08092020রবি
শিরোনাম:
স্পটলাইট

স্পটলাইট (965)

নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। লন্ডন থেকে দেয়া এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশের একজন ভালো বন্ধু ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, ‘তার মৃত্যুতে আমরা একজন প্রকৃত বন্ধুকে হারালাম।’ শেখ হাসিনা বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে নেয়ার ক্ষেত্রে তার অবদানের কথা বাংলাদেশ সব সময় স্মরণ করবে। প্রধানমন্ত্রী তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। হাসপাতাল সূত্র জানায়, সুষমা স্বরাজ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গতরাতে নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সে (এআইআইএমএস) শেষনি:শ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি বিজেপি’র একজন প্রবীণ নেতা ছিলেন।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ায় বরিস জনসনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়া উপলক্ষে আপনি আমার এবং বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের আন্তরিক অভিনন্দন গ্রহণ করুন।’ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার দায়িত্ব গ্রহণ আপনার দেশকে ঐক্য, সমৃদ্ধি ও গতিশীলতার নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আপনার নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যের জনগণের দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা ২০১৮ সালে আপনার সফরের কথা আন্তরিকভাবে স্মরণ করছি। আমরা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির ওপর নৃশংসতার জন্য মিয়ানমারকে জবাবদিহির সম্মুখীন করা এবং পূর্ণ মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের পৈতৃক ভূমিতে আশু ও টেকসই প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আপনার ব্যক্তিগত অঙ্গীকার ও যুক্তরাজ্যের বৈশ্বিক নেতৃত্বের ওপর আমাদের আস্থা বজায় রাখছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে, যা গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার অভিন্ন মূল্যবোধ এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীর কল্যাণের গভীরে প্রোথিত।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতির পিতা ও আমার প্রিয় পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি যুক্তরাজ্যের তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকারের প্রধানমন্ত্রী স্যার এডোয়ার্ড হিথের সমর্থনের কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি সাগ্রহে ২০২১ সালে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের কুটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপনের অপেক্ষায় রয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সুস্বাস্থ্য, সুখ ও অব্যাহত সাফল্য এবং যুক্তরাজ্যের জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
বিবিসি বাংলা বরগুনা জেলায় চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এর আগে মঙ্গলবার সারাদিন ধরে পুলিশ কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। ২৬শে জুন প্রকাশ্য দিবালোকে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। এই মামলার এক নম্বর সাক্ষী ছিলেন আয়শা সিদ্দিকা। আয়শার বাবা মোজাম্মেল হোসেন অভিযোগ করেছেন, বুধবার সকাল থেকে অনেক চেষ্টা করেও তিনি তার মেয়ের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য একজন আইনজীবী পাননি। "যারা আসামি তাদের বাঁচানোর জন্য এখন এগুলা করতেছে। যার স্বামী মারা গেল, তাকে বাঁচানোর জন্য কী চেষ্টা আমার মেয়ে করছে, সবাই দেখছেন আপনারা," বলেন তিনি। "সেই এক নম্বর সাক্ষী আজ কাঠগড়ায়। এমনকি আজ আমার মেয়ের পক্ষে কোন উকিলও (আইনজীবী) দিতে পারিনি। কেউ যাতে তার জন্য কোর্টে না দাঁড়ায়, সেজন্য বারে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে শুনেছি।" কারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিবিসির এমন প্রশ্নের জবাবে মিঃ হোসেন বলেছেন, "এলাকার প্রভাবশালী লোকেরা ছাড়া কারা এ কথা বলতে পারে, আপনারা বুঝে নেন। আমি বলতে গেলে কী আমি দেশে থাকতে পারবো?" আয়শার বাবার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুর রহমান নান্টু। তিনি দাবি করেছেন, জেলা আইনজীবী সমিতি এমন কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। "উনি (আয়শার বাবা) মিথ্যা কথা বলছেন। এ ধরনের কোন সিদ্ধান্ত (আয়শার পক্ষে না দাঁড়ানোর) আমাদের হয়নি।" "আয়শার বাবার সাথে আমার আদালতের বারান্দায় দেখা হয়েছে, উনি তো আমাকে কিছু বলেন নাই এ ব্যপারে।" আলোচিত এই মামলায় বুধবার আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে তোলা হয় আয়শা সিদ্দিকাকে। বরগুনা অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সঞ্জীব কুমার দাস বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতদিনের রিমান্ড চাইলে আদালত পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। তিনি জানিয়েছেন, তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানিয়েছেন, মামলার একজন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আয়শাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও হত্যাকান্ডের আগে মামলার আসামিদের কয়েকজনের সঙ্গে আয়শার কথোপকথনের একটি কললিস্ট আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মিঃ দাস। রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে দেশ জুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। হত্যাকান্ডের পর গত প্রায় তিন সপ্তাহে নিহতের বাবা দুলাল শরীফ এবং নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা আলাদা আলাদা কয়েকটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বরগুনার স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন, গত ১৩ই জুলাই রিফাতের বাবা বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ছেলের হত্যাকান্ডে আয়শা সিদ্দিকার সম্পৃক্ততা রয়েছে দাবি করে তার পুত্রবধূর গ্রেপ্তার দাবি করেন। পরদিন আয়শাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বরগুনায় একটি মানববন্ধনও করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ মামলার তদন্তে এ পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে স্বীকারোক্তি প্রদানের জন্য ১০জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এখনো রিমান্ডে রয়েছে তিনজন। এই মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন, যিনি 'নয়ন বন্ড' নামে পরিচিত, জুলাই মাসের দুই তারিখে তিনি পুলিশের সঙ্গে কথিত 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছেন।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দু:খ প্রকাশ করেছেন। আজ এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সংসদে এরশাদের গঠনমূলক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। জেপি চেয়ারম্যান এরশাদে মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক ভারতের লোকসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসায় নরেন্দ্র মোদিকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার মোদিকে পাঠানো এক বার্তায় তাকে অভিন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আপনার গতিশীল নেতৃত্বে ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) বিপুল বিজয়ে বাংলাদেশ সরকার, জনগণ ও আমার পক্ষ থেকে আপনাকে হৃদয়গ্রাহী অভিনন্দন। ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক নির্বাচনে আপনার ওপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন হচ্ছে এই রায়।’ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সত্যিকার সুসম্পর্ক, পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধায় ভারতের সঙ্গে বহুমাত্রিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা ছিল এই সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি বলেন, আমাদের জনগণ আমাদেরকে নতুন করে যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী ভারতের জনগণের জন্য শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি মোদির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।
সোমবার, 15 এপ্রিল 2019 20:37

সোনাগাজীর সাবেক ওসির বিরুদ্ধে মামলা

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন এ মামলা দায়ের করেন। যৌন নিপীড়কদের আগুনে নিহত ফেনীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির ‘স্টেটমেন্টের’ ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে এ মামলা করা হয়। মামলার বিবরণ অনুসারে, যৌন হয়রানির অভিযোগে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলার পরে গত ২৭ এপ্রিল নুসরাতকে থানায় ডাকেন ‍তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম। থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় ঘটনা নিয়ে (যৌন হয়রানি) নুসরাতকে আপত্তিকর ও অসহনীয় প্রশ্ন করেন। যা পরবর্তীতে ওসি তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এর আগে যথাযথ সহায়তা পাননি বলে নুসরাতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১০ এপ্রিল ওসি মোয়াজ্জেমকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
রবিবার, 14 এপ্রিল 2019 14:19

নুসরাতের জন্য রমনায় নীরবতা

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক রাজধানীর রমনার বটমূলে রোববার ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ফেনীর সোনাগাজীতে পুড়িয়ে হত্যার শিকার মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সকল অন্যায়ের প্রতিবাদে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ছায়নটের সভাপতি সনজীদা খাতুন। এ সময় সবাইকে দাঁড়িয়ে এক মিনিটি নীরবতা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সবাই উঠে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করব, আমাদের ক্ষোভ জানাব, প্রতিবাদ জানাব, দেশে অনাচারের বিরুদ্ধে। সনজীদা খাতুন বলেন, নুসরাত জাহান, তনু, সাগর-রুনি, মিতু… যে সমস্ত বিষয়ে আমরা আজ পর্যন্ত কোনো খবর পেলাম না বিচারের, সেসব বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে এবং বিগত প্রাণগুলোর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা এক মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে থাকব। এ সময় শুভবোধ জাগরণের আহ্বান জানিয়ে ছায়ানট সভাপতি সনজীদা খাতুন বলেছেন, আজ ১৪২৬ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখ। বৎসরকাল পেরিয়ে আমরা আবার নতুন দিনের মুখোমুখি। কেমন সময় পেরিয়ে এলাম? উল্লেখ্য, প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলা বছরের প্রথমদিন রোববার সকাল সোয়া ছয়টার দিকে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভোর থেকেই রমনার বটমূলে নানা শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষের সমাগম ঘটে। রঙিন পোশাক আর চোখে-মুখে উচ্ছ্বাস নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তারা। আয়োজন শুরু হয় অসিত কুমার দের রাগালাপ দিয়ে। ছায়ানটের বড় ও ছোটদের দল সম্মেলক কণ্ঠে গেয়ে শোনায় ১৩টি গান। এ ছাড়া একক সঙ্গীত পরিবেশন করে ১৩ জন শিল্পী। তাদের মধ্যে রয়েছেন খায়রুল আনাম শাকিল, লাইসা আহমদ লিসা, চন্দনা মজুমদার, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, সুমন মজুমদার, তানিয়া মান্নান, সঞ্জয় কবিরাজ প্রমুখ। আরও ছিল আবৃত্তি। গানগুলো নির্বাচন করা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, অতুল প্রসাদ সেন, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, রজনীকান্ত সেন, লালন শাহ্‌, মুকুন্দ দাস, অজয় ভট্টাচার্য, শাহ আবদুল করিম, কুটি মনসুর ও সলিল চৌধুরীর লেখা থেকে। এবারও কঠিন নিরাপত্তা ছিল ছায়ানটের প্রভাতি আয়োজনকে ঘিরে। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে যাত্রা শুরু হয় ছায়ানটের। ছায়ানট বাংলা নববর্ষকে আবাহন জানানোর প্রয়াস নেয় ১৯৬৭ সালে। পাঁচ দশক ধরে বাংলা নববর্ষের প্রথম প্রভাত অর্থাৎ, পহেলা বৈশাখের ভোরে রমনার বটমূলে অনুষ্ঠান করে আসছে এ সংগঠন। ২০০১ সালে রমনার বটমূলে ছায়ানটের এ অনুষ্ঠানে জঙ্গিরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।
বৃহস্পতিবার, 11 এপ্রিল 2019 09:07

নুসরাতের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক ফেনীর দগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। বুধবার রাত সাড়ে নয়টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নুসরাতের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী নুসরাতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নুসরাতের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নুসরাতের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। যদি প্রয়োজন হয়, তবে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর ব্যবস্থা নিতেও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছিলেন। বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন নুসরাতের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত শনিবার নুসরাতকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তখন আমি তার সঙ্গে দেখা করতে যাই। তাকে জিজ্ঞেস করি কেমন আছ? তখন, নুসরাত বলে, ‘স্যার আমাকে বাঁচান, আমি বাঁচতে চাই।’ জানা যায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নুসরাত লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। তার শরীরের ৭৫ শতাংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মেয়েটির ফুসফুসকে সক্রিয় করতে মঙ্গলবার অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু কোন কিছুই কাজে আসেনি। ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরি দেয় দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
বিশেষ প্রতিনিধি ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর গায়ে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মর্মাহত ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন। গতকাল দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। ডা. সামন্তলাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী ওই ছাত্রীর যতো ধরনের চিকিৎসার দরকার হয়, সবধরনের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফেনীর ওই ছাত্রীর সার্বিক দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি তার চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। সামান্তলাল বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা মেয়েটির চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। ডা. সামন্তলাল বলেন, দুপুর ১টার দিকে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অফিসে যাই, তখন তিনি ওই ছাত্রীর খোঁজখবর নেন এবং জানান, এ ব্যাপারে তিনি খুবই মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন। এসময় তিনি আমার সামনে ওই ছাত্রীর গায়ে যারা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে তাদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। গত ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করেন বলে মামলা দায়ের হয়। এর প্রেক্ষিতে সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ছাত্রীর ভাই গণমাধ্যমকে বলেন, যৌন হয়রানির অভিযোগে করা মামলার জেরে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার পক্ষের কয়েকজন মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে আমার বোনের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন তার আর্তনাদ শুনে মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা ছাদে ছুটে যায়। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এরপর জেলা সদর হাসপাতাল, সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেকে নিয়ে আসা হয়।
বিশেষ প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্ট সকলকে এই ব্যাপারে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আলোচনা করেছি, চুক্তি সম্পাদন করেছি এবং তাদের (মিয়ানমার) সঙ্গে আলাপ- আলোচনার মাধ্যমে এদেরকে (রোহিঙ্গা) নিজ দেশে ফরত পাঠানোটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা এখনও কাজ করে যাচ্ছি। মিয়ানমারের সাথে আমরা ঝগড়া বাঁধাতে যাইনি।’ শেখ হাসিনা আজ সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এসে উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে একথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে রয়েছেন। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠ্যতা অর্জনের পর চতুর্থবারের মত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের অংশ হিসেবে এদিন প্রথম বারের মত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসেন তিনি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়।’ এই নীতিতেই তার সরকার বিশ্বাসী এবং সেই নীতিতেই সরকার পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এটাই বলবো মিয়ানমার যেহেতু আমাদের প্রতিবেশী। আমরা কখনও তাঁদের সঙ্গে সংঘাতে যাব না।’ ‘বরং তাঁদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের নাগরিকদের তারা যেন ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেই প্রচেষ্টাই আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। সে বিষয়ে সবাই যেন সেভাবেই দায়িত্ব পালন করেন, সেজন্যও আমি অনুরোধ করবো,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রাকৃতিক বা মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগ, যাই হোক না কেন তাকে মোকাবেলা করার ক্ষমতা বাংলাদেশ রাখে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়াটাও আজকে বিশ্বের অনেকের কাছেই বিস্ময়।’ কেবল মানবিক কারণেই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মানবিক কারণেই এটা করেছি। নিজেদেরও বলতে গেলে রিফিউজি হিসেবে ’৭৫ এর পরে ৬ বছর বিদেশে অবস্থান করতে হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, নিজের নামটাও আমরা ব্যবহার করতে পারিনি। এরকম দিনও আমাদের মোকাবেলা করতে হয়েছে।’ মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের শরণার্থীরা ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের নিজেদেরই অভিজ্ঞতা রয়েছে যে, ১৯৭১ সালে আমাদের ১ কোটি মানুষ শরণার্থী হিসেবে ছিল। তাদেরকে নিয়ে এসে পুনর্বাসন করতে হয়েছে, সেই অভিজ্ঞটাও রয়েছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা কারো সাথে যুদ্ধ করবো না, আমরা যুদ্ধ করতে চাইনা, সবার সঙ্গে একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই।’ সেনাবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শামসুল হক, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ এসময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রতিরক্ষা সচিব আখতার হোসেন ভূইয়াঁ, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং পদস্থ সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ এ জাতির পিতাকে হত্যার পর এদেশ সমগ্র বিশ্বে তাঁর মর্যাদা হারিয়েছিল। আর ২১ বছর পর ’৯৬ সালে আমাদের সরকার গঠনের পর তাঁর সরকারের লক্ষ্যই ছিল এই হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করা। প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে এসে স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘এই জায়গাটা আমাদের অনেক স্মৃতি বিজড়িত জায়গা। তিনি বলেন, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখানেই অফিস করেছেন। তখন এটাই ছিল তাঁর অফিস। আর আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হিসেবে যেটা ব্যবহার করছি সেটা ছিল পার্লামেন্ট হাউজ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীক হচ্ছে তাঁর প্রতিরক্ষা। একটা দেশকে কিভাবে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করা যায়, আবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতি গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়গুলোও এখান থেকেই কার্যকর করা হয়। আমাদের দেশের আবহাওয়া জলবায়ু থেকে শুরু করে অনেক কাজই হয় এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সরকার গঠনের পর সবসময় এই মন্ত্রণালয়টি তিনি নিজের কাছেই রাখেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে, আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক সশস্ত্র বাহিনীকে যেমন আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা যাচ্ছে, তেমনি ভৌগলিক অবস্থানের কারণে জলবায়ুর প্রভাব নিয়ে কাজ করারও একটা সুযোগ আমাদের রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এসময় ভারত এবং মিয়ানমারের সঙ্গে স্থল সীমানা চুক্তি এবং সমুদ্র সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, জাতির পিতাই এর শুরুটা করে যান। কিন্তু কেন যে পরবর্তী সরকারগুলো সেটা বাস্তবায়ন করেনি সেটা বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, সে সময় ১৯৭৪ সালেই জাতির পিতা ভারতের সঙ্গে ‘স্থল সীমানা চুক্তি’ করে সংসদে আইন পাশ করে সংবিধান সংশোধন করে তা সন্নিবেশিত করে যান। আর বঙ্গবন্ধু সেই ’৭৪ সালেই সমুদ্র সীমানা আইন করে যান, যেখানে জাতিসংঘও এই আইন করেছে ১৯৮২ সালে। কাজেই পৃথিবীর বহু দেশ পরবর্তীতে সমুদ্র সীমা নিয়ে কোন বিরোধ নিষ্পত্তির দরকার হলে আমাদের আইনটাকেই তারা ব্যবহার করতো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের সংবিধানে যেহেতু স্থল সীমানা আইনটি পাশ হয়নি তাই স্বাভাবিকভাবেই সেটা আর তখন কার্যকর হয়নি এবং আমাদের কোন সরকারও ভারতের কাছে বিষয়টি তোলেনি। তবে, ’৯৬ সালে সরকারে আসার পরই এই বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে সেটি তাঁর সরকার বাস্তবায়ন করে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা শান্তি চাই, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই কিন্তু কেউ যদি আমাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করে তার যথাযথ জবাব যেন আমরা দিতে পারি এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যেন রক্ষা করতে পারি সে প্রস্তুতিটা সবসময় আমাদের থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের জন্য নয়, শান্তির জন্যও আমাদের প্রস্তুতি দরকার। আর সেখানেও অবশ্যই আমরা একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে যাতে চলতে পারি সে ব্যবস্থাটাও আমাদের থাকা উচিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরসঙ্গে আরেকটি বিষয় হলো এখন শান্তি রক্ষার জন্য আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যাচ্ছে (শান্তিরক্ষা মিশনে), পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যাচ্ছে। আমাদের যারা সেখানে যাবে আমি মনে করি, বিশ্ব পরিবর্তনশীল সেখানে প্রতিনিয়ত প্রযুক্তির পরিবর্তন হচ্ছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি এবং যুদ্ধের সরঞ্জাম থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রেই এবটি পরিবর্তন এবং আধুনিকায়ন হচ্ছে কাজেই আমাদের যারা সেখানে যাবে তাঁরা সববিষয়েই পারদর্শী হবে সেটাই আমরা চাই। কাজেই এটা একান্তভাবে দরকার। তিনি যুগোপযোগী আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সেভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, সে ধরণের সরঞ্জামাদি যোগার করা এবং উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের গড়ে তোলা, কোথায় গিয়ে যেন আমাদের কাউকে কখনো ছোট মনে করতে না হয়, আমরা সেটাই চাই। এমনকি আমাদের পদবীর বিষয়ে আধুনিকায়ন করতে হবে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথমবারের পেন্টাগন সফরের উল্লেখ করে বলেন, এই অভিজ্ঞতার আলোকে দেশের সেনাবাহিনীর সকল পদকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হয়, তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা জাতিসংঘে যাচ্ছি কাজেই পরিচয়ের ক্ষেত্রে যেন সকলে সমান থাকতে পারি, যে যত ছোট বা বড় হোক না কেন। সেজন্য সমস্ত পদবিগুলোকে ঢেলে সাজানো হলো। মন্ত্রণালয়গুলিও যেন আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর হয় সে পদক্ষেপটাও আমরা নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী এসময় ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত করে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার স্মৃতি রক্ষার্থে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি কিছুটা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি সেখনে রক্ষিত পরিদর্শন বইয়েও স্বাক্ষর করেন।

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা