07162020বৃহঃ
স্পটলাইট

স্পটলাইট (955)

নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক : বাংলাদেশ বিমান বাহিনী যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী শনিবার (১৫-০২-২০২০) পালন করেছে। ১৯৬৯ সালের এই দিনে তিনি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ঢাকা সেনানিবাসে আটক অবস্থায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক নিহত হন। এ উপলক্ষে চট্টগ্রামস্থ বিমান বহিনী ঘাঁটি জহুরুল হক কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ মাগরিব এক মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মিলাদ শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। উক্ত মিলাদ মাহফিলে ঘাঁটি এয়ার অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল এ এস এম ফখরুল ইসলাম, জিইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, ঘাঁটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিমানসেনা এবং অন্যান্য পদবীর সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।আইএসপিআর।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সকল মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ই-পাসপোর্ট করা হবে। ই-পাসপোর্ট চালু করায় বাংলাদেশ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম এবং বিশ্বে ১১১তম স্থানে রয়েছে। সংসদে আজ সরকারি দলের সংসদ সদস্য শামসুন নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে এ তথ্য জানান। স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান আরো জানান, ই-পাসপোর্টের পাশাপাশি এমআরপি পাসপোর্ট যুগোপৎভাবে চলু থাকবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঢাকায় তিনটি ই পার্সপোর্ট চালু করা হয়েছে। আগামী ১৮ মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস এবং আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সমূহে ই -পার্সপোর্ট চালু করা হবে। ই পাসপোর্টের জন্য বাংলাদেশে আবেদনকারীদের ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদী সাধারণ ই- পাসপোর্টের জন্য ফি ৩ হাজার টাকা, জরুরী ৫হাজার ৫শ’ টাকা এবং অতীব জরুরী ৭ হাজার ৫শ’ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১০ বছর মেয়াদী সাধারণ ই পাসপোর্টের জন্য ৫ হাজার, জরুরী ৭হাজার এবং অতীব জরুরী ৯ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদী সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য ফি ৫হাজার ৫শ’, জরুরী ৭ হাজার ৫শ’এবং অতীব জরুরী ১০ হাজার ৫শ’ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১০ বছর মেয়াদী সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য ৭ হাজার, জরুরী ৯ হাজার এবং অতীব জরুরী ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, বিদেশে অবস্থানরত ৫ বছর মেয়াদী ৪৮ পৃষ্ঠার সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য ১০০ মাকির্ন ডলার ও জরুরী ১৫০ মাকির্ন ডলার ১০ বছর মেয়াদী সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য ১২৫ মাকির্ন ডলার এবং জরুরী ১৭৫ মাকির্ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শ্রমিক ও ছাত্রদের জন্য বিদেশে অবস্থানরত ৫ বছর মেয়াদী ৪৮ পৃষ্ঠার সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য ৩০ মার্কিন ডলার ও জরুরী ৪৫ মাকির্ন ডলার ১০ বছর মেয়াদী সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য ৫০ মার্কিন ডলার এবং জরুরী ৭৫ মাকির্ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে মন্ত্রী সংসদে জানান। ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদী সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য ১৫০ মার্কিন ডলার ও জরুরী ২০০ ইউএসডি ১০ বছরমেয়াদী সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য ১৭৫ ইউএসডি এবং জরুরী ২২৫ মাকির্ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া শ্রমিক ও ছাত্রদের জন্য বিদেশে অবস্থানরত ৫ বছর মেয়াদী ৬৪ পৃষ্ঠার সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য ১৫০ মার্কিন ডলার ও জরুরী ২০০ মার্কিন ডলার ১০ বছর মেয়াদী সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য ১৭৫ মাকির্ন ডলার এবং জরুরী ২২৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে মন্ত্রী সংসদকে জানান।
কূটনৈতিক প্রতিবেদক চীনের হুবেই প্রদেশে অবরুদ্ধ থাকা ১৭১ বাংলাদেশিকে এখনই দেশে ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। নভেল করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হুবেই প্রদেশের উহানের অদূরে ইচাং শহরে প্রায় বন্দি অবস্থায় বিভিন্ন ডরমিটরি এবং বাসাবাড়িতে দিন কাটাচ্ছেন তারা। কোনো বাংলাদেশি আক্রান্ত না হলেও তারা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। খাওয়া-দাওয়া বিশেষত বিশুদ্ধ পানি সংকটে রয়েছেন তারা। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর এনআরবি’র একটি অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, উহান থেকে গত ১লা ফেব্রুয়ারি ৩১২ বাংলাদেশিকে বিশেষ বিমান পাঠিয়ে দেশে আনা হয়েছে। এখনও আরও ১৭১ জন ফিরতে নাম রেজিস্ট্রেশন করেছেন। কিন্তু সমস্যা হলো যে উড়োজাহাজ চীনে যেতে বাংলাদেশিদের নিয়ে এসেছেন তার পাইলট এবং ক্রুদের অন্য দেশ ঢুকতে দিচ্ছে না। এমনকি উড়োজাহাজটিও এখন কোনো দেশে পাঠনো যাচ্ছে না। এমনকি সিঙ্গাপুরও তাদের গ্রহণ করছে না। মন্ত্রী বলেন, একমাত্র চাইনিজ চাটার্ড ফ্লাইটে তাদের আনা সম্ভব হত। এক পর্যায়ে চীন রাজিও হয়েছিল। কিন্তু পরে তারা না করে দিয়েছে। আমরা তো কোনো ফ্লাইট পাঠাতে পারছি না, কোনো ক্রুও যেতে চাচ্ছে না। চীনে থাকা নাগরিকদের আরও অন্তত কিছু দিন সেখানে থেকে তারপর দেশে ফেরার পরামর্শ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিদেশে থাকা ওই বাংলাদেশিদের অন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। মোমেন বলেন, তাদের খাওয়া-দাওয়া চাইনিজরা এনশিওর করছে। ২৩টি জায়গায় বাংলাদেশিরা থাকে, সবগুলো জায়গায়ই খাবার, পানি সময়মতো পাঠিয়ে দিচ্ছে তারা। তারা খাবার সঙ্কটে আছে বলে যেসব কথা শোনা যাচ্ছে, তা সঠিক নয়। দূতাবাস কোন খবর রাখছে এমন অভিযোগ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের দূতাবাস ওদের সাথে সব সময় যোগাযোগ করছে। ৩৮৪ জনের একটা গ্রুপ কনটিনিউয়াসলি খোঁজ নিচ্ছে তাদের। মন্ত্রী বলেন, সরকারিভাবে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়ায় অনেকে আসতে চাইছে, ব্যক্তি উদ্যোগে এলে হয়ত এ সংখ্যা অনেক কমে আসবে। উল্লেখ্য, নতুন ধরনের এই ভাইরাসে চীনে ইতোমধ্যে সাত শতাধিক মানুষ মারা গেছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। চীন থেকে দুই ডজনের বেশি দেশে সংক্রমিত হয়েছে প্রাণ সংহারী এই ভাইরাস। এ অবস্থায় করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের হুবেই প্রদেশে আটকে পড়া ১৭১ বাংলাদেশি দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের কারণে তারা প্রায় অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। ঘরে খাবার নেই, বাইরে দোকান বন্ধ। বিশুদ্ধ পানির সংকটও চরমে। বাস- ট্রেন বন্ধ এবং বিমান চলাচল কমিয়ে দেয়ায় তারা নিজ উদ্যোগেও ফিরতে পারছেন না। অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের ডরমেটরি সিল করে রেখেছে। ফলে তারা বাইরে যেতে পারছেন না। বাহির থেকে কেউ খাদ্য-পানীয় নিয়েও ভেতরে যেতে পারছেন না। প্রতিষ্ঠানগুলো সংকটের শুরুতে খাবার দিলেও এখন তা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরের অদূরে ইচাং-এ অবস্থান করছেন ওই সব বাংলাদেশিরা। ইচাং শহরে আটকে পড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী দ্বীন মোহাম্মদ প্রিয় এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তাদের দুর্বিষহ অবস্থার বর্ণনা দেন।
বৃহস্পতিবার, 06 ফেব্রুয়ারী 2020 15:55

সরকারি সফরে নেপাল যাচ্ছেন সেনাবাহিনী প্রধান

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, এসবিপি, বিএসপি, বিজিবিএম, পিবিজিএম, বিজিবিএমএস, পিএসসি, জি ০৫ দিনের সরকারি সফরে আগামীকাল ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখ (শুক্রবার) নেপাল গমন করবেন। আইএসিপআর। সফরকালে তিনি নেপালের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সহকারী প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সেনাবাহিনী প্রধান এর সাথে সাক্ষাৎ করবেন। সাক্ষাৎকালে সেনাবাহিনী প্রধান তাঁদের সাথে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে বিরাজমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ বিনিময়, শুভেচ্ছা সফর ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিবিধ বিষয়ে আলোচনা করবেন। সফরকালে তিনি একাধিক সামরিক/ অসামরিক স্থাপনা পরিদর্শন করবেন। সফর শেষে সেনাবাহিনী প্রধান আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখ দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক চীনসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস বাংলাদেশে যেন প্রবেশ করতে না পারে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যেকোনো মূল্যে এই ভাইরাস ঠেকাতে হবে। সোমবার নিজ কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও ব্যক্তিদের নিয়ে আলাদা বৈঠক করেন। সেখানে তিনি এই নির্দেশ দেন। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে ব্রিফ করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের নিয়ে আলাদা বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে এই ভাইরাস বিস্তারিত ঠেকাতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয় যেভাবেই হোক করোনাভাইরাস বাংলাদেশে প্রবেশের সবধরনের সুযোগ বন্ধ করতে হবে। চীন থেকে যারা বাংলাদেশে প্রবেশ করবে, তাদেরকে টানা ১৪ দিন বিশেষ ব্যবস্থায় তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। ইতিমধ্যে যে ৩১৬ জনকে বিমানে করে আনা হয়েছে, তাদেরকে সার্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভাইরাস বিশেষজ্ঞ প্রফেসর আব্দুল্লাহ। তিনি এ সময় বলেন, এর আগে যেসব ভাইরাসের উদ্ভব ঘটেছিল, সেগুলো সেভাবে এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েনি। যতটা করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। সচিব বলেন, চীন বা বিভিন্ন দেশ থেকে যে নাগরিক আমাদের দেশে আসছে, তাদেরকে সে দেশে সর্বোচ্চ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই পাঠানো হচ্ছে। এরপরেও আমরা এখানে সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করে তাদেরকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করছি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে বিভিন্ন বড় বড় প্রকল্পে চাইনিজ যেসব নাগরিক কর্মরত আছে, তাদের মধ্যে যারা গত ১৮ তারিখের পরে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, তাদেরকে আমরা বিশেষ তদারকিতে রেখেছি।’ চীনের সঙ্গে সব ধরনের ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ইতিমধ্যে এসব ফ্লাইটে ১২ থেকে ১৫ জন লোকের বেশি যাত্রী হচ্ছে না, ফলে এটা এমনিতেই বন্ধ করে দেবে হয়তো বিমান কর্তৃপক্ষ।
শনিবার, 01 ফেব্রুয়ারী 2020 17:45

ভোট পর্যবেক্ষণ করলেন কূটনীতিকরা

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক বাংলাদেশে নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত ঢাকার সিটি করপোরেশন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন। দিনের শুরুতে তারা আলাদাভাবে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করলেও গণমাধ্যমে কোন মন্তব্য দিতে রাজি হননি তারা। শনিবার সকাল ৮টায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রায় আড়াইহাজার কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল পৌনে ১০টার দিকে বনানী বিদ্যানিকেতন কেন্দ্রে ভোট পরিদর্শনে যান বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন। ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের এক পর্যায়ে তার কাছে সাংবাদিকরা ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় তিনি গণমাধ্যমকে এড়িয়ে যান এই বলে আমরা শুধু পর্যবেক্ষণ করছি, কোনো মন্তব্য নয়। এদিকে ভোট চলাকালে রামপুরার একরামুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। এ সময় তিনি ভোটকেন্দ্রের ভেতরে বসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তবে পরিস্থিতি কেমন দেখলেন জানতে চাইলে তিনিও কোনো মন্তব্য করেননি। মার্কিন দূতাবাস জানায়, ঢাকার দুই সিটিতে ভোট চলবে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এই দুই সিটিতে এবারই প্রথম সম্পূর্ণভাবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক ব্যাপক নিরাপত্তা, উৎসাহ উদ্দীপনা আর উৎসব আমেজে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। আজ শনিবার সকাল ৮টা থেকে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এটা বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। এসব জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে রিটানিং অফিসার আবুল কাশেম ও মো. আব্দুল বাতেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা জানান, নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রয়েছে। ভোটাররা নির্ভিষœ ভোট দিচ্ছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন কারও সহায়ক না, কারও পক্ষে বা বিপক্ষেও না। সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে আইন অনুযায়ী কমিশন দায়িত্ব পালন করছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, ভোটার, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, ভোট কেন্দ্রে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। টানা ২০ দিন প্রচারণা শেষে নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় সকল প্রকার প্রচারণা শেষ হয়েছে। ভোট উপলক্ষে রাজধানীতে ইতোমধ্যে মটরসাইকেল চলাচল বন্ধ হয়েছে। শুক্রবার রাত ১২টা থেকে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়াও শুক্রবার রাত ১২টা থেকে আজ রাত ১২টা পর্যন্ত নৌ চলাচলও বন্ধ রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে ইসি। এদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ ও আনসার নিয়োজিত রয়েছে এবং বিজিবি, র‌্যাব ও নৌ-পুলিশ নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন বাহিনী বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভোটের দায়িত্বে নিজ নিজ সদস্যদের নির্দিষ্ট জায়গায় মোতায়েন করেছেন। ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুই সিটিতে ২ হাজার ৪৬৮ কেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ৫৯৭টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ। আর সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে ৮৭১টি। নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ৬ জন অস্ত্রসহ পুলিশ (একজন এসআই, একজন এএসআই ও চারজন কনস্টেবল), ২ জন অস্ত্রসহ অঙ্গীভূত আনসার এবং ১০ জন লাঠিসহ অঙ্গীভূত আনসার/ভিডিপি সদস্য (চারজন নারী ও ছয়জন পুরুষ) মোতায়েন রয়েছে। আর সাধারণ ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রসহ চারজন পুলিশ (এসআই/এএসআই ১ জন ও ৩ জন কনস্টেবল), ২ জন অস্ত্রসহ অঙ্গীভূত আনসার, ১০ জন লাঠিসহ অঙ্গীভূত আনসার/ভিডিপি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এই হিসেবে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত থাকছে আনসার ও পুলিশের ৪২ হাজার ৬৮২ জন সদস্য। আর ভোটের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ৭৫ প্লাটুন বিজিবির ২ হাজার ২৫০ জন জোয়ান নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া পুলিশ ও এপিবিএন সমন্বয়ে ১২৪টি ভ্রাম্যমাণ ও ৪৩টি স্ট্রাইকিং টিম, র‌্যাবের ১২৯টি টিম নিয়োজিত রয়েছে। অর্থাৎ র‌্যাব, পুলিশ, এপিবিএন, স্ট্রাইকিং ও ভ্রাম্যমাণ টিম মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজারের মতো ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। সব মিলিয়ে এ নির্বাচনে ৫০ হাজারের মতো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত আছেন। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীরকে জানান, নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক যেখানে যেমন দরকার সে অনুযায়ী যেকোনো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োজিত করার নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে। নির্বাচনী আচরণ বিধি প্রতিপালন ও অপরাধের বিচার কাজের জন্য দুই সিটিতে ১২৯ জন নির্বাহী হাকিম ও ৬৪ জন বিচারিক হাকিম নিয়োগ করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটিতে ৫৪ জন ও দক্ষিণ সিটিতে ৭৫ জন নির্বাহী হাকিম ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকবেন। এছাড়া উত্তর সিটিতে ২৭ জন ও দক্ষিণে ৩৭ জন বিচারিক হাকিম ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশবাসী ও বিদেশিরা ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ নির্বাচনে মোট ২২ প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ১৩ জন স্থানীয় পর্যবেক্ষক কাজ করছেন। এদের মধ্যে উত্তরে ৫০৩, দক্ষিণে ৪৫৭ এবং কেন্দ্রীয়ভাবে ৫৩ পর্যবেক্ষক পর্যবেক্ষণ করছেন। আর বিদেশী পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করছেন মোট ৭৪জন। তাদের মধ্যে ৪৬ বিদেশী এবং ২৮ বাংলাদেশী নাগরিক রয়েছেন। ইসি সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ভোটার সংখ্যা ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ জন এবং নারী ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৭০৬ জন। উত্তরে মোট ভোটকেন্দ্রে ১ হাজার ৩১৮। মোট সাধারণ ওয়ার্ড ৫৪ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সংখ্যা ১৮টি। এ ছাড়াও ভোটকক্ষ রয়েছে ৭৫৪টি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ভোটার ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪১ এবং নারী ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৫৩। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ১৫০। সাধারণ ওয়ার্ড ৭৫ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ২৫টি। এ ছাড়াও ভোটকক্ষের সংখ্যা রয়েছে ৮৭৬টি।
শুক্রবার, 31 জানুয়ারী 2020 20:28

সকালে সিটি কলেজে ভোট দেবেন প্রধানমন্ত্রী

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে রাজধানীর সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন। শনিবার সকাল ৮টায় তিনি এ কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। শনিবার ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে এবার দুই সিটির ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবদেক চীনে মারাত্মক করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে আটকে পড়া যে সব বাংলাদেশী ‘দেশে ফিরতে চান’ তাদের ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম আজ সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন। ফেসবুক পোষ্টে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ‘এ ব্যাপারে আমরা চীন সরকারের সাথে আলোচনা শুরু করেছি।’ তিনি বলেন, তাদের ফিরিয়ে আনার উপায় বের করার জন্য পররাষ্ট্র দফতর করোনা ভাইরাস আক্রান্ত অঞ্চলে চীনা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার পরিকল্পনা করেছে। কারণ, সেখানে লোকজনের প্রবেশ এবং বেরিয়ে আসা বন্ধ করে ভ্রমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শাহরিয়ার আলম বলেন, যারা দেশে ফিরতে চান আজকের মধ্যেই তাদের তালিকা তৈরির প্রাথমিক নির্দেশনা দেয়া হবে। শাহরিয়ার আরো বলেন, ‘আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’ ভাইরাসের কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে জরুরি সহায়তা প্রদানের প্রয়োজনে বেইজিংয়ের বাংলাদেশী দূতাবাস প্রবাসী বাংলাদেশীদের যোগাযোগের জন্য ইতোমধ্যে ২৪ ঘন্টা হটলাইন চালু করেছে। হটলাইন নম্বর হচ্ছে + ৮৬ ১৭৮-০১১১-৬০০৫ এবং এই নম্বরটি চীনে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিশেষত শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ভাইরাস আক্রান্ত অঞ্চল উহানে বর্তমানে প্রায় ৩শ’ থেকে ৪শ’ বাংলাদেশী শিক্ষার্থী অবস্থান করছে। বাংলাদেশী দূতাবাস এর আগে জানিয়েছিল যে, বেইজিংয়ে বাংলাদেশী মিশন তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। চীনে প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সোমবার মৃতের সংখ্যা ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আরো কয়েকশ’ জন নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাদের আলাদা করে এবং ভ্রমণ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিদেশী সরকারগুলো চীনে আটকে পরা তাদের নাগরিকদের সহায়তা প্রদানের চেষ্টা চালাচ্ছে।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক: রাখাইনে এখন যে রোহিঙ্গারা আছেন, তাদেরকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য মিয়ানমারকে সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দিয়েছে নেদারল্যাডন্সের দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত (আইসিজে)। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলায় কিছুক্ষণ আগে ঘোষণা করা অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে মিয়ানমারের প্রতি চারটি নির্দেশনা দেয় আইসিজে। বিবিসি বাংলা। রাখাইনে বসবাসরত সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের সুরক্ষা দেবার জন্য মিয়ানমার সরকারকে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর লাগাম টেনে ধরতে হবে। আদালত বলেছে, সেনাবাহিনী কিংবা অন্য যে কোন ধরণের নিরাপত্তা বাহিনী যাতে গণহত্যা না চালায় কিংবা উস্কানি না দেয় সেজন্য সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত যেসব অভিযোগ এসেছে, সে সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দেবার জন্য মিয়ানমার কী ধরণের ব্যবস্থা নিয়েছে সে সংক্রান্ত প্রতিবেদন আগামী চারমাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের কাছে জমা দিতে হবে। এরপর প্রতি ছয়মাসে একটি করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এসব প্রতিবেদন গাম্বিয়ার কাছে তুলে ধরা হবে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার বিচার মন্ত্রী আবুবাকার তাম্বাদুর দিকে তাকিয়ে রয়েছেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি অং সান সু চিকে আদালতে নিয়ে গেছেন যে ব্যক্তি রোহিঙ্গা: মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার অভিযোগ কেন? মিয়ানমারের সর্বোচ্চ নেতা অং সান সু চি তার দেশের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করলেও জাতিসংঘের এই সবোর্চ্চ আদালত রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যা প্রতিরোধে মিয়ানমারকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার আইসজেতে ১৭জন বিচারকের প্যানেলে এই আদেশের পক্ষে সর্বসম্মতিক্রমে ভোট দেয়। এরমধ্যে রয়েছে ওই জনগোষ্ঠীর হত্যা রোধ করা, তাদের যেন গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি না হয়। এবং ইতোমধ্যে সংগঠিত সম্ভাব্য গণহত্যার প্রমাণ সংরক্ষণ করা। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কিংবা অন্য যেকোন নিরাপত্তা বাহিনী যেন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কোন গণহত্যায় না জড়ায়, উষ্কানি না দেয়, কিংবা নির্যাতনের মুসলমানদের চেষ্টা না করে সেজন্য ব্যবস্থা নিতে মিয়ানমারকে নির্দেশ দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতের এই আদেশ মানতে মিয়ানমার বাধ্য। তবে আদালত এজন্য তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারবে না। তবে এই রায় উপেক্ষা করা মিয়ানমারের জন্য কঠিন হয়ে উঠবে। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এই নৃশংসতাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে গত বছরের ১১ নভেম্বর আইসিজেতে মামলা দায়ের করে আফ্রিকার মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ গাম্বিয়া। গণহত্যার তদন্ত শুরু না হওয়া পর্যন্ত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায় দেশটি। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের পিস প্যালেসে গত বছরের ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর মামলার শুনানি চলে। ১০ ডিসেম্বর গাম্বিয়ার প্রতিনিধি দল আদালতে গণহত্যার বিষয়ে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করে। শুনানিতে গাম্বিয়ার পক্ষে মামলার প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির বিচারমন্ত্রী আবুবাকার তাম্বাদু। পরদিন ১১ ডিসেম্বর মিয়ানমারের নেতৃত্ব দেন মিয়ানমারের সরকার প্রধান অং সান সু চি। সেখানে তিনি তার দেশের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন। শুনানির সময় মিসেস সু চি আইসিজের এই মামলাকে "অসম্পূর্ণ ও ভুল" হিসাবে আখ্যা দিয়ে মামলাটি বাতিল করে দেয়ার আহ্বান জানান। ১২ই ডিসেম্বর মামলার শুনানি শেষ হয়। দ্য হেগ শহরে এই শুনানিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। ওই দলে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের তিনজন প্রতিনিধিও ছিলেন। রায় ঘোষণার কিছুক্ষণ আগে ফিনান্সিয়াল টাইমসকে মিসেস সু চি বলেন, "মানবাধিকার সংগঠনগুলো অপরাধমূলক তদন্তের যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই মিয়ানমারের নিন্দা করে এসব অপ্রমাণিত বিবৃতি দিচ্ছে"। "রাখাইনে স্থিতিশীলতা এবং অগ্রগতি আনতে মিয়ানমারের প্রচেষ্টায় এই আন্তর্জাতিক নিন্দা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে", বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ প্রশ্নে মি. তাম্বাদু বিবিসিকে বলছেন, '''রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনী এবং বেসামরিক বাসিন্দারা সংগঠিত হামলা চালাচ্ছে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দিচ্ছে, মায়ের কোল থেকে শিশুদের ছিনিয়ে নিয়ে জ্বলন্ত আগুনে ছুঁড়ে মারছে, পুরুষদের ধরে ধরে মেরে ফেলছে, মেয়েদের ধর্ষণ করছে এবং সবরকমের যৌন নির্যাতন করছে।'' একে ১৯৯৪ সালে রোয়ান্ডা গণহত্যার সঙ্গে তুলনা দিয়ে তিনি বলেন, 'রোয়ান্ডায় টুটসিদের ওপর যেরকম অপরাধ করা হয়েছিল, এটা সেরকমই মনে হচ্ছিল। এখানে সেই একই রকম গণহত্যার সব বৈশিষ্ট্যই রয়েছে। রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীকে চিরতরে ধ্বংস করার জন্য এটা মিয়ানমারের সরকারের একটা চেষ্টা।'' অন্যদিকে মিয়ানমার শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে যে, তারা রাখাইন রাজ্যে চরমপন্থীদের হুমকি মোকাবিলা করে আসছে। এই স্যাটেলাইট চিত্রটিতে দেখা যাচ্ছে পুড়িয়ে দেয়া রোহিঙ্গাদের গ্রাম (ওপরে) এবং অক্ষত রোহিঙ্গাদের গ্রাম (নিচে)। ছবি সৌজন্য: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ মিস সু চি আদালতে তার শুনানিতে এই সহিংসতাকে 'অভ্যন্তরিন সশস্ত্র সংঘাত' হিসেবে অ্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, সরকারি নিরাপত্তা চৌকিতে রোহিঙ্গাদের হামলার কারণেই এই সংঘাত বেধে যায়। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মিয়ানমার কাউকে ফেরত নেয়নি। আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে মামলা করার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন হচ্ছে, সে ব্যাপারে বিশ্বব্যাপীকে কিছু করার জন্য তাগিদ দেয়া।