12132017বুধ
স্পটলাইট

স্পটলাইট (785)

ভারতীয় সেনার ইতিহাসে রয়েছে অনেক গল্প, যা সত্যিই দেশবাসীকে গর্বিত করে। তবে প্রত্যেক বছর নৌসেনা দিবস পালিত হলেও, অনেকেই হয়ত জানেন না যে ৭১-এর যুদ্ধের সময় পাক নেভির হাত থেকে ভারতের নৌবাহিনীকে কে বাঁচিয়েছিল। ভাইস অ্যাডমিরাল নীলকান্ত কৃষ্ণণের কথা আজও অন্তরালেই রয়েছে গিয়েছে। পাক নৌবাহিনীর সাবমেরিন ‘গাজি’র হাত থেকে আইএনএস বিক্রান্তকে উদ্ধার করেছিলেন ইনিই। ইস্টার্ন নাভাল কমান্ডের তৎকালীন প্রধান কৃষ্ণণ আসলে পাঠিয়েছিলেন আইএনএস রাজপুত। যেটা দেখে পাকিস্তান ভুল করে ভেবেছিল রাজপুত নয়, বিশাখাপত্তনমের উপকূলে রয়েছে আইএনএস বিক্রান্ত। কিন্তু আসলে কয়েক হাজার মাইল দূরে আন্দামানে নিরাপদে ছিল আইএনএস বিক্রান্ত। ভারতকে আচমকা আক্রমণ করতে চেয়েছিল পাকিস্তান। আর সেই উদ্দেশেই ১৪ নভেম্বর অ্যাটাক সাবমেরিন আইএনএস গাজী নিয়ে এগিয়ে আসে পূর্ব পাকিস্তানের চট্টগ্রামে। আইএনএস বিক্রান্তকে ধ্বংস করাই ছিল উদ্দেশ্য। করাচি থেকে ২২০০ নটিক্যাল মাইল এগিয়ে এসেছিল পিএনএস গাজী। আর সেই তথ্য গোপন সূত্রে এসে পৌঁছেছিল ভারতের কাছে। গাজী ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। আমেরিকায় তৈরি ওই সাবমেরিনের গতির সঙ্গে পাল্লা দেওয়া মোটেই সহজ ছিল না। এইরকম পরিস্থিতিতে কৃষ্ণণ ডেকে পাঠান আইএনএস রাজপুতের ক্যাপ্টেন লেফট্যানেন্ট কমান্ডার ইন্দ্র সিং-কে। কিছুদিনের মধ্যেই আইএনএস রাজপুতের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছিল। তবু শেষ মিশনে যেতে বলা হয় ওই রণতরীকে। তিনি বলেন ভাইজাগ থেকে ১৬০ মাইল এগিয়ে যেতে হবে, যাতে শত্রুপক্ষের সাবমেরিনের ধারনা হয় যে আইএনএস বিক্রান্ত কাছেই আছে। আর চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য বাংলাদেশে প্রচুর খাবার, সবজি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন কৃষ্ণন। এরপর পাকিস্তান পুরোপুরি আক্রমণের লক্ষ্য নেয়। তখন এক গোপন স্থানে বিক্রান্তকে লুকিয়ে যেতেনির্দেশ দেন কৃষ্ণণ। ৩ ডিসেম্বর শুরু হয় যুদ্ধ। ওইদিন মধ্যরাতেই গাজীর যে অংশে টর্পেডো বামাইন রাখা ছিল সেখানে বিস্ফোরণ হয়। ডুবে যায় পিএনএস গাজী। যুদ্ধ শুরুর আগেই শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানের সাবমেরিন। ৬ ডিসেম্বর একের পর এক এয়ারস্ট্রাইক হয় আইএনএস বিক্রান্ত থেকে। আর এই আক্রমণ জয় এনে দিয়েছিল ভারতকে। এভাবেই ভারতকে জয় এনে দিয়েছিলেন কৃষ্ণন। ১৯৮২-তে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র কার্যত উপ-প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পর্ণো ছবি রাখার অভিযোগ উঠেছে। তার সরকারি কম্পিউটারে এই ছবি পাওয়া গেছে। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সাবেক এক গোয়েন্দা এই তথ্য জানিয়েছেন। এ নিয়ে নতুন করে সংকটে পড়লেন থেরেসা মে। খবর সিএনএনের। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সাবেক গোয়েন্দা নেইল লুইস জানান, ২০০৮ সালে এক অভিযানে উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেমিয়ান গ্রিনের সরকারি কম্পিউটারে কয়েক হাজার পর্ণো ছবি পাওয়া যায়। নেইল বলেন, এত পরিমাণ পর্ণো ছবি দেখে আমি নিজেও হতবাক হয়েছিলাম। আর এটা যে গ্রিনের মাধ্যমেই কম্পিউটারে ঢুকেছিল তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এই তথ্য থেরেসা মে এবং গ্রিণকে নতুন সমালোচনার মধ্যে ফেলছে। বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সমস্যার মধ্যে আছে থেরেসা মে’র সরকার। এরই মধ্যে গ্রিনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক কেইট ম্যাল্টবাইয়ের এক অভিযোগ নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। যদিও গ্রিণ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত মাসেই সানডে টাইমসে এক প্রতিবেদনে গ্রিনের কম্পিউটারে পর্ণো ছবি পাওয়ার তথ্য জানানো হয়। কিন্তু গ্রিন তা অস্বীকার করেন। তার এই অস্বীকারে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নেইল। তিনি জানান, আমি নিজেই কম্পিউটার তল্লাশি করে এসব পর্ণো ছবি পেয়েছিলাম। তবে এবার গ্রিন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লির জন্য কংক্রিটের মূল স্থাপনা নির্মাণের উদ্বোধন করে স্বপ্নপূরণের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আজকের দিনটি আমাদের জন্য সত্যি আনন্দের। কারণ আমরা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল কাঠামোটা নির্মাণ শুরু করছি। অর্থাৎ আমরা পরমাণুবিশ্বে প্রবেশ করলাম। ’ গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে প্রকল্প এলাকার যে জায়গায় নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টর তৈরি হবে, সেখানে অস্থায়ী মঞ্চে কর্নিক দিয়ে নিজ হাতে সিমেন্ট লাগিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম কংক্রিট ঢালাইয়ের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। পরে তিনি একটি ফলকও উন্মোচন করেন। এরপর তিনি সেখানে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে পারমাণবিক নিরাপত্তার ওপর আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গাইডলাইন অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করছি। ’ পরমাণু বর্জ্যের বিষয়ে তিনি জানান, প্রকল্পের সব পরমাণু বর্জ্য রাশিয়া নিয়ে যাবে। এ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে এরই মধ্যে চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ২০ মিনিটের বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পেছনের ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘এই স্বপ্নের শুরু হয়েছিল তদানীন্তন পাকিস্তান আমলে ১৯৬১ সালে। জমি অধিগ্রহণের বেশ কিছু কাজ তখন সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান সরকার হঠাৎ করে কাজ বন্ধ করে দিয়ে প্রকল্পটি পশ্চিম পাকিস্তানে সরিয়ে নিয়ে যায়। ’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য তিনি একটি প্রকল্প গ্রহণ করেন। সে সময় একটি পর্যায়ে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পান দেশের বিশিষ্ট পরমাণুবিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া (শেখ হাসিনার স্বামী)। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করার পর সে কাজ আর এগোয়নি। ’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘এরপর দীর্ঘদিন কোনো সরকারই এ নিয়ে আর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। ১৯৯৬ সালে আমরা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম হাতে নিই। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন কার্যাবলি সম্পন্ন করতেই সরকারের পাঁচ বছর চলে যায়। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর অন্য অনেক প্রকল্পের মতো তারা রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পটিও বন্ধ করে দেয়। ’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর আমরা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করি। আইএইএর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রেখে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বিশাল অঙ্কের টাকার দরকার ছিল। বন্ধু রাষ্ট্র রাশিয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। এ জন্য আমি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ রাশিয়ান ফেডারেশনের সরকার ও সে দেশের বন্ধুপ্রতিম জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ’ সরকারপ্রধান বলেন, ‘পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে খরচ অনেক বেশি হলেও একবার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ হওয়ার পরে সেখান থেকে অতি অল্প খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। ’ দেশের যেকোনো উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার শতকরা ১০ ভাগ মেটানো সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ’ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করবে। ’ তিনি বলেন, ‘কারো কাছে হাত পেতে নয়, ভিক্ষা করে নয়, স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা মাথা উঁচু করে চলতে চাই। ’ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে রাশিয়ান স্টেট নিউক্লিয়ার এনার্জি করপোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখেচভ, আইএইএর মহাপরিচালক দো হি হান, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, প্রকল্প পরিচালক সৌকত আকবর প্রমুখ বক্তব্য দেন। এর আগে সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মাতীরের রূপপুরে পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি স্মারক ডাকটিকিটও অবমুক্ত করেন। বাংলাদেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে রাশিয়ার সহায়তায়। অনুষ্ঠানের ফাঁকে রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখেচভের সঙ্গে বৈঠকও করেন প্রধানমন্ত্রী।
মঙ্গলবার, 28 নভেম্বর 2017 20:46

রোবট নারী ‘সোফিয়া’ এবার বাংলাদেশে

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক হংকং এর একটি কোম্পানি 'হ্যান্সন রোবোটিক্স' 'সোফিয়া' নামের যে রোবটটি তৈরি করেছে সেই নারী রোবট 'সোফিয়া' এবার বাংলাদেশে আসছে। বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বিবিসি বাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ৫ ডিসেম্বর রাত ১২টায় বাংলাদেশে পৌঁছার কথা রয়েছে সোফিয়ার। পরদিন ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবে সোফিয়া। 'সোফিয়া' ইংরেজীতে কথা বলে। প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, সোফিয়া আগামী ৬ ডিসেম্বর ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া দেশের বৃহত্তম তথ্য-প্রযুক্তি সম্মেলন ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধনী দিনেই উপস্থিত থাকবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। সঙ্গে থাকবেন তার নির্মাতা ড. ডেভিড হ্যানসন। এর আগে 'সোফিয়া'কে সৌদি আরব নাগরিকত্ব দেয়ার পর সেখানে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। এই রোবট একজন সৌদি নারীর চেয়েও বেশি অধিকার ভোগ করছে কিনা সেটা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে। সৌদি আরবের রিয়াদ নগরীতে গত অক্টোবর মাসে এক অনুষ্ঠানে এই রোবটটি প্রদর্শন করা হয়েছিল। প্রদর্শনীতে উপস্থিত শত শত প্রতিনিধি রোবটটি দেখে এতটাই মুগ্ধ হন যে সেখানে সাথে সাথেই এটিকে সৌদি নাগরিকত্ব দেয়া হয়। কিন্তু অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন একজন সৌদি নারীর তুলনায় কিভাবে 'সোফিয়া' এত বেশি অধিকার ভোগ করছে। রোবট নারী 'সোফিয়া'র ছবি এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়। বাংলাদেশের প্রতিমন্ত্রী বলছেন, সোফিয়াকে নিয়ে তাদের দুইটি সেশন হবে। তিনি বলছিলেন "প্রথম সেশনে আমাদের পলিসি মেকার যারা বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তাঁরা এবং সাংবাদিকদের সাথে তার একটা ইন্টার‍্যাকশন (মিথস্ক্রিয়া) করে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। দ্বিতীয় সেশনে আমাদের যারা তরুণ অ্যাপ ডেভেলপার, গেম ডেভেলপার, সফটওয়্যার ডেভেলপার, উদ্ভাবক এদের সাথে আলাপ হবে। এছাড়া আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে ড. ডেভিড হ্যানসন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন"।
প্রথম দফার ভোটের বাকি আর মাত্র ১২ দিন। নির্বাচনী প্রচারে এত দিন শাসক-বিরোধী— দু’পক্ষের বিষয়ই ছিল গুজরাত অস্মিতা। কিন্তু, প্রথম দিন ভোট প্রচারের ময়দানে নেমেই নরেন্দ্র মোদী সেখানে জাতীয়তাবাদের দামামাটা বাজিয়ে দিলেন। গুজরাতে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে তুললেন সার্জিক্যাল স্ট্রাইক প্রসঙ্গ। পাশাপাশি একের পর এক বাক্যবাণে বিদ্ধ করতে চাইলেন কংগ্রেসকে। সোমবার সকালে কচ্ছের ‘আশাপুরা মাতা’ মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রচারাভিযান শুরু করেন। আগামী ৯ এবং ১৪ ডিসেম্বর গুজরাতে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে আগামী দু’সপ্তাহে তিনি ৩০-টিরও বেশি নির্বাচনী সভা করবেন বলে বিজেপি সূত্রে খবর। এ দিন ভুজ ছাড়াও আরও দু’টি জায়গায় মোদীর নির্বাচনী সভা হয়েছে। তার একটি সৌরাষ্ট্রে এবং অন্যটি দক্ষিণ গুজরাতে। ভিড়ের কাছাকাছি। ছবি: নরেন্দ্র মোদীর টুইটারের সৌজন্যে। এর আগে কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গাঁধী গুজরাতে একাধিক বার প্রচারে এসেছেন। নানা বিষয়ে মোদীকে তিনি আক্রমণ করেছেন। এ দিন মোদী নিজের ইনিংস-এর শুরুতেই সেই রাহুলকে জবাব দিতে চেয়েছেন। গুজরাত নির্বাচনের আগে রাহুলকে তাঁর দল যে সভাপতি পদে নির্বাচিত করছে, তা নিয়েও মোদী কটাক্ষ করেছেন। তাঁর মতে, এ বারের লড়াই ‘উন্নয়ন বনাম পরিবার তন্ত্রের’ লড়াই। ‘চা-ওয়ালা’ কটাক্ষের জবাব এদিন দিয়েছেন মোদী। সৌরাষ্ট্রের এক সভায় তিনি বলেন, ‘‘হ্যাঁ, আমি চা বিক্রি করতাম। কিন্তু, দেশকে বিক্রি করিনি।’’ এর পরেই মোদীর বার্তা, ‘‘এ ভাবে আমার দারিদ্র নিয়ে কটাক্ষ করবেন না।’’ তাঁর কথায়, ‘‘আসলে কংগ্রেস আমাকে অপছন্দ করে। কী ভাবে একটা দল এতটা নীচে নামতে পারে? হ্যাঁ, দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে আমার মতো এক জন দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এ জন্য কিছু গোপন করার নেই।’’ এ দিন মোদীর ভুজের জনসভায় বিপুল জনসমাগম হয়। সেখানে তিনি মুম্বই এবং উরি হামলা প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘২৬/১১-য় এবং উরিতে ভারতের উপর হামলা চালানো হয়েছিল। আপনারা দেখেছেন দু’টি ক্ষেত্রে ভারত কী ভাবে তার জবাব দিয়েছে। আর সেটাই বুঝিয়ে দেয়, ওদের সরকার এবং আমাদের সরকারের পার্থক্য।’’ উচ্চারণ না করেও মোদী মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে ভারতীয় সেনার সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কথা। আসলে, মোদী জবাবটা দিতে চেয়েছেন রাহুল গাঁধীকে। কারণটা অবশ্যই মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদ। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি হাফিজকে গৃহবন্দি করেছিল পাক সরকার। গত বুধবার তাকে মুক্তি দিয়েছে লাহৌর হাইকোর্টের বিচারবিভাগীয় বোর্ড। শুক্রবার লাহৌরের বাড়ি থেকে বাইরে পা দিয়েছেন এই জঙ্গি নেতা। তার পরেই রাহুল গাঁধী টুইট করে ব্যঙ্গ করেন, ‘‘নরেন্দ্র ভাই বাত নেহি বনি। টেরর মাস্টারমাইন্ড এখন ফ্রি। ‘হাগপ্লোম্যাসি’ ফেল করল। আরও আলিঙ্গনের প্রয়োজন রয়েছে।’’ এ দিন মোদী এই বার্তারই জবাব দিতে চেয়েছেন। পাশাপাশি, তিনি ভারতে নিযুক্ত চিনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে রাহুলের দেখা করা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন। ভুজের জনসভায় মোদী গুজরাতি ভাষাতেই ভাষণ দিচ্ছিলেন। সেই ভাষণই ইংরেজি তর্জমা করে তাঁর টুইটার হ্যান্ডলে পোস্ট করা হচ্ছিল। সেখানে মোদী বলেন, ‘‘পাকিস্তানি আদালত এক জঙ্গিকে মুক্তি দিয়েছে, আর কংগ্রেস তা উদ্‌যাপন করছে। অবাক হয়েছিলাম, কেন! এই কংগ্রেসেই তো সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে আমাদের সেনার উপর বিশ্বাস রাখতে চায়নি। বরং তার থেকে বেশি বিশ্বাস করতে চেয়েছিল চিনের রাষ্ট্রদূতের উপর।’’ রাহুলের ‘হাগপ্লোম্যাসি’ জবাবে মোদী বলেন, ‘‘ডোকলামে যখন ৭০ দিন চিনা সেনার সঙ্গে সঙ্গে চোখে চোখ রেখে টক্কর দিচ্ছিল ভারতীয় সেনা, তখন চিনের রাষ্ট্রদূতকে আলিঙ্গন করেছিলেন কেন!’’ এই প্রথম বার প্রধানমন্ত্রী হিসাবে গুজরাতে ভোট প্রচারে মোদী। এর আগের গুজরাতের একাধিক নির্বাচনে তিনি প্রচার করেছেন, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বা মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে। ২০০১ সালে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মোদী। সে বছর কেশুভাই পটেলকে সরিয়ে মোদীকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়। ছ’মাসের মধ্যে মোদীকে মণিনগর থেকে উপনির্বাচনে জিতিয়ে আনা হয়েছিল। তার পর থেকে ২০১৪ অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে অবধি এই গুজরাতেরই মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তিনি। আনন্দবাজার।
বাসস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দেশবাসীর সঙ্গে একত্রে মিলে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ে তোলা হবে।... জনগণের কল্যাণে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী আজ সশস্ত্রবাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন। এদেশ আমাদের, এদেশের যত উন্নতি হবে,মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার ততই উত্তোরণ ঘটবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বমানের শিক্ষা, জ্ঞান,বিজ্ঞান শিক্ষা, খেলাধূলা এবং অন্যান্য ক্ষেত্র গড়ে তুলে বাংলাদেশকে মর্যাদাবান জাতি রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর সরকার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’ এজন্য সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সশ¯্রবাহিনীর সদস্যরা তাদের কর্মে পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং মর্যাদাকে সমুন্নত করবেন এবং জাতীয় উন্নয়নে তাদের ভূমিকা অব্যাহত রাখবেন। বাংলাদেশ সশ¯্রবাহিনীর সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামণা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলার জন্য আমাদের সরকার কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’ তিনি বলেন, শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন স্তরে আন্তর্জাতিক মান অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে পরিচিত করতে হবে। এই জন্য প্রয়োজন সকলের সহযোগিতা ও ঐকান্তিক ইচ্ছা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত সশস্ত্র বাহিনী আমাদের জাতির অহংকার উল্লেখ করে প্রধœমন্ত্রী বলেন, আমি তাদের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করি। আপনারা যেন চেইন অফ কমান্ড মেনে শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতায় সর্বত্র প্রশংসিত হতে পারেন সেটাই আমার কাম্য। শেখ হাসিনা বলেন, সশস্ত্র বাহিনী আজ তাদের সততা, নিষ্ঠা, কর্মদক্ষতা এবং নানাবিধ জনসেবামূলক কর্মকা-ের জন্য সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি যেকোন দুর্যোগ কবলিত অঞ্চলে আর্তমানবতার সেবা ও জান-মাল রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী যে আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে বিপর্যস্ত জনগণের পাশে দাঁড়ায় তা জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ রাখবে। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকাও দেশে বিদেশে বহুল প্রশংসিত হয়েছে,বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী এবং তিনবাহিনী প্রধানগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহাব মিয়া,জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা, মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা এবং তাদের স্ত্রীগণ,কূটনীতিক এবং পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ সংবর্ধনায় অংশ নেন। একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই ছিল স্বাধীনতার মূল চেতনা। কিন্তুু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগেই ঘাতকরা তাঁকে হত্যা করে এবং বিজয়ী জাতির মর্যাদাকে ভূলুন্ঠিত করে। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি প্রদানে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সন্মানকে ধরে রাখতে হলে সকলকে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তাঁর সরকার জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোন সরকারই ইতোপূর্বে এ ধরনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, সরকার একই সঙ্গে একটি আধুনিক সশস্ত্রবাহিনী গড়ে তুলতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তাঁর সরকার সশস্ত্রবাহিনীর আধুনিকায়নে বিভিন্ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কাজ শুরু করলেও ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে না পারায় সব উন্নয়ন কর্মকান্ড থেমে যায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে পুনরায় উন্নয়নের নব দিগন্ত উন্মোচিত হয় এবং জাতির স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীক সশ্রস্ত্রবাহিনীর উন্নয়ন কর্মকান্ডও সেই থেকে অব্যাহত রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতিমালার আলোকেই ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করা হয়। এর আওতায় তিন বাহিনীর পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের কার্যক্রমসমুহ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ়করণ এবং সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বেশ কিছু ব্রিগেড ও ইউনিট প্রতিষ্ঠা করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সিলেটে এবং রামুতে পূর্ণাঙ্গ পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করেছি। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের পটুয়াখালীতেও শীঘ্রই একটি নতুন পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছি। বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ, অস্ত্র, সরঞ্জামাদি ও জনবলের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য ছিল একটি দক্ষ ও চৌকস সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা। তিনি বলেন, স্বাধীনতা উত্তর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি গভীর প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টি নিয়ে একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু সশস্ত্র বাহিনীর যে সুদৃঢ় ভিত্তি রচনা করে গেছেন, তারই উপর দাঁড়িয়ে আজ আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং কর্মদক্ষতার পরিচিতি দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিম-লে স্বীকৃত ও প্রশংসিত হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পৃথকভাবে সেনা,নৌ ও বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে তাঁর সরকারের পদক্ষেপ সমূহের অংশ বিশেষ তুলে ধরেন। সশস্ত্র বাহিনীর সাথে তাঁর সুদৃঢ় পাবিারিক বন্ধনের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার ভাই শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। দ্বিতীয় ভাই শহীদ লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ১৯৭৫ সালে রয়েল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্সট্স থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ শেষে কমিশন লাভ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। ২০১৬ সালে সেনাবাহিনীর ফার্স্ট বেঙ্গলের অফিসার হিসেবে ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ও সেকেন্ড বেঙ্গলের অফিসার হিসেবে লেফটেন্যান্ট শেখ জামালকে সম্মাননা প্রদান করায় আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, ছোট ভাই রাসেলের ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে। সে সেনাবাহিনীর সুশৃঙ্খল কার্যক্রম দেখে অত্যন্ত উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু ঘাতকের নির্মম বুলেট তার ছোট্ট বুক মাত্র দশ বছর বয়সেই বিদীর্ণ করে। প্রধানমন্ত্রী পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সশ্রস্ত্রবাহিনীর সদস্য এবং তাঁদের পরিবারবর্গ, কূটনীতিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে পরিচালিত এনজিওগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম নজরদারি করার নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ দেন। বৈঠক সূত্র ইত্তেফাককে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, বৈঠকে শিল্প-কারখানাসহ সব পর্যায়ের শ্রমিকদের বেতনভাতা নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, কারখানাগুলোতে ট্রেড ইউনিয়ন কেমন চলছে এবং এগুলোতে বাইরের কেউ হস্তক্ষেপ করছে কি না। এখন বাইরে থেকে গিয়ে কেউ কারখানার ভেতরে ট্রেড ইউনিয়নের আন্দোলন করতে পারে কি না বা করে কি না? তারা শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে? উত্তরে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘এখন আর সেই সুযোগ নেই। কারণ, এখন কারখানার শ্রমিকরাই ট্রেড ইউনিয়ন করেন। আর এসব ট্রেড ইউনিয়নকে বিভিন্ন এনজিও পৃষ্ঠপোষকতা করে। তবে এনজিওগুলো কোথা থেকে ফান্ড নিয়ে আসে, তাদের কার্যক্রম কী, কোথায় সেই ফান্ড ব্যয় হয় তা আমাদের মনিটর (নজরদারি) করা হয় না।’ তখন প্রধানমন্ত্রী শ্রম প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেন এবং এনজিওগুলোর কার্যক্রম নজরদারি করা উচিত বলে মন্তব্য করে উল্লিখিত নির্দেশ দেন। গাজীপুর ও রংপুর মহানগর পুলিশ আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকার মত গাজীপুর ও রংপুরেও মহানগর পুলিশ দিতে দুটি আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘গাজীপুর মহানগরী পুলিশ আইন-২০১৭’ এবং ‘রংপুর মহানগরী পুলিশ আইন-২০১৭’র খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হচ্ছে দ্বৈত করারোপ পরিহার ও রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবেশী দেশ ভুটানের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। গতকাল বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘দ্বৈত করারোপ পরিহার ও রাজস্ব ফাঁকি রোধ’ সংক্রান্ত চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চুক্তি হলে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সুবিধা পাবে দুই দেশ । বিশেষ করে দ্বৈত করের ক্ষেত্রে দুই দেশ সুবিধা পাবে। ফলে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছি।’ ডাক বিভাগের তিন পুরস্কার প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর বাংলাদেশের ডাক বিভাগের পাওয়া তিনটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী এসব পুরস্কার শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানিয়েছেন। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ায় এশিয়ান-ওশেনিয়ান কম্পুটিং ইন্ডাস্ট্রি অর্গানাইজেশন (এএসওসিআইও) এএসওসিআইও-২০১৭ ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যাওয়ার্ড দেয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর তাইওয়ানে ই-এশিয়া অ্যাওয়ার্ড প্রতিযোগিতায় এশিয়া প্যাসিফিক কাউন্সিল ফর ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক বিজনেস (এএফএসিটি) বাংলাদেশ ডাক বিভাগকে ই-কমার্স সেবা সংশ্লিষ্ট ‘পোস্টাল ক্যাশ কার্ড : ব্যাংকিং ফর আনব্যাংকড পিপল’-এর জন্য রানার্স আপ হিসেবে সিলভার অ্যাওয়ার্ড দেয়। এছাড়া ৯ হাজার ৮৮৬টি ডাকঘরের মধ্যে সাড়ে আট হাজার ডাকঘরকে পোস্ট ই-সেন্টারে রূপান্তরের জন্য গত ১২ সেপ্টেম্বর তাইওয়ানে দ্য ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড টেকনোলজি এলায়েন্স (ডব্লিইআইটিএসএ) বাংলাদেশের ডাক বিভাগকে ডিজিটাল অপরচুনিটি ক্যাটাগরিতে ডব্লিইআইটিএসএ মেরিট অ্যাওয়ার্ড দেয়।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক 'পানামা পেপারসের পর 'প্যারাডাইস পেপারস'। এতে বিশ্বের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গোপনে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বেনামি প্রতিষ্ঠান খুলে বিদেশে বিনিয়োগের তথ্য ফাঁস করা প্যারাডাইস পেপারসে এসেছে বাংলাদেশিদের নামও। শুক্রবার নতুন করে প্রকাশ করা প্রায় ২৫ হাজার নথিতে বাংলাদেশের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়, যেখানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুল আউয়াল মিন্টু, তার স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়াল এবং তিন ছেলে তাফসির আউয়াল, তাবিথ আউয়াল ও তাজওয়ার আউয়ালের নামও রয়েছে। আব্দুল আউয়াল মিন্টু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মাল্টিমোড গ্রুপের চেয়ারম্যান। তার স্ত্রী নাসরিন ভাইস চেয়ারপারসন এবং তিন ছেলে তাবিথ আউয়াল, তাফসির আউয়াল ও তাজওয়ার আউয়াল এই গ্রুপের পরিচালক। 'প্যারাডাইস পেপারসে' অফশোর কোম্পানি হিসেবে এনএফএম এনার্জি লিমিটেডের সঙ্গে আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও তার পরিবারের সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য এসেছে। গত বছর বিশ্বের ক্ষমতাধর ধনী ব্যবসায়ী, রাজনীতিকসহ বহু মানুষের গোপন বিনিয়োগের নথি ফাঁস হয়, যা 'পানামা পেপারস' কেলেঙ্কারি হিসেবে পরিচিতি পায়। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই চলতি মাসের শুরুতে আবারও একই ধরনের ঘটনা সামনে আসে। এবার ফাঁস হওয়া এক কোটি ৩৪ লাখ নথিকে 'প্যারাডাইস পেপারস' নাম দিয়ে ফাঁস করা হয়, যার বেশিরভাগই পাওয়া গেছে বারমুডাভিত্তিক আইনি সহায়তাদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপলবি থেকে। সর্বশেষ শুক্রবার প্রকাশ করা হয় আরও ২৫ হাজার নথি। বলা হচ্ছ, গ্রাহকদের কর ফাঁকির পথ বাতলে দেয় অফশোর ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ পর্যায়ের সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপলবি। 'পানামা পেপারসে'র মতো এবারও ফাঁস হওয়া 'প্যারাডাইস পেপারসে'র নথি প্রথমে জার্মান দৈনিক সুইডয়চে সাইটংয়ের হাতে আসে। পরে সেসব নথি ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসকে (আইসিআইজে) দেয় তারা। সেসব নথি আইসিআইজে- এর কাছ থেকে বিবিসি, গার্ডিয়ানসহ বিভিন্ন দেশের ১০০টি সংবাদমাধ্যমের হাতে গেলে বিশ্লেষণে একে একে বেরিয়ে আসতে বিশ্বের শীর্ষ ক্ষমতাধর অনেক ব্যক্তির নাম যাদের মধ্যে ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলসহ অনেক বড় বড় নাম।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিজেদের বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে সামনের সব স্থানীয় সরকারের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সব মহলের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই অংশ হিসেবে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে চিঠি দিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া এ নির্বাচনের মাঠ পর্যবেক্ষণে যাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদাসহ চার নির্বাচন কমিশনার। বুধবার সিইসি সাংবাদিকদের জানান, ১৯ নভেম্বর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের পর আমরা সবাই রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন এলাকা পর্যবেক্ষণে যাবো। প্রার্থী, ভোটার, স্থানীয় নেতা, প্রশাসনের সবার সঙ্গে মিলিত হবো। যাতে সেখানে একটা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারি। গতকাল বৃহস্পতিবার ইসির যুগ্মসচিব (চলতি দায়িত্ব) ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো চিঠিতে, রংপুর সিটি নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সকলের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরে ১৫ দিন পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তাকে বদলি না করার জন্য নিদের্শনাও দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার, 10 নভেম্বর 2017 16:44

সৌদিতে এবার রাজকুমারী আটক

লিখেছেন
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক সৌদি আরবে দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এবার রিম নামে এক রাজকুমারীকে আটক করা হয়েছে। সম্প্রতি আটক হওয়া ধনকুবের প্রিন্স আল-ওয়ালদ বিন তালালের মেয়ে রিম। বৃহস্পতিবার সৌদি সরকার এ রাজকুমারীকে আটক করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সৌদি সূত্র আরাবি২১ অনলাইনকে জানিয়েছে, সৌদি রাজপরিবারে এই প্রথম কোনো নারী সদস্যকে আটক করা হলো। প্রসঙ্গত, সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান দেশটিতে কথিত দুর্নীতি-বিরোধী অভিযান শুরু করেছেন। গত শনিবার হঠাৎ করেই কথিত দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান হন যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান। ওইদিনই দেশটির ১১ জন প্রিন্স এবং বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রীসহ মোট ৩০ জনকে আটক করা হয়। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে এসব ব্যক্তিকে আটক করা হলেও বিশ্বের বহু বিশ্লেষক মনে করছেন, যুবরাজ মুহাম্মাদ নিজের ক্ষমতা নিরংকুশ করার জন্য এসব ধরপাকড় অভিযান চালাচ্ছে। নিজের ছেলেকে ক্ষমতায় বসাতে এবং তার ভাবমর্যাদা উজ্জ্বল করার জন্য রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে এসব করাচ্ছেন।

ফেসবুক-এ আমরা