08052020বুধ
স্পটলাইট

স্পটলাইট (963)

নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক : বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে দেশের সকল দু:খী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে দেশবাসীকে অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী আজ। এই দিনে আমরা সকলে মিলে অঙ্গীকার করি- আমাদের যা কিছু আছে, তাই দিয়ে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাব।’ শেখ রেহানা ১৭ মার্চ রাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী এবং মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্তকালে একথা বলেন। বাসস। বাবা ‘আজ জীবিত না থাকলেও বাংলার কোটি মানুষের হদয়জুড়েই তিনি রয়েছেন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুন্দর, সমৃদ্ধ এবং দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও নিরক্ষরতামুক্ত দেশ গড়ব। সোনার বাংলাকে ভালবাসব। পরশ্রীকাতরতা থেকে নিজেদের মুক্ত রাখব।’ জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, ‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলা’র অনুকরণে শেখ রেহানা বলেন, ‘ঘরে ঘরে মুজিবের আদর্শের দুর্গ তৈরি করে তার আলো ছড়িয়ে দিব। কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।’ তিনি জানান, বাবা বলতেন, ত্যাগ-তিতিক্ষা ছাড়া কোন জাতি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। একটা মানুষ দেশের জন্য, মানুষের জন্য কতখানি ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন, তা আমরা খুঁজে পাই তাঁরই লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ থেকে। শেখ রেহানা বলেন, জাতির পিতা কোন অন্যায়ের কাছে মাথা নত ও আপোষ করেননি এবং লোভ-লালসা ভোগ-বিলাস থেকে নিজেকে সবসময় দূরে রেখেছেন। কারণ মানব কল্যাণই ছিল তাঁর ধ্যান-ধারণায় এবং বিশ্বাসে-নিঃশ্বাসে। তিনি বলেন, ‘এমন মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আসেন। আসলেও তাঁরা ক্ষণস্থায়ী হন।’ তাঁর মাতা এবং জাতির পিতার ছায়াসঙ্গী বঙ্গমাতা বেগম মুজিব এবং দাদা-দাদিকেও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন শেখ রেহানা। তিনি বলেন, ‘এই দিনে আমি শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করি মুজিবের রতœগর্ভা মা শেখ সায়রা খাতুন এবং বাবা শেখ লুৎফর রহমানকে। আরও স্মরণ করি চিরদিনের সুখে-দুঃখে মরণের সাথী তাঁর প্রিয় রেণু-কে।’ তিনি জাতির পিতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে নিজের বাবা ও বাঙালি জাতি রাষ্ট্রের স্থপতির জন্য দোয়া চান। তিনি বলেন, ‘আজকের এই দিনে আমরা তাঁর (বঙ্গবন্ধু) আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আমরা সবাই মিলে হাত তুলে দো’য়া করি সর্বশক্তিমান আল্লাহ যেন তাঁকে বেহেশত নসীব করেন।’
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক দেশের এক কোটি ৪০ লাখ শিশুর হাতে চলে গেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি চিঠি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে এ চিঠি লিখেছেন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা তার এ চিঠি ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়ূয়া এক কোটি ৪০ লাখ শিশুর পাঠ করার কথা ছিল। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা আসার পর আপাতত এ কর্মসূচি বাতিল করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন জানান, করোনাভাইরাসের কারণে আমরা আমাদের প্রোগ্রামটা বাতিল করেছি। প্রধানমন্ত্রীর চিঠি আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেব। সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাড়িতে বসেই এ চিঠি পাঠ করবেন। আমরা সারা বাংলাদেশে আজকেই প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি পৌঁছে দেব। বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে বলেও প্রতিমন্ত্রী এ সময় জানান। তিনি বলেন, ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বন্ধের সময়টা শিক্ষার্থীদের বাড়িতে থাকতে হবে। বাইরে ঘোরাফেরা করা যাবে না। বাসায় বসে লেখাপড়া করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় তাহলে আবারও স্কুল খোলা হবে। নতুবা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মো. আকরাম আল হোসেন বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের ভালোবেসে নিজে কলম তুলে নিয়েছেন। তাদের কাছে চিঠি লিখেছেন। শিশুদের কোমল হৃদয়ে বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করানোর জন্য এ উদ্যোগ। প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন পুত্রের শিক্ষকের কাছে একটি চিঠি লিখেছিলেন। তা ইতিহাস হয়ে আছে। শিশুদের জন্য বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা তার যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই চিঠিও ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।' সচিব বলেন, জাতির পিতার জীবন ও সংগ্রামের তথ্যগুলো জানার মধ্য দিয়ে সারাদেশের প্রায় দেড় কোটি শিশুর মধ্যে দেশপ্রেম বোধ, স্বাধীনতার চেতনা জাগ্রত করা এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। আজকের শিশুরাই ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর। তাই তাদের উজ্জীবিত করার জন্যই এ উদ্যোগ। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর প্যাডে লেখা মুজিববর্ষের লোগোসহ হুবহু চিঠিটি শিশুদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। ঘরে বসে তারা চিঠি পড়বে। দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিশুকে লেখা সরকারপ্রধানের এটিই প্রথম চিঠি। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এটি বিশ্বরেকর্ড হতে পারে। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী যা লিখেছেন- "ছোট্ট সোনামণি, আমার শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নিও। তোমার বাবা-মাকে আমার সালাম ও ভাইবোনদের স্নেহ পৌঁছে দিও। পাড়া-প্রতিবেশীদের প্রতি শুভেচ্ছা রইলো। আজ ১৭ই মার্চ। ১৯২০ সালের এদিনে বাংলার মাটিতে জন্ম নিয়েছিলেন এক মহাপুরুষ। তিনি আমার পিতা, শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশ নামের এই দেশটি তিনি উপহার দিয়েছেন। দিয়েছেন বাঙালিকে একটি জাতি হিসেবে আত্মপরিচয়ের সুযোগ। তাই তো তিনি আমাদের জাতির পিতা। দুঃখী মানুষদের ক্ষুধা-দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিতে নিজের জীবনের সব সুখ-আরাম বিসর্জন দিয়ে তিনি সংগ্রাম করেছেন। বারবার কারাবরণ করেছেন। মানুষের দুঃখ-কষ্ট তাঁকে ব্যথিত করতো। অধিকারহারা দুঃখী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে তিনি দ্বিধা করেননি। এই বঙ্গভূমির বঙ্গ-সন্তানদের একান্ত আপনজন হয়ে উঠেছিলেন- তাই তিনি 'বঙ্গবন্ধু'। ২০২০ সালে আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি। আজ শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশ এই জন্মশতবার্ষিকী অর্থাৎ 'মুজিববর্ষ' উদযাপন করছে। সকলকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। প্রিয় বন্ধু, ঘাতকের নির্মম বুলেট কেড়ে নিয়েছে জাতির পিতাকে। তাঁর নাম বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু ওরা পারেনি। ঘাতকেরা বুঝতে পারেনি বঙ্গবন্ধুর রক্ত ৩২ নম্বর বাড়ির সিঁড়ি বেয়ে-বেয়ে ছড়িয়ে গেছে সারা বাংলাদেশে। জন্ম দিয়েছে কোটি কোটি মুজিবের। তাই আজ জেগে উঠেছে বাংলাদেশের মানুষ সত্যের সন্ধানে। ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। সত্যকে মিথ্যা দিয়ে দাবিয়ে রাখা যায় না। আজ শুধু বাংলাদেশ নয়, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশকে বিশ্ব চিনে নিয়েছে তাঁরই ত্যাগের মহিমায়। সোনামণি, জাতির পিতার কাছে আমার অঙ্গীকার, তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়বোই। আর সেদিন বেশি নয়। পিতা ঘুমিয়ে আছেন টুঙ্গিপাড়ার সবুজ ছায়াঘেরা মাটিতে পিতামাতার কোলের কাছে। তিনি শান্তিতে ঘুমান। তাঁর বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আমরা জেগে রইবো তাঁর আদর্শ বুকে নিয়ে। জেগে থাকবে মানুষ-প্রজন্মের পর প্রজন্ম- তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে। জাতির পিতার দেওয়া পতাকা সমুন্নত থাকবে চিরদিন। তোমরা মন দিয়ে পড়ালেখা করবে, মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করবে। জয় বাংলার জয়, জয় মুজিবের জয়, জয় বঙ্গবন্ধুর জয়। ইতি, তোমারই শেখ হাসিনা।''
কূটনৈতিক প্রতিবেদক যেসব বাংলাদেশিরা প্রবাসে রয়েছেন, তাদের তাড়াহুড়ো করে দেশে না ফিরতে পরামর্শ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা সেখানে অবস্থান নেন। তাড়াহুড়ো করে দেশে ফিরবেন না। সে দেশের দিক নির্দেশনা মেনে চলুন। কোনো সমস্যা হলে আমাদের মিশনগুলোতে যোগাযোগ করুন। আমাদের মিশনগুলো ২৪ ঘণ্টা আপনাদের জন্য খোলা রয়েছে। আর যারা জরুরি প্রয়োজনে দেশে আসেন তারা ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। তারপর বাইরে বের হবেন। সারা বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় ঠিক করতে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ৫টি দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অযথা করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হতে সবাইকে পরামর্শ দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা কম। অধিকাংশই ভালো হয়ে যাচ্ছে। এটা সর্দি-জ্বরের মতো। আমাদের দেশে তিনজন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দুইজন সুস্থ হয়েছেন। অন্যান্য দেশের মতো ভারত, শ্রীলঙ্কাও অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ করেছে, বাংলাদেশ কেন করছে না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা চারটি দেশের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ করেছি। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি ও ইরান। তবে প্রয়োজন হলে আরও বন্ধ হতে পারে। আমরা সতর্ক রয়েছি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। এছাড়া ওইসব দেশ থেকে যারা বাংলাদেশ আসতে চান তারা হেলথ সার্টিফিকেট নিয়ে আসলে আমরা তাদের ভিসা দেব। ভারতে বাংলাদেশ ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল মোমেন বলেন, যারা ভারতে গেছেন তারা ধৈর্য ধরে থাকেন সেখানে। কিছুদিন অপেক্ষা করেন। আর যদি আসতে চান তাহলে নিষেধাজ্ঞার আগেই দ্রুত দেশে চলে আসেন। এদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যারা ছুটিতে দেশে এসেছেন তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো হবে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েত প্রবাসী যারা দেশে আছেন, তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়বে। সৌদি আরবের বিষয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব বলেছে- তারা আপাতত ওমরাহ বন্ধ রেখেছেন। প্রবাসী যারা দেশে আছেন তাদের এখন ফেরার দরকার নাই। তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো হবে। আর যারা নতুন করে কাজে যেতে চাচ্ছেন, তারাও পরে গিয়ে একই স্থানে কাজে যোগ দিতে পারবেন। সুতরাং দুঃশ্চিন্তার কোনো কারণ নাই।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক: করোনা ভাইরাস নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আমাদের পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে এবং আমরা যথাযথ ব্যবস্থা করবো। এখানে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু নেই।’ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এক অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সরকার ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো জায়গায় সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে সবাইকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রতিদিন করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নির্দেশনা দিচ্ছে। আমি অনুরোধ করব সকলকে সেই নির্দেশনাবলী মেনে চলার ‘ করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশ অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।’
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক : ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ৭টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে তিনি শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে আওয়ামী লীগের প্রধান হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। শ্রদ্ধা জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ভবনে প্রবেশ করেন এবং সেখানে বেশ কিছু সময় কাটান। এরপর ৭টা ৫৬ মিনিটে চলে যান তিনি। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানোর পর যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগ, ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক উত্তাল জনসমুদ্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দিয়ে বলেছিলেন, ‘...বাঙালি মরতে শিখেছে, তাদের কেউ দাবাতে পারবে না। রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর সাথে আজ বিকালে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভোর রাষ্ট্রদূত গুনার ইউরিয়া। সাক্ষাতকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষ উদ্যাপনের প্র¯‘তির নানা বিষয় নিয়ে তাঁরা মতবিনিময় করেন। দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়ে আলোকপাত করে রাষ্ট্রদূত মুজিববর্ষ উদ্যাপনের বর্ণাঢ্য আয়োজনে কসোভো’র অংশগ্রহণের বিষয়ে তাঁর সরকারের আগ্রহের কথা জানান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম সম্বন্ধে কসোভোর জনগণকে জানানোর নানা উদ্যোগ সম্বন্ধেও আলোচনা হয় এই বৈঠকে।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক : শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় ‘লাইটিং দ্য ফায়ার অব ফ্রিডম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শিরোনামে আয়োজিত প্রদর্শনী ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা। ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে নিজের বক্তব্য শেষে এই প্রদর্শনী ঘুরে দেখার সময় তাদের সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। প্রদর্শনীতে এসে বিভিন্ন চিত্রকর্ম ও আলোকচিত্র দেখার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ। এ সময় চিত্রকর্মগুলো নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধ করার পর তৎকালীন সময় পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রদর্শনীতে দেখে সরাসরি আন্দোলনে অংশ নেয়ার স্মৃতিচারণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানান, তাদের আন্দোলন অংশ নেয়ার ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হলে কয়েকদিন বাসা থেকে বের হতে দিতেন না মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। এ সময় প্রদর্শনীতে দেখানো জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণ শুনে আবেগে আপ্লুত হয়ে যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই কন্যা। একে অপরকে জরিয়ে ধরে সম্পূর্ণ ভাষণ শোনেন। সবশেষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অন্যান্য শিল্পকর্মগুলো ঘুরে দেখেন তাঁরা। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকছে ‘লাইটিং দি ফায়ার অব ফ্রিডম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ প্রদর্শনীর কার্যক্রম। ৭-১৫ ফেব্রুয়ারি সিসমিক মুভমেন্ট নিয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজন করা হয় ঢাকা আর্ট সামিট। মুজিববর্ষের অংশ হিসেবে এই আয়োজনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে রাখা হয় বিশেষ প্রদর্শনী ‘লাইটিং দি ফায়ার অব ফ্রিডম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’। ঢাকা আর্ট সামিট শেষ হয়ে গেলেও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনী সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে তথ্যগত সহয়তা প্রদান করে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)।বাসস।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদ ভবনের বঙ্গবন্ধু কর্নারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লিখা দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এ বি এম সরওয়ার-ই-আলম সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে জাতির পিতার বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও কথপোকথনের সংকলন গ্রন্থ ‘জয় বাংলা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।’ তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে শেখ হাসিনা বইটির ভূমিকা লেখেন। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ এমপি এবং লেখক ও কবি পিয়াস মজিদ বঙ্গবন্ধুর সাক্ষাতকার ও কথপোকথনগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করেন। সারওয়ার বলেন, নাহিদ ও মজিদ ছাড়াও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-এ-আলম চৌধুরী লিটন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ’ বইয়েরও মোড়ক উন্মোচন করেন। সব্যসাচী লেখক শামসুল হক বইটির গ্রন্থনা এবং পিয়াস মজিদ বইটির সম্পাদনা করেন।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক : বাংলাদেশ বিমান বাহিনী যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী শনিবার (১৫-০২-২০২০) পালন করেছে। ১৯৬৯ সালের এই দিনে তিনি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ঢাকা সেনানিবাসে আটক অবস্থায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক নিহত হন। এ উপলক্ষে চট্টগ্রামস্থ বিমান বহিনী ঘাঁটি জহুরুল হক কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ মাগরিব এক মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মিলাদ শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। উক্ত মিলাদ মাহফিলে ঘাঁটি এয়ার অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল এ এস এম ফখরুল ইসলাম, জিইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, ঘাঁটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিমানসেনা এবং অন্যান্য পদবীর সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।আইএসপিআর।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সকল মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ই-পাসপোর্ট করা হবে। ই-পাসপোর্ট চালু করায় বাংলাদেশ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম এবং বিশ্বে ১১১তম স্থানে রয়েছে। সংসদে আজ সরকারি দলের সংসদ সদস্য শামসুন নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে এ তথ্য জানান। স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান আরো জানান, ই-পাসপোর্টের পাশাপাশি এমআরপি পাসপোর্ট যুগোপৎভাবে চলু থাকবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঢাকায় তিনটি ই পার্সপোর্ট চালু করা হয়েছে। আগামী ১৮ মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস এবং আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সমূহে ই -পার্সপোর্ট চালু করা হবে। ই পাসপোর্টের জন্য বাংলাদেশে আবেদনকারীদের ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদী সাধারণ ই- পাসপোর্টের জন্য ফি ৩ হাজার টাকা, জরুরী ৫হাজার ৫শ’ টাকা এবং অতীব জরুরী ৭ হাজার ৫শ’ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১০ বছর মেয়াদী সাধারণ ই পাসপোর্টের জন্য ৫ হাজার, জরুরী ৭হাজার এবং অতীব জরুরী ৯ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদী সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য ফি ৫হাজার ৫শ’, জরুরী ৭ হাজার ৫শ’এবং অতীব জরুরী ১০ হাজার ৫শ’ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১০ বছর মেয়াদী সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য ৭ হাজার, জরুরী ৯ হাজার এবং অতীব জরুরী ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, বিদেশে অবস্থানরত ৫ বছর মেয়াদী ৪৮ পৃষ্ঠার সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য ১০০ মাকির্ন ডলার ও জরুরী ১৫০ মাকির্ন ডলার ১০ বছর মেয়াদী সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য ১২৫ মাকির্ন ডলার এবং জরুরী ১৭৫ মাকির্ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শ্রমিক ও ছাত্রদের জন্য বিদেশে অবস্থানরত ৫ বছর মেয়াদী ৪৮ পৃষ্ঠার সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য ৩০ মার্কিন ডলার ও জরুরী ৪৫ মাকির্ন ডলার ১০ বছর মেয়াদী সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য ৫০ মার্কিন ডলার এবং জরুরী ৭৫ মাকির্ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে মন্ত্রী সংসদে জানান। ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদী সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য ১৫০ মার্কিন ডলার ও জরুরী ২০০ ইউএসডি ১০ বছরমেয়াদী সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য ১৭৫ ইউএসডি এবং জরুরী ২২৫ মাকির্ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া শ্রমিক ও ছাত্রদের জন্য বিদেশে অবস্থানরত ৫ বছর মেয়াদী ৬৪ পৃষ্ঠার সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য ১৫০ মার্কিন ডলার ও জরুরী ২০০ মার্কিন ডলার ১০ বছর মেয়াদী সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য ১৭৫ মাকির্ন ডলার এবং জরুরী ২২৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে মন্ত্রী সংসদকে জানান।

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা