10152019মঙ্গল
স্পটলাইট

স্পটলাইট (861)

নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক সারা দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবাসিক হলগুলোতে তল্লাশির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফর উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আ‌ইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে বলবো- যখন এ ঘটনা একটা জায়গায় ঘটেছে, দেখা গেছে ওখানে এক রুম নিয়ে বসে জমিদারি চালানো, প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি হল সব জায়গায় সার্চ করার দরকার। তিনি বলেন, কোথায় কী আছে না আছে খুঁজে বের করতে হবে। এ ধরনের কারা মাস্তানি করে বেড়ায়, কারা এ ধরনের ঘটনা ঘটায় সেটা দেখতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি হল, শুধু ঢাকা না, সারা বাংলাদেশে প্রত্যেকটা জায়গায় সার্চ করা হবে এবং দেখা হবে সেই নির্দেশটা আমি দিয়ে দেবো। এখানে আপনাদের মাঝে বলে দিচ্ছি সেটা আমরা করবো।
শুক্রবার, 04 অক্টোবার 2019 13:08

শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান দুবাইয়ে গ্রেফতার

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক বহুল আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন আতœগোপনে ছিলেন। তার গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত করেছেন ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের বাংলাদেশ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মহিউল ইসলাম। তিনি বলেন, গত বুধবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টারপোল। শিগগিরই তাকে দেশে ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরি করা হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, দুবাইয়ে গ্রেফতার হওয়ার সময় জিসানের কাছে ভারত ও ডোমেনিকান দুইটি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃত জিসানের ছবি ঢাকায় পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে। সেই ছবির সঙ্গে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে থাকা জিসানের নতুন ছবির হুবহু মিল রয়েছে। সেই সূত্র ধরে আমরা নিশ্চিত হয়েছি দুবাইয়ে গ্রেফতার হওয়া ওই ব্যক্তিই জিসান। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, জিসানের কাছে একটি ভারতীয় পাসপোর্ট ছিল। ওই পাসপোর্টে তার নাম আলী আকবর চৌধুরী। ২০০১ সালের নভেম্বরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ঘোষণা করে। ওই তালিকায় জিসানের নাম ছিল না। মালিবাগ, মগবাজার, খিলগাঁও এলাকার আলোচিত এই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে ঢাকায় একাধিক হত্যা ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। ২০০২ সালে মালিবাগে হোটেল সানরাইজ হোটেলে ডিবির দুই ইন্সপেক্টরকে সরাসরি হত্যা করে জিসান আলোচনা আসে। এরপর থেকে জিসান আত্মগোপন করে। ২০০৫ সালে জিসান ভারতে আত্মগোপন করে। সেখানে ২০০৯ সালে একবার কলকাতা পুলিশের হাতে আটক হয়েছিল। পরে ছাড়া পেয়ে কলকাতায় বসে ঢাকার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রন করে। বছর দুয়েক আগে থেকে জিসান ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে দুবাই চলে যায়। সেখানে ঢাকা থেকে অনেক সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে ম্যারিনা বে স্যান্ডস হোটেলে ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, যুবলীগ নেতা খালেদা মাহমুদ ভূঁইয়া ও জিসানের বৈঠক হয়। সেখানে ক্যাসিনো থেকে জিসান ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশের অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ’ পুরস্কার গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী ইউএন প্লাজার ইউনিসেফ ভবনের ল্যাবুইসে হলে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) প্রদত্ত এই পুরস্কার গ্রহণ করেন। ইউনিসেফ’র নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড.একে আব্দুল মোমেন এবং ইউনিসেফে’র শুভেচ্ছা দূত এবং বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার এবং বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। পুরস্কার গ্রহণকালে এটি প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেশের জনগণ বিশেষ করে দেশের সকল শিশু এবং সমগ্র বিশ্বের শিশুদের প্রতি তিনি তা উৎসর্গ করেন এবং বলেন, ‘বাস্তবিক অর্থে বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষ করে দেশের সকল শিশুর এবং সমগ্র বিশ্বের শিশুদেরই এই স্বীকৃতি প্রাপ্য।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সম্মান আমার একার জন্য নয়, এটি সমগ্র বাংলাদেশের কেননা বাংলাদেশের জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে বলেই আমি তাঁদের সেবা করার সুযোগটা পেয়েছি। সেই সুযোগের জন্যই আমার এই পুরস্কার লাভ।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিজ নিজ এলাকার বিদ্যালয়গুলো যেগুলোতে অতীতে তারা লেখাপড়া করেছেন সেগুলোর উন্নয়নে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। দেশের লাখ লাখ তরুণ তাঁদের দক্ষতার মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে আমাদের জীবন এবং জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন সাধনে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই স্বীকৃতি বাংলাদেশে একটি দায়িত্বপূর্ণ এবং জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ এবং অর্থনীতি বিনির্মাণে আমাদের দৃঢ় পদক্ষেপের পরিচায়ক।’ জাতি গঠনে তরুণদের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির যেকোনো প্রয়োজনের মুহূর্তে আমাদের যুব সমাজ অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করে এসেছে।’ দেশের যুব সমাজকে উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজে লাগানোয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতাই এটা প্রথম অনুধাবন করেছিলেন যে, তরুণ-যুবাদের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে না পারলে উন্নতি করা সম্ভব হবে না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা একটি জ্ঞান সমৃদ্ধ তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যারা যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম হবে এবং জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহযোগিতা করবে। যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তার সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ শ্রম বাজারে প্রবেশ করছে। আমরা এসব তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে তাঁদের জন্য যথাযথ জ্ঞান এবং দক্ষতা বৃদ্ধির নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তাঁদেরকে আমরা আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠাতেও উৎসাহিত করছি।’ তিনি বলেন,‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্থানীয় এবং বৈশ্বিক চাহিদার কথা মাথায় রেখেই কারিগরি এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে যুগোপযোগীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকার দেশের একশ’টি উপজেলায় কারিগরি বিদ্যালয় এবং কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল উপজেলাতেই এ ধরনের বিদ্যালয় এবং কলেজ স্থাপন করা হবে। কেউ পিছিয়ে থাকবে না, এমন নীতির ভিত্তিতে সরকারের পরিকল্পিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বেকার এবং অদক্ষ যুবকদের মানব সম্পদে রূপান্তরিত করতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশেষ করে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং একইসঙ্গে শিশু এবং নারীদের উন্নয়নে অব্যাহত সহযোগিতা প্রদানের জন্য ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ইউনিসেফ বরাবরই বাংলাদেশের জন্য সহযোগিতা প্রদান করে আসছে।' ইউনিসেফ’র নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর তার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের চমকপ্রদ উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের সময়োপযোগী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের প্রশংসা করেন। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আগত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদানের জন্যও বাংলাদেশের প্রশংসা করেন ইউনিসেফ নির্বাহী পরিচালক। অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তৃতায় ইউনিসেফ’র শুভেচ্ছা দূত সাকিব আল হাসান বলেন, ‘১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই বাংলাদেশ তার সকল নীতির কেন্দ্রে শিশুদেরকে স্থান দিয়েছে , একইসঙ্গে শিশু মৃত্যুহার হ্রাসে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তাদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করে চলেছে এবং বিদ্যালয়সমূহে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করেছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কাজে সামনে থেকে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। এটি সত্যিই চমকপ্রদ যে, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তরুণ সমাজের দক্ষতা উন্নয়নে তার অবদানের জন্য ইউনিসেফ’র স্বীকৃতি লাভ করেছেন। সরকারের অত্যন্ত ভাল নীতি এবং কর্মসূচিসমূহ আগামীতে বাংলাদেশের আরও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি,সমতা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভূমিকা রাখবে।’ দেশের নেতা হিসেবে এই অসামান্য স্বীকৃতি অর্জন করায় সাকিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রাণঢালা অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন তিনি
বিশেষ প্রতিনিধি সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাংলাদেশ বিমানে ভ্রমন করার বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আকাশপথে চলাচলের সময় যে রুটে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট আছে, সেসব ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ বিমানে ভ্রমণ করতে হবে। মঙ্গলবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনাল থেকে বিমান বাংলাদেশের নতুন বোয়িং (৭৮৭-৮) ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ উদ্বোধনকালে এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এরআগে প্রধানমন্ত্রী উড়োজাহাজটিতে আরোহণ করেন এবং ককপিটসহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন বিমানে উঠলে গর্বে বুক ভরে যায়। আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সরকারি অফিসাররা যে যেখানেই যান, বাংলাদেশ বিমানেই যেতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বোয়িং এর কাছ থেকে আরও দুটো বিমান কেনার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এই দুটো বিমান আমরা রেডি পেয়েছি। যারা বোয়িং এর কাছ বিমান কেনার অর্ডার দিয়েছিল, তারা এদুটো এখন নিচ্ছে না। আমরা কিনতে পার্,ি আমাদের হাতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমেরিকার রাষ্ট্রদূতের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, বিমান বোয়িং থেকে এতোগুলো উড়োজাহাজ কিনছে, সেখানে বিমানকে আমেরিকায় যেতে হবে। তিনি বলেন, ‘দশটি ড্রিমলাইনারের নাম আমি দিয়েছি, যাতে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে সবাই পরিচিত হতে পারেন।’ পণ্য রফতানির জন্য দুটো কার্গো বিমান কেনা ও কার্গো ভিলেজ গড়ে তোলার কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে বাংলাদেশ। পৃথিবীর বহু দেশ দ্রæত প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও তাদের মূল্যস্ফীতি বেশি হয়। আমরা প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ধরে রাখতে পেরেছি। প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগসহ আমাদের অনেক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়েছে। তারপরও আমরা আমাদের দেশে চমৎকার একটা পরিবেশ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি।’ এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছে ‘রাজহংস’। অত্যাধুনিক এই উড়োজাহাজটির যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে ডিমলাইনার উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়ালো চারটিতে। ২০০৮ সালে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার জন্য ২১০ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এর আগে এর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, দু’টি নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮০০ যুক্ত হয়েছে। বাকি চারটি ড্রিমলাইনারের ২০১৮ সালে বাংলাদেশ বিমানের বহরে ‘আকাশবীণা’ ও ‘হংসবলাকা’ এবং চলতি বছরে যুক্ত হয় ‘গাঙচিল’। আর মঙ্গলবার সংযোজন হলো ড্রিমলাইনার ‘রাজহংসে’র। বিমানের চারটি ড্রিমলাইনারের নাম-ই দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উড়োজাহাজ ড্রিমলাইনার একটানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে পারে। অন্য উড়োজাহাজের চেয়ে এর জ্বালানি খরচও ২০ শতাংশ কম। ড্রিমলাইনার ‘রাজহংসে’র ২৭১টি আসনের মধ্যে ২৪টি বিজনেস ক্লাস এবং ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাসের আসন। বিজনেস ক্লাসের আসনগুলো ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত রিক্লাইন্ড এবং সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড সুবিধা রয়েছে। অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ও ওয়াইফাই সুবিধা নিতে পারবেন যাত্রীরা।
শুক্রবার, 06 সেপ্টেম্বর 2019 16:40

তিহার জেলে ঘুমহীন রাত কাটালেন চিদাম্বরম

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক নয়াদিল্লি: রাত কাটল, ভোরও হল৷ তবে চোখে ঘুম ছিল না প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর৷ তিহার জেলে বন্দিদশার প্রথম রাত কাটিয়ে ফেললেন পি চিদাম্বরম৷ জেল সূত্রে খবর, গোটা রাত জেগেই কাটিয়েছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী৷ আর পাঁচটা সাধারণ কয়েদির মতোই কোনও বিশেষ ব্যবস্থা মেলেনি চিদাম্বরমের ভাগ্যে৷ সকাল ছটায় বাকিদের মতোই তিনিও চা ও জলখাবার খান৷ যাতে ছিল পাউরুটি, চিঁড়ের পোলাও ও কর্ণফ্লেক্স৷ সাত নম্বর সেলের কয়েদি চিদাম্বরম আগে পেতেন জেড প্লাস ক্যাটাগরির সুরক্ষা৷ কিন্তু এদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর সেলের বাইরে কোনও বিশেষ নিরাপত্তা রক্ষীকে দেখা যায়নি৷ সেলের বাইরে তাঁকে কিছুক্ষণ পায়চারি করার অনুমতি দেন জেল কর্তৃপক্ষ৷ বৃহস্পতিবার এই বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা ওয়েস্টার্ন বাথরুমের আবেদন করেছিলেন৷ সেই মতোই তাঁকে সেই ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়৷ সঙ্গে রাখার অনুমতি দেওয়া হয় নিজস্ব ওষুধ ও চশমা৷ বৃহস্পতিবার রাতে হালকা খাবার খান চিদাম্বরম৷ খান ওষুধও৷ অন্যান্য কয়েদিদের মতোই জেলের গ্রন্থাগারে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে চিদাম্বরমের৷ কিছুক্ষণ টিভি দেখারও অনুমতি পেয়েছেন তিনি৷ তবে দিন কয়েকের জন্য তাঁর সেলে দেওয়া হবে সংবাদপত্র৷ শোওয়ার জন্য একটি বালিশ ও কম্বল পেয়েছেন প্রাক্তন এই অর্থমন্ত্রী৷ জেল কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মত চিদাম্বরম অন্যান্য কয়েদিদের জন্য রাখা পানীয় জলের কুয়ো থেকে জল পান করতে পারেন, নয়তো তাঁকে জেলের ক্যান্টিন থেকে মিনারেল ওয়াটারের বোতল কিনে খেতে হতে পারে৷ উল্লেখ্য আইএনএক্স মিডিয়া কেলেঙ্কারিতে তাঁর বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে বিশেষ সিবিআই আদালত। ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিহার জেলেই থাকতে হবে পি চিদম্বরমকে। আদালতে, তাঁর বিচারবিভাগীয় হেফাজতের আর্জি জানায় সিবিআই, সেই দাবি মেনেই এই হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর আগারগাঁওস্থ জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে একজন সাধারণ রোগীর মতোই চোখের চিকিৎসা নিয়েছেন। গতকাল সকাল ৮টায় প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে যান এবং বহির্বিভাগ থেকে ১০ টাকা মূল্যমানের টিকিট কেটে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ তথ্য জানান। এর আগেও প্রধানমন্ত্রী এই হাসপাতাল থেকে একইভাবে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী তার চিকিৎসাসেবা গ্রহণকালীন হাসপাতালের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসক ও নার্সদের ধন্যবাদ জানান।
বিবিসি বাংলা ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা-রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দেশের কোন প্রচার মাধ্যম এমনকি চলচ্চিত্রেও তাঁর নাম বা ছবি প্রকাশ হতে দেখা যায়নি। তৎকালীন সরকারি প্রচার মাধ্যমের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেখ মুজিবকে হত্যার পর এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা নানাভাবে ইতিহাস থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। বেতারে শেষবারের মতো শেখ মুজিবের নাম শেখ মুজিবকে হত্যার পর পর ভোর বেলায় শাহবাগের বাংলাদেশ বেতারের ব্রডকাস্ট শাখা থেকে হত্যাকাণ্ড সেই সঙ্গে সামরিক সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ঘোষণা প্রচার করা হয়েছিল। ঘটনার দিন বাংলাদেশ বেতারের শাহবাগ ব্রডকাস্ট শাখার শিফট ইনচার্জ হিসেবে কাজ করছিলেন প্রণব চন্দ্র রায়। ''সেদিনই শেষবারের মতো উচ্চারিত হয় শেখ মুজিবুর রহমানের নামটি। এরপর থেকে বেতারে কখনও তার নাম শোনা যায়নি'', মি. রায় বিবিসিকে বলেন । বিবিসি বাংলাকে তিনি জানান যে, ভোরবেলা সেনাবাহিনী বেতার অফিসের ভেতরে ট্রান্সমিশন কক্ষে প্রবেশ করে এবং তার মাথার ওপর বন্দুক ঠেকিয়ে শেখ মুজিবকে হত্যার ঘোষণাটি প্রচারের ব্যবস্থা করে দিতে বলে। "মেজর ডালিম আমার মাথায় বন্দুক ঠেকায়, তারা পুরো শরীর তখন রক্তে ভরা। আমি তখনও জানতাম না কি হয়েছে। এরপর তিনি আমাকে বলেন, শেখ মুজিব অ্যান্ড হিজ গ্যাং অল হ্যাজ বিন কিল্ড। আর্মি হ্যাজ টেকেন পাওয়ার। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি হতভম্ব হয়ে যাই। তখন বুঝলাম যে ক্যু হয়েছে।" বলেন মিঃ রায়। তিনি সেনাবাহিনীর নির্দেশ মতো রেডিওর সব ইকুইপমেন্টগুলো খুলে দেন এবং মিরপুরের ট্রান্সমিশন স্টুডিওকে বলেন ঘোষণাটি প্রচার করার জন্য। মেজর শরীফুল হক ডালিম একটা লগ বুকের কাগজে বিবৃতি লিখেন এবং সেটাই প্রচার করেন। যেখানে বলা হয়েছিল, "শেখ মুজিবকে হত্যা করা হইয়াছে এবং খন্দকার মুশতাকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করিয়াছে। দেশবাসী সবাই শান্ত থাকুন। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।" পর পর কয়েকবার এই ঘোষণা দেয়া হয়। পরবর্তী রেকর্ডিংয়ে শেখ মুজিবকে "হত্যা করা হয়েছে" বলার পরিবর্তে "উৎখাত করা হয়েছে" বলে ঘোষণা দেয়া হয়। ওই মুহূর্তে মেজর শাহরিয়ার রশিদ কড়া নির্দেশনা দেন যেন শেখ মুজিবুর রহমান বা তার দলের নাম, রবীন্দ্র সংগীত, জয় বাংলা স্লোগান কিছুই প্রচার করা না হয়। পরে খন্দকার মুশতাক তার মৌখিক নির্দেশে বাংলাদেশ বেতারের নাম বদলে রেডিও বাংলাদেশ রাখেন। বাংলাাদেশ টেলিভিশনে প্রচার হয়নি শেখ মুজিবের নাম ও ছবি এই সময়ের মধ্যে বিটিভিতে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উচ্চারিত হতে শোনেননি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ম. হামিদ। তিনি সে সময় বিটিভির প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। সেখানে থাকাকালীন তিনি একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছিলেন, যেখানে শেখ মুজিবের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু প্রামাণ্য চিত্রটি প্রচারের আগ মুহূর্তে নামটি কেটে দেয়া হয়। ২৬শে মার্চ বা ১৬ই ডিসেম্বরের মতো বিশেষ দিনগুলোয় হাতে গোনা দুই একটি অনুষ্ঠান প্রচার করা হতো, সেখানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গটি জোড়াতালি দিয়ে কোন রকম দাঁড় করানো হতো বলে উল্লেখ করেন মিঃ হামিদ। এমনকি পাঠ্যবইতে শেখ মুজিবের নাম মুছে খণ্ডিত ইতিহাস পড়ানো হতো বলে তিনি জানান। ১৫ আগস্টে পালন করা হতো জাতীয় নাজাত (মুক্তি) দিবস। ওই দিন শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক ইতিহাস বা তাকে হত্যার ঘটনা কিছুই প্রচার করা হতো না। উল্টো বিটিভিতে প্রচারিত বিভিন্ন বক্তৃতা এবং আলোচনায় শেখ মুজিবকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হতো বলে জানা যায়। মৃত্যুর এক বছর আগে ১৯৭৪ সালে ধারণ করা একটি ছবিতে শেখ মুজিব "বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরে যারা রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায় এসেছিল তারা বাংলাদেশকে রাজনৈতিক ও আদর্শগতভাবে পুরোপুরি বিপরীত ধারায় নিয়ে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর প্রসঙ্গ আসলেই তারা ভয় পেতো, মানুষ যদি আবার তাঁর ব্যাপারে জানতে শুরু করে। এজন্য প্রচার প্রোপাগান্ডার মধ্যে দিয়ে তার নাম ও আদর্শকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার সার্বিক প্রয়াস চালানো হয়েছিল,'' বলেন ম হামিদ। চলচ্চিত্রে সেন্সর বোর্ডের কাটছাট পঁচাত্তর পরবর্তী চলচ্চিত্রেও শেখ মুজিবের নাম ছবি এমনকি জয় বাংলা স্লোগান ব্যবহার হতে দেখা যায়নি। সেসময় বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন সারাহ বেগম কবরী। তার অভিনীত রক্তাক্ত বাংলা এবং আমার জন্মভূমি চলচ্চিত্রের বেশ কয়েকটি অংশ এবং সংলাপ সেন্সর বোর্ড থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। যার মধ্যে ছিল শেখ মুজিবের নাম, তাঁর ছবিযুক্ত শট, তাঁর ভাষণের অংশবিশেষ এবং জয় বাংলা স্লোগান। "সে সময় যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা ইচ্ছামত রাজনৈতিকভাবে চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে প্রতিটি জায়গা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছে। তাদের কথা ছিল যে বঙ্গবন্ধুর নাম বা তার দলের কোন চিহ্ন যেন কোথাও না থাকে। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভিত্তিক ছবিতেও এই বিষয়গুলো বাদ দেয়া হয়েছিল,'' সারাহ বেগম কবরী বিবিসিকে বলেন। পুনরায় বাংলাদেশ বেতার, তথ্য পুনরুদ্ধার ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন আবু সাঈদ। সে সময় তিনি 'রেডিও বাংলাদেশ'-এর নাম, মৌখিক নির্দেশে পুনরায় 'বাংলাদেশ বেতার' রাখেন। নতুন প্রজন্মের কাছে শেখ মুজিবের ইতিহাস তুলে ধরতে আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। "আমি বেতারের ডিজি সাহেবকে ডেকে প্রশ্ন করেছিলাম দেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের নাম বাংলাদেশ বেতার রাখা হয়েছিল। এটা রেডিও পাকিস্তানের আদলে রেডিও বাংলাদেশ কিভাবে হল? ডিজি সাহেব এ নিয়ে আমাকে লিখিত কোন নথি বা আদেশনামা দেখাতে পারেননি। কেবল একটি মৌখিক নির্দেশে এই নাম পরিবর্তন হয়েছিল। তারপর আমি পাল্টা নির্দেশ দিলাম এটাকে আবার বাংলাদেশ বেতার করতে,'' বলেন মি. সাঈদ। মি. সাঈদ সে সময় ডিএফপি এর আর্কাইভ থেকে শেখ মুজিবের সব রেকর্ডগুলো কয়েক বছর ধরে পুনরুদ্ধার করেন এবং রেডিও টেলিভিশন ও পত্রিকায় প্রচার করা শুরু করেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল শেখ মুজিবের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভাষণ। "আমি আর্কাইভে গিয়ে দেখি বঙ্গবন্ধুর ভাষণের রিলগুলো অযত্ন অবহেলায় স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে নষ্ট হচ্ছে। তখন আমি সেগুলো বের করে ওয়াশ করার জন্য ভারতের পুনেতে পাঠাই। কারণ বাংলাদেশে ওই প্রযুক্তি ছিলনা। এখন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যতো ভিজুয়াল দেখেন, বেশিরভাগ সেই সময়ের উদ্ধার করা,'' তিনি বলেন।
বিবিসি বাংলা ঠিক ৪৩ বছর আগে অগাস্টের সেই বৃষ্টিভেজা সকালে ঢাকা থেকে সংবাদটা এসেছিল বজ্রপাতের মতো। ভারতে সবেমাত্র ঘোষিত হওয়া জরুরী অবস্থাকে ঘিরে দেশের পরিস্থিতি এমনিতেই টালমাটাল, তখনই খবর এল বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকায় নিজের বাসভবনেই আততায়ীদের হাতে সপরিবারে নিহত হয়েছেন। ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সেদিন রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদের দেওয়া রিসেপশনে যোগ দিতে দেশের কয়েকশো নেতা-মন্ত্রী ও সাংসদ তখন রাষ্ট্রপতি ভবনেই। কর্নাটকের কংগ্রেস নেত্রী মার্গারেট আলভা তখন রাজ্যসভার এমপি, সে দিনের তরুণী সেই রাজনীতিকও ছিলেন সেই দলে। "রাষ্ট্রপতি ভবনে বসেই আমরা খবরটা পেলাম। মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে, সে খবর ততক্ষণে দাবানলের মতো দিল্লি জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, কিন্তু লোকে যেন নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছে না।" "আমার খুব ভাল মনে আছে রাষ্ট্রপতি ভবনের ভেতর তখনই বলাবলি শুরু হল ঠিকমতো পদক্ষেপ না-নিলে ভারতেও কিন্তু যে কোনও দিন একই জিনিস ঘটতে পারে। বিশ্বাস করবেন কি-না জানি না, ওটাই ছিল আমাদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া", এত বছর বাদে সে দিনের স্মৃতিচারণ করতে বসে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মিস আলভা। একাত্তরের যুদ্ধজয়ের স্মৃতি তখনও ম্লান হয়নি - মার্গারেট আলভার কথায় 'শেখসাহেব তখনও উপমহাদেশের গগনস্পর্শী নায়কদের একজন'। কিন্তু তাঁর যে এ ধরনের পরিণতি হতে পারে, সেটা ভারত একেবারেই ভাবতে পারেননি বলে জানাচ্ছেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ঘনিষ্ঠ এই রাজনীতিক। ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে বসেই মুজিব হত্যার খবর পেয়েছিলেন সেদিনের নবীন এমপি মার্গারেট আলভা। বিনা মেঘে বজ্রপাত, না কি আশঙ্কা ছিলই? কিন্তু শেখ মুজিবের প্রাণনাশের চেষ্টা হতে পারে, ভারত কি তার একেবারেই কোনও আঁচ পায়নি? মানে এই খবরটা কি দিল্লির কাছে পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত ছিল বলা যায়? "না, একেবারেই আন্দাজ করা যায়নি সেটা বলা যাবে না। খবরও ছিল যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটা অংশ মুজিবের বিরুদ্ধে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে,'' বলছেন দিল্লিতে ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের কর্ণধার ও স্ট্র্যাটেজিক বিশ্লেষক, মেজর জেনারেল (অব) দীপঙ্কর ব্যানার্জি। ''রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং ('র')-এর প্রধান আর এন কাও ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় গিয়ে খোদ মুজিবকে বলেও ছিলেন যে তাঁর জীবনের ওপর হামলা হতে পারে, '' জেনারেল ব্যানার্জি বিবিসিকে বলেন। "কিন্তু মুজিব তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে বলে ওঠেন, ওসব হতেই পারে না। গোটা বাংলাদেশ আমাকে ভালবাসে, ওরা সবাই আমার ছেলেমেয়ের মতো - কে আমাকে মারতে যাবে? আপনার এসব জল্পনায় কান দেওয়ার কোনও দরকার নেই," তিনি জানান। যুদ্ধ শেষে মুজিবনগরের পত্রিকা, ডিসেম্বর ২৩, ১৯৭১: বন্ধু তালিকার শীর্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বস্তুত শেখ মুজিব চেয়েছিলেন বলেই ভারত তাঁর বিরোধী শিবিরের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালানো বন্ধ করে দিয়েছিল বলে জানাচ্ছেন এই বিশ্লেষক। কিন্তু ঢাকায় তো এমন ধারণাও কারও কারও আছে যে শেখ মুজিবের করুণ মৃত্যুতে দিল্লি হয়তো তেমন একটা অখুশি হয়নি? বস্তুত মুজিবের হত্যার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই যেভাবে ভারত খন্দকার মোশতাক আহমেদের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল, তাতেও অনেকের মধ্যে এই সন্দেহ ঘনীভূত হয়েছে। কিন্তু মুজিবের মৃত্যুর মাত্র মাসকয়েক আগেও ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসে কূটনীতিকের দায়িত্ব পালন করে আসা সাবেক রাষ্ট্রদূত অরুণ কুমার ব্যানার্জি এটাকে 'সম্পূর্ণ বাজে কথা' বলে অভিহিত করেন। ''আমি বলব ভারতের একমাত্র রিঅ্যাকশন ছিল শিয়ার হরর অ্যান্ড শক। কীভাবে এমন মারাত্মক ঘটনা ঘটে গেল, সেটাই দিল্লি ভেবে কূল করতে পারছিল না," বিবিসিকে বলছিলেন মিঃ ব্যানার্জি। "আসলে শেখ সাহেব নিজে যা-ই বলুন, আমরাই তো তাঁর দেখাশুনো করব বলে কথা দিয়েছিলাম। ফলে ইনটেলিজেন্স গ্যাদারিং বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে কোথাও তো একটা খামতি ছিলই। ''যদিও এটা মূলত বাংলাদেশেরই কাজ - আমাদের গোয়েন্দা অ্যাপারেটাসেও কেউ কোথাও একটা ভুলচুক করে ফেলেছিল সেটা তো অস্বীকার করতে পারি না," তিনি বলেন। স্ট্র্যাটেজিক বিশ্লেষক ও সাবেক মেজর জেনারেল দীপঙ্কর ব্যানার্জি। দীপঙ্কর ব্যানার্জি আবার বলছিলেন, "ভারতের কাছে মুজিবের ইমেজটা ছিল একটা স্বাধীন দেশের ফাউন্ডার-লিবারেটরের। দেশটা জন্মানোর চার বছরেরও কম সময়ের মধ্যে আর্মির একটা অংশ তাকে নির্মমভাবে নিকেশ করে দিতে পারে - ভারত তাতে সত্যিই প্রচন্ড অবাক হয়েছিল।" কতটা ফাটল ধরেছিল ইন্দিরা-মুজিব সম্পর্কে? কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নিজেও যে এই ঘটনায় খুব বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন এমনও তো বিশেষ প্রমাণ নেই? "না, দেখুন - তখনকার সময়টার কথাও আপনাকে ভাবতে হবে,'' মিঃ ব্যানার্জি বলেন। মিসেস গান্ধী দেশে জরুরি অবস্থা চালু করেছেন মাস দেড়েক আগে। দেশের ভেতরে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তখন একটা অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। দীপঙ্কর ব্যানার্জির মতে, মিসেস গান্ধী তখন হাজারটা সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলেন। ''সত্যি বলতে কী, তখন বাংলাদেশের দিকে বা বাইরের দুনিয়ার দিকে তাঁর তেমন নজর দেওয়া সম্ভবও ছিল না", মনে করেন দীপঙ্কর ব্যানার্জি। অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বাধ্যবাধকতা নিশ্চয় ছিল - কিন্তু শেখ মুজিবের হত্যাকান্ডের বেশ কিছুদিন আগে থেকেই ইন্দিরা গান্ধী ও তাঁর সম্পর্কে যে অস্বস্তির ছায়া পড়তে শুরু করেছিল, সেটাও কিন্তু ঐতিহাসিক সত্যি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তখন দেশে জরুরি অবস্থা নিয়ে ব্যস্ত। ভারতের প্রাক্তন পররাষ্ট্রসচিব মুচকুন্দ দুবে মুজিব-হত্যার ঠিক চার বছরের মাথায় ভারতীয় হাই কমিশনারের দায়িত্ব নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলেন। কোনও রাখঢাক না-করেই তিনি যেমন বলছেন, "আসলে কী, শেখ মুজিবের কিছু কিছু পদক্ষেপে দিল্লির কপালে যে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল সেটা কিন্তু অস্বীকার করা যাবে না।" "যেমন ধরুন, তার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বা বাকশাল চালু করার উদ্যোগ। ভারত মনে করেছিল সেটা গণতন্ত্রের রাস্তা থেকে বিচ্যুতি বা অ্যাবারেশন। তাঁর প্রশাসনে যে বেশ কিছু আরবিট্রারিনেস বা স্বেচ্ছাচার শেকড় বিছিয়েছিল, সেটা নিয়েও আমরা চিন্তিত ছিলাম।" "কিন্তু এই উদ্বেগ কখনওই এমন পর্যায়ে পৌঁছয়নি যে শেখ মুজিবকে হত্যা করা হলে ভারতে খুশির লহর বয়ে যাবে। বড়জোর একটা অসন্তুষ্টি ছিল বলা যেতে পারে, এবং হয়তো এই ফিলিংসটাও ছিল মুজিবের ওই রকম কোনও পরিণতি অনিবার্য!" বলছিলেন মিঃ দুবে। ঢাকায় তখনকার ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সমর সেনও অবসর নেওয়ার পর ১৯৯৮ সালে ফ্রন্টলাইন ম্যাগাজিনে লিখেছিলেন, "আরও নানা কারণের সঙ্গে যখন দেখা গেল চুয়াত্তরের অগাস্ট মাসে জুলফিকার আলি ভুট্টো বাংলাদেশ সফরে এলেন, তখন শত্রুতা না হোক - ভারতের দিক থেকে একটা হতাশা অবশ্যই তৈরি হয়েছিল।" চুয়াত্তরে জুলফিকার আলি ভুট্টোর বাংলাদেশ সফরকে ভারত ভালভাবে নেয়নি। আজীবন কংগ্রেসী রাজনীতি করা মার্গারেট আলভার বর্ণনায়, "হ্যাঁ, ততদিনে দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে বেশ কয়েকটা ইস্যু তৈরি হয়ে গিয়েছিল তাতে সন্দেহ নেই। যেমন, ফারাক্কা ব্যারাজ তৈরি করা কিংবা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ থেকে যারা এসেছিলেন, তাদের অনেকের ভারতে থেকে যাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘাত অবশ্যই ছিল।" "কিন্তু আমি বিশ্বাস করি দুটো দেশের মধ্যে যে পারস্পরিক আস্থা আর মর্যাদার সম্পর্ক ছিল, সেটাকে কোনও কিছুই ছাপিয়ে যেতে পারেনি। মুজিবের মৃত্যুর পর সে দেশের ইতিহাস অন্য মোড় নিল, দেশটাকে 'মুসলিম বাংলাদেশ' বানানোর চেষ্টা শুরু হল - সেটা অবশ্য অন্য প্রসঙ্গ! " মেজর জেনারেল (অব) দীপঙ্কর ব্যানার্জিও মনে করেন, "একাত্তরের পর থেকে বাংলাদেশ খুব কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে পার হয়েছে সবাই জানে। দুর্ভিক্ষ-অনশন-সাইক্লোনের বহু ঝড়ঝাপটা গেছে। যুদ্ধের পর ভারতেরও তেমন সামর্থ্য ছিল না যে তাদের সব চাহিদা পূরণ করতে পারবে।" "ভারতীয় গণতন্ত্রেও হয়তো বাংলাদেশকে নিয়ে নানা ধরনের মতামত ছিল - সেটাই তো গণতন্ত্রের বেশিষ্ট্য। কিন্তু তাই বলে শেখ সাহেবের জন্য গুডউইল বা শ্রদ্ধায় কিন্তু কখনওই কোনও ভাঁটা পড়েনি। তার অনিষ্ট হোক এটা ভারত কখনও চায়নি, চাইতে পারেই না", রীতিমতো জোর দিয়ে বলেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত অরুণ কুমার ব্যানার্জি। কেন বেছে নেওয়া হয়েছিল ১৫ই অগাস্ট তারিখটা? যে কোনও দেশের জাতীয় নায়কদের মতোই শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ড নিয়েও নানা ধরনের 'কনস্পিরেসি থিওরি' বা ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব চালু আছে। তার কোনও কোনওটায় ভারতের দিকেও আঙুল তোলা হয়েছে। সাবেক কূটনীতিক অরুণ ব্যানার্জি অবশ্য এই সব জল্পনা-কল্পনা হেসেই উড়িয়ে দিচ্ছেন। "দেখুন, নির্দিষ্ট করে এই ১৫ই অগাস্ট তারিখটা বেছেই নেওয়া হয়েছিল খুব সচেতনভাবে। ভারতের স্বাধীনতা দিবস ওটা - আর ক্যু-র ষড়যন্ত্রকারীরা ভারতকেই একটা মেসেজ দিতে চেয়েছিল। বার্তাটা ছিল, তোমাদের এত খাতিরের লোক - আর তোমাদের বিশেষ দিনে দ্যাখো এই তার অবস্থা", বলছিলেন তিনি। "ওই অভ্যুত্থানের কিছুদিনের মধ্যেই যেভাবে বাংলাদেশের টপ ইনটেলেজিন্সিয়া বা বুদ্ধিজীবীদের শেষ করে দেওয়া হল, তাজুদ্দিন আহমেদ-সহ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের দ্বিতীয় সারিটাকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হল, তাতে বোঝাই যায় এর মাধ্যমে কারা লাভবান হতে চেয়েছিল", বলছিলেন ওই টালমাটাল সময়ে ঢাকায় কাটানো এই প্রাক্তন কূটনীতিক। ঢাকার সংবাদপত্রে শেখ মুজিবের হত্যাকারীদের সাজার খবর কেন ভারত দোষারোপ করেছিল সিআইএ-কে? যে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল তাতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলেই বরং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দৃঢ় বিশ্বাস। অরুণ ব্যানার্জি নিজেও এই মতের শরিক। কলকাতায় কংগ্রেসী ঘরানার সংবাদপত্র যুগান্তরে তো সে সময় সরাসরি লেখা হয়েছিল ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিস বোস্টার এই ক্যু-তে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। বর্তমানে মার্কিন-প্রবাসী ভারতীয় গবেষক বি জেড খসরু লিখেছেন, "কলকাতার মার্কিন কনসাল জেনারেল নিজে যুগান্তর অফিসে গিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। এই খবর প্রত্যাহার করে যুগান্তরকে প্রথম পাতায় ক্ষমা চাইতে হবে বলেও তিনি জেদ ধরে ছিলেন।" ভারতের বিভিন্ন খবরের কাগজেও সিআইএ-র দিকে আঙুল তুলে সে সময় নানা সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছিল। দিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশনস ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমেরিকা বিভাগের প্রধান জে এস তেজার সঙ্গে দেখা করে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছিলেন, এ রকম চলতে থাকলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার ফল ভাল হবে না। ভারতে তখন ইমার্জেন্সি চলছে, সব খবরের কাগজে প্রথম পাতায় কী খবর বেরোবে সরকারই তা সেন্সর করত। বেশির ভাগ কাগজেই সেটারই প্রতিফলন ঘটত, সরকার যা চাইছে। ঢাকায় সাবেক ভারতীয় হাই কমিশনার ও ভারতের প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব মুচকুন্দ দুবে ব্যর্থতার দায়ভার কতটুকু ভারতের? কিন্তু শেখ মুজিবকে যে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি, সেই ব্যর্থতার দায়ভার বহু দিন পর্যন্ত ভারতকেও অনেকটাই বয়ে বেড়াতে হয়েছে। মুজিবের মৃত্যুর চার বছরের মাথায়, ১৯৭৯-র অক্টোবরে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনারের দায়িত্ব নিয়ে গেলেন মুচকুন্দ দুবে। তাকেও তখন অহরহ এই বিষয়টা নিয়ে অনুযোগ শুনতে হয়েছে। "অনেকেই আমাকে তখন বলতেন এত বড় ঘটনাটা আপনারা জানতেই পারলেন না? ঠেকাতেই পারলেন না? তাদের কথায় প্রচ্ছন্নভাবে এই সুরটাই থাকত, যেন মুজিবের হত্যাকান্ড দিল্লিরই কূটনৈতিক ব্যর্থতা।" "তারা কিন্তু এই জিনিসটা বুঝতেন না যে একটা সার্বভৌম দেশ আর একটা সার্বভৌম দেশের সব কিছু করে দিতে পারে না। যেমন ধরুন, আপনি আপনার ইনটেলিজেন্স নেটওয়ার্ক অন্য দেশের সব জায়গায় রাখতে পারেন না - রাখলে সেটাকেই তখন সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো বলা হবে", কিছুটা বিষণ্ণ সুরেই বলেন মুচকুন্দ দুবে। অরুণ ব্যানার্জিও এ প্রসঙ্গে যোগ করেন, "বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই এই ডিবেটটা আগাগোড়া ছিল যে ভারত তাদের কতটা গাইড করবে, আর কতটা একলা ছেড়ে দেবে? যতই হোক, বাংলাদেশ তাদের নিজেদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে - একটা সময় পর ভারত তো সেখানে ব্যাকসিট নিতেই বেশি পছন্দ করবে।" কিন্তু ভারত ঠিক কতটা পেছনে সরে গিয়েছিল - আর সেই দূরে সরে যাওয়ার সুযোগ নিয়েই শেখ মুজিবকে হত্যার পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়েছিল কি-না, সেই বিতর্কের মীমাংসা আজও হয়নি। একাত্তরের যুদ্ধের পর শেখ মুজিবের ছবি নিয়ে ভারতীয় সেনাদের উল্লাস ১৫ই অগাস্ট, ১৯৭৫-র পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সে যাই হোক, শেখ মুজিবের হত্যার অব্যবহিত পর ভারত ঠিক কী কী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছিল? তখনকার ভারতীয় হাই কমিশনার সমর সেনের (যিনি এখন আর বেঁচে নেই) লেখা থেকেই আবার উদ্ধৃত করা যাক, "আমার মত ছিল অপেক্ষা করা ও নজর রাখা - কিন্তু সেই সঙ্গেই আমি মনে করেছিলাম, বাংলাদেশের নতুন শাসকদের সঙ্গেও আমাদের সম্পর্ক স্থাপন করা উচিত। যদিও ভারত সরকারের কারও কারও সেই ভাবনাটা পছন্দ হয়নি।" "শেখ মুজিবের হত্যাকান্ড বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে নিশ্চয় একটা বড় আঘাত ছিল - কিন্তু বিপর্যয় ছিল না। বস্তুত খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের সম্পর্কের মধ্যে একটা আপাত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল।" শেখ মুজিব সপরিবারে নিহত হওয়ার ঠিক পাঁচদিনের মাথায়, ২০শে অগাস্ট ঢাকায় ভারতের রাষ্ট্রদূত সমর সেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলেন বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি খোন্দকার মোশতাক আহমেদের সঙ্গে। হাসিমুখে দুজনের করমর্দনের ছবিও বেরোল ভারতের 'দ্য হিন্দু' পত্রিকার প্রথম পাতায়। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কও এক অভাবিত নতুন মোড় নিল ১৯৭৫-র সেই ঘটনাবহুল আগস্ট থেকেই।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। লন্ডন থেকে দেয়া এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশের একজন ভালো বন্ধু ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, ‘তার মৃত্যুতে আমরা একজন প্রকৃত বন্ধুকে হারালাম।’ শেখ হাসিনা বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে নেয়ার ক্ষেত্রে তার অবদানের কথা বাংলাদেশ সব সময় স্মরণ করবে। প্রধানমন্ত্রী তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। হাসপাতাল সূত্র জানায়, সুষমা স্বরাজ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গতরাতে নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সে (এআইআইএমএস) শেষনি:শ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি বিজেপি’র একজন প্রবীণ নেতা ছিলেন।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ায় বরিস জনসনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়া উপলক্ষে আপনি আমার এবং বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের আন্তরিক অভিনন্দন গ্রহণ করুন।’ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার দায়িত্ব গ্রহণ আপনার দেশকে ঐক্য, সমৃদ্ধি ও গতিশীলতার নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আপনার নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যের জনগণের দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা ২০১৮ সালে আপনার সফরের কথা আন্তরিকভাবে স্মরণ করছি। আমরা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির ওপর নৃশংসতার জন্য মিয়ানমারকে জবাবদিহির সম্মুখীন করা এবং পূর্ণ মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের পৈতৃক ভূমিতে আশু ও টেকসই প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আপনার ব্যক্তিগত অঙ্গীকার ও যুক্তরাজ্যের বৈশ্বিক নেতৃত্বের ওপর আমাদের আস্থা বজায় রাখছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে, যা গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার অভিন্ন মূল্যবোধ এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীর কল্যাণের গভীরে প্রোথিত।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতির পিতা ও আমার প্রিয় পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি যুক্তরাজ্যের তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকারের প্রধানমন্ত্রী স্যার এডোয়ার্ড হিথের সমর্থনের কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি সাগ্রহে ২০২১ সালে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের কুটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপনের অপেক্ষায় রয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সুস্বাস্থ্য, সুখ ও অব্যাহত সাফল্য এবং যুক্তরাজ্যের জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা