা। সে ভালবাসাই কিন্তু আমাদের আরো প্রেরণা দিয়েছে।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক আজ ১৭ মে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩৭তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৮১ সালের এদিন দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তিনি বাংলার মাটিতে ফিরে আসেন। এদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বোয়িং বিমানে শেখ হাসিনা ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লী থেকে কোলকাতা হয়ে তৎকালীন ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ আজ দিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ১৯৭৫ থেকে দীর্ঘ ৬ বছর নির্বাসন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা বাংলার মাটিতে ফিরে আসেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের এটা একটি মাইলফলক। সুগম হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার মূল্যবোধ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ। হামিদ বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি এবং গণতন্ত্র বিকাশে বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার অবদান অপরিসীম। তাঁর দূরদৃষ্টি, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। ক্রমাগত প্রবৃদ্ধি¦ অর্জনসহ মাথাপিছু আয় বাড়ছে, কমছে দারিদ্র্যের হার। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। দেশকে একটি সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত করতে তিনি ‘ভিশন ২০২১’ ও ‘ভিশন ২০৪১’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে শেখ হাসিনার এসব যুগান্তকারী কর্মসূচি বাংলার ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশি- বিদেশি চক্রান্তে এক দল বিপদগামী সেনা কর্মকর্তাদের নির্মম বুলেটে সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন। এসময় তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে থাকায় ঘাতকদের হাত থেকে তারা রেহাই পান। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রয়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর জন্য উপস্থিত প্রায় ১৫ লাখ মানুষের হৃদয় ছোঁয়া ভালবাসার জবাবে এ দিন তিনি বলেন, বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য আমি দেশে এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসাবে, মেয়ে হিসাবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসাবে আপনাদের পাশে থাকতে চাই।’ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে এদেশের গণতন্ত্র নস্যাৎ ও স্বাধীনতার মূল্যবোধকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়। ১৯৮১ সালের ১৭ মে রাজনীতিবিদ হিসাবে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আবারো দেশে স্বাধীনতার মূল্যবোধ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর যারা ছিল অবহেলিত ও নির্যাতিত, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনে ও তার নেতৃত্বের পরশে তারা আবারো জেগে ওঠার সাহস ও প্রেরণা পেয়ে যায়। এদিন শেখ হাসিনার নামে যথার্থই জেগে উঠে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার, 16 মে 2017 22:14

ভোট সুষ্ঠু হবে তো: এরশাদ

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের। ভোটাররা ভোট দিলেও তা ব্যালট বাক্সে থাকবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, 'ভোট পাহারা দেওয়ার শক্তি অর্জন করতে হবে।' মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা মহানগর উত্তর জাপার পরিচিতি সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদ। নিজ দলের সাংগঠনিক শক্তির দৈন্যদশার কথাও স্বীকার করে জাপা চেয়ারম্যান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, 'আমাদের প্রার্থী নাই, কর্মী নাই।' তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'ঢাকায় ১৫টি আসনে মাত্র দুজন যোগ্য প্রার্থী পেয়েছি।' আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রায় পৌনে দু'বছর বাকি থাকলেও এরশাদের অভিমত ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, 'সারাদেশে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই সারাদেশে নৌকার জন্য ভোট চাইছেন।' তারপরও আগামী নির্বাচনে মানুষ লাঙ্গলে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসবে বলে আশাবাদী এরশাদ। কিন্তু সেই ভোট রক্ষা করা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে এরশাদের। তিনি বলেন, 'আমরা ভোটকেন্দ্রের প্রটেকশন দিতে পারব কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে।' সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনের উদাহরণ দিয়ে এরশাদ বলেন, 'কিছুদিন আগে আমাদের একটা নির্বাচন ছিল। আমার কর্মী বাহিনী ছিল না বলে যেতে পারি নাই। ভোটকেন্দ্র রক্ষা করতে পারি নাই।' আগামী নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন। এ চিন্তার বিরোধিতা করে এরশাদ বলেন, 'এখন কথা হচ্ছে সামনের নির্বাচন হবে কীভাবে? সরকার বলছে, ইভিএম সিস্টেমে। কিন্তু কত সিস্টেম! কোনোটাই গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না।' সরকারের সমালোচনা করে এরশাদ বলেন, 'সাত দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা শুনছি। কিন্তু খবরের কাগজে পড়ি, আমাদের এখান থেকে মানুষ লিবিয়ায় যায়। সেখান থেকে জাহাজে যায় ভূমধ্যসাগরে, সেখানে সমুদ্রে ডুবে মরে। প্রবৃদ্ধি যদি সাত দশমিক ৪ শতাংশই হয় তাহলে এই লোকগুলো দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে কেন? দেশে কর্মসংস্থান নাই, বিনিয়োগ নাই, শিল্প কারখানা নাই। তাহলে এই প্রবৃদ্ধি আসল কোথা থেকে? সেজন্য বলছি, সরকার কথায় এক, আর কাজে অন্য।' ঢাকা মহানগর উত্তর জাপার সভাপতি এস এম ফয়সাল চিশতির সভাপতিত্বে পরিচিত সভায় বক্তৃতা করেন দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম, মেজর (অব.) মো. খালেদ আখতার, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন প্রমুখ।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক পাকিস্তানে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ থেকে শুরু করে দক্ষিণ সুদানে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে সেনা মোতায়েন, নতুন বিশ্বশক্তি হিসেবে উত্থান হচ্ছে চীনের। মার্কিন সংবাদ সংস্থা- সিএনএন’র এক বিশেষ প্রতিবেদনে এমনটাই তুলে ধরা হয়েছে। সিএনএনের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার ‘এক বেল্ট, এক রোড’ নীতিতে আগামী ১৪ ও ১৫ মে অনুষ্ঠিতে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বব্যাপী বৃহৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন। এশিয়ার ২৮ টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও ৬০ টিরও অধিক রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সামনে তিনি চীনের পুরোনো বাণিজ্য ঐতিহ্যের ধারক ‘সিল্ক রোড’কে পুনস্থাপিত ও কার্যক্ষম করে বিশ্বকে নতুন অর্থনৈতিক শক্তির বার্তা দিতে চাচ্ছেন। আর এটিকে চীনের বিশ্বশক্তি হিসেবে বিবর্তনের পূর্ণাঙ্গ ধাপ বলে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা। আর এশিয়ার পরাশক্তি হিসেবে দেশটির উত্থান ও বিশ্বব্যাপী চীনের প্রভাব বিস্তার করার ক্ষেত্রে পাঁচটি ক্যাটাগরির আওতায় তার কিছুটা তুলে ধরার চেষ্টা করেছে সিএনএন। প্রতিবেদনে দেশটির অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও সংস্কৃতি, শিক্ষা, ভ্রমণ এবং সামরিক ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের মিত্র পাকিস্তানে সঙ্গে ‘এক বেল্ট, এক রোড’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সড়ক নেটওয়ার্ক, ফাইবার অপটিক ক্যাবল প্রকল্প, রেল লাইন, একটি গভীর সমুদ্র বন্দর, কয়লা খনি এবং সৌর খামার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। এর আগে, ২০১৪ সালে ইসলামাবাদ সফরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পাকিস্তানে ৪৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এছাড়া হিমালয় থেকে শুরু হওয়া সিল্ক রোডের কল্যানে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিকাশ প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে পৃথিবীর যেকোনো দেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে চীন। ২০০৮ সালের পর থেকে প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার শিক্ষার্থী শুধু আমেরিকাতেই গেছেন উচ্চশিক্ষা নিতে। তাছাড়া প্রতিবছর অসংখ্য চীনা শিক্ষার্থী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষালাভ করে আবার দেশে ফিরে এসে কাজে যোগ দিচ্ছেন। উন্নয়ন ও স্থাপনা তৈরিতেও যথেষ্ট এগিয়ে আছে চাইনিজরা। দরিদ্রপীড়িত আফ্রিকাকে অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিক মানে পোঁছে দিতে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে চীন। এর মধ্যে, কেনিয়ার স্বাধীনতা পরবর্তী দেশটির সবচেয়ে বড় প্রকল্পে অনুদান দিয়েছে চীন। ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের চীনা অনুদানে ৪৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ চালু হচ্ছে কেনিয়াতে। এছাড়া ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে চীন। প্রতিবছর সারা বিশ্বের প্রায় ১৩৫ মিলিয়ন নাগরিক চীনে ঘুরতে আসে বলে জানা গেছে। আর এতে দেশটির প্রায় ২৬১ বিলিয়ন ডলারের আয় হয়। সবশেষে রয়েছে চীনের বিশাল সামরিক ক্ষমতার পূর্বাভাস। মার্কিন ও রাশিয়ান সামরিক বাহিনীকে টেক্কা দিয়ে অভ্যন্তরীণ ও প্রযুক্তিগত সকল ক্ষেত্রেই চীনা সামরিক বাহিনীর নতুন সফলতার খবর আসছে প্রতিনিয়ত। কিছুদিন আগেই দেশে তৈরি নতুন একটি পারমাণবিক শক্তিশালী নৌ-তরী উদ্বোধন করেছে দেশটি। এছাড়া সেনার সংখ্যা দিয়েও পৃথিবীর প্রথম আসনে রয়েছে চীন। সিএনএন।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে। ফারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ শব্দের অর্থ সৌভাগ্য। আরবিতে বলে ‘লাইলাতুল বরাত’ অর্থাৎ সৌভাগ্যের রজনী। হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ পালন করে সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে। এই মর্যাদাপূর্ণ রাতে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাদের জন্য তাঁর অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। মহিমান্বিত এই রাতে সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পরম করুণাময়ের অনুগ্রহ লাভের আশায় বেশি বেশি নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকিরে মগ্ন থাকবে। দিনে রোজা রাখবে অনেকে। দান-খয়রাত করবে। বিগত জীবনের পাপ মার্জনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করবে। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করে, এই রাতেই পরবর্তী বছরের জন্য ভাগ্য নির্ধারিত হয়। ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি হরেক রকমের হালুয়া, ফিরনি, রুটিসহ উপাদেয় খাবার তৈরি করা হবে। এসব খাবার বিতরণ করা হবে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিব-দুঃখীর মধ্যে। সন্ধ্যার পর অনেকে যাবে কবরস্থানে। চিরনিদ্রায় শায়িত আপনজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করবেন। আরবি দিনপঞ্জিকা অনুসারে শাবান মাসের পরে আসে পবিত্র রমজান মাস। শবেবরাত মুসলিমদের কাছে রমজানের আগমনী বার্তা বয়ে আনে। তাই শবেবরাতের রাত থেকে আসন্ন রমজানের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে যায়। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য, দেশ-জাতির কল্যাণ ও বিশ্বশান্তি কামনা করেন। সরকারি নিয়মানুযায়ী, শবেবরাতের পরদিন ছুটি থাকে অর্থাৎ কাল শুক্রবার সাধারণ ছুটি। তবে আজ বৃহস্পতিবার সংবাদপত্রের ছুটি। এ কারণে শুক্রবার সংবাদপত্র প্রকাশিত হবে না। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র শবেবরাত পালনের জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কর্মসূচি নিয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আজ রাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ওয়াজ মাহফিল, কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, হামদ্, নাত, নফল ও তাহাজ্জুদের নামাজ এবং আখেরি মোনাজাত। বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদ আজ সারা রাত খোলা থাকবে। পবিত্র শবেবরাত সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকায় আতশবাজি, পটকা ফাটানো ও যেকোনো ধরনের বিস্ফোরকদ্রব্য বহন নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক বিএনপির 'ভিশন ২০৩০'-এর রূপরেখা উপস্থাপনকালে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, জনগণই হবে সকল উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু। ক্ষমতায় গেলে ২০৩০ সাল নাগাদ বিএনপি বাংলাদেশকে কীভাবে গড়ে তুলবে সেই রূপরেখাই রাজধানীর একটি হোটেলে বৃহস্পতিবার উপস্থাপন করেছেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার অর্থাৎ একটি যথার্থ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের ভিশন-২০৩০ বাস্তবায়ন করা হবে। রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে নেই— এমন মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, 'তাই জনগণের হাতে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে চায় বিএনপি। বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণই হবে সকল উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু। বাংলাদেশকে সুখী সমৃদ্ধ আধুনিক দেশ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ভিশন-২০৩০ প্রণয়ন করা হয়েছে।' তিনি বলেন, বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর নির্বাহী ক্ষমতা এককভাবে প্রধানমন্ত্রীর ওপর ন্যস্ত। প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা একনায়কতান্ত্রিক স্বৈরশাসনের জন্ম দিয়েছে। এক্ষেত্রে ভারসাম্য আনতে উদ্যোগ নেবে বিএনপি। এছাড়া সংবিধান সংশোধন করে চালু করা 'অগণতান্ত্রিক বিধানসমূহ' পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, বিএনপি এমন এক গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণের কথা চিন্তা করে যেখানে মানুষের বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। জাতীয় স্বার্থ সম্পর্কিত বিষয়ে বিরোধীদল সমূহের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। রূপরেখা উপস্থাপনকালে খালেদা জিয়া আরও বলেন, বিএনপি দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করবে না। সমাজের সকল স্তরে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া দেশে 'বিচারহীনতার' যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তা দূর করতে বিচার নিশ্চিত করা হবে। এ লক্ষ্যে ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে মামলাজট নিরসন করা হবে। এসব ছাড়াও দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মতো ঘটনার অবসান ঘটানো হবে বলেও এ সময় উল্লেখ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক ইংল্যান্ডে ১২ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজগৌরি পাওয়ার বুদ্ধিমত্তায় পেছনে ফেলেছে অ্যালবার্ট আইনস্টাইন ও স্টিফেন হকিংকেও! ম্যানচেস্টারে গত মাসে ব্রিটিশ মেনসা সোসাইটির নেয়া আইকিউ বা বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষায় ১৬২ স্কোর করেছে রাজগৌরি যা হকিং ও আইনস্টাইন থেকেও ২ বেশি। দুর্দান্ত এই স্কোরের পর তাকে মেনসায় যোগ দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। চেশায়ারের বাসিন্দা রাজগৌরি ওই এক শতাংশর মধ্যে যারা মেনসা টেস্টে জিনিয়াস বেঞ্চমার্কে অংশগ্রহণ করে যা হচ্ছে ১৪০। অথচ রাজগৌরি পেয়েছেন ১৬২! মেনসা জানিয়েছে, রাজগৌরি সারা বিশ্বে এই স্কোর করা ২০ হাজার জনের এক জন। রাজগৌরি তার কীর্তি সম্পর্কে বলেন, আমি টেস্টের আগে কিছুটা নার্ভাস ছিলাম কিন্তু এত ভালো করতে আমার ভালো লেগেছে। অভিজাত মেনসা আইকিউ সোসাইটি তার এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর তাকে সদস্য হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। রাজগৌরির বাবা ড. সুরুজকুমার পাওয়ার বলেন, আমার মেয়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা যেভাবে তাকে সহায়তা করে সেটা না পেলে এটা কখনো সম্ভব হত না। আলথ্রিনচাম গ্রামার স্কুল ফর গার্লসের শিক্ষার্থী রাজগৌরি। তার অংকের শিক্ষক অ্যান্ড্রু ব্যারি বলেন, সবাই অনেক খুশি। সে সবার খুব প্রিয় শিক্ষার্থী এবং তার কাছ থেকে সবাই বড় কিছু প্রত্যাশা করে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক খালি পায়ে কক্সবাজারের ইনানী সৈকত ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সৈকতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ উদ্বোধনের পর সৈকতে নেমে যান প্রধানমন্ত্রী। খালি পায়ে কিছুক্ষণ সেখানে হাঁটেন তিনি। এ সময় তাকে বেশ উচ্ছ্বসিত দেখাচ্ছিল। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাপ্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমনিসহ সামরিক- বেসামরিক কর্মকর্তারা এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। এর আগে সকাল ১০টার দিকে সুপরিসর বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজে চড়ে কক্সবাজার পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে নামার পর প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্প্রসারিত রানওয়েতে ১৬২ আসনের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ চলাচলের উদ্বোধন করেন। বিমানবন্দরের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ইনানীতে যান। সেখানে কক্সবাজার-টেকনাফ ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ উদ্বোধন করেন তিনি। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। তিনি সেখান থেকে আরও ৯টি মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। এ ছাড়া কিছু প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক মিশেলের সাথে প্রেম ও বিয়ের আগে শিলা মিয়োশী জ্যাগার নামে এক নারীর প্রেমে পড়েছিলেন বারাক ওবামা । ওবামার প্রস্তাব গ্রহণ করলে মিস মিয়োশীই হতেন ফার্স্ট লেডি। আশির দশকের মাঝামাঝি যখন শিকাগোতে মি. ওবামা বিভিন্ন সামাজিক কাজকর্মে জড়িত ছিলেন, প্রেমের শুরু হয় সেসময়। ডাচ-জাপানি বংশোদ্ভূত শিলা মিয়োশীর প্রতি ওবামা এতটাই অনুরক্ত হয়ে পড়েন যে সম্পর্ক শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন মিস মিয়োশী। বারাক ওবামার নতুন এক জীবনী গ্রন্থে না-জানা এই প্রেমের সম্পর্ক প্রকাশিত হয়েছে। 'মেকিং অব বারাক ওবামা' শিরোনামে বইটি লিখেছেন ডেভিড গ্যারো। এই জীবনী গ্রন্থের বিভিন্ন অংশ আজ লন্ডনের দৈনিক মেট্রো সহ ব্রিটেন ও আমেরিকার নানা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। কেন ওবামাকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ? মিজ মিয়োশী বলেন, তার বয়স তখন ২৩ এবং তার বাবা-মা চাননি এত অল্প বয়সে তাদের মেয়ের বিয়ে হোক। বিয়ের প্রস্তাবে বিফল হলেও সম্পর্ক টিঁকে ছিল আরো কিছু দিন। আরও পড়ুন: সংখ্যালঘু নির্যাতন সহ নানা ইস্যুতে জাতিসংঘে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে ভারত নেপালে ঋতুস্রাবের সময় মেয়েদের ঘর ছাড়তে হয় কেন? শিলা মিয়োশীল সাথে কথিত প্রেমের সম্পর্ক শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই মিশেলের প্রেমে পড়েন ওবামা তারপর ওবামা যখন হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়ার সুযোগ পেলেন, তখন শিলা মিয়োশীকে দ্বিতীয়বার বিয়ের প্রস্তাব দেন তিনি। কিন্তু আবারও প্রত্যাখ্যাত হন। কেন দ্বিতীয়বারও ওবামাকে না করলেন তিনি? শিলা মিয়োশী বলেন, তাদের সম্পর্ক সেসময় অনেকটাই আলগা হয়ে পড়েছিলো। ফলে তিনি আর উৎসাহ পাননি। শিলা মিয়োশীর বয়স এখন ৫৩। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি বলেন, বারাক ওবামা তখন থেকেই রাজনীতি নিয়ে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী ছিলেন এবং তখনই তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার বাসনা তৈরি হয়েছিলো। শিলা মিয়োশীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক চুকে যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে ওবামার সাথে দেখা হয় স্ত্রী মিশেলের। তিনি তখন মিশেল রবিনসন। জীবনী গ্রন্থে দাবি করা হয়েছে, মিশেলের সাথে সম্পর্ক শুরুর পরও কয়েক বছর শিলা মিয়োশীর সাথে যোগাযোগ রেখেছিলেন বারাক ওবামা। বিয়ের আগের এই প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বারাক ওবামা এখনও মুখ খোলেননি।
শাল্লা (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'আগামী ফসল ঘরে না উঠা পর্যন্ত একটি মানুষও না খেয়ে থাকবেনা। এ ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত সজাগ।' তিনি বলেন, 'আমাদের হাতে প্রচুর খাদ্য মওজুদ রয়েছে। আমরা দুর্গত মানুষের পাশে আছি। যতদিন প্রয়োজন, ততদিন ভিজিএফ সহ সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তবে ভিক্ষা করে খাদ্য আনবো না। প্রয়োজনে খাদ্য আমদানি করবো।' রবিবার জেলার শাল্লা উপজেলার সাহেদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'ভিজিএফ কর্মসূচী ইউনিয়ন পর্যন্ত পৌছার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আগামী ফসলের জন্য কৃষকদের সার, বীজ, কৃষি উপকরণ বিনা মূল্যে বিতরণ করবো। ইতিমধ্যে কৃষি ঋণের সুদ অর্ধেক মওকুফ করা হয়েছে।' তিনি এনজিওদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'তারা যেন দুর্গতদের ঋণের টাকার জন্য চাপ না দেয়।' 'প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হবে' উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'প্রকৃতিকে ব্যবহার করতে হবে। দুর্যোগের সঙ্গে যুদ্ধ করে বাচতে হবে। হাওর রক্ষা বাধ নির্মাণে গাফিলতি প্রমাণ হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।' প্রধানমন্ত্রী রবিবার সকালে হেলিকপ্টার যোগে শাল্লা সহ পার্শ্ববর্তী ক্ষতিগ্রস্ত হাওর পরিদর্শন করেন। এসময় তার সফর সঙ্গী হিসাবে ছিলেন, 'কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মাহবুল আলম হানিফ।' সকাল ১০টা ৫মিনিটে বিশাল ছায়ার হাওরের পাশে স্কুলমাঠে হেলিকপ্টার অবতরণ করলে তাকে পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, ড. জয়া সেন এমপি, সংরক্ষিত আসনের এমপি শাহানা রব্বানী, পীর ফজলুর রহমান এমপি, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড.নাজমুনারা খানুম, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম স্বাগত জানান।

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা