10022022রবি
শিরোনাম:
স্পটলাইট

স্পটলাইট (1172)

নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: গত পাঁচ দশকে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অগ্রগতি করেছে বাংলাদেশ। এখন দেশে প্রবৃদ্ধির গতিপথ ধরে রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধির হারকে আরও ত্বরান্বিত করতে একটি শক্তিশালী সংস্কার এজেন্ডা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রতিবেদন একথা বলা হয়। বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত ‘দ্যা কান্ট্রি ইকোনমিক মেমোরেন্ডাম : চেঞ্জ অফ ফেব্রিক আইডেন্টিফাইস’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির প্রধান বাধাগুলো চিহ্নিত এবং দ্রুত প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য কার্যকরী সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এবং প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডক্টর সেলিম রায়হান এবং এসবিকে টেক ভেঞ্চারস ও এসবিকে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া বশির কবির। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইউটাকা ইয়োশিনো’র পরিচালনায় অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত দেশীয় পরিচালক ডানডান চেন উদ্বোধনী বক্তব্য দেন এবং সমাপনী বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার ম্যাক্রো ইকোনমিক্স, ট্রেড, ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক সেক্টর অনুশীলন ব্যবস্থাপক হুন এস সোহ। জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ নোরা দিহেল এবং বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ পরামর্শক জাহিদ হুসেন প্রতিবেদনের ফলাফলের উপর একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন। অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, জনগণের দোরগোড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়া এবং শিক্ষার হার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সঠিক পথে রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে আমরা আরও উন্নতি করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা জোরদার করতে থাকব।
তাপস হালদার: ২৮ সেপ্টেম্বর,বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনে মধুমতি নদীর কোল ঘেঁষে ছোট্ট গ্রাম টুঙ্গিপাড়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।তৎকালীন কলকাতার প্রখ্যাত ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের প্রথম সন্তান শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ‘৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আজিমপুর স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী থাকা অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বিক্ষোভে যোগ দেন।‘৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলনে ছাত্র বিক্ষোভে প্রথম সারিতে নেতৃত্ব দেন।‘৬৬-৬৭ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ(বর্তমানে বদরুনেচ্ছা)ছাত্রী সংসদে সহ-সভাপতি (ভি.পি)নির্বাচিত হন।৬৯ সালের গনঅভ্যুত্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন।মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পিতা বঙ্গবন্ধু মুজিব গ্রেফতার হওয়ার পর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে ধানমন্ডির একটি বাড়িতে গৃহবন্দি ছিলেন পুরো নয় মাস। স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছর পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ইতিহাসের বর্বরোচিত হত্যাকান্ড ঘটিয়ে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। জার্মানিতে অবস্থানের কারণে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান।তখন দীর্ঘ ছয় বছর ভারতে নির্বাসনে থাকতে হয়।জিয়াউর রহমান দেশে গনতন্ত্রকে হত্যা করে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করে। ক্ষমতা দখল করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধংশ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। দেশে ভয়াবহ অরাজকতা তৈরি হয়।আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার কিংবা ভয় দেখিয়ে জিয়াউর রহমান দল ভাঙ্গনের খেলা শুরু করে।আওয়ামী লীগের মধ্যে দেখা দেয় অন্তর্দ্বন্দ্ব,দলকে ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করতে ভারতে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনাকে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ১৯৮১ সালের দলীয় কাউন্সলে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।জিয়াউর রহমান সরকারের ভয়-ভীতি রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা।শুরু হয় রাজনীতির নতুন জীবন। সেনাবিদ্রোহে জিয়ার মৃত্যু। আরেক সেনাশাসক এরশাদের ক্ষমতা দখল।এরশাদের বিরুদ্ধে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন।স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারও শেখ হাসিনাকে তিনবার গ্রেফতার করে গৃহবন্দি করে রাখলেও আন্দোলন থেকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি।দীর্ঘ নয় বছর আন্দোলনের পর স্বৈরশাসক এরশাদের পতন হয়।কিন্তু ‘৯১ সালের নির্বাচনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কারণে খালেদা জিয়া জয়ী হয়,গনতন্ত্র আবার হোঁচট খায়।শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে পাঁচ বছর পর খালেদা জিয়ার পতন হয়।দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে,প্রধানমন্ত্রী হন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। প্রথমবার ক্ষমতায় এসেই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা অসাধারণ কিছু কাজ করেছেন।প্রথমবারের মতো দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, ভারতের সাথে গঙ্গার ঐতিহাসিক ত্রিশ বছর মেয়াদী পানিচুক্তি,পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি চুক্তি,দেশে প্রথমবারের মতো প্রবৃদ্ধি ৬.৪ শতাংশে উন্নীত করা,২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায় ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা অর্জন করা তার মধ্যে অন্যতম। ২০০৯ সাল পুনরায় জয়লাভ করে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ।আর সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা।টানা একযুগের শাসনামলে বাংলাদেশে এসেছে আমূল পরিবর্তন।দীর্ঘ দিনের অমীমাংসিত বিষয় গুলো নিষ্পত্তি করতে শুরু করেন।বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার,যুদ্ধাপরাধীদের বিচার,ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি, ভারতের সাথে স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করেন। ১১ লক্ষ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে দেশরত্ন শেখ হাসিনা ‘মানবতার মা' উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর মনোভাবের কারণে বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ মুক্ত হয়েছে।শুধু তাই নয় জঙ্গিবাদ দমনে বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। বিশ্বের ৫৭ তম দেশ হিসেবে মহাকাশে ‘বঙ্গবন্ধু-১’ স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। ‘বঙ্গবন্ধু-২’ স্যাটেলাইট পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে তথ্য প্রযুক্তি খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সুচিত হয়েছে।ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা শহর থেকে প্রান্তিক গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। একযুগে শিক্ষা,স্বাস্থ্য, কৃষি, বিদ্যুৎ, তথ্য প্রযুক্তি,নারীর ক্ষমতায়ন,বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও গ্রামীন কর্মসংস্থানে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে।সামগ্রিক দারিদ্র বিমোচনের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দুস্থ মহিলা ও বিধবা ভাতা,প্রতিবন্ধী ভাতা,মুক্তিযোদ্ধা ভাতা,আশ্রয়ণ প্রকল্প,একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প সহ নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।সারা দেশে লক্ষ লক্ষ গৃহহীন পরিবারকে ঘর দিয়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মান হয়েছে।মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে,কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ট্যানেল নির্মান,রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প,মহেশখালী-মাতারবাড়ি সমন্বিত উন্নয়ন সহ বেশ কিছু মেগা প্রকল্পের কাজ শেষের পথে।সারা দেশে একশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, দুই ডজনের বেশি হাইটেক পার্ক এবং আইটি ভিলেজ নির্মানের কাজ এগিয়ে চলছে।এসব বাস্তবায়িত হলে সামগ্রিক অর্থনীতির চেহারাই বদলে যাবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণের দশ বছরের মধ্যেই স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যদা লাভ করে বাংলাদেশ।২০০৮-০৯ বছরে মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ৭০৩ মার্কিন ডলার।আর বর্তমানে মাথাপিছু আয় গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮২৪ ডলারে।বাংলাদেশের লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন ও উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিনত হওয়া। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে শেখ হাসিনাকে বারবার হোঁচট খেতে হয়েছে,তবে তিনি তো দমবার পাত্র নন।তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য কম করে হলেও ১৯ বার হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে।প্রতিবারই তিনি আরো কঠিন মনোবল নিয়ে ফিরে এসেছেন এবং সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।যেখানে অন্যায় সেখানে রুখে দাঁড়ানোই তাঁর স্বভাবজাত ধর্ম।কবি নজরুলের ভাষায় যেন বলে উঠেন, ‘বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত,আমি সেই দিন হবো শান্ত,যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না।অত্যাচারী খড়ক কৃপাণ ভীমরণ ভূমে রনিবেনা।' নিন্দুকেরা পরিবারতন্ত্রের কথা বলে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে রাজনীতি থেকে মাইনাসের ষড়যন্ত্র করেছিল।রাজনীতির পাঠশালা হলো ছাত্র রাজনীতি।তিনি উত্তাল দিনগুলোতে ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্ব দিয়েছেন।কঠিন পরিস্থিতিতে পরিবারকে দূরে রেখে দেশের জন্য সংগ্রাম করেছেন।দীর্ঘ ২১ বছর স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।বন্দুকের নল কিংবা গুহার ভিতর থেকে বেড়িয়ে এসে ক্ষমতায় বসেন নি।এদেশের রাজনীতির কঠিন পরিস্থিতি গুলো মোকাবেলা করেই আজকের সফল রাষ্ট্র নায়ক হয়েছেন। দেশরত্ন শেখ হাসিনা নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।এক সময়ের তলা বিহীন ঝুঁড়ি,শেখ হাসিনার ছোঁয়ায় বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে সমৃদ্ধ উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি।তিনি এখন শুধু মাত্র বাংলাদেশেরই নেত্রী নন,তিনি এখন বিশ্ব নেত্রী।শেখ হাসিনার জন্য বাংলাদেশ ধন্য।শেখ হাসিনা যেমন নিষ্ঠাবান ধার্মিক,তেমনই অসাম্প্রদায়িক। তাঁর বিজ্ঞান মনস্ক জীবনশৈলী তাঁকে করেছে অগ্রসর রাষ্ট্র নায়ক।শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে সাফল্যের স্বর্ণচূড়ায়।শুভ জন্মদিন দেশরত্ন শেখ হাসিনা।আপনার জন্মদিনে অবনতমস্তকে জানাই প্রণতি। লেখকঃ সাবেক ছাত্রনেতা ও সদস্য,সম্প্রীতি বাংলাদেশ ই-মেইল :haldertapas80@gmail
বৃহস্পতিবার, 22 সেপ্টেম্বর 2022 22:32

জো বাইডেনের অভ্যর্থনায় প্রধানমন্ত্রীর যোগদান

লিখেছেন
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য নিউইর্য়কে আসা রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তার পত্নী আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্টোরিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এখানে হোটেল লটেতে প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাইডেন ও তার পত্নী অনুষ্ঠানে তাঁকে (শেখ হাসিনা) উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।’ তিনি বলেন, এ সময় উভয় নেতা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তবে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সে ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে বাইডেনকে আমন্ত্রণ জানান।
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাফ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০২২ এর শিরোপা বিজয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের একজন গর্বিত সদস্য রুপনা চাকমার জন্য তার নিজ শহর রাঙ্গামাটিতে একটি ঘর নির্মাণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। বাংলাদেশ সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম সম্মেলনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রুপনা চাকমার জীর্ণ কুটিরের ছবি ভাইরাল হলে তা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং তিনি এই নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী রুপনা চাকমার ঘর নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। রুপনা চাকমা সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন। রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান রুপনা চাকমা ও ঋতুপূর্ণাকে শুভেচ্ছা জানাতে মিষ্টি, ফল ও ফুল নিয়ে তাদের বাড়িতে যান।
রবিবার, 18 সেপ্টেম্বর 2022 19:19

প্রধানমন্ত্রীকে রাজা তৃতীয় চার্লসের ফোন

লিখেছেন
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক : ব্রিটেনের রাজা চার্লস তৃতীয় বাকিংহাম প্যালেস থেকে গতকাল সন্ধ্যায় টেলিফোন করে সোমবার সকালে অনুষ্ঠেয় তার মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর রাজপরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহানুভূতি প্রকাশের জন্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণকে তিনি ধন্যবাদ জানান। এসময়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ‘আপনার প্রয়াত মহামান্য মা আমার কাছে একজন মা এবং কমনওয়েলথের একজন অসাধারণ প্রধানের মতো ছিলেন, উল্লেখ করে বলেন, ‘তাঁর প্রতি আমার ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা জানাতে, আমি তার রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রী রাজাকে আরও জানান যে বাংলাদেশে, তার সরকার প্রয়াত রাণীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করেছে এবং তার আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে। তিনি এই সুযোগে রাজা চার্লস তৃতীয়কে তার সিংহাসনে আরোহণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানান এবং তার দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ রাজত্ব কামনা করেন। রাজা চার্লসের (তৎকালীন প্রিন্স চার্লস) ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী রাজাকে বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী মাসে রাজা চার্লস এবং কুইন কনসোর্টকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। জবাবে রাজা চার্লস বলেন, ‘কুইন কনসোর্ট এবং আমি ৫০তম বার্ষিকীতে বাংলাদেশ সফরের জন্য অনেক অপেক্ষায় ছিলাম, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর কারণে দুর্ভাগ্যবশত আমাদের এটি বাতিল করতে হচ্ছে।’ রাজা বাংলাদেশের জনগণ এবং বাংলাদেশী ব্রিটিশ অভিবাসীদের শুভেচ্ছা জানান। সোমবার প্রয়াত রাণী এলিজাবেথের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগদানের জন্য যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় সফরে থাকা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নতুন রাজার ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার জন্য বাকিংহাম প্যালেস ফোন কলের সময় নির্ধারণ করে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান মাহমুদ শরীফ: দীর্ঘকাল আগে আমি যখন দেশ থেকে লন্ডনে চলে আসি,এটা ১৯৬৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হবে। শেখ রেহানার বয়স তখন মাত্র ৮ বছর, সুতরাং তাঁকে দেখে থাকলেও খুব ছোটবেলায় দেখেছি। দীর্ঘ বিরতির পরে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শেষে ঢাকায় ফিরে এসে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী প্রধান ইয়াহিয়া খানের কারাগার ঐ ধানমন্ডির তখনকার ১৮ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে সদ্য বন্দী অবস্থা থেকে মুক্ত বঙ্গবন্ধু কন্যা,আমার প্রিয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তাদের আদরের কনিষ্ঠ বোন শেখ রেহানার সাথে দেখা হওয়ার সুযোগ হয়। এটা হয়তো ২৪-২৫শে ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে তাঁর স্নেহের পরশ পাওয়ার সৌভাগ্য যাদের হয়েছিল তাদের দীর্ঘ তালিকায় কেন জানিনা স্থান পেয়েছিলাম। তাই আমার অবর্তমানেই বঙ্গবন্ধু তাঁর প্রথম সন্তান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর স্বামী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা ও আমার বন্ধু ড.ওয়াজেদ মিয়ার সুবাধে আমার এবং আমার স্ত্রী'র কথা পরিবারের সকলেরই জানা ছিলো। তথাকথিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আইনজীবি বিদেশ থেকে পাঠানোর ব্যাপারে আমাদের অংশগ্রহণ এবং প্রচেষ্টাও পরিবারের সকলের জানা ছিলো। তাই হয়ত সদ্য কারামুক্ত বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যরা আমাকে আপনজন হিসেবে সেইসময় গ্রহণ করতে অনাগ্রহী ছিলেন না। তাই সেই থেকেই শেখ রেহানাকে দেখা ও তাঁর মমতার আশ্রয় আজ পর্যন্ত আমাদের পরিবারের সকলেই নাানাভাবে কৃতজ্ঞতাচিত্তে স্মরণ রাখি। প্রারম্ভেই এই কথা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে তার এই পরিণত বয়সেও আমার পরিবার পরিজন সকলে তাদের দুই বোনের স্নেহ পরশে বেড়ে উঠেছি। এ সপ্তাহে যখন প্রিয় শেখ রেহানার জন্মদিন সেসময়ই ব্রিটেনে বিশ্ববাসীর প্রিয় একজন মানুষ, এদেশের রানীর জীবনাবসান হয়েছে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে পিতাকে হারিয়ে তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রানী হিসেবে এদেশের মানুষের সেবায় নিয়োজিত হয়েছিলেন। পরসেবায় তাঁর এই দীর্ঘকাল তিনি নির্মোহভাবে কাটিয়ে দিয়েছেন তাঁর স্বামীকে সাথে নিয়ে। মুহূর্তের জন্যও নিজের কোন ইচ্ছা,আকাঙ্খা চরিতার্থ করেন নাই। এই দীর্ঘসময় আমরা সকলে জাতি ধর্ম,বর্ণ,গোষ্ঠী নির্বিশেষে আমাদের রানী'র স্নেহপরশ ও সেবাযত্নে জীবনযাপন করেছি। বঙ্গবন্ধু তাঁর পরিবার পরিজন নিকটাত্মীয় সকলকে হারিয়ে, বাংলার জনগণ অভিভাবকহীন,আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। পাকিস্তানী হানাদারদের দোসর মোস্তাক-জিয়ার অত্যাচারী শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে জেল-জুলুম, হত্যা নির্যাতনের শিকার হতে থাকে তারা। ভাগ্যক্রমে সেইসময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা আমাদের মুক্তিসংগ্রামের সহযোদ্ধা আজকের বাংলাদেশের জনগণের নয়নমনি, তাদের ত্রাতা ও জীবন রক্ষার একনিষ্ঠ সেবক জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা প্রবাসে ছিলেন বলে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ান। এই দীর্ঘসময় তাদেরকে সম্বল করে আমরা হানাদারমুক্ত বাংলাদেশের পরিবর্তে যে স্বৈরাচার পরিবেষ্ঠিত পাকিস্তানী অনুচরদের রাষ্ট্রক্ষমতা পেয়েছিলাম তাদেরকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়েছিলাম। এর জন্য যে আত্মসংযম ত্যাগ ধৈর্য্য কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব দরকার তা এই দুই বোন আমাদের দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। ১৯৭৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের নির্বাসন জীবন থেকে শ্রীমতি ইন্ধিরা গান্ধীর সহায়তায় তাঁর প্রয়াত মায়ের নিকটাত্মীয় মোমিন উদ্দীন খোকা ভাইয়ের কাছে লন্ডনে শেখ রেহানা চলে আসেন। এরপর এই দীর্ঘকাল প্রবাস জীবনে তিনি নিজের জীবনধারনের জন্য একটি সম্মানজনক চাকুরীতে নিয়োজিত হয়েছিলেন। এই দীর্ঘকাল পরে সেখান থেকে এখন পরিণত বয়সে অবসরগ্রহণ করেছেন। এই কৃচ্ছ সাধনের মধ্যেই এবং সংসার স্বামী সন্তান সকলকে দেখভাল করে একটি ফুলটাইম চাকুরী রক্ষা করেও তিনি দলীয় কর্মীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁর নির্দেশ উপদেশ মেনে ও তাঁর সাহচর্যে থেকে বঙ্গবন্ধুর কর্মীরা প্রবাসে দিশেহারা জীবন থেকে ফিরে এসেছিলেন এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মীর সংগ্রামী জীবনকে গ্রহণ করেছিলেন। শেখ রেহানার এই অক্লান্ত পরিশ্রমের সাংগঠনিক সক্ষমতার একপর্যায়ে ১৯৮০ সালের মাঝামাঝি সময় জননেত্রী শেখ হাসিনা বোনকে দেখতে লন্ডনে আসার সুযোগ পান। শেখ হাসিনার লন্ডনে আসার ফলে ভারতসহ বহির্বিশ্বের কর্মীরা একজন যোগ্য নেত্রীর কাছে ব্যক্তিগতভাবে এবং দূরালাপনীর মাধ্যমে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর সুযোগ পান। কিন্তু এই সমস্ত কাজের মধ্যে যে কায়িক পরিশ্রম ও সকলকে দেখভাল করার পরিশ্রম সদ্য প্রথম সন্তানের জন্মদাতা মাতা শেখ রেহানা নিজকাঁধে গ্রহণ করেন। প্রবাসে তারই আশ্রয়ে শেখ হাসিনাকে নিয়ে আমরা বৃটেনের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ঘুরে,ঘুরে বঙ্গবন্ধুর অনুসারীদের একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছিলাম।এরই ফলশ্রুতিতে ১৯৮০ সালের আগস্ট মাসে বঙ্গবন্ধুর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীতে একটি বিরাট জনসভা করার সুযোগ পাই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের জন্য আতনর্জাতিকভাবে বিশ্ববাসীও বাংলাদেশের জনগনের কাছে দাবি নিয়ে আসতে সক্ষম হই। যার ফলে জীবিত প্রত্যক্ষ খুনীদের শাস্তি বিধান নিশ্চেত করা সম্ভব হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পরবর্তী বছর ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তাদের দলীয় কনফারেন্সে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান করে আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠিত করে। জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে গিলেও শেখ রেহানা নিজের সন্তানের সাথে সাথে বোনের দুই সন্তানের সকল দায়িত্ব নিজের উপর নিয়ে নেন এবং বোনকে বাংলার জনগণের সেবার জন্য বঙ্গবন্ধু ও বেগম মুজিবের আদলে কাজ করার জন্য সকল সহযোগীতা দিতে থাকেন। গত প্রায় ১৯ বছরের বেশী সময় ধরে শেখ রেহানা বোনের দেশসেবার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। কোন পদ-পদবী, বেতন-ভাতা কোনরকমের সুযোগ সুবিধা রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণ করেন নাই। বৃটেনের রানীর কথা এই লেখায় উল্লেখ করেছিলাম এই জন্য যে, এই দুই মহিয়সী নারীকে অর্থাৎ রানী এলিজাবেথ ও শেখ রেহানাকে জাগতিক কোন লোভ লালসা, সম্মান-মর্যাদা সামান্যতমভাবেও আকর্ষণ করতে পারে নাই। বাংলাদেশের মতো একটি গরীব ও স্বল্প আয়ের দেশ যেখানে বঙ্গবন্ধুর ভাষায় 'চাটার দল' দেশটাকে আজও খাবলে খাওয়ার চেষ্টা করছে, সেখানে জাগতিক সম্মান-মর্যাদা, বিলাস, প্রত্যাশা-প্রাপ্তি এসবকে দূরে রেখে নির্মোহভাবে জনগণের কল্যাণে নিয়োজিত থাকা কেবলমাত্র ব্যতিক্রমী ও দৃঢ়চেতা মানুষের পক্ষেই সম্ভব হয়। শেখ রেহানা এই অভিধায় আজ দেশবাসী ও বিশ্ব বাঙালির কাছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য কন্যার স্থানে আসীন আছেন। আমি তাঁর শতায়ু কামনা করি। দেশবাসীর জন্য তাঁর দোয়া প্রার্থণা করি। কায়মানোবাক্যে আশা করি তিনি সুস্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের ও জননেত্রী শেখ হাসিনার পাশে থাকবেন। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। জয় বাংলা, জয় শেখ হাসিনা, জয় শেখ রেহানা । লেখক : বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান মাহমুদ শরীফ সভাপতি, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ,লন্ডন, ১২ই সেপ্টেম্বর ২০২২
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন প্রযুক্তির সুযোগ নিয়ে সাইবার অপরাধ এবং সংঘবদ্ধ বহুজাতিক অপরাধের কারণে সৃষ্ট মানবতাবিরোধী কর্মকান্ড রোধে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা সুসংহত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও অর্থপাচারের পাশাপাশি সহিংস চরমপন্থা এবং প্রযুক্তি নির্ভর অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশের ডিজিটালাইজেশন একটি চমৎকার উপায় হতে পারে। বর্তমানে এসব অপরাধের কারণে বিশ্বজুড়ে পুলিশের দায়িত্ব পালনে তীব্র চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। আজকের বিশ্বে একা কোন দেশের পক্ষে এসব মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। তাই, এসব সমস্যা মোকাবেলায় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা সুসংহত করার কোন বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী আজ গণভবন থেকে নগরীর একটি হোটেলে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ আয়োজিত ১১তম বার্ষিক ইন্টারপা সম্মেলন ভার্চুয়ালি উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, সহিংস চরমপন্থা এবং প্রযুক্তি ভিত্তিক বহুজাতিক অপরাধ দমনে চাহিদা ও ফলাফল ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, ইন্টারপা সদস্যদের সম্মিলিত ইচ্ছা ও যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্বের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, এই সম্মেলনের মূল থিম ‘ডিজিটালাইজেশন অব পুলিশিং’ প্রকৃত অর্থেই সময়োপযোগী হয়েছে। বিশ্বায়নের এই যুগে সহিংস চরমপন্থা এবং আন্তঃসংগঠিত অপরাধ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যে এক বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে সীমানা সামান্যই গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে প্রতিবেশী কূটনীতির রোল মডেল বলে অভিহিত করে আশা প্রকাশ করছেন, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে সমাধান করা অন্যান্য অনেক সমস্যার মতোই তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তিসহ সকল অমীমাংসিত সমস্যা শীঘ্রই সমাধান হবে। তিনি বলেন, "আমি পুনর্ব্যক্ত করেছি যে, ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠতম প্রতিবেশী। বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রতিবেশী কূটনীতির রোল মডেল হিসেবে পরিচিত"। হায়দারাবাদ হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও তার ভারতীয় প্রতিপক্ষের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত সাতটি সমঝোতা স্মারক বিনিময় প্রত্যক্ষ করার পর জারি করা এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গত এক দশকে উভয় দেশই বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি আরো বলেন, "দুটি দেশ বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার চেতনায় অনেক অমীমাংসীত ইস্যু সমাধান করেছে এবং আমরা অবিলম্বে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি দ্রুত স্বাক্ষর করা সহ সকল অমীমাংসীত ইস্যুর সমাধান আশা করছি।" দুই দেশের মধ্যে কুশিয়ারা নদীর পানি বন্টন নিয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিসহ ৫৪টি অভিন্ন নদ-নদীর পানি বণ্টনের মতো সব সমস্যার সমাধান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ও তার ভারতীয় সমকক্ষ নরেন্দ্র মোদি আরেক দফা ফলপ্রসূ আলোচনা শেষ করেছেন এবং এর ফলাফল উভয় দেশের জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। তিনি বলেন, "আমরা ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে বৈঠক করেছি। আগামী দিনগুলিতে আমাদের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে আমরা দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাপক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।" তিনি আরও বলেন, আলোচনার সময় তারা অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সম্ভাব্য উপায়গুলি সম্পর্কে এবং পারস্পরিক কল্যাণের লক্ষ্যে একে অপরের অগ্রাধিকারগুলিকে গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, "সংযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, সীমানা এবং লাইন অব ক্রেডিট সম্পর্কে আমরা আলোচনা করেছি।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গত ৫০ বছরে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব তৈরি করে উভয় দেশ পারস্পরিক স্বার্থে ক্রমবর্ধমান ব্যাপক বিষয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, "আমি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদি আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে এবং আমাদের দুই দেশে ও এ অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছি।" শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত যদি অংশীদার হিসেবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তাহলে এটি শুধু দেশগুলোর জন্যই নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫৪টি অভিন্ন নদী এবং চার হাজার কিলোমিটার সীমান্ত বেষ্টিত বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত কল্যাণে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, আজ দিনের শেষভাগে তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি এবং উপ-রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাত করবেন বলে আশা করছেন। তিনি বলেন, তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বা গুরুতর আহত ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সৈনিক/কর্মকর্তাদের সরাসরি বংশধরদের 'মুজিব বৃত্তি' প্রদান করবেন। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার ও জনগণের অমূল্য সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "স্বাধীনতা লাভের পর থেকে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অভিন্ন ইতিহাস ও সংস্কৃতি, পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধা, দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব এবং অব্যাহত সহযোগিতায় জোরদার হয়েছে।" প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন যা প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অধিকতর গতি সঞ্চার করে চলেছে। তিনি ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ তম বছর উপলক্ষে বছরব্যাপী উদযাপন 'আজাদি কা অমৃত মহোৎসব'-এর সফল সমাপ্তির জন্য ভারত সরকার এবং এর জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী ২৫ বছরের জন্য 'অমৃত কাল'-এর নতুন ভোরে, ভারত 'আত্মনির্ভর ভারত' গড়ে তোলার লক্ষ্যসমূহ অর্জনের পথে ভারতের প্রয়াসের বিষয়ে তিনি তার শুভকামনা ব্যক্ত করেছেন।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার চা শ্রমিকদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করার জন্য সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে কারণ তার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের নাগরিকত্ব প্রদান করায় তিনি তাদের প্রতি বিশেষ দায়িত্ব অনুভব করেন। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা যেমন নাগরিকত্ব দিয়েছিলেন, তেমনি আপনাদের (চা শ্রমিকদের) প্রতি আমার আলাদা দায়িত্ব রয়েছে। আমি সবসময় সেই অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি।’ তিনি আজ গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চা শ্রমিকদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি মতবিনিময়কালে একথা বলেন। ভিডিও কনফারেন্সে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকে যোগদানকারী চা শ্রমিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ দায়িত্ব সরকার নেওয়ার পর থেকেই চা শিল্পকে বিকশিত করার পাশাপাশি চা শ্রমিকরা যাতে উন্নত জীবনযাপন করতে পারে সে বিষয়ে সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চা শ্রমিকদের সকল সমস্যা সমাধান এবং চা শিল্পকে (দেশের অন্যান্য অঞ্চলে) ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সর্বদা সচেষ্ট রয়েছি,। তিনি বলেন, তাঁরা পঞ্চগড়ে নতুন করে চা চাষ শুরু করেছেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (বঙ্গবন্ধু) যখন তৎকালীন চা বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তখন এই শিল্পের বিকাশ ও চা শ্রমিকদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৫৭ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যখন মন্ত্রীত্ব ছেড়ে দিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন তখন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তাঁকে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান করেন। জাতির পিতাই চা বোর্ডের প্রথম চেয়াম্যান ছিলেন। পরে ১৯৫৮ সালে তিনি গ্রেফতার হলে ২৩ অক্টোবর স্বৈরশাসক আইয়ুব খান সে দায়িত্ব কেড়ে নেন। কিন্তু তিনি সেই সময়েই চা-বাগান এবং শ্রমিকদের অবস্থা ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে চা শিল্প যেন নব উদ্যোমে যাত্রা শুরু করতে পারে সে পদক্ষেপও তিনি নেন। জাতির পিতা মতিঝিলে চা বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেন এবং ‘টি অ্যাক্টের ৭ নম্বর ধারার সংশোধনীতে ‘টি লাইসেন্সিং কমিটি বিলুপ্ত করে কমিটির কার্যক্রমকে টি বোর্ডের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসেন। মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে চা গবেষণাগারও নির্মাণ করেন এবং বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানাবিধ সুযোগ-সুবিধারও ব্যবস্থা করেন এবং ’৭০ এর নির্বাচনের প্রাক্কালে চা শ্রমিকদের বিশাল সমাবেশেও তিনি ভাষণ দেন এবং চা শ্রমিকদের অধিকারের কথা বলেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানীরা জ¦ালাও পোড়াও এবং দেশের বিভিন্ন শিল্প কারখানা, রাস্তা-ঘাট, অবকাঠামো ধ্বংসের পাশাপাশি চা বাগানেরও ক্ষতি সাধন করে। কিন্তু জাতির পিতা দেশ স্বাধীনের পর পুণরায় এ শিল্পের পুনরুজ্জীবনে পদক্ষেপ নেন। চা শ্রমিকদের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চা বাগানের মালিকদের সাথে আলোচনা করে চা শ্রমিকরা যাতে সঠিকভাবে জীবনযাপন করতে পারে সেজন্য তাঁর সরকার তাদের দৈনিক মজুরি এবং অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধি করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি যে আমরা তাদের (চা শ্রমিকদের) দাবিগুলো উপলব্ধি করতে পারি।’ এর আগে গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী চা বাগান মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন যেখানে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং তাদের জন্য অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আনুপাতিক হারে বাড়ানো হবে বলেও জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিকদের মজুরি পুননির্ধারণ নিয়ে বলেন, ‘আপনাদের চাহিদাটা আমরা পুরণ করতে পেরেছি বলেই মনে করি। কেননা জাতির পিতা শেখ মুজিব যেহেতু আপনাদেরকে নাগরিকত্ব দিয়ে গেছেন সেজন্য তাঁর কন্যা হিসেবে মনে করি আপনাদের প্রতি আমার একটা আলাদা দায়িত্ব রয়েছে। আর সেই দায়িত্বটা যথাযথভাবে পালনেরই চেষ্টা করি। আর মালিকরাও যাতে আপনাদের যথাযথ ভাবে দেখে সেজন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।’ তাঁর কথা মালিকরা মেনে নেওয়ায় তিনি তাদেরকেও ধন্যবাদ জানান। মালিকরা তাদের কথা মেনে চলবেন এবং শ্রমিকদের প্রতি যতœবান হবেন বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। শেখ হাসিনা বলেন, চা শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়ে তিনি সত্যিই খুব খুশি এবং শ্রীমঙ্গলে চা বাগান পরিদর্শনকালে চা শ্রমিকদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমনকি উপহার নিয়ে চা শ্রমিকরা গণভবনে তাঁর সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করতে আসেন। যেটা তাঁর জন্য অনেক সম্মানের এবং চা শ্রমিকদের জমানো পয়সা এবং ভালবাসা দিয়ে প্রদান করা এত বড় উপহার আর কোনদিনও পাননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর সরকার সকলের জন্য অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা সহ সকল মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করছে এবং সকলকে গৃহহীনকে বিনামূল্যে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান চা শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সকলের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা আমি করে দেব। এই মাটির ওপর আপনাদের অধিকারটা যেন থাকে সেই ব্যবস্থাটাই করে দিয়ে যাব ইনশাল্লাহ। চা বাগানের মালিকদের পরিচালিত স্কুলগুলো জাতীয়করণের পাশাপাশি চা শ্রমিকদের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষসাধনের এবং চা শ্রমিকদের মাত্রিত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাস এবং রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ^ মন্দার প্রেক্ষাপটে চা শ্রমিক থেকে শুরু করে প্রতিটি নাগরিকের সব রকম কষ্ট লাঘবে তাঁর সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। ‘মত বিনিময়কালে চা শ্রমিকদের ছোট খাটো কয়েকটি প্রয়োজনের কথা জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে তা পূরণের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চা শিল্পটা যেন ধ্বংস না হয় সেজন্য তাঁর সরকারের প্রচেষ্টা সবসময় অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, যে ভরসাটা আমার ওপর রেখে আপনারা কাজে যোগ দিয়েছেন সেজন্য সত্যিই আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
বিশেষ প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, বাংলাদেশ তার উন্নয়নের ধারা থেকে কখনোই শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতিতে পতিত হবে না, বরং সব বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা কথা মনে রাখবেন (দলের নেতাকর্মীদের) যে- বাংলাদেশ কখনই শ্রীলঙ্কা হবে না, হতে পারে না।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে কেউ কেউ শ্রীলংকা বানাচ্ছে বাংলাদেশকে। আমি আপনাদের একটা কথা জানাতে চাই, যেহেতু আপনারা আমাদের নেতা-কর্মী তাই আপনাদের এ কথাটা শুনতে ও জবাব দিতে হয়। আপনারা একটা কথা মনে রাখবেন- বাংলাদেশ কখনও শ্রীলংকা হবে না, হতে পারে না। ’ সরকার প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি, তাতে শ্রীলংকা হয়েই গিয়েছিল ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি’র শাসনামলে।’ কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সে সময় পাঁচ বার দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ ও পানির জন্য হাহাকার, মানুষের কর্মসংস্থান নাই, তার ওপর জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, সারাদেশে বোমা হামলা, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবিরিয়াকে হত্যাসহ বিভিন্ন জায়গায় গ্রেনেড হামলা। আর তখনই মানুষ আন্দোলনে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়। কাজেই শ্রীলংকার সেই অবস্থান থেকেতো বাংলাদেশকে উদ্ধার করে নিয়ে আসতে সমর্থ হয়েছি। কাজেই আজকের বাংলাদেশ কেন শ্রীলংকা হবে? তিনি বলেন, আমাদের যে অর্থনীতির গতিশীলতা সেটা যেন অব্যাহত থাকে এবং অর্থনৈতিকভাবে আমাদের দেশটা যাতে এগিয়ে যেতে পারে সেজন্য সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নিয়ে তাঁর সরকার এগোচ্ছে। দেশের সার্বিক উন্নয়ন বিবেচনাতেই তাঁর সরকার উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরাট অংকের উন্নয়ন প্রকল্প এটা নিলে পরে বিরাট অংকের একটা কমিশন পাবো, সেকথা চিন্তা করে শেখ হাসিনা কোন প্রকল্প নেয় না। ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মান্নাফীর সভাপতিত্বে আলোচনা সঞ্চালনা করেন ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উত্তর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাদেক খান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। আরও বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল, উত্তর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এম এ কাদের খান, দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহীদ সেরনিয়াবাত প্রমুখ। শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালনের মধ্যদিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়। শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কেবল উন্নয়নশীল দেশেই উন্নীত হয়নি। আমরা স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপন করেছি, বিশ^ব্যাংকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি এবং করোনার মধ্যে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু শুধু সেতুই নয়, এই সেতু হচ্ছে বাংলাদেশের গর্ব, সম্মান এবং আত্মমর্যাদাবোধের প্রতীক। কারণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে আমরা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি, আমরা বিজয়ী জাতি। আমরা কারো কাছে মাথা নোয়াব না, হেরে যাব না। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে লাভ নেই। করোনার পর যুদ্ধ (রাশিয়া-ইউক্রেন) এবং একে ঘিরে নানারকম স্যাংশনের পরিপ্রেক্ষিতে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বাজেট বরাদ্দে দেশ এবং জনগণের প্রয়োজনানুপাতে বাস্তবায়নের জন্য এবিসিডি ধাপ করে দিয়েছেন যাতে কোনটার পর কোনটা বাস্তবায়িত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ‘ধার করে ঘি খাওয়ার নীতি’তে যেমন বিশ^াসী নয়, তেমনি বাংলাদেশের যে ঋণ রয়েছে তা সময়মত পরিশোধ করতে থাকায় এসব বিষয়েও কোন সমস্যার তিনি আংশকা করছেন না। তিনি বলেন, ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে অগ্নি সন্ত্রাস ও জ¦ালাও-পোড়াওয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বেঁচে থাকার অধিকারটুকু দেয়নি সেই বিএনপি’র কাছ থেকে মানবতা এবং মানবাধিকারের কথা শুনতে হয়। তারপরও তিনি বিএনপি’র সাজাপ্রাপ্ত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অসুস্থতার বিচারে সহযোগিতা করার লোক দিয়েছেন। জেলের বদলে তাঁর নির্বাহী ক্ষমতা বলে বাসায় থেকে চিকিৎসার সুযোগ নিয়েছেন। অথচ খালেদা জিয়ার স্বামী জিয়াউর রহমান তাঁর বাবা-মা ভাই ভাইয়ের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যায় যারা জড়িত তাদের ‘ইনডেমনিটি’র মাধ্যমে দায়মুক্তি দিয়ে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আরো এক ধাপ এগিয়ে খুনিদের ’৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রার্থী করে বিজয়ী ঘোষণা করে বিরোধী দলের নেতার আসনে বসায়। আওয়ামী লীগ সরকারে এসে জাতির পিতার হত্যাকান্ডের বিচার শুরু করলে মামলার রায় ঘোষণার দিনও বিএনপি হরতাল ডেকেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হত্যা করেছে তাদের আপনজন, বিচারের আওতায় আসা যুদ্ধাপরাধীদের সন্তান ও যারা নানা অপরাধ করে বাংলাদেশ থেকে পালিয়েছে তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে জানিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার এবং বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালিকে তিনি (বঙ্গবন্ধু) গভীরভাবে ভালোবেসেছেন। তাকে যখন বিশ্ব নেতারা সতর্ক করেছেন, মিসেস গান্ধি নিজে বলেছিলেন যে, কিছু একটা ঘটছে আপনি সতর্ক হন। তাঁর জবাব ছিল না, এরা তো আমার সন্তানের মতো। এরা আমাকে কেন মারবে? কোন বাঙালি তাকে মারতে পারে এটা জাতির পিতা কোনদিন বিশ্বাসই করেননি উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আর বিশ্বাসঘাতকরা আজ দলে বলে ফুলে ফেঁপে উঠে বড় বড় কথা বলছে। যে সমস্ত দেশ বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে কথা বলে তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা মানবাধিকারের কথা শোনায় আমাদেরকে। মানবাধিকার নিয়ে তত্ত্বজ্ঞান দেয়। কিন্তু আমার কাছে যখন এই কথা বলে বা দোষারোপ করে তারা কি একবারও ভেবে দেখে যে আমাদের মানবাধিকার কোথায় ছিল যখন আমরা আপনজন হারিয়েছি? স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে কেঁদে বেড়িয়েছি। বৈশ্বিক সংকটের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপচয় রোধ করতে হবে, সব কিছুর ব্যবহার সীমিত করতে হবে,সঞ্চয় করতে হবে এবং সাশ্রয়ী হতে হবে।

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা