02192020বুধ
শিরোনাম:
স্পটলাইট

স্পটলাইট (900)

বিশেষ প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্ট সকলকে এই ব্যাপারে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আলোচনা করেছি, চুক্তি সম্পাদন করেছি এবং তাদের (মিয়ানমার) সঙ্গে আলাপ- আলোচনার মাধ্যমে এদেরকে (রোহিঙ্গা) নিজ দেশে ফরত পাঠানোটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা এখনও কাজ করে যাচ্ছি। মিয়ানমারের সাথে আমরা ঝগড়া বাঁধাতে যাইনি।’ শেখ হাসিনা আজ সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এসে উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে একথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে রয়েছেন। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠ্যতা অর্জনের পর চতুর্থবারের মত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের অংশ হিসেবে এদিন প্রথম বারের মত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসেন তিনি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়।’ এই নীতিতেই তার সরকার বিশ্বাসী এবং সেই নীতিতেই সরকার পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এটাই বলবো মিয়ানমার যেহেতু আমাদের প্রতিবেশী। আমরা কখনও তাঁদের সঙ্গে সংঘাতে যাব না।’ ‘বরং তাঁদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের নাগরিকদের তারা যেন ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেই প্রচেষ্টাই আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। সে বিষয়ে সবাই যেন সেভাবেই দায়িত্ব পালন করেন, সেজন্যও আমি অনুরোধ করবো,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রাকৃতিক বা মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগ, যাই হোক না কেন তাকে মোকাবেলা করার ক্ষমতা বাংলাদেশ রাখে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়াটাও আজকে বিশ্বের অনেকের কাছেই বিস্ময়।’ কেবল মানবিক কারণেই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মানবিক কারণেই এটা করেছি। নিজেদেরও বলতে গেলে রিফিউজি হিসেবে ’৭৫ এর পরে ৬ বছর বিদেশে অবস্থান করতে হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, নিজের নামটাও আমরা ব্যবহার করতে পারিনি। এরকম দিনও আমাদের মোকাবেলা করতে হয়েছে।’ মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের শরণার্থীরা ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের নিজেদেরই অভিজ্ঞতা রয়েছে যে, ১৯৭১ সালে আমাদের ১ কোটি মানুষ শরণার্থী হিসেবে ছিল। তাদেরকে নিয়ে এসে পুনর্বাসন করতে হয়েছে, সেই অভিজ্ঞটাও রয়েছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা কারো সাথে যুদ্ধ করবো না, আমরা যুদ্ধ করতে চাইনা, সবার সঙ্গে একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই।’ সেনাবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শামসুল হক, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ এসময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রতিরক্ষা সচিব আখতার হোসেন ভূইয়াঁ, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং পদস্থ সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ এ জাতির পিতাকে হত্যার পর এদেশ সমগ্র বিশ্বে তাঁর মর্যাদা হারিয়েছিল। আর ২১ বছর পর ’৯৬ সালে আমাদের সরকার গঠনের পর তাঁর সরকারের লক্ষ্যই ছিল এই হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করা। প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে এসে স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘এই জায়গাটা আমাদের অনেক স্মৃতি বিজড়িত জায়গা। তিনি বলেন, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখানেই অফিস করেছেন। তখন এটাই ছিল তাঁর অফিস। আর আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হিসেবে যেটা ব্যবহার করছি সেটা ছিল পার্লামেন্ট হাউজ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীক হচ্ছে তাঁর প্রতিরক্ষা। একটা দেশকে কিভাবে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করা যায়, আবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতি গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়গুলোও এখান থেকেই কার্যকর করা হয়। আমাদের দেশের আবহাওয়া জলবায়ু থেকে শুরু করে অনেক কাজই হয় এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সরকার গঠনের পর সবসময় এই মন্ত্রণালয়টি তিনি নিজের কাছেই রাখেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে, আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক সশস্ত্র বাহিনীকে যেমন আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা যাচ্ছে, তেমনি ভৌগলিক অবস্থানের কারণে জলবায়ুর প্রভাব নিয়ে কাজ করারও একটা সুযোগ আমাদের রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এসময় ভারত এবং মিয়ানমারের সঙ্গে স্থল সীমানা চুক্তি এবং সমুদ্র সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, জাতির পিতাই এর শুরুটা করে যান। কিন্তু কেন যে পরবর্তী সরকারগুলো সেটা বাস্তবায়ন করেনি সেটা বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, সে সময় ১৯৭৪ সালেই জাতির পিতা ভারতের সঙ্গে ‘স্থল সীমানা চুক্তি’ করে সংসদে আইন পাশ করে সংবিধান সংশোধন করে তা সন্নিবেশিত করে যান। আর বঙ্গবন্ধু সেই ’৭৪ সালেই সমুদ্র সীমানা আইন করে যান, যেখানে জাতিসংঘও এই আইন করেছে ১৯৮২ সালে। কাজেই পৃথিবীর বহু দেশ পরবর্তীতে সমুদ্র সীমা নিয়ে কোন বিরোধ নিষ্পত্তির দরকার হলে আমাদের আইনটাকেই তারা ব্যবহার করতো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের সংবিধানে যেহেতু স্থল সীমানা আইনটি পাশ হয়নি তাই স্বাভাবিকভাবেই সেটা আর তখন কার্যকর হয়নি এবং আমাদের কোন সরকারও ভারতের কাছে বিষয়টি তোলেনি। তবে, ’৯৬ সালে সরকারে আসার পরই এই বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে সেটি তাঁর সরকার বাস্তবায়ন করে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা শান্তি চাই, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই কিন্তু কেউ যদি আমাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করে তার যথাযথ জবাব যেন আমরা দিতে পারি এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যেন রক্ষা করতে পারি সে প্রস্তুতিটা সবসময় আমাদের থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের জন্য নয়, শান্তির জন্যও আমাদের প্রস্তুতি দরকার। আর সেখানেও অবশ্যই আমরা একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে যাতে চলতে পারি সে ব্যবস্থাটাও আমাদের থাকা উচিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরসঙ্গে আরেকটি বিষয় হলো এখন শান্তি রক্ষার জন্য আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যাচ্ছে (শান্তিরক্ষা মিশনে), পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যাচ্ছে। আমাদের যারা সেখানে যাবে আমি মনে করি, বিশ্ব পরিবর্তনশীল সেখানে প্রতিনিয়ত প্রযুক্তির পরিবর্তন হচ্ছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি এবং যুদ্ধের সরঞ্জাম থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রেই এবটি পরিবর্তন এবং আধুনিকায়ন হচ্ছে কাজেই আমাদের যারা সেখানে যাবে তাঁরা সববিষয়েই পারদর্শী হবে সেটাই আমরা চাই। কাজেই এটা একান্তভাবে দরকার। তিনি যুগোপযোগী আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সেভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, সে ধরণের সরঞ্জামাদি যোগার করা এবং উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের গড়ে তোলা, কোথায় গিয়ে যেন আমাদের কাউকে কখনো ছোট মনে করতে না হয়, আমরা সেটাই চাই। এমনকি আমাদের পদবীর বিষয়ে আধুনিকায়ন করতে হবে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথমবারের পেন্টাগন সফরের উল্লেখ করে বলেন, এই অভিজ্ঞতার আলোকে দেশের সেনাবাহিনীর সকল পদকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হয়, তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা জাতিসংঘে যাচ্ছি কাজেই পরিচয়ের ক্ষেত্রে যেন সকলে সমান থাকতে পারি, যে যত ছোট বা বড় হোক না কেন। সেজন্য সমস্ত পদবিগুলোকে ঢেলে সাজানো হলো। মন্ত্রণালয়গুলিও যেন আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর হয় সে পদক্ষেপটাও আমরা নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী এসময় ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত করে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার স্মৃতি রক্ষার্থে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি কিছুটা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি সেখনে রক্ষিত পরিদর্শন বইয়েও স্বাক্ষর করেন।
বিশেষ প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ৪৯তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আজ সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সম্মুখে স্থাপিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পার্ঘ্য প্রদানের পর তিনি স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁর দলের পক্ষ থেকেও দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরেকবার পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক বাসচাপায় বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে ফের রাস্তায় নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। দ্বিতীয় দিনের মতো আজ বুধবার তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া ও বিইউপির উপাচার্য মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারী। এ সময় মেয়র আতিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমি আপনাদের সব দাবির সঙ্গে একমত, আমিও ন্যায়বিচার চাই। আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। এখানে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। আপনারা আমার সঙ্গে থাকেন। আপনাদের সব দাবি বাস্তবায়ন করা হবে। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, আশ্বাসে আস্থা নেই তাঁদের। দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আতিকুল ইসলাম বলেন, আমি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি, আমি আপনাদের প্রতিনিধি। একইসঙ্গে আন্দোলন স্থগিত করতে অনুরোধ করেন তিনি। মেয়রের এ অনুরোধে সাড়া না দিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা ঘুম পাড়ানির মাসিপিসির গল্প শুনতে চাই না। এদিকে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর। ওই দুর্ঘটনার পর গত মঙ্গলবার নর্দায় গিয়ে সংহতি জানান তিনি। উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে প্রগতি সরণির নর্দ্দায় সু-প্রভাত পরিবহনের একটি বাসের চাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরী নিহত হয়। পরে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ৮ দফা দাবি ঘোষণা করেন এবং বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেন।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে হ্যাগলি ওভাল মাঠের কাছে এক মসজিদে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। এতে ২৭ জন নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছে আরো অনেকে। এমন ঘটনাকে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের কলঙ্কময় দিনগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডেন বলেছেন, হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব না হলেও আমি এটা বলতে পারি যে এটি নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের কলঙ্কময় দিনগুলোর একটি। জানা যায়, ক্রাইস্টচার্চ শহরের হ্যাগলি পার্ক মুখী সড়ক দীন এভিনিউতে আল নুর মসজিদে স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার বেলা দেড় টা নাগাদ এই হামলার ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে ক্রাইস্টচার্চের অন্তত দু'টি মসজিদে এখন পর্যন্ত গোলাগুলির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়ড়ারা। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে চারজনকে পুলিশ আটক করেছে। কিন্তু আরো একজন বন্দুকধারী 'সক্রিয়' থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। এছাড়া পরবর্তী নোটিশ না দেয়া পর্যন্ত সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে বের হতে এবং রাস্তায় নামতে নিষেধ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত স্কুলও বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মির্জাপুর কুমুদিনী কমপ্লেক্সে কিংবদন্তীতূল্য রাজনৈতিক নেতা তদানিন্তন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (মরণোত্তর), জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ (মরণোত্তর) চার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে দানবীর রনোদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণ পদক হস্তান্তর করেছেন। স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত অপর দুই ব্যক্তিত্ব হলেন, নজরুল বিশেষজ্ঞ এবং গবেষক প্রফেসর রফিকুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দীন। প্রধানমন্ত্রী কুমুদিনী কমপ্লেক্সে পদকপ্রাপ্ত এবং তাদের প্রতিনিধিদের হাতে স্বর্ণ পদক হস্তান্তর করেন। কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের ৮৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বিশিষ্ট ৪ ব্যক্তিকে ‘দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণ পদক’ হস্তান্তর করেন । জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সোহরাওয়ার্দীর পক্ষে শেখ রেহানা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণ পদক গ্রহণ করেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে তাঁর নাতনী খিলখিল কাজী স্বর্ণ পদক গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে বৃহস্পতিবার সকালে কুমুদিনী কমপ্লেক্স হেলিপ্যাডে পৌঁছেন। এখানে পৌঁছার পরে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীরা বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে প্রদর্শন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুমুদিনী কমপ্লেক্স মনোরমভাবে সজ্জিত করা হয়। বাসস।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের স্বাস্থ্যের ক্রম উন্নতি হচ্ছে। তিনি চিকিৎসক এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে স্বাভাবিক কথা বলছেন। কাল সোমবার তাঁকে আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তরেরও সম্ভাবনা রয়েছে। সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা সমন্বয়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক এবং নিওরোলজিস্ট প্রফেসর ডা. আবু নাসার রিজভী আজ রবিবার সকালে এ তথ্য জানান। এর আগে কার্ডিও থোরাসিক সার্জন ডা. সিবাস্টিন কুমার সামি জনাব কাদেরের চিকিৎসার সর্বশেষ অগ্রগতি পরিবারের সদস্যদের জানান। এ সময় কাদেরের সহধর্মিনী বেগম ইসরাতুন্নেসা কাদের, ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মীর্জা, সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমসহ সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ ১৫৭ জন আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। এয়ারলাইন্সের একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ম্যাক্স উড়োজাহাজটি ইথিওপিয়ার স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৮টা ৪৪ মিনিটে দুর্ঘটনায় পড়ে। ফ্লাইট ইটি ৩০২ উড়োজাহাজটি ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে যাচ্ছিল। উড়োজাহাজটিতে ১৪৯ জন যাত্রী এবং আটজন ক্রু ছিলেন। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই আদ্দিস আবাবা থেকে ৬২ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে বিশফটু শহরের কাছে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয় বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনটি। নাম প্রকাশ না করে এয়ারলাইন্সটির এক মুখপাত্র বলেছেন, “সকাল ৮টা ৪৪ মিনিটে এটি ঘটেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।” এক বিবৃতিতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনটি। তবে দুর্ঘটনায় কতোজন নিহত হয়েছেন তা বিস্তারিত জানায়নি তারা। “ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের কর্মীদের দুর্ঘটনাস্থলে পাঠানো হচ্ছে এবং জরুরি সেবা দেওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন সম্ভাব্য সবকিছু করার চেষ্টা করবে তারা,” বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে একটি টুইট করেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
সোমবার, 04 মার্চ 2019 18:05

ইউ আর লাকি : কাদেরপতœীকে ডা. শেঠী

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যে চিকিৎসা পেয়েছেন তা ইউরোপ, আমেরিকাতেও পেতেন না বলে জানিয়েছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট ডা. দেবী শেঠী। সোমবার দুপুরে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) লাইফ সাপোর্টে থাকা ওবায়দুল কাদেরকে দেখেন ডা. দেবী শেঠি। পরে তিনি বেরিয়ে এলে ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী ইসরাতুন্নেসা কাদের স্বামীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় এই কার্ডিওলজিস্ট কাদেরপতœীকে বলেন, ইউ আর ভেরি লাকি। এক সংবাদ সম্মেলন করে বিএসএমএমইউ-এর উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, শুরুতে ডা. দেবী শেঠী সেতুমন্ত্রীর করা সব রিপোর্ট দেখেন। এনজিওগ্রাম দেখার পর কিছুক্ষণের জন্য তাকে পর্যবেক্ষণে রাখেন। পরে তিনি (ডা. শেঠী) বলেন, তার যা চিকিৎসা প্রয়োজন সবটাই করা হয়েছে। এর চেয়ে বেশি চিকিৎসা ইউরোপ-আমেরিকাতেও হয় না। এখন চাইলে আপনারা তাকে শিফট করতে (দেশের বাইরে) পারেন। সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিবিসি বাংলা কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষে সবসময় যুক্তরাষ্ট্র অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিলব বলে জানাচ্ছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। কিন্তু চলমান সংকট নিরসনে আমেরিকা কী করতে পারে - তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতের একটি সামরিক কনভয়ে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৪০জন সেনা সদস্য নিহত হয়। পাকিস্তান-ভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জৈশ-এ মোহাম্মদ এই হামলার দায় স্বীকার করে। এদিকে গত ২৬ই ফেব্রুয়ারি ভারতীয় বিমান বাহিনী দাবি করে, তারা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাটিতে বিমান হামলা করেছে এবং জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছে। এর পর থেকে দু'দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌছে। তবে সেই হামলায় কোন ধরনের হতাহত হয়নি দাবি করে পাকিস্তান জানায় তারা ভারতীয় বিমানটিকে ধাওয়া করে তাড়িয়ে দিয়েছিল। যাওয়ার সময় বালাকোট নামক স্থানে বোমাগুলো ফেলে যায় ভারতীয় বিমান বাহিনী। এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব মাইকেল পম্পেও দু'দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে কথা বলেন। একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, "আমি দুদেশের মন্ত্রীদেরই বলেছি যেন ভারত ও পাকিস্তান ধৈর্য নিয়ে যেকোনো মূল্যে খারাপ পরিস্থিতি এড়িয়ে চলে।" "আমি তাদেরকে [ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের] বলেছি যেন তারা সরাসরি যোগাযোগকে গুরুত্ব দেয় এবং পরবর্তীতে যেকোন সামরিক কর্মকান্ড থেকে নিজেদের বিরত থাকে।" এমন বিবৃতির পরের দিনই গতকাল কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বা লাইন অফ কন্ট্রোল বরাবর ভারত আর পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ভারতীয় গোলার আঘাতে পাকিস্তানের তিনজন নারী ও একটি শিশু মারা গেছে। আহত হয়েছেন ১১ জন। অন্যদিকে, পাকিস্তানি বাহিনীর ছোঁড়া গোলায় পাঁচজন ভারতীয় সৈনিকের আহত হওয়ারও খবর আসে। পরে পাকিস্তান দাবি করে তারা দুটো ভারতীয় বিমানকে ভূপাতিত করেছে এবং একজন পাইলটকে আটক করেছে। অপরদিকে ভারত দাবি করেছে, তারা পাকিস্তানের একটি বিমান ভূপাতিত করেছে। এদিকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং আনের সাথে আলাপ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভিয়েতনামে গিয়েছেন। তারপরও এই সংকট নিরসনে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ করছেন অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি'র ন্যাশনাল সিকিউরিটি কলেজের প্রধান অধ্যাপক ররি মেডকাল্ফ। গতকাল সংঘাতের এক মুহূর্তে তিনি এক টুইটবার্তায় বলছেন: "বিশ্বের জন্য জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসন সবচেয়ে যে ভাল কাজটি করেছিলেন সেটি সম্ভবত ২০০২ সালে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নিরসন করা।" "২০০২ সালে রিচার্ড আর্মিটেজ এর সুক্ষ্ম কূটনীতির কথা স্মরণ করছি। আমার সন্দেহ আছে যুক্তরাষ্ট্র এখনকার পরিস্থিতিতে একই ভূমিকা পালন করতে সক্ষম কি-না," লিখেন তিনি। এবার তেমন কোনও উদ্যোগ কেন দেখা যাচ্ছেনা - বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতির অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই মুহূর্তে কোনরকম উদ্যোগ নেয়ার বিভিন্ন রকম সমস্যা আছে। তার মধ্যে অন্যতম প্রধান সমস্যা যুক্তরাষ্ট্রে এখন পাকিস্তানের সাথে ঘনিষ্ঠতা বজায় বজায় রাখতে হচ্ছে, কারণ এখন আফগানিস্তানে তালেবানের সঙ্গে যে আলোচনাটা হচ্ছে সেটা পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতায় হচ্ছে, বলছেন তিনি। "পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এখন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পক্ষে এমন কোন অবস্থান নিতে পারবে না যেটা শেষপর্যন্ত আফগানিস্তানে তালেবানের সাথে শান্তি আলোচনাটা ভুল হয়ে যায়। তিনি জানান, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সখ্য এখন এমন অবস্থায় যে, ভারতের বিরুদ্ধে কোন অবস্থান বা পাকিস্তাানের পক্ষপাত করার কোন সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের নেই। "ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের যে অবস্থা তাতে আমার মনে হয় তারা অপেক্ষা করছে, যে দুপক্ষই যদি কোনভাবে ধৈর্যের পরিচয় দিতে পারে, তাহলে হয়তো পরবর্তীতে তারা পরোক্ষভাবে দুপক্ষকেই এক ধরনের আলোচনায় আনতে চেষ্টা করবেন," মত আলী রিয়াজের। এদিকে মস্কোর কর্তৃপক্ষও দুই দেশের সাথে যোগাযোগ করে উভয়কে 'সংযত থাকতে' বলেছে। বর্তমানের সমস্যাগুলো রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক প্রথায় সমাধান করতে হবে বলে রাশিয়া মনে করছে। চীন এবং ইউরোপিয় ইউনিয়নও একই ধরনের মতামত প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার, 21 ফেব্রুয়ারী 2019 17:55

নির্ঘুম রাত কাটালেন প্রধানমন্ত্রী

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক ভাষা দিবসের শহীদদের স্মরণে শোক ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে দেশবাসীর যখন প্রস্তুতি চলছিল তখনই চকবাজরের ঘটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড। বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে রাজধানীর চকবাজার এলাকার নন্দকুমার দত্ত সড়কের চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পেছনের একটি ভবনে আগুন লাগে। রাতে আগুনের ভয়াবহতার কথা শোনা মাত্রই চিন্তিত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নিজ উদ্যোগে খোঁজখবর নেয়া শুরু করেন। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতির খবরাখবর ও উদ্ধার অভিযান পরোক্ষভাবে তদারকি করতে থাকেন তিনি। এসময় তাকে খুব চিন্তিত ও বিমর্ষ দেখা যায়। সারারাত এভাবেই নির্ঘুম কাটালেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ চকবাজারের অগ্নিকান্ডের ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় এসব তথ্য জানান। প্রেস ব্রিফিংয়ে মেয়র খোকন বলেন, ‘ দুর্ঘটনার পর থেকে সার্বক্ষণিক অগ্নিকান্ডের খোঁজখবর রাখছেন প্রধানমন্ত্রী। সারারাত তার তত্ত্বাবধানে আমরা উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেছি।’ মেয়র সাঈদ খোকন আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনায় নিহত ও আহত সবার পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন’। এর আগে চকবাজারে ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটনার শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা