08242017বৃহঃ
স্পটলাইট

স্পটলাইট (760)

সোমবার, 14 আগস্ট 2017 23:53

এক যে ছিল খোকা

লিখেছেন
নূহ-উল-আলম লেনিন জন্ম তার মধুমতী নদীর তীরে। মধুমতী দুরন্ত পদ্মার শাখা নদী। সে কারণে মধুমতীর স্রোতেও ছিল এক ধরনের দুরন্তপনা। আর সেই দুরন্ত নদীর তীরে যার জন্ম, সে কি দুরন্ত না হয়ে পারে? ঘরের পাশের এক চিলতে ধারা স্রোত। ওমা, ওটিও নাকি নদী! নাম বাইগার নদী। ওই নদীর হাঁটুজলে খুব বেশি লুটোপুটি চলে না। পানি ঘোলা হয়ে যায়। দামাল ছেলেরা ছুটে যায় সামান্য দূরের মধুমতীতে। ধান-কাউনের ক্ষেত পেরিয়ে, মাঠের মাঝে একা দাঁড়িয়ে থাকা তালগাছটিকে পাহারাদার হিসেবে রেখে 'খোকা বাহিনী' আদুর গায়ে যায় মধুমতীর কাছে। নদীতে এক ঝটকা হাবুডুবু খেয়ে সদ্য ধান কাটা মাঠে শুরু হয় বল খেলা। কোন পক্ষে কতজন সে হিসাব কে করে! কিছুক্ষণ খর রোদ্দুরে বলের পেছনে ছুটে আবার মধুমতীর প্রশান্ত জলে সাঁতার কাটা। অতঃপর ধু-ধু প্রান্তরে ছাতা মাথায় মাস্টার মশায়কে আসতে দেখে, মুহূর্তে 'খোকা বাহিনী' হাওয়া। খুব জানতে ইচ্ছা করছে? কে এই খোকা? অন্যদের চেয়ে একটু বেশি লম্বা, চ্যাঙ্গা, শ্যামবর্ণের যে ছেলেটি, তার নাম খোকা। খোকা যেমন দুরন্ত, চটপটে, তেমনি বুদ্ধিমান। গ্রামের শিশু-কিশোররা তাকে তাদের সরদার বলেই মানে। হঠাৎ একসময় খোকার চোখে কী যেন একটা রোগ দেখা দিল। খোকার চোখ ফুলে ঢোল। ভালো করে তাকাতে পারে না। দেখতেও পারে না। বাবা দেখলেন, গ্রামে থাকলে তার চোখের নিয়মিত চিকিৎসা হবে না। নিয়ে গেলেন নিজের কর্মস্থল মাদারীপুর শহরে। ডাক্তার দেখে বলল, খোকার চোখে 'বেরিবেরি' রোগ হয়েছে। চোখ ভালো করতে হলে আপাতত পড়াশোনা বন্ধ। চোখ ভালো হলে আবার পড়াশোনা করা যাবে। খোকার স্কুলে যাওয়া বন্ধ। ওর মন খুবই খারাপ। বন্ধুরা স্কুলে যায়। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, দুরন্তপনা, ঘুরে বেড়ানো, পাখির বাসা থেকে ডিম নিয়ে আসা অথবা আহত পাখির ছানাটির সেবা-শুশ্রূষা করা, কোনোটিই আগের মতো করা যাবে না। খোকার খুব মন খারাপ। পাশের বাসার বন্ধু, ধরা যাক তার নাম জ্যোতি। সে প্রতিদিন বাসায় এসে বন্ধুকে সাহচর্য দেয়। স্কুলের গল্প করে। বাবা একজন গৃহশিক্ষক রেখে দিয়েছেন। তিনি ছাত্রকে বই পড়ে শোনান। মুখে মুখে অঙ্ক করেন। কিন্তু এরই ফাঁকে ফাঁকে মাস্টার মশাই ব্রিটিশদের তাড়াবার কথা বলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামী বিপ্লবীদের বীরত্বের নানা কাহিনী শোনান। খোকা গভীর আগ্রহে ক্ষুদিরামের কথা, বাঘা যতীনের কথা শোনে। ইংরেজ পুলিশ কর্মকর্তা টেগার্ট হত্যার দুঃসাহসী অভিযানের কথা শুনে রোমাঞ্চিত হয়। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে, ইংরেজদের এ দেশ থেকে তাড়াতে হবে। স্বাধীনতা আনতে হবে। হঠাৎ একদিন দেখে, মাস্টার মশাই আর আসে না। বাবা বললেন, মাস্টার মশাইকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। মাস্টার মশাই নাকি বিপ্লবী। দেখতে দেখতে দু'বছর পেরিয়ে যায়। চোখ অনেকটাই সেরে উঠেছে। তবে মোটা লেঞ্চের চশমা পরতে হচ্ছে। গ্রামে এসে প্রথমে গিমাডাঙ্গা স্কুলে ভর্তি হয়। কিন্তু ওই স্কুলে খোকার ভালো লাগে না। একটু ওপর ক্লাসে ওঠার পর গোপালগঞ্জের মিশনারি স্কুলে। ক্লাসের সতীর্থদের চেয়ে খোকা একটু বড়। চোখের অসুখের জন্য দুটি বছর নষ্ট হয়েছে। তাই একটুবা পিছিয়ে পড়া। এই মিশনারি স্কুলে পড়ার সময়ই তাদের শহরে এসেছিলেন বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা একে ফজলুল হক আর মন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তারা মিশনারি স্কুল পরিদর্শনে যান। স্কুলে তখন স্থান সংকুলানের সমস্যা। ভালো মাঠের সমস্যা। খেলাধুলার সমস্যা। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষের সাহস নেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ সমস্যা তুলে ধরার। খোকা ঠিক করল, সহপাঠীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ফজলুল হকের কাছে সে স্কুলের সমস্যা তুলে ধরবে। 'ভয় পাস না। তোরা শুধু আমার সাথে সাথে থাকবি।' সহপাঠীরা রাজি। পরিদর্শন শেষে স্কুল থেকে বের হওয়ার সময় পথ আগলে দাঁড়ায় খোকা বাহিনী। মাস্টার মশাইরা তো প্রমাদ গুনে। আর রক্ষা নেই। ভয়ঙ্কর একটা কিছু হবে হয়তো। পুলিশরা বাধা দিতে চাইলে শেরেবাংলা হাতের ইশারায় ওদের নিরস্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী এগিয়ে গিয়ে বলেন, 'কী চাও বাবারা?' সবাই চুপ! খোকা বুক চিতিয়ে দাঁড়ায়। দৃঢ় কিন্তু বিনয় নম্রস্বরে সে স্কুলের সমস্যার কথা তুলে ধরে। মুগ্ধ বিস্ময়ে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী তার কথা শোনেন। প্রধানমন্ত্রী স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয় নেতাদের ভর্ৎসনা করে বলেন, 'কৈ আপনারা তো কিছু বললেন না।' তিনি খোকাকে আশ্বস্ত করে ঘোষণা করেন, তার সব দাবি মেনে নেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসনকে বললেন অবিলম্বে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে। খুশি মনে খোকা বাহিনী অতিথিদের জিন্দাবাদ দিয়ে বিদায় জানাতে যায়। পুরো সময়টায় খোকার কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেন মন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। খোকার সাহস, প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব এবং চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখে মুগ্ধ হন। বিদায়ের আগে খোকাকে নিজের কাছে ডেকে নেন। বলেন, 'কলকাতা গেলে আমার সাথে দেখা করবে। স্কুল শেষ করে তো কলকাতায় পড়তে যাবে। এই আমার ঠিকানা। আমার সাথে দেখা করবে।' তার পরের ইতিহাস দীর্ঘ। আজ আর সব কথা নয়। শুধু একটাই সংবাদ। খোকা ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে কলকাতার বিখ্যাত ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। কলকাতা গিয়ে সত্যি সত্যি সোহরাওয়ার্দী সাহেবের সাথে দেখা করেন। শহীদ সাহেব তখন মুসলিম লীগের বড় নেতা। খোকা তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। শহীদ সাহেবের হাত ধরেই খোকা ইসলামিয়া কলেজের ছাত্রদের নেতা নির্বাচিত হন। পরবর্তী জীবনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যতদিন জীবিত ছিলেন, খোকা তার প্রিয় শিষ্য হিসেবেই নিজেকে মনে করতেন। কে ছিল খোকা? খুব জানতে ইচ্ছা করছে না? খোকার আসল নাম শেখ মুজিবুর রহমান। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে খোকার জন্ম। তার বাবার নাম শেখ লুৎফর রহমান এবং মায়ের নাম সায়েরা খাতুন। তিনি আমাদের জাতির পিতা এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। দেশবাসী তাকে আদর করে বলে 'বঙ্গবন্ধু'। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গ্রামের সাধারণ নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নিয়ে সমগ্র জীবন লড়াই-সংগ্রাম ও জেল-জুলুম-অত্যাচার সহ্য করে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আসলে তো তিনি কোনো রাজপুত্র ছিলেন না। গাঁও-গেরামের কৃষক-মজুর-জেলে-তাঁতি-শ্রমজীবী মানুষের প্রিয় নেতা ছিলেন বলে লোকে তাকে ইতিহাসের 'রাখাল রাজা' বলে অভিহিত করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা-বিরোধী ঘাতক চক্র বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। সেই থেকে ১৫ আগস্টকে আমরা জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করছি। রাজনৈতিক নেতা
বাসস : দেশ বরেণ্য ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকরা খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ‘বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী’ ব্যক্তি হিসেবে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের অবদানের কথা স্মরণ করেন। শেখ কামালের ৬৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তারা বলে, স্বাধীনতার পর তিনি (শেখ কামাল) দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও সংস্কৃতিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তিনি বেঁচে থাকলে এ সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক বেশি উপকৃত হতো বলেও জানান তারা। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সঙ্গে আলাপকালে শেখ কামালের স্কুল জীবনের বন্ধু ও বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব শাহেদ রেজা বলেন, ‘এটা ছিল অত্যন্ত দু:খের বিষয় যে তার জীবনের সেরা সময়েই আমরা তাকে হারিয়েছি। তিনি ছিলেন একজন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। তার আধুনিক চিন্তা-ভাবনায় বাংলাদেশ অনেক উপকৃত হতে পারত। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এক দল কাপুরুষের হাতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তিনি নির্মমভাবে নিহত হন। একাধারে ঢাকা ক্লাবের সভাপতি রেজা বলেন, কামাল অত্যন্ত আবেগ দিয়ে খেলাধুলা উপভোগ করতেন এবং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সাহায্যার্থে এগিয়ে আসতেন। এক সময় কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা এ ক্রীড়া সংগঠক বলেন, ‘অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে আমি আমার বন্ধুকে স্মরণ এবং তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।’ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বিএফএফ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে শেখ কামালকে একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘একটি বনেদি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে শেখ কামাল রাজনীতিতেও জড়িত ছিলেন। তবে ক্রীড়াঙ্গনে যুক্ত হয়ে দেশের যুব সমাজের সামনে তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।’ হারুন বলেন, বহু মাত্রিক প্রতিভার অধিকারী শেখ কামাল আবাহনী ক্রীড়া চক্র (বর্তমানে আবাহনী লিমিটেড) ও স্পন্দন শিল্প গোষ্ঠির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। সাবেক এ সংসদ সদস্য আরো বলেন, ‘তিনি ক্রীড়া, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সম-প্রতিভার অধিকারী ছিলেন এবং খেলাধুলার মাধ্যমে দেশের যুব সমাজকে সু-নাগরিক হতে আকৃষ্ট করেছিলেন। জীবন্ত ফুটবল কিংবদন্তী ও বাফুফে সভাপতি কাজি সালাউদ্দিন বলেন সব কিছু মিলিয়ে শেখ কামাল ছিলেন একজন সর্বোত্তম মানুষ। তিনি বলেন, ‘দু:খের বিষয় তার সোনালী ক্যারিয়ার পরিস্ফুটিত হওয়ার আগেই ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে হত্যা করা হয়। বেঁচে থাকলে শেখ কামাল আজ দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হতেন।’ শেখ কামালের ৬৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও কোচ হাসানুজ্জামান বাবলু ফেসবুকে শেখ কামালের সঙ্গে নিজের একটি ছবি পোস্ট করেছেন। যা কামালের হত্যার এক মাস আগে তোলা হয়েছিল। বাসস’র সঙ্গে আলাপকালে আজ বাবলু বলেন, ‘যথার্থ সম্মানের সঙ্গে আমি কামাল ভাইকে স্মরণ করতে চাই যিনি ছিলেন সত্যিকারের একজন ক্রীড়ানুরাগী, এই ছবিটি তার মৃত্যুর এক মাস আগে তোলা।’ বাবলু জানান, মালয়েশিয়ায় মারদেকা কাপ ফুটবলে অংশগ্রহণের জন্য অনুশীলনে থাকা জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্পে প্রতিদিন আসতেন তিনি (শেখ কামাল)। তিনি বলেন, ‘তার দৃষ্টি ভঙ্গি ফুটবলের ধারণাকেই পরিবর্তন করে আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তন শুরু করে। আমি ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের একজন বিশিষ্ঠ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও পরবর্তী মৌসুমে তিনি আমাকে আবাহনীতে যোগ দিতে বলেছিলেন এবং আমি প্রতিশ্রতি দিয়েছিলাম। কিন্তু এক দল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তাদের হাতে নিহত হওয়ায় তার বর্ণাঢ্য জীবনের ইতি ঘটে।’ যুক্তরাষ্ট্রের লস এ্যাঞ্জেলস ক্লাবের চেয়ারম্যান এম জামান টেলিফোনে বাসস’কে বলেন, ‘এই মহান ব্যাক্তিটিকে আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। যেহেতু জীবনের শুরু থেকেই আমি ব্রাদার্স ইউনিয়নের সঙ্গে জড়িত ছিলাম তাই ক্রীড়াঙ্গনে কামাল ভাইয়ের সান্নিধ্য পাওয়ার অনেক সুযোগ আমি পেয়েছি।’ জামান বলেন, মহান নেতা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলে হওয়া সত্ত্বেও শেখ কামালের অতি সাধারণ চলাফেরা দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন। ‘কামাল ভাইয়ের মধ্যে কোন প্রকার অহমিকা ছিল না এবং সব সময় খোলা মনে মিশতেন বলে স্মরণ করেন জামান। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামাল ১৯৪৯ সালের ৫ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার হাতে গড়া ক্লাব আবাহনী লিমিটেড এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন শেখ কামালের ৪৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসুচি গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে রয়েছেÑ দিবসটি উপলক্ষে সকালে আবাহনী ক্লাবে প্রতিষ্ঠিত তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও কোরআন খানি এবং বিকেলে কাঙ্গালি ভোজ ও ক্লাব প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা। বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবল প্রবর্তনের জন্য চিরদিন বেঁচে থাকবেন শেখ কামাল। এ ছাড়া তিনি আজাদ বয়েজের হয়ে প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেট এবং স্পার্সের হয়ে প্রথম শ্রেনীর বাস্কেটবলও খেলতেন। একজন ক্রীড়া সংগঠক ছাড়া কামাল বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কামাল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানির এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ ছাত্র লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও ছিলেন তিনি।
বুধবার, 02 আগস্ট 2017 23:37

শোকাবহ আগস্টের দ্বিতীয় দিন আজ

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক শোকাবহ আগস্টের দ্বিতীয় দিন আজ। ১৯৭৫ সালের এ মাসেই বাঙালি জাতি হারিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এই মাসেই ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড ছুঁড়ে হত্যার অপচেষ্টা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু কন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে গেলেও এই ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী, আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং ৫ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট কালরাতে ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এই ঘৃণ্যতম হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনি, তার সহধর্মিনী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন। সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপদগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নোবেল জয়ী পশ্চিম জার্মানীর নেতা উইলি ব্রানডিট বলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যেকোন জঘন্য কাজ করতে পারে। বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ শ্রী চৌধুরী বাঙালিদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে। টাইমস অব লন্ডন এর ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় বলা হয় ‘সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সবসময় স্মরণ করা হবে। কারণ তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই।’ একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকান্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।’ দেশের বিশিষ্টজনেরা মনে করেন, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচারের রায় কার্যকর করে জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। একইভাবে বাঙালির আত্মঘাতী চরিত্রের অপবাদেরও অবসান ঘটেছে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেশের মানুষ এখন অনুধাবন করতে পারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নস্যাৎ করে দেশে পাকিস্তানি ভাবধারা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই স্বাধীনতার বিরোধীতাকারী এবং দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। প্রতিবারের মত এবারও ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে প্রথম দিন থেকেই শুরু হচ্ছে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর মাসব্যাপী কর্মসূচি। শোকের মাসের প্রথম দিন মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথম প্রহরে আলোর মিছিলের মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী কর্মসূচির সূচনা ঘটবে। স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত এ মিছিলটি ধানমন্ডি ৩২নং সড়ক ধরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর অভিমুখে যাত্রা করবে। এদিন সকালে নগরীর ৩২ নম্বর ধানমন্ডিতে বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে । কর্মসূচির অংশ হিসাবে যুবলীগ আগামীকাল ১ আগস্ট শিল্পকলা একাডেমীতে সকাল ১০টায় মাসব্যাপী বঙ্গবন্ধুর জীবন ভিত্তিক সংবাদচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এ প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এদিকে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসসহ পুরো আগস্ট মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। এদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল সাড়ে ছয়টায় সরকারি কর্মসূচির সাথে সমন্বয় করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। এছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন এবং নগরীর প্রতিটি শাখা থেকে শোক মিছিলসহ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। সকাল সাড়ে সাতটায় রাজধানীর বনানী কবরস্থানে পনের আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। সকাল দশটায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। টুঙ্গীপাড়ার কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পক্ষ থেকে জাতীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়াও এদিন বাদজোহর দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল ও মন্দির ও গীর্জায় প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুরে অস্বচ্ছল, এতিম ও দুঃস্থদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করা হবে। বাদ আছর মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষ্যে ১৬ আগস্ট বিকেল চারটায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন এবং জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীগণ সভায় বক্তব্য রাখবেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাসব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিন আগামীকাল ১ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের বঙ্গবন্ধুর ম্যূরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে নার্সিং সেবার মানোন্নয়নসহ সকল সাধারণ ওয়ার্ডসমূহকে মডেল ওয়ার্ডে উন্নীতকরণের প্রত্যয়ে সেবিকাদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য বক্তব্য প্রদান। সকাল সাড়ে ১১টায় ‘চিকনগুনিয়া ২০১৭: ঢাকা এক্সপেরিয়েন্স’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন। বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসাবে আগামীকাল সকাল ৮টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে। আগস্ট মাসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলতুন্নেসা মুজিব, শেখ কামালের জন্মদিন পালন, ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা এবং ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা দিবস স্মরণ এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী পালন। বাসস।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রিতেবদক নানা শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর পারিবারিকভাবে অনেক দুঃসময় গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেন, ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে আমাদের পরিবারকে বিদেশে থেকে যেতে হয়। এ সময় শুধুমাত্র একটি ব্রিফকেস ভর্তি কাপড় এবং ২০০-৩০০ ডলার ছাড়া আমাদের কাছে আর কিছুই ছিল না। এমন অবস্থায় একদেশ থেকে অন্যদেশে ছুটে বেড়াতে হয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারকে। পারিবারিক ভাবে এমন সব প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে থেকেও শেষ পর্যন্ত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মত আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। কষ্টের সময়গুলো পার করে বর্তমান সজীব ওয়াজেদ জয় হয়ে ওঠা আত্মবিশ্বাসের ফসল বলে জানান তিনি। আজ ২৭ জুলাই তার জন্মদিনের ঠিক আগের দিন সিআরআই আয়োজিত 'লেটস টক উইথ সজীব ওয়াজেদ জয়' অনুষ্ঠানে তরুণদের প্রেরণা যোগাতে তিনি এ সকল কথা বলেন। ১৯৭৫ সালের পরবর্তীতে সজীব ওয়াজেদ জয় তার বাবা ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া এবং মা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিদেশে থেকে যেতে বাধ্য হন।এ সময় তার বোর সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও ছিলেন তাদের সঙ্গে। মাত্র ২'শ থেকে ৩'শ ডলার হাতে নিয়ে সে সময় তার পরিবার জার্মান থেকে লন্ডন হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন সেখানেই নিজের কিশোর বয়স পার করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। পরবর্তীতে স্নাতক পর্ব শেষ করেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় 'দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে। তার বিষয় ছিল কম্পিউটার বিজ্ঞান। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে লোক প্রশাসন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পর্ব শেষ করার পর তিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা। এরই মধ্যে বিশ্বের বুকে তিনি বাংলাদেশকে আরো পরিচিত করে তুলেছেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরষ্কারের মাধ্যমে। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সজীব ওয়াজেদ জয় প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অর্জন করেন 'ইয়াং গ্লোবাল লিডার' অ্যাওয়ার্ড। আইসিটি খাতে বিশেষ দক্ষতার জন্য ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরাম তাকে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে। প্রতি বছর বিশ্বে ২৫০ জন তরুণ নেতৃত্বকে এই অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। যা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। এ ছাড়াও ২০১৬ সালে তিনি অর্জন করেন 'আইসিটি ফর ডেভলোপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড'। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশে আইসিটি খাতের উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়নের নিমিত্তে আইসিটি খাতের সর্বোচ্চ ব্যবহারের স্বীকৃতি স্বরূপ ত্রিদেশীয় সংস্থা 'প্লান ট্রিফিনি' আন্তর্জাতিক এনজিও 'গ্লোবাল ফ্যাশন ফর ডেভলোপমেন্ট' এবং নিউ হাভানা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুলের সঙ্গে একত্রে এই অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের ১ বছর পূর্তিতে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব গভর্নেন্স অ্যান্ড কম্পিটিটিভনেস।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইন থেকে ৫৭ ধারা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং নতুন কোনো আইনে এই ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। পরিষদ বলেছে, এই ধারা সংবিধান পরিপন্থী এবং সংবিধানে রক্ষিত স্বাধীন মতপ্রকাশ ও সাংবাদিকতার প্রতি হুমকি। গতকাল বৃহস্পতিবার দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে সম্পাদক পরিষদের এক সাধারণ সভায় গৃহীত প্রস্তাবে এই দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রস্তাবিত খসড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহ্‌ফুজ আনামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পরিষদের এই প্রস্তাবের কথা জানানো হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়ার ১৯ ধারায় বিদ্যমান তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার সব বিষয় বিদ্যমান থাকায় আমরা উদ্বিগ্ন। এই ১৯ ধারাতেও তথাকথিত মানহানি, সামাজিকভাবে অপদস্থ করার চেষ্টা বিশেষভাবে রাখা হয়েছে। যদিও আইনমন্ত্রী কিছুদিন আগে বলেছিলেন যে ৫৭ ধারাটি থাকছে না, কিন্তু প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ১৯ ধারায় আরও শক্তভাবে তা রাখা হচ্ছে। আমরা এটা ভেবেও উদ্বিগ্ন যে প্রস্তাবিত খসড়ার ১৫(৫) ধারা চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আরেকটি বড় বাধা হবে। কারণ এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে কোনো বক্তব্য সরকারি ভাষ্যের বিপরীত হলে তা “ডিজিটাল সন্ত্রাসী অপরাধ” হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক বিধান পর্যালোচনা ও সংশোধন করে দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনার সুযোগ করে দিতে আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। ‘সম্পাদক পরিষদ অনলাইন গণমাধ্যমবিষয়ক নীতিমালার খসড়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এতেও ৫৭ ধারাসহ তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিধানগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই খসড়া নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। কারণ, এতেও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কথিত মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। সম্পাদক পরিষদ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অন্তরায় হয় এমন সব বিধিবিধান বাদ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কথিত মানহানির অভিযোগকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে নেওয়ার বিধানও বাদ দেওয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছে। সম্পাদক পরিষদ এ ধরনের বিষয়ের প্রতিবিধানের জন্য সবার আগে প্রেস কাউন্সিলে যাওয়া বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানাচ্ছে। দেওয়ানি অভিযোগের ক্ষেত্রেও ক্ষতিপূরণ দাবির ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত।’ সম্পাদক পরিষদের প্রস্তাবে বলা হয়, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, সরকারের কোনো নীতিমালা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম, তাদের সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল মিডিয়া তথা ওয়েবসাইট, অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমে কোনো রকম হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমগুলোর প্রতি আমাদের আহ্বান, তারা যেন গণমাধ্যমের প্রচলিত নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে। ‘সম্পাদক পরিষদ সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত সব হামলার দ্ব্যর্থহীন নিন্দা করে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা ও ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা সম্পাদক ও সাংবাদিকদের হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য সারা দেশে যত মিথ্যা মামলা করেছেন, তা প্রত্যাহারের দাবি করছে সম্পাদক পরিষদ। একই সঙ্গে সম্পাদক ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় যত মামলা আছে, তা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি করছে। ‘সবশেষে আমরা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাই, আইসিটি আইন থেকে ৫৭ ধারা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করুন এবং কোনো নতুন আইনে এই ধারাগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কেননা, এই আইনের ধারাগুলো সংবিধান পরিপন্থী এবং সংবিধানে রক্ষিত স্বাধীন মতপ্রকাশ ও সাংবাদিকতার প্রতি হুমকি।’ সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক সমকাল-এর সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন মাহ্ফুজ আনাম, তাসমিমা হোসেন, রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, এ এইচ এম মোয়াজ্জেম হোসেন, মতিউর রহমান চৌধুরী, শ্যামল দত্ত, ইমদাদুল হক মিলন, নঈম নিজাম, খন্দকার মনিরুজ্জামান, সাইফুল আলম, দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, মতিউর রহমান প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি
বৃহস্পতিবার, 20 জুলাই 2017 06:59

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ঘুরে দেখলেন জয়

লিখেছেন
< > গাজীপুর সংবাদদাতা পরিবার নিয়ে গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তাঁর তথ্য ও যোগাযাগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। গতকাল বুধবার দুপুরে স্ত্রী ক্রিস্টিন ওভায়ার ওয়াজেদ ও একমাত্র মেয়ে সোফিয়া রেহানা ওয়াজেদকে সঙ্গে নিয়ে পার্কটি ঘুরে দেখেন তিনি। পরে স্থানীয় একটি রিসোর্টে দুপুরের খাবার খান। সেখান থেকে বিকেলে ঢাকায় ফেরেন। সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটা ছিল সজীব ওয়াজেদ জয়ের ব্যক্তিগত সফর। দুপুর ১২টা ১৬ মিনিট থেকে ১টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত তাঁরা পার্কটি ঘুরে দেখেন। পার্কের কোর সাফারি ও সাফারি কিংডমে অবমুক্ত এবং বেষ্টনীতে রাখা বন্য প্রাণী দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন জয়। পার্কটিকে সম্প্রসারণ এবং আরো সমৃদ্ধ করার পরামর্শও দেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র জয় স্ত্রী-কন্যাসহ পার্ক পরিদর্শনকালে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দেয়। তবে কঠোর নিরাপত্তার কারণে জয়ের সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। দলের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় লোকজন পার্কের বাইরে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থেকে তাঁদের স্বাগত জানায়। পার্কের কর্মকর্তারা জানান, পার্কে ঢুকে জয় পরিবার প্রথমে পার্কের তথ্য ও শিক্ষাকেন্দ্রসহ বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের দর্শনীয় কিছু স্থাপনা ঘুরে দেখে। এরপর পার্কের খয়েরি রঙের নিজস্ব গাড়িতে কোর সাফারির অবমুক্ত ও বেষ্টনীতে রাখা বন্য প্রাণী পরিদর্শন করেন তাঁরা। তাঁরা সাফারি কিংডমে ম্যাকাউ ল্যান্ড ও প্যারট অ্যাভিয়ারিও পরিদর্শন করেন। এ সময় ম্যাকাউ পাখির সঙ্গে ছবি তোলেন তাঁরা। ম্যাকাউ ল্যান্ডের জুনিয়র ওয়াইল্ড লাইফ স্কাউট সমীর সুর চৌধুরী বলেন, প্রায় ১০ মিনিট ম্যাকাউ ল্যান্ডে পাখি দেখেন তাঁরা। ছবিও তোলেন। পার্কের প্রকল্প পরিচালক উপপ্রধান বন সংরক্ষক শামসুল আজম বলেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয়ের এটা ছিল ব্যক্তিগত সফর। আগে থেকে কোনো চিঠি দিয়ে আমাদের জানানো হয়নি। গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আমরা জেনেছিলাম। পরিদর্শনের পর সন্তোষ প্রকাশ করে পার্কটি সম্প্রসারণ ও আরো সমৃদ্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। ’ এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপপ্রধান বন সংরক্ষক তপন কুমার দে, সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) ও পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাহাব উদ্দিন। সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে সজীব ওয়াজেদ জয় পরিবার নিয়ে পাশে ভাংনাহাটি গ্রিনভিউ রিসোর্টে যান। সেখানে দুপুরের খাবার খান তাঁরা। পরে কিছু সময় বিশ্রাম নেন। সেখানে অবস্থানকালে তাঁদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রহমত আলীর মেয়ে অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসি ও শ্রীপুর উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর আলম (সিরাজী)। বিকেল সাড়ে ৪টায় সেখান থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয় জয় পরিবার। ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ইন্দ্রবপুর এলাকায় তৈরি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিন হাজার ৬৯০ একর জমির ওপর ২৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পার্কটি এশিয়ার সবচেয়ে বড় সাফারি পার্ক। < >
বৃহস্পতিবার, 06 জুলাই 2017 09:55

২০৪৮ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক দেশের শীর্ষস্থানীয় চার মোবাইল ফোন কোম্পানির বিরুদ্ধে সিম পরিবর্তনের নামে নতুন সিম বিক্রির মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এনবিআরের আপিলাত ট্রাইব্যুনাল দাবীকৃত দুই হাজার ৪৮ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে রায় দিয়েছে। কোম্পানি চারটি হলো গ্রামীণ ফোন, রবি, বাংলালিংক ও এয়ারটেল (সাবেক ওয়ারিদ)। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখন তিন মাসের মধ্যে তাদেরকে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। অবশ্য এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ তাদের রয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত কোম্পানিগুলো মোবাইল ফোনের সিম পরিবর্তন সংক্রান্ত যে তথ্য দেয় তাতে সন্দেহ হয় এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ-ভ্যাট)। এরপর নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এনবিআর আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে হিসাব করে। কোম্পানিগুলোর কাছে ওই অর্থ পরিশোধের জন্য দাবিনামা জারি করে। কিন্তু মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো এটি চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করে। আদালত বিশদ পরীক্ষার জন্য তা ফের এনবিআরে পাঠায়। এরপর কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক শেষে দুই হাজার ৪৮ কোটি টাকা ফাঁকির বিষয়টি ঠিক করা হয়। কিন্তু কোম্পানিগুলো তা না মেনে দাবীকৃত ভ্যাটের ১০ শতাংশ জমা দিয়ে এনবিআরের আওতাধীন আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আপিল করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে আপিলাত ট্রাইব্যুনাল গত ২৩ জুন এ রায় দেয়। এলটিইউ ভ্যাটের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায় ইতোমধ্যে কোম্পানিগুলোর কাছে চলে গেছে। আমরা আশা করছি, এ অর্থ তারা বেশিদিন ধরে রাখতে পারবে না। এনবিআরের দাবি অনুযায়ী, গ্রামীণ ফোনের ফাঁকিই সবচেয়ে বেশি। কোম্পানিটির কাছে দাবীকৃত অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ২৩ কোটি টাকা। এছাড়া বাংলালিংকের কাছে ৫৩২ কোটি টাকা, রবি’র কাছে ৪১৪ কোটি ও এয়ারটেলের কাছে ৭৯ কোটি টাকা পাওয়া যাবে। আর সময়মতো অর্থ পরিশোধ না করায় এর সঙ্গে সুদের অর্থ যুক্ত হলে তা আড়াই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। নতুন গ্রাহকের কাছে মোবাইল ফোনের সংযোগ বা সিম বিক্রি করার জন্য সরকারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে হয়। কিন্তু সিম পরিবর্তনের জন্য ভ্যাট-ট্যাক্স প্রযোজ্য ছিল না (গত দুই বছর ধরে কর আরোপ করা হয়েছে)। ফোন হারিয়ে গেলে, চুরি হলে, বা সিম নষ্ট হওয়ার কারণে নম্বর অপরিবর্তিত রেখে সিম পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। এনবিআরের অভিযোগ, নতুন সিম বিক্রিকে পরিবর্তন হিসেবে দেখিয়েছে কোম্পানিগুলো। উদ্দেশ্য, ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া। সিম পরিবর্তনের স্বপক্ষে কোম্পানিগুলো প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দেখাতে পারেনি। আরো ৮৭৩ কোটি টাকার ফাঁকি উদ্ঘাটন এদিকে ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত একই কায়দায় ৮৭৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে এলটিইউ-ভ্যাট। হিসাব অনুযায়ী, গ্রামীণ ফোন ৩৭৯ কোটি টাকা, রবি ২৮৫ কোটি টাকা, বাংলালিংক ১৫৯ কোটি ও এয়ারটেল ৫০ কোটি টাকা ফাঁকি দিয়েছে। চূড়ান্ত হিসাবে এ অর্থের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শিগগিরই কোম্পানিগুলোর কাছে এসব অর্থের জন্য দাবিনামা জারি করা হবে। এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, এসব অর্থও কোম্পানিগুলোকে পরিশোধ করতে হবে। তবে তারা আইনি প্রক্রিয়ায় ফেলে অর্থ প্রদানে বিলম্বিত করার কৌশল নেয়।
বিবিসি বাংলা বাংলাদেশে বাল্য বিয়ে ঠেকাতে নানারকম উদ্যোগ নেয়া হলেও এখনও গ্রামের অনেক মেয়ের তার আগেই বিয়ে হয়ে যায় (ফাইল ছবি) বিশ্বের যেসব দেশে বাল্যবিয়ের ঘটনা সবচেয়ে বেশী ঘটে, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। তাই বলা যেতে পারে, দেশটিতে বাল্যবিয়ের ঘটনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু নিজের বিয়ে ভাঙতে হাত কেটে ফেলার কথা এর আগে শোনা যায়নি। তবে এমনই একটি ঘটনা ঘটিয়েছেন বিথী আক্তার। আর ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে। ওই গ্রামেরই একটি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বিথী আক্তার, বয়স ১৫ বছর। পড়াশোনা করতে আগ্রহী বিথীর অমতেই তার পরিবার এক বাস ড্রাইভারের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে। অল্প বয়সে বিয়ে করা ঠিক নয়, এই বিষয়টি তিনি বাবা-মাকে বুঝাতে ব্যর্থ হয়ে অনেকটা নিরুপায় হয়েই বিথী সিদ্ধান্ত নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন করার। "বয়স কম, ক্লাস নাইনে পড়ি । জোর করে বিয়ে দিতে চাইছিল ড্রাইভারের সঙ্গে"- উপজেলার সবচেয়ে বড় কর্মকর্তাকে ফোন করার কারণ ব্যাখ্যা করে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন বিথী আক্তার। কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাসারউদ্দিন জানান হঠাৎ করেই গত সপ্তাহে তার কাছে বিথী নামের ওই কিশোরীটি ফোন করে। "মেয়েটা আস্তে আস্তে বলছিল আপনি কি বাল্যবিয়ে ঠেকাতে পারবেন? আমি তখন বললাম পারবোনা কেন। মেয়েটি জানায় যে তারই বিয়ে ভাঙতে হবে। পরদিন বৃহস্পতিবারেই বিয়ে"। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ জুন মাসের ২৯ তারিখে বিথীর গ্রামে যান উপজেলার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদেরকে সহযোগিতা করতে হাজির হন এলাকার কিছু মানুষ। এরা সবাই বিথীদের বাড়িতে গিয়ে দেখেন যে সেখানে পারিবারিকভাবে বিয়ের সব প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু বিথীর বাবা বেল্লালকে যখন বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে বলা হয়, তখন তিনি এক নাটকীয় মুহুর্ত তৈরি করেন বলে জানান আবু নাসারউদ্দিন। বিয়ে নিয়ে নাটকীয়তা "আমরা যাওয়ার কিছু পর পুলিশও আসলো। তাদের অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করলাম। অনেক পরে আসলো মেয়ের বাবা বেল্লাল। মেয়েকে বয়সের আগেই বিয়ে দিচ্ছেন কেন, এটা জানতে চেয়ে মেয়েটিকে ডেকে আনতে বললে তিনি এমন এক মেয়েকে এনে বসালেন, যাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছিল বয়স একটু বেশি" - বলছিলেন মি: নাসারউদ্দিন। বিথী ওই কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি ক্লাস নাইনে পড়েন। কিন্তু যে মেয়েকে তার বাবা কর্মকর্তাদের সামনে নিয়ে এসেছিলেন, তিনি মেট্রিক পাশ করেছেন এমনটা জানার পর সন্দেহ হয় কর্মকর্তাদের। এরপর প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে জানা যায় নিজের মেয়ের পরিবর্তে অন্য আরেকজনকে বসিয়ে দিয়েছেন বিথীর বাবা। আবু নাসারউদ্দিন বলছিলেন "আমি যখন বললাম আপনি মেয়ের পরিবর্তে নিজের বোনকে বসিয়ে দিয়েছেন, এটা কি ঠিক হলো? এমন সময় ফিক করে হেসে দেন বেল্লাল। অনেক পরে বিথীকে সবার সামনে নিয়ে আসেন তার বাবা"। "এই মেয়েকে দেখলে আপনার অনেক খারাপ লাগবে যে এমন বাচ্চা মেয়েটাকে এক ড্রাইভারের সাথে বিয়ে দেয়ার চিন্তা করেছে তার পরিবার"- বলেন তিনি। ছবির কপিরাইট BBC/Getty মেয়ে ক্লাস নাইনে পড়ে, বিয়ের বয়স হয়নি, ১৮ বছরের আগে মেয়েকে বিয়ে দেয়া ঠিক নয় - এসব কথা বলে অনেক বুঝানো হয় বিথীর পরিবারকে। "মেয়ের বাবা বলেন যে বিয়ে উপলক্ষে অনেক খরচ হয়ে গেছে, গরীব মানুষ। তখন বলি যে পরে যখন মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হবে বিয়ের সব খরচ আমি দেখবো, তবু এই বিয়েটা বন্ধ করেন"-বলেন মি: নাসারউদ্দিন। তিনি জানান, বিথীর বাবার কাছ থেকে মুচলেকাও নেয়া হয়েছে যে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের দিবেন না। টেলিফোনে ছেলের বাড়িকে নিষেধ করে, পড়ালেখার সার্বিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন কর্মকর্তারা। তাহলে কেন বিথীকে নিজের হাত কাটতে হলো? বিথীকে জোর করে তার পরিবার বিয়ে দেবে না, এই আশ্বাস পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পুলিশের দল যখন বিথীদের বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর তার পরিবার আবারো তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিথী কান্নাকাটি করার পরও তার মা জোর করে তার বিয়ে দিতে চাইছিলেন। এমনকি বিথীকে মারধোরও করে তার মা - প্রতিবেশী ও উপজেলার তথ্য কর্মকর্তা এমনটাই জানিয়েছেন। যদিও বিথীর কথায়, "মা হালকা দুই-একটা থাপ্পর মারছে"। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিথীর ফোলা চোখের পাশে তিনি আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন। বিয়ে নিয়ে মা-মেয়ের বাকবিতন্ডার মধ্যে এক পর্যায়ে উঠানে থাকা বটি মেয়ের দিকে ছুঁড়ে মারে তার মা। প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে মি. নাসারউদ্দিন বলেন, ওই সময় বিথী বটিটি নিয়ে বলে যে "আমিই নিজেকে শেষ করে দিচ্ছি, বলে বাম হাতে কোপ মারে"। বিবিসির সাথে আলাপকালে একধরনের জড়তা নিয়েই বিথী বলছিলেন "মা বকাঝকা দিছে। কিছু করতে পারছিলাম না। তাই নিজের হাত নিজেই কাটছি। রাগের মাথায় কাজটা করছি"। বটি দিয়ে কোপ দেয়ার কারণে হাতের তিনটি রগ কেটেছে বিথীর। তবে হাতের ব্যান্ডেজ নিয়েই তিনি এখন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার বিথী নিজের হাত কাটলেও খবরটা তিনি পেয়েছেন রোববার, অর্থাৎ ২রা জুলাই। "বিথী স্কুলে গেছে কি-না তা জানতে শনিবার ওর স্কুলে ফোন দেই। হেডমাস্টার জানায় যে ঘরে আত্মীয়স্বজন আছে তাদের বিদায় দিলো, এজন্য সে আসেনি। এরপর রোববার ফোন দিয়ে যখন জানলাম যে আসেনি, তখন সন্দেহ জাগে মেয়েকে বিয়ে দিল কি-না"। এরপর আবার বিথীদের বাড়ি গিয়ে ও তথ্য কর্মকর্তার সাহায্যে পুরো ঘটনা জানতে পারেন তিনি। এবারে নিজের হাত কেটে বাল্যবিয়ে রুখলো বিথী। কিন্তু আবারো যদি পরিবার তাকে চাপ দেয় তাহলে সে কী করবে? "আর এমন করতে পারবে না বাবা-মা। বিয়ে দিতে চাইলে স্যারের কাছে শুনেই সেটা করবো"-বলেন বিথী। ভবিষ্যতে ডাক্তারি পড়ার ইচ্ছার কথাও জানালেন বিথী আক্তার।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডি.সি তে মঙ্গলবার ‘নারী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী’ শীর্ষক একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থটিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। গ্রন্থটির লেখক বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও শিক্ষাবিদ রিচার্ড ও’ব্রাইয়েন। তিনি বর্তমান বিশ্বের ১৮ জন নারী জাতীয় নেতার তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষভাবে উপস্থাপন করেছেন। বইয়ের প্রচ্ছদে বিশ্বের আরও ছয়জন শীর্ষ নেতৃবৃন্দর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিও স্থান করে নিয়েছে। লেখক গ্রন্থটিতে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একনিষ্ঠতা ও কঠোর পরিশ্রম, তাঁর জীবননাশের চেষ্টা এবং বাংলাদেশের ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক অর্জন লিপিবদ্ধে ৩ পৃষ্ঠা উৎসর্গ করেন। এ প্রসঙ্গে লেখক শেখ হাসিনার এই উক্তি উদ্ধৃত করেন যে, ‘বাংলাদেশকে যখন দারিদ্রমুক্ত, ক্ষুধা মুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হব তখন হয়ত আমি বলতে পারব যে আমি এখন গর্বিত।’ ওয়াশিংটন ডি. সি.র ওমেন্স ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ক্লাবে বইটির মোড়ক উন্মোচিত হয় । এসময় বিদেশি কূটনীতিক, নারী নেতৃবৃন্দসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ‘অধিকতরও স্থিতিশীল, অধিকতরও গণতান্ত্রিক ও কম সহিংসতাপূর্ণ’ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন গ্রন্থাকার রিচার্ড ও’ব্রাইয়েন। বইয়ে প্রধানমন্ত্রীর পারিবারিক পটভূমির কথা উল্লেখ করে বলা হয়, তাঁর পিতা শেখ মুজিবুর রহমান আধুনিক বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জনক ও দেশটির প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তারা পরিবারের অন্যান্যরা নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেও শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহেনা ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন। রিচার্ড বলেন, শেখ হাসিনা নির্বাচনী জালিয়াতি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে শক্ত হাতে রুখে দাঁড়াতে ১৯৮১ সালে নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে এসেছিলেন। সেসময় তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এজন্য ৮০’র দশকে তাকে অনেক নির্যাতন, জুলুম সহ্য করা সহ গৃহবন্দী হয়ে থাকতে হয়েছিল। লেখক আরও বলেন, তখনকার শাসনব্যবস্থায় নিপীড়িত হওয়া সত্ত্বেও শেখ হাসিনা এত শক্তিশালী ছিলেন যে তাঁর দৃঢ়তায় ১৯৯০ সালে একটি অভ্যুত্থানে তখনকার শাসককে (জেনারেল এরশাদ) পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিল। ২০০৪ সালে ঢাকায় শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নিয়ে ভয়ঙ্কর হামলা করা হয়। যে হামলায় বহু লোক হতাহত হয়েছিল। সেই সঙ্গে ২০০৭ সালে তাকে আবারো গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগেই তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। রিচার্ড আরও বলেন, বর্তমানসহ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন তিনবারের সরকারের সময়ে দেশকে অস্থিতিশীল ও সংহিংসতাপূর্ণ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা বারবার করা হয়ে হয়েছে। তবে এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন বেশকিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে। তারমধ্যে ১৯৯৭ সালে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি’, স্থলমাইনের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ ও ক্ষুদ্র ঋণ সম্মেলনে সভাপতিকে সহায়তা ও নারী কল্যাণ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাসহ অনেক কর্মকাণ্ড। রিচার্ড লেখেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র প্রচারণার জন্য শেখ হাসিনাকে তাঁর অসামান্য কর্মকাণ্ডের পুরষ্কার স্বরূপ ‘মাদার তেরে-সা অ্যাওয়ার্ড, ‘গান্ধী অ্যাওয়ার্ড’ এ ভূষিত করা হয়েছে।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার একমাত্র মেয়ে সায়মা হোসেন পুতুলের দেওয়া তাঁতের শাড়ি পরে জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর বক্তব্য দিলেন। বুধবার সংসদে বাজেট বক্তৃতার সময় নিজের সাধারণ জীবনযাপন প্রসঙ্গে বলার সময় মেয়ের এই উপহারের কথা বলেন তিনি। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, 'আজকে (বুধবার) আমি একটা শাড়ি পরে আসছি। আমার মেয়ে...আজকে তার কিছু বিদেশি বন্ধু এসেছিল। তারা সোনারগাঁ গিয়েছিল দেখতে। সেখানে তাঁতীরা তাঁত বুনে। সেখান থেকে এই শাড়িটা কিনে এনেছে। ছয় হাজার পাঁচশ টাকা দাম চেয়েছিল, সেখান থেকে নাকি আবার ৫০০ টাকা কম নিয়েছে।' শাড়ির দামের বিষয়ে তিনি বলেন, "কম নেয়ার জন্য জামাই বাবাজিকে (স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে) বললাম পাঁচশ টাকা কম দিলে কেন? বরং পাঁচশ' টাকা বেশি দিয়ে আসতে পারতে। সে বললো, 'কিনতে গেলে তো একটু বারগেইনিং করতেই হবে'।" বাজেটের ওপর প্রায় দেড় ঘণ্টা বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়নে তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও আগামী দিনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এটা কোনো ম্যাজিক নয়। আমার রাজনীতি ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাস, উচ্চাভিলাষের জন্য নয়। আমার রাজনীতি বাংলার জনগণের জন্য; যে শিক্ষা আমি পেয়েছি আমার পিতার কাছ থেকে।' তিনি বলেন, 'আমরা ক্ষমতাকে কখনো ভোগ-বিলাসের বস্তুতে পরিণত করিনি। ক্ষমতায় এসে কোনো ব্র্যান্ড পরব, কোন ব্র্যান্ড নিয়ে চলব, কোন গাড়িতে চড়ব, কোন দেশ থেকে ফার্নিচার আনব, কত বড় স্যান্ডেলিয়া (ঝাড়বাতি) লাগাব—ওই সব চিন্তা করি না। বসা চেয়ারখানাকে কতটা ডেকোরেট করব, ওই চিন্তা করি না। বরং স্যান্ডেলিয়া সরিয়ে দিয়েছি। গণভবনে বোধ হয় একটা-দুটো আছে। বাকি সব সরিয়ে দিয়েছি। চেয়ারও বদলে দিয়েছি।' শেখ হাসিনা বলেন, 'আজকে প্রধানমন্ত্রী আছি, কালকে না থাকলে চলে যাব। গাড়িতেও চড়তে পারি, ভ্যানেও চড়তে পারি, রিকশায়ও চড়তে পারি, পায়েও হাঁটতে পারি। সবই আমরা পারি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিমানের ফার্স্ট ক্লাসে যাই। আবার যখন থাকব না, ইকনোমি ক্লাসে চড়ব। আমরা সব কিছুর জন্য প্রস্তুত। পিতা-মাতা আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাক; এটাই একমাত্র কাম্য। আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করি বলেই দেশের উন্নতি করতে পারছি। নিজেদের কথা ভাবলে এটা করতে পারতাম না।'