02172019রবি
স্পটলাইট

স্পটলাইট (834)

নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক আর প্রধানমন্ত্রী হতে চান না আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি চাইছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই যেন তার শেষ মেয়াদ হয়। নতুনদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে চান। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হয়। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক ইনেস পোল ও এশিয়া বিভাগের প্রধান দেবারতি গুহ। শেখ হাসিনা বলেন, 'এটা আমার তৃতীয় মেয়াদ। এর আগেও প্রধানমন্ত্রী হয়েছি। সব মিলিয়ে চতুর্থবার। আমি আর চাই না। একটা সময়ে এসে সবারই বিরতি নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। যেন তরুণ প্রজন্মের জন্য জায়গা করে দেওয়া যেতে পেরে।' এক মাস আগেই চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন শেখ হাসিনা। তার দল আওয়ামী লীগ ও জোট মিলে এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৯৬ শতাংশ আসন জিতেছে। সাক্ষাৎকারে তিনি নিশ্চিত করেছেন, পরবর্তী মেয়াদে আর প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য চেষ্টা করতে চান না। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে এবং নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। বছরে গড়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বাণিজ্য বেড়েছে। বিদেশি বিনিয়োগও এসেছে। এই উন্নয়নের পরও বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বলা হচ্ছে, এখনও বাংলাদেশের প্রতি চারজনে একজন দরিদ্র। শেখ হাসিনা তার সম্ভাব্য শেষ মেয়াদে এই দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইকেই অগ্রাধিকার দিতে চান। সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'খাদ্য নিরাপত্তা, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান- এসব মৌলিক চাহিদা। প্রত্যেক মানুষই তার অবস্থার উন্নতি ঘটাতে চায়। আমাদের সেটাই নিশ্চিত করতে হবে।' তবে এই উন্নয়ন দিয়ে অনেক সমালোচকের মুখ বন্ধ করতে পারেননি শেখ হাসিনা। তাদের অভিযোগ, তিনি বা তার সরকার বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেন এবং মুক্তচিন্তা ও মুক্তচিন্তার মানুষদের ওপর আঘাত থামাতে খুব বেশি কিছু করতে পারেননি। বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মুক্ত চিন্তাকে শতভাগ সমর্থন করেন তিনি। সমালোচনাও তাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, 'যত কাজ করবেন, তত সমালোচনা শুনবেন। তবে আমার দেশের মানুষকে প্রশ্ন করুন, তারা সন্তুষ্ট কি-না; তাদের যা যা প্রয়োজন, সব পাচ্ছে কি-না কিংবা আমি সব দিতে পারছি কি-না।' শেখ হাসিনা তার আওয়ামী লীগবিরোধীদের জন্য রাজনীতির মাঠ সংকুচিত করে রেখেছেন এবং এক দলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চাইছেন-এমন অভিযোগ মানতে রাজি নন বাংলাদেশের সরকার প্রধান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'জনগণের ভোটের মাধ্যমেই তো ক্ষমতায় আসা, সেটা একদলীয় হয় কী করে? আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে যে, ২০০৮-এ যে নির্বাচন হয়েছিল, সে নির্বাচনেও ৮৪ ভাগ (আসলে ৮৬.৩৪%) ভোট পড়েছিল। এবার তো ৮০ ভাগ ভোট পড়েছে। তখন বিএনপি-জামাত জোট পেয়েছিল মাত্র ২৮টি সিট। এবার ইলেকশনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২৬০টি সিট (৩০০টির মধ্যে)৷ বাকি সব অন্য দলগুলো পেয়েছে। সেখানে দল তো আছেই।' বিরোধী দলকে দুর্বল মনে করেন কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, 'এখন কোনো দল যদি তাদের কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে না যেতে পারে, জনগণের বিশ্বাস, আস্থা অর্জন করতে না পারে, আর যদি ভোট না পায়, সে দায়-দায়িত্ব কার? সে তো ঐ দলগুলোর দুর্বলতা।' মৗলবাদীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নিবিড় সম্পর্ক আছে বলেও সমালোচনা আছে-এ বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি বলেছি যে, এখানে বাক স্বাধীনতা আছে৷ তাই যে কেউ যে কোনো কিছুই বলতে পারেন।' নারীর বিকাশে চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আমি দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নারী শিক্ষা পুরোপুরি অবৈতনিক করে দিয়েছি, তাদের বৃত্তিও দিচ্ছি।' বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, তার নীতি নারী শিক্ষার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের চিন্তা ও বদলে দিয়েছে। আগে বাবা মায়েরা চিন্তা করতেন, মেয়েকে পড়িয়ে লাভ কী। সে তো অন্যের ঘরে চলে যাবে। এখন সেভাবে চিন্তা করেন না তারা৷ এখন ভাবেন, মেয়েকে শিক্ষিত করা উচিত যেন সে নিজে উপার্জন করতে পারে। এরপর বিয়ে করবে। তিনি বলেন, 'খুব ধীরে ধীরে আমরা পরিবর্তন আনছি। বাল্যবিবাহ এখন অনেক কমে গেছে।' যে লক্ষ্য অর্জনে শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন, তাতে কি মৌলবাদীরা বাধা হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'অবশ্যই না। আমি যা করেছি, তা করেছি এবং এটা চলবে।' রোহিঙ্গা ইস্যুত প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকার হাজার হাজার শিশু-কিশোর-তরুণ যারা বেড়ে উঠছে, তাদের জন্য মধ্যবর্তী বিকল্প উপায় ভাবার চেষ্টা করছে। আমরা একটা দ্বীপ বেছে নিয়েছি। সেখানে আমরা বাঁধ দিয়েছি। সাইক্লোন শেল্টার ও ঘরবাড়ি শত ভাগ তৈরি করেছি। আমরা তাদের সেখানে নিয়ে যেতে চাই এবং কাজ দিতে চাই। তাহলে তরুণ ও নারীরা অর্থ উপার্জন করতে পারবে।' তবে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত যাওয়াকে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান বলে মনে করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই এই দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে যেতে চায় বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে ভারত ও চীনের সহযোগিতা প্রয়োজন৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নও ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, 'এটাই চাই, তারা মিয়ানমারকে এ কথাটি বুঝাক, এরা যখন মিয়ানমারে চলে যাবে, তখন তাদের যা যা সাহায্য দরকার, থাকার বাড়িঘর, তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা, এখানে যা যা দিচ্ছে, তা ওখানেই দেবে এবং তাদের একটা নিরাপত্তার ব্যবস্থাও তারা করবে। জাতিসংঘ এ ব্যাপারে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে।'
বিশেষ প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) মো. আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর রুল ৩(বি)(এ) -এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ০২ মাঘ ১৪২৫/১৫ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে জনাব সজীব আহমেদ ওয়াজেদকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা পদে নিয়োগ প্রদান করেছেন। ওই প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এ দায়িত্ব পালনে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন। এ নিয়োগ খন্ডকালীন ও অবৈতনিক। প্রধানমন্ত্রীর পুত্র জয় এর আগেও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন।
সোমবার, 07 জানুয়ারী 2019 19:40

কারও হারানোর কিছু নেই-কাদের

লিখেছেন
বিশেষ প্রতিবেদক সরকার থেকে দলের ‘আলাদা সত্তা’ বজায় রাখতে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নতুন মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি বলে যুক্তি দেখিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং নতুন সরকারের সড়ক পরিবহন ও নেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল সোমবার বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের পর তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কারও হারানোর কিছু নাই। নোবডি ইজ গোয়িং টু লুজ এনিথিং। আমার মনে হয় এটা দায়িত্বের পরিবর্তন, দায়িত্বের রূপান্তর। আমাদের সরকারের মধ্যে দলটা হারিয়ে যাক, আমরা চাই না। সেখানে সরকার আর দলের যে আলাদা সত্তা আছে, সেটা রাখতে হলে রেসপন্সিবল লিডারদের একটা অংশকে দলের দায়িত্বে রাখতে হবে।’ টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যে মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন, তাতে দলের প্রবীণ নেতাদের প্রায় সবাই বাদ পড়েছেন। গত মন্ত্রিসভার বেশিরভাই ঠাঁই পাননি নতুন সরকারে। আওয়ামী লীগের ১৫ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর মাত্র একজন ড. আবদুর রাজ্জাক মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বাদে সম্পাদকমন্ডলীর ৩২ জনের মধ্যে আটজনের ঠাঁই হয়েছে মন্ত্রিসভায়। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কেউ বাদ পড়েছেন এটা আমি বলব না। কেউ সরকারে দায়িত্ব পালন করবেন, কেউ আরও বেশি করে দলের দায়িত্ব পালন করবেন।’ আগের ধারাবাহিকতায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের যে চ্যালেঞ্জ, তা মোকাবেলা করতে হলে দলকে আমাদের শক্তিশালী করতে হবে।’ জোটসঙ্গীদের কাউকে নতুন সরকারে না রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই একসঙ্গেই তো আছি। ১৪ দল আমাদের সঙ্গে আছে। এখন মন্ত্রী থাকা না থাকার উপর তো আমাদের অ্যালায়েন্স ভেঙে গেছে, এটা বলা যাবে না। মন্ত্রী তো পাঁচ বছরের ব্যাপার, মাঝে মাঝে এক্সপাংশন হবে, রিশাফল হবে, এর মধ্যে অনেকে যাবেন। আবার ভালো পারফর্মেন্স না থাকলে মাঝপথেও বিদায় নিতে হবে।’ বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জনগণের রায়ের প্রতি তাদের সম্মান থাকা উচিত। মানুষ তাদেরকে রায় যতটা দিয়েছে, সেটাকে সম্মান করা উচিৎ।’ নতুন মন্ত্রীরা কে কি বললেন গ্রামকে শহরে বাস্তবায়নই আমার লক্ষ্য: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি গ্রামকে শহর করার যে ঘোষণা নির্বাচনী ইশতেহারে দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করাই আমার প্রধান লক্ষ্য থাকবে’। দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবো: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা যথাযথভাবে পালন করা হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন নতুন মন্ত্রিসভার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সোমবার শপথগ্রহণ শেষে বঙ্গভবন চত্বরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই আমাদের লক্ষ্য : নতুন মন্ত্রিসভার তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘দীর্ঘ ছয় বছর প্রচার সম্পাদক হিসেবে দলের দায়িত্ব পালন করেছি। এখন প্রধানমন্ত্রী আমাকে রাষ্ট্রের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়েছেন, তা আমি যথাযথভাবে পালন করবো’। তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ আমাদের আবারও ক্ষমতায় এনেছেন। মানুষকে আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। এখন সে প্রতিশ্রুতি বাস্তায়নই আমাদের লক্ষ্য’। প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রীরা টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন বুধবার : প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ ও নতুন মন্ত্রিসভা গঠন শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে যাবেন নতুন মন্ত্রিসভার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা। সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে গণভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০টায় বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে হেলিকপ্টারযোগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠে নির্মিত হেলিপ্যাডে অবতরণ করবেন তিনি। বেলা ১১টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে উপস্থিত হয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেবেন। তখন সশস্ত্র বাহিনী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার প্রদান করবেন। সোমবার ২৪ মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী ও তিন উপমন্ত্রী শপথ নেন। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে ২৯৮ আসনের মধ্যে ২৫৭টিতে জয় পায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। জোটগতভাবে তারা পায় ২৮৮ আসন। অন্যদিকে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ও তাদের জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পায় মাত্র সাতটি আসন। তবে এ সাতজনের কেউ এখনও শপথ নেননি।
সোমবার, 07 জানুয়ারী 2019 19:40

কারও হারানোর কিছু নেই-কাদের

লিখেছেন
বিশেষ প্রতিবেদক সরকার থেকে দলের ‘আলাদা সত্তা’ বজায় রাখতে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নতুন মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি বলে যুক্তি দেখিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং নতুন সরকারের সড়ক পরিবহন ও নেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল সোমবার বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের পর তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কারও হারানোর কিছু নাই। নোবডি ইজ গোয়িং টু লুজ এনিথিং। আমার মনে হয় এটা দায়িত্বের পরিবর্তন, দায়িত্বের রূপান্তর। আমাদের সরকারের মধ্যে দলটা হারিয়ে যাক, আমরা চাই না। সেখানে সরকার আর দলের যে আলাদা সত্তা আছে, সেটা রাখতে হলে রেসপন্সিবল লিডারদের একটা অংশকে দলের দায়িত্বে রাখতে হবে।’ টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যে মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন, তাতে দলের প্রবীণ নেতাদের প্রায় সবাই বাদ পড়েছেন। গত মন্ত্রিসভার বেশিরভাই ঠাঁই পাননি নতুন সরকারে। আওয়ামী লীগের ১৫ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর মাত্র একজন ড. আবদুর রাজ্জাক মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বাদে সম্পাদকমন্ডলীর ৩২ জনের মধ্যে আটজনের ঠাঁই হয়েছে মন্ত্রিসভায়। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কেউ বাদ পড়েছেন এটা আমি বলব না। কেউ সরকারে দায়িত্ব পালন করবেন, কেউ আরও বেশি করে দলের দায়িত্ব পালন করবেন।’ আগের ধারাবাহিকতায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের যে চ্যালেঞ্জ, তা মোকাবেলা করতে হলে দলকে আমাদের শক্তিশালী করতে হবে।’ জোটসঙ্গীদের কাউকে নতুন সরকারে না রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই একসঙ্গেই তো আছি। ১৪ দল আমাদের সঙ্গে আছে। এখন মন্ত্রী থাকা না থাকার উপর তো আমাদের অ্যালায়েন্স ভেঙে গেছে, এটা বলা যাবে না। মন্ত্রী তো পাঁচ বছরের ব্যাপার, মাঝে মাঝে এক্সপাংশন হবে, রিশাফল হবে, এর মধ্যে অনেকে যাবেন। আবার ভালো পারফর্মেন্স না থাকলে মাঝপথেও বিদায় নিতে হবে।’ বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জনগণের রায়ের প্রতি তাদের সম্মান থাকা উচিত। মানুষ তাদেরকে রায় যতটা দিয়েছে, সেটাকে সম্মান করা উচিৎ।’ নতুন মন্ত্রীরা কে কি বললেন গ্রামকে শহরে বাস্তবায়নই আমার লক্ষ্য: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি গ্রামকে শহর করার যে ঘোষণা নির্বাচনী ইশতেহারে দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করাই আমার প্রধান লক্ষ্য থাকবে’। দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবো: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা যথাযথভাবে পালন করা হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন নতুন মন্ত্রিসভার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সোমবার শপথগ্রহণ শেষে বঙ্গভবন চত্বরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই আমাদের লক্ষ্য : নতুন মন্ত্রিসভার তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘দীর্ঘ ছয় বছর প্রচার সম্পাদক হিসেবে দলের দায়িত্ব পালন করেছি। এখন প্রধানমন্ত্রী আমাকে রাষ্ট্রের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়েছেন, তা আমি যথাযথভাবে পালন করবো’। তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ আমাদের আবারও ক্ষমতায় এনেছেন। মানুষকে আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। এখন সে প্রতিশ্রুতি বাস্তায়নই আমাদের লক্ষ্য’। প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রীরা টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন বুধবার : প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ ও নতুন মন্ত্রিসভা গঠন শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে যাবেন নতুন মন্ত্রিসভার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা। সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে গণভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০টায় বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে হেলিকপ্টারযোগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠে নির্মিত হেলিপ্যাডে অবতরণ করবেন তিনি। বেলা ১১টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে উপস্থিত হয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেবেন। তখন সশস্ত্র বাহিনী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার প্রদান করবেন। সোমবার ২৪ মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী ও তিন উপমন্ত্রী শপথ নেন। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে ২৯৮ আসনের মধ্যে ২৫৭টিতে জয় পায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। জোটগতভাবে তারা পায় ২৮৮ আসন। অন্যদিকে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ও তাদের জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পায় মাত্র সাতটি আসন। তবে এ সাতজনের কেউ এখনও শপথ নেননি।
বিশেষ প্রতিনিধি আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদ নির্বাচনে তাঁর দলের নিরঙ্কুশ বিজয়ের জন্য দেশবাসীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি অব্যাহতভাবে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের পর দেশ ও জনগণের প্রতি আমার দায়িত্বটা আরও বেড়ে গেছে।’ প্রধানমন্ত্রী বুধবার বিকেলে গণভবনে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে আসা বিভিন্ন সংস্থা এবং ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাতে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সেবা করাটা একটি বড় কাজ এবং আমি যত দিন বেঁচে থাকব এটা অব্যাহত রাখব।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পর দেশ ও জনগণের প্রতি আমার দায়িত্বটা আরও বেড়ে গেছে।’ এ সময় তিনি জনগণের আশা ও আকাঙ্খা পূরণে কাজ করে যাওয়ারও অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ স্কাউটস এবং গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা, উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। শেখ হাসিনা বলেন, রোববারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় সব সম্প্রদায় ও শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। ‘সমাজের সর্বস্তরের জনগণ আওয়ামী লীগের বিজয়ের জন্য সর্বান্তকরণে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল এবং এ জন্য আমি তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি,’ বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তার তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত যুদ্ধাপরাধীরা মিলে একটি বিতর্কিত নির্বাচন করার জন্য ওঠেপড়ে লেগেছে। সব জরিপে আওয়ামী লীগ এগিয়ে আছে দেখে যে কোনো উপায়ে ক্ষমতায় আসতে বিএনপি-জায়ামাত বিদেশে প্রচুর লবিং করছে। রোববার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে ঢাকা সিটি কলেজ ভোটকেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর সাংবাদিকদের নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে এসব মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় সজীব ওয়াজেদ জয় জনগণের প্রতি অনুরোধ করেন, মানুষের প্রতি একটিই অনুরোধ-যারা যুদ্ধ অপরাধীদের নিয়ে রাজনীতি করে, তাদের ভোট দেবেন না। ৩০ লাখ ভাইবোনের হত্যাকারীদের সঙ্গে যারা জোটবদ্ধ হয়েছে, তাদের ভোট দেবেন না। নির্বাচন প্রসঙ্গে জয় বলেন, বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসী করবে, তাদের গ্রেফতার করতে পারবেন না, এটি কেমন কথা। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী জানিয়ে জয় বলেন, ভোটের ফল যাই হোক আওয়ামী লীগ তা অবশ্যই মেনে নেবে। মানুষ যাকে ভোট দেবে তারাই ক্ষমতায় আসবে। তবে একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জয় বলেন, যে দল দেশকে স্বাধীনতা দিয়েছে, যে দল দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নিত করেছে-সে দলকেই জনগণ ভোট দেবে। প্রসঙ্গত রোববার সকাল সকাল ৮টার পর একই কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। রাজধানীর ধানমণ্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট এবং কলাবাগান থানা এলাকা নিয়ে ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনের একটি ভোটকেন্দ্র ঢাকা সিটি কলেজ। জাতীয় সংসদের এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্ধী বিএনপির প্রার্থী আবদুল মান্নান।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দল-মতের উর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেছেন, কারো কারণে নির্বাচন যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। কোন প্রার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখার নির্দেশ দেন সিইসি। শনিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। প্রার্থী ও ভোটাররা যেন ন্যায্য অধিকার থেকে ভোট দিতে পাওে এ আহবান জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সকলের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলার সর্বস্তরের সদস্যদের নির্দেশ দিচ্ছি। সহিংস ও নাশকতামূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে কঠোর অবস্থান নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিচ্ছি। কোন মহল ভোটকেন্দ্রে অবৈধভাবে কোন অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে অবশ্যই দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা নিয়ন্ত্রণ করবে। কোন বাহিনীর নির্লিপ্ততার কারণে অথবা নিস্ক্রিয় ভূমিকার কারণে কোন কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ ব্যাহত হলে অধিক্ষেত্রের বাইরে গিয়ে তদন্ত করা হবে। এবং দোষী প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিফ্রিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। গণমাধ্যমের খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে সিইসি বলেন, প্রার্থীর এজেন্টদের হয়রানি করা হচ্ছে, তা কোনভাবেই কাম্য নয়। কোন এজেন্টের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন ফৌজদারী কোন অভিযোগ না থাকলে পুলিশ কাউকে গ্রেফতার বা হয়ারনি করবে না। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে তাদেরকে পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে হবে। এজেন্টদের দায়িত্ব অনেক, তারা প্রার্থীর প্রতিনিধিত্ব করেন। তারা প্রার্থীর স্বার্থে কাজ করেন। লিখিত বক্তব্যে সিইসি বলেন, কাঙ্খিত ও প্রত্যাশিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছি আমরা। আগামীকাল সকাল আট ঘটিকায় দেশব্যাপী একসাাথে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশবাসীকে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। স্বাচ্ছন্দের সাথে একে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে পারি। কারণ হিসেবে সিইসি বলেন ৩০০টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে রেকর্ডসংখ্যক ১৮৬১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করার জন্য মাঠে নেমেছেন। দেশের সব রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছে। নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় সমগ্র দেশ মুখরিত হয়েছে। মিছিল, সমাবশে, পথসভা, জনসভা, লংমার্চ, লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রতিযোগিতামূলক আবহ সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রস্তুতির পর্বে দেশব্যাপী ৬৬জন রিটার্নিং অফিসার, ৫৮০জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার, কেন্দ্রভিত্তিক প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। তাদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৩জন ভোটরের জন্য মোট ৪০ হাজার ১৮৩টি নির্বাচনী কেন্দ্র, দুই লক্ষ ৬ হাজার ৭৭৭টি বুথ নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে নির্বাচনের সব সামগ্রী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ নির্বাচনের মালামাল নিয়ে আজ রাতের মধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছে যাবেন। যে ছয়টি আসনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে সেসব আসনেও নির্বাচনী সামগ্রী ও জনবল পৌঁছে গেছে। ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী সামগ্রী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পোলিং এজেন্টসহ সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় তদন্ত কমিটি, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্মকর্তা রয়েছেন।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রিতেবদক আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার নামে ভুয়া ওয়েবসাইট, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেল ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকার মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চলছে। সোমবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রেজা-উল করিম শাম্মী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের নাম; Bangladesh Army (https://www.army.mil.bd) এবং Join Bangladesh Army (https://joinbangladesharmy.army.mil.bd)। সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজের নাম; Bangladesh Army, (https://www.facebook.com/bdarmy.army.mil.bd) ও ইউটিউব চ্যানেলের নাম (Bangladesh Army) লিংক-https://www.youtube.com/channel/UCpkg5RjtYqjRbxwL9Gf5Tfw । এগুলো ছাড়া অন্যান্য সকল ভুয়া ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের বিষয়ে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো। একই সাথে সর্বসাধারণকে সেনাবাহিনী সম্পর্কে ভুয়া তথ্য সংবলিত পোস্ট শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার জন্যও অনুরোধ করা হয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসছেন না আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন (আনফ্রেল) -এর সদস্যরা। সময়মতো ভিসা না পাওয়ায় তারা বাংলাদেশ সফর বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। গত শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা অনুপস্থিত থাকায় বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেলো। ইউএসআইডির অর্থায়নে পরিচালিত কিছু সংস্থাসহ আরও যেসব সংস্থা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে তাদেরকে নিয়ে গঠিত ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্যদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অনুমতি দেওয়া সরকারের জন্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউটের অর্থায়নে ব্যাংককভিত্তিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা আনফ্রেলের সদস্যদের বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ আসার কথা ছিল। আনফ্রেলের সদস্যদের সময়মতো ভিসা না পাওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রকে হতাশ করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যে কোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচন সম্পন্ন করতে শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের সুযোগ থাকতে হবে, গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে নির্বাচনের সংবাদ পরিবেশন করতে দিতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণ যেনো শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সে ব্যাপরে সরকার পদক্ষেপ নেবে।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক রোববারের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা পিছিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক বলেন,‌ অনিবার্য কারণবশত রোববারের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। রোববার যে পরীক্ষাগুলো ছিল, সেগুলো আগামী শুক্রবার সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। রোববার জেএসসি পরীক্ষার্থীদের ইংরেজি ও জেডিসি পরীক্ষার্থীদের আরবি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। নবমবারের মতো এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই পরীক্ষা। ২০১০ সাল থেকে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়। শিক্ষা বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, এ বছর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৬ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৩। গত বছরের তুলনায় এবার দুই লাখ এক হাজার ৫১৩ পরীক্ষার্থী বেড়েছে। এর মধ্যে জেএসসিতে এক লাখ ৭৭ হাজার ৬৬ এবং জেডিসিতে ২৪ হাজার ৪৪৭ জন। এবার নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ৭টি বিষয়ে ৬৫০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। বাংলা ২য় পত্র এবং ইংরেজি ১ম/২য় পত্র ছাড়া সব বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।