09302020বুধ
শিরোনাম:
স্পটলাইট

স্পটলাইট (983)

সোমবার, 28 সেপ্টেম্বর 2020 00:00

অগ্রগতির পথে আলোকের রথে শেখ হাসিনা

লিখেছেন
॥ জাফর ওয়াজেদ ॥ বাংলাদেশ হতদরিদ্র অবস্থান থেকে উন্নয়নশীল দেশের পথে। এই করোনা মহামারিতেও বিশ্ব উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ তার অবস্থানকে আরও সুদৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তা যে কারও কাছে অভাবনীয় মনে হতেই পারে। এক কথায় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এবং এর নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা বিশ্ব পরিম-লে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন। একটি পশ্চাৎপদ দেশকে উন্নয়নের কাতারে শামিল করার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতৃত্বের মাঝে নিজের অবস্থানকে একটা অনন্য ধারায় প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি অবশ্যই আর্থ-সামাজিক ও কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ অবস্থার উল্লেখযোগ্য উদ্বোধনের ফল। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ ও তার নেতা হিসেবে শেখ হাসিনার গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ আঞ্চলিক সহযোগিতা ও মৈত্রীর ক্ষেত্রে তার দৃঢ় অবস্থান। তিনি নানা আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক জোট এবং সহযোগিতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ অব্যাহত রেখেছেন। এর মাধ্যমে তিনি দেশের বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে নেতৃত্বের যে ভূমিকা রাখছেন তা তাকে বিশ্ব পরিম-লে নেতৃত্বের আসন লাভে অনেকখানি এগিয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘ, জি-সেভেনের মতো আসরে তার বিশেষ মর্যাদা এ কারণেই। এসব কারণেই তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান প্রণীত প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তালিকাভুক্ত হচ্ছেন। বস্তুত, দারিদ্র্য হ্রাস, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ ইত্যাকার কারণেই বাংলাদেশ বিশ্ব পরিম-লে স্বাতন্ত্র্য অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। সর্বোপরি লাখ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে বাংলাদেশে আশ্রয় দান এবং সাহায্য-সহযোগিতা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ বিশ্বমহলে প্রশংসিত হয়ে আসছে। কোভিড-১৯ তথা করোনাকালে দেশের জীবনযাত্রাকে সমুন্নত রেখে মানুষের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছেন। নিজ দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যার মধ্যেও যেভাবে রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক সহানুভূতি প্রদর্শন করে আসছে, তাতে বিশ্ববাসী বিস্মিত হলেও শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা, সাহসী ভূমিকা অন্যতম উচ্চমাত্রা এনে দিয়েছে। বলা চলে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে আজ এক ‘রোল মডেল’ দেশে উন্নীত হয়েছে নানা দিক থেকে। তাই বাংলাদেশকে অনুসরণ করে অগ্রযাত্রার পথ তৈরিতে অনেক দেশই এগিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ নিজে যেমন স্বপ্ন দেখে, সেই স্বপ্ন এখন অনেক দেশকেই দেখানো হচ্ছে। শুধু দেখা নয়, সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পথনির্দেশিকা এবং সঠিক কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। যাত্রাপথ মসৃণ না হলেও স্বপ্ন পূরণের পালায় চড়াই-উতরাই ভেঙ্গে বেরিয়ে আসছে উন্নতির অগ্রযাত্রায়। তাকে পাড়ি দিতে হবে আরও বহু পথ। সেই পথে যতই থাক কাঁটা বিছানো, তা উপড়ে ফেলার সক্ষমতাও ক্রমশ ধারণ করছে দেশটি। বাঙালির আশা-আকাক্সক্ষার চৌহদ্দি স্বদেশ ছাড়িয়ে এখন বিশ্বসভায় পৌঁছে গেছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধি এবং আর্থ-সামাজিক সূচকে ‘উন্নয়ন বিস্ময়’ হিসেবে সত্যিকারার্থেই উত্থান ঘটেছে দেশটির। যে কারণে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ হিসেবে আন্তর্জাতিক বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে বাংলাদেশ। আর এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতিশীল নেতৃত্বের কারণে বিশ্ব নেতৃত্বের কাছে একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়কের ইমেজ তৈরি করতে পেরেছেন তিনি। তার সামনে এখন ২০২১ সালের চ্যালেঞ্জ। এই সময়ের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার এবং উন্নয়নশীল দেশের পথে অগ্রযাত্রার যে লক্ষ্য স্থির করেছেন তা পূরণে কঠোর শ্রম বিনিয়োগ করা হচ্ছে। বিশ্বের মাঝে নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রটিও করতে হচ্ছে সম্প্রসারিত। এটা সত্যি যে, জনগণের সমর্থন ছাড়া পৃথিবীর কোন নেতারই শক্তি নেই উন্নয়নমূলক কোন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা। শেখ হাসিনা এক্ষেত্রে ভাগ্যবান অবশ্যই। দেশের ১৭ কোটি মানুষের বড় অংশও শ্রমজীবী, শিক্ষিত, মধ্যবিত্ত, কৃষিজীবীসহ পেশাজীবী এবং অন্যান্য স্তরের জনগণের সমর্থন পাচ্ছেন ব্যাপকার্থে। জনগণ দু’বেলা দু’মুঠো খাবার এখন পাচ্ছে নিয়মিতভাবে। তিনি অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকারগুলো জনগণের দরজায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। কোভিড-১৯ কালেও তিনি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন দেশবাসীর প্রতি। শেখ হাসিনা তাঁর এক লেখায় বলেছেন, ‘আমি জনগণের ক্ষমতার শক্তিতে বিশ্বাস করি।’ এই বিশ্বাসই তাকে দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিশ্ব নেতৃত্বের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। আর জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হতে পেরেছেন বলেই শত বাধা-বিঘœ সত্ত্বেও অর্থনৈতিক অগ্রগতির রথ টেনে নিতে পারছেন। তাই দেখা যায় দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি উর্ধমুখী। বাড়ছে মাথাপিছু আয়। বেড়েছে গড় আয়ু। কমেছে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার। বাড়ছে রফতানি আয়। উন্মোচিত হচ্ছে বিনিয়োগের নতুন নতুন ক্ষেত্র। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ একটি উপযোগী সময়ের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এটা সঠিক যে, দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর অকুণ্ঠ সহযোগিতা বাংলাদেশকে যে লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে নিয়ে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশ্বনেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রে এখন তাই বাংলাদেশের অবস্থান, বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং শেখ হাসিনার উন্নয়ন নীতিমালা। বাংলাদেশের দ্রুত ও অভাবনীয় উন্নয়নে বিশ্বনেতারাও বিস্মিত। তাই তারা উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। এটা বাংলাদেশের, বিশেষ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সফলতা ও অর্জনের স্বীকৃতি। আমরা দেখেছি বিভিন্ন সময় বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সামনে শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাপী সর্বজনীন উন্নয়নের লক্ষ্যে উন্নত দেশ থেকে অধিকতর সহায়তা উন্নয়নশীল দেশের অনুকূলে সঞ্চালন, উন্নত দেশসমূহের বাজার অনুন্নতের জন্য অধিকতর মাত্রায় উন্মুক্তকরণ এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রতিহতকরণে উন্নত দেশসমূহকে বিশ্বব্যাপী অধিকতর কার্যক্ষম পদক্ষেপ নেয়া ও উন্নয়নশীল দেশে বিশ্ব উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে অধিকতর বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতৃত্বের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই উন্নয়নে তার নিজস্ব কৌশল এবং ভবিষ্যত উন্নয়ন ভাবনাগুলো তুলে ধরেছেন। উন্নত অবকাঠামো বিনির্মাণ, নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ে তার বৈশ্বিক চিন্তা উপস্থাপন করেছেন। ‘কানেক্টিভিটিকে’ সামনে রেখে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি। আর পরিবেশ ইস্যুতে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে এগিয়ে যাওয়ার কৌশলের উল্লেখ করেছেন। স্বাস্থ্যখাতে সবার জন্য সুস্বাস্থ্য অর্জনে বাংলাদেশ এমডিজিতে যেমন নেতৃত্ব দিয়েছে, তেমনি এসডিজিতেও নেতৃত্ব দেবেÑ এই দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে গোটা বিশ্বকে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে কমিউনিটি ক্লিনিকভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার কৌশলে জোর দেয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিশ্চিত করার বিষয়টি উপস্থাপন করেছিলেন। নারীকে নীতি প্রণয়ন ও রাজনীতিতে বেশি বেশি সম্পৃক্ত করা, নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা, সমাজে নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার কথা তুলে ধরেছিলেন। নারীর ক্ষমতায়নে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতিও তিনি স্পষ্ট করেছেন বিশ্বসমাজের কাছে। বিশ্বের পশ্চাৎপদ অংশের এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করছে সব ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর। বাংলাদেশের পথচলা এক্ষেত্রে অন্যদের জন্যও যে অনুকরণীয় হতে পারে সে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। দেশের উন্নয়ন, অর্জন ও সাফল্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই আনন্দ ও গর্বের বিষয়। সবার দায়িত্ব এ অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রেখে বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জন। এ পথে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, নানা প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ নানান সময় শেখ হাসিনাকে যে সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করেছেন তা ১৭ কোটি বাঙালিকেও মর্যাদাবান করেছে। শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়নশীল দেশের পথে নিয়ে যাচ্ছেন। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার মধ্যে বাংলাদেশ নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখবে তা নয়। তার স্বপ্ন আরও দূরে, যেখানে বিশ্বের শিল্পোন্নত ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ শক্তির পাশে দাঁড়াতে পারবে। বাস্তবতা বলে যে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বের গুণে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও শিল্পোন্নত দেশে পরিণত হবে। বাংলাদেশ যেভাবে সমৃদ্ধতর হয়ে উঠছে, অগ্রগতির সোপানে নিজেকে সম্প্রসারিত করছে, তাতে ২০৪১-এর অনেক আগেই ২০৩০ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে। দেশবাসীর মধ্যে শেখ হাসিনা সেই স্বপ্ন জাগরিত করেছেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি উন্নততর বিশ্ব আরও উন্নত একটি গ্রহ এবং শান্তিপূর্ণ ও বিশ্ব ব্যবস্থার জন্য জনগণের জীবনকে রূপান্তর করতে আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আমরা এ অঞ্চলের বাকিদের সঙ্গে হাত মেলাতে চাই। উন্নত দেশের নেতারা আবারও প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ নানাভাবে। বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার পথে তারা সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশ্ব নেতৃত্বের কাছে একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শেখ হাসিনা যেভাবে প্রতিভাত করেছেন নিজের ইমেজ, সর্বত্র তার প্রতিফলন ঘটে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়েছে, যা সারাবিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। রোহিঙ্গা সঙ্কট ছাড়াও বাণিজ্য ও সমুদ্রসম্পদ নিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন শেখ হাসিনা। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার পর সমুদ্রসম্পদ আহরণের জন্য বাংলাদেশ জোর দিয়েছে। এ বিষয়ে কোন জ্ঞান বা প্রযুক্তি নেই, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ এই সম্পদ আহরণ করতে পারে। তাই ইতোমধ্যে ভারত, চীন ও ইউরোপীয় অন্যান্য দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে বিশ্বনেতাদের সহযোগিতাও চান তিনি। শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ বিশ্বসভায় নিজের অবস্থান তৈরি করছেন। বিশ্বজুড়ে শেখ হাসিনা যে অবস্থান তৈরি করেছেন তা বাঙালী জাতিকে এক উঁচু অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে। বাঙালী তথা দেশের মানুষ বিশ্বাস করে শেখ হাসিনা স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখান এবং স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন। শুধু বিশ্বাস নয়, এটি এখন প্রতিষ্ঠিত সত্যও। তাই তো ভুবনজুড়ে শেখ হাসিনার নাম আজ জ্বলজ্বল করছে। পাল তুলে দিয়েছেন নৌকার। পারি দিচ্ছেন অপার সাগরে। সব বাধা-বিঘ্ন দলিত করে বাংলাদেশকে যে স্তরে নিয়ে গিয়েছেন, তাতে বিশ্বসভায় নিজস্ব অবস্থান গড়ে উঠেছে। এক নতুন বিশ্ব গড়ে তোলায় নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন এই করোনা মহামারিকালেও। কোন প্রতিবন্ধকতাই তাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেনি, পারবেও না। অন্তহীন পথ ধরে তিনি চলেছেন মানব সভ্যতার বিকাশে আর সাম্যের বিস্তারে। জয়যাত্রায় তিনি সফলতাকেই ধারণ করেন। কারণ দেশবাসী রয়েছে তার সাথে। তিনিও ধারণ করেন দেশের মানুষকে। লেখক: জাফর ওয়াজেদ, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও মহাপরিচালক প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।
॥ কানাই চক্রবর্ত্তী ॥ জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেয়ার দিনটি ছিল বঙ্গবন্ধুর জীবনের সুন্দরতম ও সর্বশ্রেষ্ঠ একটি দিন। একইভাবে বলা চলে বাংলায় বক্তৃতা তাঁর (বঙ্গবন্ধুর) সমগ্র জীবনের স্বাভাবিক এবং যৌক্তিক পরিণতি। আগামী কাল ২৫ সেপ্টেম্বর সেই ঐতিহাসিক দিন, ৪৬ বছর আগে ১৯৭৪ সালের এইদিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন। এর আগে একই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য দেশের মর্যাদা লাভ করে। এর মাত্র সাত দিন পর, ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘর সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু বাংলায় ভাষণ দেন। জাতিসংঘে এটিই ছিল প্রথম বাংলায় ভাষণ। এর মাধ্যমে বাংলাভাষা বিশ্ব দরবারে পেয়েছে সম্মানের আসন, আর এই ভাষাভাষী মানুষ পেয়েছে গর্ব করার অবকাশ। অনেকেই মনে করেন, বিশ্বপরিসরে এর আগে বাংলা ভাষাকে এমন করে কেউ পরিচয় করিয়ে দেননি। এ ভাষণের আর একটি দিক হল এটি সমগ্র বিশ্বের অধিকারহারা শোষিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে সোচ্চার এক কণ্ঠস্বর। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠার একটি বলিষ্ঠ উচ্চারণ ও সাহসী পদক্ষেপ। ভারতের প্রখ্যাত লেখক ও গ্রন্থ সমালোচক সুরজিৎ দাশগুপ্ত জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ দেয়ার দিনটিকে তাঁর (বঙ্গবন্ধু) জীবনের সুন্দরতম ও সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হিসাবে অবিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এর আগে শেখ মুজিবুর রহমান নিজে ধর্মনিরপেক্ষ হওয়া সত্ত্বেও লাহোরে মুসলিম দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে রাজি হলেন এই শর্তে যে, পাকিস্তান বাংলাদেশকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেবে। পাকিস্তানের স্বীকৃতির সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের স্বীকৃতি এবং এই সঙ্গে জাতিসংঘে প্রবেশের অধিকার আর বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের অন্যতম ভাষারূপে প্রতিষ্ঠার সুযোগ। ’ সৈয়দ বদরুল আহসানের ‘শেখ মুজিবুর রহমান : ফ্রম রেবেল টু ফাউন্ডিং ফাদার’ গ্রন্থেটির ওপর আলোচনা করতে গিয়ে প্রখ্যাত লেখক ও গ্রন্থ সমালোচক সুরজিৎ দাশগুপ্ত ২০১৪ সালের ১৭ মার্চ ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি নিবন্ধে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এই মূল্যায়ন করেন। বইটি প্রকাশিত হয়েছে ভারতের নয়াদিল্লী থেকে। প্রকাশক নিয়োগী বুকস। গ্রন্থ আলোচনায় সুরজিৎ দাশগুপ্ত আরো বলেন, এটা ঘটনা যে, জাতিসংঘের দরবারে ভারতীয় ভাষাগুলোর মধ্যে শুধু বাংলাই সারণি-স্বীকৃত ভাষা। স্বাধীন বাঙালি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে বাংলা ভাষার এই গৌরব প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বলেন, এই ভাষার জন্যই ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ‘অমর একুশে’ এর ঐতিহাসিকতা অর্জন করে। এর ৪৮ বছর পর একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটি বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। সুরজিৎ দাশগুপ্ত বলেন, ১৯৪৭ সালের এপ্রিলে স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন শরৎচন্দ্র বসু, আবুল হাসিম, কামিনী কুমার দত্ত, শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ তৎকালীন বাংলার নেতৃবৃন্দ। তখন মুজিবুর ছিলেন সোহরাওয়ার্দীর একান্ত অনুগত। সেই সময় থেকে তিনিও স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি বলেন, মুজিবুর কলকাতা ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে সেখানেও ছাত্রনেতা হলেন এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তুলে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ গ্রেফতার হন এবং ১৫ মার্চ মুক্তি পান। আবার আইন অমান্যের জন্য ১৯৪৯ সালের ২৯ এপ্রিল গ্রেফতার হন। মুক্তি পান ২৭ জুলাই। চার মাস পর খাদ্য আন্দোলনের নেতা হিসেবে আবার কারাবাস। বিভিন্ন শহরের বিভিন্ন জেলে একটানা প্রায় দু’বছর বন্দি রেখে ১৯৫২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারিতে যখন তাকে মুক্তি দেয়া হয়, তখন তাঁকে স্ট্রেচারে করে বাড়ি নিয়ে যেতে হয়। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি মুজিবুর স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। ফিরলেন খাদ্যাভাবে হাহাকার ক্লিষ্ট, গুপ্ত মারণাস্ত্রে সজ্জিত তারুণ্যপরিবৃত, যাদের কেউ কেউ ধর্মান্ধতায় উগ্র, দেশের অন্দরে আর দেশের বাইরে আমেরিকা, চীন প্রভৃতি বিরূপ বিশ্বশক্তি সঙ্গে নিয়ে। এসবের সঙ্গে আছে পাকিস্তানে আটকেপড়া প্রায় এক লক্ষ বাংলাভাষী আর বাংলাদেশে আটকে পড়া প্রায় আড়াই লক্ষ উর্দুভাষী এবং ভারতে হস্তান্তরিত যুদ্ধবন্দিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন। তবে, এত কিছুর পরও ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের প্রথম বার্ষিকীতে আইনের শাসন ও বহুত্ববাদের ভিত্তিতে গৃহিত হয় বাংলাদেশের সংবিধান। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ একটি নিবন্ধে লিখেছেন, ঐতিহাসিক এ দিনটির সূচনা হয় একই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর, বুধবার। বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশকে জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য রাষ্ট্ররূপে আনুষ্ঠানিকভাবে গহণ করা হয়। তিনি বলেন, এই ঘোষণাটি শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষমাণ বঙ্গবন্ধু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, ‘আমি সুখী হয়েছি যে, বাংলাদেশ জাতিসংঘে তার ন্যায্য আসন লাভ করেছে। জাতি আজ গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে, যারা বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে তাদের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। সেই শহীদদের কথা জাতি আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।’ প্রবীণ এই আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধুর সফরসঙ্গী হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এই ২৯তম অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকে প্রথমে অনুরোধ করা হয়েছিল, ইংরেজিতে বক্তৃতা করার জন্য। কিন্তু প্রিয় মাতৃভাষা বাংলার প্রতি সুগভীর দরদ ও মমত্ববোধ থেকে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন তিনি মাতৃভাষা বাংলায় বক্তৃতা করতে চান।’ সিদ্ধান্তটি তিনি আগেই নিয়েছিলেন উল্লেখ করে তোফায়েল বলেন, বঙ্গবন্ধুর বাংলা বক্তৃতার ইংরেজি ভাষান্তর করার গুরু দায়িত্বটি অর্পিত হয়েছিল ফারুক চৌধুরীর ওপর। তিনি ছিলেন লন্ডনে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার। তোফায়েল আহমেদ বলেন, মাতৃভাষা বাংলায় ভাষণ দেয়ার বঙ্গবন্ধুর এই সিদ্ধান্তটি ছিল তাঁর সমগ্র জীবনের স্বাভাবিক এবং যৌক্তিক পরিণতি। সেদিন বক্তৃতারত বঙ্গবন্ধুর দিকে তাকিয়ে কেবলই মনে হয়েছে, তিনি যেন বহু যুগ ধরে এমন একটি দিনের জন্য অপেক্ষায় থেকে নিজকে প্রস্তুত করেছিলেন। মাতৃভাষার অধিকার প্রতষ্ঠার জন্য তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাও জাতির পিতার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন অধিবেশনে মাতৃভাষা বাংলায় ভাষণ দিচ্ছেন। এবারও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (৭৫তম ) অধিবেশনে ভার্চূয়াল অংশ গ্রহনে বাংলায় ভাষণ দেবেন।
বিশেষ প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসন্ন শীতকালে কোভিড-১৯-এর সম্ভাব্য পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে মাঠ পর্যায়ে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্বের অনেক দেশে করোনাভাইরাসের পুনরাবৃত্তির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে ব্যাপকভাবে মাস্ক পরার এবং দেশে মারাত্মক কোভিড-১৯-এর বিস্তার বন্ধে সকল নির্ধারিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘কোভিড-১৯-এর সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে এই মুহূর্ত থেকেই মাঠ পর্যায়ে প্রস্তুতি নিতে হবে’। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরো বলেন, ‘দ্বিতীয় ধাপ যদি আসে, আমাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে যদি সচেতন হই, তাহলে আমাদের জন্য এটা সুবিধাজনক হবে।’ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘দেশে যেহেতু অক্টোবরের শেষ এবং নভেম্বরের প্রথম দিকে ঠান্ডার প্রকোপ বাড়তে পারে এবং সে সময় নিউমোনিয়া, জ¦র বা অ্যাজমার একটা প্রবণতা আসে, তাছাড়া কোভিড-১৯-এর যদি দ্বিতীয় ধাপ আসে তাহলে এটাকে প্রতিরোধ করতে মাঠ পর্যায়ে একটা প্রস্তুতি থাকতে হবে।’ মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ব্যাপকভাবে মাস্ক ব্যবহার করতে এবং শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি ঠান্ডার বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দিয়েছেন। এরআগে সকালে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে এবং মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ সচিবালয় থেকে ভার্চুয়াল এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের সবাই দেশবাসীর মাস্ক ব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন। এটা আরো ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে। কারণ, আমাদের বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, দুই তরফ থেকেই যদি মাস্ক পরা থাকে তাহলে ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত নিরাপদ। আর এক তরফে থাকলে ৬২ থেকে ৬৫ শতাংশ নিরাপত্তা থাকে। সুতরাং মাস্ক পরায় সকলকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে আমরা বলে দিয়েছি গ্রাম-গঞ্জের মসজিদগুলোতে মাইকে প্রতিদিন অন্তত দুইবার করে যেন ঘোষণা করা হয়-‘মাস্ক পরাটা রাষ্ট্রীয় একটা নির্দেশ এবং কল্যাণকর একটা নির্দেশ এবং এটি মেনে চলাটাও আমাদের একটা কর্তব্য। না হলে সরকার বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হবে।’ মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, কোভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপ আসার আগে সরকার মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান। তিনি বলেন, ‘আমি সম্প্রতি একটি কাজে একটি মার্কেটে গিয়েছিলাম, আমি সেখানে বেশি লোককে মাস্ক পরতে দেখিনি। পরে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি আমরা ক্রসচেক করবো যে কোনো দিন, সে মার্কেটে যদি সবাইকে মাস্ক পরা না দেখি তাহলে উই উইল টেক অ্যাকশন।’ বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, কেউ মাস্ক কিনতে না পারলে বাড়িতে কাপড় দিয়ে সহজেই তা তৈরি করে নেওয়া যায়। মাস্ক যেন সবাই পরে। স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অভিযান অব্যাহত আছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ বিষয়ে মোবাইল কোর্ট চলছে।
রবিবার, 20 সেপ্টেম্বর 2020 18:16

রাশিয়ার করোনার ভ্যাকসিন নেওয়া সবাই সুস্থ!

লিখেছেন
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: রাশিয়ার গামালেই ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি তৈরি করেছে মারণভাইরাস করোনার একটি টিকা। তাদের করোনা ভ্যাকসিনটির নাম স্পুটনিক-ভি। করোনার ওই ভ্যাকসিনটির ট্রায়ালে কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবীর অংশ নিয়েছেন। ভ্যাকসিন গ্রহণ করার পর সকল অংশগ্রহণকারীই সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন মস্কোর মেয়র সার্জি সোবায়ানিন। রবিবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবায়ানিন ‘রোসিয়া-১’ টিভি চ্যানেলকে জানিয়েছেন, সরকারিভাবে নিবন্ধিত বিশ্বের প্রথম এই টিকার বড় আকারের চূড়ান্ত ট্রায়াল চলছে। এই ট্রায়ালে ৬০ হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেছেন। ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার আগে বেশ কয়েক হাজার মানুষ মেডিক্যাল পরীক্ষাও করিয়েছেন। সের্গেই সোবায়ানিন বলেন, সাতশরও বেশি মানুষ করোনার ভ্যাকসিন স্পুটনিক-ভি নিয়েছেন। তাদের মধ্যে সবাই সুস্থ রয়েছেন। তবে তিনি এর বেশি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। এর আগে গত সপ্তাহে রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরশকো জানিয়েছিলেন, ভ্যাকসিন নেওয়া স্বেচ্ছাসেবীরা এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত বিরূপ প্রভাব দেখেনি। তবে প্রায় ১৪ শতাংশ স্বেচ্ছাসেবী ২৪ ঘণ্টা ধরে দুর্বলতা, মাংসপেশীতে ব্যথা অনুভব করেন। তাদের আবার মাঝে মাঝে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় বলেও জানানো হয়। সূত্র: আরটি।
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলার শপথ নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি নিজস্ব উদ্যোগেই ‘শুদ্ধাচার’ ও এর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আজ অ্যানুয়াল পারফমেন্স এগ্রিমেন্ট (এপিএ)-২০২০ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দেশে একটি ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই এবং আপনাদেরকেই এই শুদ্ধাচারের পরিকল্পনা করতে হবে এবং কিভাবে তা বাস্তবায়ন করা যায় সেই উপায় বের করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পরিকল্পনা তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছাতে ও তা সফলভাবে কার্যকর করতে হবে। ‘আর যারাই এটা করতে পারবে, তাদেরকে পুরস্কৃত করা হবে।’ প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিওকনফারেন্সের মাধ্যমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের দুর্নীতি থেকে মুক্ত থাকার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসের সাথে কাজ করার নির্দেশ দেন। তিনি তাদেরকে জনগণের পাশে থাকারও নির্দেশ দেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা যখন কোন কাজ করবেন, তখন তা আত্মবিশ্বাসের সাথে করবেন। কে কি বলল বা কে কি লিখল সেদিকে কান দেবেন না। এসব দিকে কান দিলে কোন কাজই করতে পারবেন না।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, দেশে কিছু মানুষের স্বভাবই হচ্ছে অন্যের সমালোচনা করা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা সামান্য ভুল হলেই অনেক কিছু বলেন (পান থেকে চুন খসলেই সমালোচনা করেন)। কিন্তু তারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য নিজেরা কিছুই করেন না।’ শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকারই অনেক টিভি চ্যানেলকে অনুমোদন দিয়েছে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করেছে। আর এর মাধ্যমেই (সরকারের বিরুদ্ধে) নানা ধরনের অপপ্রচার চলবে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘কিন্তু আপনাদেরকে (সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী) আত্মবিশ্বাসের সাথে সঠিক কাজটি করে যেতে হবে। যদি আপনাদের এই আত্মবিশ্বাস থাকে যে আপনারা যা করলেন তা জনগণের কল্যাণের জন্য এবং জনগণ এর সুফল ভোগ করবে, তবে আমি বলতে চাই যে আপনারা তাই করুন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের পাশে থাকা প্রতিটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছি বলে তাদের পাশে থাকা আমাদেরও দায়িত্ব। আমরা জনগণের কাছে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আর যারা সরকারি চাকরি করেন তারাও জনগণের সেবা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ করোনাভাইরাস মহামারী প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে এবং সরকার প্রাথমিক পর্যায়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে কোভিড-১৯ কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, অনেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করেন। কিন্তু মন্ত্রণালয় যথেষ্ট দক্ষতার সাথে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘এটা মাথায় রাখতে হবে যে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত কর্মীরা কাজ না করে বসে থাকেননি, তারা নিরলসভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কোভিড-১৯ মোকাবেলা করেছেন।’ তিনি বলেন, অনেক চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী কোভিড আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের পাশাপাশি, প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে জনগণকে সাহায্য করেছেন।’ করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি তাদের পড়াশোনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশ নয়, মহামারীজনিত কারণে সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে এবং সমগ্র বিশ্বের মানুষ এর জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষিতে উন্নয়নমূলক কাজের গতি কমিয়ে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এতে কোন সন্দেহ নেই যে আমরা যেভাবে এগিয়ে চলেছি তাতে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমাদের এই বাধা অতিক্রম করতে হবে এবং এটি স্বীকার করেই কাজ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ হওয়ায় দুর্যোগ আসবে। তবে আমাদের দুর্যোগ মোকাবেলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, সরকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে যা দেশের জিডিপির চার শতাংশের বেশির সমতুল্য। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আগে কোনো দেশই এ জাতীয় প্যাকেজ ঘোষণা করেনি এবং আমরা এজন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানাই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যেখানেই প্রয়োজন সেখানে প্রণোদনা প্যাকেজের পাশাপাশি হাত খুলে নগদ অর্থ সরবরাহ করেছি এবং ফলস্বরূপ আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরা ২০০৮ সালে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং সরকার এখন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের কাজ সম্পন্ন করছে। শেখ হাসিনা দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে এবং কখনই পিছিয়ে পড়বে না এবং লক্ষ্য অর্জনে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে এবং আমরা পিছিয়ে যাব না… আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তুলব। লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাই।’ সফলভাবে এপিএ কার্যকর করার জন্য সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে একটি চমৎকার কাজ করেছে যা বিশ্বে একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, ‘যারা এই কাজের জন্য পুরষ্কার পেয়েছেন তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই এবং আমি চাই যে আপনারা সেভাবে কাজ করবেন যাতে আগামী দিনগুলোতে আপনারা আরো পুরস্কার অর্জন করতে পারেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারী প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য তার সরকার ২০১৪-১৫ সালে এপিএ চালু করে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সামরিক বিধিবিধানের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সামরিক শাসকরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলে সরকারে এ ধরনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকে না। তিনি বলেন, তাদের একনায়কতান্ত্রিক মনোভাবের কারণে তারা যা কিছু করে সবই ভালো এবং অন্যরা খারাপ এবং জনগণ এর খারাপ পরিণতি ভোগ করে এবং তারা অবহেলিত থাকে। যদিও, স্বৈরশাসক এবং সহযোগীরা এর সুবিধা ভোগ করে। শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে জনগণকে বঞ্চণা মুক্ত করা এবং তাদের সেবা করা। এই কারণে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা এবং কাজের গতিশীলতা আনতে সরকারি কাজকে ফলাফলমূখী করে তোলার জন্য এপিএ চালু করেছি। জনগণ সরকারী সম্পত্তির মালিক বলে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য সম্পত্তিটি যথাযথভাবে ব্যবহার করা এবং জনগণের দোরগোড়ায় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। আমাদের উন্নয়নের লক্ষ্য হচ্ছে তৃণমূল যা জাতির পিতাও করেছেন। তিনি বলেন, সংবিধানে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা সেবা, অবকাঠামোগত উন্নয়নের মতো মৌলিক অধিকারকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জাতির পিতা জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছানোর জন্য ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ করেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মুজিববর্ষ উদযাপনে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, তবে, কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে আমরা যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে উদযাপন করতে পারিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকারের বৃক্ষরোপণ অভিযানের পাশাপাশি সারাদেশে এক কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি নিয়েছে তাঁর দল। তিনি বলেন, আমাদের এমন ব্যবস্থা করতে হবে যাতে একজন ব্যক্তিও ভূমিহীন বা গৃহহীন না থাকে। আমরা এই বছরের মধ্যে প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবগণ ও সচিবগণ তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এপিএ স্বাক্ষর করেন। বিদ্যুৎ বিভাগ ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে এপিএ বাস্তবায়নে সেরা কর্মসম্পাদক হিসেবে স্বীকৃতিসহ ক্রেস্ট এবং প্রশংসাপত্র পায়, অন্যদিকে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগ যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেরা কর্মসম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়। এছাড়া, আরও সাতটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এপিএ বাস্তবায়নে তাদের অসামান্য কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রশংসাপত্র লাভ করে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হলো- পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয়, পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায় বিভাগ, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে সততা প্রয়োগের জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আবু হেনা মো. রহমতুল মুনিম শুদ্ধাচার পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৮-১৯ অর্থ বর্ষে সাফল্যের সাথে জাতীয় অখন্ডতা কৌশল প্রয়োগের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সেরা হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে, অন্যদিকে শিল্প মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে দ্বিতীয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়কে তৃতীয় সেরা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এপিএ বাস্তবায়নে মন্ত্রনালয় ও বিভাগের অসামান্য কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট সচিবদের কাছে ক্রেস্ট এবং প্রশংসাপত্র হস্তান্তর করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সঞ্চালিত অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বক্তব্য রাখেন।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: ভারতে পেঁয়াজের দাম তিনগুণ বেড়ে যাওয়ার পর সরকার সব ধরণের পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বন্যায় এবার গ্রীস্মকালীন ফসল মার খাওয়ার পর সেখানে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে। কোন কোন নগরীতে প্রতি কিলোগ্রাম পেঁয়াজ ষাট সেন্টেও বিক্রি হচ্ছিল। দিল্লি থেকে বিবিসি বাংলার শুভজ্যোতি ঘোষ জানান, ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে যে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড আছে, তার প্রধান অমিত যাদবের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার একথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশসহ সব দেশে ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি অবিলম্বে বন্ধ হচ্ছে। ভারতে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ হয় মহারাষ্ট্রে। সেখান থেকে যেমন পেঁয়াজ রপ্তানি করা যাবে না, তেমনি কর্ণাটক বা তামিলনাডু থেকেও পেঁয়াজ রপ্তানি করা যাবে না। এই বিবৃতিতে অবশ্য রপ্তানি বন্ধের কোন কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে ধরে নেয়া হচ্ছে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ে যে অস্থিরতা চলছে, সেটাই এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহেও ভারত একেবারে আচমকা বাংলাদেশসহ সব দেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আমদানি করার ভারতীয় পেঁয়াজের ওপর বাংলাদেশের ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে। গত বছরের ঐ সিদ্ধান্তের পর সাথে সাথেই বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম অগ্নিমূল্য হয়ে উঠেছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল কয়েক মাস। ভারত হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজ রপ্তানিকারক দেশ। প্রতি বছর দেশটি প্রায় ২০ লাখ টন পেঁয়াজ রপ্তানি করে। দক্ষিণ এশিয়ার রন্ধনপ্রণালীতে পেঁয়াজ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। ভারতের পেঁয়াজের ওপর বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল, মালয়েশিয়া এবং শ্রীলংকাও ব্যাপকভাবে নির্ভর করে।
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: কেন্দ্রীয়ভাবে নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে নয়, স্ব স্ব মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। তবে অনলাইনে পাঠদান চলছে। কবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে সেই অপেক্ষায় শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে পিইসি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০২০-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আগে ছয় মাস আগে নির্বাচন করতে হতো। তখন শপথে অনেক দিন অপেক্ষা করতে হয়। আইনটি পাস হলে নির্বাচন তিন মাস আগে হবে। শপথ নেয়ার পর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে দায়িত্ব নেবেন জনপ্রতিনিধি। সিটি নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বছরে তিন মাসের বদলে এক মাস ছুটি পাবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘দেখা গেছে, বাস্তবে (সিটি কর্পোরেশন আইন অনুযায়ী) কাজ করতে গেলে কিছু অসুবিধা হয়। এখন নিয়ম রয়েছে– (মেয়াদ উত্তীর্ণের আগে) ৬ মাসের (১৮০ দিন) মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। অন্যদিকে রয়েছে যেদিন তারা (মেয়র ও কাউন্সিলর) মিটিং করবে, সেই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত তাদের সময় থাকবে। দেখা গেছে, ৪-৫ মাস আগে যদি নির্বাচন হয়ে যায়, শপথ হলেও তারা দায়িত্ব নিতে পারছে না এই কন্ট্রাডিকশনের জন্য। (মেয়াদ পূর্ণ না হাওয়ায়) অনেক দিন তাদের অপেক্ষা করতে হয়। তিনি বলেন, নির্বাচন তো বটেই, শপথ নেয়ার পরও তাদের অপেক্ষা করতে হয়। সে জন্য এটিকে একটু চেইঞ্জ করে নিয়ে আসা হয়েছে। (মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে) তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন শেষ করতে হবে। যেদিন শপথ হবে এর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর হয়ে যাবে।
শনিবার, 12 সেপ্টেম্বর 2020 22:31

শেখ রেহানার ৬৫তম জন্মদিন আজ

লিখেছেন
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার ৬৫তম জন্মদিন আজ রোববার। ১৯৫৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছাসহ পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করে। সে সময় শেখ হাসিনার স্বামী এম ওয়াজেদ মিয়ার কর্মস্থল জার্মানির কার্লসরুইয়ে বড় বোনের সঙ্গে থাকায় বেঁচে যান তিনি। সেখান থেকে ভারতে চলে যান দুই বোন। শেখ রেহানা পরে পরিবার নিয়ে লন্ডনে চলে যান। শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হয়েও কখনও সক্রিয় রাজনীতির সামনের সারিতে আসেননি শেখ রেহানা। তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ সক্রিয় রাজনীতিবিদদের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা দিয়ে গেছেন। জনহিতৈষী কাজে সব সময়ই ভূমিকা রেখেছেন শেখ রেহানা। ধানমন্ডিতে তার নামে বরাদ্দ বাড়িটিও দিয়েছেন দেশের কাজে। বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, সবার কাছে ‘ছোট আপা’ বলে পরিচিত। অধ্যাপক ড. শফিক আহমেদ সিদ্দিক ও শেখ রেহানা দম্পতির তিন ছেলে-মেয়ে। তাদের মধ্যে বড় মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ পার্লামেন্টে লেবার পার্টির একজন এমপি। ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত। আর ছোট মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক লন্ডনে কন্ট্রোল রিস্কস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের গ্লোবাল রিস্ক অ্যানালাইসিস সম্পাদক।
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলার ঘটনায় যে-ই জড়িত থাকুক, ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকার কোনো অপরাধকেই প্রশ্রয় দিচ্ছে না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ঘোড়াঘাটের ইউএনওর ওপর হামলাকারীদের পাশাপাশি এ ঘটনায় ইন্ধন দাতাদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। জনপ্রতিনিধিদেরকে হুঁশিয়ার করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কেউ অপরাধীদের রক্ষা করতে আসবেন না। আজ বুধবার একাদশ জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনে সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদের প্রশ্নের জবাবে একথা জানান তিনি। সদস্যদের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের উপর এমন হামলা গর্হিত কাজ। এই ঘটনায় দলীয় পরিচয় মুখ্য নয়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তেও কোনো ঘাটতি নেই বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সংসদ সদস্যরা যেনো সন্ত্রাসীদের আশ্রয় না দেয়, সে বিষয়ে সর্তক থাকতে সকলের প্রতি আহবানও জানান প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি দুর্বৃত্তের নির্মম হামলায় গুরুতর আহত হন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম। এখনো মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এ কর্মকর্তা কখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন কিনা, সেটিও অনিশ্চিত। দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে এই ঘটনায়।
বুধবার, 09 সেপ্টেম্বর 2020 09:36

টিকার গণ-প্রয়োগেও ছাড়পত্র দিল রাশিয়া

লিখেছেন
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: রাশিয়া, না চিন! কে আগে করোনার প্রতিষেধক আনবে, গত কাল পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় সব সংবাদমাধ্যমেই প্রশ্নটা ঘোরাফেরা করছিল। টিকা তৈরির সেই দৌড়ে আজ অন্তত একটা ল্যাপ এগিয়ে গেল রাশিয়াই। বাজারে আসছে ‘স্পুটনিক-ভি’। এই ঘোষণা করতে গিয়ে রীতিমতো বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রক আজ তাদের তৈরি করোনা-ভ্যাকসিনকে জনসাধারণের উপর প্রয়োগের ছাড়পত্র দিল। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানালেন, শীঘ্রই দেশের প্রান্তে-প্রান্তে পৌঁছে যাবে স্পুটনিক-ভি। কয়েক মাসের মধ্যেই বেশির ভাগ শহরবাসী পেয়ে যাবেন করোনা-টিকা। এক বছর ধরে চলবে গণ-টিকাকরণ। এ দিকে পিছু হটতে নারাজ চিনও। বেজিংয়ের যে বাণিজ্যমেলায় চিনা টিকার ‘ভায়াল প্রদর্শনী’ চলছে, সেখান থেকেই আজ চার ডাক্তারকে স্বর্ণপদকে সম্মানিত করে চিনা প্রেসিডেন্ট শি চিনফিং দাবি করলেন, একমাত্র তাঁর দেশই করোনা অতিমারির দাপট সাফল্যের সঙ্গে রুখে দিয়েছে। করোনা হানায় বিশ্ব অর্থনীতিতে ভাঙন ধরেছে। অবিশ্বাস্য দ্রুত পদক্ষেপ করে সেই ক্ষতও চিন মেরামত করে ফেলেছে বলে দাবি করলেন চিনফিং। রাশিয়ার পাল্টা চিন একসঙ্গে তিনটি ভ্যাকসিন আনতে পারে বলেও সূত্রের খবর। মস্কো যদিও তাদের ‘স্পুটনিক মুহূর্তেই’ বাজিমাত করতে চাইছে। গত ১১ অগস্ট রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেন, করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার করে ফেলেছেন তাঁরা। নিজের মেয়েকে পরীক্ষামূলক ভাবে ওই টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে ওই দিন সরকারি ছাড়পত্রও দিয়ে দেন পুতিন। কিন্তু তখনও তো তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালই শুরু হয়নি রুশ টিকার! ‘তাড়াহুড়োর ভ্যাকসিন’-কে নিয়ে বিশ্ব জুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। ঠিক চার দিন আগে স্পুটনিক-ভি-র প্রথম দফার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল নিয়ে ইতিবাচক রিপোর্ট দিয়েছিল ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নাল। আজ মস্কো জানাল, তাদের তৈরি ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল রিপোর্টও ভাল। টিকার ডোজ়ে কোনও রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই তৈরি হচ্ছে অ্যান্টিবডি ও টি-সেল। কোয়ালিটি টেস্টেও পাশ করে গিয়েছে স্পুটনিক-ভি। তাই টিকাকরণে আর বাধা নেই। রুশ বিজ্ঞানীদের দাবি, গ্যামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাদের দীর্ঘদিনের গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা থেকেই রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে যৌথ ভাবে এই প্রতিষেধক তৈরি করেছে। তাই এই টিকার নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহের কোনও কারণ নেই বলেই দাবি তাঁদের। নভেম্বরে ভোটের কথা মাথায় রেখে বিরোধী তথা দেশের একাংশের যাবতীয় আপত্তি উড়িয়ে এ দিকে মডার্নার টিকা আনার ব্যাপারে তদ্বির করে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তাঁর ইঙ্গিত, অক্টোবরের মধ্যেই করোনা-টিকায় ছাড়পত্র দিতে চলেছেন তিনি। কাল এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘‘এমনিতে দু’-তিন বছর সময় লাগতে পারত। কিন্তু জরুরি ভিত্তিতে খুব অল্প সময়ই বিজ্ঞানীরা এই অসাধ্যসাধন করে দেখিয়েছে।’’ যদিও মার্কিন বিজ্ঞানীদেরই একাংশ এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, ভোটের কথা মাথায় রেখে যে ভাবে তড়িঘড়ি টিকা আনার কথা বলা হচ্ছে, মানুষ তা বুঝতে পারলে, টিকা নিতে অস্বীকারও করতে পারেন। মার্কিন করোনা-টিকার যাবতীয় ট্রায়াল-রিপোর্টের স্বচ্ছতা দাবি করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন। এমতাবস্থায় আজই টিকা তৈরিতে নিরাপত্তা এবং মানের সঙ্গে আপস না-করার ব্যাপারে শপথ গ্রহণ করেছে আমেরিকা ও ইউরোপের প্রথম সারির ন’টি ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী সংস্থা। বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আজ ২ কোটি ৭৫ লক্ষের গণ্ডি টপকেছে। মৃতের সংখ্যা ন’লক্ষ ছুঁইছুঁই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) প্রধান টেড্রস অ্যাডানম গেব্রিয়েসাস কালই বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে বলেন, ‘‘আগামী দিনে এমন কোনও অতিমারি এলে আমাদের আরও বেশি প্রস্তুত থাকতে হবে।’’ জনস্বাস্থ্য খাতে সব দেশেরেই বরাদ্দ আরও বাড়ানো উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।