07162020বৃহঃ
স্পটলাইট

স্পটলাইট (955)

নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের (ডিজি) অনুরোধে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তির অনুষ্ঠানে ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, আমি ডিজি অফিসে একটি সভায় গিয়েছিলাম। সভা শেষে ডিজির অনুরোধে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তির অনুষ্ঠানে ছিলাম। মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দুটি সংস্থাকে কিছু কাজের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। একটা হল জেকেজি। যদি অন্যায় কাজ করে থাকে তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান ও তিনি (প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ) দায়ী। আরেকটি হল রিজেন্ট হাসপাতালে। সেই হাসপাতালকে নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে কিছু প্রক্রিয়া আছে। সেই প্রক্রিয়াগুলো পালন করে অধিদফতর। নিয়োগে সই করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। জাহিদ মালেক বলেন, আমরা ডিজি অফিসে একটি সভায় গিয়েছিলাম। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা ছিল। সচিবেরা ছিলেন, অন্যান্য ব্যক্তিরাও ছিলেন। ডিজির অনুরোধে... আপনারাও একটু থাকেন, চুক্তি সাক্ষর হবে। কী সেই সাক্ষর হবে? জবাবে ডিজি বললেন রিজেন্টের সঙ্গে সাক্ষর হবে। দুপুরের খাবারের পর। তো আমরাও সেখানে ছিলাম। তিনি বলেন, আমরা খুশি ছিলাম যে একটা নতুন হাসপাতাল করোনার চিকিৎসা দেয়ার জন্য আসল। প্রাইভেট তো তখন করোনা চিকিৎসা দিতে দ্বিধা করছে। ওনারাও (রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ) আসল। ওনারা এসে সই-সাক্ষর করল, আমরাও খুশি হলাম। বাস! আমরা ওখান থেকে সরে গেলাম। লাইসেন্সের মেয়াদ নেই এমন হাসপাতালকে (রিজেন্ট হাসপাতাল) কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হিসেবে অনুমোদন দেয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে স্বাস্ব্য অধিদফতরের ডিজি আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রালয়ের ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের’ নির্দেশে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রিজেন্ট হাসপাতালের ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক, ন্যক্কারজনক। প্রতিষ্ঠানটি যে কাজ করেছে, অন্যায় কাজ করেছে। অন্যায় কাজ করলে আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা আছে সেটা নেয়া হয়েছে। সে অনুয়ায়ী শাস্তি হবে। এখানে মন্ত্রণালয় কোনো নির্দেশনা দিয়েছে কিনা, দিলে তো ফাইলেই থাকত। ডিজির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে- সেটা দিলেই পাওয়া যাবে। সচিব ব্যাখ্যা চেয়েছেন। দেখি কী ব্যাখ্যা দেয়। এ সময় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগস্টিক সেন্টারের লাইসেন্সের বিষয়ে অভিযান চালানোর কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করে প্রতিনিয়ত পরিদর্শন এবং যাচাই করা হবে।
নিউজফ্ল্যাশ প্রতবিদেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদকে খুঁজছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি যে ধরনের অপরাধ করেছেন তাতে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবেনা। শুক্রবার দুপুরে ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাহেদ কোন দল বা গোষ্ঠীর সেটা বিষয় না। করোনা ভাইরাস নিয়ে তিনি যে ধরনের অপরাধ করেছেন তাতে কোনো ধরনের ছাড় পাবেন না। অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, যেখানে সারাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেখানে রিজেন্ট হাসপাতাল মানুষের সঙ্গে যে প্রতারণা করেছে তা কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যায় না। এ ধরনের অপরাধীকে অবশ্যই আইনের শাস্তি পেতে হবে। আমরা সেই ব্যবস্থাই করবো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, এ ধরনের প্রতারণা সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করোনা একটি দুর্যোগ। আর এই দুর্যোগ নিয়ে কেউ প্রতারণা বা অর্থ-বাণিজ্য করবে তা হতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন স্বরাষ্ট্র্রমন্ত্রী। সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানে অনুমোদিত কিট, করোনা পরীক্ষার নামে ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং বিভিন্ন অনিয়ম পান আদালত। পরে হাসপাতাল দুটি সিলগালা করা হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদকে আসামি করে থানায় মামলা করে র‌্যাব। এরপর থেকেই তিনি আত্নগোপনে।
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না, কোনও না কোনভাবে সেটা সামনে আসবেই। আজকে সেই নামটা (বঙ্গবন্ধু) আবারও ফিরে এসেছে।’ তিনি বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষ যাতে সঠিক ইতিহাসটা জানতে পারে সেজন্য তাঁর সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিলেও একাত্তরে পাকিস্তানের কারাগারে বঙ্গবন্ধুর বন্দিজীবনের কোন তথ্যই পাওয়া যায়নি। কেননা, বঙ্গবন্ধুই নিজেই সে কষ্টের কথা কাউকে জানাতে চাননি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারাগারের রোজনামচা ’৬৬ সালে জাতির পিতা গ্রেফতার হবার পর কারাগারে বসে লেখা। যেটা ছিল ’৬৮ সাল পর্যন্ত। যার একটি ছোট অংশ সে সময় ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় তিনি লিখেছিলেন। তবে, একাত্তর সালের কোন লেখা নেই, পাইনি।’৭১ সালে তিনি যে কারাগারে ছিলেন তার আমরা কিছু জানি না।’ ‘তাঁর সে সময়ের কারাজীবনের কোন কষ্ট, কোন দুঃখ, কোন যন্ত্রণার কথা কখনই তিনি বলেননি। যতটুকু জেনেছি তাঁর লেখা পড়ে, এর বাইরে আর কোন কিছু জানতে পারিনি,’ বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের দিনলিপি’ এবং ‘আমার দেখা নয়া চীন’ বই এবং লেখনি থেকে জাতির পিতার জীবনের অনেক তথ্য পাওয়া গেলেও একাত্তর সালের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা আজ দুপুরে জাতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশনে (বাজেট) তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হকের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। এ সময় ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী স্পীকারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘রেহানা ছোট ছিল বিধায় এসব বিষয়ে সে বাবাকে অনেক সময় জিজ্ঞেস করতো, যা আমরা সাহস পেতাম না। এই কয়েকদিন আগেও তাঁকে জিজ্ঞেস করেছি, তুই কিছু শুনিস নাই?’ ‘-আব্বাকে জিজ্ঞেস করেছি, তিনি বলেন তোর শোনা লাগবে না, শুনলে তোরা সহ্য করতে পারবি না। কাজেই আমি (বঙ্গবন্ধু) বলব না,’ রেহানার এই বক্তব্য উদ্ধৃত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সে সময়ের শুধুমাত্র একটা লাইন পাওয়া যায় আইযুব খানের একটি ডায়েরিতে, যেটা অক্সফোর্ড থেকে বের হয় সেখানে বলা হয়-‘বঙ্গবন্ধুকে যখন আদালতে আনা হোত তিনি আসতেন, তাঁকে বসতে দিলে বসতেন এবং তিনি কোর্টে এসে দাঁড়িয়েই নাকি জয় বাংলাদেশ বলতেন এবং বলতেন আমাকে যা কিছু করার করো, কিন্তু আমার যেটা করার আমি করে ফেলেছি-বাংলাদেশের স্বাধীনতা, এখন বাংলাদেশ স্বাধীন হবে।’ সরকার প্রধান বলেন, তবে, এর বাইরে সে সময়ে বঙ্গবন্ধুর আর কোন তথ্য বা লেখনি তিনি পাননি। যদিও এখনও এ বিষয়ে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৬৫ সাল থেকে ’৭৭ সাল পর্যন্ত মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ডিক্লাসিফাইয়েড রিপোর্টস পুরোটা তিনি সংগ্রহ করেছেন। যেখানে বাংলাদেশের বিষয়টা রয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে ঘরে থাকার সুবাদে সেগুলো কম্পিউটারের হার্ড ডিস্ক থেকে বের করে প্রিন্ট আউট করছেন এবং সেখানেও পাকিস্তানের কারাগারের কিছু রয়েছে কিনা তিনি দেখছেন। স্বাধীন জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে চলতে হলে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের সঠিক ইতিহাস জানা একান্ত ভাবে অপরিহার্য্য উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘এত কষ্ট একজন মানুষ যে একটি দেশের জন্য বা একটা জাতির জন্য করতে পারেন, যার ধারণাও করা যায় না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা মন্ত্রীত্ব ছেড়ে দিয়েছেন সংগঠন করার জন্য, আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার জন্য। আর দেশের জন্য তিনি সবকিছুই ছেড়েছিলেন। ইচ্ছা করলেই প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন, ক্ষমতায় যেতে পারতেন। কিন্তু তাঁর মাথায় সবসময় এটাই ছিল যে, তিনি দেশকে স্বাধীন করবেন। এই বাংলাদেশ স্বাধীন হবে সেই চিন্তা থেকেই তাঁর সারাটা জীবনকে তিনি উৎসর্গ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় টানা তৃতীয়বারের মত তাঁর সরকারকে নির্বাচিত করাতেই দেশের সঠিক ইতিহাস জনগণের সামনে তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন উল্লেখ করে দেশের জনগণকে এজন্য পুণরায় কৃতজ্ঞতা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশের জনগণকে তাঁরা ভোট দিয়ে পর পর তিনবার আমাদেরক নির্বাচিত করেছেন। যার ফলে, আমরা ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পেরেছি। নইলে মাঝে সরকার পরিবর্তন হলে অনেক কিছু হয়ে যায় যেটা আমরা ’৯৬ থেকে ২০০১ সালের সময় দেখেছি।’ তিনি বলেন, অসমাপ্ত আত্মজীবনীর মত জীবনবৃত্তান্ত দিয়ে জাতির পিতার কিছু স্মৃতিকথা লেখাও তাঁরা সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়েছেন এবং সেটিও শিগগিরই মুদ্রনে যাবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বাজেট অধিবেশনের সমাপনী আলোচনায় অংশ গ্রহন করে ভাষণ দান করেন। নিচে তাঁর ভাষণের পূর্ণবিবরণ প্রদান করা হলো। মহান জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট আলোচনা সমাপনী বক্তব্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সোমবার ১৫ আষাঢ় ১৪২৭ ২৯ জুন ২০২০ মাননীয় স্পীকার ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনার সমাপনী বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেওয়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে শহিদ আমার মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে। শ্রদ্ধা জানাই জেলখানায় নিহত জাতীয় চার নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নির্যাতিতা ২ লাখ মা-বোনকে। সদ্য প্রয়াত অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান ও বর্ষীয়ান জননেতা জনাব মোহাম্মদ নাসিম, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোঃ আবদুল্লাহ-সহ কোভিড-১৯-এ প্রাণ হারানো সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। সমবেদ জানাচ্ছি তাঁদের পরিবারের প্রতি। আর যাঁরা এখনও আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন তাঁদের আশু সুস্থতা কামনা করছি। চলতি ২০২০ সালে উদযাপিত হচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। আগামী বছর ২০২১ সালে জাতি পালন করতে যাচ্ছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। কিন্তু এই মাহেন্দ্রক্ষণে গোটা বিশ্ব এক ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯-এর কারণে বিশ্ব অথর্নীতি আজ মহামন্দার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২০ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতি ৪.৯ শতাংশ সঙ্কুচিত হবে মর্মে প্রাক্কলন করেছে। তাছাড়া, করোনার প্রভাবে বৈশ্বিক পণ্য বাণিজ্য ১৩-২০ শতাংশ হ্রাস, বিশ্বব্যাপী ১৯ কোটি ৫০ লক্ষ কর্মীর পূর্ণকালীন চাকুরি হ্রাস, বৈশ্বিক এফডিআই প্রবাহ ৫-১৫ শতাংশ হ্রাস এবং বৈশ্বিক রেমিটেন্স ২০ শতাংশ হ্রাস পাবে মর্মে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় ৮ মার্চ এবং ভাইরাসের বিস্তারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২৬ মার্চ হতে ৩০ মে পর্যন্ত দীর্ঘ ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি কার্যকর ছিল। গণপরিবহন এবং কল-কারখানা এ সময়ে বন্ধ থাকে এবং উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের গতি মন্থর হয়। এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও কোভিড-১৯ এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এ সব বিবেচনায় নিয়ে চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সংশোধন করে ৫.২ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। আশা করা যায়, ২০২১ সালে বিশ্ব এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি কোভিড-১৯ প্রভাব থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে আসবে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের অর্থনীতি তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে ধরে নিয়ে আগামী ২০২০-২১ অথর্বছরের বাজেটে প্রবৃদ্ধির হার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৮.২ শতাংশ। একই সাথে নিম্ন মূল্যস্ফীতি ধরে রাখার পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। অনেকে বলছেন বাজেট একটু বেশি আশাবাদি, বা উচ্চাভিলাসি। একটা কথা মনে রাখতে হবে সবসময় আমাদের একটা লক্ষ্য থাকতে হবে। আজকে কোভিড-১৯ এর জন্য সবকিছু স্থবির। তবে, আমরা আশাবাদি যে, এ অবস্থা থাকবেনা। এর থেকে উত্তোরণ ঘটবে। আজকে যদি হঠাৎ সে অবস্থার উত্তোরণ ঘটে যায় তাহলে আগামিতে আমরা কি করবো, সেটা চিনাতা করেই এই পদক্ষেপটা আমরা নিয়েছি। সেখানে কোভিড যদি শেষ না হয় তাহলে হয়তো আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো না কিন্তু আমাদের প্রস্তুতিটা থাকা দরকার বলে আমরা মনেকরি এবং সেজন্য উচ্চাভিলাসি বাজেটই আমরা দিয়েছি। প্রবৃদ্ধির হার ৮.২ শতাংশ প্রাক্কলনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ যে অনুমানসমূহ বিবেচনায় নেয়া হয়েছে তা হলো: (ক) করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে আমাদের অর্থনীতির উৎপাদন ব্যাহত হলেও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর কোন ক্ষতি হয়নি, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যুদ্ধ-বিগ্রহের সময় হয়ে থাকে; (খ) সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে কর্মসৃজন ও ব্যক্তি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়বে এবং প্রণোদনার প্যাকেজসমূহ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা মহামারি পূর্বাবস্থায় চলে আসবে; (গ) অক্টোবর/নভেম্বর মাসের মধ্যে করোনা ভাইরাস প্রতিষেধক টিকা বাজারে চলে আসলে ইউরোপ-আমেরিকায় জীবনযাত্রা দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং আমাদের রপ্তানি আয় কোভিড পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে আসবে; (ঘ) বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ধীরে ধীওে বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং প্রবাস আয়ে বর্তমান সঙ্কট কেটে যাবে। মাননীয় স্পীকার, আপনি জানেন যে, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সাথে সাথেই আমরা এ সঙ্কট মোকাবেলায় নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। একইসাথে অর্থনীতির উপর সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব উত্তরণে আমরা একটি সামগ্রিক কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছি। যার মধ্যে কিছু কাজ আমরা দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করেছি, কিছু স্বল্পমেয়াদে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি এবং কিছু কাজ দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়ন করবো। আমাদের এ কর্মপন্থার চারটি প্রধান কৌশলগত দিক রয়েছে। এগুলো হলো: (ক) সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করা: কর্মসৃজনকে প্রাধান্য দেওয়া ও বিলাসী ব্যয় নিরুৎসাহিত করা এবং কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় পিছিয়ে দেওয়া; (খ) আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ প্রণয়ন: বাজেট বরাদ্দ এবং ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনা ও স্বল্প সুদে কতিপয় ঋণ সুবিধা প্রবর্তন করা যাতে অর্থনৈতিক কর্মকা- পুনরুজ্জীবিত হয়, কর্মসংস্থান ঠিক থাকে এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়; (গ) সামাজিক সুরক্ষার আওতা সম্প্রসারণ: হত দরিদ্র, কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মকা-ে নিয়োজিত জনগণকে সুরক্ষা দিতে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করা; এবং (ঘ) বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি করা: অর্থনৈতিক কর্মকা- দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করা, একই সাথে মূল্যস্ফীতি যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা; মাননীয় স্পীকার করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি, কলকারখানা বন্ধ থাকা এবং সর্বোপরি ব্যবসা বাণিজ্য স্থবির থাকায় দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ সাময়িকভাবে কর্মহীন হয়ে পড়ে। সে কারণে করোনা ভাইরাসের অর্থনৈতিক প্রভাব কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা খাতের ব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকার ১৯টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। প্রণোদনা প্যাকেজসমূহ আমি এখানে সংক্ষেপে উল্লেখ করছি: (১) রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা অব্যাহত রাখার স্বার্থে আমরা ৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল প্রদান করেছিলাম যার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মচারির কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে। এ তহবিল হতে ৩৫ লক্ষ শ্রমিক-কর্মচারির এপ্রিল ও মে মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধে সমুদয় অর্থ শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে বিশেষ বিবেচনায় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ সুবিধা হতে মাত্র ২ শতাংশ সুদে আরও ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা জুন মাসের বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য মোট ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে। (২) ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসায় টিকিয়ে রাখতে আমরা ৩০ হাজার কোটি টাকার ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ সুবিধা প্রণয়ন করেছি। এ ঋণ সুবিধার সুদের হার হবে ৯ শতাংশ; এর মধ্যে অর্ধেক ৪.৫০ শতাংশ ঋণ গ্রহীতা এবং অবশিষ্ট ৪.৫০ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করবে। এ সুবিধার ফলে শিল্প ও সেবা খাতের আনুমানিক ৬০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান টিকে থাকবে। (৩) কুটির শিল্পসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও আমরা ২০ হাজার কোটি টাকার আরও একটি স্বল্প সুদের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ সুবিধা চালু করেছি। ৯ শতাংশ সুদের এ ঋণ সুবিধার ৫ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করবে অবশিষ্ট ৪ শতাংশ প্রদান করবে ঋণ গ্রহীতা। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ধরে রাখা সম্ভব হবে। (৪) শিল্পের কাঁচামাল আমদানি সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের আকার আমরা ৩.৫ বিলিয়ন ডলার হতে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত এবং এর সুদের হার কমিয়ে ২ শতাংশ নির্ধারণ করেছি। (৫) রপ্তানিকারকদের প্রি-শিপমেন্ট খাতের ব্যয় অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে আমরা ৫ হাজার কোটি টাকার নতুন একটি রিফাইন্যান্স স্কিম চালু করেছি। (৬) করোনা রোগীদের সেবা প্রদানের কাজে প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সকলকে দুই মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ বিশেষ সম্মানী প্রদান করা হবে। এ খাতে আমরা ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছি। (৭) করোনা রোগীদের সেবা প্রদানে সরাসরি নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ এ সংক্রান্ত সরকার ঘোষিত নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারী দায়িত্ব পালনকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে পদমর্যাদা অনুযায়ী ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকা এবং মৃত্যুবরণ করলে তাঁদের পরিবারকে এর পাঁচগুণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে। এ খাতে ৭৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। (৮) হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র-অসহায় মানুষের মাঝে আমরা খাদ্য বিতরণ করছি। এ লক্ষ্যে মানবিক সহায়তা হিসেবে দেশব্যাপী মোট ৪ লাখ মেট্রিক টন চাল ও ১ লাখ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ রেখেছি। এ পর্যন্ত ১ কোটি ৫৯ লক্ষ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। (৯) নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে আমরা খোলাবাজারে মাত্র ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রয় শুরু করেছি; এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৬ হাজার মেট্রিক টন চাল বিক্রয় করেছি এবং এ কার্যক্রম এখনও অব্যাহত আছে। এ বাবদ ২৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। (১০) করোনাভাইরাসজনিত কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া দেশের অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে আমরা সারাদেশে নির্বাচিত ৫০ লাখ উপকারভোগীর প্রত্যেককে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে অনুদান ট্রেজারি থেকে সরাসরি তাঁদের ব্যাংক বা মোবাইল একাউন্টে প্রদান করছি। (১১) দেশের অতি দরিদ্র ১০০টি উপজেলায় বয়স্ক ভাতা এবং বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা কর্মসূচির আওতা শতভাগে উন্নীত করা হবে। এর আওতায় নতুন ৫ লক্ষ বয়স্ক ভাতা এবং ৩ লক্ষ ৫০ হাজার বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা বাড়ানো হবে। এছাড়াও, প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচির আওতায় সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে আরও ২ লক্ষ ৫৫ হাজার নতুন ভাতাভোগী যুক্ত হবে। (১২) জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা সকল গৃহহীন মানুষের জন্য গৃহ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। আগামী অর্থবছরে এ কর্মসূচিতে ২ হাজার ১৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। (১৩) কৃষকের উৎপাদিত ধান-চালের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা ও বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে সরাসরি ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা আরো ২ লক্ষ টন বাড়িয়ে মোট ১৯ লক্ষ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধান-চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। (১৪) ধান কাটা ও মাড়াই কাজ যান্ত্রিকীকরণে আমরা ২০০ কোটি টাকার প্রণোদনা ইতোমধ্যে প্রদান করেছি। এ ছাড়াও আগামী অর্থবছরে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। (১৫) কৃষির সার্বিক উন্নয়ন, কৃষককে প্রণোদনা প্রদান এবং দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা কৃষি খাতে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়িয়ে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করেছি। (১৬) কৃষকের ঋণ প্রাপ্তি সহজ করার লক্ষ্যে আমরা ৫ হাজার কোটি টাকার একটি কৃষি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করেছি। (১৭) নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার অপর একটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম আমরা গঠন করেছি। (১৮) বিদেশ ফেরত প্রবাসী শ্রমিক, প্রশিক্ষিত তরুণ এবং বেকার যুবকদের ব্যবসা ও আত্মকর্মসংস্থানমূলক কাজে স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে কর্মসংস্থান ব্যাংক, প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনকে আমরা মোট ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করেছি। এতে আনুমানিক ৯ লক্ষ বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। (১৯) সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে এপ্রিল ও মে মাসের সুদ আদায় স্থগিত করা হয়েছে। এ দু‘মাসের মোট সুদের মধ্যে আমরা সরকারের পক্ষ হতে ২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করবো এবং ঋণ গ্রহীতাগণ অবশিষ্ট অংশ সমান ১২টি কিস্তিতে পরিশোধ করবেন। এ কর্মসূচিতে প্রায় ১ কোটি ৩৮ লক্ষ ঋণ গ্রহীতা উপকৃত হবেন। দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠী যেন উপকৃত হয় সে লক্ষ্য নিয়েই পরিকল্পিত ভাবে এবং যথাযথ সময়ের পূর্বেই প্রতিটি প্রণোদনা প্যাকেজ প্রণয়ন করা হয়েছে। উল্লিখিত প্রণোদনা প্যাকেজসমূহ বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় ইতোমধ্যে ৫ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে সুবিধা পেয়েছে এবং ১৯টি প্যাকেজ সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে ১২ কোটি ৫৫ লক্ষ মানুষ সুবিধা পাবে। এছাড়াও, প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ কর্ম সুরক্ষা ও নতুন কর্ম সৃজন হবে। মাননীয় স্পীকার, কোভিড-১৯-এর প্রভাবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে যে সাময়িক প্রয়োজন উদ্ভূত হয়েছে তা মেটানো এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে যে ক্ষয়-ক্ষতি সৃষ্টি হবে তা পুনরুদ্ধারের কৌশল বিবেচনায় নিয়ে মাননীয় অর্থমন্ত্রী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন। এটি আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭তম এবং বর্তমান মেয়াদের দ্বিতীয় বাজেট। আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সরকার পরিচালনা করেছিলেন সেখানে তিনটি বাজেট দেওয়ার সযোগ পেয়েছিলেন। সে হিসেবে এটি আওয়ামী লীগের ২০ তম বাজেট। যেটি আওয়ামী লীগ সরকার এদেশকে উপহার দিয়েছে। এ বাজেটে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং করোনাভাইরাস মোকাবেলায় জীবন ও জীবিকা রক্ষার উপর প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। তাছাড়া, বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসৃজন ও সামাজিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী ইশতেহার, ২০১৮ এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ও লক্ষ্যসমূহ অর্জনের প্রয়াস চালানো হবে। আমরা দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০২১-৪১) অনুমোদন করেছি। এ পরিকল্পনার মাধ্যমে ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উত্তরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। হয়তো তখন আমরা বেঁচে থাকবো না কিন্তু কাজ আমরা করে যাচ্ছি, কর্মপন্থা দিয়ে যাচ্ছি ভবিষ্যতে যারা আসবে তারা যেন এটা অনুসরণ কওে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এছাড়াও, আমরা আগামী অর্থবছর হতে ৫ বছর মেয়াদি ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো যার মূল প্রতিপাদ্য হবে দারিদ্র্য ও আয় বৈষম্য কমিয়ে এনে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা। বাংলাদেশ বিগত ১২ বছরে গড়ে ১.৪ শতাংশ হারে দারিদ্র্য বিমোচনে সক্ষম হলেও কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাবে চলতি অর্থবছরে এ ধারায় কিছুটা হয়তো ছন্দপতন হতে পারে। এ মহামারির কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রম থমকে যাওয়ার প্রভাবে আমাদের দেশে দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারি মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকে করেছেন। কিন্তু অত্যন্ত দ্রুততার সাথে আমরা যে সুবিশাল আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করে বাস্তবায়ন শুরু করেছি, তার মাধ্যমে আমরা এ সম্ভাবনাকে অনেকটাই রোধ করতে সক্ষম হবো বলে আমি বিশ^াস করি। দেশের অতি দরিদ্র পরিবারসমূহকে সরাসরি নগদ অনুদান, বিনামূল্যে খাদ্য সামগ্রি বিতরণ, রপ্তানিমুখী শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারিদের চাকুরি সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো ইত্যাদি সময়োপযোগী পদক্ষেপের দ্বারা আমরা দারিদ্র্য হারের বৃদ্ধিকে রোধ করতে সক্ষম হবো। আগামী অর্থবছরে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকা- শুরু করার মাধ্যমে আমরা দারিদ্র্য বিমোচনের হার পূর্বের ধারায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। কোভিড-১৯ মোকাবেলা এবং এর অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য আমরা গতানুগতিক বাজেট হতে সরে এসে সরকারের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে এসেছি। স্বাস্থ্য খাতকে এবার সর্বাপেক্ষা অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, এবং করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে এখাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ, প্রণোদনা ও ক্ষতিপূরণ ইত্যাদির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে জনজীবনকে সুরক্ষার লক্ষ্যে ন্যাশনাল প্রিপেয়ার্ডনেস এন্ড রেসপন্স প্ল্যান প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন আরম্ভ করা হয়েছে। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতায় বর্তমানে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তাছাড়া কোভিড-১৯ মোকাবেলায় জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেট বরাদ্দের দিক দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অবস্থান পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে যা গত অর্থবছরে ছিল অষ্টম স্থানে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা অত্যন্ত অল্প সময়ে ২ হাজার ডাক্তার ও ৬ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি। আরও ২ হাজার ডাক্তারের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে, যাদের শীঘ্রই নিয়োগ দেওয়া হবে। হেল্থ টেকনোলজিস্ট, কার্ডিওগ্রাফার এবং ল্যাব এটেনডেন্টের ৩ হাজার নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ছাড়াও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবায় সরাসরি নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্পূর্ণ সরকারি খরচে হোটেলে থাকা, খাওয়া ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি, টেস্ট কীট ও সরঞ্জামাদি ক্রয় এবং করোনা চিকিৎসার সুবিধা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে আমরা দ্রুততম সময়ে ২ হাজার ৫ শত কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছি। আরও একটি প্রকল্প বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। এগুলো বাস্তবায়নের ফলে আমাদের করোনা মোকাবেলার সামর্থ্য আরও বাড়বে। ২৮ জুন ২০২০ তারিখ পর্যন্ত সমগ্র বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১ লক্ষ ২ হাজার জন। তন্মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ লক্ষ ১ হাজার ৬৪৪ জন। বিশ্বে আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুর হার ৫.০১ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৮৭ জন রোগী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১ হাজার ৭৩৮ জন এবং ৫৫ হাজার ৭২৭ জন সুস্থ হংে ঘরে ফিরেছেন যদিও একটি মৃত্যুউ আমাদের কাচে গ্রহনযোগ্য নয়, আমরা চাইনা, এভাব একজনও মৃত্যুবরণ করুক। আমরা চেষ্টাকরে যাচ্ছি কিভাবে মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া যায় এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বার বার জনগণকে আমরা আহবান জানাচ্ছি। নিজেকে সুরক্ষিত রাখা এবং অপরকে সুরক্ষিত রাখাটা সকলের দায়িত্ব। তাই আশাকরি সকলে সিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে। আক্রান্তের তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যুর হার ১.২৬ শতাংশ। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুর হার ভারতে ৩.০৮, পাকিস্তানে ২.০৩, যুক্তরাজ্যে ১৪.০৩ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৫.০ শতাংশ। এ পরিসংখ্যান হতে দেখা যায় যে যথাযথ কার্যব্যবস্থা গ্রহণ করায় বাংলাদেশে আমরা করোনাভাইরাসজনিত মৃত্যুহার নিম্ন পর্যায়ে রাখতে পেরেছি। আগামী বাজেটে আমাদের দ্বিতীয় সর্ব্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হচ্ছে কৃষি। কৃষিতে আন্তর্জাতিক পরিম-লে আমাদের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে আমরা চাল উৎপাদনে তৃতীয় স্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। এফএও ইতোমধ্যে তাদের একটি পর্যালোচনা দিয়েছে সেখানে আমাদেও প্রায় ৩ কোটি ৯৯ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে। যা আমাদের চাহিদার চেয়েও ২৫ লাখ মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত। করোনাত্তোর কৃষিখাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উৎপাদন, বাজারজাতকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করার মাধ্যমে খাদ্য সঙ্কট যাতে তৈরী না হয় সেদিকে নজর দেওয়াই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। করোনা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে কোনভাবেই যাতে খাদ্য সঙ্কট সৃষ্টি না হয় সে জন্য এক ইঞ্চি আবাদি জমিও ফেলে না রাখার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে আমি কৃষি মন্ত্রণালয় ও তার সকল সহযোগী সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করেছি- ‘কোন জমি ফেলে রাখা যাবেনা কারণবিশ^জুড়ে মহাদুর্ভিক্ষ হতে পারে। দেশবাসীকে আমি আহবান জানাবে যার যেখানে যেটুকু জমি আছে সেখানে যে যা পারেন তাই উৎপাদন করেন, উৎপাদন বাড়ান,নিজের খাদ্য নিরাপত্তা সুরক্ষিত করেন। সরকার যা যা করার তা করবে। কৃষি খামার যান্ত্রিকীকরণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং খাদ্যশস্য সংরক্ষণের স্থান বৃদ্ধি ও মান উন্নয়ন করা হবে। এছাড়াও আগামী অর্থবছরে রাসায়নিক সারের বিক্রয়মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হবে ও কৃষি প্রণোদনা প্রদান অব্যাহত থাকবে। চলতি বোরো মৌসুমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধান কাটার লক্ষ্যে হারভেস্টার মেশিন ক্রয়ে আমরা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি প্রদান করেছি। পাশাপাশি আমি ছাত্রলীগের কর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছিলাম তারা যেন তাদের নিজ নিজ এলাকায় যেয়ে কৃষকদের ধান কাটায় সহায়তা করে। ছাত্রলীগের কর্মীগণ ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং বর্ষা মৌসুমের পূর্বেই ধান কেটে ঘরে তুলতে সহায়তা প্রদান করেছে। একই সাথে যুবলীগ, কৃষকলীগ ও যুব-মহিলা লীগের কর্মীগণও স্ব-স্ব এলাকায় কৃষকদের ধান কাটায় সহায়তা প্রদান করেছে। প্রতি বছরের মত এ বছরও ১লা আষাঢ় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আমি আওয়ামী লীগের ৫৫ লক্ষ কর্মীর প্রত্যেককে একটি ফলজ, একটি ঔষধি এবং একটি বনজ বৃক্ষ অর্থাৎ তিনটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছি। এর ফলে দেশে বৃক্ষ আচ্ছাদনের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থা সীমিত হয়ে আসায় খাদ্যশস্যসহ নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্কট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। সঙ্কটের শুরু থেকেই আমরা এ বিষয়ে যথেষ্ট সজাগ ছিলাম। গত এক দশকে আমাদের সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে সরকারি গুদামে খাদ্যশস্য ধারণক্ষমতা আমরা প্রায় ২২ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নীত করতে পেরেছি এবং এর ফলে করোনা সঙ্কটের শুরুতে সরকারি গুদামে রেকর্ড পরিমাণ ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ ছিল। দীর্ঘ ৬৬ দিন সারাদেশে ছুটি ও চলাচল সীমিত থাকলেও দেশের কোথাও খাদ্য ঘাটতি বা নিত্য-প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সঙ্কট আমরা হতে দেইনি। উপরন্তু দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য আমরা খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। আগামী অর্থবছরেও খাদ্যশস্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছি। চলতি বোরো মৌসুমে আমরা ১১ লক্ষ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ৮ লক্ষ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছি যা গত বোরো মৌসুমের তুলনায় দ্বিগুণ। আমি আপনার মাধ্যমে দেশবাসীকে এই বলে আশ্বস্ত করতে চাই যে, সামনে যে সংকটই আসুক না কেন আওয়ামী লীগ সরকার তা শক্তভাবে মোকাবেলা করবে এবং দেশের কোন মানুষকে অভুক্ত থাকতে দেবে না। কারণ আমাদেও খাদ্য চাহিদা ৩ কোটি ৭৫ লাখ িেট্রক টন সেখানে উৎপাদন হয়েছে ৩ কোটি ৯৯ লাখ মেট্রিক টন। ২৫ লাখ উদ্বৃত্ত রয়েছে এবং এই উৎপাদন আমরা অব্যাহত রাখবো কাজেই আল্লাহর রহমতে আমাদের কোন অসুবিধা হবেনা। করোনাভাইরাসের প্রভাবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকা- বন্ধ থাকায় নিম্ন আয় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কাযর্ক্রমের আওতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা ভাতা এবং অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা ভোগীরসংখ্যা ১১ লক্ষ ৫ হাজার জন বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনের কৌশল হিসেবে তৎকালীন ১৯টি থানায় ‘পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রম’ শুরু করেন যা বর্তমানে দেশের সকল জেলায় প্রত্যেক উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল করা এবং গ্রামে বসবাসরত দরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় মানুষের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরে পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রম এর জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় মোট উপকারভোগীর সংখ্যা হলো ১২ কোটি ৩৩ লক্ষ ৫৫ হাজার জন যাদের মূল তিনটি কার্যক্রমে বিভক্ত করা যায়: (ক) বিভিন্ন প্রকার ভাতা পাচ্ছেন ১ কোটি ৭ লক্ষ ২৬ হাজার; (খ) খাদ্য সহায়াতা পাচ্ছেন ৮ কোটি ৭২ লক্ষ ৭১ হাজার; এবং (গ) উপবৃত্তি কার্যক্রমের আওতায় আছেন ২ কোটি ৫৩ লক্ষ ৫৮ হাজার জন। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে আগামী অর্থবছরে ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে যা মোট বাজেট বরাদ্দের ১৬.৮ শতাংশ এবং জিডিপি’র ৩.০১ শতাংশ। করোনা পরিস্থিতিতে সৃষ্ট দুর্যোগে দেশের সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে মানবিক সহায়তা হিসেবে আমরা বিস্তৃত পরিসরে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছি যার আওতায় এ পর্যন্ত আমরা সারাদেশে দেড় কোটির বেশি পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি। এ যাবৎ সারাদেশে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার পরিবারের মাঝে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১২২ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। চালের পাশাপাশি, আমরা নগদ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছি প্রায় ১২৩ কোটি টাকা; এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা ৯৫ লাখ ৭৯ হাজার। শিশু খাদ্য সহায়ক হিসেবে বরাদ্দ দিয়েছি ২৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং এতে ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৫২৫টি পরিবার উপকৃত হয়েছে। এছাড়াও, সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময়ে আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি থাকায় এবং দ্রুত ত্রাণ তৎপরতা শুরু করতে পারায় আমরা তা সফলভাবে মোকাবেলা করতে পেরেছি। এরবাইরেও জেলা প্রশাসকদের কাছে ইউনিয়ন অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য দুধস হ শিশু খাদ্য কেনায় আমি বরাদ্দ দিয়েছি। মাননীয় স্পীকার, শিক্ষা খাতকে সব সময়ই আমরা অগ্রাধিকার প্রদান করে থাকি তবে এবার শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের গুনগত মান উন্নয়নই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে ৯৫ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা জিডিপির ৩.১ শতাংশ এবং মোট বাজেট বরাদ্দের ১৭ শতাংশ। করোনার এই মহামারির মধ্যেও আমরা বিশেষ ব্যবস্থায় ১ কোটি ৩৭ লক্ষ প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা প্রদান করেছি। এছাড়াও মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নতুন পোশাক, জুতা ও ব্যাগ ক্রয়ের জন্য ১ হাজার টাকা করে আগামী ডিসেম্বর মাসে প্রদান করা হবে। নন এমপিও ভুক্ত যারা তাদেও জন্যও আমরা ৪৬ কোটি টাকার ওপওে বরাদ্দ দিয়েছি। অবকাঠামো খাতে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নসহ ব্যাপকভাবে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যোগাযোগ, বন্দর ইত্যাদি অবকাঠামো গড়ে তোলার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি। আমরা আগামী অর্থবছরের মধ্যে দেশের শতভাগ এলাকা বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসবো। এছাড়াও, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও চাহিদা মেটাতে ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক/মহাসড়কগুলোকে পর্যায়ক্রমে ৪ লেনে উন্নীতকরণ, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু বাস্তবায়ন, দেশের প্রথম মেট্রোরেল নির্মাণ, কর্ণফুলি নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেলের নির্মাণ কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এ সকল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে তা আমাদের জাতীয় অর্থনীতির জন্য ব্যাপক সুফল বয়ে আনতে সক্ষম হবে। মাননীয় স্পীকার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে, এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দুর্নীতি সমূলে উৎপাটন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। মাননীয় স্পীকার, আমি আপনার মাধ্যমে মহান সংসদকে জানাতে চাই যে, দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং আমাদের অর্জনসমূহ সমুন্নত রাখতে সরকার দুর্নীতি বিরোধী লড়াই অব্যাহত রাখবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি বেগবান করার জন্যে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিকল্প নেই। বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে প্রায় এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ যৌক্তিকভাবে কমিয়ে আনা ও ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে উৎকৃষ্ট অবস্থান অর্জন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দিয়েছি। মাননীয় স্পীকার, আমি ইতঃপূর্বে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, শিল্প ও ব্যবসা খাতকে প্রতিযোগিতা সক্ষম করার লক্ষ্যে সুদের হার এক অঙ্কে (ংরহমষব ফরমরঃ) নামিয়ে আনবো। আমরা ইতোমধ্যে তা করেছি। বিগত এপ্রিল ২০২০ হতে নতুন ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার সর্বোচ্চ ৯% কার্যকর হয়েছে। এর ফলে ঋণের ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় বেসরকারি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। গত ১ জুলাই ২০১৯ হতে দেশব্যাপী নামজারির প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে ই-নামজারি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ফলে জনগণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঘরে বসেই নামজারি করতে পারছেন। এ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ টহরঃবফ ঘধঃরড়হং চঁনষরপ ঝবৎারপব অধিৎফ-২০২০ অর্জন করেছে। আমি ভূমিমন্ত্রী সহ মন্ত্রণালযের সকলকে এজন্য আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং আশাকরি সকল মন্ত্রণারয এটা অনুসরণ করবে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এবং মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাগণের করমুক্ত আয়সীমা ৫০ হাজার টাকা বৃদ্ধি এবং করহার কিছুটা হ্রাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ বার্ষিক আয়ের ৩ লাখ টক পর্যন্ত করমুক্ত থাকবে। এ ছাড়াও কর্পোরেট ট্যাক্সের হার ২.৫ শতাংশ হ্রাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে নিম্ন-আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ আসবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। আমি আগেই উল্লেখ করেছি যে, করোনাভাইরাস জনিত অর্থনৈতিক অভিঘাত হতে উত্তরণের লক্ষ্যে আমরা ১৯টি প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করছি। এ প্যাকেজসমূহ বাস্তবায়ন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় নির্বাহের জন্য আমরা উন্নয়ন সহযোগীদের নিকট বাজেট সাপোর্ট চেয়েছিলাম। আমাদের প্রণোদনা প্যাকেজসমূহ অর্থনৈতিক অভিঘাত উত্তরণে অত্যন্ত কার্যকর ও সময়োপযোগী উল্লেখ করে উন্নয়ন সহযোগীগণ তা বাস্তবায়নে দ্রুত সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। উন্নয়ন সহযোগীগণ ইতোমধ্যে ৫.১৬ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং গতকাল পর্যন্ত ১.৭৪ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ১৪ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা সরকারি খাতে জমা হয়েছে। অত্যন্ত স্বল্প সময়ে আমাদের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার জন্য আমি এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক, আই এম এফ, এ আই আই বি, বিশ্বব্যাংক, জাপান, ইইউসহ সকল উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সেইস সঙ্গে অর্থমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রণালয়ের সকলকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। মাননীয় স্পীকার, দেশ গঠনে তরুণ সমাজই মূল ভূমিকা পালন করে থাকে। আমাদের ভাষা আন্দোলন,৬ দফা াান্দোল এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ প্রতিটি ক্ষেত্রেবি তরণ সমাজের একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে। আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো, প্রতি বছর আনুমানিক যে ২০ লক্ষ তরুণ শ্রম বাজারে যুক্ত হচ্ছে তাদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষেই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নে আমরা অতীতে কখনও ব্যর্থ হইনি এবং ভবিষ্যতেও হবো না। মাননীয় স্পীকার, আমরা কখনও হতাশায় ভুগি না। আমরা সব সময় একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করে সুনির্দিষ্ট কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাই। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় কখনও কখনও সে পরিকল্পনা প্রয়োজন অনুযায়ী পুনঃনির্ধারণ করতে হয় এবং সে কারণেই আজকে বাজেট ঠিক রেখেছি এবং প্রণয়নও করেছি এবং আশাকরি এটা আমরা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব। আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আর তার মধ্যেই আমরা প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ এর মত বৈশ্বিক মহামারীর মোকাবেলা করছি। আম্পানের মত ঘুর্ণিঝড় মোকাবেলা করছি হয়তো আগামীতে বন্যা আসবে সেটাও মোকাবেলা করতে হবে। সেই প্রস্তুতিও আমাদের আছে, আমরা নিচ্ছি। আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী যে আমরা সফলভাবে এ মহামারীর অর্থনৈতিক প্রভাব কাটিয়ে উঠে উন্নয়নের অভিযাত্রায় পুনরায় শামিল হবো। কারণ, বিশ্ব মানদ-ে আমাদের রয়েছে শক্তিশালী আর্থ-সামাজিক অবস্থান। গত ২ মে, ২০২০ দ্যা ইকনোমিস্ট একটি গবেষণা প্রতিবেদনে চারটি মানদ-ের ভিত্তিতে সবল অর্থনীতির ৬৬টি দেশের তালিকা করেছে; সেখানে বাংলাদেশ শক্তিশালী নবম অবস্থানে রয়েছে। চলতি জুন মাসেই আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড ৩৫ বিলিয়ন এবং প্রবাস আয় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। এছাড়া, ইন্সটিটিউট ফর ইকোনমিক্স এন্ড পীস কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত ‘২০২০ এষড়নধষ চবধপব ওহফবী’তে বাংলাদেশের অবস্থানে ১০৪ হতে ৭ ধাপ অগ্রগতি হয়ে ৯৭ তে উন্নীত হয়েছে। করোনাভাইরাসকে কার্যকরভাবে মোকাবেলা করে এবং আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য পেশকৃত জনবান্ধব, উন্নয়নমুখী ও সুষম এই বাজেট এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে যাবো, ইনশাআল্লাহ। যত বাধা আসুক তা অতিক্রম কওে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মাননীয় স্পীকার আপনাকে এবং সকলকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। খোদা হাফেজ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক: আসামের কৃষকদের সেচের পানি আটকানো নিয়ে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ভিত্তিহীন বলছে ভুটান। দেশটির পররাষ্ট্রম ন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এমন সংবাদ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করতে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এটি ভুল বোঝাবুঝি। খবর-এনডিটিভি। শুক্রবার ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতে বলা হয়েছে, ২৪ জুন ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে আসামের কৃষকদের সেচের পানি আমরা আটকেছি। এতে সমস্যায় পড়েছেন বাকসা ও উদালগুড়ির কৃষকরা। এটা অত্যন্ত ভয়াবহ অভিযোগ। তাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করতে চায় এই ধরনের সংবাদ ভিত্তিহীন। ভুটানের পানি বন্ধ করার মতো কোনো কারণ নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুটান ও আসামের বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থানে ফাটল ধরানোর চেষ্টায় এই উদ্যোগ বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে। এই বিবৃতির একদিন আগে (বৃহস্পতিবার রাত) আসামের মুখ্যসচিব কুমার সঞ্জয় কৃষ্ণা টুইট করে বলেন, এই প্রতিবেদন সঠিক নয়। প্রাকৃতিক কারণে পানি বন্ধ হয়েছে। ভুটানের প্রকাশ করা ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কয়েক দশক ধরে বাকসা ও উদালগুরি আমাদের পানি পেয়ে সমৃদ্ধ। আগামী দিনেও সেই পানি পাবে। এমনকী, এই করোনা সঙ্কটের মুহূর্তেও সেই পানি পেয়েছে। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়, হঠাৎ করেই ভারতে পানি প্রবাহ আটকে দিয়েছে ভুটান। এতে আসামের সীমান্তবর্তী এলকার ২৫টি গ্রামের হাজার হাজার চাষী পানি সংকটে পড়েছেন। অঞ্চলটিতে চাষাবাদের ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। করোনা মহামারীর কারণে ভুটান তাদের সীমান্ত সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় কোনো নাগরিককে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। দেশটি বলছে, ভারতীয় চাষীদের ভুটানের উদ্ভূত সেচ চ্যানেল ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক: গ্রিস সীমান্তবর্তী নর্থ মেসিডোনিয়ায় একটি হাইওয়ে থেকে ৬৪ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। নিয়মিত টহলের সময় তাদের আটক করে পুলিশ। সোমবার একটি ট্রাক থেকে ওই ৬৪ বাংলাদেশি অভিবাসীকে আটক করা হয়। তবে ট্রাকের ড্রাইভার পলাতক আছে। স্থানীয় পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আটক অভিবাসীদের সীমান্তের কাছে গেভেগেলিজা নামে একটি শহরে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে তাদের বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। যুগোস্লাভিয়ার ভেতর দিয়ে তথাকথিত ‘বলকান অভিবাসন রুট’ ২০১৫ সাল থেকে বন্ধ। আর চলতি বছর করোনা মহামারির কারণে বন্ধ রয়েছে গ্রিস-নর্থ মেসিডোনিয়া সীমান্তও। তবে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, কাগজে-কলমে সীমান্ত বন্ধ হলেও এ রুটে মানবপাচার এখনও চলছে। প্রতি বছরই বহু বাংলাদেশি এসব পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টায় প্রাণ হারাচ্ছেন। অনেককেই মানব পাচারকারীদের হাতে বন্দি হয়ে মোটা অংকের মুক্তিপণ দিতে হচ্ছে।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক: লতি বছর পবিত্র হজে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ থেকে যারা নিবন্ধন করেছিলেন, তারা তাদের টাকা যে কোনও সময় ফেরত নিতে পারবেন। মঙ্গলবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নুরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিবন্ধিত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ যদি চান তারা টাকা তুলে নিতে পারবেন। আবার কেউ যদি চান আগামী বছর হজে যাওয়ার জন্য তা রেখে দেবেন, তাহলে সেটাও করা যাবে। কেউ টাকা রেখে দেন তাহলে তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগামী বছর হজে যেতে পারবেন। টাকা ফেরত নিয়ে কোনও হয়রানির সুযোগ নেই উল্লেখ করে সচিব বলেন, টাকা উত্তোলনে কারও সমস্যা যাতে না হয় সে বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে। ব্যাংকে টাকা সঠিকভাবে গচ্ছিত রয়েছে। কারো কোনা ভয় নেই।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: চীন করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করলে সবার আগে তা বাংলাদেশ পাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, চীন কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কাজে অগ্রগতিও অনেক। এই ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলে সবার আগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে পাঠাবে বলে চীন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সোমবার রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে চীন থেকে আসা ১০ জন চিকিৎসক প্রতিনিধিকে বিদায় জানাতে উপস্থিত থেকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে একথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় এক প্রশ্নের উত্তরে জাহিদ মালেক বলেন, করোনায় আক্রান্তের হার এভাবে বাড়তে থাকলে আরও দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে। পাশাপাশি মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের কাজও বর্তমানে চলমান। করোনা পরিস্থিতি আগামীতে যেরকম হবে সরকার সেভাবেই বুঝেশুনে পদক্ষেপ নেবে। করোনার কিট প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চাহিদা অনুযায়ী কিট পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ বর্তমানে বিশ্বের সব দেশেই কিটের চাহিদা রয়েছে। তবে যা মজুদ আছে তাতে ঘাটতি হওয়ার কথা না। কোনো কারণে সংকট তৈরি হলেও তা খুব দ্রুতই মেটানোর ব্যবস্থা সরকারের হাতে নেয়া রয়েছে। কাজেই কিট নিয়ে এই মুহূর্তে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। ‘করোনায় যে হারে প্রতিদিন রোগী বাড়ছে তাতে মানুষ সচেতন না হলে সব হাসপাতাল করোনা রোগীতে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। এ কারণে করোনা মোকাবেলায় দেশের মানুষকে আরও বেশি স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি কোরোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যখাতে বাজেট আরো বাড়ানো প্রয়োজন’-যোগ করেন মন্ত্রী। চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিংও ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলে তা সবার আগে বাংলাদেশ পাবে বলে নিশ্চিত করে বক্তব্য দেন। ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদও বক্তব্য দেন।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক: নয়াদিল্লি: সর্বদল বৈঠকে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। লাদাখে ২০ সেনার মৃত্যুর জন্যে কী গোয়েন্দা ব্যর্থতা দায়ী নয়? বিস্ফোরক প্রশ্ন কংগ্রেস সভানেত্রীর। লাদাখের পরিস্থিতি কি? তা জানাতে আজ শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই বৈঠকে কয়েকটি রাজনৈতিক দল ছাড়া সমস্ত বিরোধী দলের নেতৃত্ব উপস্থিত ছিল। ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সোনিয়া গান্ধী সহ শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই বৈঠকেই কার্যত মোদী সরকারকে তুলোধনা করেন সোনিয়া। তাঁর মতে, এই বৈঠকটি আরও আগে হওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, গত মে মাসের পাঁচ তারিখ চিনের লাদাখে অনুপ্রবেশের খবর এসেছিল। কিন্তু সত্যিটা কি? তাঁর প্রশ্ন, ঠিক কবে ভারতে ঢোকে চিনের সেনাবাহিনী। এখনও আমরা অনেক কিছু অন্ধকারে বলেও তোপ দাগেন সোনিয়া গান্ধী। তাঁর দাবি, অনেক কিছুই স্পষ্ট করে জানা নেই। একই সঙ্গে কংগ্রেস সভানেত্রী প্রশ্ন তোলেন যে, সীমান্তে চিনের গতিবিধি নিয়ে কী কিছু জানতে পারেনি গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। বা জানলেও সরকারকে কি কিছুই জানানো হয়নি? এটা কী গোয়েন্দা ব্যর্থতা নয়, মোদীকে প্রশ্ন সোনিয়া গান্ধীর। তাঁর অভিযোগ, গত একমাস ধরে সময় নষ্ট করা হয়েছে। আর তা করার ফল ২০ জওয়ান শহিদ। পরিস্থিতি এখন আর গোপন করা নয়, দেশের স্বার্থে সমস্ত কিছু জানানোর কথা বলেন সোনিয়া। এছাড়াও, ভবিষ্যতের কী পরিকল্পনা, সেটাও জিজ্ঞেস করেন তিনি। কতটা তৈরী বাহিনী, সেই সম্বন্ধে বিস্তারিত তথ্য চান তিনি। ২০১৩ সালে মাউন্টেন স্ট্রাইক কোর তৈরীর কাজ শুরু হলেও কতটা কাজ এগিয়েছে, সেই প্রশ্ন করেন তিনি। কংগ্রেস সভানেত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা দেশের সঙ্গে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে। একজোট হয়ে সবাই লড়াই করব। কিন্তু কোনও কিছু যাতে লুকানো না হয়, এই দাবি রাখেন সোনিয়া গান্ধী। আর সেই কারণে মাঝে মধ্যেই সর্বদল বৈঠক করার কথা বলেন সোনিয়া গান্ধী।
বৃহস্পতিবার, 18 জুন 2020 18:21

করোনা আক্রান্ত ১ লাখ ছাড়িয়েছে

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে। তবে গত ২৪ ঘন্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে এবং বেড়েছে সুস্থতার হার। গত ২৪ ঘন্টায় ১৬ হাজার ২৫৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ হাজার ৮০৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকালের চেয়ে আজ ২০৫ জন কম শনাক্ত হয়েছে। গতকাল শনাক্ত হয়েছিল ৪ হাজার ৮ জন। বর্তমানে দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত ১ লাখ ২ হাজার ২৯২ জন রোগী রয়েছেন। নমুনা পরীক্ষায় আজ শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ শনাক্তের হার দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। আজ দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান। ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ৩৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকালের চেয়ে আজ ৫ জন কম মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল ৪৩ জন মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এই পর্যন্ত এ ভাইরাসে দেশে মৃত্যুবরণ করেছেন ১ হাজার ৩৪৩ জন। শনাক্তের বিবেচনায় আজ মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গতকালের চেয়ে আজ দশমিক ০২ শতাংশ কম। এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯৭৫ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৪০ হাজার ১৬৪ জন। নাসিমা সুলতানা জানান, আজ শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৩৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৩৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ সুস্থতার হার দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি। অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৭ হাজার ৩৪৯টি। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৮ হাজার ৯২২টি । গতকালের চেয়ে আজ ১ হাজার ৫৭৩টি নমুনা কম সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের ৬১টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৬ হাজার ২৫৯টি। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১৭ হাজার ৫২৭টি। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ১ হাজার ২৬৮টি কম নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫০৩টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে । তিনি জানান, গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণকারী ৩৮ জনের মধ্যে পুরুষ ৩১ জন এবং নারী ৭ জন। বয়স বিবেচনায় ১০ বছরের মধ্যে ১ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৫ জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ২ জন রয়েছেন। এলাকা বিবেচনায়, ঢাকা বিভাগে ১৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ১ জন, খুলনা বিভাগে ২ জন এবং বরিশাল, ময়মনসিংহ ও রংপুরে ১ জন করে রয়েছেন। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ২৪ জন এবং বাড়িতে মারা গেছেন ১৪ জন। অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৬৭৪ জন, আর ছাড় পেয়েছেন ৪শ’ জন। এ পর্যন্ত মোট আইসোলেশনে গেছেন ১৭ হাজার ৮৭১ জন এবং ছাড় পেয়েছেন ৬ হাজার ৮৪৫ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১১ হাজার ২৬ জন। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারিন্টিনে নেয়া হয়েছে ২ হাজার ৮২১ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারিন্টিনে নেয়া হয়েছে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৬৪১ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারিন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৬০৫ জন। এ পর্যন্ত কোয়ারিন্টিন থেকে মোট ছাড় পেয়েছেন ২ লাখ ৬৯ হাজার ৯৩৫ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারিন্টিনে রয়েছেন ৬৫ হাজার ৭০৬ জন। দেশের ৬৪ জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারিন্টিনের জন্য ৬২৯টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা দেয়া যাবে ৩১ হাজার ৯৯১ জনকে। অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) গত ২৪ ঘন্টায় বিতরণ হয়েছে ৮শ’টি। এ পর্যন্ত সংগ্রহ ২৫ লাখ ২৪ হাজার ২৮৫টি। এ পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ২৩ লাখ ৩৪ হাজার ৮০৫টি। বর্তমানে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮০টি পিপিই মজুদ রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় হটলাইন নম্বরে ২ লাখ ২ হাজার ৭২৫টি এবং এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ ৬২ হাজার ৫৯৪টি ফোন কল রিসিভ করে স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি জানান, করোনাভাইরাস চিকিৎসা বিষয়ে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৩৭০ জন চিকিৎসক অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। ২৪ ঘন্টায় আরও ৮ জন চিকিৎসক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ হাজার ২১৭ জন স্বাস্থ্য বাতায়ন ও আইইডিসিয়ার’র হটলাইনগুলোতে স্বেচ্ছাভিত্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা জনগণকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। ডা.নাসিমা সুলতানা জানান, দেশের বিমানবন্দর, নৌ, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ৫৮১ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ৭ লাখ ২১ হাজার ৪৭৭ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৭ জুন পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ৩৬১ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৩ হাজার ৩৪ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ২ হাজার ৮৯ জন এবং এ পর্যন্ত ১৫ হাজার ৪৯৮ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৭ জুন পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৫৯ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮০ লাখ ৬১ হাজার ৫৫০ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ হাজার ৪৯৪ জন এবং এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৪০ হাজার ২৯০ জন বলে তিনি জানান। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, সর্বদা মুখে মাস্ক পরে থাকা, সাবান পানি দিয়ে বারবার ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া, বাইরে গেলে হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার, বেশি বেশি পানি ও তরল জাতীয় খাবার, ভিটামিন সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, ডিম, মাছ, মাংস, টাটকা ফলমূল ও সবজি খাওয়াসহ শরীরকে ফিট রাখতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়। তিনি বলেন, ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ তা অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করে। আজ বুলেটি উপস্থাপনের শুরুতেই কথা বলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। তিনি জানান, তিনি নিজে করোনা সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন দীর্ঘদিন। সুস্থ হয়ে আজ ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়েছেন। দেশের করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। সেই অনুযায়ী সরকারের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি তুলে ধরেন।