08172019শনি
স্পটলাইট

স্পটলাইট (854)

বিবিসি বাংলা ঠিক ৪৩ বছর আগে অগাস্টের সেই বৃষ্টিভেজা সকালে ঢাকা থেকে সংবাদটা এসেছিল বজ্রপাতের মতো। ভারতে সবেমাত্র ঘোষিত হওয়া জরুরী অবস্থাকে ঘিরে দেশের পরিস্থিতি এমনিতেই টালমাটাল, তখনই খবর এল বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকায় নিজের বাসভবনেই আততায়ীদের হাতে সপরিবারে নিহত হয়েছেন। ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সেদিন রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদের দেওয়া রিসেপশনে যোগ দিতে দেশের কয়েকশো নেতা-মন্ত্রী ও সাংসদ তখন রাষ্ট্রপতি ভবনেই। কর্নাটকের কংগ্রেস নেত্রী মার্গারেট আলভা তখন রাজ্যসভার এমপি, সে দিনের তরুণী সেই রাজনীতিকও ছিলেন সেই দলে। "রাষ্ট্রপতি ভবনে বসেই আমরা খবরটা পেলাম। মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে, সে খবর ততক্ষণে দাবানলের মতো দিল্লি জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, কিন্তু লোকে যেন নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছে না।" "আমার খুব ভাল মনে আছে রাষ্ট্রপতি ভবনের ভেতর তখনই বলাবলি শুরু হল ঠিকমতো পদক্ষেপ না-নিলে ভারতেও কিন্তু যে কোনও দিন একই জিনিস ঘটতে পারে। বিশ্বাস করবেন কি-না জানি না, ওটাই ছিল আমাদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া", এত বছর বাদে সে দিনের স্মৃতিচারণ করতে বসে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মিস আলভা। একাত্তরের যুদ্ধজয়ের স্মৃতি তখনও ম্লান হয়নি - মার্গারেট আলভার কথায় 'শেখসাহেব তখনও উপমহাদেশের গগনস্পর্শী নায়কদের একজন'। কিন্তু তাঁর যে এ ধরনের পরিণতি হতে পারে, সেটা ভারত একেবারেই ভাবতে পারেননি বলে জানাচ্ছেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ঘনিষ্ঠ এই রাজনীতিক। ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে বসেই মুজিব হত্যার খবর পেয়েছিলেন সেদিনের নবীন এমপি মার্গারেট আলভা। বিনা মেঘে বজ্রপাত, না কি আশঙ্কা ছিলই? কিন্তু শেখ মুজিবের প্রাণনাশের চেষ্টা হতে পারে, ভারত কি তার একেবারেই কোনও আঁচ পায়নি? মানে এই খবরটা কি দিল্লির কাছে পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত ছিল বলা যায়? "না, একেবারেই আন্দাজ করা যায়নি সেটা বলা যাবে না। খবরও ছিল যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটা অংশ মুজিবের বিরুদ্ধে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে,'' বলছেন দিল্লিতে ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের কর্ণধার ও স্ট্র্যাটেজিক বিশ্লেষক, মেজর জেনারেল (অব) দীপঙ্কর ব্যানার্জি। ''রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং ('র')-এর প্রধান আর এন কাও ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় গিয়ে খোদ মুজিবকে বলেও ছিলেন যে তাঁর জীবনের ওপর হামলা হতে পারে, '' জেনারেল ব্যানার্জি বিবিসিকে বলেন। "কিন্তু মুজিব তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে বলে ওঠেন, ওসব হতেই পারে না। গোটা বাংলাদেশ আমাকে ভালবাসে, ওরা সবাই আমার ছেলেমেয়ের মতো - কে আমাকে মারতে যাবে? আপনার এসব জল্পনায় কান দেওয়ার কোনও দরকার নেই," তিনি জানান। যুদ্ধ শেষে মুজিবনগরের পত্রিকা, ডিসেম্বর ২৩, ১৯৭১: বন্ধু তালিকার শীর্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বস্তুত শেখ মুজিব চেয়েছিলেন বলেই ভারত তাঁর বিরোধী শিবিরের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালানো বন্ধ করে দিয়েছিল বলে জানাচ্ছেন এই বিশ্লেষক। কিন্তু ঢাকায় তো এমন ধারণাও কারও কারও আছে যে শেখ মুজিবের করুণ মৃত্যুতে দিল্লি হয়তো তেমন একটা অখুশি হয়নি? বস্তুত মুজিবের হত্যার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই যেভাবে ভারত খন্দকার মোশতাক আহমেদের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল, তাতেও অনেকের মধ্যে এই সন্দেহ ঘনীভূত হয়েছে। কিন্তু মুজিবের মৃত্যুর মাত্র মাসকয়েক আগেও ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসে কূটনীতিকের দায়িত্ব পালন করে আসা সাবেক রাষ্ট্রদূত অরুণ কুমার ব্যানার্জি এটাকে 'সম্পূর্ণ বাজে কথা' বলে অভিহিত করেন। ''আমি বলব ভারতের একমাত্র রিঅ্যাকশন ছিল শিয়ার হরর অ্যান্ড শক। কীভাবে এমন মারাত্মক ঘটনা ঘটে গেল, সেটাই দিল্লি ভেবে কূল করতে পারছিল না," বিবিসিকে বলছিলেন মিঃ ব্যানার্জি। "আসলে শেখ সাহেব নিজে যা-ই বলুন, আমরাই তো তাঁর দেখাশুনো করব বলে কথা দিয়েছিলাম। ফলে ইনটেলিজেন্স গ্যাদারিং বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে কোথাও তো একটা খামতি ছিলই। ''যদিও এটা মূলত বাংলাদেশেরই কাজ - আমাদের গোয়েন্দা অ্যাপারেটাসেও কেউ কোথাও একটা ভুলচুক করে ফেলেছিল সেটা তো অস্বীকার করতে পারি না," তিনি বলেন। স্ট্র্যাটেজিক বিশ্লেষক ও সাবেক মেজর জেনারেল দীপঙ্কর ব্যানার্জি। দীপঙ্কর ব্যানার্জি আবার বলছিলেন, "ভারতের কাছে মুজিবের ইমেজটা ছিল একটা স্বাধীন দেশের ফাউন্ডার-লিবারেটরের। দেশটা জন্মানোর চার বছরেরও কম সময়ের মধ্যে আর্মির একটা অংশ তাকে নির্মমভাবে নিকেশ করে দিতে পারে - ভারত তাতে সত্যিই প্রচন্ড অবাক হয়েছিল।" কতটা ফাটল ধরেছিল ইন্দিরা-মুজিব সম্পর্কে? কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নিজেও যে এই ঘটনায় খুব বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন এমনও তো বিশেষ প্রমাণ নেই? "না, দেখুন - তখনকার সময়টার কথাও আপনাকে ভাবতে হবে,'' মিঃ ব্যানার্জি বলেন। মিসেস গান্ধী দেশে জরুরি অবস্থা চালু করেছেন মাস দেড়েক আগে। দেশের ভেতরে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তখন একটা অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। দীপঙ্কর ব্যানার্জির মতে, মিসেস গান্ধী তখন হাজারটা সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলেন। ''সত্যি বলতে কী, তখন বাংলাদেশের দিকে বা বাইরের দুনিয়ার দিকে তাঁর তেমন নজর দেওয়া সম্ভবও ছিল না", মনে করেন দীপঙ্কর ব্যানার্জি। অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বাধ্যবাধকতা নিশ্চয় ছিল - কিন্তু শেখ মুজিবের হত্যাকান্ডের বেশ কিছুদিন আগে থেকেই ইন্দিরা গান্ধী ও তাঁর সম্পর্কে যে অস্বস্তির ছায়া পড়তে শুরু করেছিল, সেটাও কিন্তু ঐতিহাসিক সত্যি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তখন দেশে জরুরি অবস্থা নিয়ে ব্যস্ত। ভারতের প্রাক্তন পররাষ্ট্রসচিব মুচকুন্দ দুবে মুজিব-হত্যার ঠিক চার বছরের মাথায় ভারতীয় হাই কমিশনারের দায়িত্ব নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলেন। কোনও রাখঢাক না-করেই তিনি যেমন বলছেন, "আসলে কী, শেখ মুজিবের কিছু কিছু পদক্ষেপে দিল্লির কপালে যে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল সেটা কিন্তু অস্বীকার করা যাবে না।" "যেমন ধরুন, তার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বা বাকশাল চালু করার উদ্যোগ। ভারত মনে করেছিল সেটা গণতন্ত্রের রাস্তা থেকে বিচ্যুতি বা অ্যাবারেশন। তাঁর প্রশাসনে যে বেশ কিছু আরবিট্রারিনেস বা স্বেচ্ছাচার শেকড় বিছিয়েছিল, সেটা নিয়েও আমরা চিন্তিত ছিলাম।" "কিন্তু এই উদ্বেগ কখনওই এমন পর্যায়ে পৌঁছয়নি যে শেখ মুজিবকে হত্যা করা হলে ভারতে খুশির লহর বয়ে যাবে। বড়জোর একটা অসন্তুষ্টি ছিল বলা যেতে পারে, এবং হয়তো এই ফিলিংসটাও ছিল মুজিবের ওই রকম কোনও পরিণতি অনিবার্য!" বলছিলেন মিঃ দুবে। ঢাকায় তখনকার ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সমর সেনও অবসর নেওয়ার পর ১৯৯৮ সালে ফ্রন্টলাইন ম্যাগাজিনে লিখেছিলেন, "আরও নানা কারণের সঙ্গে যখন দেখা গেল চুয়াত্তরের অগাস্ট মাসে জুলফিকার আলি ভুট্টো বাংলাদেশ সফরে এলেন, তখন শত্রুতা না হোক - ভারতের দিক থেকে একটা হতাশা অবশ্যই তৈরি হয়েছিল।" চুয়াত্তরে জুলফিকার আলি ভুট্টোর বাংলাদেশ সফরকে ভারত ভালভাবে নেয়নি। আজীবন কংগ্রেসী রাজনীতি করা মার্গারেট আলভার বর্ণনায়, "হ্যাঁ, ততদিনে দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে বেশ কয়েকটা ইস্যু তৈরি হয়ে গিয়েছিল তাতে সন্দেহ নেই। যেমন, ফারাক্কা ব্যারাজ তৈরি করা কিংবা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ থেকে যারা এসেছিলেন, তাদের অনেকের ভারতে থেকে যাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘাত অবশ্যই ছিল।" "কিন্তু আমি বিশ্বাস করি দুটো দেশের মধ্যে যে পারস্পরিক আস্থা আর মর্যাদার সম্পর্ক ছিল, সেটাকে কোনও কিছুই ছাপিয়ে যেতে পারেনি। মুজিবের মৃত্যুর পর সে দেশের ইতিহাস অন্য মোড় নিল, দেশটাকে 'মুসলিম বাংলাদেশ' বানানোর চেষ্টা শুরু হল - সেটা অবশ্য অন্য প্রসঙ্গ! " মেজর জেনারেল (অব) দীপঙ্কর ব্যানার্জিও মনে করেন, "একাত্তরের পর থেকে বাংলাদেশ খুব কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে পার হয়েছে সবাই জানে। দুর্ভিক্ষ-অনশন-সাইক্লোনের বহু ঝড়ঝাপটা গেছে। যুদ্ধের পর ভারতেরও তেমন সামর্থ্য ছিল না যে তাদের সব চাহিদা পূরণ করতে পারবে।" "ভারতীয় গণতন্ত্রেও হয়তো বাংলাদেশকে নিয়ে নানা ধরনের মতামত ছিল - সেটাই তো গণতন্ত্রের বেশিষ্ট্য। কিন্তু তাই বলে শেখ সাহেবের জন্য গুডউইল বা শ্রদ্ধায় কিন্তু কখনওই কোনও ভাঁটা পড়েনি। তার অনিষ্ট হোক এটা ভারত কখনও চায়নি, চাইতে পারেই না", রীতিমতো জোর দিয়ে বলেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত অরুণ কুমার ব্যানার্জি। কেন বেছে নেওয়া হয়েছিল ১৫ই অগাস্ট তারিখটা? যে কোনও দেশের জাতীয় নায়কদের মতোই শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ড নিয়েও নানা ধরনের 'কনস্পিরেসি থিওরি' বা ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব চালু আছে। তার কোনও কোনওটায় ভারতের দিকেও আঙুল তোলা হয়েছে। সাবেক কূটনীতিক অরুণ ব্যানার্জি অবশ্য এই সব জল্পনা-কল্পনা হেসেই উড়িয়ে দিচ্ছেন। "দেখুন, নির্দিষ্ট করে এই ১৫ই অগাস্ট তারিখটা বেছেই নেওয়া হয়েছিল খুব সচেতনভাবে। ভারতের স্বাধীনতা দিবস ওটা - আর ক্যু-র ষড়যন্ত্রকারীরা ভারতকেই একটা মেসেজ দিতে চেয়েছিল। বার্তাটা ছিল, তোমাদের এত খাতিরের লোক - আর তোমাদের বিশেষ দিনে দ্যাখো এই তার অবস্থা", বলছিলেন তিনি। "ওই অভ্যুত্থানের কিছুদিনের মধ্যেই যেভাবে বাংলাদেশের টপ ইনটেলেজিন্সিয়া বা বুদ্ধিজীবীদের শেষ করে দেওয়া হল, তাজুদ্দিন আহমেদ-সহ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের দ্বিতীয় সারিটাকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হল, তাতে বোঝাই যায় এর মাধ্যমে কারা লাভবান হতে চেয়েছিল", বলছিলেন ওই টালমাটাল সময়ে ঢাকায় কাটানো এই প্রাক্তন কূটনীতিক। ঢাকার সংবাদপত্রে শেখ মুজিবের হত্যাকারীদের সাজার খবর কেন ভারত দোষারোপ করেছিল সিআইএ-কে? যে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল তাতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলেই বরং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দৃঢ় বিশ্বাস। অরুণ ব্যানার্জি নিজেও এই মতের শরিক। কলকাতায় কংগ্রেসী ঘরানার সংবাদপত্র যুগান্তরে তো সে সময় সরাসরি লেখা হয়েছিল ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিস বোস্টার এই ক্যু-তে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। বর্তমানে মার্কিন-প্রবাসী ভারতীয় গবেষক বি জেড খসরু লিখেছেন, "কলকাতার মার্কিন কনসাল জেনারেল নিজে যুগান্তর অফিসে গিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। এই খবর প্রত্যাহার করে যুগান্তরকে প্রথম পাতায় ক্ষমা চাইতে হবে বলেও তিনি জেদ ধরে ছিলেন।" ভারতের বিভিন্ন খবরের কাগজেও সিআইএ-র দিকে আঙুল তুলে সে সময় নানা সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছিল। দিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশনস ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমেরিকা বিভাগের প্রধান জে এস তেজার সঙ্গে দেখা করে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছিলেন, এ রকম চলতে থাকলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার ফল ভাল হবে না। ভারতে তখন ইমার্জেন্সি চলছে, সব খবরের কাগজে প্রথম পাতায় কী খবর বেরোবে সরকারই তা সেন্সর করত। বেশির ভাগ কাগজেই সেটারই প্রতিফলন ঘটত, সরকার যা চাইছে। ঢাকায় সাবেক ভারতীয় হাই কমিশনার ও ভারতের প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব মুচকুন্দ দুবে ব্যর্থতার দায়ভার কতটুকু ভারতের? কিন্তু শেখ মুজিবকে যে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি, সেই ব্যর্থতার দায়ভার বহু দিন পর্যন্ত ভারতকেও অনেকটাই বয়ে বেড়াতে হয়েছে। মুজিবের মৃত্যুর চার বছরের মাথায়, ১৯৭৯-র অক্টোবরে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনারের দায়িত্ব নিয়ে গেলেন মুচকুন্দ দুবে। তাকেও তখন অহরহ এই বিষয়টা নিয়ে অনুযোগ শুনতে হয়েছে। "অনেকেই আমাকে তখন বলতেন এত বড় ঘটনাটা আপনারা জানতেই পারলেন না? ঠেকাতেই পারলেন না? তাদের কথায় প্রচ্ছন্নভাবে এই সুরটাই থাকত, যেন মুজিবের হত্যাকান্ড দিল্লিরই কূটনৈতিক ব্যর্থতা।" "তারা কিন্তু এই জিনিসটা বুঝতেন না যে একটা সার্বভৌম দেশ আর একটা সার্বভৌম দেশের সব কিছু করে দিতে পারে না। যেমন ধরুন, আপনি আপনার ইনটেলিজেন্স নেটওয়ার্ক অন্য দেশের সব জায়গায় রাখতে পারেন না - রাখলে সেটাকেই তখন সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো বলা হবে", কিছুটা বিষণ্ণ সুরেই বলেন মুচকুন্দ দুবে। অরুণ ব্যানার্জিও এ প্রসঙ্গে যোগ করেন, "বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই এই ডিবেটটা আগাগোড়া ছিল যে ভারত তাদের কতটা গাইড করবে, আর কতটা একলা ছেড়ে দেবে? যতই হোক, বাংলাদেশ তাদের নিজেদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে - একটা সময় পর ভারত তো সেখানে ব্যাকসিট নিতেই বেশি পছন্দ করবে।" কিন্তু ভারত ঠিক কতটা পেছনে সরে গিয়েছিল - আর সেই দূরে সরে যাওয়ার সুযোগ নিয়েই শেখ মুজিবকে হত্যার পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়েছিল কি-না, সেই বিতর্কের মীমাংসা আজও হয়নি। একাত্তরের যুদ্ধের পর শেখ মুজিবের ছবি নিয়ে ভারতীয় সেনাদের উল্লাস ১৫ই অগাস্ট, ১৯৭৫-র পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সে যাই হোক, শেখ মুজিবের হত্যার অব্যবহিত পর ভারত ঠিক কী কী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছিল? তখনকার ভারতীয় হাই কমিশনার সমর সেনের (যিনি এখন আর বেঁচে নেই) লেখা থেকেই আবার উদ্ধৃত করা যাক, "আমার মত ছিল অপেক্ষা করা ও নজর রাখা - কিন্তু সেই সঙ্গেই আমি মনে করেছিলাম, বাংলাদেশের নতুন শাসকদের সঙ্গেও আমাদের সম্পর্ক স্থাপন করা উচিত। যদিও ভারত সরকারের কারও কারও সেই ভাবনাটা পছন্দ হয়নি।" "শেখ মুজিবের হত্যাকান্ড বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে নিশ্চয় একটা বড় আঘাত ছিল - কিন্তু বিপর্যয় ছিল না। বস্তুত খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের সম্পর্কের মধ্যে একটা আপাত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল।" শেখ মুজিব সপরিবারে নিহত হওয়ার ঠিক পাঁচদিনের মাথায়, ২০শে অগাস্ট ঢাকায় ভারতের রাষ্ট্রদূত সমর সেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলেন বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি খোন্দকার মোশতাক আহমেদের সঙ্গে। হাসিমুখে দুজনের করমর্দনের ছবিও বেরোল ভারতের 'দ্য হিন্দু' পত্রিকার প্রথম পাতায়। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কও এক অভাবিত নতুন মোড় নিল ১৯৭৫-র সেই ঘটনাবহুল আগস্ট থেকেই।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। লন্ডন থেকে দেয়া এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশের একজন ভালো বন্ধু ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, ‘তার মৃত্যুতে আমরা একজন প্রকৃত বন্ধুকে হারালাম।’ শেখ হাসিনা বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে নেয়ার ক্ষেত্রে তার অবদানের কথা বাংলাদেশ সব সময় স্মরণ করবে। প্রধানমন্ত্রী তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। হাসপাতাল সূত্র জানায়, সুষমা স্বরাজ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গতরাতে নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সে (এআইআইএমএস) শেষনি:শ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি বিজেপি’র একজন প্রবীণ নেতা ছিলেন।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ায় বরিস জনসনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়া উপলক্ষে আপনি আমার এবং বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের আন্তরিক অভিনন্দন গ্রহণ করুন।’ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার দায়িত্ব গ্রহণ আপনার দেশকে ঐক্য, সমৃদ্ধি ও গতিশীলতার নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আপনার নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যের জনগণের দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা ২০১৮ সালে আপনার সফরের কথা আন্তরিকভাবে স্মরণ করছি। আমরা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির ওপর নৃশংসতার জন্য মিয়ানমারকে জবাবদিহির সম্মুখীন করা এবং পূর্ণ মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের পৈতৃক ভূমিতে আশু ও টেকসই প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আপনার ব্যক্তিগত অঙ্গীকার ও যুক্তরাজ্যের বৈশ্বিক নেতৃত্বের ওপর আমাদের আস্থা বজায় রাখছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে, যা গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার অভিন্ন মূল্যবোধ এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীর কল্যাণের গভীরে প্রোথিত।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতির পিতা ও আমার প্রিয় পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি যুক্তরাজ্যের তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকারের প্রধানমন্ত্রী স্যার এডোয়ার্ড হিথের সমর্থনের কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি সাগ্রহে ২০২১ সালে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের কুটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপনের অপেক্ষায় রয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সুস্বাস্থ্য, সুখ ও অব্যাহত সাফল্য এবং যুক্তরাজ্যের জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
বিবিসি বাংলা বরগুনা জেলায় চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এর আগে মঙ্গলবার সারাদিন ধরে পুলিশ কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। ২৬শে জুন প্রকাশ্য দিবালোকে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। এই মামলার এক নম্বর সাক্ষী ছিলেন আয়শা সিদ্দিকা। আয়শার বাবা মোজাম্মেল হোসেন অভিযোগ করেছেন, বুধবার সকাল থেকে অনেক চেষ্টা করেও তিনি তার মেয়ের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য একজন আইনজীবী পাননি। "যারা আসামি তাদের বাঁচানোর জন্য এখন এগুলা করতেছে। যার স্বামী মারা গেল, তাকে বাঁচানোর জন্য কী চেষ্টা আমার মেয়ে করছে, সবাই দেখছেন আপনারা," বলেন তিনি। "সেই এক নম্বর সাক্ষী আজ কাঠগড়ায়। এমনকি আজ আমার মেয়ের পক্ষে কোন উকিলও (আইনজীবী) দিতে পারিনি। কেউ যাতে তার জন্য কোর্টে না দাঁড়ায়, সেজন্য বারে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে শুনেছি।" কারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিবিসির এমন প্রশ্নের জবাবে মিঃ হোসেন বলেছেন, "এলাকার প্রভাবশালী লোকেরা ছাড়া কারা এ কথা বলতে পারে, আপনারা বুঝে নেন। আমি বলতে গেলে কী আমি দেশে থাকতে পারবো?" আয়শার বাবার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুর রহমান নান্টু। তিনি দাবি করেছেন, জেলা আইনজীবী সমিতি এমন কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। "উনি (আয়শার বাবা) মিথ্যা কথা বলছেন। এ ধরনের কোন সিদ্ধান্ত (আয়শার পক্ষে না দাঁড়ানোর) আমাদের হয়নি।" "আয়শার বাবার সাথে আমার আদালতের বারান্দায় দেখা হয়েছে, উনি তো আমাকে কিছু বলেন নাই এ ব্যপারে।" আলোচিত এই মামলায় বুধবার আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে তোলা হয় আয়শা সিদ্দিকাকে। বরগুনা অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সঞ্জীব কুমার দাস বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতদিনের রিমান্ড চাইলে আদালত পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। তিনি জানিয়েছেন, তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানিয়েছেন, মামলার একজন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আয়শাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও হত্যাকান্ডের আগে মামলার আসামিদের কয়েকজনের সঙ্গে আয়শার কথোপকথনের একটি কললিস্ট আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মিঃ দাস। রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে দেশ জুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। হত্যাকান্ডের পর গত প্রায় তিন সপ্তাহে নিহতের বাবা দুলাল শরীফ এবং নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা আলাদা আলাদা কয়েকটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বরগুনার স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন, গত ১৩ই জুলাই রিফাতের বাবা বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ছেলের হত্যাকান্ডে আয়শা সিদ্দিকার সম্পৃক্ততা রয়েছে দাবি করে তার পুত্রবধূর গ্রেপ্তার দাবি করেন। পরদিন আয়শাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বরগুনায় একটি মানববন্ধনও করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ মামলার তদন্তে এ পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে স্বীকারোক্তি প্রদানের জন্য ১০জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এখনো রিমান্ডে রয়েছে তিনজন। এই মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন, যিনি 'নয়ন বন্ড' নামে পরিচিত, জুলাই মাসের দুই তারিখে তিনি পুলিশের সঙ্গে কথিত 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছেন।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দু:খ প্রকাশ করেছেন। আজ এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সংসদে এরশাদের গঠনমূলক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। জেপি চেয়ারম্যান এরশাদে মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক ভারতের লোকসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসায় নরেন্দ্র মোদিকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার মোদিকে পাঠানো এক বার্তায় তাকে অভিন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আপনার গতিশীল নেতৃত্বে ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) বিপুল বিজয়ে বাংলাদেশ সরকার, জনগণ ও আমার পক্ষ থেকে আপনাকে হৃদয়গ্রাহী অভিনন্দন। ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক নির্বাচনে আপনার ওপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন হচ্ছে এই রায়।’ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সত্যিকার সুসম্পর্ক, পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধায় ভারতের সঙ্গে বহুমাত্রিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা ছিল এই সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি বলেন, আমাদের জনগণ আমাদেরকে নতুন করে যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী ভারতের জনগণের জন্য শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি মোদির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।
সোমবার, 15 এপ্রিল 2019 20:37

সোনাগাজীর সাবেক ওসির বিরুদ্ধে মামলা

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন এ মামলা দায়ের করেন। যৌন নিপীড়কদের আগুনে নিহত ফেনীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির ‘স্টেটমেন্টের’ ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে এ মামলা করা হয়। মামলার বিবরণ অনুসারে, যৌন হয়রানির অভিযোগে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলার পরে গত ২৭ এপ্রিল নুসরাতকে থানায় ডাকেন ‍তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম। থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় ঘটনা নিয়ে (যৌন হয়রানি) নুসরাতকে আপত্তিকর ও অসহনীয় প্রশ্ন করেন। যা পরবর্তীতে ওসি তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এর আগে যথাযথ সহায়তা পাননি বলে নুসরাতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১০ এপ্রিল ওসি মোয়াজ্জেমকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
রবিবার, 14 এপ্রিল 2019 14:19

নুসরাতের জন্য রমনায় নীরবতা

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক রাজধানীর রমনার বটমূলে রোববার ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ফেনীর সোনাগাজীতে পুড়িয়ে হত্যার শিকার মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সকল অন্যায়ের প্রতিবাদে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ছায়নটের সভাপতি সনজীদা খাতুন। এ সময় সবাইকে দাঁড়িয়ে এক মিনিটি নীরবতা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সবাই উঠে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করব, আমাদের ক্ষোভ জানাব, প্রতিবাদ জানাব, দেশে অনাচারের বিরুদ্ধে। সনজীদা খাতুন বলেন, নুসরাত জাহান, তনু, সাগর-রুনি, মিতু… যে সমস্ত বিষয়ে আমরা আজ পর্যন্ত কোনো খবর পেলাম না বিচারের, সেসব বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে এবং বিগত প্রাণগুলোর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা এক মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে থাকব। এ সময় শুভবোধ জাগরণের আহ্বান জানিয়ে ছায়ানট সভাপতি সনজীদা খাতুন বলেছেন, আজ ১৪২৬ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখ। বৎসরকাল পেরিয়ে আমরা আবার নতুন দিনের মুখোমুখি। কেমন সময় পেরিয়ে এলাম? উল্লেখ্য, প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলা বছরের প্রথমদিন রোববার সকাল সোয়া ছয়টার দিকে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভোর থেকেই রমনার বটমূলে নানা শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষের সমাগম ঘটে। রঙিন পোশাক আর চোখে-মুখে উচ্ছ্বাস নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তারা। আয়োজন শুরু হয় অসিত কুমার দের রাগালাপ দিয়ে। ছায়ানটের বড় ও ছোটদের দল সম্মেলক কণ্ঠে গেয়ে শোনায় ১৩টি গান। এ ছাড়া একক সঙ্গীত পরিবেশন করে ১৩ জন শিল্পী। তাদের মধ্যে রয়েছেন খায়রুল আনাম শাকিল, লাইসা আহমদ লিসা, চন্দনা মজুমদার, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, সুমন মজুমদার, তানিয়া মান্নান, সঞ্জয় কবিরাজ প্রমুখ। আরও ছিল আবৃত্তি। গানগুলো নির্বাচন করা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, অতুল প্রসাদ সেন, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, রজনীকান্ত সেন, লালন শাহ্‌, মুকুন্দ দাস, অজয় ভট্টাচার্য, শাহ আবদুল করিম, কুটি মনসুর ও সলিল চৌধুরীর লেখা থেকে। এবারও কঠিন নিরাপত্তা ছিল ছায়ানটের প্রভাতি আয়োজনকে ঘিরে। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে যাত্রা শুরু হয় ছায়ানটের। ছায়ানট বাংলা নববর্ষকে আবাহন জানানোর প্রয়াস নেয় ১৯৬৭ সালে। পাঁচ দশক ধরে বাংলা নববর্ষের প্রথম প্রভাত অর্থাৎ, পহেলা বৈশাখের ভোরে রমনার বটমূলে অনুষ্ঠান করে আসছে এ সংগঠন। ২০০১ সালে রমনার বটমূলে ছায়ানটের এ অনুষ্ঠানে জঙ্গিরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।
বৃহস্পতিবার, 11 এপ্রিল 2019 09:07

নুসরাতের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক ফেনীর দগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। বুধবার রাত সাড়ে নয়টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নুসরাতের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী নুসরাতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নুসরাতের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নুসরাতের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। যদি প্রয়োজন হয়, তবে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর ব্যবস্থা নিতেও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছিলেন। বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন নুসরাতের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত শনিবার নুসরাতকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তখন আমি তার সঙ্গে দেখা করতে যাই। তাকে জিজ্ঞেস করি কেমন আছ? তখন, নুসরাত বলে, ‘স্যার আমাকে বাঁচান, আমি বাঁচতে চাই।’ জানা যায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নুসরাত লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। তার শরীরের ৭৫ শতাংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মেয়েটির ফুসফুসকে সক্রিয় করতে মঙ্গলবার অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু কোন কিছুই কাজে আসেনি। ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরি দেয় দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
বিশেষ প্রতিনিধি ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর গায়ে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মর্মাহত ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন। গতকাল দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। ডা. সামন্তলাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী ওই ছাত্রীর যতো ধরনের চিকিৎসার দরকার হয়, সবধরনের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফেনীর ওই ছাত্রীর সার্বিক দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি তার চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। সামান্তলাল বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা মেয়েটির চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। ডা. সামন্তলাল বলেন, দুপুর ১টার দিকে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অফিসে যাই, তখন তিনি ওই ছাত্রীর খোঁজখবর নেন এবং জানান, এ ব্যাপারে তিনি খুবই মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন। এসময় তিনি আমার সামনে ওই ছাত্রীর গায়ে যারা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে তাদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। গত ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করেন বলে মামলা দায়ের হয়। এর প্রেক্ষিতে সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ছাত্রীর ভাই গণমাধ্যমকে বলেন, যৌন হয়রানির অভিযোগে করা মামলার জেরে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার পক্ষের কয়েকজন মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে আমার বোনের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন তার আর্তনাদ শুনে মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা ছাদে ছুটে যায়। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এরপর জেলা সদর হাসপাতাল, সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেকে নিয়ে আসা হয়।

ফেসবুক-এ আমরা