02182019সোম
স্পটলাইট

স্পটলাইট (834)

রবিবার, 08 সেপ্টেম্বর 2013 08:50

এইডস আতঙ্কে ধর্ষক

লিখেছেন



নিউজ ডেস্ক:
এক নারীকে ধর্ষণের পর সে এইচআইভি ভাইরাস আক্রান্ত জেনে এইডস আতঙ্কে ভূগছে এক ব্রিটিশ। নাম রিচার্ড টমাস।
নিজ ‘কুকীর্তির’ কথা স্বীকারের পর আদালতের রায়ে ৬৪ মাসের সাজা হয়েছে টমাসের (২৭)। পুলিশের কাছে সেই মেয়েটির এইচআইভি সংক্রমণের কথা শুনে চরম দুশ্চিন্তা হচ্ছে তার।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে টমাস এখন এইডস আক্রান্ত কিনা তাই-ই দেখার অপেক্ষায় বলে জানিয়েছে বিবিসি।

টমাস মেয়েটিকে আগে থেকেই চিনতেন। মেয়েটি অসুস্থ তাও জানা ছিল। কিন্তু এইচআইভি আক্রান্ত কি না তা জানা ছিল না।

লিভারপুল ক্রাউন কোর্টের শুনানিতে কৌসুঁলি হ্যারি পিপার ঘটনা সম্পর্কে বলেছেন, গ্রেট ম্যানচেস্টারে নিজের বাসাতেই মেয়েটি ঘুমাচ্ছিল।

ওইদিন রাতে কোনো এক কারণে ঘুমের ওষুধও খেয়েছিল সে। ফলে রাতের ঘটনা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কিছু বুঝতে পারেনি। সকালে ঘুম ভাঙার পর মেয়েটি রাতের ঘটনা টের পায়।

পিপার বলেন, মেয়েটি ছিল ঘুমে আচ্ছন্ন। ঘটনার সময় তাদের মধ্যে কোনো কথাবার্তা হয়নি। ছেলেটি ঘরে তার শর্টস ফেলে গিয়েছিল।

টমাসকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার আইনজীবী বলছেন, সে (টমাস) অনেক বেশি মদ পান করেছিল। কোকেইন, একস্টেসির মতো নেশাদ্রব্যও সেই রাতে সেবন করে সে। সেকারণে ঘটনার কিছুই তার মনে নেই।

ঘটনা সম্পর্কে নিজের কিছু মনে না পড়লেও অভিযোগকারী মেয়েটি মিথ্যা বলেনি বলে জানিয়েছেন টমাস।

তার আইনজীবীর উক্তি, “দোষ টমাসেরই। সে অপরাধ না করলে এ পরিণতি হতো না”।


 
কোনও মহিলা চেষ্টা করলে হয়তো হিমালয়ও পেরোতে পারবে। কিন্তু এই দেশে কোনও মহিলার পক্ষে বাড়ির চৌকাঠ পেরোনোও অসম্ভব।
নিজেই লিখেছিলেন তিনি। আবার নিজেই সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছিলেন।
কাবুলিওয়ালার বাঙালি বৌটি শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে তালিবানি বন্দুকের সামনে থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন নিজের দেশে। একার চেষ্টায়। নিজের হাতে সেই কাহিনি লিখে রাতারাতি হয়ে উঠেছিলেন জনপ্রিয় লেখিকা। আট বছর পরে সন্দেহভাজন তালিবানের গুলিতেই শেষ হয়ে গেল ৪৯ বছরের জীবন।
সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাণ হারালেন আফগানিস্তানের মাটিতেই।
কাবুল থেকে প্রায় ১৮ ঘণ্টার রাস্তা পেরিয়ে গজনী এলাকার শারানা শহরে ছিল সুস্মিতার শ্বশুরবাড়ি। আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বে পাকটিকা প্রদেশের সদর শহর এটি। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসি আফগান পুলিশ সূত্র উদ্ধৃত করে প্রথম জানায়, সম্ভাব্য তালিবান জঙ্গিরা বুধবার রাতে সুস্মিতাদের বাড়িতে হানা দিয়েছিল। সুস্মিতার স্বামী জানবাজ খান এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের হাত-পা বেঁধে রেখে সুস্মিতাকে বাইরে বের করে নিয়ে যায় তারা। তার পর তাঁকে গুলি করে মেরে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সামনে ফেলে রেখে চলে যায়।
আফগান পুলিশের তরফে সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে জানানো হয়েছে, আফগানিস্তানে ‘সাহাবকামাল’ নামে পরিচিত সুস্মিতাকে ২০ বার গুলি করা হয়েছিল। উপড়ে নেওয়া হয়েছিল মাথার বেশ কিছু চুল। এতটা হিংস্র আক্রোশের কারণ? পাকটিকা প্রদেশের পুলিশ প্রধান দওলত খান জাদরানের কথায়, “প্রাথমিক তদন্তে আমাদের অনুমান, অতীতে সুস্মিতা যে সব কথা লিখেছিলেন/বলেছিলেন, তার থেকে সিনেমাও হয়েছিল...সেই পুরনো রাগের শোধ তুলতেই হত্যা।”
প্রথম বার আফগানিস্তানে যাওয়ার পর শ্বশুরবাড়ির গ্রামে তোলা ছবি।
কলকাতায় সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই ছবিটি দেখিয়েছিলেন ২০০৩ সালের ৬ মার্চ।
নিজের কলমই কি তবে সুস্মিতার মৃত্যুর কারণ হল? তালিবানের বিরুদ্ধে মুখ খোলার খেসারত দিলেন নিজের প্রাণ দিয়ে? সুস্মিতার অনুরাগী পাঠকদের মনে এই কথাটাই এখন ঘোরাফেরা করছে সবচেয়ে বেশি। ফিরে আসছে বছর ১৫ আগের স্মৃতি।
১৯৯৮ সাল। প্রকাশ পেল ‘কাবুলিওয়ালার বাঙালি বউ’। তুমুল হইচই, বেস্টসেলার। নিমেষের মধ্যে বিখ্যাত হয়ে উঠলেন সুস্মিতা। তার আগে বাঙালি পাঠক রবি ঠাকুরের ‘কাবুলিওয়ালা’কে চিনত। বাঙালি দর্শক জানতেন আলখাল্লা-পরা ছবি বিশ্বাসকে। কিন্তু সুঠাম-সুপুরুষ কাবুলির সঙ্গে কলকাতার মেয়ের প্রেমকাহিনি? সেই প্রথম সামনে এল। তার সঙ্গে তালিবানি আফগানিস্তান থেকে বন্দুকের সঙিনের সামনে দিয়ে একা মেয়ের দেশে ফেরার রোমহর্ষক উপাখ্যান। সুস্মিতার জেদ, সুস্মিতার সাহস, সুস্মিতার অকুণ্ঠ লেখনী বাঙালিনির ললিতলবঙ্গলতা আদলকে একেবারে ঝাঁকিয়ে দিয়ে গিয়েছিল।
সুস্মিতার কথা ভাবলে অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়ের সর্বপ্রথম যে শব্দটা মাথায় আসে, সেটা ‘দুঃসাহসী’। সুস্মিতার জীবন নিয়ে একটা ছবিতে অভিনয় করার কথা ছিল ওঁর। মহরত হওয়া সত্ত্বেও ছবিটা শেষ অবধি হয়নি যদিও। তবে হিন্দিতে ‘এসকেপ ফ্রম তালিবান’ নামে একটি ছবি হয়, তাতে অভিনয় করেন মনীষা কৈরালা। কবি সুবোধ সরকার মনে করতে পারেন, “সুস্মিতাকে এক বার বলেছিলাম, আপনাকে তো তালিবানরা খুন করবে। হালকা ভাবে কথাটা নিয়ে মুচকি হেসে বলেছিলেন, পারবে?”
এখন নিষ্ঠুর পরিহাসের মতো হয়ে উঠছে সেই স্মৃতি। মৌলবাদী ফতোয়া মাথায় নিয়ে দেশছাড়া আর এক লেখিকা তসলিমা নাসরিন খবরটা শুনে বলেন, “সুস্মিতা আমার বাড়িতে বেশ কয়েক বার এসেছিলেন। অনেক কথা হত। আমার ধারণা, ওঁকে মারার পিছনে গভীর কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে। ওঁর শ্বশুরবাড়িকেও সন্দেহের বাইরে রাখা চলে না।” কিন্তু সব কিছুর আগে সাহিত্যজগতের মনে একটাই প্রশ্ন, কেন আফগানিস্তানে ফিরেছিলেন সুস্মিতা? অত কাণ্ড করে, অত ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফেরার পরে আবার কেন গেলেন? নইলে তো এ ভাবে মরতে হত না! সমরেশ মজুমদার বলছেন, “এ তো আত্মহত্যার সামিল!”
আত্মহত্যা নয়। প্রকাশক স্বপন বিশ্বাস জানাচ্ছেন, নতুন লেখার রসদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই সুস্মিতার শ্বশুরবাড়ি যাওয়া। অর্থাৎ, সেই লেখনীর টান! সঙ্গে জুটে গিয়েছিল একটা চাকরিও। স্বাস্থ্য-কর্মীর চাকরি। ফেব্রুয়ারি মাসে আফগানিস্তান যাওয়ার আগে দিল্লি বিমানবন্দরে বসেই সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন কলকাতার এক সাংবাদিককে। তখনই জানান চাকরির কথা। পাশ করা ডাক্তার ছিলেন না সুস্মিতা। কিন্তু আফগানিস্তানে থাকতে ডাক্তারি বই পড়ে পড়ে আশাপাশের মেয়েদের ওষুধ দিতেন। ভিড়ও হত। চিকিৎসা পরিষেবার বেহাল দশার মধ্যে সুস্মিতার ওষুধই ছিল ওখানকার মেয়েদের বড় ভরসা। সেই অভিজ্ঞতাই আগেও এক বার চাকরির প্রস্তাব ডেকে এনেছিল। সুস্মিতা নেননি। কিন্তু এ বার নিয়েছিলেন। তালিবান-উত্তর জমানায় আফগানিস্তানকে এক বার ভিতর থেকে দেখার সুযোগ ছাড়তে চাননি। শ্বশুরবাড়ির দেশকে জানবার যে অপার কৌতূহল নিয়ে ১৯৮৮ সালে তিনি প্রথম বার স্বামীর সঙ্গে আফগানিস্তান যান, সেই কৌতূহল তাঁকে টান দিয়েছিল এ বারেও।
কৌতূহল, সাহস আর জেদ সুস্মিতার বরাবরের সঙ্গী। সে কাবুলিওয়ালার প্রেমে পড়াই হোক, বাপের বাড়িতে মারধর খেয়েও জানবাজকে বিয়ের সিদ্ধান্তে অনড় থাকাই হোক আর জানবাজ কিচ্ছু না বলে কলকাতায় চলে আসার পরে কট্টর রক্ষণশীল শ্বশুরবাড়িতে নিজের মতো বাঁচার চেষ্টা চালানোই হোক।
আফগানিস্তানে সে সময় এক দিকে সোভিয়েত বাহিনীর দাপাদাপি, অন্য দিকে মুজাহিদদের লড়াই। প্রত্যেক বাড়িতে মজুত একে-৪৭। তার পরের বছরগুলোতে চোখের সামনেই তালিবান শক্তির উত্থান। ১৯৯৫ সালে পালানোর জন্য পাকাপাকি ভাবে মনস্থির করলেন। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে লুকিয়ে-চুরিয়ে পাকিস্তান অবধি এসেও পৌঁছলেন। আসার পথে মুক্তির আনন্দে ফাঁকা রাস্তায় গান ধরেছিলেন, ‘ও আমার দেশের মাটি..।’ কিন্তু পাসপোর্ট-ভিসা না পেয়ে দেশের মাটিতে পা রাখা হয়নি। শ্বশুরবাড়ি ফিরতে হল। ঘর-পালানো বৌয়ের তখন বন্দিজীবন। দেওয়ালে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে আবার পালানো, তালিবান বাহিনীর মুখে পড়া, সেখান থেকে কোনও মতে পালিয়ে দিল্লি পৌঁছনো সুস্মিতার কাহিনি সিনেমাকে বাস্তবিকই হার মানিয়েছিল।
কলকাতায় এসে জানবাজের সঙ্গেই সংসার করছিলেন সুস্মিতা। পাশাপাশি চলছিল লেখালেখি। গত বছর মধ্য কলকাতায় অপেরা সিনেমা হলের কাছে জানবাজের এক ভাইয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। এ দিন সেই ভাইয়ের পড়শি, কাবুলিওয়ালা দিনার খান বলেন, “ভাইয়ের মৃতদেহ নিউ মার্কেট থানা থেকে কবরস্থানের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় জানবাজের সঙ্গে সুস্মিতাও এসেছিলেন। গাড়িতে বসেছিলেন। ওই এক ঝলক দেখা। আর যোগাযোগ ছিল না ওঁদের সঙ্গে।” কলকাতার কাবুলি মহল্লার সঙ্গে জানবাজ-সুস্মিতার যোগাযোগ কিছুটা ক্ষীণ হয়েই এসেছিল।
ফেব্রুয়ারিতে জানবাজের সঙ্গেই আফগানিস্তান যান সুস্মিতা। আশা ছিল, শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সম্পর্কটা স্বাভাবিক হবে। স্বাস্থ্য-কর্মীর চাকরিটা করছিলেন। সঙ্গে ওখানকার মেয়েদের জীবনযাত্রার ছবিও তুলছিলেন। বলে গিয়েছিলেন, ছ’মাসের জন্য যাচ্ছেন। তালিবান-উত্তর আফগানিস্তান নিয়ে একটা উপন্যাস লিখবেন।
২০টা গুলি সেই স্বপ্নকে খুন করে দিয়ে গেল। তালিবানের বন্দুক মালালা ইউসুফজাইকে থামাতে পারেনি। কিন্তু বাঙালি বৌটি এ বার আর পালাতে পারলেন না।
 
 
 
 
 
 
 

 

First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia |
শুক্রবার, 06 সেপ্টেম্বর 2013 10:06

সব দলের সমান সুযোগ: আলোচনা চায় সরকার-এইচ টি ইমাম

লিখেছেন


ht imam
কাদির কল্লোল, বিবিসি
বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় সংসদ বহাল রেখেই সব দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা যায় কিনা, সে ব্যাপারে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করতে চায়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বিবিসিকে একথা জানিয়েছেন।

তবে প্রধান বিরোধীদল বিএনপি বলেছে, বর্তমান সংসদ এবং মন্ত্রীসভা বহাল রেখেই আগামী নির্বাচনের কথা বলে সরকার সমঝোতার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।

ক্ষমতাসীণ জোটের শরিক বাম দলগুলোও নির্বাচনের সময় সংসদ বহাল রাখার বিপক্ষে তাদের অবস্থানের কথা তুলে ধরছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছেন, বর্তমান সংবিধানেই সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার বিকল্প উপায় রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটেই নির্বাচনের সময় সংসদ বহাল রাখা না রাখার প্রশ্ন আবারও আলোচনায় এসেছে।

 প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, এর অর্থ হচ্ছে, সংসদ অধিবেশন বসবে না। মুলতবি থাকবে অর্থাৎ সংসদ নিস্ক্রিয় থাকবে। সংসদ সদস্যরা কোন ভাতা বা কোন সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। অন্য প্রতিদ্বন্ধির মতই তাদেরকে প্রতিদ্বন্ধিতা করতে হবে। যাতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হয়। "

এইচ টি ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

গত কয়েকদিনে প্রধানমন্ত্রী শেথ হাসিনা সংসদ বহাল রেকেই আগামী নির্বাচন করার আভাস দেবার পর তার একজন উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করার অবস্থানেই আওয়ামী লীগ অটল থাকবে। সে অনুযায়ী সংসদ বহাল রেখেই সব দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির উপায় খোঁজা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

এইচ টি ইমাম বলছিলেন, "সংসদ বহাল রাখার কথা, প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, এর অর্থ হচ্ছে, সংসদ অধিবেশন বসবে না। মুলতবি থাকবে অর্থাৎ সংসদ নিস্ক্রিয় থাকবে। সংসদ সদস্যরা কোন ভাতা বা কোন সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। তাঁরা যখন নির্বাচন করবেন, অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীর মতই তাদেরকে প্রতিদ্বন্ধিতা করতে হবে। যাতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হয় সকলের জন্য।"

মওদুদ আহমেদ

প্রধান বিরোধীদল বিএনপি বলেছে নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না । বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেছেন, সংসদ বহাল রেখে নির্বাচনের অবস্থান নিয়ে সরকার আলোচনার পথ বন্ধ করছে বলে তাঁরা মনে করেন।

মওদুদ আহমেদ বলছিলেন, "সরকারের এমন অবস্থান আমাদের হতবাক করেছে। কারণ সাংবিধানিকভাবে এটা অসম্ভব এবং অযৌক্তিক। সকল দলের সমান সুযোগ দেওয়ার কথা যখন আসছে, তখন এর বিপরীতমুখী বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন - যা দু:খজনক। এতে সমঝোতার কোন পথ আর খোলা থাকবে না।"

ক্ষমতাসীন জোটেও সংসদ বহাল রাখার অবস্থানের বিরোধিতা রয়েছে। এই জোটের অন্যতম শরিক রাশেদ খান মেনন বলেছেন, এ ব্যাপারে তাদের আপত্তি রয়েছে। কিন্তু কয়েক মাস আগে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের সময়ে সংসদ ভেঙে দেওয়ার কথাও তুলে ধরেছিলেন। ফলে এখনও আলোচনার সুযোগ রয়েছে বলে মি. মেনন মনে করেন।

  "সরকারের এমন অবস্থান আমাদের হতবাক করেছে। কারণ সাংবিধানিকভাবে এটা অসম্ভব এবং অযৌক্তিক। এতে সমঝোতার কোন পথ আর খোলা থাকবে না"

মওদুদ আহমেদ, বিএনপির সিনিয়র নেতা

বাংলাদেশের একজন সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক উল্লেখ করেছেন, সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার বিষয়টিও সংবিধানে রয়েছে।

তিনি বলছিলেন, "সংবিধানে দু’টি বিকল্পের কথা বলা আছে। প্রথমটা হচ্ছে, সংসদ পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করবে এবং এই মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। দ্বিতীয় বিকল্প হচ্ছে, মেয়াদ শেষ হওয়ার কিছু আগে সরকারিদল সংসদ ভেঙ্গে দেবে এবং সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার পরে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। পূর্ণ মেয়াদের বিষয়টি অর্থাৎ প্রথম উপায়টি সংসদীয় পদ্ধতির ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক বলবো। কারণ সংসদ বহাল রেখে নির্বচন করার বিষয়টি আসে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায়।"

তবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের বক্তব্য হচ্ছে, সংসদ বহাল রেখে সমান সুযোগ তৈরি করতে নির্বচনী আচরণ বিধি এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ সংশ্লিষ্ট বিধিতে ব্যবস্থা করা হবে। আর সেজন্য সরকার সবদলের সাথে আলোচনা করতে চায়।

কিন্তু সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচন করার যে বিকল্প ব্যবস্থা বর্তমান সংবিধানেই রয়েছে, তা তারা বিবেচনায় করছেন না কেন - এমন প্রশ্নের জবাবে এইচ টি ইমাম বলেছেন, এ বিষয় নিয়েও সরকার আইন বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

এখন নির্বাচনের সময় সংসদ বহাল রাখা না রাখার প্রশ্নে শেষপর্যন্ত সরকার কোন ছাড় দেবে কিনা, সেটা এখনও পরিস্কার নয়।

রবিবার, 01 সেপ্টেম্বর 2013 01:34

বাবাকে নিয়ে ঐন্দ্রিলার বই

লিখেছেন

Untitled-1

বিনোদন প্রতিবেদক  

বাবা প্রয়াত বুলবুল আহমেদকে নিয়ে একটি বই লিখেছেন ঐন্দ্রিলা। নাম দিয়েছেন একজন মহানায়কের কথা। বইটিতে থাকছে বুলবুল আহমেদের জীবনী; চলচ্চিত্র, টিভি, মঞ্চ আর রেডিওতে বুলবুল আহমেদের কাজ; তাঁর আবৃত্তি ও উপস্থাপনার কথা, তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন জনের স্মৃতিচারণা, বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত বুলবুল আহমেদের সাক্ষাৎকার, অনেকগুলো আলোকচিত্রসহ আরও কিছু। বইটি প্রকাশ করছে বইপত্র প্রকাশনী।
ঐন্দ্রিলা বলেন, ‘আগামী ৪ সেপ্টেম্বর বাবার ৭২তম জন্মদিন। ওই দিন বইটি প্রকাশিত হবে। ওই দিন চ্যানেল আইয়ে “তারকাকথন” অনুষ্ঠানে বাবার জন্য আমার লেখা বইটির মোড়ক খোলা হবে।’
বুলবুল আহমেদকে নিয়ে বই প্রকাশ করার ব্যাপারে আগ্রহী হওয়ার কারণ জানতে চাই ঐন্দ্রিলার কাছে। তিনি বলেন, ‘বাবা নিজেই তাঁর আত্মজীবনী লিখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পারেননি। আমি তাঁকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেছিলাম। নাম একজন জীবন্ত কিংবদন্তির কথা। এই তথ্যচিত্র দেখে বাবা আমাকে তাঁর জীবনী লিখতে অনুরোধ করেছিলেন।’
ঐন্দ্রিলা আশা প্রকাশ করেন, বইটি বুলবুল আহমেদকে সবার কাছে অন্যভাবে তুলে ধরবে।

 

মঙ্গলবার, 27 আগস্ট 2013 22:04

কোকোর পাচার করা আরো ৯ লাখ ডলার এসেছে

লিখেছেন



নিজস্ব প্রতিবেদক
খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর পাচার করা আরো নয় লাখ ডলার দেশে এসেছে।

গতকাল মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি  ৯ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৭ দশমিক ৪ মার্কিন ডলারের একটি প্রতীকী চেক দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামানের হাতে তুলে দেন। দুদকের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ‘মাল্টি এজেন্সি ট্রেইনিং প্রোগ্রাম অন এসেট রিকভারি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে এই চেক হস্তান্তর করা হয়। দুদক চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সমাপনী এই অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আমরা প্রতীকী এই চেক আজ হস্তান্তর করলাম। তবে দুই দিন আগেই এই অর্থ চলে এসেছে।

অর্থ পাচারের মামলায় কারাদন্ডে দন্ডিত আরাফাত পাঁচ বছর ধরে বিদেশে রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতেই মামলার রায় হয়। তবে বিএনপির দাবি, ওই মামলা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।

অ্যাটর্নি জেনারেল এই অর্থ দেশে আনার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কথাও জানান।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের দুর্নীতি দমন বিষয়ক কনভেনশনে বাংলাদেশ সাক্ষর করেছে। এই কনভেনশন অনুসারে আমরা পারস্পরিক আইনি সহায়তার আওতায় তথ্য চাই। আমরা জানতে পারি, সিমেন্স কোকোকে ঘুষ দিয়েছে। পাসপোর্ট জমা দিয়ে কোকো সিঙ্গাপুরে অ্যাকাউন্ট খোলেন। সেখানে দুটি কোম্পানিও খোলেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ সব তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশে আদালতে মামলা হয়। মামলায় রায় দিলে আমরা সেটার ভিত্তিতে টাকা ফেরতের জন্য সিঙ্গাপুরে আবেদন করি। সেটা সেখানে মঞ্জুর হওয়ার পর আমরা টাকা ফেরত পাই।

মঙ্গলবার হস্তান্তরিত  প্রতীকী এই চেকটি ছিল ওভারসিজ ব্যাংকের, যা দুদকের স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি অ্যাকাউন্

110211_taslima_tasleema_nasreen_304x171_ap_nocredit.jpg

বাংলাদেশের লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তার মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবীতে ঢাকায় এক মানব বন্ধন হয়েছে।

 

দীর্ঘ দুদশক আগে তিনি তার লেখার জন্য হুমকির মুখে দেশ ছাড়েন।

 

এদিকে এই লেখিকা বলছেন দেশে ফেরার জন্য ২০ বছর ধরে তিনি চেষ্টা করেছেন কিন্তু তার পাসপোর্ট নবায়ন করতে সরকারি বাধার ফলে তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না।

 

লেখিকা তসলিমা নাসরিনের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ঢাকায় মানববন্ধন করেন তার বন্ধু ও ভক্তরা।

 

আয়োজকদের একজন নাহিদ সুলতানা, এই লেখিকার দেশে ফেরার সব রকম আইনি বাধা তুলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

 

তসলিমা নাসরিন তার গল্প, উপন্যাস ও কবিতায় নারী অধিকার, সাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ,রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন।

 

নব্বইয়ের দশকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি মামলাও হয়।

 

"আমার যে বাংলাদেশি পাসপোর্ট রয়েছে সেটা নবায়ন করার ব্যাপারে কোন বাংলাদেশ অ্যামবাসি রিনিউ করে না। আমি ইউরোপ, আমেরিকার প্রায় প্রত্যেকটি অ্যামবাসি ও ভারতের অ্যামবাসিতেও গিয়েছি কিন্তু তারাও রিনিউ করে না। "

লেখিকা তসলিমা নাসরিন

 

১৯৯৪ সালে তিনি তার লেখার কারণে হুমকির মুখে দেশ ত্যাগ করেন।

 

মানব বন্ধনের অংশ নেওয়া একজন বলছিলেন তার বিরুদ্ধে করা মামলার বিষয়টি নিষ্পত্তি করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পথ সহজ করতে হবে।

 

তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশ ত্যাগের পর ভারত সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেছেন।

 

এর মধ্যে তিনি সুইডেনের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন।

 

তবে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ভারতের দিল্লীতে বাস করছেন।

 

বাংলাদেশে আজকের এই মানব বন্ধন ও তার দেশে ফিরে আসার প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তসলিমা নাসরিন বিবিসিকে বলেন তিনি সব সময় দেশে ফিরে আসতে চেয়েছেন তবে তার পাসপোর্ট নবায়ন করতে সরকারি বাধার ফলে তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না।

 

তিনি বলেন, “আমার যে বাংলাদেশি পাসপোর্ট রয়েছে সেটা নবায়ন করার ব্যাপারে কোন বাংলাদেশ অ্যামবাসি রিনিউ করে না। আমি ইউরোপ, আমেরিকার প্রায় প্রত্যেকটি অ্যামবাসি ও ভারতের অ্যামবাসিতেও গিয়েছি কিন্তু তারাও রিনিউ করে না। এবং আমার যে ইউরোপের পাসপোর্ট আছে সেটাতেও বাংলাদেশের ভিসা দেয়া হয় না”।

 

তসলিমা নাসরিন বলেন তার লেখা বই নিষিদ্ধ করা এবং তার ভাষায় দেশ ত্যাগে বাধ্য করায় তার বাক স্বাধীনতাকে খর্ব করায় হয়েছে।

 

কোন গণতান্ত্রিক দেশের কাছে এমন আচরণ কাম্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

তিনি এর সাথে আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশ সরকার যদি মনে করে থাকে মুসলিম মৌলবাদীরা পছন্দ করবে না, আমি জানতে চাই বাংলাদেশ সরকার মুসলিম মৌলবাদীদের এত খুশি করার চেষ্টা করছেন কেন, ভোটের কারণে? তাহলে তো এটাকে ডেমোক্রেসি বলা যায় না। বাংলাদেশ সরকার কেন আমার গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করছে”?

 

তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে করা দুটি মামলার মধ্যে একটিতে তার অনুপস্থিতিতে এক বছরের সাজা হয়।

 

তবে সে সময়কার তার আইনজীবী ইদরিসুর রহমান জানান দেশে ফিরলে আগাম জামিন নিয়ে তিনি উচ্চ আদালতে তার বিরুদ্ধে করা মামলার কার্যকারিতা সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।

 

ঢাকায় হিজড়া জনগোষ্ঠির কয়েকজন মেয়ে

ঢাকার মধ্য বাড্ডায় কয়েক ঘরে বেশ কয়েকজন হিজড়া থাকেন। সুযোগ সুবিধার দিক দিয়ে ছোট ছোট এই বাড়িগুলোর এতটাই খারাপ অবস্থা, যে সেগুলোকে তারা বাসা না বলে ডেরা বলতেই অভ্যস্ত।

এই পল্লীতে যারা থাকেন তারা জীবিকা নির্বাহ করেন মূলত যৌনকর্মী হিসেবে। আর মাঝে মাঝে নেচে-গেয়ে কোন নবজাত শিশুকে আশীর্বাদ করে কিছু অর্থ আয় করেন।

তেমনি একটা ডেরায় বসে আমার কথা হচ্ছিল কাজলের সাথে।

‘‘ছেলে হিসেবে জন্ম নিলেও ছোট বেলা থেকেই মেয়েদের কাপড় পরতে ভাল লাগতো, মেয়েদের সাথে মিশতে ভাল লাগত’’, বললেন কাজল।

এ জন্য তার ভাই, বাবা মায়ের কাছ থেকে তাকে অনেক মারধর খেতে হয়েছে। তার বয়স যখন সাত বা আট বছর, তখন থেকেই তার হাঁটা-চলা মেয়েদের মত হতে থাকে।

যত বয়স বাড়তে থাকে সে উপলব্ধি করে সে অন্যদের থেকে আলাদা।

তখন সে বিষণ্ণতায় ভুগতো আর ভাবতো তার মত কি আর কেউ নেই?

 

কাজল বলছিলেন এর এক পর্যায়ে তিনি অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখার পর পরিবার ছেড়ে যোগ দেন অন্যান্য হিজড়াদের সাথে।

সামাজিক বিড়ম্বনা"আমি কাজল, লিপস্টিক দিয়ে স্কুলে যেতাম, অন্য ছাত্ররা আমাকে দেখে হিজড়া বলে খেপাত"

লিজা

বাংলাদেশে বেসরকারি হিসেবে প্রায় ১৫ হাজার হিজড়া রয়েছে। এদের সামাজিক ভাবে গ্রহণ না করার কারণেই চিকিৎসা, শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ নানা স্থানে বিভিন্ন ভাবে বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয় তাদের ।

হিজড়াদের নিয়ে যেসব সংস্থা কাজ করছে, তারা দীর্ঘদিন ধরেই এদেরকে ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়ে আসছে, যাতে তাদের অন্যান্য অধিকারগুলো রক্ষা হয়।

বাংলাদেশে সমাজ হিজড়াদের নিচু চোখে দেখে, এমনকি নিজ পরিবারের কাছেও তারা নিগৃহীত হয়। ফলে, কিশোর বয়সেই তাদের পড়ালেখা থেমে যায়।

পরিবারের সদস্যদের কাছে সমর্থন না পেয়ে সেখান থেকে বের হয়ে যেতে হয়, আশ্রয় নিতে হয় অন্যান্য হিজড়াদের মাঝে।

প্রত্যেক হিজড়ার একজন করে গুরু মা থাকেন। তিনিই তাদের আশ্রয় দেন।

মধ্য বাড্ডার হিজড়া পল্লীর আরেক বাসিন্দা লিজা। তিনি বলছিলেন স্কুলে সহপাঠী ও শিক্ষকদের অসহযোগিতার কারণেই বন্ধ হয়ে যায় তার পড়াশোনা।

তারপর তিনি আর স্কুলে যাননি । এভাবেই তার পড়াশোনার সমাপ্তি ঘটে।

মানসিক কারণ

জন্ম নেওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট বয়সে এসে পুরুষ বা নারীতে পরিণত হতে যেসব হরমোন স্বাভাবিক মাত্রায় থাকা প্রয়োজন, সেসব হরমোনের তারতম্যের কারণেই এই নারী-পুরুষের বাইরে আরেকটি লিঙ্গের সৃষ্টি হচ্ছে বলে প্রচলিত ব্যাখ্যায় বলা হয়।

কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর সাথে আরো বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে।"‘শিশু বয়সে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া বা কোন ট্রমা থেকেও তারা নিজেকে অপর লিঙ্গের মত ভাবতে থাকেন"

ড. শাহানুর হোসেন, ক্লিনিকাল সাইকোলজির শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির বিভাগের শিক্ষক এবং হিজড়া জনগোষ্ঠী নিয়ে কাজ করছেন ড. শাহানুর হোসেন।

তিনি বলছেন, একটি শিশুর হিজড়া হিসেবে বেড়ে ওঠার জন্য হরমোনের তারতম্যের সাথে মানসিক কারণও থাকতে পারে।

‘‘শিশু বয়সে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া বা কোন ট্রমা থেকেও তারা নিজেকে অপর লিঙ্গের মত ভাবতে থাকেন,’’ ড. হোসেন বলেন।

বাংলাদেশে এই হিজড়া জনগোষ্ঠী স্কুল থেকে ঝরে এবং পরিবার থেকে বের হয়ে গিয়ে, এক অর্থে ভাসমান জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে।

সমাজের প্রত্যেক স্তরে, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থানের মত জায়গাতে তারা চরমভাবে অবহেলা আর বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

বাংলাদেশে প্রথমবার এ জনগোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ করছে বেশ কিছু সংস্থা। সমাজে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক সুবিধাগুলো পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে তারা কাজ শুরু করে।

তেমনি একটি সংস্থা বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ।

'বাংলাদেশে নয় কেন?'

সংস্থাটির প্রধান সালেহ আহমেদ বলছেন, তারা বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন, তবে হিজড়াদেরকে মূল শ্রোতধারায় ফিরিয়ে আনাটা সময়সাপেক্ষ।

‘‘উপমহাদেশে হিজড়া প্রথার চল সেই মুঘল আমল থেকে। যৌন পেশা, বাঁধাই , ছল্লা এসব তাদের ঐতিহ্যের মধ্যে রয়েছে,’’ মি: আহমেদ বলেন।

হিজড়াদের সাথে কাজ করতে গিয়ে মূলত দু’ধরনের মানুষের সাথে পরিচয় হয় এই সংগঠনটির।

"বাংলাদেশে সরকারি ভাবে হিজড়াদের কোন পরিসংখ্যান নেই। আদমশুমারিতে তৃতীয় লিঙ্গের অপশন না থাকায় হিজড়াদের গণনা করা হয়নি"

সালেহ আহমেদ, বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি

‘‘একদল আছেন যারা এসব কাজ থেকে সরে আসতে চান। আরেক দল আছেন তারা চাননা। তাই আমি মনে করি সময় লাগবে,’’ তিনি বলেন।

তবে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি হলে সেটা দ্রুত সম্ভব বলে সালেহ আহমেদ মনে করেন।

হিজড়াদের নিয়ে যারা কাজ করছেন, তারা মনে করছেন নারী-পুরুষের বাইরে ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের জায়গাতে তারা কিছুটা সুযোগ পাবেন।

সালেহ আহমেদ বলছেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানের মত মুসলিম দেশে হিজড়াদের ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তাহলে বাংলাদেশে নয় কেন?

‘‘বাংলাদেশে সরকারি ভাবে হিজড়াদের কোন পরিসংখ্যান নেই। আদমশুমারিতে তৃতীয় লিঙ্গের অপশন না থাকায় হিজড়াদের গণনা করা হয়নি,’’ মি: আহমেদ বলেন।

‘‘সমাজে তাদের অস্তিত্ব থাকলেও খাতা কলমে তাদের কোথাও অস্তিত্ব নেই,’’ তিনি বলেন।

'আমি তো মানুষ'

বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাগুলো বলছে তাদের কাছে ১৫ হাজার হিজড়ার তালিকা আছে। তবে আসল সংখ্যা আরও বেশি হবে, কারণ অনেক হিজড়া তাদের পরিচয় গোপন করায় গণনা করা সম্ভব হয়নি।

কাজল

বাংলাদেশে তারা ২০০৮ সালে প্রথমবারের মত ভোটাধিকার পায়।

তবে ভোটার আইডি কার্ডে জেন্ডার নির্ধারণ না থাকায় সেখানেও বিভিন্ন বিড়ম্বনা।"হিজড়া হওয়ার কারণে গাড়িতে মানুষ আমার পাশে বসে না, আমি বসলে তারা উঠে চলে যায়। আমি একটা ভাল বাসা ভাড়া নিতে পারি না, আমি তো মানুষ"

কাজল

সরকারিভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, কিন্তু সেগুলোর গুণগত মান নিয়ে হিজড়ারাই প্রশ্ন তুলেছেন।

বাংলাদেশ সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাজমা বেগম বলছেন, তারা ২০১২ সালে প্রথম বারের মত হিজরা শিশুদের শিক্ষা উপবৃত্তি ও প্রশিক্ষণ-এর ওপর পাইলট প্রকল্প শুরু করেন।

তবে এর গুণগত মানের দুর্বলতার কথা তিনি স্বীকার করেন । আর তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।

তবে সেটা কত দিন নাগাদ সম্ভব হবে সে ব্যাপারে তিনি সঠিক কোন তথ্য দিতে পারেননি।

মধ্য বাড্ডার সেই হিজড়া পল্লীতে ফিরে আসলে কাজল বলছিলেন তার আক্ষেপের কথা।

সমাজের সব সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলেও তার মূল কষ্টের জায়গা তাদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি।

তিনি বলছেন, একটা মেয়ে যেভাবে চলাফেরা করে তিনি তেমন স্বাভাবিক ভাবেই চলাফেরা করেন, কিন্তু রাস্তায় বের হলে মানুষ বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করে।

‘‘আজ হিজড়া হওয়ার কারণে গাড়িতে মানুষ আমার পাশে বসে না, আমি বসলে তারা উঠে চলে যায়। আমি একটা ভাল বাসা ভাড়া নিতে পারি না, আমি তো মানুষ,’’ তিনি বলেন।

‘‘আমার ইচ্ছা করে আমার বাবা, মা, আমার পরিবারের সাথে থাকতে। আমার বাবা মা আমাকে রাখতে চায় কিন্তু সমাজের মানুষের কথার ভয়ে তারা আমাকে তাদের কাছে রাখে না। আমার মনে খুব কষ্ট’’ কাজল বলেন।

হিজড়াদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে যেসব বেসরকারি ও সম্প্রতি সরকারিভাবে যে গবেষণা গুলো করা হচ্ছে, সেখানেও এই বিষয়টির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সেখানে বলা হচ্ছে, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও স্বীকৃতির ফলে হয়ত তারা সামাজিক সুবিধাগুলো গ্রহণ করতে পারবে, কিন্তু হিজড়াদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না হলে তাদেরকে সমাজের মূলধারায় নিয়ে আসার সময়টা আরো দীর্ঘায়িত হবে।

 

Muhammad Yunus
কুষ্টিয়া সংবাদদাতা :

‘নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে, ড. ইউনূস’র জাতীয় নির্বাচন ও রাজনীতি প্রসঙ্গে দেয়া এমন বক্তব্যের জবাবে জাসদ সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকে আমরা সম্মান করি। তিনি দীর্ঘদিন পর ঘোমটা খুলে রাজনীতিতে এসেছেন। এজন্য আমরা তাকে অভিনন্দন, ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। উনি ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের সময় রাজনৈতিক দল গঠণের ঘোষণা দিয়ে রাজনীতির মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু দুদিনের ব্যবধানে তিনি মাঠ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। এবার আশা করবো তিনি রাজনীতির মাঠ ছেড়ে চলে যাবেন না।


গতকাল শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কাকিলাদহ এলাকায় বিচারপতি রাধা বিনোদ পাল মডেল ভিলেজ স্মৃতি ফলক ও চক্ষু শিবির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, উনার মত সম্মানিত মানুষ রাজনীতি করছেন দেখে ভাল লাগছে। এখন ড. ইউনূসের সঙ্গে আমরাও রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলবো। ইনু বলেন, বিরোধী দলের নেতা সংলাপে যাবেন বলে জাতিসংঘের মহাসচিবকে জানিয়েছেন। এই সংলাপেই ঠিক হবে কোন সরকার বা কার অধীনে নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, আশা করি খালেদা জিয়া বান কি মুনকে দেয়া অঙ্গীকার রাখবেন।


তথ্যমন্ত্রী আগামী সংসদ অধিবেশনে নির্বাচনকালিন সরকার সর্ম্পকে বলেন, উভয় পক্ষের আলোচনা সাপেক্ষে যদি কোন বিল উত্থাপন করার সুযোগ থাকে তাহলে সেই বিল সরকার উত্থাপন করবে। কিন্তু একতরফা বিল উত্থাপন করে বিরোধী দলীয় নেত্রীকে রাজনৈতিক চক্রান্ত করার সুযোগ দেয়া হবে না। তবে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় ঐক্যমতের ভিত্তিতে কোন বিল উত্থাপনের প্রয়োজন হলে সেটা করা হবে।


তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরপেক্ষ ও সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গীবাদ ও তেতুল হুজুরদের ত্যাগ করে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য এগিয়ে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। জাস্টিস রাধা বিনোদ পাল মডেল কলেজ মাঠে আয়োজিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আলহাজ্ব শমসের আলী মল্লিক। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, নারী জোটের আহবায়ক আফরোজা হক রীনাসহ অনেকে।

 
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সীমান্ত চুক্তি অনুমোদনে তৃণমূলের বিরোধিতার মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেছেন কবীর সুমন।
শুক্রবার লোকসভা প্রাঙ্গণে মমতাকে ‘ভিশনলেস’ আখ্যায়িত করে তৃণমূলের এই সাংসদ তার দল এবং নেত্রীর সমালোচনা করে সাংবাদিকদের বলেন, “ছিটমহলের মানুষগুলো পরিচয়হীনভাবে অবর্ননীয় কষ্টের মধ্যে আছে। তা থেকে তাদের মুক্তি দেয়ার সুযোগ এসেছিলো। কিন্তু ভিশনলেস মমতা ব্যানার্জির জন্য সেটা সম্ভব হলো না।”
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা- বাসস এ খবর জানিয়েছে।
 কেন, কোন যুক্তিতে এই বিরোধিতা করা হলো তা সুমনের ‘বোধগম্য নয়’ জানিয়ে দুই বাংলাতেই সমান জনপ্রিয় এই গায়ক তার সমালোচনার ধারা অব্যাহত রেখে আরো বলেন, “আমার দল বাংলাদেশের সাথে স্বাক্ষরিত সীমান্ত চুক্তি অনুমোদনের জন্যে রাজ্য সভায় বিল উত্থাপনে বাধা দেয়ায় আমি ব্যথিত ও লজ্জিত। কেন কোন যুক্তিতে এই কাজ করা হয়েছে আমার বোধগম্য নয়।”
“আমার ইচ্ছা করছে সংসদ থেকে পদত্যাগ করি, কিন্তু নির্বাচনের আগে পদত্যাগ করলে নির্বাচন করা এবং গাদা গাদা টাকা খরচ- এই ভেবে করছি না।”
জীবনমুখী বাংলা গানের শিল্পী হিসেবে পরিচিত সুমন চট্টপাধ্যায় ২০০০ সালের ২৩ শে জুন বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনকে বিয়ে করে কবীর সুমন নাম নেন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মতো বাংলাদেশেও সুমনের গান দরুন জনপ্রিয়।


নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক :

ফেসবুকে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে আলোচনায় আছেন প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। শুক্রবার রাতে এরকম আরেকটি স্ট্যাটাস দিলেন তিনি। জানালেন, আগামীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ইন্টারনেটের গতি বাড়ানো ও দাম কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
 
আরও যা লেখা আছে স্ট্যাটাসে:
 
বাংলাদেশে ইন্টারনেট সংযোগের দাম নিয়ে আমি অনেক অনুরোধ পেয়েছি। আমাদের সরকার আসার পর থেকেই এই বিষয়টিতে আমরা মনোযোগ দিয়েছি। আর এই নিয়ে আমার ভবিষ্যতেও কিছু পরিকল্পনা আছে যা আওয়ামী লীগ পুননির্বাচিত হলে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে ।
 
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন ইন্টারনেটের প্রতি মেগাবাইটের দাম ছিল ৮০ হাজার টাকা। গত চার বছরে ওই দাম কমিয়ে আমরা ১৮ হাজারে নামিয়ে এনেছি। তবে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো খুচরা গ্রাহকদের জন্য দাম তেমন কমায়নি। তারা ইন্টারনেটের গতি বাড়িয়েছে, কিন্তু দাম এখনো বেশি।

থ্রিজ এবং ফোরজি’র জন্য ইন্টারনেটের দাম আরো কমানোই আমার পরিকল্পনা। ফলে দ্রুত গতির ইন্টারনেট পাওয়া সহজ হবে, বাড়বে ইন্টারনেট ব্যবহাকারীও। ব্যবহারকারী বাড়লে দামও কমবে। সেবাদাতাদের জন্য সর্বোচ্চ মূল্যও বেঁধে দেয়ার পরিকল্পনা করছি।

আওয়ামী লীগ পুনঃনির্বাচিত না হলে এই পরিকল্পনাগুলোর কোনোটিই বাস্তবায়ন করতে পারবে না। ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরিতে আমরা বিস্ময়কর অগ্রগতি অর্জন করেছি, তবে এখনো অনেক কাজ বাকি। বাংলাদেশকে পুরোপুরি ডিজিটাল করতে নৌকায় ভোট দিন।