10222017রবি
স্পটলাইট

স্পটলাইট (771)

নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আনিত তথাকথিত ‘দূর্নীতি’র মিথ্যা অভিযোগের সমুচিত জবাব দিয়েছে তাঁর সরকার। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে তিন সপ্তাহের সফর শেষে দেশে ফেরার পর বিমান বন্দরে সংক্ষিপ্ত ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজস্ব অর্থে পদ্মাসেতু নির্মাণ করছি। যারা আমাদের এই পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে মিথ্যা অপবাদ এবং বাংলাদেশের সামর্থ্যকে হেয় করার চেষ্টা করেছিল আমরা তাদের সমুচিত জবাব দিয়েছি।’ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সদ্য সমাপ্ত ৭২তম অধিবেশনে তাঁর সফল অংশগ্রহণের জন্য এক সংবর্ধনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে আবারো বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তিন সপ্তাহের সফর শেষে দেশে ফেরার পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে এই সংবর্ধনার আয়োজন করে । নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মত বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ সরকারের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একে কেন্দ্র করে তাঁর সরকার এবং পরিবারকে নিয়ে কুৎসা রটনা করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বার্থান্বেষী মহল একে কেন্দ্র করে আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ দেয়ার চেষ্টা করে এবং অতি উৎসাহী মহল জনগণকেও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে।’ তিনি বলেন, অনেকেই মনে করে যখন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এমন অভিযোগ করছে, কাজেই এটি সত্যি হতে পারে। কিন্তুু আমার আত্মবিশ্বাস ছিল যে, এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই আমার এই দেশে আসা, নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও সংবর্ধনায় বক্তৃতা করেন। তিনি এবং তাঁর পরিবার পদ্মা সেতু নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থার মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপনের সময় কেমন মানসিক যন্ত্রণায় সময় অতিবাহিত করেছেন সে প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই আমাদের এমনভাবে দেখতে আরম্ভ করে যেন আমরা না যেন কি অন্যায় করে ফেলেছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাটি সে সময় অপপ্রচার শুরু করে এবং দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মাসেত ুপ্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়, দুর্নীতির তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করে তারা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি তখন বলেছি প্রকল্পে কোন দুর্নীতি হয়নি। আর যদি হয়ে থাকে তাহলে তা প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু তারা এই অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়। অথচ, যিনি বাংলাদেশের দুর্নীতির বিষয়ে সে সময় সবচেয়ে সরব ছিলেন তার নিজেরই ৪০ হাজার পৃষ্টার দুর্নীতির খতিয়ান প্রকাশ পেয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, অনেকেই তখন বিশ্বাস করতে পারেনি সরকার নিজস্ব অর্থে এই সেতু নির্মাণে সক্ষম হবে,মন্ত্রী সভার অনেকের মধ্যেও তখন সে বিশ্বাস ছিল না। কিন্তুু আমার প্রতিজ্ঞা ছিল, নিজস্ব অর্থেই পদ্মাসেতু নির্মাণ হবে। অনেকেই তখন আশংকা প্রকাশ করেছিল, যেহেতু পদ্মাসেতু এলাকার সাথে তার নির্বাচনী এলাকা সম্পর্কিত সেহেতু তার নির্বাচনী আসনের কি হবে, তখন আমি বলেছিলাম, আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে বা নির্বাচনে বিজয়ের জন্য এটা করছি না,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন সত্যের জয় অনিবার্য। আর এটা শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান বসানোর দিন তিনি এবং তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থানকালিন বিনিদ্র রাত কাটিয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘রাত ৩ টায় ব্রিজের প্রথম স্প্যান বসানোর কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হবার সংবাদ পেয়ে আমরা আনন্দে কেঁদে ফেলি।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের দক্ষিণ জনপদকে যুক্তকারি এই সেতু নির্মানে তাঁকে অকুন্ঠ সমর্থনের জন্য দেশে-বেদেশে অবস্থানকারি সকল বাংলাদেশীদের অভিনন্দন জানান। নিজস্ব অর্থায়নে এই সেতু নির্মাণে সমর্থ হওয়ায় তাঁর সরকার দেশ ও জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের চেয়ে বড়ো আর কিছু একজন রাজনীতিকের জীবনে হতে পারে না। আর এটাই সব থেকে বড়ো উপহার, যা আমি অর্জন করেছি।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় পদ্মাসেতুর প্রথম স্প্যান সফলভাবে সংযোজন সম্পন্ন হওয়ায় মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে শোকরিয়া জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছেন আর আমরা চাই সমগ্র বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ সবসময় মাথা উঁচু করে চলবে। এদিন রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও বিস্তরিত খোলামেলা কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ আমাদের ওপর যুদ্ধ পর্যন্ত চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী । রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়াটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ গ্রহণ করায় এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিও বিষয়টির ওপর পড়েছে এবং মিয়ানমারও আলোচনা করতে আগ্রহী হয়েছে। সরকার প্রধান বলেন, ‘আরো বেশ কিছু ঘটনা ছিল যেটা হয়তো এখন বিস্তারিত বলবো না, আমাদের একেবারে প্রতিবেশী, তারা একটা পর্যায়ে এমন একটা ভাব দেখালো যে আমাদের সঙ্গে যেন যুদ্ধই বেঁধে যাবে। আমি আমাদের সেনাবাহিনী বর্ডার গার্ড- সকলকে সতর্ক করে বললাম, ‘কোন রকম উস্কানিতে তারা যেন বিভ্রান্ত না হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি নির্দেশ না দেই। তারা এরকম একটা ঘটনা ঘটাতে চাইবে এবং অনেকেই আছে এখানে নানারকমের উস্কানি দেবে বা এমন একটা অবস্থা তৈরি করতে চাইবে যেটা অন্যদিকে দৃষ্টি ফেরাবে। বিদেশে যাবার পূর্বেই যেকোন ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতির উদ্ভব সম্পর্কে সকলকে সতর্ক করে যান উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেদিকে আমরা খুবই সতর্ক ছিলাম। জনগণ জানে আমাদের সশ¯্রবাহিনী আমাদের বিজিবি পুলিশ থেকে শুরু করে স্থানীয় যারা সংগঠন করেন এবং অন্যান্য প্রত্যেককেই আমরা এ ব্যাপারে সতর্ক করি। যা যা দরকার তার আগাম ব্যবস্থা আমি করে দিয়ে গিয়েছিলাম।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাই হোক আমি এটুকুই বলব, বাংলাদেশ এই আশ্রয়টা দিয়ে একটা চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। শুধু তাই নয়, আমরা বললাম প্রয়োজনে আমরা একবেলা খাব, আর অন্য বেলার খাবারটা ওদেরকে দিয়ে দেব এবং আমরা কিন্তুু সেটা করে যাচ্ছি। আর আজকে বাংলাদেশ যদি এই অবস্থানটা না নিত, তাহলে হয়তো আন্তর্জাতিক সম্পদায়েরও দৃষ্টিটা এভাবে আকর্ষণ করতে পারতো না। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়াটা সম্পূর্ণই মানবিক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য। আর বিপন্ন মানুষকে আশ্রয় দেয়া মানুষের দায়িত্ব।’ তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখলাম মিয়ানমারে যেভাবে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার হয়েছে, যেভাবে গণহত্যা, পাশবিক অত্যাচার হয়েছে, তাতে ছোট শিশুরা পর্যন্ত রেহাই পায়নি। খুব স্বাভাবিকভাবে তাদেরকে আমাদের তাদেরকে আশ্রয় দিতে হলো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বহুদেশে এধরনের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা দেখেছি বিশ্বে অনেকেই দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। আশ্রয় দিতে চায়নি। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ছোটবেনি শেখ রেহানাকে সঙ্গে করে কক্সবাজারের উখিয়ায় একটি রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবির পরিদর্শনের স্মৃতিচারন করে বলেন, ‘সে সময় রেহানাও আমার সঙ্গে ছিল সে বললো ১৬ কোটি মানুষকেতো ভাত খাওয়াচ্ছো আর ৫-৭ লাখ লোক, তাদেরকে আশ্রয় দিতে পারবে না। খাওয়াতে পারবে না।’ এই যে কথাটা- সত্য কথা বলতে কি এটা একটা আত্ম বিশ্বাসের ব্যাপার। প্রধানমন্ত্রী সেখানে ত্রাণকার্য পরিচালনার উল্লেখ করে বলেন, কে কখন আমাদের কি সাহায্য দেবে তার জন্য কিন্তু আমরা অপেক্ষা করিনি। আমাদের দলের নেতা-কর্মী, প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড সকলেই একটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা যারা সহযোগিতা করছে তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সকলেই সহযোগিতা করছে। সকলেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি এটাই শুধু চিন্তা করেছি ১৯৭১ সালের কথা। আজকের অনেকের সে সময় জন্মই হয়নি। তারা জানে না সে সময়কার ভয়াবহতার কথা। প্রধানমন্ত্রী এ সময় নিজেকে ভুক্তভোগী উল্লেখ করে তাঁদের গ্রাম, দাদা-দাদী, নানা-নানীর ঘর বাড়ি সহ পাকিস্তানী হানাদারদের গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া এবং হত্যাযজ্ঞের দুঃসহ স্মৃতি স্মরণ করেন। তিনি বলেন, আমাদের সাড়ে সাত কোটি মানুষের মধ্যে তিন কোটি সাড়ে তিন কোটি মানুষের ঘর-বাড়ি জালিয়ে দিয়ে তাদের নি:স্ব করে দেয়া হয়েছিল। প্রায় এক কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। তিনি বলেন, কাজেই আমাদের যখন এমন একটি অভিজ্ঞতা রয়েছে তারপর যখন আমরা বিপন্ন মানবতা দেখলাম আমি মনে করলাম এসব আশ্রয়হীন মানুষকে আশ্রয় দেয়া জাতিয়ভাবে আমাদের কর্তব্য। এ সময় শরনার্থীদের কাছে যথাযথভাবে ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রশাসন এবং তাঁর দলের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও আলোকপাত করেন প্রধানমন্ত্রী। ‘যারা বিপন্ন মানুষ আগে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে-’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাদের সেই রাজনীতিই শিখিয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের আওয়ামী লীগের কিন্তুু একটি স্বভাবজাত প্রবণতা আছে- দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর, এটিই আমাদের রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের যা আছে তা দিয়েই আমরা শুরু করেছি এবং এখনো একটি বিরাট দায়িত্ব আমাদের এবং আমি ধন্যবাদ জানাই মিয়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক চাপে এবং যেভাবেই হোক তারা অন্তত এগিয়ে এসেছে, আলোচনা শুরু করেছে। আমি মনে করি এটাও একটি বিশেষ দিক, আন্তর্জাতিক চাপ আছে।এ অবস্থায় আলোচনার মধ্যদিয়ে আমরা এটার সমাধান করতে পারবো। তিনি বলেন, এই যে আপনারা সমাজের বিশিষ্ট জনেরা আজ এখানে আছেন- আসলে যখন একটা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তখন সিদ্ধান্ত সঠিক কি ভুল সেটা ঠিক করার চাইতেও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। যখন দেখি সিদ্ধান্ত সঠিক এবং এজন্য মানুষের সমর্থনটা পাচ্ছি সেটা কিন্তুু আমাদের মানসিক শক্তি জোগায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ছিলাম ওখানে (দেশের বাইরে) কিন্তুু প্রতিদিনই আমার সংগে যোগাযোগ ছিল। অফিসের কাজও বাদ দেইনি। আর এখনতো ডিজিটাল বাংলাদেশ তাই অনলাইনেও ফাইল সই করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী এ সময় মিয়ানমারের আগত নাগরিকদের তালিকা করা, বায়োমেট্রিক রেজিষ্ট্রেশনের তাঁর সরকারের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। এরআগে, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, ১৪ দলীয় জোট, বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ, শিক্ষক নেতৃবৃন্দ, ক্রীড়াবিদ গণ, মিডিয়া ব্যাক্তিত্ববৃন্দ, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দরে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, জন প্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম,এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জ্বল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীরবিক্রম, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ দিলু, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম এবং ইকবাল সোবহান চৌধুরী,জনপ্রশাসনপ্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি,যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, জেষ্ঠ্য সাংবাদিক এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা’র (বাসস) চেয়ারম্যান রাহাত খান, দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারোয়ার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন,জেষ্ঠ সাংবাদিক আবেদ খান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, বাংলাদেশ ওয়ান ডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা,শিল্পী হাশেম খান, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু),সাম্যবাদি দল,তরিকত ফেডারেশনসহ ১৪ দলীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ, শিল্পী, গায়কসহ গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার, 03 অক্টোবার 2017 08:52

লাস ভেগাস কনসার্টে গুলি: কে এই হামলাকারী?

লিখেছেন
< > নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক আমেরিকার লাস ভেগাসে রুট নাইনটি ওয়ান নামের তিনদিনের কান্ট্রি মিউজিক ফেস্টিভালে ২২০০০ মানুষ জমায়েত হয়েছিল। গান চলাকালে হঠাৎ-ই শোনা যায় স্বয়ংক্রিয় বন্দুকের আওয়াজ। নেভাডার বাসিন্দা স্টিফেন প্যাডক নামের এক বন্দুকধারী পাশের মান্দালে বে হোটেলের ৩২ তলা থেকে এলোপাথাড়ি গুলি ছুঁড়ে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। মান্দালে বে হোটেলটি ছিল উন্মুক্ত কনসার্ট অনুষ্ঠানের পাশেই। আর সেখান থেকেই নির্বিচারে গুলি চালায় নেভাডার বাসিন্দা ৬৪ বছর বয়স্ক স্টিফেন প্যাডক । পুলিশের অভিযানের সময় সে আত্মহত্যা করে বলে জানা যায়। হোটেলটির ৩২ তলার সেই কক্ষে আরও ১৬টি আগ্নেয়াস্ত্রের খোঁজ পায় পুলিশ। সেই সাথে তার বাসায় ১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিস্ফোরকের সন্ধান মিলেছে। আর তার গাড়িতে পাওয়া গিয়েছে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-এর মতো রাসায়নিক। জানিয়েছেন শহরটির শেরিফ। তবে তার বিরুদ্ধে কোনও অপরাধমূলক কর্মখান্ডে জড়িত থাকার তথ্য নেই। তার সাবেক একজন প্রতিবেশী জানান, তিনি একজন পেশাদার জুয়ারি । নেভাডার বাসিন্দা স্টিফেন প্যাডক পাশের হোটেল থেকে এলোপাথাড়ি গুলি ছুঁড়ে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। মার্কিন কর্মকর্তারা সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানান, হামলাকারীর মানসিক সমস্যার ইতিহাস ছিল বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে। হামলাকারীর ভাই এরিক প্যাডক তার ভাইয়ের এমন ঘটনায় জড়িত থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে, তাদের কোনও ধারনাই নেই কেন সে এমনটি ঘটিয়েছে। কনসার্টে গুলি বর্ষণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯জনে। আহত অন্তত ৫২৭জন। এমন ঘটনা পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মোকাবিলা করবে বলে, উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিস্টার ট্রাম্প বলছেন, " এটা সাক্ষাত শয়তানের কাজ। এফবিআই এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটিজ এটি নিয়ে কাজ শুরু করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনও তাদের সাহায্য করছে।" তদন্তকারীরা এই ঘটনার সাথে কোনও আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার না করলেও, ইসলামিক স্টেট বা আইএস গোষ্ঠী এর দায় স্বীকার করেছে। আইএস বলছে যে, এই হত্যাকারী স্টিফেন প্যাডক ছিল ধর্মান্তরিত মুসলিম। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার লাস ভেগাস সফরে যাবেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ।বিবিসি বাংলা < >
শনিবার, 30 সেপ্টেম্বর 2017 09:37

মিস বাংলাদেশ জান্নাতুল নাঈম

লিখেছেন
বিনোদন প্রতিবেদক বিশ্বের সুন্দরীদের সঙ্গে একই মঞ্চে থাকবেন বাংলাদেশের মেয়ে জান্নাতুল নাঈম। এবার ‘লাভেলো মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হয়েছেন তিনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রী হলে এই প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয়। ১৮ নভেম্বর চীনের সানাইয়া শহরে অনুষ্ঠেয় ৬৭তম মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নেবেন জান্নাতুল নাঈম। ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে অন্তর শোবিজ ও অমিকন এন্টারটেইনমেন্ট। বাংলাদেশে এবারই প্রথম ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’-এর ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠান দুটি। গত আগস্ট থেকে শুরু হওয়া ‘লাভেলো মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় প্রায় ২৫ হাজার প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্য থেকে কয়েকটি ধাঁপে বাছাই করা হয়েছে সেরা ১০ জনকে। এই ১০ জন হলেন রুকাইয়া জাহান, জান্নাতুল নাঈম, জারা মিতু, সাদিয়া ইমান, তৌহিদা তাসনিম, মিফতাহুল জান্নাত, সঞ্চিতা দত্ত, ফারহানা জামান, জান্নাতুল হিমি এবং জেসিকা ইসলাম। আজ গ্র্যান্ড ফিনালেতে অংশ নেন তাঁরা। ‘লাভেলো মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালের বিচারক ছিলেন বিবি রাসেল, জুয়েল আইচ, শম্পা রেজা, চঞ্চল মাহমুদ, রুবাবা দৌলা মতিন ও সোনিয়া কবির। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন শিনা চৌহান। অনুষ্ঠানের একসঙ্গে গান গেয়েছেন দুই ভাই হৃদয় খান ও প্রত্যয় খান। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আনিকা। শীর্ষ ১০ প্রতিযোগী ক্যাটওয়াকের পাশাপাশি জনপ্রিয় গানে ঠোঁট মিলিয়েছেন ও নেচেছেন। ছিল চিত্রনায়ক নিরবের পরিবেশনা। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে এনটিভি।
বৃহস্পতিবার, 28 সেপ্টেম্বর 2017 15:04

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে মোদীর শুভেচ্ছা

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। টুইটারে দেয়া পোস্টে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মদিন আজ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের এই দিনে মধুমতি নদী বিধৌত গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। টুইটারে দেয়া পোস্টে মোদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক বিশ্বের একমাত্র দেশ সৌদি আরব যেখানে মেয়েদের গাড়ি চালানোর অনুমতি নেই এবং এ কারণে ক্ষোভও বাড়ছিল। বিশ্বের একমাত্র দেশ সৌদি আরব যেখানে মেয়েদের গাড়ি চালানোর অনুমতি নেই এবং এ কারণে ক্ষোভ দিনদিন বাড়ছিল। 'মেয়েদের গাড়ি চালানোর মত বুদ্ধি নেই'- এক সপ্তাহ আগে একজন ধর্মীয় নেতার করা এমন মন্তব্য অসন্তোষ আরও উসকে দেয়। অবশেষে বহু বছর ধরে চলা প্রচারণার প্রেক্ষিতে সৌদি আরবের ইতিহাসে এই প্রথম মেয়েরা গাড়ি চালানোর অনুমতি পেতে যাচ্ছে। সৌদি বাদশাহ সালমান এ সংক্রান্ত একটি ডিক্রি জারি করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম এ খবর দিচ্ছে। দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় নেতাদের কাউন্সিল এই পদক্ষেপকে সমর্থন দিয়েছে। সৌদি আরবের চরম রক্ষণশীল সমাজে মেয়েদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়ার দাবিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার। গাড়ি চালানোর অভিযোগে অনেক নারীকে কারাগারেওযেতে হয়েছে। সৌদি সরকারের নতুন এই উদ্যোগকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র হিদার নাওর্ট বলেন, "আমি মনে করি সেদেশের জন্য এটি সঠিক দিক-নিদের্শনার মহান পদক্ষেপ। তারা যে এ ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে সেজন্য আমরা উচ্ছ্বসিত। আমি মনে করি এটি খুবই ইতিবাচক লক্ষণ"। সৌদি প্রেস এজেন্সির খবরে জানানো হয়েছে রাজকীয় এই ডিক্রি মোতাবেক নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করা হবে। তবে ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে তা কার্যকর হবে। যদিও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি তবে এই রাজকীয় আদেশে বলা হয়, প্রয়োজনীয় শরীয়াহ মানদণ্ড অনুসরণ করেই এই নির্দেশনা কার্যকর করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার, 21 সেপ্টেম্বর 2017 23:15

সদ্যোজাত মেয়ের নাম শেখ হাসিনা দিল রোহিঙ্গা নারী

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক ২০ বছর বয়সী রোহিঙ্গা মুসলিম নারী খাদিজা। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর জাতিগত নিধন শুরু হলে নাফ নদী পেরিয়ে শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশে আসেন আটমাসের অন্তঃসত্ত্বা খাদিজা। বাংলাদেশে এসে কন্যা সন্তানের জননী হয়েছেন তিনি। তাইতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরুপ মেয়ের নাম রেখেছেন শেখ হাসিনা। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়াটুডে’র প্রতিবেদন অনুসারে, খাদিজার পিতা নুরুদ্দিন ও স্বামী ফখরুদ্দীনকে মিয়ানমারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মা আলুম বাহারের হাত ধরে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে অাশ্রয় নেন অন্তঃসত্ত্বা খাদিজা। রাখাইনে নির্যাতনের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে খাদিজা সাংবাদিকদের বলেন, পুরো রাখাইন রাজ্য আগুনে জ্বলছে। আমাদের বাড়ি ঘরও পুরিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রাণভয়ে আমরা ঘর-বাড়ি থেকে পালিয়ে যাই, গর্ভে সন্তান নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে থাকি। একপর্যায়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করি। এখানেই আমি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেই। রাখাইনের সহিংসতায় আমি আমার স্বামীকে হারিয়েছি। মেয়ের নাম রেখেছি শেখ হাসিনা। ছয় সদস্যের পরিবারের মধ্যে থেকে এখন মেয়ে ও মা’ই তার বেঁচে থাকার সম্বল খাদিজার। শুধু খাদিজা একাই নয় বরং তার মত ৮০ হাজার রোহিঙ্গা নারী শরণার্থী আছেন যারা অন্তঃসত্ত্বা। খাদিজার মা আলুম বাহার সাংবাদিকদের বলেন, অনেক ব্যথা সহ্য করে আমরা বাংলাদেশে এসেছি। আমার কন্যা তখন গর্ভবতী ছিল। সে এখানেই একটি শিশুর জন্মদিয়েছে। আমরা তার নাম রেখেছি শেখ হাসিনা। সে আমাদের নতুন জীবনের আশা দেখিয়েছে, আমরা আমাদের জীবনে এখন কিছুটা শান্তি আশা করতে পারি। প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশের জাতিগত নিধন অভিযান শুরু হলে প্রাণভয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয়। উদার মন ও মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোহিঙ্গাদের দু:খ কষ্টে সমব্যথী হয়ে তিনি রোহিঙ্গাদের ‘মিয়ানমার সরকার যতদিন ফিরিয়ে না নেবে’ ততদিন আশ্রয় দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন। প্রয়োজনে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ খাবার ভাগাভাগি করে খাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সাধুবাদ জানিয়েছে গোটা বিশ্বের মানুষ। ব্রিটিশ গণমাধ্যম শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধিতে ভূষিত করেছেন। ইন্ডিয়া টুডে।
বিবিসি বাংলা মিয়ানমারে নেত্রী অং সান সু চি রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে যে ভাষণ দিয়েছেন তা প্রত্যাখ্যান করেছেন রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সংগঠন ও নেতারা। তারা বলছেন, মিজ সূ চি সব জেনেও না জানার ভান করেছেন এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মনে করে, এই ভাষণে সেনাবাহিনীর বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি করা হয়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা গত তিন সপ্তাহে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এখনো প্রতিদিন আরও ১০ থেকে ১৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে। রোহিঙ্গারা বলছে, নির্যাতনের কারণেই তারা তাদের নিজের গ্রাম ও ভিটেমাটি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন এবং মিজ সু চি সেটি ভালো করেই জানেন। তারপরেও কেন এতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে, সে সম্পর্কে জানা নেই বলে মিজ সু চির যে বক্তব্য সেটা ক্ষুব্ধ করেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে। রোহিঙ্গাদের একটি সংগঠন -আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম লন্ডনে থেকে সংগঠনটির কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। চালান। তিনি বলেছেন, রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে অং সান সূ চি পুরোপুরি অসত্য বক্তব্য তুলে ধরেছেন। রাখাইনে আগুনে পুড়ছে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর তিনি বলেন, "সু চি তার বক্তব্যে যা বলেছেন তা মোটেও সঠিক নয়। তার না জানার মতো কোন কারণ নেই। সময়ে সময়ে রোহিঙ্গারা তাকে সব জানিয়েছে- কি হচ্ছে আর না হচ্ছে। আর সু চি জেনেও না জানার মতো করছেন। শি ইজ অ্যা প্রিটেন্ডার। একই সময়ে তিনি মিথ্যা কথা বলেছেন। আমরা তো খালি হয়ে গেছি সেটা আপনারা দেখছেন তো। ওখানে আছে কি এখন? মানুষ তো একদমই নাই হয়ে গেছে সেখানে। আমার মন্তব্য হলো উনি ভনিতা করছেন ও মিথ্যা কথা বলছেন। জেনেও না জানার মতো আচরণ করছেন।" বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গারা মূলত অবস্থান করছেন কক্সবাজার জেলার শরণার্থী শিবিরগুলোতে। এই দফাতে নতুন করে আসা শরণার্থীদেরও একটি বড় অংশকে এসব শিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ভারতে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা হঠাৎ করেই কেন বিপজ্জনক হয়ে গেল? অং সান সু চি ও তার সরকার বালিতে মাথা গুঁজে রেখেছে: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এমনই একটি কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গাদের একজন নেতা মোহাম্মদ নূর বলেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের কারণেই লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। কিন্তু মিজ সূ চি এই সত্যকে গোপন করেছেন। "সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেছেন সু চি। অত্যাচার না করলে, নির্যাতন না করলে, গুলি না করলে, কাটাছেঁড়া না করলে মানুষ কেন আসবে এখানে। জীবনেও আসতো না। মিয়ানমারে মুসলিম ছিলো ১২ লাখ । এর মধ্যে সাত লাখই তো এখানে এসে পড়েছে। মানুষ শান্তিপূর্ণ ভাবে থাকতে পারলে কি একদেশ থেকে আরেক দেশে পালিয়ে আসে? সূ চি সামরিক বাহিনীর লোকজনকে ভয় পান। সেজন্যই এভাবে বলেছেন," বলেন তিনি। বাংলাদেশ থেকে দেখা যাচ্ছে ওপারের মিয়ানমারে আগুন জ্বলছে মিজ সু চি তার ভাষণে কি বলবেন তা নিয়ে অনেক আগ্রহ ছিলো রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সংগঠনের। কিন্তু তার ভাষণ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াই তৈরি করেছে রোহিঙ্গাদের মধ্যে। অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক রোহিঙ্গা ইন্টেলেকচুয়াল কমিউনিটির প্রেসিডেন্ট ড: লা মিন্ট বলেছেন, অং সান সূ চি-র বক্তব্য আর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বক্তব্যকে তারা আলাদা করতে পারছেন না। তিনি বলেন, "উনার বক্তব্য আর সেনাবাহিনীর বক্তব্যের সাথে কোন পার্থক্য নেই। একই কথা বলেন উনারা। এটা সেনাবাহিনীরই বক্তব্য। উনি যা বলেছেন তার বক্তব্যের ৯০ ভাগই মিথ্যা কথা। রোহিঙ্গাদের নিয়ে তিনি যা বলেছেন সবাই আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি।"
মঙ্গলবার, 12 সেপ্টেম্বর 2017 16:14

কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক কক্সবাজার উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত ও নারকীয় তাণ্ডব, নির্বিচারে হত্যা, লুণ্ঠন ও ধর্ষণের বর্ণনা শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। অশ্রুজল দেখা যায় চোখের কোণে। রোহিঙ্গা এক শিশু প্রধানমন্ত্রীকে তার পরিবারের ওপর সে দেশের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের কথা জানান। শিশুটি জানায়, তাদের জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে আগুন দেয়া হয়। তার বাবাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিষ্ঠুর নির্যাতনের হাত থেকে রেহায় পায়নি শিশুটিও। তার নাকে আঘাত করে থেঁতলে দেয়া হয়। শিশুটির কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় অশ্রুসিক্ত নয়নে ওই শিশুকে বুকে জড়িয়ে নেন। তাকে সান্ত্বনা দেন। নির্যাতিত নারী ও শিশুদের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী তাদের সবধরনের সাহায্য-সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দেন। এরআগে মঙ্গলবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে প্রথমে কক্সবাজার এবং সেখান থেকে সড়কপথে উখিয়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা দুর্ভাগা নারী, পুরুষ, শিশুদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা, পুত্রবধূ আইওএম কর্মকর্তা পেপ্পি সিদ্দিকও এ সময় উপস্থিত আছেন। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারে যা ঘটছে, সেটি ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’। বাকরুদ্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা দেখে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না। মানুষ মানুষের মতো বাঁচবে। মানুষের কেন এত কষ্ট! তারা (মিয়ানমার) আইন পরিবর্তন করে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করছে। আইন পরিবর্তন করে কেন এই ঘটনার সৃষ্টি করা হল?’ শেখ হাসিনা নিরীহ রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, যারা প্রকৃত দোষী তাদের খুঁজে বের করুন। এক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে যা যা সাহায্য করা দরকার, আমরা তা করব। মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ মিয়ানমারের শরণার্থীদের আশ্রয় দিলেও এ দেশের ভূমি ব্যবহার করে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানো হলে তা বরদাশত করা হবে না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, পূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, হুইপ ইকবালুর রহিম, কক্সবাজার-৩ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, আবু রেজা মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন নদভী, মন্ত্রী পরিষদ সচিব শফিউল আলম, মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, কক্সবাজারের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক ও র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার, 11 সেপ্টেম্বর 2017 23:29

মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রস্তাব পাস

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া ও তাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রস্তাব জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে।  সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ প্রস্তাব পাস হয়। এর আগের মাগরিবের নামাজের বিরতির পরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন সরকারি দলের ডা. দীপু মনি। আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, সরকারি দলের সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবদুল মতিন খসরু, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, ড. হাছান মাহমুদ, এ টি এম আবদুল ওয়াহাব, সাইমুম সরওয়ার কমল, জাতীয় পার্টির এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার, ফখরুল ইমাম, জাসদের মইনউদ্দীন খান বাদল ও শিরীন আখতার, তরীকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ১৭৪ (১)-এর আওতায় প্রস্তাব (সাধারণ)-এর ওপর আলোচনায় দীপু মনি তার উত্থাপিত প্রস্তাবে বলেন, 'সংসদের অভিমত এই যে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অব্যাহত নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধ, তাদের নিজ বাসভূম থেকে বিতাড়ন করে বাংলাদেশে পুশইন করা থেকে বিরত থাকা এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্বের অধিকার দিয়ে নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা গ্রহণে মিয়ানমার সরকারের ওপর জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানানো হোক।' প্রস্তাব উত্থাপনকালে ডা. দীপু মনি আরও বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যলঘু সম্প্রদায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অব্যাহত নির্যাতন-নিপীড়ন চরম আকার ধারণ করায় সেখানকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লাখ লাখ লোক ইতিমধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আশ্রয় নিয়েছে। সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিষ্ঠুর নির্মমতার শিকার- কেউ অর্ধমৃত, কেউ গুলিবিদ্ধ, কেউ বা আবার ক্ষত-বিক্ষত হাত-পা নিয়ে কোনো মতে জীবন নিয়ে ঢলের মতো প্রতিদিন বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। রোহিঙ্গাকে আখ্যায়িত করা হচ্ছে বাঙালি সন্ত্রাসী হিসেবে। নাফ নদীতে ভাসছে সারি সারি রোহিঙ্গা লাশ। নিজ ভূমি থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জাতিগতভাবে নির্মূলের লক্ষ্যে চালানো অব্যাহত নৃশংসতায় গর্ভবতী মা-বোন, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, বৃদ্ধ- এমনকি দুগ্ধপোষ্য শিশুকে রেহাই দেওয়া হচ্ছে না। রোহিঙ্গারা যাতে নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে না পারে তার জন্য তাদের প্রতিটি বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। দীপু মনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার মানবিক কারণে দুর্দশাগ্রস্ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আশ্রয় দিয়েছে। তাদের খাদ্য ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবেই রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের অধিবাসী। তারা ৫০০ বছরের অধিক সময় ধরে আরাকান রাজ্যে বসবাস করছে। চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতাব্দীতে আরাকান ছিল স্বাধীন মুসলিম রাজ্য। এই সময়েই আরাকান সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়। ১৪০৪ সাল থেকে ১৬১২ সাল পর্যন্ত ১৬ জন মুসলিম সম্রাট আরাকান শাসন করেছেন। রাজা বোধাপোয়া ১৭৮৪ সালে আরাকান দখল করে তৎকালীন বার্মার সঙ্গে যুক্ত করেন। ১৯৪৮ সালে ইউনিয়ন অব বার্মা ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের সময়েও আরাকান বার্মার অংশ থেকে যায়। দীপু মনি তার বক্তব্যে বলেন, কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন নিঃশর্তভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্ব দিতে হবে। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে সে জন্য আহ্বান জানায়। তিনি বলেন, 'এক আইলানের লাশ বিশ্ববিবেককে নাড়া দিয়েছিল। আজ কত আইলানের ক্ষত-বিক্ষত লাশ নাফ নদীর পানিতে ভাসছে। আমরা চাই বিশ্ববিবেক এগিয়ে আসুক। তাদের পাশে দাঁড়াক।' রওশন এরশাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। আশা করি এসব পদক্ষেপের পথ বেয়ে এই সমস্যার সমাধান বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তা মঙ্গল বয়ে আনবে না। তাদের ফিরে যেতে হবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের প্রতিবেদন যথাযথ বাস্তবায়ন করারও দাবি জানান রওশন এরশাদ। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া নেত্রী অং সান সু চি কীভাবে এত অশান্তি সৃষ্টি করতে পারেন। তিনি এ বিষয়ে ভারত ও চীনের পক্ষ থেকে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জায়গা দেওয়া হয়েছে মানুষ হিসেবে, রোহিঙ্গা বা মুসলমান হিসেবে নয়। এই রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান দরকার। এজন্য সময়ও প্রয়োজন। আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। সাইমুম সরওয়ার কমল মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পুরস্কৃত করা দরকার। গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিচার হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী বলেন, রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির নেতা আতাউল্লাহর জন্ম পাকিস্তানে। সে এসে এখানে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠী আরাকান থেকে আসাদের দলে ভেড়াচ্ছে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা তুরস্কেও পাঠানো যেতে পারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের। নোবেল পুরস্কার আগামীতে শান্তিতে দিতে হলে শেখ হাসিনা পেতে পারেন। মইনউদ্দীন খান বাদল বলেন, রোহিঙ্গারা মুসলমান বলে বাংলাদেশ তাদের জায়গা দেয়নি। তারা মানুষ বলে জায়গা দেওয়া হয়েছে। এখানে যেন কোনো ভুল না হয়। সু চিসহ বার্মা মিথ্যাচার করছে মন্তব্য করে বাদল বলেন, 'এটা সারা বিশ্বের কাছে জানানো হোক, ওরা আমাদের জাতিগোষ্ঠী নয়।' তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে 'সেফজোন' তৈরি করার দাবি জানান। রোহিঙ্গাদের ঢালাওভাবে সন্ত্রাসী না বলার দাবি জানিয়ে মইনউদ্দীন খান বাদল প্রশ্ন রাখেন, চোখের সামনে মা-বোনকে বলাৎকার করা হলে, হত্যা করা হলে অস্ত্র তুলে নেওয়ার অধিকার কি নেই? বাদল বলেন, 'আমরা চাই আপনারা বাংলাদেশকে বিপদমুক্ত রাখুন। সংঘাত এড়িয়ে চলতে চাই। সঙ্গে সঙ্গে জানান দিতে চাই গাঙে ভাইসা আসি নাই আমরা।' রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ইতিহাস তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, রোহিঙ্গাদের বাঙালি বলার কোনো সুযোগ নেই। বিভিন্ন সময়ে ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। তাদের ফার্টিলিটি বাংলাদেশের দ্বিগুণ। তিনি আনান কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন ও সেফজোন করার দাবি জানান। শিরীন আখতার বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে মানবিক, কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ এগোচ্ছে। বিএনপি বলছে, সরকার ব্যর্থ। আমি বলতে চাই, কোথায় সরকার ব্যর্থ? বিএনপি অপরাজনীতি করতে চাইছে। রোহিঙ্গারা তাদের ভূমিতেই ফিরে যাবে।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে শুরু হওয়া সহিংসতার কারণে গত ১৫ দিনে সে দেশ থেকে তিন লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। জাতিসংঘ শনিবার একথা বলেছে। এ পরিসংখ্যান লাফিয়ে দিনে প্রায় ২০ হাজার করে বাড়ছে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার একজন মুখপাত্র জোসেফ ত্রিপুরা বলেন, ‘গত ২৫ আগস্ট থেকে প্রায় দুই লাখ ৯০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।’ জাতিসংঘ কর্মকর্তারা জানান, আগে হিসেবে ধরা হয়নি এমন কয়েকটি গ্রাম ও এলাকাতেও অনেক রোহিঙ্গা রয়েছে।’ অধিকাংশ রোহিঙ্গা মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের ২৭৮ কিলোমিটার (যার এক চতুর্থাংশ জুড়ে রয়েছে নাফ নদী) বিস্তৃত সীমান্ত দিয়ে পায়ে হেঁটে বা নৌকায় করে আসছে। জাতিসংঘ জানায়, বুধবার রোহিঙ্গা আগমন সংখ্যা হুট করে খুব বেড়ে যায়। এ দিন ৩০০ বেশি নৌকা বাংলাদেশে এসেছে। বাসস