09182019বুধ
স্পটলাইট

স্পটলাইট (857)

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তার তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত যুদ্ধাপরাধীরা মিলে একটি বিতর্কিত নির্বাচন করার জন্য ওঠেপড়ে লেগেছে। সব জরিপে আওয়ামী লীগ এগিয়ে আছে দেখে যে কোনো উপায়ে ক্ষমতায় আসতে বিএনপি-জায়ামাত বিদেশে প্রচুর লবিং করছে। রোববার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে ঢাকা সিটি কলেজ ভোটকেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর সাংবাদিকদের নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে এসব মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় সজীব ওয়াজেদ জয় জনগণের প্রতি অনুরোধ করেন, মানুষের প্রতি একটিই অনুরোধ-যারা যুদ্ধ অপরাধীদের নিয়ে রাজনীতি করে, তাদের ভোট দেবেন না। ৩০ লাখ ভাইবোনের হত্যাকারীদের সঙ্গে যারা জোটবদ্ধ হয়েছে, তাদের ভোট দেবেন না। নির্বাচন প্রসঙ্গে জয় বলেন, বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসী করবে, তাদের গ্রেফতার করতে পারবেন না, এটি কেমন কথা। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী জানিয়ে জয় বলেন, ভোটের ফল যাই হোক আওয়ামী লীগ তা অবশ্যই মেনে নেবে। মানুষ যাকে ভোট দেবে তারাই ক্ষমতায় আসবে। তবে একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জয় বলেন, যে দল দেশকে স্বাধীনতা দিয়েছে, যে দল দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নিত করেছে-সে দলকেই জনগণ ভোট দেবে। প্রসঙ্গত রোববার সকাল সকাল ৮টার পর একই কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। রাজধানীর ধানমণ্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট এবং কলাবাগান থানা এলাকা নিয়ে ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনের একটি ভোটকেন্দ্র ঢাকা সিটি কলেজ। জাতীয় সংসদের এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্ধী বিএনপির প্রার্থী আবদুল মান্নান।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দল-মতের উর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেছেন, কারো কারণে নির্বাচন যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। কোন প্রার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখার নির্দেশ দেন সিইসি। শনিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। প্রার্থী ও ভোটাররা যেন ন্যায্য অধিকার থেকে ভোট দিতে পাওে এ আহবান জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সকলের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলার সর্বস্তরের সদস্যদের নির্দেশ দিচ্ছি। সহিংস ও নাশকতামূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে কঠোর অবস্থান নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিচ্ছি। কোন মহল ভোটকেন্দ্রে অবৈধভাবে কোন অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে অবশ্যই দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা নিয়ন্ত্রণ করবে। কোন বাহিনীর নির্লিপ্ততার কারণে অথবা নিস্ক্রিয় ভূমিকার কারণে কোন কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ ব্যাহত হলে অধিক্ষেত্রের বাইরে গিয়ে তদন্ত করা হবে। এবং দোষী প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিফ্রিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। গণমাধ্যমের খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে সিইসি বলেন, প্রার্থীর এজেন্টদের হয়রানি করা হচ্ছে, তা কোনভাবেই কাম্য নয়। কোন এজেন্টের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন ফৌজদারী কোন অভিযোগ না থাকলে পুলিশ কাউকে গ্রেফতার বা হয়ারনি করবে না। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে তাদেরকে পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে হবে। এজেন্টদের দায়িত্ব অনেক, তারা প্রার্থীর প্রতিনিধিত্ব করেন। তারা প্রার্থীর স্বার্থে কাজ করেন। লিখিত বক্তব্যে সিইসি বলেন, কাঙ্খিত ও প্রত্যাশিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছি আমরা। আগামীকাল সকাল আট ঘটিকায় দেশব্যাপী একসাাথে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশবাসীকে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। স্বাচ্ছন্দের সাথে একে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে পারি। কারণ হিসেবে সিইসি বলেন ৩০০টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে রেকর্ডসংখ্যক ১৮৬১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করার জন্য মাঠে নেমেছেন। দেশের সব রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছে। নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় সমগ্র দেশ মুখরিত হয়েছে। মিছিল, সমাবশে, পথসভা, জনসভা, লংমার্চ, লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রতিযোগিতামূলক আবহ সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রস্তুতির পর্বে দেশব্যাপী ৬৬জন রিটার্নিং অফিসার, ৫৮০জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার, কেন্দ্রভিত্তিক প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। তাদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৩জন ভোটরের জন্য মোট ৪০ হাজার ১৮৩টি নির্বাচনী কেন্দ্র, দুই লক্ষ ৬ হাজার ৭৭৭টি বুথ নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে নির্বাচনের সব সামগ্রী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ নির্বাচনের মালামাল নিয়ে আজ রাতের মধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছে যাবেন। যে ছয়টি আসনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে সেসব আসনেও নির্বাচনী সামগ্রী ও জনবল পৌঁছে গেছে। ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী সামগ্রী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পোলিং এজেন্টসহ সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় তদন্ত কমিটি, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্মকর্তা রয়েছেন।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রিতেবদক আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার নামে ভুয়া ওয়েবসাইট, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেল ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকার মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চলছে। সোমবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রেজা-উল করিম শাম্মী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের নাম; Bangladesh Army (https://www.army.mil.bd) এবং Join Bangladesh Army (https://joinbangladesharmy.army.mil.bd)। সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজের নাম; Bangladesh Army, (https://www.facebook.com/bdarmy.army.mil.bd) ও ইউটিউব চ্যানেলের নাম (Bangladesh Army) লিংক-https://www.youtube.com/channel/UCpkg5RjtYqjRbxwL9Gf5Tfw । এগুলো ছাড়া অন্যান্য সকল ভুয়া ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের বিষয়ে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো। একই সাথে সর্বসাধারণকে সেনাবাহিনী সম্পর্কে ভুয়া তথ্য সংবলিত পোস্ট শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার জন্যও অনুরোধ করা হয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসছেন না আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন (আনফ্রেল) -এর সদস্যরা। সময়মতো ভিসা না পাওয়ায় তারা বাংলাদেশ সফর বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। গত শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা অনুপস্থিত থাকায় বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেলো। ইউএসআইডির অর্থায়নে পরিচালিত কিছু সংস্থাসহ আরও যেসব সংস্থা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে তাদেরকে নিয়ে গঠিত ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্যদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অনুমতি দেওয়া সরকারের জন্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউটের অর্থায়নে ব্যাংককভিত্তিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা আনফ্রেলের সদস্যদের বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ আসার কথা ছিল। আনফ্রেলের সদস্যদের সময়মতো ভিসা না পাওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রকে হতাশ করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যে কোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচন সম্পন্ন করতে শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের সুযোগ থাকতে হবে, গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে নির্বাচনের সংবাদ পরিবেশন করতে দিতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণ যেনো শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সে ব্যাপরে সরকার পদক্ষেপ নেবে।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক রোববারের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা পিছিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক বলেন,‌ অনিবার্য কারণবশত রোববারের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। রোববার যে পরীক্ষাগুলো ছিল, সেগুলো আগামী শুক্রবার সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। রোববার জেএসসি পরীক্ষার্থীদের ইংরেজি ও জেডিসি পরীক্ষার্থীদের আরবি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। নবমবারের মতো এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই পরীক্ষা। ২০১০ সাল থেকে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়। শিক্ষা বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, এ বছর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৬ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৩। গত বছরের তুলনায় এবার দুই লাখ এক হাজার ৫১৩ পরীক্ষার্থী বেড়েছে। এর মধ্যে জেএসসিতে এক লাখ ৭৭ হাজার ৬৬ এবং জেডিসিতে ২৪ হাজার ৪৪৭ জন। এবার নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ৭টি বিষয়ে ৬৫০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। বাংলা ২য় পত্র এবং ইংরেজি ১ম/২য় পত্র ছাড়া সব বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিশেষ প্রতিনিধি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত তাদের নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসতে রাজি হয়েছে আওয়ামী লীগ। সংলাপের আহ্বান জানিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চিঠি পাওয়ার পরদিন সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বক্ষণে কোনো চাপের মুখে এই সংলাপ হচ্ছে না এবং তারা কোনো পূর্বশর্তও দিচ্ছেন না। তফসিলের আগেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসবেন তারা। কাদের বলেন, আমরা কারও চাপের মুখে নতি স্বীকার করিনি। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা কাউকে সংলাপে ডাকিনি। তারা সংলাপ করতে চান, ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। সংলাপের দরজা সবার জন্য খোলা। আমরা ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাব সম্মত। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী কাদের বলেন, “শেখ হাসিনার দরজা কারো জন্য বন্ধ হয় নাই, বন্ধ থাকে না। এর মধ্য দিয়ে আপনারা বুঝতে পারছেন যে আমরা আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাবে সম্মত। আমরা সবাই এ ব্যাপারে নেত্রীর সঙ্গে একমত যে আমরা ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসব। দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি ২০১৪ সালের ওই নির্বাচনের পর থেকেই সংলাপের আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু তার কোনো প্রয়োজন দেখছিল না আওয়ামী লীগ। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে আলোচনার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করে শেখ হাসিনার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কথাও বলে আসছিলেন আওয়ামী লীগের নেতারা। দুর্নীতির মামলায় দন্ড নিয়ে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়া এবং গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় খালেদার ছেলে তারেক রহমান দোষি সাব্যস্ত হওয়ার পর ‘খুনিদের’ সঙ্গে সংলাপে না বসার কথা আরও জোর গলায় বলছিলেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এদিকে আওয়ামী লীগকে নত করতে ব্যর্থ বিএনপি গত ১৩ অক্টোবর গণফোরাম সভাপতি কামালের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়ে ৭ দফা দাবি তুলে তা নিয়ে নতুন করে সংলাপের আহ্বান জানায়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফায় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি রয়েছে, যা বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সম্ভবপর নয় বলে আওয়ামী লীগ নেতারা বলে আসছেন। এর মধ্যে রোববার সংলাপের আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে লেখা কামাল হোসেনের চিঠি পৌঁছে দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সেই চিঠি পাওয়ার পর সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর শেখ হাসিনা আলোচনা করেন বলে কাদের জানান। তিনি বলেন, “আজকে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর নেত্রী আমাদের নিয়ে অনির্ধারিত একটি বৈঠক করেন। উপস্থিত দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সবার মতামত জানতে চান। অনির্ধারিত এ আলোচনায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দরজা কারো জন্য বন্ধ নয়।” কাদের বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে সংলাপে নেতৃত্ব দেবেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। খুব শিগগিরই আমরা সময়, স্থান ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো তাদের জানিয়ে দেব। এটা অনতিবিলম্বে জানিয়ে দেব।” এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “সংলাপ তফসিলের আগেই হবে।” জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা মানা হবে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। আলোচনা যখন হবে, আলোচনার রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করেন।” আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয়ে ‘জরুরি’ এই সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই কাদের বলেন, “আমি এই মুহূর্তে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সমগ্র দেশবাসীর জন্য প্লিজেন্ট সারপ্রাইজ দেব, যা সারাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে দেবে।” সংলাপের চিঠিতে আওয়ামী লীগের এক সময়ের নেতা কামাল লিখেছিলেন, “একটি শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সকলের অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্ধিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে একটি অর্থবহ সংলাপের তাগিদ অনুভব করছে এবং সে লক্ষ্যে আপনার কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি।” তিনি চিঠি শুরু করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক বলার মাধ্যমে। শেষে প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। বর্তমান রাজনৈতিক ‘সঙ্কটের’ জন্য নির্দিষ্ট কাউকে দায়ী না করে কামাল লেখেন, “নেতিবাচক রুগ্ন রাজনীতি কিভাবে আমাদের জাতিকে বিভক্ত ও মহাসঙ্কটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে, তাও আমাদের অজানা নয়।”
বিশেষ প্রতিনিধি পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূমি অধিগ্রহণের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনসহ ২১টি প্রকল্পের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের দক্ষিণাঞ্চল ঘিরে তার উন্নয়নের মহা-পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর আগেই বাংলাদেশ ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ওই সময়ে বাংলাদেশের কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। কোনো মানুষ রোগে ধুকে মরবে না। তারা চিকিৎসা পাবে। প্রতিটি ছেলে মেয়ে স্কুলে যাবে, লেখা পড়া শিখবে এবং উচ্চ শিক্ষায় সুশিক্ষিত হবে। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূমি অধিগ্রহণের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নির্মিত পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘স্বপ্নের ঠিকানা’র দলিল ও চাবি হস্তান্তর উপলক্ষে শনিবার এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “এই অঞ্চলকে ঘিরে আমাদের মহাপরিকল্পনা রয়েছে। এখানে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা আামাদের লক্ষ্য।” দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দেশের দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও এ অনুষ্ঠানে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা আরেকটি দ্বীপ খুঁজছি। অ্যাটমিক এনার্জির লোকরা সেখানে দেখছে। আমরা ফিজিবিলিটি স্টাডিও করছি। এখানে আমরা আরেকটি পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তুলব। সেই পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।” দেশের সমুদ্র সম্পদ কাজে লাগনোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই সমুদ্র সীমা আমরা কাজে লাগাব। ব্লু ইকোনমি পরিকল্পনা আমরা ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছি। এই সমুদ্র সম্পদ যাতে আমাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কাজে লাগে তার ব্যবস্থা আমরা নেব।” স্বপ্নের ঠিকানার উদ্বোধন করে প্রধামন্ত্রী বলেন, “এই এলাকায় ১৩০টি পরিবারের জন্য আমরা ঘর তৈরি করে দিয়েছি। এই পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ তো দিয়েছিই, ঘরও তৈরি করেছি, যাতে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করতে পারে।” বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা আমাদের দেশকে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।” আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ প্রতিনিধি দেশের মানুষের ‘স্বার্থে’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে বলে কড়া মন্তব্যে করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ আইনটি সংসদে পাস হওয়ার পর এখন আর কিছুই করার নেই বলে সাফ জানালেন তিনি। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার এ নিয়মিত বৈঠক আলোচনাকালে তিনি এ কথা বলেন। সম্প্রতি সংসদে পাশ হওয়া ডিজিটাল আইনের কিছু ধারা সংশোধনের ব্যাপারে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করার জন্য সরকারের দুই মন্ত্রী সম্পাদকদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুসারে সম্প্রচার আইন নিয়ে আলোচনার সময় আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্রসঙ্গটি তোলেন। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে আইন ও তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শোনেন। তারা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারার সংশোধন না হলে সম্পাদকসহ সাংবাদিকরা আন্দোলনে নামবে। তা মাঠের (বিএনপিসহ অন্যদলের) আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কারো স্বাধীন সংবাদিকতায় বাধা সৃষ্টির জন্য করা হয়নি। সঠিক তথ্য থাকলে যে কেউ যে কোন সংবাদ করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে এ আইন কারো জন্য বাধা হয়ে দাড়াবে না। তিনি বলেন, মালিক ও সম্পাদকরা কর্মসূচী দিচ্ছেন কেন? তাদের তো কোন সমস্যা দেখছি না। (এসময় একজন সিনিয়র মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে জানান, সম্পাদকরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবি নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করছেন)। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনকারী সম্পাদকদের মধ্যে একজন আছেন, যিনি এক এগারোর সময়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রিপোর্ট করেছেন। পরে একটি টেলিভিশনে ওই সম্পাদক জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এই বলে ডিজিএফআইয়ের দেয়া তথ্য বহুবহু আমার ছাপানো ঠিক উচিত হয়নি। ডিজিএফআইয়ের তথ্য নির্ভর সাংবাদিকতা করা সম্পাদক জাতির কল্যাণে লাগে না। শেখ হাসিনা বলেন, কথায় কথায় ব্রিটিশ আইন ফলো করার কথা বলেন ওনারা (সম্পাদকরা)। এক ভুল রিপোর্টের কারণে বিবিসির সম্পাদক পরিষদের সকল সদস্যকে পদ্যত্যাগ করতে হয়েছে। আর ব্রিটেনের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তো আরও কঠিন বললেন তিনি। তিনি বলেন, উনি তো ওনার লেখা লিখবেনই। আইন যা করার করে দিয়েছি। এখন তো বলে কোন লাভ নেই। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, ডিজিটাল আইন করা হয়েছে, দেশের সকল শ্রেণির মানুষের স্বার্থ রক্ষাতে। কিশোর ও যুব সমাজ রক্ষা, সামাজিকস্থিতিমীলতা ধরে রাখতে এই আইনের প্রয়োজন আছে। শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকতে আইনের সংশোধন চান না প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ক্ষমতা আজ আছে কাল নেই। এসব আমি ভাল করে জানি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদে পাস হয়ে যাওয়ার পর এখন আর কী কথা বলবেন, কী আলোচনা করবেন এ আইন কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য করা হয়নি। যারা সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে সরকার কড়া অবস্থানে থাকবে। যারা সত্য অনুসন্ধানী তাদের তো কোনো সমস্যা না। যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরকার, দেশ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তাদের জন্য এই আইন। এ সময় তথ্যমন্ত্রী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে এডিটর কাউন্সিলের মানবন্ধনের বিষয়টি তুলে ধরলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন সম্পাদক তো সব সময় আমার বিরুদ্ধে লেখার জন্য প্রস্তুত থাকে। পদ্মাসেতুর অর্থায়ন যাতে না হয় সে জন্য ড. ইউনূসের সঙ্গেও তিনি বিশ্বব্যাংকে গিয়ে কথা বলেছিলেন। মিথ্যা তথ্য কি ভাবে দেশেকে ক্ষতিগ্রস্ত করে সেই অভিজ্ঞতা তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি লন্ডনে কোন এক অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পরিচয় পাওয়ার তিনি প্রথম দেখাতেই পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুনীতির প্রসঙ্গটি তোলেন। প্রধানমন্ত্রীর কড়া জবাব, আপনি নিশ্চিত না হয়ে এ ধরণের কথা বলবেন না। বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ করলেও কোন প্রমান দিতে পারেনি। বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রধান হিসেবে অন্যের দায়ভার নিজের কাধে নেবে না।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের ভিত্তিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিফলন ও বিএনপিকে দুর্বল করার অসৎ উদ্দেশ্য। তাই এই রায়ের ভিত্তিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের প্রশ্ন আসে না। তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সাজানো মামলায় তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এটা জানার পরেও কেউ কেউ দল থেকে তার পদত্যাগের যে পরামর্শ দিয়েছেন, তাদের কাছে জনগণ প্রশ্ন করতে পারে যে, এত শত গুম, খুন করার জন্য দায়ী সরকারের পদত্যাগ কি তারা দাবি করেছেন? ফখরুল বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, গণমাধ্যমের একাংশ এই রায় প্রকাশের পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে মনগড়া কিছু তত্ত্ব ও তথ্য প্রকাশ করে তার সম্পর্কে জনমনে বিরূপ ধারণা দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি বিরোধী রাজনৈতিক জোট গঠনের মূল উদ্যোক্তাদের একজন ড. কামাল হোসেন বিবিসি বাংলাকে গত রবিবার একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। রেডিও-তে প্রচারিত সাক্ষাৎকারটির ওপর ভিত্তি করে বিবিসি বাংলার অনলাইনে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয় তার শিরোনাম ছিল "বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে নীতিগত আপত্তি নেই ড. কামালের"। ওই সাক্ষাৎকারের সূত্র ধরে সোমবার সাংবাদিকরা ড. হোসেনকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন যে বিবিসি বাংলা তাঁর বক্তব্য ঠিকভাবে উদ্ধৃত করেনি। বিবিসি বাংলার সঙ্গে ওই সাক্ষাৎকারে তিনি যা বলেছিলেন, নিচে তা হুবহু তুলে ধরা হল। ড. কামাল হোসেনের কাছে বিবিসি বাংলার মোয়াজ্জেম হোসেন প্রথমেই জানতে চেয়েছিলেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া কি নির্বাচনী জোট, না-কি সরকার বিরোধী আন্দোলনের মঞ্চ? ড. কামাল হোসেন: পুরো সুষ্ঠু নির্বাচন করার জোট, যে কারণে এটা সম্ভব হয়েছে ইমিডিয়েটলি করে নেয়া। বিবিসি বাংলা: তাহলে আপনি বলছেন এটি ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে বিরোধীদের কোন জোট নয়? ড. কামাল হোসেন: না না, মোটেই না। সরকার আসতে পারে তো এখানে। বিবিসি বাংলা: কিন্তু আমরা তো এরকম একটা সমালোচনা শুনছি যে আপনারা আসলে সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য এবং বিরোধী দল বিএনপিকে মাঠে নামার সুযোগ করে দেয়ার জন্য এই জোটটা করেছেন। ড. কামাল হোসেন: ওনাদেরকে একটু আশ্বাস দিতে পারেন যে এরকম কোন সিদ্ধান্ত আমাদের মাথায় ছিলই না যখন আমরা এটা করি।। শুরু ছিল যে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে যারাই নির্বাচনে, ইনক্লুডিং সরকারও, এই জোটে আসতে পারে। বিবিসি বাংলা: তো এই যে আপনারা বলছেন যে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে আপনারা এই জোটটা করেছেন তো সেই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কী কী পূর্বশর্ত আপনারা সরকারকে দিচ্ছেন যে কোন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন আসলে করা সম্ভব হবে? ড. কামাল হোসেন: এই যেমন সুষ্ঠু নির্বাচন হল যে, ভোটার লিস্টগুলো নিরপেক্ষভাবে, সঠিকভাবে তৈরি করা হবে। সকলকে সেই সুষ্ঠু ভোটার লিস্টের ভিত্তিতে ভোট দেয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। Image caption নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধী জোট গঠনের উদ্যোক্তারা বিবিসি বাংলা: কিন্তু নির্বাচনটা যে সরকার পরিচালনা করবে সেই সরকার কেমন হবে, কোন কাঠামোতে সেই সরকার পরিচালিত হবে, সে ব্যাপারে আপনাদের বক্তব্যটা কি? ড. কামাল হোসেন: সেটা তো আইনেই আছে। বুচ্ছেন না। সেখানে ইলেকশনের সময় যারা পরিচালনা করবেন তারা নিরপেক্ষ থাকবেন, তারা কোন দলীয় প্রভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবেন না। ইলেকশন হবে। মানে যেটা শুড বি, নট অনলি ফেয়ার, বাট বি সিন টুবি ফেয়ার, বুচ্ছেন না, এটা মানে ... বিবিসি বাংলা: কিন্তু এখন বাংলাদেশের যে সংবিধান, সেই সংবিধানে কি আসলে এমন নিরপেক্ষ লোক দিয়ে সরকার গঠনের কোন সুযোগ আদৌ আছে? ড. কামাল হোসেন: না, সেটাতো মানে, সংবিধানে এটা তো মানুষের চরিত্রের ব্যাপার। আমরা বলছি যে বিভিন্ন দলের যারা নেতৃবৃন্দ আছেন তারা যখন একটা স্বাক্ষর করবেন যে, আমরা কেউ এখানে হস্তক্ষেপ করবো না, আমরা এই প্রক্রিয়াকে একটা নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া হিসেবে হতে দেব। তখন আমরা ধরে নিতে পারি যে সরকারের পক্ষে যারা ওথ নিয়ে কথাগুলো বলবেন, আমাদের পক্ষে যারা ওথ নিয়ে বলবেন, তাদের তো একটা ন্যূনতম দায়িত্ববোধ থাকবে আর কি, যেটা বলবেন সেটা রক্ষা করবেন। বিবিসি বাংলা: কিন্তু এখন যে বাংলাদেশের সংবিধান, এই সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে কিভাবে আসলে এই সরকারটা গঠন করা হবে। আপনাদের কি কোন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আছে? ড. কামাল হোসেন: না, সেগুলো তো আইন এবং সংবিধান দেখলে তো ওখানে বলা আছে, নির্বাচন হবে, নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হবে, সকলেই যারা এখানে, মানে প্রতিযোগিতা করতে চান, এসে করতে পারবেন। এবং সেটা নির্বাচন কমিশন এটার রেফারি হিসাবে পরিচালনা করবে। কোন রকমের যদি নিরপেক্ষতা থেকে কেউ সরে যায় তো সেটাকে তারা চিহ্নিত করবে এবং এটাকে অবৈধ বলবে। এবং যদি সে, এরকম অবৈধ কোন জিনিষ না হয়, যেটা নিয়ে ইলেকশন কমিশন কে বলতে না হয় যে এ নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ হল না, তখন তারা এটার রায় দেবে না আর কি। তো এগুলো তো ইলেকশন আইনের মধ্যেই আছে। বিবিসি বাংলা: তার মানে আপনি কি, আপনারা কি এটা বলতে চাইছেন যে এখন বাংলাদেশের যে সংবিধান এবং এই সংবিধানের অধীনে এখন বাংলাদেশে যে সরকার ক্ষমতায়, এই সরকারের অধীনে আপনারা নির্বাচনে যেতে রাজী? ড. কামাল হোসেন: ইন প্রিন্সিপাল, ইন প্রিন্সিপাল। এটা বলা হচ্ছে যে তারা যেগুলো, মানে আইনে আছে, এগুলো মেনেই করবেন। যদি এখান থেকে কোন দেখা যায় যে না তারা এখান থেকে সরে যাচ্ছে, অথবা কোন রকমের প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে, তখন যদি এটা দৃষ্টিতে আসে, তখন তো প্রচণ্ড আপত্তি করা হবে যে এটা থেকে আপনারা বিরত থাকেন। যদি এটা থেকে বিরত ... যদি করতে থাকেন, আমি বলবো না যে করবেন, যদি আইদার সাইড দেখে যে না, এটা কোন কেউ এটা রীতিনীতি না মেনে করা হচ্ছে, তখন তো নির্বাচনকে বাতিল করার জন্য কোর্টে যেতে হবে। কোর্টকে বলতে হবে যে, এসব কারণে এটা অবাধ নিরপেক্ষ হল না, যেটা আইনের বিধান আছে যে এটা হতে হবে, সো আপনারা কোর্ট এটাকে বিবেচনা করে ডিক্লেয়ার করেন যে এটা হল না। এটা ইলেকশন এখানে সংবিধান অনুযায়ী হয়নি, তো যার কারণে এখন নতুন করে ইলেকশন আবার করতে হয়। বিবিসি বাংলা: এই যে আপনি বলছেন ইন প্রিন্সিপাল বা নীতিগতভাবে বর্তমান সরকারের অধীনে, নির্বাচনে যেতে আপনারা রাজী, এটি কি শুধু আপনাদের কথা বলছেন, নাকি আপনাদের প্ল্যাটফর্মে যতো দল এসেছে বিএনপিসহ সবার কথা বলছেন - সবাই যেতে রাজী? ড. কামাল হোসেন: না, আসলে তো আমরা এভাবে বসে এই ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত হয় নাই। আমি আমাদের দলের কথা বলছি আর কি। আর, এটা তো একটা সিম্পল প্রভিশনের আমি মনে করি যে সবাই এটা, মানে, বলতে দ্বিধাবোধ করবেন না। তবে কোন সিদ্ধান্ত এরকম বসে আমরা নিই নাই।

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা