06192018মঙ্গল
স্পটলাইট

স্পটলাইট (809)

বিবিসি বাংলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-আনের বৈঠককে বলা হচ্ছে ঐতিহাসিক ঘটনা। সিঙ্গাপুরে এই প্রথম দুটো দেশের নেতারা বৈঠক করলেন। তাদের মধ্যে হওয়া করমর্দন থেকে শুরু করে তাদের যৌথ সমঝোতায় স্বাক্ষর - সবকিছু থেকেই বিশ্লেষকরা দেখার চেষ্টার করছেন এই আলোচনায় আসলে কতোটা কী অর্জিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কের ভবিষ্যতের ক্ষেত্রেও বা এই সমঝোতার তাৎপর্য কী? কিন্তু সেদিনের কিছু বিষয় ও ঘটনা ছিল, যা নিয়ে লোকজন প্রচুর কথাবার্তা বলছেন। ঠিক কী ঘটেছিল তখন? ১. সমুদ্র সৈকত প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিচিত ছিলেন একজন প্রপার্টি ব্যবসায়ী হিসেবে। তারপরেও এটি বিস্ময়কর যে কেন তিনি উত্তর কোরিয়ার অপরিচিত সমুদ্র উপকূলের কথা উল্লেখ করেছেন। মি. কিমের সাথে বৈঠকের পর তিনি বলেছেন, "তাদের (উত্তর কোরিয়া) দারুণ কিছু সমুদ্র সৈকত আছে। তারা যখন সমুদ্রে তাদের কামান থেকে বিস্ফোরণ ঘটায়, তখন আপনারা সেসব দেখতে পান। সেখানে কি দারুণ সব বাড়িঘর বা কন্ডো হতে পারে না?" যুক্তরাষ্ট্রের সরকার তার নাগরিকদেরকে উত্তর কোরিয়ায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছে। এবং বলেছে, যেসব নাগরিক উত্তর কোরিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন তারা যেন যাওয়ার আগে উইলের খসড়া করে যান। ২. পোজ বা ভঙ্গি দুই নেতা যখন একসাথে দুপুরের খাবার খেতে যান, মি. ট্রাম্প তখন খাবারের টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সকৌতুকে জিজ্ঞেস করেন:"ভালো ছবি পাচ্ছেন, সবাই? যাতে আমাদেরকে সুন্দর, হ্যান্ডসাম এবং চিকন দেখায়?" তবে তার এই কথার অর্থ মনে হয় অনুবাদের কারণে হারিয়ে গিয়েছিল। কারণ মি. কিমের চোখেমুখে তখন কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফটোসাংবাদিকদের কাছে জানতে চাচ্ছেন তাদেরকে সুন্দর দেখাচ্ছে কিনা। ৩. ভিডিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে সাংবাদিকদেরকে চার মিনিটের একটি ভিডিও দেখানো হয়। এটি খুবই অস্বাভাবিক একটি ঘটনা। ভিডিওটি ছিল কোরীয় এবং ইংরেজি ভাষায়। সংবাদ সম্মেলনে মি. ট্রাম্প বলেছেন যে এই ভিডিওটি তিনি কিম জং-আনকে দেখিয়েছেন। ভিডিওটিতে এমন কিছু দৃশ্য আর মিউজিক যোগ করা হয়েছে যাতে উত্তেজনার সৃষ্টি হতে পারে। এর ধারাভাষ্য দিচ্ছেন যিনি, নাটকীয় কণ্ঠে তিনি জিজ্ঞেস করছেন: "এই নেতা কি তার দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্যে কাজ করবেন ... তিনি কি শান্তির সাথে হাত মিলিয়ে সমৃদ্ধি উপভোগ করবেন, যে সমৃদ্ধি তিনি আগে কখনো দেখেননি?" ৪. দ্য বিস্ট আলোচনার পর মি. ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতাকে তার কালো রঙের লিমুজিন গাড়িটি দেখাবেন। গাড়িটি পরিচিত 'দ্য বিস্ট' নামে। ক্যামেরা তখন দুই নেতাকে অনুসরণ করলো। তারা হেঁটে গেলেন গাড়ির দিকে। মি. কিম খুব অল্প সময়ের জন্যে গাড়ির ভেতরটা দেখলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মি. কিমকে তার গাড়িটি দেখালেন। ৫. কলম সমঝোতায় সই করার জন্যে টেবিলের উপর যে কলমটি রাখা ছিল সেটি ছিল কালো রঙের। তার গায়ে ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর, সোনালী রঙের। কিন্তু এই কলমে সই করেননি মি. কিম। একেবারে শেষ মুহূর্তে মি. কিমের প্রভাবশালী বোন কিম ইউ-জং তার ভাই-এর দিকে একটি বলপয়েন্ট কলম এগিয়ে ধরেন, যা দিয়ে তিনি চুক্তিতে সই করেছেন। পুরো সফরেই উত্তর কোরিয়ার নেতার নিরাপত্তার বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কলমটি কি রাজনৈতিক না-কি নিরাপত্তার কারণে বদলানো হয়েছে, তা এখনও পরিস্কার নয়। সংবাদ মাধ্যমে এও খবর বেরিয়েছে যে মি. কিম তার সাথে করে একটি ভ্রাম্যমাণ টয়লেট সিঙ্গাপুরে নিয়ে গিয়েছিলেন। কেন? বলা হচ্ছে, যাতে মি. কিমের মলমূত্র থেকে কেউ তার সম্পর্কে জৈব-তথ্য বের করে ফেলতে না পরে। অবশ্য এই খবরটি বিবিসি যাচাই করে দেখতে পারেনি।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের মধ্যকার বৈঠকের ভেন্যু সিঙ্গাপুরের সেন্টোসা দ্বীপে ক্যাপেলা হোটেল। গত মঙ্গলবার এ তথ্য জানায় হোয়াইট হাউস। বৈঠকে ট্রাম্পের অন্যতম লক্ষ্য থাকবে উনের কাছ থেকে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্তকরণের নির্দিষ্ট সময়সীমা আদায় করে নেওয়া। ট্রাম্প-উনের মধ্যকার বৈঠকটি হতে যাচ্ছে আগামী ১২ জুন। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে উত্তর কোরীয় নেতার সাক্ষাৎ এটাই প্রথম। এদিন স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় এ দুই নেতা মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন—এ খবর গত সোমবারই নিশ্চিত করে হোয়াইট হাউস। পরদিন মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স এক টুইট বার্তায় ক্যাপেলা হোটেলে বৈঠক হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, উনের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে তাঁকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাম বিচে মার-এ-লাগো রিসোর্টে পরবর্তী সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করছেন। তবে হোয়াইট হাউস থেকে এ ধরনের কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এদিকে পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ১২ জুনের বৈঠক ইতিবাচক হলে এ দুই নেতার আলোচনা পরদিন ১৩ জুন পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে। সিঙ্গাপুরের বৈঠককালে উনকে সহজে কোনো ছাড় না দিতে ট্রাম্পকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। কেননা হোয়াইট হাউসের প্রধান লক্ষ্য হলো উনের ওপর সর্বোচ্চ চাপ বজায় রেখে বৈঠককে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য অনুযায়ী সফল করা। বলা দরকার, ট্রাম্প-উন বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টির শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে আসছে, উত্তর কোরিয়াকে ‘সম্পূর্ণ, যাচাইযোগ্য ও অপরিবর্তনীয়’ উপায়ে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে হবে। আসন্ন বৈঠকে এটাই মূল ইস্যু হিসেবে থাকছে, যদিও এ ইস্যুতে দুই পক্ষ কেমন সমঝোতায় পৌঁছবে, তা খুবই অনিশ্চিত। বৈঠকে ট্রাম্পের সঙ্গে থাকছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও, চিফ অব স্টাফ জন কেলি ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কোরিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞসহ অন্য কর্মকর্তাদের বৈঠকে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। বৈঠকের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা রয়েছে বটে, তবে একে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি রাখা হচ্ছে না। আগামী ১১, ১২ ও ১৩ জুন সিঙ্গাপুরে বিমান চলাচলের সংখ্যা ও ওঠানামার ক্ষেত্রে গতিসীমা উভয়ের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে ট্রাম্প ও উন উভয়ই দেশটির মূল ভূখণ্ডে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্ভবত ট্রাম্প থাকবেন সাংগ্রি-লা হোটেলে এবং উন সেন্ট রেজিস সিঙ্গাপুরে। সূত্র : ব্লুমবার্গ, বিবিসি, স্ট্রেইট টাইমস।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক সরাসরি কিছু বললেন না ঠিকই। কিন্তু, শুক্রবার শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঠারেঠোরে সেই তিস্তাজলবন্টন ইস্যুকেই তুলে ধরলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের উপর চাপ বাড়িয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘‘আলোচনার মাধ্যমে সমস্ত সমস্যারই সমাধান করা যায়।’’ হাসিনা যখন এ কথা বলছেন, সেই সময় মঞ্চে হাজির ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামিকাল শনিবার মমতার সঙ্গে হাসিনার বৈঠক হওয়ার কথা। তার আগে কি মমতাকে বিশেষ বার্তা দিতে চাইলেন হাসিনা? জল্পনা তুঙ্গে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে ছিটমহল প্রসঙ্গ টেনে আনেন হাসিনা। তাঁর কথায়, ‘‘বিভিন্ন দেশ তাদের ছিটমহল নিয়ে যুদ্ধ করেছে। কিন্তু ভারত আর বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় করেছে আনন্দের সঙ্গে।’’ ছিটমহল ইস্যুতে সাফল্য এলেও কিছু বিষয়ে যে সমস্যা রয়েছে, তা জানাতে ভোলেননি হাসিনা। তিনি বলেন, ‘‘এখনও কিছু বাকি রয়েছে, যা বলে আমি পরিবেশ নষ্ট করতে চাই না।’’ বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, হাসিনার নিশানায় তিস্তার জল। বস্তুত তিস্তার জলবন্টনে মমতা এখনও গররাজি। তাঁর আশঙ্কা, তিস্তার জল ভাগাভাগি হলে রাজ্যের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যদিও হাসিনা যে সমস্ত কিছুর পরেও আশাবাদী, সে কথা তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। মুজিব হত্যার প্রসঙ্গে টেনে তিনি জানান, দুঃসময়ে বারংবার পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত।মুজিবের হত্যার পর পরিবারের যাঁরা বেঁচে ছিলেন, তাঁদের আশ্রয় দিয়েছিল ভারত।কিন্তু ‘এখনও কিছু বাকি রয়েছে’ বলে কী বোঝাতে চাইলেন হাসিনা? তা নিয়েই এখন দু’দেশে আলোচনা তুঙ্গে। সকলেই নিশ্চিত, সেটা তিস্তার জলবন্টন।হয়তো বিষয়টা আগামিকালমমতার সঙ্গে বৈঠকেউঠবে। আনন্দবাজার
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন এক যুগে প্রবেশ করলো। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশও স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য হলো। শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের লঞ্চিং স্টেশন থেকে স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ সফলভাবে উৎক্ষেপণের পরপরই জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে তিনি একথা বলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ এবং নির্যাতিত মা-বোনদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃত হবে। তিনি অনুধাবন করেছিলেন বহির্বিশ্বের সঙ্গে অব্যাহত যোগাযোগ রক্ষা করতে না পারলে অগ্রগতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। এজন্য স্বাধীনতার মাত্র তিন বছরের মাথায় ১৯৭৪ সালে তিনি রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় প্রথম উপগ্রহ ভূকেন্দ্র স্থাপন করেন, যার সাহায্যে তথ্য-উপাত্ত আদান প্রদানের মাধ্যমে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়।' বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ২টা ১৪ মিনিটে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে নিয়ে মহাকাশের পথে উড়াল দেয় উৎক্ষেপণ যান ফ্যালকন ৯- ছবি স্পেসএক্সের সৌজন্যে শেখ হাসিনা বলেন, 'আজ আমরা জাতির পিতার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আরেক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছি নিজস্ব উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে। তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে আজ যুক্ত হতে যাচ্ছে স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ। আজ থেকে আমরাও স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য হলাম। প্রবেশ করলাম এক নতুন যুগে।' বাংলাদেশের স্যাটেলাইট দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ছাড়াও এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে সেবা প্রদান করা যাবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এই স্যাটেলাইট দিয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, কাজাকস্তান এবং উজবেকিস্তানের অংশ বিশেষে সেবা প্রদান সম্ভব হবে।' ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন বিটিআরসির থেকে প্রকল্প গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বিটিআরসি, প্রকল্প এবং স্যাটেলাইট কোম্পানির কর্মীদের ধন্যবাদ জানান। এছাড়া নির্মাতা ও উৎক্ষেপণকারী উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের, এ কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও জনগণকেও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানান তাদের কক্ষপথ বাংলাদেশকে ভাড়া দেওয়ার জন্য। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য যেন পূরণ হয় সে জন্য দেশবাসীর দোয়াও চান প্রধানমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। ওই সময় স্যাটেলাইটটিকে নিয়ে মহাকাশের পথে ছুটে যায় উৎক্ষেপণ যান ফ্যালকন ৯। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের দিন ধার্য থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত হয়।
বিশেষ প্রতিনিধি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মহাকাশকেন্দ্র বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করবে স্পেসএক্স। এরফলে বাংলাদেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে যাত্রাকালে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সারা পৃথিবীর মানুষ শুনতে পাবেন। সম্প্রতি তথ্যপ্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সচিবালয়ের নিজদপ্তরে প্রতিবেদককে এ তথ্য জানিয়েছেন। তথ্যপ্রতিমন্ত্রী জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উদ্বোধন উপলক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বানী বিটিভি রেকর্ড করেছে। যখন উৎক্ষেপনের সময় স্পেসএক্স সরাসরি (লাইভ) নিজস্ব প্রচার করে। এরসঙ্গে তখন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যটি সেখানে সংযুক্ত করার অনুরোধ করা হয়েছে। যাতে প্রচারকালে সারা পৃথিবীর মানুষ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেখতে ও শুনতে পান। সেব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশিন সরাসরি প্রচার করবে। এর আগে স্যাটেলাইট তৈরি নিয়ে একটি তথ্য চিত্র প্রচার করা হবে। থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস কিভাবে এটা তৈরি করেছে তার বিভিন্ন তথ্য চিত্র থাকবে। এছাড়াও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো নিজস্ব উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন দেখাবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ইতোবৃত্ত: বিশ্বের স্যাটেলাইট ক্ষমতাধর ৫৭তম দেশ হিসেবে পরিচিত হওয়ার ঐতিহাসিক দিনের অপেক্ষায় ক্ষণগণনা চলছে। ২০১৫ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ নির্মাণ চুক্তির পর কথা ছিলো ২০১৭ সালেই সেটি মহাকাশে পৌঁছে যাবে। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেবছরও উৎক্ষেপণের নির্ধারিত দিনও পার হয়ে যায়। এরপর ছয়বার উৎক্ষেপণের তারিখ পরিবর্তন করে অবশেষে আগামী ১০ মে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মহাকাশ যাত্রা শুরু করবে জানিয়েছে বাংলাদেশ এবং উৎক্ষেপণের দায়িত্ব পাওয়া মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল লঞ্চ প্যাড থেকে ১০ মে স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় (বাংলাদেশ সময় ১১ মে, রাত ৩টা) বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে মহাকাশে পৌঁছে দিতে উড়াল দেবে স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন নাইন’ রকেটের একটি নতুন সংস্করণ। অপেক্ষার এই সময়টায় একনজরে দেখে নেয়া যাক বাংলাদেশের মহাকাশ যাত্রার স্বপ্ন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন, স্যাটেলাইট, স্যাটেলাইটটি নির্মাণ, উৎক্ষেপণকারী রকেট এবং মহাকাশে পৌঁছানোর পর কাংঙ্খিত সুবিধা অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আদ্যোপান্ত। মহাকাশে বাংলাদেশ স্বপ্নের সূচনা ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেতবুনিয়ায় দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মহাকাশজয়ের সূচনা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু সেবছর ১৫ আগস্ট তাকে স্বপরিবারে হত্যার পর আর সব এগিয়ে চলার মতো এই যাত্রাও থেমে যায়। এরপর ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে তৎকালীন সরকার থমকে যাওয়া সেই যাত্রার প্রাথমিক শুরুটা করলেও ২০০১ সালে সরকার বদলে তা আলোর মুখ দেখেনি। কিন্তু ২০০৯ এবং ২০১৪ পর পর দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ অবশেষে বাংলাদেশের মহাকাশ যাত্রার স্বপ্ন বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার সুযোগ পায়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণ চুক্তি ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী, স্যাটেলাইটের কাঠামো, উৎক্ষেপণ-ব্যবস্থা, ভূমি ও মহাকাশের নিয়ন্ত্রণ-ব্যবস্থা, ভূ-স্তরে দুটি স্টেশন পরিচালনা সহায়তা ও ঋণের ব্যবস্থা করবে ফ্রান্সের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। ফ্রান্সের থুলুজে স্যাটেলাইটটির মূল কাঠামো তৈরির কথা দেয় থ্যালেস। অর্থায়ন বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি। কেনা হয় কক্ষপথ স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ এবং তা কক্ষপথে রাখার জন্য রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ (অরবিটাল স্লট) কেনা হয়। মহাকাশে এই কক্ষপথের অবস্থান ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে প্রায় ২১৯ কোটি টাকায় ১৫ বছরের জন্য এই কক্ষপথ কেনা হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পরিচিতি ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ কৃত্রিম উপগ্রহটি একটি জিও-স্টেশনারি স্যাটেলাইট বা ভূস্থির উপগ্রহ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ২৬ কু-ব্যান্ড এবং ১৪ সি-ব্যান্ড মিলিয়ে মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকি ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য রাখা হবে।মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রক্রিয়া দেশের বাইরে সম্পন্ন হলেও গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে এটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পরিচালনায় বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট কোম্পানি মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পরিচালনা, সফল ব্যবহার ও বাণিজ্যিক কার্যত্রমের জন্য ইতিমধ্যে সরকারি মালিকানাধীন ‘বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। নতুন এই কোম্পানিতে কারিগরী লোকবল নিয়োগ এবং তাদের প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান ও উৎক্ষেপণকারী রকেট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণ করে এবছরের ৩০ মার্চ একটি বিশেষ উড়োজাহাজে উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেয় থ্যালাম অ্যালেনিয়া স্পেস। মার্কিন রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এই স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালে কেনেডি স্পেস সেন্টারে স্পেসএক্সের লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিয়ে উড়বে ‘ফ্যালকন নাইন’ রকেট। উৎক্ষেপণের সবচেয়ে বড়ধাপ পার স্যাটেলাইটটি বহনকারী ফ্যালকন নাইন রকেটের ‘স্ট্যাটিক ফায়ার টেস্ট’ সম্পন্ন করেছে স্পেসএক্স। ৫ মে নিজস্ব টুইটার পেজে এ তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি। টুইটবার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের প্রথম জিওস্টেশনারি কমিউনিকেশনস কৃত্রিম উপগ্রহের আগামী সপ্তাহের উৎক্ষেপণকে সামনে রেখে ফ্যালকন ৯ ব্লক ৫ স্ট্যাটিক ফায়ার টেস্ট সম্পন্ন করা হয়েছে। বাহনটি যাত্রার জন্য ভালো অবস্থায় আছে। পরীক্ষার ডেটা রিভিউ করতে আরও কয়েকদিন লাগবে। রিভিউ শেষ হলেই উৎক্ষেপণের তারিখ নিশ্চিত করা হবে। উৎক্ষেপণ সফল হলে যেসব সুবিধা দিতে পারে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ সফল হওয়ার পর কক্ষপথে গিয়ে কার্যকর হয়েছে কিনা বুঝতে কয়েক সপ্তাহ লাগবে। সব কিছু সফল হলে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট ডিটিএইচ (ডাইরেক্ট টু হোম) সেবা, স্যাটেলাইট টেলিভিশনের সম্প্রচার এবং ইন্টারনেট সুবিধাসহ ৪০ টি সেবা দিতে পারবে। দেশের স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের কাছে ফ্রিকোয়েন্সি বিক্রির মাধ্যমে বছরে দেশের টাকা দেশেই থাকবে, বিদেশি নির্ভরতা কমবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ট্যারিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা বহাল রাখবে, দেশের দুর্গম দ্বীপ, নদী ও হাওর এবং পাহাড়ি অঞ্চলে স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা চালুও সম্ভব হবে। উৎসবের প্রতীক্ষা-প্রস্তুতি বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সময়কে স্মরণীয় করে রাখতে সফল উৎক্ষেপণের পর রাজধানীর উল্লেখযোগ্য এলাকায় আতশবাজির উৎসব শুরু হবে। এছাড়া থাকবে ডিজিটাল আলোকসজ্জার প্রস্তুতি একই সঙ্গে সব জেলায়ও এ উপলক্ষে উৎসব হবে। সব মিলে অনুষ্ঠান আয়োজনে ১৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। তবে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হলে বিটিআরসি থেকে সহায়তা নেয়া হবে বলেও জানানো হয়। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশের উদ্যোগও নেবে ডাক অধিদপ্তর। ছবি: থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস এবং স্পেসএক্স ওয়েবসাইট
শুক্রবার, 04 মে 2018 11:42

শেখ হাসিনাকে ট্রাম্পের চিঠি

লিখেছেন
বিশেষ প্রতিনিধি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র চাপ অব্যহত রাখবে বলে আশ্বস্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঠানো একটি চিঠিতে এ আশ্বাস দেন ট্রাম্প। চিঠিতে ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে প্রয়োজনীয় অবস্থা সৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যহত রাখবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করে ট্রাম্পের পাঠানো এ চিঠি হস্তান্তর করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। চিঠিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, এখানে কোন প্রশ্ন নেই যে মিয়ানমারে এই সংকট (রোহিঙ্গা সংকট) সৃষ্টি করেছে তাদের অবশ্যই জবাব দিতে হবে। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সাড়া দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র গভীর ভাবে কৃতজ্ঞ। চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এক মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে আশ্রয় দেয়া বিরাট বোঝা। কিন্তু বিশ্ব জানে বাংলাদেশের এ ধরনের কার্যক্রমের কারণে হাজার হাজার জীবন বেঁচে গেছে। তিনি বলেন, আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদার বাংলাদেশের পাশে থেকে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনে সহযোগিতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, আমি আশা করি বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার নেতৃত্ব অব্যহত রাখবে, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের চ্যালেঞ্জগুলো সামনে রাখবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিঠির জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিতাড়িত রোহিঙ্গা নাগরিকদের তাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর জোরালো চাপ অব্যহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান পুর্নব্যক্ত করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ১ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে সাময়িক আশ্রয় দিতে সরকার ভাষানচর দ্বীপ টিকে প্রস্তুত করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুর আগমনে স্থানীয় জনগণ ভোগান্তিতে পড়ছে এবং পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের কষ্ট লাঘবে জাতিসংঘের অধিনে ইউএসএইড সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান।
রবিবার, 18 মার্চ 2018 08:59

বঙ্গবন্ধু কালের সীমা ছাড়িয়ে

লিখেছেন
মনোয়ারুল ইসলাম আমাদের পরম সৌভাগ্য যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো একজন কালজয়ী নেতা বাংলাদেশের ইতিহাসের যুগসন্ধিক্ষণে তাঁর অনন্য নেতৃত্বে আমাদের মুক্তিসংগ্রামের বিজয় এনে দিয়েছিলেন। আজ বঙ্গবন্ধুর ৯৮ তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর অমর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। যত দিন বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে, তত দিন বঙ্গবন্ধুও এ দেশের মানুষের হৃদয়ে চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ হয় একাত্তরের সেই উত্তাল মার্চের এক অপরাহ্ণে তাঁর ৩২ নম্বরের বাসভবনে। বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা শিক্ষক ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, রেহমান সোবহান, আনিসুর রহমান, মোজাফ্ফর আহমদ প্রমুখকে নিয়ে ছয় দফা বাস্তবায়ন পরিষদ গঠন করেছিলেন। আমি তখন প্রাদেশিক সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব। পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাজেটে কত পাওনা ছিল, কতটা পাওয়া যেত এবং সেই টাকা এমনভাবে দেওয়া হতো, যাতে কার্যকর কিছু করা না যায়-এসব তথ্য আমার দপ্তরেই থাকত। রাতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে এই পরিষদের আলোচনার সময় আমিও উপস্থিত থাকতাম। বঙ্গবন্ধু তখন আমাকে সরাসরি কিছু বলেছিলেন কি না কিংবা সেই বৈঠকে আমার উপস্থিতি মনে রেখেছেন কি না, তা কখনো জিজ্ঞেস করিনি। কিন্তু ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি আমি প্রথম যখন প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে উপসচিব হিসেবে যোগদান করি, তখন তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়। প্রথম দিন থেকেই তিনি আমাকে অমায়িকভাবে কাছে টেনে নেন এবং তাঁর সেই স্নেহ ১৯৭৫ সালের ১০ আগস্ট পর্যন্ত অম্লান ছিল। মনে হয় বঙ্গবন্ধুর একটি সম্মোহনী শক্তি ছিল, যাকে রাজনীতির পরিভাষায় ক্যারিশমা বলে এবং তা মানুষকে দারুণভাবে আকর্ষণ করে। অবশ্য এ-ও সত্য, ভালো না বাসলে কোনো দিন ভালোবাসা পাওয়া যায় না। ২. বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি নিয়ে আমার একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৭ সালে। সেই লেখায় বঙ্গবন্ধুর টুকরো টুকরো অনেক ঘটনার স্মৃতিচারণা করেছিলাম। এরপর প্রকাশিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নিজের লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা। বর্তমান প্রজন্মের পাঠকেরা এই দুটি বই পড়লে বঙ্গবন্ধুর জীবনচেতনা, রাজনৈতিক চিন্তাধারা ও বাংলার মুক্তিসংগ্রামের ধারাবাহিক ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা পাবেন। আমি বঙ্গবন্ধুর কিছু ছোট্ট ঘটনার কথা বলব, যা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে। এসব ঘটনায় বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর উন্নয়নচিন্তা ও গভীর প্রকৃতিপ্রেম উঠে এসেছে। বঙ্গবন্ধু চিরকালই তৃণমূলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নকে দেশের উন্নয়নের প্রথম ধাপ মনে করতেন। সহজ বাংলায় বলতে হয়, ‘দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর প্রয়াস।’ উন্নয়নের সুফল যাতে মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে পুঞ্জীভূত না হয়, এ জন্য তিনি উন্নয়নের সংগঠন হিসেবে সমবায় পদ্ধতির কথা ভাবতেন। স্মরণ করা যেতে পারে যে বঙ্গবন্ধু ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভায় অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে সমবায়েরও দায়িত্বে ছিলেন। মনে পড়ে, একবার বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ভোলার ঢাল চরের কাছ দিয়ে লঞ্চে যাচ্ছিলাম। খুব কাছে লঞ্চ আসতেই দেখি হাজার হাজার মহিষ কচি ঘাসের প্রান্তর চষে বেড়াচ্ছে। বঙ্গবন্ধু লঞ্চ থামিয়ে কয়েকজন রাখালকে ডাকলেন এবং জানতে চাইলেন, তাঁদের সমস্যা কী? রাখালেরা বললেন, এই দুর্গম এলাকায় মহিষের দুধ বিক্রির কোনো ব্যবস্থা নেই। তখন বঙ্গবন্ধু আমাকে বললেন, এখানেও মিল্ক ভিটার মতো দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা করতে হবে। দেশের যে সম্পদ আছে, তার ওপর ভিত্তি করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন করা উচিত-এটা ছিল বঙ্গবন্ধুর উন্নয়নচিন্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সে সময়ে আমরা মেগা প্রকল্প নিয়ে ভাবতে পারতাম না, আমাদের সেই জনবল বা অর্থবল ছিল না। বঙ্গবন্ধু সাতই মার্চের ভাষণে যে বলেছিলেন, তোমাদের যার যা আছে, তা-ই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। মুক্তিসংগ্রামে সেই ঝাঁপিয়ে পড়ার এক অর্থ ছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পরও তিনি সে কথা মনে রেখেছিলেন এবং আমাদের যে সম্পদ আছে, তা নিয়েই দেশ গঠনে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। ঢাল চরের ঘটনায় আমার সেটাই মনে হয়েছে। সাম্প্রতিক কালে আমাদের নিজস্ব সম্পদ দিয়ে পদ্মা সেতুর মতো একটি মহাপ্রকল্প যে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেটি আমার মনে হয় বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনারই প্রতিফলন। এখন বাংলাদেশে উন্নয়ন কার্যক্রম অনেক দ্রুত এগিয়ে চলছে। কিন্তু উন্নয়নের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সমাজে অসম উন্নয়নের ফলে যে বৈষম্য ও বিভাজন সৃষ্টি হয়, তার ফলে সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। বঙ্গবন্ধু বঞ্চিত মানুষদের সমতার ভিত্তিতে উন্নয়নের অংশীদার করার বিষয়টিতে খুবই গুরুত্ব দিতেন। ৩. মাঝেমধ্যে গণভবনে দেখতাম, বঙ্গবন্ধু অফিসের দেয়ালে টাঙানো বাংলাদেশের মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে কী যেন ভাবছেন। একদিন আমি কাছে যেতেই আমার দিকে ফিরে বলতেন, ‘বাংলাদেশটা খুব ছোট, তাই না? চলো, একবার উপকূলের চরগুলো দেখে আসি।’ একদিন হেলিকপ্টারে তাঁর সফরসঙ্গী হলাম। বঙ্গবন্ধু পাইলটকে বললেন, ‘উপকূলে যেখানে ছোট ছোট চর পড়েছে, সেগুলো দেখতে চাই।’ মনে পড়ে, প্রথমে চর কুকড়ি-মুকড়ি, পরে নিঝুম চর (দ্বীপ) নামে একটি সদ্য জেগে ওঠা চরে হেলিকপ্টার নামল। বঙ্গবন্ধু কিছুক্ষণ চরের দিকে তাকিয়ে থাকলেন-বাড়িঘর নেই, মাঝেমধ্যে কাশবনের মতো কিছু ঝোপঝাড় আর জেলেদের দু-একটি কুঁড়েঘর। তাঁর অভিব্যক্তি দেখে মনে হলো, তিনি কিছু একটা ভাবছেন। পাইলটকে বললেন চরের প্রান্ত থেকে চারপাশে যত দূর সমুদ্রের তলদেশ দেখা যায়, তত দূর হেলিকপ্টার ঘুরিয়ে আনতে। আমরা দেখলাম, অনেক দূর পর্যন্ত সমুদ্র অগভীর, বিশাল চর জেগে উঠেছে। এরপর বঙ্গবন্ধু আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আমাদের দেশটা এখন ছোট। কিন্তু এই বিশাল এলাকায় বাঁধ দিয়ে দিয়ে যদি জমিগুলো উদ্ধার করতে পারি, তাহলে আরেকটি বাংলাদেশ জেগে উঠবে।’ পরবর্তীকালে সমুদ্র থেকে ভূমি পুনরুদ্ধারে কিছু কিছু প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এখনো বিক্ষিপ্তভাবে কাজ চলছে। কিন্তু আমাদের মতো স্বল্প জমি ও বেশি মানুষের দেশে এই প্রকল্পে যে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল, তা আজও হয়নি। সত্যিকার অর্থে তিনি ছিলেন প্রকৃতিপ্রেমী ও পরিবেশবাদী। গণভবনে কোনো জেলা প্রশাসক এলে নানা কথার মধ্যে বঙ্গবন্ধু তাঁকে প্রচুর গাছ লাগানোর কথা বলতেন। একবার তৎকালীন সিলেটের জেলা প্রশাসক এরশাদুল হক গণভবনে এসেছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার জেলায় যেখানে পতিত জমি আছে, সেখানে গাছ লাগাও না কেন?’ তিনি উত্তর দিলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন শমশেরনগর বিমানবন্দরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। সেখানে শত শত একর জমি কোনো কাজে আসছে না। এরপর বঙ্গবন্ধু আমাকে ডেকে বললেন, ‘এরশাদুল হককে কিছু টাকা দিয়ে দাও। ও কয়েক হাজার কমলালেবুর চারা লাগাবে।’ বঙ্গবন্ধুর এই বনায়ন পরিকল্পনার মধ্যে আমি একদিন তাঁকে বললাম, ভাওয়ালের গড়ের জঙ্গল থেকে যেভাবে শাল, গজারিগাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে, তাতে কিছুদিন পর এই বন উজাড় হয়ে যাবে। এটি রক্ষা করার একমাত্র উপায় জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা। এরপর বঙ্গবন্ধু তৎকালীন ঢাকার জেলা প্রশাসক সৈয়দ রেজাউল হায়াতকে গণভবনে ডাকলেন। প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলো। কিন্তু টাকাপয়সার ব্যবস্থা নেই। রেজাউল হায়াত শেষ পর্যন্ত পূর্ত কর্মসূচির কিছু টিন দিতে রাজি হলেন। এই টিন দিয়ে এবং বনবিভাগের কাঠ ব্যবহার করে জয়দেবপুর জাতীয় উদ্যানের অফিসঘরটি তৈরি করা হলো। সর্বমোট খরচ হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা। আমি যত বড় এলাকার প্রস্তাব করেছিলাম, অর্থাভাবে বন বিভাগ তার সবটা জাতীয় উদ্যানের আওতায় নিতে পারেনি। উদ্যানের বাইরে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ছিল, যা প্রায় উজাড় হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুর প্রকৃতিপ্রেমের আরেকটি ঘটনা বলি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঘোড়দৌড় বন্ধ করে দেওয়া হলো। বঙ্গবন্ধু বললেন, এই ঘোড়ার ওপর বাজি ধরে বহু পরিবার ফতুর হয়ে গেছে। এটি আর চলবে না। তিনি বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ডেকে বললেন, ‘রেসিং ট্র্যাকের ওপর সারিবদ্ধভাবে নারকেলগাছ লাগাও।’ একজন কর্মকর্তা আপত্তি জানিয়ে বললেন, ফলের গাছ লাগালে লোকজন সেই ফল চুরি করে খাবে এবং এ নিয়ে মারামারি হবে। বঙ্গবন্ধু হেসে বললেন, ‘জনগণের জমি, জনগণের গাছ। জনগণ যদি ফল খায়, আপনার-আমার আপত্তি কেন?’ অনেক সময় নিজেকে প্রশ্ন করি, বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে আমরা শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকার কী পেয়েছি? সেটি হলো সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে অভিন্ন জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধ করা। কিন্তু আজ আমরা সেই ঐতিহ্য হারাতে বসেছি। রাজনৈতিক বিভাজন সামাজিক, অর্থনৈতিক, এমনকি ব্যক্তিগত বিভাজন ও বৈরিতা তৈরি করেছে। সবচেয়ে বিপদের কথা হলো, বিভাজনের রাজনীতির ফলে এক সরকার ক্ষমতায় এসে অন্য সরকারের সব অর্জন নস্যাৎ করে দিতে চায়। এভাবে চলতে থাকলে এই দরিদ্র দেশের ভবিষ্যৎ কী দাঁড়াবে, ভাবলে শঙ্কিত হই। ৪. রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও বঙ্গবন্ধু অন্যান্য দলের রাজনৈতিক নেতাদের কখনো অসম্মান করতেন না। এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনা বলেই আজকের লেখাটি শেষ করব। একদিন বঙ্গবন্ধু কথা প্রসঙ্গে আমাকে বললেন, ‘এই যে মুসলিম লীগের ওয়াহিদুজ্জামান সাহেব, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে নিজে পাকিস্তানি সেনাদের আমাদের বাড়ি দেখিয়ে দিয়েছিলেন, আর পাকিস্তানি সেনারা আগুন লাগিয়েছিল।’ সেদিন আর কিছু বললেন না। কয়েক দিন পর তিনি আমাকে ডাকলেন। কিছুটা বিব্রত। বললেন, ‘মনোয়ার, ওয়াহিদুজ্জামান সাহেবের স্ত্রী আমার বাসায় এসে উঠে পড়েছেন। বলেছেন, “তোমার সরকার আমাদের ধানমন্ডির বাড়িটা বাজেয়াপ্ত করেছে। আমার সাহেব তো বিলেতে। এখন যদি সরকার আমার বাড়ি ছেড়ে না দেয়, তাহলে আমি ৩২ নম্বর ছেড়েও কোথাও যাব না। ” এখন কী করি?’ মাত্র কদিন আগে যে কথা শুনলাম, তাতে আমি খুব আশ্চর্য হয়েছিলাম। তারপর এই পরিস্থিতিতে কী করা যায়, সেটি ভেবেচিন্তে কূলকিনারা পেলাম না। কিছুক্ষণ পর বঙ্গবন্ধুই বললেন, ‘তুমি হাউজিং ডিপার্টমেন্টে ফোন করে বাড়িটা ছেড়ে দিতে বলো।’ আমি তখনো অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি দেখে বললেন, ‘এই যে তোমরা সরকারি কর্মচারীরা, তোমাদের কোনো সহকর্মীর চাকরি চলে গেলে কিংবা অবসরে গেলে, তোমরা তাদের খোঁজখবর নাও না? অন্ততপক্ষে বিপদে-আপদে তাদের সাহায্য করো। তেমনি রাজনৈতিক কর্মীরাও যে দলেরই হোক, সহকর্মী। ক্ষমতা থাকলে তাদেরও ভালো-মন্দ আমাদের দেখা উচিত।’ এর কিছুদিন পর আবার একদিন তিনি আমাকে বললেন, ‘ওয়াহিদুজ্জামানের এক ছেলে, কী যেন তার নাম?’ আমি বললাম, ওয়াসিম জামান। বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘ওর জন্য দেখো একটা বৃত্তি জোগাড় করা যায় কি না। ওর বাবা লন্ডনে খুব অসুস্থ। দেশে ফিরবেন না। ওয়াসিম বিদেশে গেলে ওর বাবার চিকিৎসা করাতে পারবে।’ এবং সেই ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। ওয়াসিম পরবর্তীকালে জাতিসংঘের একটি উচ্চ পদে অনেক দিন চাকরি করার পর অবসরে যান। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিশ্বস্ততা নিয়ে একবার বঙ্গবন্ধু আমাকে বলেছিলেন, ‘অনেক নেতা আছেন, আজ এখানে, কাল সেখানে। কিন্তু শেখ মুজিব যাকে একবার বুক দিয়েছে, তাকে আর কখনো পিঠ দেয়নি।’ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে তাঁর কিছু স্মৃতিচারণ করলাম। তাঁর অনেক স্মৃতি হয়তো কালের স্রোতে হারিয়ে যাবে। কিন্তু অব্যক্ত অন্তর্বেদনা বাংলার চোখে জল হয়ে ঝরবে চিরদিন। মনোয়ারুল ইসলাম: সাবেক সিএসপি কর্মকর্তা। ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের ১০ আগস্ট পর্যন্ত গণভবনে উপসচিব ও যুগ্ম সচিব পদে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীকালে জাতিসংঘে চাকরি নিয়ে জেনেভায় চলে যান। বর্তমানে ঢাকায় অবসর জীবন যাপন করছেন। ১৭ মার্চ, প্রথম আলো ।
বাসস থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এআইটি) ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ স্থাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভিশন ও সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়াবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ চেয়ার থেকে পিএইচডি ফেলো প্রদান করা হবে। বাংলাদেশের জন্য টেকসই এবং সমন্বিত স্মার্ট জ্বালানি মডেলিংয়ের উপর গবেষণা করতে এ চেয়ার প্রণোদনা প্রদান করবে’। ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এখন থেকে জ্বালানি নিরাপত্তা, গ্লোবাল জ্বালানি মার্কেট, ফুয়েল মিক্স, কয়লা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পর্কে গবেষণা করা হবে। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে সর্বোত্তম জ্বালানি গ্রিড মডেলিং নির্মাণ সংক্রান্ত উদ্ভাবনী গবেষণার জন্য বাংলাদেশ থেকে সহযোগিতা করা হবে’। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, এশিয়ান ইনিস্টিটিউট অব টেকনোলজির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. সোবিন পিনকয়েন, বঙ্গবন্ধু চেয়ারের প্রফেসর ড. জয়াশ্রী রায় ও থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাইদা মুনা তাসনীম বক্তব্য রাখেন। প্রতিমন্ত্রী এর আগে সকালে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চ্যাান-ও-চ্যা-এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি খাতে ফ্রেমওয়ার্ক সহযোগিতা সমঝোতা চুক্তির আওতায় আরো একাগ্রতা নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক এটি ছিল কো-পাইলট হিসেবে পৃথুলা রশীদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইটটিও ছিল কাঠমান্ডুতেই। তার তরুণ জীবন সম্পর্কে বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলছিলেন তার খালাতো বোন তাসমিন রহমান অমি। তিনি বলছিলেন, পৃথুলার পাইলট হওয়া পরিবারের অনেকেই পছন্দ করেনি। জীবনের শঙ্কা রয়েছে এমন একটা পেশায় যে তিনি যোগ দেবেন এটা অনেকেই মেনে নিতে পারেনি। "ও জয়েন করার পর থেকেই আমরা এই ঝুঁকির বিষয়টা জানতাম। কিন্তু বেসিক্যালি, ও নিজে এই পেশায় যেতে চেয়েছিল," বলছিলেন মিস রহমান। পৃথুলার মন ছিল খুবই অনুসন্ধিৎসু । নানা জিনিস সম্পর্কে তিনি জানতে চাইতেন। ছেলে বেলায় তিনি একবার নিজের ওপর পরীক্ষা করে দেখতে গিয়েছিলেন যে মারা গেলে কেমন লাগে। তার বাবা সে সময় বাসায় ছিলেন। তিনিই মেয়েকে বিপদের হাত থেকে বাঁচান। তাসমিন রহমান অমি বলছিলেন, পৃথুলা রশীদ ছিলেন খুবই কোমল প্রাণের মানুষ। বাসায় খরগোশ, মাছ পুষতেন। তিনি বলেন, রাস্তার কুকুরদের জন্য তার ছিল অসীম মায়া। একবার একটি কুকুরের শ্বাসকষ্ট দেখে বাবার ইনহেলার দিয়ে চিকিৎসা করেন। একবার এক চড়ুই পাখি ডানা ভেঙে বাসায় এসে পড়েছিল। অনেক যত্ন নিয়ে তিনি সেই পাখির শুশ্রূষা করেন। কিন্তু পাখিটি শেষ পর্যন্ত বাঁচেনি। এই শোকে পৃথুলা দুই-তিন দিন ভাল করে খাওয়া দাওয়া করতে পারেননি কলে তিনি জানিয়েছেন। "সে ছিল এমন এক মানুষ যার উপস্থিতি আপনার মনে ভাল করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট," বলছিলেন তিনি," আপনার মন খুব খারাপ, কিন্তু ও এমন একটা কিছু করবে, বা এমন একটা কিছু বলবে, যাতে আপনার একদম মন ভাল হয়ে যাবে।" কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গত সোমবারই নিশ্চিত করে যে নিহতদের মধ্যে ইউএস-বাংলার ঐ ফ্লাইটের পাইলট পৃথুলা রশীদও রয়েছেন।বিবিসি বাংলা।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক ‘বিস্ময়করভাবে বেঁচে গেছি আমি’ হাসপাতালের বিছানায় জ্ঞান ফেরার পর এই কথাটিই প্রথম জানালেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিধ্বস্ত ওই বিমানটির এক যাত্রী বোহরা। তার বরাতে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরের বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়া মুহূর্তের বর্ণনা জানাচ্ছে দেশটির সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু টাইমস। কাঠমান্ডু টাইমসের সঙ্গে আলাপকালে বোহরা বলেছেন, ‘বিমানটিতে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ১৬ জন নেপালি নাগরিক পরিবহণ করছিলেন। তারা সকলেই বাংলাদেশে একটি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে এসেছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।’ বোহরা আরো বলেন, ‘ঢাকা থেকে স্বাভাবিকভাবেই উড্ডয়ন করে বিমানটি। কিন্তু ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের কিছুক্ষণ আগ থেকেই এটি বড়ধরণের কোনো সমস্যায় পড়েছে বলে মনে হয়। এর একটু পরেই খুব ভয়ঙ্করভাবে কেঁপে ওঠে বিমানটি এবং বিকট শব্দে আছড়ে পড়ে।’ জানলার পাশে তার সিট থাকায় বোহরা তা ভেঙ্গে বেড়িয়ে আসার চেষ্টাও করেছিলেন বলে জানান। বর্তমানে নর্ভিক হাসপাতালে আছেন বোহরা। তিনি আরো জানান, ‘বিধ্বস্ত হওয়ার পর কীভাবে তিনি হাসপাতালে পৌঁছেছেন তা মনে করতে পারছেন না। প্রথমে কেউ সিনামঙ্গলের এক হাসপাতালের নেয়ার পর তার বন্ধুরা তাকে নর্ভিক হাসপাতালে নিয়ে এসেছে। মাথায় ও পায়ে গুরুতর আঘাত পেলেও, বিস্ময়করভাবে এখনো বেঁচে রয়েছেন বলেও জানান তিনি। কাঠমান্ডু টাইমস।