07242019বুধ
স্পটলাইট

স্পটলাইট (851)




নিউজ ডেস্ক , নিউজফ্লাশ টোয়েন্টিফোর বিডি ডটকম

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক অভ্যুত্থানের কোনো আশঙ্কা দেখছেন না প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।


কলকাতার ইংরেজি দৈনিক টেলিগ্রাফকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সুশীল সমাজের একটি অংশ ‘ক্ষমতা চায়’। তারা আশা করে, এ বিষয়ে সেনাবাহিনী তাদের ‘সমর্থন’ করবে।

তবে বাঙালি জাতি তেমন কোনো পরিস্থিতি মেনে নেবে না বলেই মনে করেন জয়।

দিব্যদীপ পুরোহিতকে দেয়া জয়ের ওই সাক্ষাৎকারটি রোববার প্রকাশ করেছে ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক টেলিগ্রাফ। 

সাক্ষাৎকারটির সংক্ষিপ্ত বাংলা অনুবাদ নিউজফ্ল্যাশ টোয়েন্টিফোর বিডি ডটকমের পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।

প্রশ্ন: আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে সেনা হস্তক্ষেপের শঙ্কা থেকে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে ১৯৭৫ থেকে ৯০ সাল পর্যন্ত সেনাশাসন চলেছে। ২০০৭ ও ২০০৮ সালেও একটি সেনাসমর্থিত অনির্বাচিত সরকার বাংলাদেশে শাসন করেছে।

জয়: আমাদের এখানে সুশীল সমাজের একটি অংশ ক্ষমতা চায়। কিন্তু তাদের কেউ কখনো নির্বাচনে জিততে পারেনি। যেহেতু একমাত্র সেনা সমর্থনেই তাদের ক্ষমতায় আসার পথ তৈরি হতে পারে, সেহেতু তারা সামরিক হস্তক্ষেপের কথা বলে। তবে আমি আপনাকে বলে দিতে পারি, বাংলাদেশের মানুষ এটা মানবে না। আমাদের সরকার এতোটাই সাফল্য দেখিয়েছে যে মানুষ একটি নির্বাচিত ও বৈধ সরকারের ওপরে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ সহ্য করবে না, যে সরকার একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

পাশাপাশি আপনাকে একটি অভ্যুত্থানের জন্য প্রয়োজনীয় উপদানাগুলোও খুঁজে দেখতে হবে। এই মুহূর্তে এমন কোনো জেনারেল বা সেনা কর্মকর্তা নেই, যার অভ্যুত্থানের খায়েশ থাকতে পারে।

একটি অভ্যুত্থান সফল করতে হলে ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার জন্য আগে শেখ হাসিনার নাগাল পেতে হবে। কিন্তু যারা তার বাড়ির (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন- গণভবন) নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন তারা সবাই শেখ হাসিনার অত্যন্ত বিশ্বস্ত। তারা কাউকে সুযোগ দেবে না।

তাছাড়া একটি সামরিক অভ্যুত্থানে বিপুল রক্তপাতের আশঙ্কা থাকে। সেনাবাহিনী কোনো গ্রুপ সেই ঝুঁকি নেবে বলে আমি মনে করি না। আর শেখ হাসিনা তেমন কোনো ঘটনায় ক্ষমতা ছাড়বেন না। আমাদের লাশ ডিঙিয়ে তবেই ক্ষমতা দখল করতে হবে। 

প্রশ্ন : বাংলাদেশে ইতোমধ্যে কয়েক দফা টানা হরতাল গেছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি মানতে সরকারের ওপর চাপ দিতে চেয়েছে। আর সরকার তাদের ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসায় গত কয়েক সপ্তাহে রাজপথে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। প্রধান দুই দলের মধ্যে এখনো কোনো সমঝোতা না হওয়ায় আগামীতে আরো হরতালের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জয়: হরতাল ভালো কিছু নয়। আর মূল বিষয় হচ্ছে- এই হরতাল কী কারণে? আসলে যৌক্তিক কোনো কারণই নেই। আমরা (গত পাঁচ বছরে) ছয় হাজার নির্বাচন করেছি, যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। বিএনপির আমলে এমনটা কখনও সম্ভব হয়নি। এখন আমাদের হাতে একটি ডিজিটাল ভোটারলিস্ট আছে। এতে রয়েছে ছবি ও আঙুলের ছাপ, এবং এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু বিএনপির সময়ে অসংখ্যা ভুয়া ভোটারের নাম তালিকায় হয়েছিল।

মানুষ এখন আর হরতাল সমর্থন করে না। মানুষ এখন আর হরতাল করতে রাস্তায় নামে না। এমনকি বিএনপি নেতারাও আসেন না। তাই তারা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে দেশ অচল করতে চায়।

গাড়ি ভাঙা এক রকম বিষয়; কিন্তু তারা গাড়ির সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছে। তারা যা করছে তা ঠাণ্ডা মাথায় খুন ছাড়া আর কিছু নয়। পেট্রোল আর গানপাউডার ছিটিয়ে আগুন দিয়ে তারা ঠাণ্ডা মাথায় মানুষ মারছে।

প্রশ্ন : গত ১১ নভেম্বর হরতাল শুরুর আগে বিএনপির পাঁচ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে যে, সরকার ভিন্নমত দমাতে বিরোধী দল ও সুশীল সমাজের একটা অংশের ওপর দমন পীড়ন চালাচ্ছে।

জয়: বিরোধী দল প্রথমে নির্বাচন বানচাল করার জন্য আওয়ামী লীগকে ভয় দেখাতে চেয়েছে। এরপর তারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছে। মানুষের নিরাপত্তা দেয়া সরকারের দায়িত্ব; আর সরকার সেই কাজটিই করেছে। গত হরতালে আমরা সহিংসতা অনেকটা কমিয়ে আনতে পেরেছি। বিভিন্ন অভিযানে বিএনপির লোকজনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।

যারা রাজপথে সহিংসতা করছে তাদের পেছনে ছোটার চেয়ে যারা এই সহিংসতায় ইন্ধন দিচ্ছে, তাদের ধরতে আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। বিস্ফোরক খুবই ব্যয়বহুল। এজন্য টাকা লাগে। আমরা তথ্য পেয়েছি বিএনপির সিনিয়র নেতারা এই সহিংসতার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ অর্থ জোগাচ্ছেন। এ কারণেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রশ্ন: হরতালের সময় বাংলাদেশে হাজার হাজার হাতবোমা ফাটানো হচ্ছে। এ ধরনের বিস্ফোরণে শরীর পুড়ে যায়, স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়।

জয়: সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারে কাজ হয়েছে। আগের হরতারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে সর্বশেষ হরতালে এ ধরনের হামলা-সহিংসতা অনেক কম হয়েছে।

প্রশ্ন: আপনি শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রচারের বিষয়টি দেখছেন। প্রথমত, সরকারের সাফল্যের বিষয়গুলো ভোটারদের সামনে নিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি একদল গবেষকের সহায়তায় জরিপ চালিয়ে তাদের মন বুঝতে চাইছেন।

জয়: বিগত সাড়ে চার বছরে আমরা তেমন কোনো প্রচার চালাইনি। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে অনেক নেতিবাচক প্রচারণা হয়েছে, যা আমাদের ক্ষতিও করেছে। কয়েক মাস আগেও জনমত জরিপে আওয়ামী লীগ-বিএনপির জনপ্রিয়তা প্রায় সমান সমান হয়ে গিয়েছিল।

তারপর আমি গত জুলাই থেকে পেশাদার গণসংযোগকারীদের নিয়ে প্রচার শুরু করলাম, যা পরিস্থিতি পাল্টে দিল। ইতিবাচক প্রচারণা আমাদের কাজে এসেছে। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান, জরিপ সংস্থা ও আমাদের নিজস্ব জরিপে দেখা গেছে, আমরা বিএনপির চেয়ে নিরাপদ দূরত্বেই এগিয়ে আছি।

জনসংযোগের জন্য আমাদের দক্ষ লোকের অভাব ছিল। তাই আমরা একটি নতুন দল গড়ে তুলেছি। আমরা সাধরণ মানুষের মনোভাবও যাচাই করে দেখেছি, কোন ধরনের বার্তা আসলে তারা পছন্দ করে।

আমরা আমাদের বার্তা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। সামনে আরো কিছু আসছে। শিগগিরই আমাদের বিলবোর্ড প্রচারণা শুরু হবে।

প্রশ্ন : অর্থনীতি বলেন, অথবা আইনশৃঙ্খলা- প্রায় সবকিছুরই উন্নতি হয়েছে। জরিপেও তার প্রতিফলন ঘটেছে।

জয়: অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালোর দিকেই যাচ্ছে (বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি গড়ে ৫ দশমিক ৫ থেক ৬ শতাংশ শহারে বাড়ছে)। অবকাঠামোগত বেশ কিছু সমস্যার সমাধান আমরা করেছি। ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতায় পৌঁছানোর দিনটিও আমরা উদযাপন করলাম, অথচ পাঁচ বছর আগেও আমাদের উৎপাদন ছিল মাত্র ৩ হাজার ৫০০ মোগাওয়াট।

যখন আমরা ক্ষমতায় আসি, তখন বিদ্যুতর অভাবই ছিল মানুষের মূল অভিযোগ। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এলেন, আমাকে বললেন বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প ধ্বংস হতে বসেছে। আমরা সেই সমস্যার সমাধান করেছি। আমাদের দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রশ্ন :  আর কোনো দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা আছে?

জয়: এই মুহূর্তে আমি নির্বাচন নিয়ে কাজ করছি। আমার পরিবার আমেরিকায় থাকে বলে আমাকে ক্রমাগত ভ্রমণের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। এই নির্বাচনের পর, আমি জানি না কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আগামী দিনে বাংলাদেশের নেতৃত্বে কারা থাকবে- এই নির্বাচনেই তার মীমাংসা হবে। 

বিএনপি যদি কোনোভাবে জিতে যায়, অলৌকিকভাবে ক্ষমতায় চলে আসে, তাহলে হয়তো তিনি (খালেদা জিয়া) ছেলের হাতে (তারেক রহমান) ক্ষমতা হস্তান্তরও করতে পারেন।



নিউজফ্ল্যাশ টোয়েন্টিফোর বিডি ডটকম ডেস্ক :
মার্কিন কংগ্রেসের শুনানিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ।

মার্কিন কংগ্রেসের এক শুনানিতে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক সংকট, ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা আর সন্ত্রাসবাদের উত্থানের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পর তার সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ সরকার।

সরকার বলছে, একতরফাভাবে এই শুনানি করা হয়েছে, এবং এতে পুরো বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়নি।

তবে বিরোধী দল বিএনপি বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে মার্কিন কংগ্রেসের এই মূল্যায়নকে ইতিবাচক হিসেবেই বর্ণনা করছে।

‘বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ’-এই শিরোনামে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিষয়ক একটি কমিটির শুনানিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া এবং সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনাসহ কয়েকটি বিষয় এসেছে।

তবে এতে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে প্রধান দুই দলের অনড় অবস্থান এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

"যুক্তরাষ্ট্রে লবিষ্ট নিয়োগ করা যায়। অনেকে বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী প্রচুর অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে লবিষ্ট নিয়োগ করেছে। যারা শুনানি বা এ ধরণের প্রভাব খাটানোর বিষয়গুলোর পিছনে থাকছে"

এইচ টি ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

বাংলাদেশ সরকার মনে করছে, একতরফাভাবে এই শুনানি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলছিলেন, “এ ধরণের শুনানি হওয়াটা আমাদের জন্য যেমন সুখকর নয়। তেমনি বলবো, হয়তো কোন একটি বিশেষ লবিং গ্রুপ এর পেছনে রয়েছে। বিপর্যয়ের মুখে তো আমরা নই।”

মি: ইমাম মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিষয়ক ঐ কমিটির উদ্বেগ থাকতে পারে। কিন্ত শুনানিতে যাদের ডাকা হয়েছিল, তাদের অনেকেই নিরপেক্ষ নন বলে তাদের ধারণা।

কিন্তু রাজনৈতিক অচলাবস্থার পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশ সরকার বা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপরই দায় বর্তায়, এমনটাই ঐ শুনানিতে বলা হয়েছে।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের বক্তব্য হচ্ছে, এ ধরণের বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা।

ঢাকায় রাজনৈতিক সহিংসতা

একইসাথে তিনি আবারও বলেছেন, “আপনারা জানেন, যুক্তরাষ্ট্রে লবিষ্ট নিয়োগ করা যায়। অনেকে বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী প্রচুর অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে লবিষ্ট নিয়োগ করেছে। যারা শুনানি বা এ ধরণের প্রভাব খাটানোর বিষয়গুলোর পিছনে থাকছে।”

তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারের ওপর এই শুনানির তেমন কোন প্রভাব নেই।

এর কারণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন, মার্কিন কংগ্রেসে বহু বিষয়েই শুনানি হয়ে থাকে।

মার্কিন কংগ্রেসের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপকমিটির স্টিভ শ্যাবোর্ট কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশ সফর করে গেছেন।

"সকলে যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা সমাধান চায়, তারই প্রকাশ ঘটেছে ঐ শুনানিতে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের যে মনোভাব, তাতেতো সংলাপের কোন আলামত আমরা পাচ্ছি না"

শমসের মবিন চৌধুরী, বিএনপি নেতা

এখন শুনানিতে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে সকল দলের অংশ গ্রহণ থাকবে কি না, তা নিয়ে উৎকণ্ঠা উঠে এসেছে।

বিরোধী দল বিএনপির নেতাদের অনেকেই মনে করেন, বিষয়টা বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনদের উপর একটা চাপ তৈরি করতে পারে।

বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শমসের মবিন চৌধুরী বলছিলেন, “সকলে যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা সমাধান চায়, তারই প্রকাশ ঘটেছে ঐ শুনানিতে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের যে মনোভাব, তাতেতো সংলাপের কোন আলামত আমরা পাচ্ছি না। যুক্তরাষ্ট্রে শুনানির বিষয়টি সরকারের গুরুত্ব দেওয়া উচিত।”

এই শুনানি যখন হলো, সেই পটভূমিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়েই সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে।

সেখানে বাংলাদেশের উপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষেধাজ্ঞাসহ নানান চাপ আসতে পারে বলে বলা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, মার্কিন কমিটির শুনানিতে উঠে আসা তথ্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নীতিনির্ধারণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম অবশ্য বলেছেন, শুনানির বিস্তারিত জানার পর বাংলাদেশ সরকার এবিষয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করবে। বিবিসি।

বৃহস্পতিবার, 21 নভেম্বর 2013 07:52

‘তফসিল আগামী সপ্তাহে ঘোষণা’

লিখেছেন


নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজফ্ল্যাশ টোয়েন্টিফোর বিডি ডটকম
সব ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহেই দশম সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, “দুয়েকদিনের মধ্যে তফসিল নিয়ে আমরা বসব। এরপর আগামী সপ্তহেই তফসিল হতে পারে।”

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ ও তিন কমিশনার মঙ্গলবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শাহনেওয়াজ বলেন,“সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমরা রাষ্ট্রপতির সহায়তা চেয়েছি। উত্তরে রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।”

সংবিধান অনুযায়ী, ২৪ জানুয়ারির মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে কমিশনকে। নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচন কবে হবে সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিত পরামর্শ দেবেন। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে এবং ভোট হবে।

নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ‘সর্বদলীয়’ মন্ত্রিসভা গঠন করেছে। তবে এই সরকারে যোগ দেয়ার আহ্বানে বিরোধী দল সাড়া দেয়নি।  এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বলেও তারা ঘোষণা দিয়েছে।

মঙ্গলবার, 19 নভেম্বর 2013 08:10

সংলাপই সমাধান: বিসওয়াল

লিখেছেন



নিজস্ব প্রতিবেদক,  নিউজফ্ল্যাশ টোয়েন্টিফোর বিডি ডটকম

নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ সফরে এসে বিপরীত অবস্থানে থাকা রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল।

তিন দিনের সফরের শেষ দিন সোমবার বিকালে গুলশানে আমেরিকান ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সঙ্কট নিরসনে দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে না হলেও অন্তত মহাসচিব পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে ।

নিশা বলেন, এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মহাসচিবদের আরো ক্ষমতায়ন করতে হবে, যেন তারা সংলাপের বিষয়ে উদ্যোগ নিতে পারেন। আর সংলাপে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্বন্ধে আলোচনা হওয়াটা জরুরি বলে আমরা মনে করছি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপ ছাড়া বিকল্প নেই, বলেন যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রী।

নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মন্তব্য রয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে সংলাপের কোনো বিকল্প নেই, সংলাপ হতেই হবে। আর এ জন্য প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলকে এগিয়ে আসতে হবে।

নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনরত বিরোধী দলের হরতালে সহিংসতার বিষয়ে নিশা বিসওয়াল বলেন, একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিবাদ হতে হবে শান্তিপূর্ণ।

“যে কোনো রাজনৈতিক দলেরই তার মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। কিন্তু সে মত প্রকাশের ভাষা হতে হবে শান্তিপূর্ণ। কোনো ধরনের সহিংসতাই গ্রহণযোগ্য নয়।”

প্রধান বিরোধী দল অংশ না নিলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে কি না জানতে চাইলে নিশা বিসওয়াল পাল্টা প্রশ্ন করেন, “বাংলাদেশের মানুষ কি তা মেনে নেবে?”

“যুক্তরাষ্ট্র চায় যেন, নির্বাচন যেন বাংলাদেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। জনগণ যদি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেয় সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও নির্বাচন নিয়ে কোন প্রশ্ন আসবে না,” পরক্ষণেই বলেন তিনি।

গত শনিবার ঢাকা আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন নিশা বিসওয়াল।

বাংলাদেশ নিয়ে ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক পর্যায়ের আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা সারা বিশ্বে আমাদের সহকর্মীদের সঙ্গে উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি।

“তারই অংশ হিসেবে ভারতের সঙ্গেও আমাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যার একটি ইস্যু ছিল বাংলাদেশ।”

“বিশ্বে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই সহযোগিতা দিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, বাংলাদেশেও একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক,” নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি।


নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক :
পশ্চিমের বিত্তবান ও ক্ষমতাশালী বন্ধুদের কাছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান ও আইনের চেয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের স্বার্থের দাম বেশি বলে এক চিঠিতে মন্তব্য করেছেন গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের প্রধান মামুন-উর-রশিদ।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংক ও অধ্যাপক ইউনূসের পক্ষে ছাপা হওয়া ‘আবেদন’ প্রসঙ্গে নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্রো হার্লেন্ড ব্রুন্টলান্ডের কাছে লেখা চিঠিতে তিনি আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দের একাংশের সমালোচনা করেন। ঐ আবেদনে স্বাক্ষরকারীদের একজন ব্রুন্টলান্ড।
নেপালে অবস্থানরত সাবেক সরকারি কর্মকর্তা মামুন-উর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি অনলাইন বার্তা সংস্থাকে বলেন ড. ইউনূসের পক্ষে প্রচার “আন্তর্জাতিক পলিটিক্সের অংশ”।

“ইউনূস বন্ধুরা বাংলাদেশের স্বার্থ দেখেন না।”

“ইউনূসের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকারকে চাপ প্রয়োগের জন্যই তারা [আবেদনে স্বাক্ষরকারীরা] এটা করেছেন।

“আমি তাদের চিঠির মাধ্যমে দাওয়াত দিয়েছি। বলেছি,আপনারা সরেজমিনে বাংলাদেশে এসে দেখুন, গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিন। তাহলেই বুঝতে পারবেন, কমিশন যে সুপারিশ করেছে তা কতোটা যুক্তিযুক্ত এবং বাস্তবসম্মত।”

১৪ অগাস্ট, ২০১৩ গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের সমালোচনা করে শেখ হাসিনার প্রতি লেখা ‘আবেদন’টি মার্কিন ‘ওকালতি’

মামুন-উর-রশিদ লেখেন বিজ্ঞাপিত ঐ আবেদনটিকে ‘ওজনদার’ করে তোলার জন্য রেসাল্টস গণ্যমান্য ব্যক্তিদের প্ররোচিত করে থাকলে অবাক হওয়ার কিছু নাই। অধ্যাপক ইউনূসও সংস্থাটির পরিচালকমণ্ডলীর একজন।

মামুন-উর-রশিদের ভাষায় ‘মানহানিকর বিজ্ঞাপন’টির মন্তব্যগুলো কেবল গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনই নয়, বরং বাংলাদেশের যে জনগণ কমিশনটির আইনি ভিত, তাদের প্রতিও বৈষম্যমূলক আচরণ।

ব্রুন্টলান্ডকে লেখা চিঠিতে সাবেক সচিব কমিশনের ‘নিরাবেগ মূল্যায়ন’ নিয়ে রেসাল্টস-এর ‘ইচ্ছাকৃত’ ‘তথ্যবিকৃতি’ ও ‘মিথ্যাচারে’র ৮টি দিক তুলে ধরেন।

লেখেন গ্রামীণ ব্যাংক কোনো ‘কম্পানি’র নাম নয়। গ্রামীণ ব্যাংক বিজ্ঞাপনের ভাষায় “স্বাধীন ঋণগ্রহীতা-চালিত কম্পানি”ও নয়, এটি সরকার-স্থাপিত সংবিধিবদ্ধ আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এই দুয়ের আইনি তাৎপর্য যে ভিন্ন সেটি গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে দাবি করেন কমিশন-প্রধান।

গ্রামীণ পরিবারভুক্ত ৫৪টি ‘সামাজিক ব্যবসায়’য়ের একটিও খোলার এক্তিয়ার ড. ইউনূসের নেই উল্লেখ করে মামুন-উর-রশিদ লেখেন সেসব ব্যবসায়গুলোর বিশাল সম্পদের মালিক ইউনূসের ঘনিষ্ঠ একটি ক্ষুদ্র স্বার্থান্বিত দল; এটি গ্রামীণব্যাংকের দরিদ্র-ভূমিহীন ঋণ-গ্রহীতাদের শোষণের নামান্তর।

অধ্যাপক ইউনূসের পক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচারের পেছনে তার সামাজিক ব্যবসায়গুলো থেকে এক পাই খরচ হয়ে থাকলেও সেটা বেআইনি বলে মন্তব্য করেন রশিদ।
বিডিনিউজ২৪ডটকম।

শুক্রবার, 15 নভেম্বর 2013 08:26

তারেকের অর্থ পাচার মামলার রায় রোববার

লিখেছেন

লন্ডনে সম্প্রতি বিএনপির এক অনুষ্ঠানে তারেক রহমান।
নিজস্ব প্রতিবেদক,  নিউজফ্ল্যাশ টোয়েন্টিফোর বিডি ডটকম
 অস্থির রাজনীতির মধ্যে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলার রায়ের দিন ঠিক হয়েছে।


বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি আদালত যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে জানিয়েছে, ২০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগের এই মামলায় আগামী রোববার রায় দেয়া হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোও মুদ্রা পাচারের আরেকটি মামলায় কারাদণ্ডাদেশ নিয়ে বিদেশে অবস্থান করছেন।

কোকো কারাভোগ এড়ালেও ২০১১ সালে ওই রায়ের পর থেকে জনসভাগুলোতে ছেলের কথা তুলে বিরোধীদলীয় নেতার সমালোচনা করে আসছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

তবে দলের পরবর্তী কর্ণধার হিসেবে যাকে দেখে আসছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা; সেই তারেকের বিরুদ্ধে এই মামলা রাজনৈতিক ‘প্রতিহিংসামূলক’ বলে তাদের দাবি।

অন্যদিকে মামলা দায়েরকারী দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে পেরেছেন তারা এবং আসামির শাস্তিও আশা করছেন।

তারেকের মামলার রায়ের তারিখ যখন ঠিক হল, তখন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে টানা হরতালের পর আরো জোরদার আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।

গত তিন সপ্তাহে ১০ দিন হরতাল করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। আগামী সপ্তাহেও একই কর্মসূচির ইঙ্গিত রয়েছে জোটের নেতাদের।

লন্ডনে সম্প্রতি বিএনপির এক অনুষ্ঠানে তারেক রহমান।
আগামী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে তারেকের অনুপস্থিতিতেই এই মামলার রায় হবে। মামলা দায়ের থেকে শুরু করে পুরো বিচার প্রক্রিয়ায়ই অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। এই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।

তারেক গত পাঁচ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে রয়েছেন। প্রবাসে থাকা অবস্থায়ই বিএনপির কাউন্সিলে দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।

তারেকের সঙ্গে তার বন্ধু বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনও এই মামলার আসামি। কারাবন্দি মামুন বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের সময়ও আদালতে ছিলেন।

ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মোতাহার হোসেন মামলার রায় দেবেন। তিনি রায়ের এই দিন ঠিক করেন বলে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আমাদের প্রতিবেদকে জানিয়েছেন।

বিএনপি ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বললেও এই আইনজীবী গত ৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের পর  বলেছিলেন, “আমরা মামলাটি চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আসামি তারেক রহমান ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছি।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তারেকের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা হলেও এই প্রথম কোনো মামলার নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে।

তারেক ও তার বন্ধু মামুনের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ৬ জুলাই এই মামলার বিচার শুরু হয়। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি দায়ের হয়েছিল ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর। গত বছরের জুলাই মাসে অভিযোগপত্র আদালতে দেয়া হয়।

চলতি বছরের ২৪ অক্টোবর বাদি ও আসামি পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষের পর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়, যা শেষ হল বৃহস্পতিবার।

এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুকেন্দ্র স্থাপনের কাজ নির্মাণ কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন মামুন।

সিঙ্গাপুরে লেনদেনের পর সেখানকার সিটি ব্যাংকে মামুনের হিসাবে জমা রাখা এই অর্থের মধ্যে ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা তারেক খরচ করেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।

শুনানিতে কাজল বলেন, “মামুন তারেকের সঙ্গে বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বাংলাদেশের ব্যাংককে ফাঁকি দিয়ে অর্থ পাচার করে দেন।”

২০০৩ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পন্থায় ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা সিঙ্গাপুরে পাচার করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

ওই সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট। আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, মা প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তখন হাওয়া ভবন ‘খুলে লুটপাট’ চালিয়েছিল তারেক।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, বনানীর নির্মাণ কনস্ট্রাকশন কোম্পানির মালিক খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে মামুন ওই অর্থ নিয়েছিলেন।

বিএনপির অভিযোগ, খাদিজাকে চাপ দিয়ে তারেকের বিরুদ্ধে এই মামলা ‘সাজানো’ হয়েছে।

মুক্তি পাওয়া ছেলের সঙ্গে খালেদা জিয়া।

জরুরি অবস্থা জারির পর ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তারেককে গ্রেপ্তার করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে পরের বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য যান।

স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তখন থেকে সেখানেই রয়েছেন তারেক। সম্প্রতি সেখানে দলীয় কয়েকটি অনুষ্ঠানেও তাকে অংশ নিতে দেখা গেছে।

তার অন্যতম আইনজীবী জয়নাল আবেদীন মেজবাহ জানান, তারেকের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা ছিল, সাধারণ ডায়েরি ছিল একটি।

এর মধ্যে পাঁচটি মামলা বিচারাধীন। সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারের এই মামলা ছাড়া অন্যগুলো হচ্ছে- জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলা, ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার দুই মামলা এবং সোনালী ব্যাংকের দায়ের করা ডান্ডি ডাইয়িংয়ের ঋণ খেলাপির মামলা।

একটি মামলা এবং একমাত্র সাধারণ ডায়েরির অভিযোগ থেকে তারেক খালাস পেয়েছেন বলে মেজবাহ জানান। বাকি ১০টি মামলার কার্যক্রম হাই কোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার, 14 নভেম্বর 2013 07:10

বাবার সাথে পুড়ছে ১৪ মাসের মরিয়মও

লিখেছেন


বাবার পোড়া বুকে কী নিশ্চিন্তেই না ঘুমাচ্ছে ১৪ মাসের মরিয়ম। ব্যান্ডেজ বাঁধা পোড়া হাতটি যেন সন্তানের মাথার ওপর ছায়া হয়ে আছে। কিন্তু এই সমাজ কি আজ রাজনীতি থেকে এতটুকু শান্তি, এতটুকু ছায়া পাচ্ছে? ফুটপাতের সবজি বিক্রেতা খবির উদ্দিনের শরীর পুড়িয়ে দিয়েছে সহিংস রাজনীতির আগুন। গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট থেকে তোলা ছবি ষ সাহাদাত পারভেজ
নিজস্ব প্রতিবেদক         
বাবার পোড়া বুকে কী নিশ্চিন্তেই না ঘুমাচ্ছে ১৪ মাসের মরিয়ম। ব্যান্ডেজ বাঁধা পোড়া হাতটি যেন সন্তানের মাথার ওপর ছায়া হয়ে আছে। কিন্তু এই সমাজ কি আজ রাজনীতি থেকে এতটুকু শান্তি, এতটুকু ছায়া পাচ্ছে? ফুটপাতের সবজি বিক্রেতা খবির উদ্দিনের শরীর পুড়ে দিয়েছে সহিংস রাজনীতির আগুন।
বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট বাবা খবির উদ্দিনের পাশে পরম নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছিল ১৪ মাস বয়সী মরিয়ম। খবির উদ্দিন কাতরাচ্ছিলেন যন্ত্রণায়। গত মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগে মিনিবাসে হরতাল-সমর্থকদের আগুনে দগ্ধ হন তিনি। তাঁর দুই হাত, বুক ও পিঠ কেবল পোড়েনি, যে কয়টি টাকা পকেটে ছিল, তা-ও পুড়ে যায়। পরে টাকা জোগাড় করে সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হন ফুটপাতের এই সবজিবিক্রেতা।

খবিরের চিন্তা তাঁর সন্তানদের নিয়ে। জেএসসি পরীক্ষার্থী বড় মেয়েসহ বাকি তিন মেয়েকে রেখে এসেছেন প্রতিবেশীর কাছে। স্ত্রী ও ছোট মেয়ে মরিয়মকে নিয়ে হাসপাতালে আছেন হতদরিদ্র এ ব্যক্তি।

গতকাল বুধবার রাজধানীর চকবাজারে ককটেলে আহত এক নারী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা মেডিকেলে। গত ১৯ দিনে হরতালে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ ও পেট্রলবোমায় ২জন নিহত ও ৭৬ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন প্রতিবন্ধী ও ১৩ জন শিশু। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সামন্ত লাল সেন জানান, গতকাল সকালে ওই হাসপাতালে হরতালে দগ্ধ ২৩ জন ভর্তি ছিলেন।

টাকাও পুড়েগেছে খবিরের: চিটাগাং রোডের ফুটপাতের সবজিবিক্রেতা খবির উদ্দিন গত মঙ্গলবার রায়েরবাগের কমল পরিবহনের যাত্রী ছিলেন। হরতাল-সমর্থকেরা বাসে আগুন দিলে খবিরসহ নয়জন দগ্ধ হন। এঁদের মধ্যে আটজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবির তাৎক্ষণিকভাবে ভর্তি হতে পারেননি। পোড়া শরীর নিয়ে তাঁকে বাড়ি ফরে যেতে  হয়েছে। কারণ, তাঁর কাছে হাসপাতালে যাওয়ার টাকা ছিল না। খবির উদ্দিন বলেন, ‘প্যান্টের পকেটে ছিল ৯৭০ টাকা। তা-ও পুড়ে গেছে।’

চার মেয়ে বাবা খবির থাকেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে। চিকিৎসকেরা জানান, খবিরের শরীরের ১৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।

খবির জানান, যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হন তিনি। ওই ইউনিটের চারতলায় এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে গিেেয় বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পাশে থাকা স্ত্রী অসুস্থ স্বামীর চোখের পানি মুছে দিচ্ছিলেন।

স্ত্রী তানিয়া বেগম বলেন, ‘শেষ আয়ের টাক্টাাও পুড়ে গেছে। সংসারের খরচ জোগাতে হরতালের মধ্যেও ওকে পাঠিয়ে ছিলাম দোকানদারি করতে। ক্যান যে পাঠালাম।’

গতকাল দুপুরে সেবিকা পরামর্শ দেন খবিরকে দিনে চারটা ডিম, টক ফল, ডাবের পানি খাওয়াতে। কিন্তু টাকার অভাবে স্বামীকে কিছুই খাওয়াতে পারেননি তানিয়া বেগম।

অগ্নিদগ্ধ অন্যদের অবস্থা: বার্ন ইউনিটের একজন চিকিৎসক জানান, গত মঙ্গলবার রায়েরবাগে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধ আটজনের মধ্যে তিনজন কিছুটা সুস্থ্য হয়ে বাসায়় গেছেন। তাঁরা হলেন রাবেয়া সুলতানা, আবু বক্কর সিদ্দিক ও আবদুল হাই। বার্ন ইউনিটের চারতলায় চিকিৎসাধীন আছেন আবদুল মান্নান, মো. শুভ, তারেক আহমেদ, আবুল কালাম আজাদ ও আবদুর রহিম।

শারীরিক প্রতিবন্ধী আবদুল মান্নানের স্ত্রী সাথী আক্তার বসে ছিলেন মাথায় হাত দিয়ে। নিঃসন্তানহীন এ দম্পতির ২৫ বছরের সংসারে এমন বিপর্যয় আগে আসেনি। হাসপাতালে স্বামী আবদুল মান্নানের পাশে নির্বাক বসে আছেন।

আবুল কালাম আজাদের মেয়ে কামরুন নাহার বাবার হাত ধরে রেখেছিলেন। যন্ত্রণায় বাবা হাত নাড়াতে পারছেন না। তাই ঘুমিয়ে থাকা বাবার হাত ধরে রেখেছেন তিনি। কামরুন নাহার বলছিলেন, ‘খুব জ্বর হলেও আব্বা শুয়ে থাকে না, আর এখন তো আব্বা চোখ খুলতেই পারতাছে না।’


মঙ্গলবার, 12 নভেম্বর 2013 07:40

সেনাবাহিনীর ১৫টি পদে রদবদল

লিখেছেন


বিশেষ প্রতিনিধি, নিউজফ্ল্যাশ টুয়েন্টিফোর বিডি ডট কম 
রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, ঢাকা সেনানিবাসের ৪৬ ব্রিগেডের কমান্ডারসহ সেনাবাহিনীর ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল হয়েছে। গত রোববার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সেনা সদর সূত্র জানায়, সেনা সদর দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ-ইএনসি) মেজর জেনারেল আবুল হোসাইনকে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সামরিক সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি মেজর জেনারেল ফখরুদ্দিনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। বাংলাদেশ অরডন্যান্স ফ্যাক্টরির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল আবদুল কাদিরকে সেনা সদর দপ্তরের ইএনসি করা হয়েছে।

সেনা সদরের সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবদুর রহমানকে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের প্রশিক্ষক (এসডিএস) করা হয়েছে। ৪৬ ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে মেজর জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে সেনা সদর দপ্তরের সামরিক সচিব করা হয়েছে। সাভার সেনানিবাসের ৮১ ব্রিগেডের কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন মিশন থেকে আসা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শারফুদ্দিন। তিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শিকদারের স্থলাভিষিক্ত হবেন, শিকদার কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে ইতুরি ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম মোস্তফাকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) থেকে সেনা সদরের ইএমই (প্রকৌশল) পরিদপ্তরের পরিচালক, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তামিম আহমেদকে আর্মি রিসার্চ ট্রেনিং অ্যান্ড ডকটিন কমান্ড (আরডক) থেকে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ, মিশন থেকে আসা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনিসুর রহমানকে বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক করা হয়েছে।

ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্সের (এনএসআই) পরিচালক কর্নেল আনোয়ার সোহেল সিদ্দিকীকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে উন্নীত করে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) কমান্ডার করা হয়েছে। তিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাকসুদের স্থলাভিষিক্ত হবেন। র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) কর্নেল মুজিবুর রহমানকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে ৪৬ ব্রিগেডের কমান্ডার করা হয়েছে।

কর্নেল সাইফ-উর-রহমানকে আরডক থেকে পদোন্নতি দিয়ে আরমার্ড সেন্ট্রাল স্কুলের কমান্ড্যান্ট, কর্নেল ওমর জাহিদকে সিগন্যাল সদর দপ্তর থেকে সেনা শিক্ষা ও প্রশাসন স্কুলে (আসিয়া), চট্টগ্রাম ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কর্নেল শাহরিয়ার আলমকে পদোন্নতি দিয়ে সামরিক গোয়েন্দা স্কুলের (এসএমই) কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে।

যশোর সেনানিবাসের লে. কর্নেল শামীম আহমেদকে পদোন্নতি দিয়ে আর্মি অ্যাভিয়েশনে কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে। মিশন থেকে আসা লে. কর্নেল আদিল চৌধুরীকে পদোন্নতি দিয়ে ডিজিএফআইয়ের কর্নেল জিএস করা হয়েছে।


রবিবার, 10 নভেম্বর 2013 08:49

২০০ গাড়িতে ভাংচুর-আগুন

লিখেছেন

  
যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় গতকাল সকালে বিআরটিসির একটি দোতলা বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। পথচারীরা মুঠোফোনে পুড়ে যাওয়া বাসের ছবি তুলছেন  প্রথম আলো
নিজস্ব প্রতিবেদক
যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় গতকাল সকালে বিআরটিসির একটি দোতলা বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা

 কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেপ্তার ও বাসায় পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদে আরও ১২ ঘণ্টা হরতাল বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, আজ রোববার সকাল ছয়টা থেকে শুরু হয়ে আগামী বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত টানা চার দিন হরতাল চলবে।

এদিকে হরতাল শুরুর আগেই গতকাল শনিবার রাজধানী ঢাকাসহ সিলেট, চট্টগ্রামের মিরসরাই, ফরিদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সাতক্ষীরায় দুই শতাধিক যানবাহন ভাঙচুর করেছেন হরতাল-সমর্থকেরা। এর মধ্যে ঢাকায় পাঁচটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গতকাল সন্ধ্যা থেকে রাজধানীতে আধা সামরিক বাহিনী বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মোতায়েন করা হয়েছে।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী হরতালের সময়সীমা বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপির পাঁচ নেতাকে গ্রেপ্তার ও অন্য নেতাদের বাসায় পুলিশি হানার প্রতিবাদে আগামীকাল রোববার (আজ) সকাল ছয়টা থেকে পূর্বঘোষিত টানা ৭২ ঘণ্টার সঙ্গে আরও ১২ ঘণ্টা বাড়িয়ে ৮৪ ঘণ্টা করা হয়েছে।’ এর আগে গত শুক্রবার নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আজ ছয়টা থেকে টানা ৭২ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিয়েছিল ১৮-দলীয় জোট। নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিএনপির ডাকা এটাই সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের হরতাল। এর আগে সর্বশেষ গত ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর এবং ৪ থেকে ৬ নভেম্বর বিরোধী দল টানা ৬০ ঘণ্টা করে দুই দফা হরতাল পালন করে।

গাড়িতে আগুন-ভাঙচুর: গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ফকিরেরপুল, শান্তিনগর, মহাখালী ও গুলিস্তানে পাঁচটি যানবাহনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল নয়টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় বিআরটিসির একটি দোতলা বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। যাত্রাবাড়ী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। দুপুর ১২টার দিকে মহাখালীর তিতুমীর কলেজের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ভূঁইয়া মাহবুব হাসান বলেন, বাসটি বিআরটিসির, তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়া করে। যাত্রীবেশে দুর্বৃত্তরা বাসে চড়ে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শিক্ষার্থীরা ধাওয়া করে আশিক নামের একজনকে আটক করেন এবং তাঁকে পুলিশের সোপর্দ করেন। এদিকে প্রায় একই সময়ে ফকিরেরপুলে পুলিশ হাসপাতালের সামনে একটি প্রাইভেট কারে আগুন লাগিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলেন।

বেলা দেড়টার দিকে শান্তিনগরে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার সহকারী কমিশনার (এসি) আবু ইউসুফের ব্যবহূত মাইক্রোবাসে আগুন ধরিয়ে দেন কয়েকজন যুবক। রাজারবাগে মেরামত শেষে চালক মাইক্রোবাসটি নিয়ে এসি আবু ইউসুফের কর্মস্থল রাজধানীর মিন্টো রোডে ফিরছিলেন। অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও স্থানীয় লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলেন। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে গুলিস্তানে গোলাপ শাহ মাজারের সামনে একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।প্রায় একই সময়ে রাজধানীর শাহবাগের শিশুপার্কের সামনে পেট্রলবোমায় আহত হন একটি বিমা কোম্পানির অফিস সহকারী আবদুর রাজ্জাক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এক সহকর্মীসহ তিনি শাহবাগ মোড় থেকে গুলিস্তান যাওয়ার জন্য বাসে ওঠেন। বাসের দরজার কাছেই ছিলেন তিনি। হঠাৎ বাসের দরজা বরাবর একটি পেট্রলবোমা বিস্ফোরিত হয়। এতে তাঁর হাত ও শরীরের কিছু জায়গায় জখম হয়।

বিভিন্ন জেলায় ভাঙচুর, সংঘর্ষ:  প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে জানা যায়, হরতালের সমর্থনে গতকাল ও আগের দিন শুক্রবার রাতে সিলেট শহর, চট্টগ্রামের মিরসরাই, ফরিদপুর শহর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ও সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় প্রায় ২০০ যানবাহন ভাঙচুর করেছেন বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। এ সময় পিকেটারদের সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশ ও বিএনপির নেতাসহ ৩০ জনের বেশি আহত হন।

বৃহস্পতিবার, 07 নভেম্বর 2013 22:45

মনিরের বাড়িতে শোকের মাতম

লিখেছেন



গাজীপুর সংবাদদাতা
বিএনপিসহ বিরোধী জোটের হরতালে আগুনে পুড়ে মৃত কিশোর মনিরের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে।

হরতালের আগুনে এমন নির্মমভাবে আর কোনো মায়ের বুক যাতে খালি না হয় সেজন্য নিহতের মা-বাবা ও আত্মীয়-স্বজনরাসহ এলাকাবাসীরা হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।

তিনদিন মৃত্যুও সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে মনির।

তার মৃত্যুর খবরে চাপাইরের বড়কাঞ্চনপুর গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী মনিরদের বাড়িতে ভিড় জমায়।

তখন মনিরের মা মিনারা বেগমের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছে পরিবেশ। তা দেখে অনেকে চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

মিনারা বিলাপ করে বলতে থাকেন, ‘আমরা তো কোনো রাজনীতি বুঝি না, রাজনীতিও করি না। এরপরও কেন হরতালের নির্মম বলি হতে হলো আমার ছেলেকে।’

ছেলের হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, হরতালের আগুনে এমন নির্মমভাবে আর কোন মায়ের বুক যাতে খালি না হয়।

এসময় উপস্থিত এলাকাবাসীরাও একই দাবি জানান।

বড়কাঞ্চনপুর এলাকার কাভার্ডভ্যান চালক মো: রমজান আলীর ছেলে মনির সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তা পূর্বপাশে জাতীয় আইন কলেজের সামনে দাঁড় করানো বাবার কাভার্ডভ্যানে ঘুমিয়ে ছিল। হরতালের সমর্থকরা কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরিয়ে দিলে মারাত্মক দগ্ধ হয় সে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ভোর পৌনে ৫টার দিকে হাসপাতালের মনিরের মৃত্যু হয়।

এদিকে মৃত্যুর খবর পেয়ে সকালেই গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হক ও চাপাইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো সাইফুজ্জামান সেতুসহ স্বজনরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান।

বিকেল ৩টার দিকে মনিরের লাশ বড়কাঞ্চনপুরে পৌঁছে। এসময় আত্মীয়স্বন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে পুরো এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। মনিরে মা-বাবা কয়েকবার মুর্ছা যান।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ হাজার হাজার গ্রামবাসী তাদের বাড়িতে উপস্থিত হন। কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, চাপাইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুজ্জামান সেতু, শ্রীফলতলী ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা রফিক উদ্দিন আহমেদ, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা রেজাউল করিম রাসেল সমবেদনা জানাতে নিহতে মনিরের বাড়িতে যান।

বাদ আসর নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ফেসবুক-এ আমরা