06042020বৃহঃ
স্পটলাইট

স্পটলাইট (940)

নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বুধবার ভোররাতে ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোনো সৈন্য মারা যায়নি, ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে খুবই সামান্য। হোয়াইট হাউজে সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতি দেওয়ার সময় হামলার বদলা নেওয়ার কোনো হুমকি দেননি ট্রাম্প। বদলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান যদি পারমানবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা বাদ দেয় এবং, তার ভাষায়, সন্ত্রাসের পথ ত্যাগ করে, তাহলে শান্তি স্থাপনেও তিনি প্রস্তুত। বিবিসি বাংলা। ইরান যে নতুন কোনো হামলা চালানোর সম্ভাবনা নাকচ করেছে তাকে 'ইতিবাচক' বলে বর্ণনা করেন ট্রাম্প। "তারা যে ক্ষান্ত দিয়েছে সেটা সবার জন্যই মঙ্গল।" গত কদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যে ধরণের সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি তিনি দিচ্ছিলেন আজ তার কিছুই ট্রাম্পের কন্ঠে শোনা যায়নি। তবে সাংবাদিকদের সামনে তার সংক্ষিপ্ত বিবৃতির শুরুতেই ট্রাম্প বলেন তিনি যতদিন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট থাকবেন ইরানকে পারমানবিক অস্ত্র অর্জন করতে তিনি দেবেন না। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে তিনি নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দেবেন যা ততদিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে যতদিন 'ইরান তার আচরণ না বদলাবে।' তবে এ ব্যাপারে তিনি ভেঙ্গে কিছু বলেননি। তিনি বলেন, "১৯৭৯ সাল থেকে ইরানের বহু আপত্তিকর কর্মকান্ড সহ্য করা হচ্ছে, অনেক হয়েছে আর নয়।" তবে একইসাথে তিনি বলেন, "ইরান একটি মহান দেশ হতে পারে, সে যোগ্যতা তাদের রয়েছে...আমাদের সবার এখন উচিৎ ইরানের সাথে নতুন একটি চুক্তির চেষ্টা করা যাতে করে বিশ্ব নিরাপত্তা বাড়ে।" ইরাক থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের যে দাবি ইরাকের পার্লামেন্ট করেছে, সে ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি মি. ট্রাম্প। তবে তিনি বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যের তেলের কোনো প্রয়োজন আমেরিকার নেই।' একইসাথে মি. ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অধিকতর ভূমিকা নেওয়ার জন্য নেটো জোটকে বলবেন। কাসেম সোলায়মানিকে হত্যার পক্ষে আবারো যুক্তি তুলে ধরেন তিনি। নিহত ইরানি জেনারেলকে সন্ত্রাসী হিসাবে আখ্যা দিয়ে মি ট্রাম্প বলেন, 'তার হাত হাজার হাজার ইরানি এবং আমেরিকানের রক্তে রঞ্জিত ছিল।' আমেরিকার 'মুখে চপেটাঘাত' এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি বলেন, ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার মাধ্যমে তারা আমেরিকার 'মুখে চপেটাঘাত' করেছেন। "গতরাতে আমরা তাদের মুখে চড় মেরেছি।" ১৯৭৮ সালের কোম বিক্ষোভের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আয়াতোল্লাহ খামেনি এ কথা বলেন। এ সময় সমবেত জনতা 'আমেরিকার ধ্বংস চাই বলে শ্লোগান' দেয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরো বলেন, "যখন সংঘাতের প্রসঙ্গ আসে তখন এ ধরণের সামরিক হামলা যথেষ্ট নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, (মধ্যপ্রাচ্যে) আমেরিকার উপস্থিতি শেষ করে দেয়া।" ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিও বলেছেন, আমেরিকাকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিতাড়িত করতে পারলেই কাসেম সোলেইমানির হত্যার প্রতিশোধ নেওযা হবে।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী সেনা অধিনায়ক কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পরিণতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ শুরু হয়েছে। তেহরান কঠোরতম প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খামিনি বলেছেন, "অপরাধীদের জন্য ভয়াবহ প্রতিশোধ অপেক্ষা করছে।" ইরানের সেনাবাহিনীর (ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ডস বা আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রমজান শরিফ এক বিবৃতিতে বলেছেন, "ইরান এবং আমেরিকা তোমরা কড়া জবাবের জন্য অপেক্ষা করো।" দেশের বাইরে ইরান যে তার সামরিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে চলেছে তার পেছনে মূল ব্যক্তিটি ছিলেন কাসেম সোলেয়মানি। বিবিসি বাংলা। লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেনের মত দেশগুলোতে তেহরান-পন্থী যে শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এখন পরাক্রমশালী হয়ে উঠেছে, তিনিই ছিলেন এর রূপকার । ফলে বহুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের এক নম্বর টার্গেট ছিলেন ইরানি এই জেনারেল। ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া নেতা মাহদি আল মুহানদিসও (কেন্দ্রে) মি সোলেইমানির সাথে নিহত হয়েছেন সংবাদদাতারা বলছেন, ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ বুশ এবং তারপর বারাক ওবামা পর্যন্ত তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেও পরিণতির কথা ভেবে পরে পেছপা হয়েছিলেন। এ কারণে সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আগামি নির্বাচনে ডেমোক্রাটদের সম্ভাব্য প্রার্থী জো. বাইডেন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প 'একটা বারুদের বাক্সে ডিনামাইট ছুঁড়ে দিয়েছেন।' তিনি বলেছেন, "আমরা হয়তো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন বড় ধরনের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে চলে গেলাম।" এখন প্রশ্ন হচ্ছে কাসেম সোলেইমানি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সম্ভবত সবচেয়ে বিপজ্জনক শত্রু হওয়া স্বত্বেও তার পূর্বসূরিরা যে ঝুঁকি নিতে চাননি, ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন কেন তা নিলেন? পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তা হলো, কাসেম সোলেইমানি ইরাকে মার্কিন কূটনীতিক এবং সৈন্যদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিল, সুতরাং আগে থেকেই তাকে হত্যা করে সেসব পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হলো। তবে এমন সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই হত্যাকাণ্ড ঘটালেন যখন কিছুদিন আগেই তার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট অনুমোদন করেছে মার্কিন কংগ্রেস, এবং এক বছরের কম সময়ের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ফলে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি দেখতে শুরু করেছেন। কাসেম সোলেইমানির গাড়িতে ড্রোন হামলার পর ধ্বংসস্তূপ যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের সাংবাদিক জুলিয়ান বার্গার লিখেছেন, নভেম্বরে নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে সোলেইমানিকে হত্যার এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি মনে করছেন, ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার যে ঘটনা বারাক ওবামার দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের প্রচারণায় প্রধান একটি বিষয় হয়ে উঠেছিল, মি. ট্রাম্প হয়তো সেরকমই কিছু করতে চেয়েছেন। বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন বলছেন, অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করে আমেরিকানরা এখন কেন এই 'ট্রিগার' টিপলো, তার কারণ হয়তো প্রেডিসন্ট ট্রাম্প মনে করেছেন এই হত্যাকাণ্ডের যে ঝুঁকির মাত্রা তার চেয়ে সুবিধার পাল্লা ভারি। "তিনি (প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প) হয়তো মনে করেছেন অব্যাহত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় ইরান দুর্বল-একঘরে হয়ে পড়েছে। দেশের ভেতরে যে প্রচণ্ড অসন্তোষ শুরু হয়েছে তাতে ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া হলেও, ইরান বড় কোনো হুমকি তৈরি করতে পারবে না।" ডোনাল্ড ট্রাম্প্র জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন কি করতে পারে ইরান 'দুর্বল ইরান' তেমন কিছু করতে পারবে না বলে মি ট্রাম্প হয়তো যে ভরসা করছেন, বাস্তবে তা হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিবিসির জেরেমি বোয়েন। "কূটকৌশল বা পরিকল্পনাকারী হিসেবে মিস্টার সোলেইমানি ছিলেন খুবই ক্ষুরধার। সুতরাং তাকে কখনো হত্যা করা হলে, কি করতে হবে তেমন পরিকল্পনাও হয়তো তিনিই করে গেছেন। ইরান যে তার হত্যার একটা জবাব দেবে, তা নিশ্চিত। সোলেইমানি এতদিন ধরে দেশের বাইরে ইরানের যে প্রভাব প্রতিপত্তি তৈরি করেছেন, তা টিকিয়ে রাখার সর্বোত চেষ্টা ইরান করবে।" ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে একটা যুদ্ধ লেগে যেতে পারে, এই শঙ্কা সন্দেহ গত বছর খানেক ধরে চলছিল, কিন্তু সেই সাথে যুদ্ধ এড়ানোর একটা চেষ্টাও তলে তলে চলছিল। ফ্রান্স এই দুই শত্রুর মধ্যে একটা মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিস ডুসেট মনে করছেন, মি সোলেইমানি এবং ইরাকি একটি শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীর (পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স) প্রধান আবু মাহদি আল মোহানদিসকে হত্যার পর যুদ্ধ এড়ানোর সেই চেষ্টা ধসে পড়বে সন্দেহ নেই। কিন্তু কিভাবে ইরান প্রতিশোধ নেবে - পরিষ্কার করে অনুমান করা শক্ত। কাসেম সোলেইমানির হত্যাকাণ্ডের প্রতি শোক প্রকাশ করছেন ইরানের রেভলুশনারি গার্ডের সদস্যরা, তেহরান, ০২/০১/২০২০ তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কাউন্সিলের জরুরী বৈঠক হচ্ছে। সেখান থেকেই হয়তো একটা ছক তৈরি হবে। লিস ডুসেট মনে করেন, 'বদলা নেওয়ার নানা রাস্তা এবং উপায় ইরানের রয়েছে।' মি ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক একজন সদস্য কার্সটেন ফনটেনরোজকে উদ্ধৃত করে গার্ডিয়ান পত্রিকা লিখছে, ইরানের এই বদলা হয়তো দীর্ঘমেয়াদী এবং নানামুখী হবে। তিনি বলছেন ইরাকে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়ারা হয়ত তাৎক্ষনিক-ভাবে কিছু হামলা চালাবে, কিন্তু ইরান হয়তো "উপযুক্ত সময় এবং স্থানের জন্য অপেক্ষা করবে।" তিনি বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এমনকি পশ্চিম আফ্রিকা বা দক্ষিণ আমেরিকাতেও মার্কিন স্বার্থ এবং নাগরিকরা হামলার মুখে পড়তে পারে, এবং এই ঘটনা বছরের পর বছর ধরে চলতে পারে। "ইরান এমন একটি বার্তা দিতে চাইবে যে আমেরিকানরা কোথাও নিরাপদ নয়।"
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীরা ফ্লাইট সম্পর্কিত সব তথ্য, ফ্লাইট স্ট্যাটাস, ফ্লাইট শিডিউল, সেলস সেন্টারগুলোর ঠিকানা, অনলাইন টিকিট ও রিফান্ড হেল্পডেস্ক, এবং টিকিট বুকিং, সিট নির্ধারণসহ সবকিছু করতে ও জানতে পারবেন। এর মাধ্যমে বিমানের টিকিট কাটলে ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার ঘোষণা করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ। আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অনুষ্ঠান থেকে মোবাইল অ্যাপটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’(Biman Bangladesh Airlines) নামে এই অ্যাপটি উদ্বোধনের পর মোবাইলে অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট কাটলে ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দেন বিমানের এমডি মোকাব্বির হোসেন। আগামী এক বছর পর্যন্ত অ্যাপে বিমানের টিকিট কাটলে এ সুবিধা পাওয়া যাবে। মোবাইল অ্যাপটি ব্যবহার করে যাত্রীরা নিজের মোবাইল থেকেই বিমানের সব গন্তব্যের টিকিট কিনতে পারবেন। বিকাশ বা রকেট অথবা যেকোনো কার্ডের মাধ্যমে টিকিটের মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীরা ফ্লাইট সম্পর্কিত সব তথ্য, ফ্লাইট স্ট্যাটাস, ফ্লাইট শিডিউল, সেলস সেন্টারগুলোর ঠিকানা, অনলাইন টিকিট ও রিফান্ড হেল্পডেস্ক, এবং টিকিট বুকিং, সিট নির্ধারণসহ সবকিছু করতে ও জানতে পারবেন। গুগল প্লেস্টোর অথবা অ্যাপল অ্যাপ-স্টোর থেকে যেকোনো স্মার্টফোনে অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে। এর আগে বিমানের জন্য নতুন কেনা বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৯ সিরিজের নতুন দুটি উড়োজাহাজ ‘সোনার তরী’ ও ‘অচিন পাখি’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী উড়োজাহাজে আরোহণ করেন এবং ককপিটসহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবদেক দেশে সামান্য তাপমাত্রা বেড়েছে। তবে রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলায় মৃদ্যু শৈত্যপ্রবাহ বয়েছে। এছাড়াও দেশের অন্যান্য স্থানে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও শীত বাড়ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হালকা বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী ঢাকাতেও রাতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়। এ কারণে তাতে শীতের অনুভূতি খানিকটা বেড়েছে। আর রাস্তার শীতের ধুলা পরিণত হয়েছে বর্ষার কাদায়। আবহাওয়াবিদ আফতাব উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির এই প্রবণতা শুক্রবার সারাদিনই দেখা যাবে। রাত ৯টা-১০টার পর বৃষ্টি বন্ধ হতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রাও কিছুটা নেমে যেতে পারে বলে জানান এই আবহাওয়াবিদ। তিনি বলেন, শৈত্যপ্রবাহের পর তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে বিরাজমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকছে। তাছাড়া সারা দেশে যে বৃষ্টি হচ্ছে সেটা রাতের পর থাকবে না। তবে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কোথাও কোথাও শনিবারও সামান্য বৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে, অর্থাৎ শীত কিছুটা বাড়বে। বৃষ্টি একেবারে থেমে গেলে তাপমাত্রা বাড়বে। শুক্রবার সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায়, ৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় যশোরে সর্বোচ্চ ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে; এ সময় ঢাকায় ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও নীলফামারি জেলায় চলমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আগামী ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে আফতাব উদ্দিন বলেন, শৈত্যপ্রবাহের পরিধি কিছুটা বাড়তে পারে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে সারা দিনই কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে সারা দেশ। উত্তরাঞ্চলে কনকনে শীতে ভোগান্তিতে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। হালকা বৃষ্টি এবং শীতের কারণে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঢাকায় বাসার বাইরে বের হচ্ছেন না। ফলে ঢাকার রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা। তবে আবহাওয়া অধিদফতরের খবরে জানা গেছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, ময়মনসিহং ও রাজশাহী বিভাগের দুয়েক জায়গায় হালকা বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। ‘পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও নীলফামারি অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদ্যু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তা অব্যাহত থাকতে পারে ও বিস্তার লাভ করতে পারে।’
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন দুই সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস ও হাজী মোহাম্মদ সেলিম। আজ বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এই তিনজনের পক্ষের লোকজন। ঢাকা উত্তরে মেয়র আতিকুল ইসলামের পক্ষে তার রাজনৈতিক সচিব সাইফুদ্দিন ইমন আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছেন। আর ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা-১০ আসনে সরকারদলীয় সাংসদ শেখ ফজলে নূর তাপসের পক্ষে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র নিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোরশেদ কামাল। ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নাজমুল হক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২ জানুয়ারি। প্রার্থীতা প্রত্যাহার ৯ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ হবে ১০ জানুয়ারি। আর ভোটগ্রহণ হবে ৩০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করা যাবে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারকে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের দেশের সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সততা, নিষ্ঠা এবং একাগ্রতার সঙ্গে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আপনারা যারা কঠোর প্রশিক্ষণের পর কাজে যোগ দেবেন তাঁদের সব সময় মনে রাখতে হবে যে, আত্মত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে সততা, নিষ্ঠা এবং একাগ্রতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আপনারা দেশের মান-সম্মান আরো উজ্জ্বল করবেন।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে এখানকার পতেঙ্গায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী একাডেমীতে ‘মিডশিপম্যান-২০১৭ আলফা’ এবং ‘ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার-২০১৯ ব্রাভো’ ব্যাচের শিক্ষা সমাপনী উপলক্ষে বিদায়ী ক্যাডেটদের রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ, ২০১৯ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী মনোজ্ঞ কুচকওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহন করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের শপথের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন,‘আজ আপনারা শপথ গ্রহণ করেছেন।’ এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নৌ দিবস উপলক্ষে ১৯৭৪ সালের ১০ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে জাতির পিতার প্রদত্ত ভাষণের উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধৃত করেন । ‘আমার দেশের মানুষ আমার কথা শুনেছিলো বলেই আজ বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। আজ তোমরা যদি আমার কথা শোনো, যদি শৃঙ্খলা বজায় রাখো, যদি উপরওয়ালার হুকুম মানো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াও এবং সৎ পথে থাকো, ইনশাআল্লাহ, দেখবে সোনার বাংলা সোনার বাংলাই হবে।’ আমাদের সমুদ্র সীমায় থাকা সম্পদের প্রসংগ টেনে একে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী । তিনি বলেন,‘আমাদের সমুদ্রসীমায় রয়েছে অপার সম্ভাবনা। এই সমুদ্র সম্পদকে দেশের অর্থনীতিতে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী কোর্স সম্পন্ন করে কমিশন লাভকারী ৭২ জন নবীন কর্মকর্তার মধ্য থেকে কৃতিত্বের অধিকারী কর্মকর্তাদের মাঝে বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ করেন। পাসিং আউট কর্মকর্তাদের মধ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০১৭/এ ব্যাচের ৬১ জন মিডশীপম্যান এবং ২০১৯/বি ব্যাচের ১১ জন ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার রয়েছেন। যাঁর মধ্যে ৭ জন মহিলা এবং ২ জন মালদ্বীপের কর্মকর্তা রয়েছেন। মিডশীপম্যান ২০১৭/এ ব্যাচের রাইয়ান রহমান সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জন করে সেরা চৌকষ মিডশীপম্যান হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। এছাড়া মিডশীপম্যান মো. সাইদিস সাকলাইন মিরান প্রশিক্ষণে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী হিসেবে ‘নৌ’ স্বর্ণ পদক’ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০১৯/বি ব্যাচ থেকে এ্যাক্টিং সাব লেফটেন্যান্ট মো. কামরুজ্জামান শ্রেষ্ঠ ফলাফল অর্জনকারী হিসেবে ‘বীর শ্রেষ্ঠ রহুল আমিন স্বর্ণপদক’ লাভ করেন। প্রধানমন্ত্রী নবীন কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন,‘দেশ মাতৃকার নিরাপত্তা রক্ষার্থে আপনারাই হবেন এই নৌবাহিনীর ভবিষ্যত দিক নির্দেশক। ’ তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আজম নাসির উদ্দিন, আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মেজর জেনারেল (অব:) মোহাম্মাদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌ বাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, পিএমও সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সহ উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার, 21 ডিসেম্বর 2019 11:10

স্যার ফজলে হাসান আবেদ আর নেই

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক জীবদ্দশাতেই পরিণত হয়েছেন কিংবদন্তিতে। আজীবন কাজ করেছেন মানুষের কল্যাণে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা। সেই মহিরুহ ব্যক্তিত্ব স্যার ফজলে হাসান আবেদকে হারিয়েছে দেশ। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। ব্রিটিশ সরকারের নাইট উপাধি পাওয়া একমাত্র বাংলাদেশি ফজলে হাসান আবেদ গত ২৯ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি মস্তিস্কের টিউমারে ভুগছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি এক ছেলে, এক মেয়ে, স্ত্রী এবং অসংখ্য অনুসারী, সুহৃদ, শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। যে ক'জন বাংলাদেশির কর্মকাণ্ড বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়েছে, তাদের অন্যতম ফজলে হাসান আবেদ। শুক্রবার রাত ৯টা ৫ মিনিটে ব্র্যাকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ ও ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক ডা. মুহাম্মদ মুসা বিবৃতিতে বলেন, 'গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি স্যার ফজলে হাসান আবেদ, প্রিয় আবেদ ভাই, আর আমাদের মাঝে নেই।' বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'এই মুহূর্তে, কোনো সমবেদনা বা সান্ত্বনার ভাষাই তাকে হারানোর কষ্ট কমাতে পারবে না। যে কোনো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে শান্ত থাকা ও এগিয়ে যাবার শিক্ষাই তিনি সবসময় আমাদের দিয়েছেন। জীবনভর যে সাহস আর ধৈর্যের প্রতিচ্ছবি আমরা তার মাঝে দেখেছি, সেই শক্তি নিয়েই আমরা তার স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান জানাব।' ব্র্যাক গ্লোবাল বোর্ডের চেয়ারপারসন আমিরা হক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ফজলে হাসান আবেদের মরদেহ ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। দুপুর সাড়ে ১২টায় সেখানে তার জানাজা হবে। জানাজার পর ঢাকার বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। স্যার ফজলে হাসানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ফজলে হাসান আবেদ ব্র্যাক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিপুল অবদান রেখেছেন। দেশের উন্নয়নে তার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। প্রধানমন্ত্রী শোকবার্তায় বলেন, তার মতো মানবতাবাদী মানুষের মৃত্যুতে দেশ ও জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হলো। তিনি তার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন স্মরণ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। শোক জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনীতিক, বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে ৩৬ বছর বয়সে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করেন ফজলে হাসান আবেদ। এটি এখন পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ এনজিও। ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ওই বছর ব্র্যাকের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন ফজলে হাসান আবেদ। গত আগস্টে এই পদ থেকে অবসরে যান তিনি। এরপর তিনি ব্র্যাকের ইমেরিটাস চেয়ারপারসন নিযুক্ত হন। আমৃত্যু তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। স্যার ফজলে হাসান আবেদ ১৯৩৬ সালের ২৭ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কীর্তিমান মানুষ তিনি। পাবনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাসের পর যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোতে যান নেভাল আর্কিটেকচার পড়তে। তা বাদ দিয়ে লন্ডনের চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউনট্যান্টস থেকে ১৯৬২ সালে প্রফেশনাল কোর্স সম্পন্ন করে দেশে ফেরেন। এরপর শেল অয়েল কোম্পানিতে যোগ দেন। ১৯৭০ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ তার জীবনের মোড় পরিবর্তন করে দেয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি চাকরি ছেড়ে লন্ডনে চলে যান। সেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে 'অ্যাকশন বাংলাদেশ' এবং 'হেল্প বাংলাদেশ' নামে দুটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭২ সালে তিনি সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনে কাজ করার উদ্যোগ নেন। ব্র্যাক প্রতিষ্ঠার পর লন্ডনের ফ্ল্যাট বিক্রি করে মুক্তিযুদ্ধে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ তৎপরতা শুরু করেন ফজলে হাসান আবেদ। এ কার্যক্রম থেকে 'বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন অ্যাসিস্ট্যান্স কমিটি' বা ব্র্যাকের যাত্রা শুরু হয়। পরের বছর ত্রাণ তৎপরতার গি পেরিয়ে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে তার নেতৃত্বে এটি বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্স কমিটি বা ব্র্যাক নামে অভিযাত্রা শুরু করে। দেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামাঞ্চলে এর কার্যক্রম ছড়িয়ে রয়েছে। তাই ফজলে হাসান আবেদকে গ্রামবাংলার পালাবদলের স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে ব্র্যাক নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। শিক্ষা খাতেও রেখেছে বিশেষ অবদান। বিশ্বের ১১টি দেশে ব্র্যাক ১০ কোটিরও বেশি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছে। দারিদ্র্য বিমোচনে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ফজলে হাসান আবেদকে ২০১০ সালে ব্রিটেনের অন্যতম সম্মানজনক 'নাইট' উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এ ছাড়া অসংখ্য দেশি-বিদেশি পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। ২০১১ সালে অর্জন করেন কাতার ফাউন্ডেশন প্রবর্তিত শিক্ষাক্ষেত্রে বিশ্বের সর্বোচ্চ পুরস্কার 'ওয়াইজ প্রাইজ'। এগুলো ছাড়াও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অসংখ্য পুরস্কার এবং সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। বিশ্ব জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান এবং দরিদ্র মানুষের সুরক্ষায় কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য স্যার ফজলে হাসান আবেদ ২০১৬ সালে 'টমাস ফ্রান্সিস জুনিয়র মেডেল অব গ্লোবাল পাবলিক হেলথ' পদক পান। খাদ্য ও কৃষিক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৫ সালে বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার, ২০১৪ সালে লিও তলস্তয় আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক ও ২০১৩ সালে হাঙ্গেরির 'সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি' (সিইইউ) প্রদত্ত 'ওপেন সোসাইটি প্রাইজ' পান। ২০১৪ সালে তিনি স্পেনের সর্বোচ্চ বেসামরিক নাগরিক সম্মাননা 'অর্ডার অব সিভিল মেরিট' পান। তিনি ২০০৭ সালে প্রথম ক্লিনটন গ্লোবাল সিটিজেন অ্যাওয়ার্ড, ২০০৪ সালে মানব উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় ইউএনডিপি মাহবুবুল হক মানব উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড, ২০০১ সালে ওলফ পামে প্রাইজ, ১৯৯২ সালে ইউনিসেফ মরিস পেট অ্যাওয়ার্ড, ১৯৮০ সালে র‌্যামন ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড ফর কমিউনিটি লিডারশিপ লাভ করেন। তিনি অশোকার সম্মানজনক গ্লোবাল একাডেমি ফর সোশ্যাল এন্ট্রাপ্রেনিওরশিপের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এ ছাড়া তিনি সম্মানসূচক একাধিক ডিগ্রি পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টর অব ল (২০০৮), ইয়েল ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টর অব হিউম্যান লেটারস (২০০৭), প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি (২০১৪), যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি (২০১২), বাথ ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টর অব লজ (২০১০), কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টর অব লজে (১৯৯৪) ভূষিত হন। তার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ২০০৭ সালে পেয়েছে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পদক স্বাধীনতা পুরস্কার। ২০১৯ সালে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে কয়েক দশকব্যাপী অনবদ্য ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ নেদারল্যান্ডসের নাইটহুড 'অফিসার ইন দ্য অর্ডার অব অরেঞ্জ-নাসাউ' খেতাবে ভূষিত হয়েছেন স্যার ফজলে হাসান আবেদ। ২০১৯ সালে শিক্ষা উন্নয়ন বিষয়ে অত্যন্ত মর্যাদাসূচক এবং অর্থমূল্যের দিক থেকে সবচেয়ে বড় পুরস্কার ইদান প্রাইজ লাভ করেন তিনি। হংকংভিত্তিক ইদান প্রাইজ ফাউন্ডেশন এ পুরস্কার ঘোষণা করে। ২০১৮ সালে প্রাক-শৈশব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অসাধারণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ লেগো ফাউন্ডেশন, ডেনমার্কের লেগো পুরস্কার পান তিনি।
শুক্রবার, 20 ডিসেম্বর 2019 12:35

আওয়ামী লীগের সম্মেলন আজ

লিখেছেন
বিশেষ প্রতিনিধি সংগ্রাম, ঐতিহ্য ও উন্নয়নের গৌরবময় অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয়ে উপমহাদেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের দুই দিনব্যাপী ২১তম জাতীয় সম্মেলন আজ শুক্রবার শুরু হচ্ছে। বিকাল ৩টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে বর্ণাঢ্য সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর ২৫ মিনিটের সংগীত পরিবেশন করা হবে। এতে তুলে ধরা হবে আওয়ামী লীগের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্য। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণ, আলোকসজ্জায় ঝলমল করছে পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সম্মেলনে সারাদেশ থেকে সাড়ে ৭ হাজার কাউন্সিলর এবং ১৫ হাজার ডেলিগেটসহ ৫০ হাজার নেতাকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথি অংশ নেবেন। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলের সম্মেলনকে ঘিরে সারাদেশেই দলটির মধ্যে ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উত্সবের আমেজ। অনেকের মধ্যে পদ হারানোর শঙ্কাও রয়েছে। সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশন আগামীকাল শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে। এ অধিবেশনেই আগামী তিন বছরের জন্য দলের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে। দলের নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। অপর দুই সদস্য হলেন দলের উপদেষ্টা ড. সাইদুর রহমান ও ড. মশিউর রহমান। নির্বাচন কমিশন প্রথমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী আহ্বান করবেন। একাধিক প্রার্থী না থাকলে প্রস্তাব ও সমর্থনের মাধ্যমে শীর্ষ দুই নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। এরপর কাউন্সিলরদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরে দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করবেন নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। টানা ৯ম বারের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ৩৮ বছর ধরে দলটির নেতৃত্বদানকারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—এটা নিশ্চিত। তবে সবারই দৃষ্টি সাধারণ সম্পাদক পদটির দিকে। কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক? ওবায়দুল কাদেরই বহাল থাকছেন, নাকি চমক দেওয়ার মতো অন্য কেউ—এ নিয়ে দলটিতে গুঞ্জন-আলোচনা এখন তুঙ্গে। এদিকে কোনো পদে একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট হবে এবং ভোটের জন্য স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স এবং ব্যালট পেপারও সংগ্রহ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী একাধিক নেতা জানান, সাধারণত কাউন্সিলররা নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষমতা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ওপর অর্পণ করেন। এক্ষেত্রে সাধারণত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয় এবং কাউন্সিলররা তা একবাক্যে সমর্থন করেন। সভাপতির ওপর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেন কাউন্সিলররা। এবারও একই পদ্ধতিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নেতা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন। জানা গেছে, এবার সম্মেলনে গঠনতন্ত্রে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসছে না। তবে গঠনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে আকার বাড়ছে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের। ৪১ সদস্য থেকে বাড়িয়ে ৫১ করা হচ্ছে। বিলুপ্ত করা হচ্ছে দলের সহসম্পাদক পদ। একইভাবে মত্স্যজীবী লীগকে দলের সহযোগী সংগঠনের মর্যাদা দেওয়া হতে পারে। এদিকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের অর্জনগুলো ঘোষণাপত্রে যুক্ত করা হয়েছে। ঘোষণাপত্রে নতুন সংযোজন- বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন। এদিকে কারা নতুন নেতা হচ্ছেন, পুরোনো কে কে বাদ পড়ছেন, সে বিষয়ে এখনো সবাই অন্ধকারে। এ জন্য পদপ্রত্যাশী ও কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকা নেতারা উত্কণ্ঠায় রয়েছেন। অনেকেই ভুগছেন পদ হারানোর আতঙ্কে। আবার অনেকে রয়েছেন পদোন্নতির আশায়। নৌকার আদলে সম্মেলন মঞ্চ আওয়ামী লীগের সম্মেলনের উদ্বোধীন অনুষ্ঠানে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে নৌকার আদলে। পদ্মাসেতুর সামনের বিশাল জলরাশিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে ছোটো ছোটো নৌকা। একপাশে চরে জেগে আছে কাশবন। এমনই একটি আবহের মধ্যে দাঁড়িয়ে বিশালাকার এক পালতোলা নৌকা। আছে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি। মূল মঞ্চের পেছনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ছবি ছাড়াও ঠাঁই পেয়েছে জাতীয় চার নেতা—তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন এম এ মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানের ছবি। এছাড়া আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম চার নেতা—মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শামসুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের ছবি রাখা হয়েছে সেখানে। ২০২০ থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত পালিত হবে মুজিববর্ষ। দেশে-বিদেশে মুজিববর্ষের জাঁকজমক ও বর্ণিল আয়োজন সামনে রেখে গত সম্মেলনের তুলনায় এবার সাদামাটা সাজসজ্জার মধ্য দিয়ে সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। কেবল সম্মেলনস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থাকছে নজরকাড়া সাজসজ্জা ও আলোর ঝলকানি। সম্মেলনস্থলে নেতাকর্মীদের প্রবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাঁচটি গেট থাকবে। একটি গেট ভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। জাতীয় ও কার্যনির্বাহী কমিটির ৮১ সদস্যের মধ্যে চারটি পদ শূন্য থাকায় মূল মঞ্চে চেয়ার থাকবে ৭৭টি। ২৮টি এলইডি পর্দায় দেখানো হবে সম্মেলনের পুরো অনুষ্ঠান। বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষক, চিকিত্সক, আইনজীবীসহ অন্য পেশার বিশিষ্টজনদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে অংশ নেওয়া সব দেশের সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ওয়েবপেজের ভিডিও অংশে সম্মেলন লাইভ করা হবে। ১৯৪৯ থেকে ২০১৯ ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ নামে। ১৯৫৬ সালে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত দলীয় কাউন্সিলে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’ নামকরণের মাধ্যমে দলটি অসাম্প্রদায়িক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নামকরণ হয় ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’। এখন দলটি প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর পার করছে। এ পর্যন্ত দলের ২০টি জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৪৯ সালে ২৩ ও ২৪ জুন পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে প্রথম জাতীয় সম্মেলনে প্রতিনিধি ছিলেন প্রায় ৩০০ জন। উদ্বোধনী ভাষণ দেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। পরে প্রতিনিধিদের সমর্থনে ৪০ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক হন শামসুল হক। তখন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কারাগারে বন্দি। বন্দি অবস্থায় তাকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রথম কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ১৯৫৩ সালে ৩, ৪ ও ৫ জুলাই ঢাকার মুকুল সিনেমা হলে দলের দ্বিতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি এবং শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক হন। সর্বশেষ দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে শেখ হাসিনা সভাপতি ও ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সোমবার সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে রাজধানী ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় দেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আবারো পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শেখ হাসিনা। এর আগে সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক কলকাতা: বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে এবার আর্জি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার একটি ভিডিও পোস্ট করে এই আর্জি জানিয়েছেন তিনি। এদিন মমতা বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন করুন, কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।’ বিভিন্ন জায়গা থেকে অবরোধের খবর আসছে। তাই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পথ অবরোধ, রেল অবরোধ করবেন না। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা গন্ডগোল করছেন, রাস্তায় নেমে আইন হাতে তুলে নিচ্ছেন, তাঁদের কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। বাসে আগুন লাগিয়ে, ট্রেনে পাথর ছুড়ে, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বাংলার মানুষকে আশ্বস্ত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন। এখানে ক্যাব হচ্ছে না, এনআরসি-ও হচ্ছে না।’ তাঁর দাবি, কেন্দ্র আইন পাস করালেই তা রাজ্যে কার্যকর করাতে পারবে না। রাজ্য সরকারকেই তা কার্যকর করতে হবে।’ বেলা বাড়তেই কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় যান চলাচল। একের পর এক আটকে পড়ে গাড়ি, বাস। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন পুলিশের আধিকারিরকরা। কোনা এক্সপ্রেসওয়ের পাশাপাশি নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয় সাঁতরাগাছি স্টেশনেও। একটানা বিক্ষোভের জেরে সাঁতরাগাছিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে রেল পরিষেবা। অফিস ও অন্য কাজে বেরিয়ে চূড়ান্ত দুর্ভোগের শিকার হন যাত্রীরা। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতায় শুক্রবার থেকেই রাজ্যে শুরু অশান্তি। জেলায়-জেলায় চরম আকার নিয়েছে প্রতিবাদ। কোথাও রাস্তা অবরোধ আবার কোথাও রেল রোকো। পথে বেরিয়ে শুক্রবার দিনভর হয়রানির একই ছবি ধরা পড়েছে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে। সূত্র: কোলকাতা২৪।

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা