12162018রবি
স্পটলাইট

স্পটলাইট (825)

নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক রোববারের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা পিছিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক বলেন,‌ অনিবার্য কারণবশত রোববারের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। রোববার যে পরীক্ষাগুলো ছিল, সেগুলো আগামী শুক্রবার সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। রোববার জেএসসি পরীক্ষার্থীদের ইংরেজি ও জেডিসি পরীক্ষার্থীদের আরবি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। নবমবারের মতো এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই পরীক্ষা। ২০১০ সাল থেকে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়। শিক্ষা বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, এ বছর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৬ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৩। গত বছরের তুলনায় এবার দুই লাখ এক হাজার ৫১৩ পরীক্ষার্থী বেড়েছে। এর মধ্যে জেএসসিতে এক লাখ ৭৭ হাজার ৬৬ এবং জেডিসিতে ২৪ হাজার ৪৪৭ জন। এবার নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ৭টি বিষয়ে ৬৫০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। বাংলা ২য় পত্র এবং ইংরেজি ১ম/২য় পত্র ছাড়া সব বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিশেষ প্রতিনিধি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত তাদের নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসতে রাজি হয়েছে আওয়ামী লীগ। সংলাপের আহ্বান জানিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চিঠি পাওয়ার পরদিন সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বক্ষণে কোনো চাপের মুখে এই সংলাপ হচ্ছে না এবং তারা কোনো পূর্বশর্তও দিচ্ছেন না। তফসিলের আগেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসবেন তারা। কাদের বলেন, আমরা কারও চাপের মুখে নতি স্বীকার করিনি। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা কাউকে সংলাপে ডাকিনি। তারা সংলাপ করতে চান, ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। সংলাপের দরজা সবার জন্য খোলা। আমরা ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাব সম্মত। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী কাদের বলেন, “শেখ হাসিনার দরজা কারো জন্য বন্ধ হয় নাই, বন্ধ থাকে না। এর মধ্য দিয়ে আপনারা বুঝতে পারছেন যে আমরা আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাবে সম্মত। আমরা সবাই এ ব্যাপারে নেত্রীর সঙ্গে একমত যে আমরা ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসব। দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি ২০১৪ সালের ওই নির্বাচনের পর থেকেই সংলাপের আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু তার কোনো প্রয়োজন দেখছিল না আওয়ামী লীগ। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে আলোচনার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করে শেখ হাসিনার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কথাও বলে আসছিলেন আওয়ামী লীগের নেতারা। দুর্নীতির মামলায় দন্ড নিয়ে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়া এবং গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় খালেদার ছেলে তারেক রহমান দোষি সাব্যস্ত হওয়ার পর ‘খুনিদের’ সঙ্গে সংলাপে না বসার কথা আরও জোর গলায় বলছিলেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এদিকে আওয়ামী লীগকে নত করতে ব্যর্থ বিএনপি গত ১৩ অক্টোবর গণফোরাম সভাপতি কামালের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়ে ৭ দফা দাবি তুলে তা নিয়ে নতুন করে সংলাপের আহ্বান জানায়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফায় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি রয়েছে, যা বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সম্ভবপর নয় বলে আওয়ামী লীগ নেতারা বলে আসছেন। এর মধ্যে রোববার সংলাপের আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে লেখা কামাল হোসেনের চিঠি পৌঁছে দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সেই চিঠি পাওয়ার পর সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর শেখ হাসিনা আলোচনা করেন বলে কাদের জানান। তিনি বলেন, “আজকে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর নেত্রী আমাদের নিয়ে অনির্ধারিত একটি বৈঠক করেন। উপস্থিত দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সবার মতামত জানতে চান। অনির্ধারিত এ আলোচনায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দরজা কারো জন্য বন্ধ নয়।” কাদের বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে সংলাপে নেতৃত্ব দেবেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। খুব শিগগিরই আমরা সময়, স্থান ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো তাদের জানিয়ে দেব। এটা অনতিবিলম্বে জানিয়ে দেব।” এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “সংলাপ তফসিলের আগেই হবে।” জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা মানা হবে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। আলোচনা যখন হবে, আলোচনার রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করেন।” আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয়ে ‘জরুরি’ এই সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই কাদের বলেন, “আমি এই মুহূর্তে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সমগ্র দেশবাসীর জন্য প্লিজেন্ট সারপ্রাইজ দেব, যা সারাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে দেবে।” সংলাপের চিঠিতে আওয়ামী লীগের এক সময়ের নেতা কামাল লিখেছিলেন, “একটি শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সকলের অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্ধিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে একটি অর্থবহ সংলাপের তাগিদ অনুভব করছে এবং সে লক্ষ্যে আপনার কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি।” তিনি চিঠি শুরু করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক বলার মাধ্যমে। শেষে প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। বর্তমান রাজনৈতিক ‘সঙ্কটের’ জন্য নির্দিষ্ট কাউকে দায়ী না করে কামাল লেখেন, “নেতিবাচক রুগ্ন রাজনীতি কিভাবে আমাদের জাতিকে বিভক্ত ও মহাসঙ্কটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে, তাও আমাদের অজানা নয়।”
বিশেষ প্রতিনিধি পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূমি অধিগ্রহণের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনসহ ২১টি প্রকল্পের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের দক্ষিণাঞ্চল ঘিরে তার উন্নয়নের মহা-পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর আগেই বাংলাদেশ ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ওই সময়ে বাংলাদেশের কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। কোনো মানুষ রোগে ধুকে মরবে না। তারা চিকিৎসা পাবে। প্রতিটি ছেলে মেয়ে স্কুলে যাবে, লেখা পড়া শিখবে এবং উচ্চ শিক্ষায় সুশিক্ষিত হবে। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূমি অধিগ্রহণের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নির্মিত পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘স্বপ্নের ঠিকানা’র দলিল ও চাবি হস্তান্তর উপলক্ষে শনিবার এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “এই অঞ্চলকে ঘিরে আমাদের মহাপরিকল্পনা রয়েছে। এখানে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা আামাদের লক্ষ্য।” দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দেশের দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও এ অনুষ্ঠানে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা আরেকটি দ্বীপ খুঁজছি। অ্যাটমিক এনার্জির লোকরা সেখানে দেখছে। আমরা ফিজিবিলিটি স্টাডিও করছি। এখানে আমরা আরেকটি পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তুলব। সেই পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।” দেশের সমুদ্র সম্পদ কাজে লাগনোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই সমুদ্র সীমা আমরা কাজে লাগাব। ব্লু ইকোনমি পরিকল্পনা আমরা ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছি। এই সমুদ্র সম্পদ যাতে আমাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কাজে লাগে তার ব্যবস্থা আমরা নেব।” স্বপ্নের ঠিকানার উদ্বোধন করে প্রধামন্ত্রী বলেন, “এই এলাকায় ১৩০টি পরিবারের জন্য আমরা ঘর তৈরি করে দিয়েছি। এই পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ তো দিয়েছিই, ঘরও তৈরি করেছি, যাতে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করতে পারে।” বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা আমাদের দেশকে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।” আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ প্রতিনিধি দেশের মানুষের ‘স্বার্থে’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে বলে কড়া মন্তব্যে করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ আইনটি সংসদে পাস হওয়ার পর এখন আর কিছুই করার নেই বলে সাফ জানালেন তিনি। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার এ নিয়মিত বৈঠক আলোচনাকালে তিনি এ কথা বলেন। সম্প্রতি সংসদে পাশ হওয়া ডিজিটাল আইনের কিছু ধারা সংশোধনের ব্যাপারে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করার জন্য সরকারের দুই মন্ত্রী সম্পাদকদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুসারে সম্প্রচার আইন নিয়ে আলোচনার সময় আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্রসঙ্গটি তোলেন। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে আইন ও তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শোনেন। তারা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারার সংশোধন না হলে সম্পাদকসহ সাংবাদিকরা আন্দোলনে নামবে। তা মাঠের (বিএনপিসহ অন্যদলের) আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কারো স্বাধীন সংবাদিকতায় বাধা সৃষ্টির জন্য করা হয়নি। সঠিক তথ্য থাকলে যে কেউ যে কোন সংবাদ করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে এ আইন কারো জন্য বাধা হয়ে দাড়াবে না। তিনি বলেন, মালিক ও সম্পাদকরা কর্মসূচী দিচ্ছেন কেন? তাদের তো কোন সমস্যা দেখছি না। (এসময় একজন সিনিয়র মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে জানান, সম্পাদকরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবি নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করছেন)। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনকারী সম্পাদকদের মধ্যে একজন আছেন, যিনি এক এগারোর সময়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রিপোর্ট করেছেন। পরে একটি টেলিভিশনে ওই সম্পাদক জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এই বলে ডিজিএফআইয়ের দেয়া তথ্য বহুবহু আমার ছাপানো ঠিক উচিত হয়নি। ডিজিএফআইয়ের তথ্য নির্ভর সাংবাদিকতা করা সম্পাদক জাতির কল্যাণে লাগে না। শেখ হাসিনা বলেন, কথায় কথায় ব্রিটিশ আইন ফলো করার কথা বলেন ওনারা (সম্পাদকরা)। এক ভুল রিপোর্টের কারণে বিবিসির সম্পাদক পরিষদের সকল সদস্যকে পদ্যত্যাগ করতে হয়েছে। আর ব্রিটেনের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তো আরও কঠিন বললেন তিনি। তিনি বলেন, উনি তো ওনার লেখা লিখবেনই। আইন যা করার করে দিয়েছি। এখন তো বলে কোন লাভ নেই। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, ডিজিটাল আইন করা হয়েছে, দেশের সকল শ্রেণির মানুষের স্বার্থ রক্ষাতে। কিশোর ও যুব সমাজ রক্ষা, সামাজিকস্থিতিমীলতা ধরে রাখতে এই আইনের প্রয়োজন আছে। শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকতে আইনের সংশোধন চান না প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ক্ষমতা আজ আছে কাল নেই। এসব আমি ভাল করে জানি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদে পাস হয়ে যাওয়ার পর এখন আর কী কথা বলবেন, কী আলোচনা করবেন এ আইন কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য করা হয়নি। যারা সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে সরকার কড়া অবস্থানে থাকবে। যারা সত্য অনুসন্ধানী তাদের তো কোনো সমস্যা না। যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরকার, দেশ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তাদের জন্য এই আইন। এ সময় তথ্যমন্ত্রী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে এডিটর কাউন্সিলের মানবন্ধনের বিষয়টি তুলে ধরলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন সম্পাদক তো সব সময় আমার বিরুদ্ধে লেখার জন্য প্রস্তুত থাকে। পদ্মাসেতুর অর্থায়ন যাতে না হয় সে জন্য ড. ইউনূসের সঙ্গেও তিনি বিশ্বব্যাংকে গিয়ে কথা বলেছিলেন। মিথ্যা তথ্য কি ভাবে দেশেকে ক্ষতিগ্রস্ত করে সেই অভিজ্ঞতা তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি লন্ডনে কোন এক অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পরিচয় পাওয়ার তিনি প্রথম দেখাতেই পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুনীতির প্রসঙ্গটি তোলেন। প্রধানমন্ত্রীর কড়া জবাব, আপনি নিশ্চিত না হয়ে এ ধরণের কথা বলবেন না। বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ করলেও কোন প্রমান দিতে পারেনি। বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রধান হিসেবে অন্যের দায়ভার নিজের কাধে নেবে না।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের ভিত্তিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিফলন ও বিএনপিকে দুর্বল করার অসৎ উদ্দেশ্য। তাই এই রায়ের ভিত্তিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের প্রশ্ন আসে না। তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সাজানো মামলায় তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এটা জানার পরেও কেউ কেউ দল থেকে তার পদত্যাগের যে পরামর্শ দিয়েছেন, তাদের কাছে জনগণ প্রশ্ন করতে পারে যে, এত শত গুম, খুন করার জন্য দায়ী সরকারের পদত্যাগ কি তারা দাবি করেছেন? ফখরুল বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, গণমাধ্যমের একাংশ এই রায় প্রকাশের পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে মনগড়া কিছু তত্ত্ব ও তথ্য প্রকাশ করে তার সম্পর্কে জনমনে বিরূপ ধারণা দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি বিরোধী রাজনৈতিক জোট গঠনের মূল উদ্যোক্তাদের একজন ড. কামাল হোসেন বিবিসি বাংলাকে গত রবিবার একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। রেডিও-তে প্রচারিত সাক্ষাৎকারটির ওপর ভিত্তি করে বিবিসি বাংলার অনলাইনে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয় তার শিরোনাম ছিল "বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে নীতিগত আপত্তি নেই ড. কামালের"। ওই সাক্ষাৎকারের সূত্র ধরে সোমবার সাংবাদিকরা ড. হোসেনকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন যে বিবিসি বাংলা তাঁর বক্তব্য ঠিকভাবে উদ্ধৃত করেনি। বিবিসি বাংলার সঙ্গে ওই সাক্ষাৎকারে তিনি যা বলেছিলেন, নিচে তা হুবহু তুলে ধরা হল। ড. কামাল হোসেনের কাছে বিবিসি বাংলার মোয়াজ্জেম হোসেন প্রথমেই জানতে চেয়েছিলেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া কি নির্বাচনী জোট, না-কি সরকার বিরোধী আন্দোলনের মঞ্চ? ড. কামাল হোসেন: পুরো সুষ্ঠু নির্বাচন করার জোট, যে কারণে এটা সম্ভব হয়েছে ইমিডিয়েটলি করে নেয়া। বিবিসি বাংলা: তাহলে আপনি বলছেন এটি ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে বিরোধীদের কোন জোট নয়? ড. কামাল হোসেন: না না, মোটেই না। সরকার আসতে পারে তো এখানে। বিবিসি বাংলা: কিন্তু আমরা তো এরকম একটা সমালোচনা শুনছি যে আপনারা আসলে সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য এবং বিরোধী দল বিএনপিকে মাঠে নামার সুযোগ করে দেয়ার জন্য এই জোটটা করেছেন। ড. কামাল হোসেন: ওনাদেরকে একটু আশ্বাস দিতে পারেন যে এরকম কোন সিদ্ধান্ত আমাদের মাথায় ছিলই না যখন আমরা এটা করি।। শুরু ছিল যে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে যারাই নির্বাচনে, ইনক্লুডিং সরকারও, এই জোটে আসতে পারে। বিবিসি বাংলা: তো এই যে আপনারা বলছেন যে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে আপনারা এই জোটটা করেছেন তো সেই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কী কী পূর্বশর্ত আপনারা সরকারকে দিচ্ছেন যে কোন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন আসলে করা সম্ভব হবে? ড. কামাল হোসেন: এই যেমন সুষ্ঠু নির্বাচন হল যে, ভোটার লিস্টগুলো নিরপেক্ষভাবে, সঠিকভাবে তৈরি করা হবে। সকলকে সেই সুষ্ঠু ভোটার লিস্টের ভিত্তিতে ভোট দেয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। Image caption নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধী জোট গঠনের উদ্যোক্তারা বিবিসি বাংলা: কিন্তু নির্বাচনটা যে সরকার পরিচালনা করবে সেই সরকার কেমন হবে, কোন কাঠামোতে সেই সরকার পরিচালিত হবে, সে ব্যাপারে আপনাদের বক্তব্যটা কি? ড. কামাল হোসেন: সেটা তো আইনেই আছে। বুচ্ছেন না। সেখানে ইলেকশনের সময় যারা পরিচালনা করবেন তারা নিরপেক্ষ থাকবেন, তারা কোন দলীয় প্রভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবেন না। ইলেকশন হবে। মানে যেটা শুড বি, নট অনলি ফেয়ার, বাট বি সিন টুবি ফেয়ার, বুচ্ছেন না, এটা মানে ... বিবিসি বাংলা: কিন্তু এখন বাংলাদেশের যে সংবিধান, সেই সংবিধানে কি আসলে এমন নিরপেক্ষ লোক দিয়ে সরকার গঠনের কোন সুযোগ আদৌ আছে? ড. কামাল হোসেন: না, সেটাতো মানে, সংবিধানে এটা তো মানুষের চরিত্রের ব্যাপার। আমরা বলছি যে বিভিন্ন দলের যারা নেতৃবৃন্দ আছেন তারা যখন একটা স্বাক্ষর করবেন যে, আমরা কেউ এখানে হস্তক্ষেপ করবো না, আমরা এই প্রক্রিয়াকে একটা নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া হিসেবে হতে দেব। তখন আমরা ধরে নিতে পারি যে সরকারের পক্ষে যারা ওথ নিয়ে কথাগুলো বলবেন, আমাদের পক্ষে যারা ওথ নিয়ে বলবেন, তাদের তো একটা ন্যূনতম দায়িত্ববোধ থাকবে আর কি, যেটা বলবেন সেটা রক্ষা করবেন। বিবিসি বাংলা: কিন্তু এখন যে বাংলাদেশের সংবিধান, এই সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে কিভাবে আসলে এই সরকারটা গঠন করা হবে। আপনাদের কি কোন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আছে? ড. কামাল হোসেন: না, সেগুলো তো আইন এবং সংবিধান দেখলে তো ওখানে বলা আছে, নির্বাচন হবে, নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হবে, সকলেই যারা এখানে, মানে প্রতিযোগিতা করতে চান, এসে করতে পারবেন। এবং সেটা নির্বাচন কমিশন এটার রেফারি হিসাবে পরিচালনা করবে। কোন রকমের যদি নিরপেক্ষতা থেকে কেউ সরে যায় তো সেটাকে তারা চিহ্নিত করবে এবং এটাকে অবৈধ বলবে। এবং যদি সে, এরকম অবৈধ কোন জিনিষ না হয়, যেটা নিয়ে ইলেকশন কমিশন কে বলতে না হয় যে এ নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ হল না, তখন তারা এটার রায় দেবে না আর কি। তো এগুলো তো ইলেকশন আইনের মধ্যেই আছে। বিবিসি বাংলা: তার মানে আপনি কি, আপনারা কি এটা বলতে চাইছেন যে এখন বাংলাদেশের যে সংবিধান এবং এই সংবিধানের অধীনে এখন বাংলাদেশে যে সরকার ক্ষমতায়, এই সরকারের অধীনে আপনারা নির্বাচনে যেতে রাজী? ড. কামাল হোসেন: ইন প্রিন্সিপাল, ইন প্রিন্সিপাল। এটা বলা হচ্ছে যে তারা যেগুলো, মানে আইনে আছে, এগুলো মেনেই করবেন। যদি এখান থেকে কোন দেখা যায় যে না তারা এখান থেকে সরে যাচ্ছে, অথবা কোন রকমের প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে, তখন যদি এটা দৃষ্টিতে আসে, তখন তো প্রচণ্ড আপত্তি করা হবে যে এটা থেকে আপনারা বিরত থাকেন। যদি এটা থেকে বিরত ... যদি করতে থাকেন, আমি বলবো না যে করবেন, যদি আইদার সাইড দেখে যে না, এটা কোন কেউ এটা রীতিনীতি না মেনে করা হচ্ছে, তখন তো নির্বাচনকে বাতিল করার জন্য কোর্টে যেতে হবে। কোর্টকে বলতে হবে যে, এসব কারণে এটা অবাধ নিরপেক্ষ হল না, যেটা আইনের বিধান আছে যে এটা হতে হবে, সো আপনারা কোর্ট এটাকে বিবেচনা করে ডিক্লেয়ার করেন যে এটা হল না। এটা ইলেকশন এখানে সংবিধান অনুযায়ী হয়নি, তো যার কারণে এখন নতুন করে ইলেকশন আবার করতে হয়। বিবিসি বাংলা: এই যে আপনি বলছেন ইন প্রিন্সিপাল বা নীতিগতভাবে বর্তমান সরকারের অধীনে, নির্বাচনে যেতে আপনারা রাজী, এটি কি শুধু আপনাদের কথা বলছেন, নাকি আপনাদের প্ল্যাটফর্মে যতো দল এসেছে বিএনপিসহ সবার কথা বলছেন - সবাই যেতে রাজী? ড. কামাল হোসেন: না, আসলে তো আমরা এভাবে বসে এই ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত হয় নাই। আমি আমাদের দলের কথা বলছি আর কি। আর, এটা তো একটা সিম্পল প্রভিশনের আমি মনে করি যে সবাই এটা, মানে, বলতে দ্বিধাবোধ করবেন না। তবে কোন সিদ্ধান্ত এরকম বসে আমরা নিই নাই।
বিশেষ প্রতিনিধি পদ্মার ব্যাপক ভাঙ্গনে নড়িয়া উপজেলা প্রায় বিলীন হওয়ার খবর না রাখায় মন্ত্রীদেও উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এ রকম একটি ভয়াল নদী ভাঙ্গনে একটি জনপদ প্রায় নিশ্চিহ্ন হওয়া পথে। আপনারা (মন্ত্রীরা) কেউ খবর রাখলেন না। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শুরুর আগ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তার ক্ষোভের কথা বলেছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মন্ত্রী বলেন, ব্যাপক ভাঙ্গনে নড়িয়া উপজেলার কয়েক মাইল ফসলি জমি ও হাটবাজার, বন্দর পদ্মা গর্ভে চলে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই ভাঙ্গন রোধের বিষয়ে পূর্ব প্রস্তুতি ছিল না। এজন্য প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদেও প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওই এলাকার মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে শেখ হাসিনা বলেন, নড়িয়ার একিট জনপদ পদ্মা গর্ভে বিলীন হচ্ছে, অথচ কোন মন্ত্রী ওই এলকা পরিদর্শনে যাননি। আপনারা কেউ বিষয়টি আমাকেও জানাননি। প্রধানমন্ত্রী নদীভাঙন কবলিত এলাকার সংসদ সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ এর সঙ্গে জড়িতদের উদ্দেশ্যে বলেন, ভাদ্র মাসে নদীতে পানির টান পড়ে। তাই এ সময় নদীভাঙনের ঘটনা ঘটে। তবে আগে থেকে বুঝা যায় না কোন এলাকায় নদীভাঙন হবে। তারপরও যেসব এলাকা নদীভাঙন কবলিত বলে চিহ্নিত সেসব এলাকায় পূর্ব প্রস্তুতি নেয়া উচিত ছিল। কিন্তু সে রকমভাবে নেয়া হয়নি। তবে একজন মন্ত্রী ওই এলাকার ভাঙ্গন রোধে সরকারের নেয়া প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প গ্রহনের কথা তো বললেন। তা বাস্তবায়নে সময় লাগে। বুঝলাম ভাঙ্গণের উপর আমাদেও হাত নেই, আপনারা তো নদী ভাঙ্গণে নি:শ্ব হয়ে পড়া মানুষের পাশে গিয়ে অন্তত তো দাড়াতে পারতেন। পত্র-পত্রিকায় নিউজ হওয়ার কারণে বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমনকি নদীভাঙন বিষয়ে তাকে কেউ জানায়ওনি। এজন্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। গত কয়েক মাস ধরে শরিয়তপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙনের ঘটনা ঘটেছে। শরীয়তপুরে এখনও অব্যাহত রয়েছে পদ্মার ভাঙন। গত দেড় বছরে পদ্মার ভাঙনে সেখানে নিঃস্ব হয়েছে ৫ হাজার ৮১টি পরিবার। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও ৮ হাজার পরিবার। ভাঙনে নড়িয়ার কেদারপুর, মোক্তারের চর ইউনিয়ন ও নড়িয়া পৌরসভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এছাড়া উত্তারাঞ্চলেরও বেশ কয়েকটি এলাকা নদীভাঙনে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিলিন হয়ে গেছে। হাজার হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের ৬৬ শতাংশ নাগরিক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি ৬৪ শতাংশ নাগরিক আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইন্সটিটিউট (আইআরআই) পরিচালিত এক জরিপের ফলে এ কথা বলা হয়। এবছরের ১০ এপ্রিল থেকে ২১ মে’র মধ্যে এই জরিপ পরিচালিত হয়। খবর বাসসের এতে বলা হয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি আশানুরূপভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ৬২ শতাংশ নাগরিক মনে করেন অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় দেশ সঠিক পথে আছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬৯ ভাগ নাগরিক। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইনসাইট অ্যান্ড সার্ভের এক গবেষণা প্রতিবেদনে ৩০ আগস্ট এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। ৬৬ ভাগ নাগরিকের কাছে জনপ্রিয় শেখ হাসিনা। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রতি ৬৪ ভাগ নাগরিকের সমর্থন রয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনের নোটে বলা হয়, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। আর সে কারণেই ৬৮ ভাগ নাগরিক জননিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট। এর মধ্যে ৫৭ ভাগ মনে করছেন, সামনে জননিরাপত্তা ব্যবস্থার আরো উন্নতি হবে। জরিপের ফলে আরও বলা হয়, সরকারি বিভিন্ন সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও জনসন্তুষ্টি বেড়েছে। জনস্বাস্থ্য খাতে সরকারি সেবায় সন্তুষ্ট ৬৭ ভাগ মানুষ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬৪ ভাগ নাগরিক। এ ছাড়া সড়ক ও ব্রিজের উন্নয়নের প্রভাব নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬১ ভাগ নাগরিক। দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক আবহ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৫১ ভাগ নাগরিক। পার্লামেন্টের কার্যক্রমের ওপর তাদের আস্থা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। নাগরিকদের কাছে ভোট অধিকার প্রয়োগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ৮১ ভাগ জানায়, আগামী নির্বাচনে তারা ভোট প্রদান করবে যার মধ্যে ৫১ ভাগ দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক আবহের পক্ষে মত প্রদান করেন। চলতি বছরের ১০ এপ্রিল থেকে ২১ মে পর্যন্ত এই জরিপ চালানো হয়। সেখানে দেশের মোট জনসংখ্যাকে কিছু স্তরে ভাগ করে কয়েকটি পর্বে বাছাই করা হয় (মাল্টি স্টেজ স্ট্রেটিফাইড প্রবাবিলিটি স্যাম্পল) এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি অথবা বাসায় (ইন পারসন/ইন হোম) ফোন করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণার জন্য স্তরগুলো দেশের বিভাগ ও জেলা এবং গ্রাম ও শহর হিসেবে ভাগ করে নেয়া হয়। এই গবেষণার জন্য ৫ হাজার মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয় যাদের বয়স ১৮ বা তার বেশি এবং আগামী নির্বাচনে ভোট দেয়ার অধিকার রাখেন। এর আগে আইআরআই-এর গবেষণা প্রতিবেদনেও কাছাকাছি ফল পাওয়া যায়। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত গবেষণা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬৪ ভাগ নাগরিক মনে করে দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০১৫ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিল, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) যৌথ আয়োজনে পরিসংখ্যানেও একই কথা বলা হয়। প্রতিবেদন জানানো হয়, ৭৫ ভাগ তরুণের মতে বাংলাদেশ আগামী ১৫ বছরে আরো উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে এবং তাদের মধ্যে ৬০ ভাগ তরুণ মনে করেন দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই গবেষণা প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ত নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে ৭২ দশমিক ৩ ভাগ নাগরিক দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনার পক্ষে ‘ভালো মত’ প্রকাশ করেন। এই প্রতিবেদনেই ২৬ দশমিক ৬ ভাগ নাগরিক দেশ পরিচালনায় খালেদা জিয়ার পক্ষে ‘ভালো মত’ প্রকাশ করেন। ২০১৫ সালে আইআরআই প্রকাশিত অপর এক জরিপ অনুসারে, ৬৭ ভাগ নাগরিক দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখেন
বিবিসি বাংলা অন্যান্য দিনের মতোই রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৪ই অগাস্ট রাত ৮টা নাগাদ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে ফেরেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে রাত ১২টার মধ্যেই সে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে যায়। তখন সে বাড়ির নীচ তলায় একটি কক্ষে কর্মরত ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী এ এফ এম মুহিতুল ইসলাম। রাত তিনটা নাগাদ ঘুমাতে যান মি: ইসলাম। এর কিছুক্ষণ পরেই সে বাড়িতে টেলিফোনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি মি: ইসলামকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। কারণ রাষ্ট্রপতি তার সাথে কথা বলতে চেয়েছেন। মুহিতুল ইসলাম ২০১৬ সালে মারা যান। ১৯৯৬ সালে মি: ইসলাম শেখ মুজিব হত্যা মামলার বাদী হয়েছিলেন। এর আগে ২০১০ সালে বিবিসি বাংলার সাথে এক সাক্ষাতকারে মি: ইসলাম বলেন, " বঙ্গবন্ধু আমাকে বললেন, সেরনিয়াবাত সাহেবের বাসায় আক্রমণ করছে। ঐ অবস্থায় আমি পুলিশকে টেলিফোনের চেষ্টা করছিলাম। তারপরে বঙ্গবন্ধু উপর থেকে নিচে নেমে এলেন। গেঞ্জি গায়ে লুঙ্গি পরা। তখন উনি আমাকে বললেন যে আমার কাছে দে। "আমার কাছ থেকে তিনি রিসিভারটা নিলেন। নিয়ে বললেন যে , হ্যালো আমি প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিব বলছি। উনি একথা বলার সাথে সাথেই বৃষ্টির মতো গুলি আসা শুরু হলো। উনি গাড়ি বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে বললেন যে পুলিশ সেন্ট্রি,আর্মি সেন্ট্রি - এতো গুলি চলছে তোমরা কী করো? আমিও ওনার পিছু এসে দাঁড়ালাম। উনি একথা বলেই উপরে উঠে চলে গেলেন।" এ গোলাগুলির সময় রাষ্ট্রপতিসহ তাঁর বাড়ির কেউ ঘটনা সম্পর্কে আঁচ করতে পারেন নি। শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলে শেখ কামালকে যখন বাড়ির নিচ তলায় গুলি করে হত্যা করা হয় তখন ঘটনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছিল, বলছিলেন মুহিতুল ইসলাম। ধানমন্ডির সে বাড়িতে সশস্ত্র হত্যাকারীরা প্রথমে হত্যা করে শেখ কামালকে। গোলাগুলির আওয়াজ শোনার পর ঘটনা সম্পর্কে জানতে বাড়ির নিচ তলায় নেমে আসেন শেখ কামাল। "পাঁচ-ছয়জন আর্মি, কেউ কালো পোশাকধারী কেউ খাকি পোশাকধারী - ওনার সামনে এসে বললো হ্যান্ডস আপ। কামাল ভাই বলছে, আমি প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবের ছেলে শেখ কামাল। তখনই সাথে-সাথে ব্রাশ ফায়ার।" রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে যখন আক্রমণ হয় তখন কোন ধরনের প্রতিরোধ ছাড়াই হত্যাকারীরা পুরো বাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। মুহিতুল ইসলাম বলছিলেন, একজন রাষ্ট্রপতির বাড়িতে যে ধরণের নিরাপত্তা থাকা দরকার সেটি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে ছিল না। তাছাড়া রাষ্ট্রপতির বাড়িতে আক্রমণের পরেও কোন তরফ থেকে কোন ধরনের সহায়তা আসেনি। শেখ কামালকে হত্যার পর হত্যাকারীরা বেপরোয়া গুলি চালিয়ে বাড়ির উপরের দিকে যাচ্ছিল। উপরে উঠেই শুরু হয় নির্বিচার হত্যাকাণ্ড। চারিদিকে তখন শুধু গুলির শব্দ। " উপরে তো তাণ্ডবলীলা চলছে। চারিদিকে একটা বীভৎস অবস্থা। ঠিক সে মুহূর্তে উপর থেকে চিৎকার শুরু করলো যে পাইছি পাইছি। এরপরে বঙ্গবন্ধুর একটা কণ্ঠ শুনলাম। তিনি বললেন, তোরা আমাকে কোথায় নিয়ে যেতে চাস? এরপরে ব্রাশ ফায়ার। বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠ আমরা আর শুনতে পাইনি," সে রাতের ঘটনা এভাবে বর্ণনা করলেন মুহিতুল ইসলাম । মি: ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী ধানমন্ডির সে বাড়িটিতে সর্বশেষ হত্যা করা হয় শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলকে। তখন তার বয়স মাত্র দশ বছর। এ হত্যাকাণ্ডটি হয়েছিল মুহিতুল ইসলামের সামনে। "রাসেল দৌড়ে এসে আমাকে জাপটে ধরে। আমাকে বললো, ভাইয়া আমাকে মারবে না তো? ওর সে কণ্ঠ শুনে আমার চোখ ফেটে পানি এসেছিল। এক ঘাতক এসে আমাকে রাইফেলের বাট দিয়ে ভীষণ মারলো। আমাকে মারতে দেখে রাসেল আমাকে ছেড়ে দিল। ও (শেখ রাসেল) কান্নাকাটি করছিল যে 'আমি মায়ের কাছে যাব, আমি মায়ের কাছে যাব'। এক ঘাতক এসে ওকে বললো, 'চল তোর মায়ের কাছে দিয়ে আসি'। বিশ্বাস করতে পারিনি যে ঘাতকরা এতো নির্মমভাবে ছোট্ট সে শিশুটাকেও হত্যা করবে। রাসেলকে ভিতরে নিয়ে গেল এবং তারপর ব্রাশ ফায়ার।" রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সব সদস্যকে হত্যার পর ঘাতকরা একে অপরকে বলছিল, "অল আর ফিনিশড (সবাই শেষ)"। সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সাথে জড়িত ছিল সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা। সে সময় ঢাকা সেনানিবাসে লেফট্যানেন্ট কর্নেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন আমিন আহমেদ চৌধুরী, যিনি পরে মেজর জেনারেল হয়েছিলেন। মি: চৌধুরী ২০১৩ সালে মারা যান। ২০১০ সালে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি জানিয়েছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর পাঁচটার দিকে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত একজন সেনা কর্মকর্তা মেজর রশিদের নেতৃত্বে একদল সেনা তার বাড়ি ঘিরে ফেলে। আমিন আহমেদ চৌধুরী তখনো জানতেন না যে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। মেজর রশিদের নেতৃত্বে সৈন্যরা আমিন আহমেদ চৌধুরী এবং তৎকালীন কর্নেল শাফায়াত জামিলকে নিয়ে যায় মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের বাড়িতে। জেনারেল জিয়া তখন সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান। জেনালের জিয়াউর রহমানের বাড়িতে ঢোকার সময় রেডিওর মাধ্যমে আমিন আহমেদ চৌধুরী জানতে পারেন যে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। "জেনারেল জিয়া একদিকে শেভ করছেন একদিকে শেভ করে নাই। স্লিপিং স্যুটে দৌড়ে আসলেন। শাফায়াতকে জিজ্ঞেস করলেন, 'শাফায়াত কী হয়েছে?' শাফায়াত বললেন, 'এপারেন্টলি দুই ব্যাটালিয়ন স্টেজ এ ক্যু। বাইরে কী হয়েছে এখনো আমরা কিছু জানি না। রেডিওতে এনাউন্সমেন্ট শুনতেছি প্রেসিডেন্ট মারা গেছেন।' তখন জেনারেল জিয়া বললেন, সো হোয়াট? লেট ভাইস প্রেসিডেন্ট টেক ওভার। উই হ্যাভ নাথিং টু ডু উইথ পলিটিক্স।" সেনানিবাসের দুটি ব্যাটালিয়ন এ অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত থাকলেও পুরো সেনাবাহিনী সেটার পক্ষে ছিল না বলে উল্লেখ করেন আমিন আহমেদ চৌধুরী। ঢাকা সেনানিবাসে যখন এ অভ্যুত্থানের খবর ছড়িয়েছে তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। এ অভ্যুত্থান পরিকল্পনার খবর কেন আগে জানা সম্ভব হয়নি এবং কেন সেনাবাহিনীর অন্য কোন ইউনিট এগিয়ে আসেনি সেটি আজও এক বিরাট প্রশ্ন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট আক্রমণের সময় শেখ মুজিবুর রহমান তার সামরিক সচিব কর্নেল জামিল উদ্দিনকে ফোন করে তার বাড়িতে আক্রমণের কথা জানিয়েছিলেন। কর্নেল জামিল তখন সাথে সাথে রওনা হয়েছিলেন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ির দিকে। কিন্তু সোবহানবাগ মসজিদের কাছে পৌঁছলে তার গাড়ি রোধ করে অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত সৈন্যরা। সে বাধা উপেক্ষা করে কর্নেল জামিল সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটি অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত সেনাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সকাল ১০টার দিকে আমিন আহমেদ চৌধুরী গিয়েছিলেন সে বাড়িতে। ভোর সাড়ে চারটা নাগাদ হত্যাকাণ্ড হলেও তখন সেখানে মৃতদেহ দেখেছেন মি: চৌধুরী। সামরিক পোশাক পর অবস্থায় মি: চৌধুরী সেখানে গেলেও তাকে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছিল না সৈন্যরা। মি: চৌধুরীর বর্ণনা ছিল এ রকম, " আর্টিলারি রেজিমেন্টের কিছু ট্রুপস ছিল সেখানে। মেজর হুদা ছিলেন। আমি যে যেহেতু হুদাকে চিনতাম, তাকে বলার পর সে আমাকে ঢুকতে দেয়। আমি দোতলার সিঁড়িতে উঠতেই বঙ্গবন্ধুর লাশটা দেখি। তার চশমা ও পাইপটাও পড়ে ছিল। দূর থেকে ভেতরে দেখলাম বেগম মুজিব পড়ে আছেন। যে লোকটার অঙ্গুলি হেলনে পঁচাত্তর মিলিয়ন লোক উঠছে বসছে, সে লোকটাকে তার সৃষ্ট আর্মি মেরে ফেললো। এটা কী করে সম্ভব? পাকিস্তানীদের কাছে মারা যায় নাই, মারা গেল শেষ পর্যন্ত বাঙালীর কাছে।" সে অভ্যুত্থানের পর অনেকে তাকিয়ে ছিলেন তৎকালীন রক্ষীবাহিনীর প্রতিক্রিয়ার দিকে। সেনাবাহিনীর সাথে রক্ষীবাহিনীর কোন সংঘাত তৈরি হয় কী না সেটি নিয়েও অনেকে উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে ধরণের কিছু ঘটেনি। রক্ষীবাহিনীর দিকে থেকে কোন প্রতিক্রিয়া না হওয়ায় অনেকে অবাক হয়েছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর উল্টো রক্ষীবাহিনী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল বলে জানান আমিন আহমেদ চৌধুরী। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি থেকে আমিন আহমেদ চৌধুরী দুপুর নাগাদ পৌঁছেন সাভারে অবস্থিত রক্ষীবাহিনীর সদরদপ্তরে। মি: চৌধুরীর দায়িত্ব ছিল রক্ষীবাহিনী যাতে আতঙ্কগ্রস্ত না হয় সে বার্তা তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া। " আমি সেখানে গিয়ে বলি যে সেনাবাহিনীর কিছু লোক এটার (হত্যাকাণ্ড) সাথে জড়িত থাকলেও পুরো সেনাবাহিনী এর সাথে জড়িত নয়। সে হিসেবে সেনা প্রধানের বানী নিয়ে আমি এখানে আসছি," বলছিলেন মি: চৌধুরী। হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন আওয়ামীলীগের একজন সিনিয়র নেতা এবং মন্ত্রী পরিষদের সদস্য খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। সামগ্রিকভাবে ১৫ আগস্ট সারাদিন সেনাবাহিনীর ভেতর থেকে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি। অভ্যুত্থানের খবর জানাজানি হবার পরে সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যেই এক ধরনের অবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন আমিন আহমেদ চৌধুরী। তিনি জানান, ঘটনার আকস্মিকতায় অনেকে হতবিহবল হয়ে পড়েছিলেন। কী করতে হবে তারা ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না। মি: চৌধুরীর বর্ণনায়, "যখন সকাল হয়ে গেছে তখন দেখা যাচ্ছে কোন পলিটিকাল ডিরেকশন আসতেছে না। বঙ্গবন্ধু মারা গেছে, এখন আমরা কী করবো? কার পেছনে দাঁড়াবো? তারা তো খন্দকার মোশতাককে বসিয়ে দিয়েছে। এখন আমরা এখন তাকে ডিজলস (ক্ষমতাচ্যুত) করবো? এর বিরুদ্ধে গেলে পুরোপুরি যুদ্ধ করতে হবে। কারণ ওরা ট্যাংক বের করে অলরেডি বঙ্গভবনে বসে গেছে, ফার্মগেটের সামনে বসে গেছে, জাহাঙ্গীর গেটের ভেতরে অলরেডি মুভ করছে। পরিস্থিতি অ্যাসেস করতে হচ্ছে। আমরা কি পারবো? আমাকে তো জানতে হবে আমার কাছে কত সৈন্য আছে এবং কত অ্যামুনিশন আছে। এতে গিয়া গোলমাল হয়ে গেল। কনফিউশনটা খুব বেশি ছিল।" খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতি হলেও ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত ঘাতক জুনিয়র সেনা কর্মকর্তারা। সে থেকে পরবর্তী প্রায় ১৫ বছর বাংলাদেশের ইতিহাস সেনাবাহিনীর ভেতরে অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান এবং সামরিক শাসনের ইতিহাস।
নিউ ইয়র্ক: মঙ্গলের মাটিতে পা দেবে মানুষ। গড়ে উঠবে বসতি। ফুটবে ফুল। স্বপ্ন নয়, এমন বাস্তবের অপেক্ষাতেই রয়েছে পৃথিবী। খুব বেশি দেরি নেই। অদূর ভবিষ্যতেই সেই অচিনগ্রহে ঘুরে-বেড়াবে অ্যালিসা, বর্তমানে যার বয়স ১৭। আর সেই স্বপ্ন চোখে নিয়েই প্রত্যেকদিন একটু একটু করে নিজেকে প্রস্তুত করছে ওই স্কুলছাত্রী। ছেলেবেলা থেকেই মহাশূন্যে যাত্রার স্বপ্ন দেখত আমেরিকার লুজিয়ানার বাসিন্দা অ্যালিসা কারসন। মাত্র তিন বছর বয়সেই বাবাকে বলছিল, ”বাবা আমি বড় হয়ে মহাকাশচারী হব, মঙ্গল অভিযানে যাব।”তার সেই স্বপ্নই এবার পূরণ হচ্ছে। ২০৩৩ সালে মঙ্গল গ্রহে পাঠানো মানববাহী মহাকাশযানের প্রথম মহাকাশচারী হিসেবে মঙ্গলে পা দেবেন অ্যালিসা। পৃথিবীর এই প্রতিবেশীর প্রতি এক অমোঘ আকর্ষণ ছিল তার। মঙ্গলের মহাকাশযানের ভিডিও ইউটিউবে দেখা ছিল তার নেশা। ঘরের দেওয়াল জুড়ে ছিল মঙ্গলের এক বিশাল ম্যাপ।

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা