01232021শনি
শিরোনাম:
স্পটলাইট

স্পটলাইট (1009)

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক : ঢাকা এই বছরের মে থেকে বহুল-দাবী করা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য ‘সতর্কতার সঙ্গে আশাবাদী’ হয়ে উঠেছে কারণ সংকট নিয়ে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে আজকের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে নেপিডো তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়ার নমনীয়তা দেখিয়েছে। বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, কূটনৈতিক ভাষায়, আমি বলতে পারি- আমরা সতর্কতার সঙ্গে আশাবাদী (মে মাসে প্রত্যাবাসন শুরু করার ব্যাপারে)… আমরা আন্তরিকভাবে লেগে আছি, যাতে আমরা অন্তত (প্রত্যর্পণ) প্রক্রিয়া শুরু করতে পারি। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বদানকারী এই সিনিয়র সচিব মঙ্গলবার বিকেলে ৯০ মিনিটের ভার্চুয়াল ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। চীনের ভাইস মিনিস্টার লুও ঝাওহুই এবং মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উপমন্ত্রী হাও দো সুয়ান বৈঠকে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদের নেতৃত্ব দেন। তিন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের মধ্যে প্রথম ত্রিপক্ষীয় বৈঠকটি ২০১৯ সালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের এক ফাঁকে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সরকারি পর্যায়ে সর্বশেষ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছিল গত বছরের জানুয়ারিতে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ঢাকা আজ প্রথম প্রান্তিকে প্রত্যাবাসন শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু মিয়ানমার বলেছে কৌশলগতভাবে আয়োজনে আরও কিছুটা সময় লাগবে। আমরা বলেছিলাম আমরা সেকেন্ড কোয়ার্টারে এটি করতে পারব, তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারও ঢাকার প্রস্তাব অনুযায়ী সেকেন্ড কোয়ার্টারে কাজ শুরু সম্পর্কে তাদের নমনীয়তা দেখিয়েছিল। তবে সচিব বলেন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য প্রচুর বিষয় রয়েছে, তবে ‘আমরা আশা নিয়ে কাজ করতে চাই’। মাসুদ বলেন, ঢাকা গ্রামভিত্তিক প্রক্রিয়ায় প্রত্যাবাসন শুরু করার প্রস্তাব করেছে যাতে রোহিঙ্গারা তাদের পরিচিত প্রতিবেশীদের সঙ্গে একসাথে দেশে ফিরে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারে। তবে, মিয়ানমারের পক্ষ জানিয়েছে তারা কেবল যাচাই করা রোহিঙ্গাদের দিয়েই প্রত্যাবাসন শুরু করতে চায়। সচিব বলেন, মিয়ানমার গ্রাম ভিত্তিক প্রত্যাবাসন সম্পর্কে ঢাকার প্রস্তাবকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেনি, তারা বলেছে, তারা বিষয়টি বিবেচনা করবে, তবে চীনা পক্ষ ঢাকার যুক্তি বুঝতে পেরেছে। তিনি বলেন, মিয়ানমারকে তাদের রোহিঙ্গা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শুরুর ব্যাপারে খুব ধীর বলে মনে হয়েছে বলে ঢাকা দ্রুত করার জন্যও আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ৮ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক তথ্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে, ৮ লাখ ৪০ হাজারের মধ্যে নেপিডো এ পর্যন্ত মাত্র ৪২ হাজার বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাই করেছে। মাসুদ বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হওয়ার সময় মিয়ানমার ও চীন উভয়ই রাখাইনে জাতিসংঘ, ভারত, জাপান এবং আশিয়ান দেশগুলোসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপস্থিত রাখার প্রস্তাবের বিষয়ে ঢাকার প্রস্তাব সম্পর্কে ইতিবাচকতা দেখিয়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে তাদের জন্মভূমিতে ফিরে যেতে আস্থা তৈরি করতে রাখাইন রাজ্যের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঢাকাও মিয়ানমারকে কঠোরভাবে চাপ দিয়েছে। সচিব বলেন, আমরা স্বেচ্ছাসেবক প্রত্যাবাসন করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞ, তাই রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিকল্প নেই। আজকের বৈঠকের সময় সচিব বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য তারা রোডম্যাপ তৈরি করেছে। রোডম্যাপের আওতায় বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে পরবর্তী কার্যনির্বাহী বৈঠক আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হবে এবং এর পরে একই মাসে চীনের মধ্যস্থতায় পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপরে, পূর্ববর্তী ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকের সময় যেকোনও অমীমাংসিত বিষয়ে আলোচনার জন্য মার্চ বা এপ্রিল মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলায় জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের ১১ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিককে আশ্রয় প্রদান করেছে এবং তাদের বেশিরভাগই ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট দেশটির সামরিক বাহিনীর অভিযানের পরে থেকে সেখানে এসে পৌঁছেছিল। এ ঘটনাকে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠন ‘জাতিগত নিধনের সুস্পষ্ট উদাহরণ’ এবং ‘গণহত্যা’ বলে অবহিত করেছে। গত তিন বছরে মিয়ানমার একটিও রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়নি, অন্যদিকে রাখাইন প্রদেশে তাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থা ঘাটতির কারণে প্রত্যাবাসনের প্রচেষ্টা দুইবার ব্যর্থ হয়েছে।
॥ আনিসুর রহমান ॥ একাত্তরে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী বঙ্গবন্ধুর ভাগ্য নিয়ে আতঙ্কে আচ্ছন্ন ছিল পুরো জাতি। কিন্তু, মুক্তির কয়েক ঘন্টা পর বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডন পৌঁছালেন তখন একজন ব্রিটিশ পুলিশ কর্মকর্তার এক লাইনের একটি সরল মন্তব্যে বোঝা যায়, মূলত তার নিরাপত্তার বিষয়টি বিশ্বজুড়েই সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ব্রিটিশ পুলিশ কর্মকর্তাটি বলেছিলেন, ‘স্যার, আমরা আপনার জন্যে প্রার্থনা করেছি।’ স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন ছিলেন ড. কামাল হোসেন। সম্প্রতি বাসসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তার পৌঁছানোর পর ব্রিটিশ পুলিশ কর্মকর্তার উপরোক্ত মন্তব্যের পটভূমি তিনি তুলে ধরেন। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ফেরার পথে পাকিস্তানী বিমানে করে বঙ্গবন্ধুকে লন্ডনে পাঠানো হয়। এসময়ে তাঁর যাত্রা পথের সঙ্গী ছিলেন ড. কামাল হোসেন। তিনি সেদিনের সেই দায়িত্বরত সাধারণ এক পুলিশ কর্মকর্তার অশ্রুভরা চোখে করা মন্তব্যের কথাটি তুলে ধরেন। ড. কামাল হোসেন বলেন, বিমান থেকে এসকর্ট করে আমাদের যখন ভিআইপি লাউঞ্জে নিয়ে আসা হচ্ছিল তখন লাউঞ্জের বাইরে দায়িত্বরত ওই পুলিশ কর্মকর্তার করা মন্তব্যটি আমি ভুলতে পারি না। বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ্য করে আকস্মিক ওই পুলিশ কর্মকর্তা অশ্রুসজল চোখে বলে উঠেন, ‘স্যার, আমরা আপনার জন্যে প্রার্থনা করেছি।’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের ৪৯তম বার্ষিকীতে জাতি যখন সেই স্মৃতি রোমন্থন করে তখন পাকিস্তানী বিমান বাহিনীর সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তার সাক্ষ্য থেকে বিশদভাবে জানা যায়, নয় মাসের বন্দী দশা শেষে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা কিভাবে ওই দেশ থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। পাকিস্তানের সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল জাফর এ চৌধুরী ওই সময়ে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ)’র চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি তার স্মৃতিকথায় লেখেন, রাওয়ালপিন্ডির শাকলালা বিমানবন্দর থেকে লন্ডন পর্যন্ত তিনি বঙ্গবন্ধুকে এসকর্ট করে নিয়ে যান। তিনি স্মরণ করেন, সদ্য ক্ষমতা পাওয়া জুলফিকার আলী ভুট্টো বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধুকে বিদায় জানাতে এসেছিলেন। চৌধুরী বলেন, দূর থেকে তিনি পাকিস্তানী নেতার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতার শেষ কথাবার্তা প্রত্যক্ষ করছিলেন। তখনও তাকে তীব্র উত্তেজনা ঘিরে রেখেছিল। তার মতে, এ উত্তেজনা আরো কয়েকঘন্টা এমনকি পিআইএ ফ্লাইট যাত্রা শুরু করার পরেও ছিল, যতক্ষণ না পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষের কমান্ডের আওতায় বিমানটি ছিল ততক্ষণই এক ধরণের উদ্বেগ বঙ্গবন্ধুকে গ্রাস করে ছিল। চৌধুরী স্মরণ করে বলেন, কয়েক ঘন্টা শেষে রাতের খাবার পরিবেশনের পর পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক হয়ে ওঠে। বিমান তখন লন্ডনের পথে। আমি তখন বঙ্গবন্ধুর কাছে গিয়ে বসলাম। নিজের পরিচয় দিলাম। এরপর বঙ্গবন্ধু কথা বলতে শুরু করলেন। আবেগঘন ভাবে তিনি বর্ণনা করলেন বাঙালিরা তাকে কতটা ভালোবাসে। এরপর পিআইএ প্রধান আরো বললেন, খুব সকালে নাশতা দেয়া হলো। এরপর পরই একজন স্টুয়ার্ড সম্মানিত অতিথির জন্যে উপহার নিয়ে এল। পিআইএ’র পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্যে দুটি পাইপ ও একটি জায়নামাজ উপহার হিসেবে ছিল। বঙ্গবন্ধু উঠে দাঁড়ালেন এবং উপহার গ্রহণের সময়ে তার সাথে হাত মেলালেন। চৌধুরী স্মরণ করেন, এরপর বঙ্গবন্ধু লন্ডন বিমানবন্দরে তাকে রিসিভ করতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধির উপস্থিতির জন্যে অনুরোধ জানাতে আমাকে বললেন। এয়ার মার্শাল বঙ্গবন্ধুর অনুরোধের প্রেক্ষিতে হিথরো বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষকে একটি বার্তা পাঠান। তিনি তার স্মৃতিকথায় আরো লেখেন, সকাল ছয়টা নাগাদ আমরা লন্ডনে অবতরণ করি। মূল টার্মিনাল থেকে বিমানটিকে কিছুটা দূরে রাখা হয়। কিছু কর্মকর্তা বিমানে প্রবেশ করে। এয়ার মার্শাল জাফর এ চৌধুরী ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চৌধুরী বলেন, আমি তাকে বললাম এরা ভিআইপি’র প্রটোকল কর্মকর্তা। তারা আপনাকে এসকর্ট করে ভিআইপি লাউঞ্জে নিয়ে যাবে। সেখানে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে। তিনি আরো জানান, ভিআইপি লাউঞ্জের দিকে যাওয়ার সময়ে বঙ্গবন্ধু তাকে আরেকটি অনুরোধ করে লন্ডনে তার কিছু বন্ধুকে ফোন দেয়ার কথা বলেন। চৌধুরী বলেন, অধিকাংশই ছিল বাঙালি রেস্টুরেন্টের মালিক। এতো সকালে সকল রেস্টুরেন্টই বন্ধ ছিল। তাই কেউ ফোন ধরছিল না। তবে, তিনি স্মরণ করেন, অবশেষে বঙ্গবন্ধুর পারিবারিক বন্ধু মাহমুদ হারুন ফোন ধরেন। এ সময়ে বঙ্গবন্ধু নীরবে একটু সরে গিয়ে কথা বলেন, যেন আমি তাদের কথোপকথন শুনতে না পাই। চৌধুরী বলেন, এরপর শেখ মুজিব আমাকে বললেন, আমার জন্যে যা করলেন তার জন্যে অনেক ধন্যবাদ এয়ার মার্শাল। আমি এখন আমার লোকদের সাথে দেখা করব যারা বাংলাদেশ মিশন থেকে এসেছে, যেহেতু আমি তাদের নেতা। কামাল হোসেন বলেন, ব্রিটেনে পাকিস্তানের তৎকালীন হাইকমিশনার নাসিম আহমেদ ভিআইপি লাউঞ্জে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুকে বললেন, তাকে স্বাগত জানাতেই তিনি সেখানে উপস্থিত রয়েছেন। নাসিম বললেন, স্যার, আপনাকে স্বাগত জানাতে আমি এখানে এসেছি। আমাকে বলেন আমি আপনার জন্যে কি করতে পারি। উত্তরে বঙ্গবন্ধু বললেন, আপনি আমার জন্যে অনেক করেছেন। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। কামাল হোসেন পরে বঙ্গবন্ধু মন্ত্রীসভার আইন মন্ত্রী ও পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি জানান, হিথরো বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের সিনিয়র প্রতিনিধি স্যার ইয়ান সুথারল্যান্ড ঘটনাস্থলে আসেন এবং বঙ্গবন্ধুকে ব্রিটিশ সরকারের উষ্ণ অর্ভ্যত্থনার বিষয়টি অবহিত করেন। তিনি জানান, ব্রিটিশ সরকার বঙ্গবন্ধুর জন্যে ক্ল্যারিজ’স হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করেছে। সাধরণত বিদেশী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা এ হোটেলে অবস্থান করেন। বঙ্গবন্ধু তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তুলনামূলক আরো কম খরচের হোটেলের ব্যবস্থা করা যায় কিনা যেন স্বল্প সময়ের অবস্থানকালে ব্রিটেনে বসবাসরত সাধারণ বাঙালিরা তার সাথে সাক্ষাত করতে পারেন। কামাল হোসেন সেই প্রতিনিধির বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, স্যার, এই একটি কাজের ব্যবস্থা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ, হেড অব সেস্টস সিকিউরিটি কেবলমাত্র ক্ল্যারিজ’স হোটেলে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু যে কেউ আপনার সাথে দেখা করতে চাইলে সে যেন পারে তা আমরা দেখবো। এখানে বিষয়টি নিরাপত্তার। বাংলাদেশের বিজয়ের কয়েক সপ্তাহ পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অর্ভ্যত্থনা জানাতে তৎকালীন ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবেগ আপ্লুত লাখো মানুষের ঢল নামে। বিশ্ব সংবাদ মাধ্যম বিষয়টিকে পৃথিবীর ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে বিবেচনা করে। তেজগাঁও বিমান বন্দরে বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী বিমান অবতরনের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন এনবিসি টেলিভিশনের ভাষ্যকার বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বের সমাপ্তি ঘটেছে আজ’। রিপোর্টে বঙ্গবন্ধুকে ‘বাংলাদেশের জর্জ ওয়াশিংটন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং তার অর্ভ্যত্থনাকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে আবেগঘন ও মর্মস্পর্শী অধ্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। একইসঙ্গে আমেরিকান নেভাল টাস্কফোর্সের উদ্ধৃতি প্রকাশ করে বলা হয়, ‘বঙ্গবন্ধুর ঢাকায় ফেরা যেন বঙ্গোপসাগর থেকে তার উত্থান।’ যদিও এর আগে তারা পাকিস্তানী জান্তার সমর্থক ছিল। ওই দিন অপর প্রভাবশালী চ্যানেল এবিসি টিভি’র খবরে বলা হয়, অবতরণের আগে চক্কর দিতে থাকা বিমান থেকে বঙ্গবন্ধুর দেখার সুযোগ হয়েছিল আনুমানিক ১০ লাখ লোক তার জন্যে অপেক্ষা করে আছে। নিউজউইকের ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সংখ্যায় বলা হয়, মধ্যরাতে কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে পাকিস্তানী প্রেসিডেন্ট মুজিবকে এসকর্ট করে রাওয়ালপিন্ডি বিমানবন্দরে নিয়ে যান এবং ভাড়া করা একটি বিমানে তুলে দেন। নিউজউইকের ওই আর্টিকেলে আরো বলা হয়, মুজিবকে বহনকারী বিমান লন্ডনের হিথরো বিমান বন্দরে পৌঁছায় এবং আগের বসন্তে পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান তাকে জেলে পোরার পর ৫১ বছর বয়সী বাঙালি নেতাকে বিশ্ব এই প্রথম দেখতে পায়। ওই আর্টিকেলের শিরোনাম করা হয়, ‘স্বাধীন দেশে মুজিবের যাত্রা’।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকারের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। তাঁর এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং রেডিওতে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ নীচে দেয়া হল- বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম। বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এবং বৈশ্বিক মহামারির অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। দুই বছর পূর্বে আজকের এই দিনে তৃতীয় মেয়াদে সরকার পরিচালনার যে গুরুদায়িত্ব আপনারা আমার উপর অর্পন করেছিলেন, সেটিকে পবিত্র আমানত হিসেবে গ্রহণ করে আমরা সরকার পরিচালনার তৃতীয় বছর শুরু করতে যাচ্ছি। আমার পরম সৌভাগ্য যে, আপনাদের সকলের সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন করতে পারছি এবং মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছি। এই শুভ মুহূর্তে আমি দেশ ও দেশের বাইরে অবস্থানরত বাংলাদেশের সকল নাগরিককে অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং একই সঙ্গে খ্রিস্টীয় ২০২১-এর শুভেচ্ছা। আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতা – সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ৩০-লাখ শহিদ এবং ২-লাখ নির্যাতিত মা-বোনের প্রতি। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমার সশ্রদ্ধ সালাম। আমি গভীর বেদনার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ঘাতকদের হাতে নিহত আমার মা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, তিনভাই – মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লে. শেখ জামাল এবং ১০ বছরের শেখ রাসেল- কামাল ও জামালের নবপরিণীতা বধু সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, আমার চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসের, মুক্তিযোদ্ধা যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি, মুক্তিযোদ্ধা কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ব্রিগেডিয়ার জামিল এবং পুলিশের এএসআই সিদ্দিকুর রহমান-সহ সেই রাতের সকল শহিদকে। এ উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ও গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। স্মরণ করছি ২০০৪ সালের ২১-এ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমানসহ ২২ নেতা-কর্মীকে। স্মরণ করছি ২০০১ সালের পর নির্মম হত্যাকা-ের শিকার সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ.এম.এস কিবরিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার, মঞ্জুরুল ইমাম, মমতাজ উদ্দিনসহ ২১ হাজার নেতাকর্মীকে। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাত জোটের অগ্নি সন্ত্রাস এবং পেট্রোল বোমা হামলায় যাঁরা নিহত হয়েছেন আমি তাঁদের স্মরণ করছি। আহত ও স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ যাঁরা মারা গেছেন, আমি তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। প্রিয় দেশবাসী, করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে এক গভীর সঙ্কটের মধ্য দিয়ে আমাদের বিগত ২০২০ সাল অতিক্রম করতে হয়েছে। সেই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এবং উপর্যুপরি বন্যা আমাদের অর্থনীতির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। আমরা সেসব ধকল দৃঢ়তার সঙ্গে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু করোনাভাইরাস-জনিত সঙ্কট থেকে বিশ্ব এখনও মুক্ত হয়নি। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশে এখনও সংক্রমণ এবং মৃত্যুহার অনেক কম। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে রাখার। আশার কথা বিভিন্ন দেশে কোভিড-১৯-এর টিকা প্রদান শুরু হয়েছে। বাংলাদেশেও আমরা দ্রুত টিকা নিয়ে আসার সব ধরনের চেষ্টা করছি। টিকা আসার পর পরই চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য-সহ সম্মুখসারির যোদ্ধাদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে টিকা প্রদান করা হবে। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী এবং মাঠ প্রশাসনের সদস্যসহ সম্মুখসারির করোনাযোদ্ধাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি এই মহামারি সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ দরিদ্র-অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। আমি সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যাঁদের মৃত্যু হয়েছে আমি তাঁদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করছি। প্রিয় দেশবাসী, করোনাভাইরাস মহামারি ইতোমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। অনেক দেশের অর্থনীতিতে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে, বিভিন্ন নীতি-সহায়তা এবং বিভিন্ন উদার-নৈতিক আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদানের মাধ্যমে আমরা অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত আমরা ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি যা মোট জিডিপি’র ৪.৩ শতাংশ। পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা সে প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত রেখেছি। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রায় আড়াই কোটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে আমরা নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সহায়তার আওতায় এনেছি। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত অর্থবছরে আমাদের জিডিপি ৫.২৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের প্রাক্কলন অনুয়ায়ী এ বছর জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৭.৪ শতাংশে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রক্ষেপণ অনুযায়ী জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির হারে বাংলাদেশের অবস্থান হবে এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। আইএমএফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালে সবচেয়ে বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী শীর্ষদেশগুলির মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। ২০২০-এ মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৪ মার্কিন ডলারে। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরুতে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলাম যে দেশবাসীর সহায়তায় আমরা এই দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলা করবো, ইনশাআল্লাহ। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে দেশবাসী এ দুঃসময়ে আমার এবং আমার সরকারের পাশে ছিলেন। আপনারা আমাদের এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়েছেন। এ ধরনের যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভবিষ্যতেও আপনাদের পাশে পাবো – এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। প্রিয় দেশবাসী, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ২৪ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ; একটি জাতিরাষ্ট্র। আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছরে পদার্পন করতে যাচ্ছি। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল একটি শোষণ-বঞ্চনামুক্ত গণতান্ত্রিক এবং অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের। যেখানে সকল ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি-পেশার মানুষ সুখে-শান্তিতে বসবাস করবে। প্রতিটি মানুষ অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার সুযোগ পাবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে সদ্য-স্বাধীনতাপ্রাপ্ত যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ যখন পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের পাশাপাশি এগিয়ে যাচ্ছিল, তখনই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে। তাঁকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়। তারপর অনেক চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র। সামরিক শাসনের যাতাকলে নিষ্পেষণ, গণতন্ত্রহীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-বিচ্যূতি, ইতিহাস বিকৃতিসহ শাসকদের নানা অপকীর্তি প্রত্যক্ষ করেছে এ দেশের মানুষ। জনগণের সম্পদ লুটপাট করে, তাঁদের বঞ্চিত রেখে, ৩০-লাখ শহিদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করে বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল করে রেখেছিল। ১৯৭৫ সালের বিয়োগান্তক ঘটনার পর ৬ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে আমি ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিজেকে সমর্পন করি। আমার একটাই লক্ষ ছিল জাতির পিতার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করে বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়। আমরা দায়িত্ব নিয়েই বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। মাঝখানে ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বিএনপি-জামাত এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সে প্রচেষ্টায় ছেদ পড়েছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১২ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আর্থ-সামাজিক এবং অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। দ্য ইকোনমিস্ট-এর ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৯ম। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। প্রিয় দেশবাসী, ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক ইশতেহার ঘোষণা করেছিলাম। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল দক্ষ, সেবামুখী ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন গড়ে তুলে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ নির্মূল করে একটি ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরতা মুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উচ্চ মধ্যম-আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের সমৃদ্ধশালী-মর্যাদাশীল দেশ। আমরা ২০২১ সালের পূর্বেই উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছি। প্রত্যাশিত লক্ষে পৌঁছতে আমরা পথ-নকশা তৈরি করেছি। রূপকল্প ২০৪১-এর কৌশলগত দলিল হিসেবে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১ প্রণয়ন করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ২০২১-২০২৫ মেয়াদি অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়েছে। যা বাস্তবায়নে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৪ লাখ ৯৫ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। এ মেয়াদে ১ কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শেষে দারিদ্র্যের হার ১৫.৬ শতাংশে এবং চরম দারিদ্র্যের হার ৭.৪ শতাংশে নেমে আসবে। শেষ বছর ২০২৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৮.৫১ শতাংশে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ১০টি উদ্যোগ বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে যা দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক হবে। জলবায়ুর পরিবর্তনের ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য এরআগে আমরা ‘বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ শীর্ষক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। করোনাভাইরাসের মহামারি সত্ত্বেও আমাদের অর্থনীতি সঠিক পথে অগ্রসর হচ্ছে। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে আমাদের বহুল আরাধ্য নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন পদ্মাসেতুর সর্বশেষ স্প্যান বসানোর মাধ্যমে দেশের দক্ষিণাঞ্চলকে রাজধানীসহ অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পদ্মাসেতুর ৮২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামি বছর এই স্বপ্নের সেতু যানবাহন এবং রেল চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব হবে। অন্যান্য বৃহৎ প্রকল্পগুলির কাজও পূর্ণোদ্দমে এগিয়ে যাচ্ছে। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার অংশে রেললাইন বসানো হয়েছে। শিগগিরই জাপান থেকে ট্রেন ঢাকায় পৌঁছবে। এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ইতিহাসে এ যাবতকালের সর্ববৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজের ৮০ শতাংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময় ২০২৩ সালের এপ্রিল নাগাদ এই ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করবে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলির নদীর তলদেশে ট্যানেল নির্মাণের কাজও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে এই ট্যানেলের ৬২ শতাংশ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। প্রিয় দেশবাসী, জনগণের সরকার হিসেবে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য বলেই আমি মনে করি। গত একযুগে আমরা জনগণের জন্য কী করেছি, তা মূল্যায়নের ভার আপনাদের। আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করে – সে রকম কয়েকটি খাতের কথা সংক্ষেপে তুলে ধরছি। ২০০৯ সালে আমাদের সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির কথা একবার স্মরণ করুন। কী দুঃসহ পরিস্থিতি ছিল সে সময়। বিদ্যুৎ কখন আসবে আর কখন যাবে তার কোন নিশ্চয়তা ছিল না। আমরা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বল্প, মধ্যম এবং দীর্ঘ-মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে আজ বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন করেছি। ২০০৯ থেকে ২০২০ পর্যন্ত প্রায় ১৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৪২১ মেগাওয়াটে। বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী জনসংখ্যা ২০০৫-০৬ সালের ৪৭ শতাংশ থেকে বর্তমানে ৯৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পায়রাতে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। রামপাল, পায়রা, বাঁশখালী, মহেষখালী এবং মাতারবাড়িতে আরও মোট ৭ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট শক্তিসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কাজ চলছে। মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে। সব ঘর আলোকিত হবে। ২০০৯ সালে জাতীয় গ্রিডে ১ হাজার ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো বর্তমানে যা ২ হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। গ্যাসের অব্যাহত চাহিদা মেটাতে ২০১৮ থেকে তরলীকৃত গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। প্রিয় দেশবাসী, আজ খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ং-সম্পূর্ণ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন। বাংলাদেশ বিশ্বে ধান উৎপাদনে ৪র্থ থেকে ৩র্থ স্থান উন্নীত হয়েছে। অব্যাহত নীতি সহায়তা ও প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে এই বিপ্লব সাধিত হয়েছে। শুধু ২০১৯-২০ বছরে কৃষিখাতে ৭ হাজার ১৮৮ কোটিরও বেশি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। মাছ-মাংস, ডিম, শাকসবজি উৎপাদনেও বাংলাদেশ স্বয়ং-সম্পূর্ণ। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে এবং ইলিশ উৎপাদনকারী ১১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। প্রিয় দেশবাসী, আমাদের গ্রামগুলি বরাবরই উন্নয়ন ভাবনার বাইরে ছিল। আমরাই প্রথম গ্রামোন্নয়নকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করি। ২০১৮ সালে আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বিষটি অন্তর্ভুক্ত করে ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করি। আজ দেশের প্রায় সকল গ্রামে পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২০ পর্যন্ত পল্লি এলাকায় ৬৩ হাজার ৬৫৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন, ৩ লাখ ৭৬ হাজার ব্রিজ-কার্লভার্ট, ১ হাজার ৬৮৫টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, ৯৩৬ টি সাইক্লোন সেন্টার এবং ২৪৯টি উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ৪৫৩ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক ৪ বা তদুর্ধ্ব লেনে উন্নীত করা হয়েছে। আরও ৬৬১ কিলোমিটার মহাসড়ক চার এবং তদুর্ধ্ব লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। ঢাকায় বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত ৪৬.৭৩ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ ২০২৩ সাল নাগাদ শেষ হবে। ২০০৯ থেকে ২০২০ পর্যন্ত ৪৫১ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ এবং ১ হাজার ১৮১ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসন করা হয়েছে। ৪২৮টি নতুন রেলসেতু নির্মাণ করা হয়েছে। কিছুদিন আগে আমরা যমুনা নদীর উপর ৪.৮ কিলোমটির দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। লোকোমোটিভ যাত্রীবাহী ক্যারেজ এবং মালবাহী ওয়াগন সংগ্রহ করা হয়েছে ১ হাজার ৪০টি। এ সময় বাংলাদেশ রেলওয়েতে ১৩৭টি নতুন ট্রেন চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের বিমানবহরে ১২টি নতুন অত্যাধুনিক বোয়িং এবং ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ সংযোজিত হয়েছে। গত মাসে ১টি ড্যাশ-৮-৪০০ উড়োজাহাজ সংযোজিত হয়েছে। চলতি মাসে আরও ২টি ড্যাশ-৮-৪০০ উড়োজাহাজ সংযোজিত হবে। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। সারা দেশে সাড়ে ১৮ হাজার কমু্যুনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র হতে গ্রামীণ নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ দেওয়া হয়। আমাদের স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং গুণগত মানোন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু ২০১৯-২০ বছরে ৭২.৬ বছরে উন্নীত হয়েছে। ৫-বছর বয়সী শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ২৮ ও অনুর্ধ্ব ১ বছর বয়সী শিশু মৃত্যুর হার ১৫-তে হ্রাস পেয়েছে। মাতৃমৃত্যু হার কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি লাখে ১৬৫ জনে। প্রিয় দেশবাসী, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। শুধু আমাদের দেশেই নয়, গোটা বিশ্বেই একই পরিস্থিতি। তবে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ নেই। অন-লাইনে এবং স্কুল পর্যায়ের জন্য টেলিভিশনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ খুলে দেওয়া হবে। বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই বিতরণ শুরু হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি টাকা শিক্ষার্থীর মধ্যে ২ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকার বৃত্তি-উপবৃত্তি বিতরণ করা হয়েছে। ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট্রের আওতায় ¯œাতক ও সমমানের শ্রেণির আরও ২ লাখ ১০ হাজার ৪৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ১১১ কোটি বিতরণ করা হয়। মুজিববর্ষ উপলক্ষে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ১ হাজার টাকা করে কিট এলাউন্স দেওয়া হবে। এজন্য ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। দেশের ৭ হাজার ৬২৪টি এমপিও-ভুক্ত মাদ্রাসায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬১ জন শিক্ষক-কর্মচারিকে প্রতিমাসে ২৭৬ কোটি টাকা বেতন ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ২০২০ সালে নতুন করে ৪৯৯টি মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। ১ হাজার ৫১৯টি এবতেদায়ী মাদ্রাসার ৪ হাজার ৫২৯ জন শিক্ষককে ত্রৈমাসিক ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে। দাওয়ারে হাদিস পর্যায়কে মাস্টার্স সমমান দেওয়া হয়েছে। সারাদেশে ৫৬০ টি মডেল মসজিদ এবং ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। করোনাভাইরাসের এই মহামারির সময়ে যখন মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে, তখন ডিজিটাল প্রযুক্তি যোগাযোগের এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে পরিগণিত হয়। আমাদের সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ গ্রহণের ফলেই এই ক্রান্তিকালে ডিজিটাল প্রযুক্তি ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দেশের ১৮ হাজার ৪৩৪টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ৩ হাজার ৮০০ ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক ক্যাবল স্থাপনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাসের সময় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১১ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। অন-লাইনে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং লেনদেন সুবিধা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখতে সমর্থ হয়েছেন। আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১-এর মাধ্যমে দেশের সবগুলি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠান সম্প্রচার ছাড়াও প্রত্যন্ত ৩১টি দ্বীপে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করা হচ্ছে। কয়েকটি ব্যাংক এবং সেনাবাহিনী স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১-এর সেবা গ্রহণ করছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা, অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি, চা শ্রমিক, বেদে সম্প্রদায়, তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠিসহ দূরারোগ্য ব্যক্তিদের চিকিৎসা ইত্যাদি খাতে সর্বমোট ৬ হাজার ৫২০ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সর্বমোট উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ ৫০ হাজার। প্রিয় দেশবাসী, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ আজ একটি সমীহের নাম। জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আজ চোখে পড়ার মত। ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’- জাতির পিতা প্রণীত বৈদেশিক নীতির এই মূলমন্ত্রকে পাথেয় করে আমরা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে এই মুহূর্তে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে শান্তিপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফেরৎ পাঠানোর সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কক্সবাজারে বিভিন্ন ক্যাম্পে তাঁদের কষ্ট লাঘবের জন্য ভাসানচরে ১ লাখ মানুষের বসবাসোপযোগী উন্নতমানের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে শুধু স্ব-ইচ্ছায় যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাঠানো হচ্ছে। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। প্রিয় দেশবাসী, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের যে মহাসড়ক বেয়ে দুর্বার গতিতে ধাবিত হচ্ছে তা যেন কোনভাবেই বাধাগ্রস্ত হতে না পারে সেদিকে আপনাদের সকলের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। উন্নয়নের পথে সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে আমরা বদ্ধপরিকর। কিছু অসাধু মানুষ নানা কৌশলে জনগণের সম্পদ কুক্ষিগত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছি। দুর্নীতিবাজ যে দলেরই হোক আর যত শক্তিশালীই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না এবং হবে না। এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে। আইনের শাসন সমুন্নত রেখে মানুষের নাগরিক এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে যা যা করা প্রয়োজন আমরা তা করবো। আমরা কঠোর হস্তে জঙ্গিবাদের উত্থানকে প্রতিহত করেছি। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ পারস্পরিক সহনশীলতা বজায় রেখে বসবাস করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। প্রিয় দেশবাসী, আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা আড়ম্বরপূর্ণ ভাবে উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু করোনাভাইরাসের মহামারি ছড়িয়ে পড়ার কারণে অনুষ্ঠানমালায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। গত বছরের ১৭ মার্চ উদ্বোধন অনুষ্ঠান জনসমাগম ছাড়াই ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়। আমরা ‘বঙ্গবন্ধু প্রতিদিন শীর্ষক’ টিভি স্পট প্রচার করছি। অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। স্মারক মুদ্রা ও ডাকটিকেট অবমুক্ত করা হয়েছে। স্বল্প দৈর্ঘ্য, এনিমেটেড চলচিত্র নির্মাণ করা হচ্ছে। সারা দেশে ১ কোটি ১৫ লাখ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রত্যেকে ২ শতাংশ খাসজমি বরাদ্দসহ ৬৫ হাজার ৭২৬টি ঘর তৈরির কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ১৪ হাজার গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ইউনেসকো সৃজনশীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি পুরস্কার চালু করেছে। আগামী ২৬-এ মার্চ আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। করোনাভাইরাসের প্রকোপ না থাকলে আমরা সাড়ম্বরে এই অনুষ্ঠান উদযাপন করবো, ইনশাআল্লাহ। একইসঙ্গে চলতে থাকবে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা। বাংলাদেশের মানুষের সৌভাগ্য এবং আওয়ামী লীগের জন্য গর্বের বিষয় যে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। ১৯৯৭ সালে রজতজয়ন্তী উদ্যাপনকালেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ব্যতিত অন্য কোন দল বা গোষ্ঠি স্বাধীনতার এই মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখার তাগিদ অনুভব করবে না। প্রিয় দেশবাসী, জাতির পিতা শেখ মুজিব ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে বলেছিলেন – আমি উদ্ধৃত করছি: ‘স্বাধীনতা সংগ্রামের চাইতেও দেশ গড়া বেশ কঠিন। দেশ গড়ার সংগ্রামে আরও বেশি আত্মত্যাগ, আরও বেশি ধৈর্য্য, আরও বেশি পরিশ্রম দরকার। …আমরা যদি একটু কষ্ট করি, একটু বেশি পরিশ্রম করি, সকলেই সৎপথে থেকে সাধ্যমত নিজের দায়িত্ব পালন করি, সবচাইতে বড় কথা, সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকি – তাহলে আমি বিনা দ্বিধায় বলতে পারি ইনশাআল্লাহ কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা আবার সোনার বাংলায় পরিণত হবে।’ উদ্ধৃতি শেষ। আমরা আজ অনেকদূর এগিয়েছি সত্য। আমাদের আরও বহুদূর যেতে হবে। হতে পারে সে গন্তব্য পথ মসৃণ, হতে পারে বন্ধুর। বাঙালি বীরের জাতি। পথ যত কঠিনই হোক, আমাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে হবে। আমরা যদি পরিশ্রম করি, সততা-দেশপ্রেম নিয়ে দায়িত্ব পালন করি, তাহলে আমরা সফলকাম হবোই, ইনশাআল্লাহ। জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ভাষায় তাই বলতে চাই: দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি-নিশীতে যাত্রীরা হুশিয়ার! স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে আসুন আমরা নতুন করে শপথ নেই-মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং আদর্শকে ধারণ করে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরতামুক্ত একটি অসাম্প্রদায়িক কল্যাণকামী বাংলাদেশ গড়ে তুলি। করোনাভাইরাসের এই অমানিশা দ্রুত কেটে যাক, মহান আল্লাহতায়ালার কাছে এই প্রার্থনা করি। ততদিন আপনারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে জীবনযাপন করুন। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। খোদা হাফেজ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: জেমি স্টাইম একজন মার্কিন রাজনৈতিক কলামিস্ট যিনি ক্যাপিটল ভবনে বিক্ষোভকারীরা ঢোকার সময়টাতে উপস্থিত ছিলেন। হাউস অব রেপ্রেসেন্টিটিভ বা প্রতিনিধি পরিষদের প্রেস গ্যালারিতে থেকে তিনি যা দেখেছেন সেটাই বর্ণনা করেছেন। এর আগে আমি আমার বোনকে বলেছিলাম: "আজ খুব খারাপ কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। আমি জানি না সেটা কী, কিন্তু খারাপ কিছু একটা ঘটবে।" ক্যাপিটল ভবনের বাইরে আমি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু বেপরোয়া সমর্থকের মুখোমুখি হই, যারা সবাই পতাকা উড়াচ্ছিল এবং তার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছিল। একটা অনুভূতি হচ্ছিল যে, ধীরে ধীরে কোন একটি সমস্যা তৈরি হতে শুরু করেছে। আমি প্রতিনিধি পরিষদের প্রেস গ্যালারিতে ঢুকে যাই। সেখানে আমাদের বসার ব্যবস্থা ছিল এবং শান্ত একদল মানুষের দিকে মনোযোগ দিয়ে দেখছিলাম আমরা। স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তার হাতে থাকা কাঠের ছোট হাতুড়িটি ব্যবহার করে প্রতিনিধিদের পাঁচ মিনিটের সংক্ষিপ্ত কিছু বক্তব্য রাখার সুযোগ করে দিচ্ছিলেন। অধিবেশন যখন দ্বিতীয় ঘণ্টায় গড়ালো, হঠাৎই আমরা কাঁচ ভাঙার আওয়াজ শুনতে পেলাম। বাতাস ধোয়ায় ভরে যেতে শুরু করলো। ক্যাপিটল ভবনের পুলিশের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসলো, "এক ব্যক্তি ভবনে ঢুকে পড়েছে।" সবাই এদিক সেদিক তাকালো, তারপর আবার নিজেদের কাজে মনোযোগ দিল। কিন্তু এর পর একের পর এক ঘোষণা আসতে থাকলো। তারা ঘোষণায় বললো যে, প্রবেশকারীরা রোটুন্ডা বা গোলাকার যে হল ঘরটি রয়েছে সেখানে পৌঁছে গেছে। এই হল ঘরটি বাইরে থেকে যে সাদা গম্বুজটি দেখা যায় সেটির নিচে অবস্থিত। গণতন্ত্রের পবিত্র ঘরটিতে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়ে গেলো। আমাদের অনেকেই বেশ অভিজ্ঞ সাংবাদিক ছিলেন- বাল্টিমোরে সহিংসতার খবর সংগ্রহ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার নিজেরও। কিন্তু সেগুলো থেকে এই ঘটনা অনেক আলাদা ছিল। মনে হচ্ছিল যে পুলিশ জানেই না কী হতে যাচ্ছে। তারা সংঘবদ্ধ ছিল না। তারা চেম্বারের দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল, আবার তারাই আমাদেরকে বলছিল যে, আমাদেরকে বের হয়ে যেতে হবে। বোঝাই যাচ্ছিল যে, এক ধরণের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছিল। আমার ভয় করছিল। আমি আপনাকে সেটাই বলবো। আর আমি অন্য সাংবাদিকদের সাথেও কথা বলেছি, যারা আমাকে বলছিল যে ভীত হয়ে পড়ায় তারা কিছুটা লজ্জিতও হয়েছিল। মনে হচ্ছিল যে, "কারো হাতে কোন নিয়ন্ত্রণ নেই, ক্যাপিটলের পুলিশ ভবনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, যেকোন কিছু ঘটে যেতে পারে।" আপনি যদি ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার কথা চিন্তা করেন তাহলে দেখবেন যে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয় এবং সেটি তার টার্গেটে আঘাত হানতে পারেনি। ওই টার্গেটটি ছিল ক্যাপিটল। সেরকমই কিছু মনে হচ্ছিল। আমি আমার পরিবারের কাছে একটি ফোন করি, তাদের জানাতে চেয়েছিলাম যে আমি এখানে আছি এবং পরিস্থিতি বিপজ্জনক। একটি গুলি চলেছিল। চেম্বারের ভেতরে তখন বিক্ষোভকারী আর পুলিশের মুখোমুখি একটা অবস্থান। দরজায় পাঁচজন লোক বন্দুক নিয়ে দাঁড়িয়ে। ভয়ানক একটা অবস্থা চলছিল। মানুষজন জানালার ভাঙা কাঁচের মধ্য দিয়ে উঁকি দিচ্ছিল এবং মনে হচ্ছিল যেন যেকোন মুহূর্তে তারা গুলি ছোড়া শুরু করবে। ভাগ্য ভাল যে চেম্বারের ভেতরে কোন গোলাগুলি হয়নি। কিন্তু এক মুহূর্তের জন্য মনে হচ্ছিল যে, একটা আশঙ্কা রয়েছে। কারণ পরিস্থিতি শুধু খারাপ থেকে আরো খারাপ হচ্ছিল। রেলিংয়ের নিচ দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে বের হতে হয়েছে আমাদের। আমি আসলে সেরকমের পোশাক পরা ছিলাম না। অনেক নারীই বেশ ভাল পোশাক আর হিল পরে এসেছিলেন, কারণ তারা একটি আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে এসেছিলেন। অন্যদের সাথে হাউজের ক্যাফেটেরিয়ায় আশ্রয় নিয়েছিলাম আমি। আমি এখনো কাঁপছি। একজন সাংবাদিক হিসেবে অনেক কিছুই দেখতে হয়েছে আমাকে, কিন্তু এটা ছিল আলাদা। এটি ছিল জনগণের মতামতকে ছোট করা, তার ওপর আক্রমণ এবং অবদমন। আর আমার মনে হয়, এ কারণেই স্পিকার আবার ফিরে এসে নিজের কাঠের হাতুড়িটি হাতে তুলে নিয়ে অধিবেশন চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। এরপর আমাকেও সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল যে আমি আবার চেম্বারে ফিরে যেতে চাই কিনা। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমি যাবো, কারণ এর ফলে একটি বার্তা যাবে যে "আপনি একটি গোষ্ঠিকে উস্কে দিতে পারেন, কিন্তু আমাদের যা করার আমরা করে যাবো"। আমার মনে হয় যে, সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক বার্তা। •জেসিকা লাসেনহপকে যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছিল সেভাবেই তুলে ধরা হলো। তবে বোঝার সুবিধার জন্য কিছু এডিট করা হয়েছে।বিবিসি বাংলা।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিষ্টীয় নতুন বছর ২০২১ উপলক্ষে দেশবাসী এবং প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আগামীকাল খ্রিষ্টীয় নতুন বছর ২০২১। এ উপলক্ষে তিনি বৃহস্পতিবার এক বাণীতে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আরো বলেন, প্রকৃতির নিয়মেই যেমন নতুনের আগমনী বার্তা আমাদের উদ্বেলিত করে, তেমনি অতীত-ভবিষ্যতের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে পুরনো স্মৃতি-সম্ভারে হারিয়ে যাওয়ার চিরায়ত স্বভাব কখনও আনন্দ দেয়, আর কখনো বা কৃতকর্মের শিক্ষা নব-উদোমে সুন্দর আগামীর পথচলার জন্য অনুপ্রেরণা যোগায়। আওয়ামী লীগ সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে ধর্মীয় উগ্রবাদসহ যেকোনো সন্ত্রাস দমনে প্রতিজ্ঞাবন্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করারও আহ্বান জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা নতুন বছরে প্রতিজ্ঞা করি, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রেখে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করব। নতুন বছর ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে মানুষে-মানুষে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদার করুক, সকল সংকট মোকাবিলার শক্তি দান করুক এবং সকলের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি এই প্রার্থনা করি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ বাঙালি জাতির জীবনে ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কেননা, ১০০ বছর পূর্বে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করা এক ছোট্ট খোকা কালক্রমে হয়ে উঠেছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যার সারা জীবনের আত্মত্যাগ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে এবং ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার জন্ম-শতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে আমরা ২০২০-২১ সময়কে ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করেছি। কিন্তু, এরই মধ্যে বৈরী করোনা মহামারী বিশ্বকে যেন এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে। অন্যান্য দেশের মতো আমরাও পূর্ব-ঘোষিত পরিকল্পনা সীমিত পরিসরে চালু রেখে এ মহামারী থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে জীবনযুদ্ধে নেমে পরেছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, আমি ৩১ দফা নির্দেশনা দিয়েছি। এই ক্রান্তিকাল উত্তরণে ডাক্তার-নার্স-টেকনিশিয়ান নিয়োগ করেছি। দরিদ্র অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অর্থনীতির চাকা সচল রাখা ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ২১টি প্যাকেজের আওতায় ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছি। গত এক যুগ ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত জনকল্যাণমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অগ্রগতির মানদণ্ডে বিশ্বের প্রথম ৫টি দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে গত অর্থ-বছরের প্রাথমিক প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ৮.২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব ছিল। তাছাড়া, গোটা বিশ্ব যেখানে প্রবৃদ্ধির ঋণাত্মক হার ঠেকাতে ব্যতিব্যস্ত, সেখানে করোনাকালেও আমরা ৫.২৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। তিনি আরো বলেন, আমরা দারিদ্র্যের হার ২০.৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে এনেছি। মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৬৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত করেছি। স্বাস্থ্যখাতেও অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছি, এখন আমাদের দেশের মানুষের গড় আয়ু ৭২.৬ বছর। ৯৭.৫ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিচ্ছি। পদ্মা সেতুর সকল স্প্যান বসানোর ফলে বিশ্বের অন্যতম খরস্রোতা নদীর দু’প্রান্ত এখন সংযুক্ত। রাজধানীতে মেট্রোরেল ও এক্সপ্রেসওয়ে এবং কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ-কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক করেছি। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১১ কোটি ছাড়িয়েছে। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর কর্মসংস্থানের অবাধ সুযোগ সৃষ্টি করেছি। প্রথম ‘বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা’-এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে রূপকল্প-২০২১ অর্জন প্রায় শেষ। মুজিববর্ষে আমরা অঙ্গীকার করেছি কেউ গৃহহীন থাকবে না। শহরের সকল সুযোগ-সুবিধা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছে দেব। ২০৩০ সালের মধ্যে ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট’ অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। ২৬ মার্চ ২০২১ আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করব। নতুন বছরে আমরা একটি নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনা মহামারী বিশ্ববাসীকে এক কঠিন বার্তা দিয়েছে। যতই উন্নত হোক না কেন, একা কোন দেশ শ্রেষ্ঠত্বের দাবি নিয়ে দাঁড়াতে পারবে না। পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই যে কোন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। আমাদের সকলকে এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি তারুণ্যের শক্তি ও প্রযুক্তি-জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্বে দেয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। বাসস
বিশেষ প্রতিনিধি: স্বাধীনতার মহান স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীর(মুজিব বর্ষ)আনন্দ উদযাপনের মাঝে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন (রেজিষ্ট্রেশন) সনদ পেয়েছে নিউজ ফ্ল্যাশ টোয়েন্টিফোর বিডি ডটকম(WWW.NEWSFLASH24BD.COM)। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে ধারণ করে ২০১৩ সালের জুলাইয়ে শুভ যাত্রা শুরু হয়েছিলো নিউজ ফ্ল্যাশের। বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে (বাই-ল্যাঙ্গুয়াল) নিরবিচ্ছিন্নভাবে দেশ-বিদেশের সংবাদ দায়িত্বশীলতার সাথে পরিবেশন করে আসছি আমরা। যাত্রা শুরুর প্রায় ৮ বছরের মাথায় আমাদের অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘নিউজ ফ্ল্যাশ টোয়েন্টিফোর বিডি ডটকম’ সরকারের অনুমোদন পেলো। রাজনীতি, প্রশাসন, কূটনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, বিনোদন, বিমান-পর্যটন ও বিশে^র যে কোন খবর দ্রুত পৌছে দেওয়ার প্রাণান্তর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি আমরা। সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের কার্যালয়ে সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) সুরথ কুমার সরকারের কাছ থেকে নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করেন ‘ নিউজ ফ্ল্যাশ টোয়েন্টিফোর বিডি ডটকম’ এর সম্পাদক ও প্রকাশক মো: সিদ্দিকুর রহমান। জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা-২০১৭ (সংশোধিত, ২০২০) অনুযায়ী অনলাইন মিডিয়ার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এই নিবন্ধন দিয়েছে সরকার। এর আগে নিউজ ফ্ল্যাশ ২৪ বিডি ডটকমসহ ৫১টি অনলাইন নিউজ পোর্টালকে নিবন্ধনের অনুমতি দিয়ে গত ২৯ নভেম্বর এক প্রজ্ঞাপন জারি করে তথ্য মন্ত্রণালয়। নিবন্ধন পাওয়ায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মাননীয় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, তথ্যসচিব, প্রধান তথ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অনলাইন নিউজ পোর্টালটির সম্পাদক ও প্রকাশক মো: সিদ্দিকুর রহমান। নিউজ ফ্ল্যাশের সঙ্গে থাকা প্রিয় পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ অনলাইন গণমাধ্যম এখন সারা বিশ্বের একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। এ নিবন্ধন পাওয়ার মাধ্যমে দেশ, জাতি ও সাধারণ মানুষের প্রতি সংবাদ পরিবেশনে আমাদের দায়িত্বশীলতা আরও বেড়ে গেলো। তিনি বলেন, বিশে^র বড় বড় দেশ যেখানে অনলাইন গণমাধ্যমগুলোকে মূলধারার গণমাধ্যমের সাথে আইনি কাঠামোতে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে এখনও পারেনি। সেখানে বাংলাদেশ নিবন্ধন দিয়ে তামাম দুনিয়ায় নজির সৃষ্টি করছে। প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ গড়ার অভাবনীয় অগ্রগতির প্রধান কারিগর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও তার আইসিটি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের কাছেও আমরা কৃতজ্ঞ।
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক : ইউনেস্কো সৃজনশীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে ‘ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধু’ পুরস্কার নামে একটি আন্তর্জাতিক পুরষ্কার প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন রোববার তার মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতি ক্ষেত্রে ‘ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধু’ পুরস্কার হবে সংস্থা কর্তৃক প্রবর্তিত প্রথম আন্তর্জাতিক পুরস্কার। তিনি জানান, গত ১১ ডিসেম্বর সমাপ্ত জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা-ইউনেস্কো নির্বাহী পরিষদের শরৎকালীন ২১০তম অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ড. মোমেন বলেন, প্রতি দুই বছর অন্তর এ পুরস্কার প্রদান করা হবে, যার অর্থমান ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। এ পুরস্কারটি প্রথমবারের মত ২০২১ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ইউনেস্কো- এর ৪১ তম সাধারণ সভা চলাকালে প্রদান করা হবে। তিনি জানান, এই প্রথম জাতিসংঘের কোন অঙ্গ-সংস্থা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন করল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ইউনেস্কো শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ স্বীয় অধিক্ষেত্রে বিভিন্ন অঙ্গনে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ সদস্য রাষ্ট্রসমূহের আর্থিক সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন করে থাকে। ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতিমান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে ২৩টি ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন করেছে। এই প্রথম বাংলাদেশ তথা বাংলাদেশের কোন প্রথিতযশা সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তির নামে ইউনেস্কো একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন করল। ড. মোমেন বলেন, সংস্কৃতি’ ইউনেস্কোর একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধিক্ষেত্র। সমসাময়িককালে বহুল আলোচিত ও চর্চিত বিষয় ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ অঙ্গনে এ আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তিত হয়েছে । এ পুরস্কার সৃজনশীল অর্থনীতিতে যুব সমাজের উন্নয়নে সংস্কৃতিকর্মী, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা গৃহীত ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগকে স্বীকৃতি দেব। ড. মোমেন বলেন, মানব সৃজনশীলতায় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মেল-বন্ধনই ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ যেখানে সংস্কৃতি ভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের বিকাশ পরিলক্ষিত হয়। এর মাধ্যমে শিল্পীর শিল্প বা উদ্ভাবনের স্বত্ব সংরক্ষণ সুনিশ্চিত রেখে সংস্কৃতির সাথে অর্থনীতির বিকাশ সাধিত হয়। ‘সৃজনশীল শিল্প’ এর ভিত্তি হল সাহিত্য, সংগীত, হস্তশিল্প, চিত্রকলা, চলচ্চিত্রসহ সৃষ্টিশীলতার নানা মাধ্যম। ইউনেস্কো প্রায় এক যুগ ধরে এ বিষয়ে কাজ করে আসছে। করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে বিশ্ব-অর্থনীতির নানান ক্ষেত্রে ব্যাপক যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও বিশ্বময় পরিলক্ষিত হয়েছে। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে গৃহীত নানা বিধি-নিষেধমূলক ব্যবস্থার কারণে শিল্পী-সমাজ এবং সংস্কৃতি চর্চার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন এবং হচ্ছেন। মন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, কোভিড ১৯ অতিমারীর আগমনের পূর্বে, বিশ্ব অর্থনীতিতে সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল শিল্প খাতের অবদান ছিল বার্ষিক ২ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্ব অর্থনীতির এই ক্ষেত্র সারা বিশ্বে ৩০ মিলিয়নেরও অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, যার শতকরা ৪৫ ভাগ নারী। অর্থনীতির এ ধারায় নারীর অংশ গ্রহণ যেমন উল্লে¬খযোগ্য, এর ফলে বিশ্বে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ খাতে যুব সমাজের অংশ গ্রহণ প্রণিধানযোগ্য। এ ক্ষেত্রে ইউনেস্কো গত প্রায় এক যুগ ধরে কাজ করলেও এ বিষয়ে অবদান রাখা সংস্কৃতি-কর্মীদের স্বীকৃতিসূচক কোন পুরস্কার এখন পর্যন্ত প্রবর্তিত হয়নি। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন দূরদর্শী চিন্তক ছিলেন। বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনে তাঁর অংশ গ্রহণ, বাক-স্বাধীনতার বিকাশে তাঁর সংগ্রাম, স্বাধীনতার পর বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ সৃষ্টিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্থাপন জাতি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর পরই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ লোক ও কারু-শিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা সৃজনশীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর অবদানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সংস্কৃতির প্রতি মমত্ববোধ, মাতৃভাষার প্রতি আবেগ সর্বোপরি তাঁর জীবনাদর্শ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তুলে ধরতে তাঁর নামে একটি পুরস্কার প্রবর্তনের কথা সরকারের পক্ষ থেকে চিন্তা করা হয় বলে ড.মোমেন উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংস্কৃতি ক্ষেত্রে জাতিসংঘের একমাত্র বিশেষায়িত সংস্থা ইউনেস্কো। ইউনেস্কোর মূলনীতি শান্তি ও সম্প্রীতি তৈরিতে সংস্কৃতি শক্তিশালী উপাদান যা বঙ্গবন্ধু দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শনের আন্তর্জাতিকীকরণ ও তা বিশ্বময় ছড়িয়ে দেয়ার জন্য একটি ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন সবচেয়ে উপযোগী মাধ্যম হবে বলে সরকার মনে করেছে। মোমেন আরো বলেন, এ প্রেক্ষাপটে সৃজনশীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে পুরস্কার প্রবর্তনে প্রধানমন্ত্রীর সদয় অনুমোদনের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়। গত আগষ্ট ২০১৯ প্রধানমন্ত্রীর সদয় অনুমোদনের পর প্যারিসস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির মাধ্যমে ইউনেস্কো মহাপরিচালক বরাবর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়। ইউনেস্কো এর অধিক্ষেত্র যেমন শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বাক-স্বাধীনতা প্রভৃতি ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর অবদান ও বাংলাদেশ সরকারের ইউনেস্কো’র প্রতি অঙ্গীকারের কথা বিবেচনায় নিয়ে ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর নামে পুরস্কার প্রবর্র্তনে সম্মতি প্রদান করে। গত ১১ ডিসেম্বর ইউনেস্কো নির্বাহী পরিষদের পেনারি সেশনে সর্বসম্মতিক্রমে এ প্রস্তাব গৃহীত হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, ইউনেস্কোর মত জাতিসংঘের একটি অঙ্গ-সংস্থা কর্তৃক প্রবর্তিত এ পুরস্কার বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ বিশ্বময় ছড়িয়ে দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে। বিশ্বময় সংস্কৃতি কর্মীদের সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে অনুপ্রেরণা যোগাবে। বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু যে এক ও অভিন্ন তা পুরস্কারের শিরোনামে প্রস্ফুটিত হয়েছে। এ পুরস্কার বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং ও ইমেজ বিল্ডিং এ বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই বছর অন্তর এ পুরস্কার প্রদান করা হবে, যার অর্থমান ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। এ পুরস্কারটি প্রথমবারের মত আগামী ২০২১ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় ইউনেস্কো-এর ৪১তম সাধারণ সভা চলাকালে প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, জাতিসংঘ ২০২১ সালকে টেকসই উন্নয়নে সৃজনশীল অর্থনীতি বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সে বিবেচনায় পুরস্কারটি প্রবর্তন সময়োচিত বলে ইউনেস্কো মনে করে।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: বিশ্বের জনপ্রিয় ফোর্বস ম্যাগাজিনে ২০২০ সালে বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৩৯তম স্থানে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা-বাণিজ্যবিষয়ক ম্যাগাজিন ফোর্বস তাদের ১৭তম বার্ষিক র‌্যাঙ্কিংয়ে শেখ হাসিনা সম্পর্কে লিখেছে, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শেখ হাসিনা এই মেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা এবং জনগণের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন।’ ফোর্বসের বার্ষিক তালিকায় এবার ৩০টি দেশের বিভিন্ন বয়সী নারীদের নাম এসেছে। তাদের মধ্যে রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান আছেন ১০ জন। ৩৮ জন বিভিন্ন কোম্পানির সিইও। বিনোদন জগতের পাঁচজনও এসেছেন ক্ষমতাধর নারীদের এই তালিকায়। টানা দশমবারের মতো এ তালিকার শীর্ষস্থানে আছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। আর টানা দ্বিতীয়বারের মতো দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান ক্রিস্টিন লগার্ড। এবারই প্রথম বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীদের এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত কমলা হ্যারিসের নাম এসেছে, প্রথমবারই তিনি আছেন তৃতীয় স্থানে। করোনাভাইরাস মহামারী সামলাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে সাফল্য এবং প্রশংসা পাওয়া নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন আছেন এবারের তালিকার ৩২তম স্থানে। এ বছর টানা দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ক্ষমতাধর নারীদের এই তালিকায় ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিবিদদের মধ্যে আর স্থান হয়েছে ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের, তিনি আছেন ৪১তম স্থানে।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক : ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ড. লোটে শেরিং আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি কোভিড-১৯ থেকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এই সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বকে কৃতিত্ব দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য উত্তরাধীকার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ভিশন সফলভাবে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। আর এ জন্য বাংলাদেশের মানুষ আপনাকে চিরকাল স্মরণ করবে।’ বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরো নিবিড় করার ইচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সব সময় আমার হৃদয়ের খুব কাছে রয়েছে।’ বাংলাদেশ-ভুটান অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষর ও দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্কের (বাংলাদেশকে স্বীকৃতির) ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিয়োনপো ড. টান্ডি দর্জি, অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী লিয়োনপো লোনাথ শর্মা এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য সচিবগণসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা নিজ নিজ পক্ষে এতে যোগদান করেন। বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতিকে সফলভাবে মোকাবেলা করায় ড. শেরিং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। তিনি আরো বলেন, ঐতিহাসিক এ চুক্তিটি এমন সময়ে করা হচ্ছে যখন বাংলাদেশ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপযাপন করছে এবং পরের বছরই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপিত হবে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ইতিহাসের অংশ হতে পেরে নিজেকে আমি সৌভাগ্যবান মনে করছি।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সবাই জানি যে এ দেশের জন্য আপনি (হাসিনা), আপনার পরিবার ও আরো অনেকে কতটা অবদান রেখেছেন ও কতটা ত্যাগ স্বীকার করেছেন।’ ড. শেরিং বলেন, তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে সাত বছর ও ঢাকায় তিন বছর অতিবাহিত করেন। আর এ জন্যই বাংলাদেশ তার দ্বিতীয় দেশে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আজ আমার জন্য একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন এবং আমি আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে কথা বলতে পেরে খুব খুশি।’ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার প্রতি আপনার মাতৃ¯েœহ এবং আমাদের দু’দেশের সম্পর্কের জন্য আমি আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ ভুটানকে সব সময় সমর্থন ও দেশটির প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দু’দেশের সম্পর্ক আরো জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। স্বাক্ষরিত পিটিএ’র অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শিগগিরই সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করে ড. শেরিং বলেন, ‘এই চুক্তি দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরো জোরদারে সহায়ক হবে। ভুটান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম দেশ। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ভুটান। আগামী বছরজুড়ে দু’দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি এ ধরনের আয়োজন হবে। পিটিএ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ভুটানে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পাবে।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বলেছেন, বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে পাকিস্তান যে নৃশংসতা চালিয়েছিল ভুলে যেতে পারে না, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একাত্তরের ঘটনাগুলো ভোলা যায় না। সেই ক্ষত চিরদিন রয়ে যাবে।’ পাকিস্তানের হাই কমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী বৃহস্পতিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি একথা বলেন। বঙ্গবন্ধুর ওপর তৎকালীন পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার নথি নিয়ে প্রকাশিত ‘সিক্রেট ডক্যুমেন্ট অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ বইয়ের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সবাই এই বই থেকে ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত অনেক ঐতিহাসিক সত্য জানতে পারে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ (উর্দু সংস্করণ) পাকিস্তানে অন্যতম বেস্ট সেলার বই উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, অন্যান্য দেশের মত পাকিস্তানেও এটি অধিক পঠিত বই। হাই কমিশনার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট পৌঁছে দেন। শেখ হাসিনাও হাই কমিশনারের মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে শুভেচ্ছা জানান। পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়ন সম্পর্কে জানতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাদের পরামর্শ দিয়েছেন। বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় এবং আঞ্চলিক ফোরামগুলোর নিষ্ক্রিয়তার উল্লেখ করে পাকিস্তানের হাইকমিশনার দুই দেশের মধ্যে ফরেন অফিস কনসুলেশন সক্রিয় করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা চান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাওয়ায় এখানে কোন বাধা নেই। ইমরান আহমেদ বলেন, পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে কোন রকম প্রতিবন্ধকতা ছাড়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’-এর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতায় বিশ্বাস করেন। বিশ্ব অঙ্গনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন পাকিস্তানি হাই কমিশনার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে দায়িত্ব পালনকালে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এবং প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা