08142018মঙ্গল
স্পটলাইট

স্পটলাইট (816)

নিউ ইয়র্ক: মঙ্গলের মাটিতে পা দেবে মানুষ। গড়ে উঠবে বসতি। ফুটবে ফুল। স্বপ্ন নয়, এমন বাস্তবের অপেক্ষাতেই রয়েছে পৃথিবী। খুব বেশি দেরি নেই। অদূর ভবিষ্যতেই সেই অচিনগ্রহে ঘুরে-বেড়াবে অ্যালিসা, বর্তমানে যার বয়স ১৭। আর সেই স্বপ্ন চোখে নিয়েই প্রত্যেকদিন একটু একটু করে নিজেকে প্রস্তুত করছে ওই স্কুলছাত্রী। ছেলেবেলা থেকেই মহাশূন্যে যাত্রার স্বপ্ন দেখত আমেরিকার লুজিয়ানার বাসিন্দা অ্যালিসা কারসন। মাত্র তিন বছর বয়সেই বাবাকে বলছিল, ”বাবা আমি বড় হয়ে মহাকাশচারী হব, মঙ্গল অভিযানে যাব।”তার সেই স্বপ্নই এবার পূরণ হচ্ছে। ২০৩৩ সালে মঙ্গল গ্রহে পাঠানো মানববাহী মহাকাশযানের প্রথম মহাকাশচারী হিসেবে মঙ্গলে পা দেবেন অ্যালিসা। পৃথিবীর এই প্রতিবেশীর প্রতি এক অমোঘ আকর্ষণ ছিল তার। মঙ্গলের মহাকাশযানের ভিডিও ইউটিউবে দেখা ছিল তার নেশা। ঘরের দেওয়াল জুড়ে ছিল মঙ্গলের এক বিশাল ম্যাপ।
বিশেষ প্রতিনিধি বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতকে এয়ার চীফ মার্শাল’র নতুন র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে তাকে এ ব্যাচ পারানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামুদ্দিন আহমেদ বিমান বাহিনী প্রধানকে এই নতুন র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন । অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ফুলের তোড়া দিয়ে নতুন বিমান বাহিনী প্রধানকে শুভেচ্ছা জানান এবং তার সাফল্য কামনা করেন। বিমান বাহিনী প্রধানও ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রতিরক্ষা সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়া, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মাদ জয়নুল আবেদীন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান । মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতকে ১২ জুন থেকে ৩ বছরের জন্য বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
বিশেষ প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার সংবর্ধনার প্রয়োজন নেই। আমি জনগণের সেবক। জনগণের সেবা করতেই এসেছি। জনগণের সেবা করতে পারলেই আমার জীবন সার্থক। শনিবার বিকালে রাজধানীর সোহরা‌ওয়ার্দী উদ্যানে নিজের দল আওয়ামী লীগ আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলার মানুষ যেন অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান পায়, উন্নত জীবন পায়- সেটাই আমার জীবনের লক্ষ্য। আমি জনগণের সেবক। জনগণের জন্যই কাজ করতে এসেছি। জনগণ কী পেল, সেটাই আমার কাছে বিবেচ্য। এছাড়া আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই আমার। বক্তব্যের শুরুতেই মহান স্বাধীনতায় শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার সৌভাগ্য আমি তার সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করতে পেরেছি। তিনি বলেন, আমার লক্ষ্য একটাই বাংলার মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী করা। বাংলার মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী করা। বাংলার মানুষের ভাগ্যের উন্নতি করা। ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়া। বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণ, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, অস্ট্রেলিয়া থেকে ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন এবং ভারতের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি পাওয়া, দেশের উন্নয়নে অনন্য ভূমিকার জন্যই প্রধানমন্ত্রীকে এ সংবর্ধনা দেয় তার দল আওয়ামী লীগ। এই সংবর্ধনা জনগণকে উৎসর্গ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক দেশজ সংস্কৃতি ধারণ, লালন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আগামী শুক্র ও শনিবার দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, জেলা শিল্পকলা একাডেমি এবং জেলা তথ্য অফিসের সহযোগিতায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই উৎসবের আয়োজন করেছে। উৎসবের প্রতিপাদ্য হচ্ছে‘সৃজনে উন্নয়নে বাংলাদেশ। গতকাল বুধবার তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এ তথ্য জানিয়েছেন। অন্যদের মধ্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তথ্যসচিব আবদুল মালেক, সংস্কৃতি সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কামরুন নাহার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী উৎসব আয়োজন সম্পর্কে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আর্দশে সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গীবাদমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনের লক্ষ্য আমাদের ভবিষৎ প্রজন্মকে সংস্কৃতি মনস্ক করে গড়ে তুলতে সংস্কৃতি উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের ৬৪ জেলায় আগামী ২০-২১ জুলাই এ উৎসব পালিত হবে। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় শিল্পী, কবি ও সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে এই উৎসব হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যেসব জেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে সেসব বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, উৎসবে স্থানীয় শিল্পীরা রবী›ন্দ্র সংগীত, নজরুল সংগীত, আধুনিক ও দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি, একক অভিনয়, পল্লীগীতি, লালনগীতি, লোকগীতি; জারি, সারি ও মুর্শিদী গান ছাড়াও আঞ্চলিক গান পরিবেশন করবেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, এ সংস্কৃতিক উৎসব সফলভাবে আয়োজনের মাধ্যমে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড আরও বিকশিত হবে এবং কিশোর-তরুণ সমাজসহ সর্বস্তরের জনগণ বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হবে।
বিশেষ প্রতিনিধি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ, তথ্যটি সঠিক নয়। তাঁর জন্য যা যা করা দরকার তাই করা হয়েছে। জেলকোড অনুযায়ী যদি আরও কোনো ব্যবস্থা নেয়ার থাকে তা গ্রহণ করা হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনার বাইরে তিনি অন্য কোথাও চিকিৎসা নিতে চাইলে সে ব্যবস্থা করা কঠিন। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার আগের অসুস্থতার চিকিৎসা চলছে। তিনি নতুন কোনো অসুস্থতায় ভুগছেন না। সুতরাং তিনি গুরুতর অসুস্থ পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সে অভিযোগ সঠিক নয়। তাকে বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। তিনি আর সেখানে যাবেন না। পরে আমরা সিএমএইচে নেয়ার কথা বলেছি, তিনি সেখানেও যাবেন না। অপরদিকে ‘বিচার বহির্ভূত হত্যা ও গুম’ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, দেশে কোনো বিচার বহির্ভূত হত্যা ও গুমের ঘটনা ঘটছে না। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে অথবা দুটি মনের মিলনে উড়াল দিচ্ছে, আর বলা হচ্ছে গুম। এমন গুম হওয়াদের বের করবেন কী করে? অধিকাংশ গুমই এ রকম। মাদকের গডফাদারদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করে শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর মাদকের সঙ্গে জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের খবর হচ্ছে, তাদের ডিপার্টমেন্টাল অ্যাকশন (বিভাগীয় পদক্ষেপ) শুরু হয়ে গিয়েছে। তাদের সাসপেন্ড হচ্ছে। তাদের দু-একজন কারাগারে অন্তরীণ হয়ে গিয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা বা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকায় দুই শতাধিক মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে? - এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে পুলিশের যেসব সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে। প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। প্রমাণের ভিত্তিতে সাসপেন্ড হচ্ছেন। ইতোমধ্যে ২/৩ জনকে কারান্তরীণ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, সংসদ সদস্যও অপরাধ করলে পার পাচ্ছেন না। দেশের আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। সেখানে পুলিশ সদস্যরাও বাদ যাবেন না। তবে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে সাজা না পান সে জন্য সময় লাগছে। বিভাগীয় তদন্তও চলছে। তদন্তে মাদকে জড়িত থাকার বিষয় প্রমাণ মিললে ছাড় দেয়া হবে না। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ টেকনাফের ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরাম নিহত হওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একরামের পরিবারের সঙ্গে দেখা ও কথা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। আর র‌্যাব সদস্যদের সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি তদন্তের অংশ। তদন্তে যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হয় তবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট করে বিদেশ চলে যাচ্ছে- এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ পুরান। তবে নজরদারি রাখা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে কারও কাছে পাসপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গারা যাতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীর শিকার না হয় সে জন্য চেষ্টা চলছে। ভারতসহ সবাই এ ব্যাপারে সোচ্চার। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে গতবছর জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া পাঁচ দফা প্রস্তাবের কথা মনে করিয়ে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সব সময় বলে আসছি, রাখাইনে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হবে। সেগুলোর আলোকে যদি রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করা না যায়, তাহলে হয়ত তারা যাবে না।
বিশেষ প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সশস্ত্র বাহিনীর সর্বস্তরে চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, কার্যকরী কমান্ড চ্যানেল সশস্ত্র বাহিনীতে লক্ষ্য অর্জনে মুখ্য ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সকল স্তরের কমান্ডারদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও তাদের প্রতি অনুগত থাকলে যে কোন কাজ দক্ষতা, শৃংখলা ও নৈপুণ্যের সাথে স¤পন্ন করা সম্ভব।’ বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৪৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। সেনা সদস্যদের শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্রবাহিনীকে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে এই বাহিনীর সদস্যদের চেইন অব কমান্ড সবসময় মেনে চলতে হবে। তিনি বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তাদের অধীনস্থদের সুযোগ-সুবিধা দেখতে হবে। আবার অধীনস্থ যারা তারাও তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ মেনে শৃঙ্খলা বজায় রেখে কাজ করবে সেটাই আমি আশা করি।’ ‘কারণ, এটা যেহেতু সুশৃঙ্খল বাহিনী, কাজেই এর কমান্ড ঠিক থাকতে হবে এবং সবকিছু সুশৃঙ্খলভাবে চলতে হবে, তাহলেই যেন কোন লক্ষ্য আমরা অর্জন করতে পারবো’, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করেছি ২০২০ সালের জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা পালন করবো, এই সময়ের মধ্যেই আমরা দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তুলতে চাই। তিনি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণকে ধরে রাখার আহবান জানিয়ে বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। সেই পরিকল্পনা নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তাঁর শাসনামলে দেশের সকল প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সন্তোাষ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিটা প্রতিষ্ঠানই নিজ নিজ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এই উন্নয়নে অবদান রেখে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে পিজিআর কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর হারুন স্বাগত বক্তৃতা করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী পিজিআর সদর দপ্তরে পৌঁছলে রেজিমেন্টের কোয়ার্টার গার্ড-এ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং পিজিআর কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর হারুন তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সকল অফিসার, জুনিয়র কমিশনন্ড অফিসারদের সঙ্গে এবং কুশলাদি বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে একটি সুসজ্জিত গার্ড রেজিমেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে রেজিমেন্টে কর্মরত অবস্থায় নিহত, শহীদদের স্বজনদের উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন এবং অনুদান হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান, প্রতিরক্ষা সচিব আখতার হোসেন ভূইয়া, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মো. জয়নুল আবেদীন, বীর বিক্রম ও প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ প্রতিনিধি সফররত আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির প্রেসিডেন্ট পিটার মাউরার সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সংসদ ভবন কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, পিটার বৈঠকে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। পিটার বলেছেন, এটি একটি বিরাট মানবিক সমস্যা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে পিটার বলেছেন, তিনি মিয়ানমারের সেনা প্রধান, সুশীল সমাজের সদস্য এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুর সঙ্গে কথা বলেছেন। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য তিনি মিয়ানমারের সেনা প্রধানকে অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সফরে আসার জন্য আইসিআরসি’র প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অধিক জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশের মতো একটি ছোট ভূখন্ডে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ দেশের জন্য বড় ধরনের সমস্যার কারন হয়ে দাড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আইসিআরসি’র কাজে তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেন। আইসিআরসি প্রেসিডেন্ট বৈঠকে জানান, মিয়ানমার কর্মকর্তারা একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে রোহিঙ্গাদের বসবাসের সহায়তায় আইসিআরসি’র কর্মকান্ড পরিচালনায় সকল প্রকার সহায়তা প্রদানে সম্মত হয়েছে। পিটার জানান, তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ১৩০ টি গ্রাম পরিদর্শন করেছেন। সেখানে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি ধংসের চিহ্ন দেখে তিনি মর্মাহত হয়েছেন। তিনি বলেন, রাখাইনে এখনো প্রায় ২৫০ হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করছে। সেখানে তাদের জন্য বসবাসের অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। আইসিআরসি’র প্রেসিডেন্ট পিটার বলেন, তারা সেখানে রোহিঙ্গাদের বসবাসের অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি এবং তাদের নিরাপদ পুনর্বাসনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তিনি রোহিঙ্গাদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সৃষ্টি করার প্রয়োজনীয়তার ওপর অধিক গুরুত্ব দেন। আইসিআরসি’র প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গা বিষয়ে তার সংস্থার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেন, আইসিআরসি’র সকল কর্মকান্ড পরিচালিত হবে জাতিসংঘ ব্যবস্থায়। পিটার মাউরার বৈঠকে আইসিআরসির আরকাইভ থেকে বঙ্গবন্ধুর দু’টি ছবি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এবং সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মুহম্মদ জয়নাল আবেদীন এসময় উপস্থিত ছিলেন।
বিবিসি বাংলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-আনের বৈঠককে বলা হচ্ছে ঐতিহাসিক ঘটনা। সিঙ্গাপুরে এই প্রথম দুটো দেশের নেতারা বৈঠক করলেন। তাদের মধ্যে হওয়া করমর্দন থেকে শুরু করে তাদের যৌথ সমঝোতায় স্বাক্ষর - সবকিছু থেকেই বিশ্লেষকরা দেখার চেষ্টার করছেন এই আলোচনায় আসলে কতোটা কী অর্জিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কের ভবিষ্যতের ক্ষেত্রেও বা এই সমঝোতার তাৎপর্য কী? কিন্তু সেদিনের কিছু বিষয় ও ঘটনা ছিল, যা নিয়ে লোকজন প্রচুর কথাবার্তা বলছেন। ঠিক কী ঘটেছিল তখন? ১. সমুদ্র সৈকত প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিচিত ছিলেন একজন প্রপার্টি ব্যবসায়ী হিসেবে। তারপরেও এটি বিস্ময়কর যে কেন তিনি উত্তর কোরিয়ার অপরিচিত সমুদ্র উপকূলের কথা উল্লেখ করেছেন। মি. কিমের সাথে বৈঠকের পর তিনি বলেছেন, "তাদের (উত্তর কোরিয়া) দারুণ কিছু সমুদ্র সৈকত আছে। তারা যখন সমুদ্রে তাদের কামান থেকে বিস্ফোরণ ঘটায়, তখন আপনারা সেসব দেখতে পান। সেখানে কি দারুণ সব বাড়িঘর বা কন্ডো হতে পারে না?" যুক্তরাষ্ট্রের সরকার তার নাগরিকদেরকে উত্তর কোরিয়ায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছে। এবং বলেছে, যেসব নাগরিক উত্তর কোরিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন তারা যেন যাওয়ার আগে উইলের খসড়া করে যান। ২. পোজ বা ভঙ্গি দুই নেতা যখন একসাথে দুপুরের খাবার খেতে যান, মি. ট্রাম্প তখন খাবারের টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সকৌতুকে জিজ্ঞেস করেন:"ভালো ছবি পাচ্ছেন, সবাই? যাতে আমাদেরকে সুন্দর, হ্যান্ডসাম এবং চিকন দেখায়?" তবে তার এই কথার অর্থ মনে হয় অনুবাদের কারণে হারিয়ে গিয়েছিল। কারণ মি. কিমের চোখেমুখে তখন কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফটোসাংবাদিকদের কাছে জানতে চাচ্ছেন তাদেরকে সুন্দর দেখাচ্ছে কিনা। ৩. ভিডিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে সাংবাদিকদেরকে চার মিনিটের একটি ভিডিও দেখানো হয়। এটি খুবই অস্বাভাবিক একটি ঘটনা। ভিডিওটি ছিল কোরীয় এবং ইংরেজি ভাষায়। সংবাদ সম্মেলনে মি. ট্রাম্প বলেছেন যে এই ভিডিওটি তিনি কিম জং-আনকে দেখিয়েছেন। ভিডিওটিতে এমন কিছু দৃশ্য আর মিউজিক যোগ করা হয়েছে যাতে উত্তেজনার সৃষ্টি হতে পারে। এর ধারাভাষ্য দিচ্ছেন যিনি, নাটকীয় কণ্ঠে তিনি জিজ্ঞেস করছেন: "এই নেতা কি তার দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্যে কাজ করবেন ... তিনি কি শান্তির সাথে হাত মিলিয়ে সমৃদ্ধি উপভোগ করবেন, যে সমৃদ্ধি তিনি আগে কখনো দেখেননি?" ৪. দ্য বিস্ট আলোচনার পর মি. ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতাকে তার কালো রঙের লিমুজিন গাড়িটি দেখাবেন। গাড়িটি পরিচিত 'দ্য বিস্ট' নামে। ক্যামেরা তখন দুই নেতাকে অনুসরণ করলো। তারা হেঁটে গেলেন গাড়ির দিকে। মি. কিম খুব অল্প সময়ের জন্যে গাড়ির ভেতরটা দেখলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মি. কিমকে তার গাড়িটি দেখালেন। ৫. কলম সমঝোতায় সই করার জন্যে টেবিলের উপর যে কলমটি রাখা ছিল সেটি ছিল কালো রঙের। তার গায়ে ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর, সোনালী রঙের। কিন্তু এই কলমে সই করেননি মি. কিম। একেবারে শেষ মুহূর্তে মি. কিমের প্রভাবশালী বোন কিম ইউ-জং তার ভাই-এর দিকে একটি বলপয়েন্ট কলম এগিয়ে ধরেন, যা দিয়ে তিনি চুক্তিতে সই করেছেন। পুরো সফরেই উত্তর কোরিয়ার নেতার নিরাপত্তার বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কলমটি কি রাজনৈতিক না-কি নিরাপত্তার কারণে বদলানো হয়েছে, তা এখনও পরিস্কার নয়। সংবাদ মাধ্যমে এও খবর বেরিয়েছে যে মি. কিম তার সাথে করে একটি ভ্রাম্যমাণ টয়লেট সিঙ্গাপুরে নিয়ে গিয়েছিলেন। কেন? বলা হচ্ছে, যাতে মি. কিমের মলমূত্র থেকে কেউ তার সম্পর্কে জৈব-তথ্য বের করে ফেলতে না পরে। অবশ্য এই খবরটি বিবিসি যাচাই করে দেখতে পারেনি।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের মধ্যকার বৈঠকের ভেন্যু সিঙ্গাপুরের সেন্টোসা দ্বীপে ক্যাপেলা হোটেল। গত মঙ্গলবার এ তথ্য জানায় হোয়াইট হাউস। বৈঠকে ট্রাম্পের অন্যতম লক্ষ্য থাকবে উনের কাছ থেকে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্তকরণের নির্দিষ্ট সময়সীমা আদায় করে নেওয়া। ট্রাম্প-উনের মধ্যকার বৈঠকটি হতে যাচ্ছে আগামী ১২ জুন। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে উত্তর কোরীয় নেতার সাক্ষাৎ এটাই প্রথম। এদিন স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় এ দুই নেতা মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন—এ খবর গত সোমবারই নিশ্চিত করে হোয়াইট হাউস। পরদিন মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স এক টুইট বার্তায় ক্যাপেলা হোটেলে বৈঠক হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, উনের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে তাঁকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাম বিচে মার-এ-লাগো রিসোর্টে পরবর্তী সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করছেন। তবে হোয়াইট হাউস থেকে এ ধরনের কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এদিকে পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ১২ জুনের বৈঠক ইতিবাচক হলে এ দুই নেতার আলোচনা পরদিন ১৩ জুন পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে। সিঙ্গাপুরের বৈঠককালে উনকে সহজে কোনো ছাড় না দিতে ট্রাম্পকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। কেননা হোয়াইট হাউসের প্রধান লক্ষ্য হলো উনের ওপর সর্বোচ্চ চাপ বজায় রেখে বৈঠককে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য অনুযায়ী সফল করা। বলা দরকার, ট্রাম্প-উন বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টির শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে আসছে, উত্তর কোরিয়াকে ‘সম্পূর্ণ, যাচাইযোগ্য ও অপরিবর্তনীয়’ উপায়ে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে হবে। আসন্ন বৈঠকে এটাই মূল ইস্যু হিসেবে থাকছে, যদিও এ ইস্যুতে দুই পক্ষ কেমন সমঝোতায় পৌঁছবে, তা খুবই অনিশ্চিত। বৈঠকে ট্রাম্পের সঙ্গে থাকছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও, চিফ অব স্টাফ জন কেলি ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কোরিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞসহ অন্য কর্মকর্তাদের বৈঠকে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। বৈঠকের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা রয়েছে বটে, তবে একে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি রাখা হচ্ছে না। আগামী ১১, ১২ ও ১৩ জুন সিঙ্গাপুরে বিমান চলাচলের সংখ্যা ও ওঠানামার ক্ষেত্রে গতিসীমা উভয়ের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে ট্রাম্প ও উন উভয়ই দেশটির মূল ভূখণ্ডে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্ভবত ট্রাম্প থাকবেন সাংগ্রি-লা হোটেলে এবং উন সেন্ট রেজিস সিঙ্গাপুরে। সূত্র : ব্লুমবার্গ, বিবিসি, স্ট্রেইট টাইমস।
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক সরাসরি কিছু বললেন না ঠিকই। কিন্তু, শুক্রবার শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঠারেঠোরে সেই তিস্তাজলবন্টন ইস্যুকেই তুলে ধরলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের উপর চাপ বাড়িয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘‘আলোচনার মাধ্যমে সমস্ত সমস্যারই সমাধান করা যায়।’’ হাসিনা যখন এ কথা বলছেন, সেই সময় মঞ্চে হাজির ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামিকাল শনিবার মমতার সঙ্গে হাসিনার বৈঠক হওয়ার কথা। তার আগে কি মমতাকে বিশেষ বার্তা দিতে চাইলেন হাসিনা? জল্পনা তুঙ্গে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে ছিটমহল প্রসঙ্গ টেনে আনেন হাসিনা। তাঁর কথায়, ‘‘বিভিন্ন দেশ তাদের ছিটমহল নিয়ে যুদ্ধ করেছে। কিন্তু ভারত আর বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় করেছে আনন্দের সঙ্গে।’’ ছিটমহল ইস্যুতে সাফল্য এলেও কিছু বিষয়ে যে সমস্যা রয়েছে, তা জানাতে ভোলেননি হাসিনা। তিনি বলেন, ‘‘এখনও কিছু বাকি রয়েছে, যা বলে আমি পরিবেশ নষ্ট করতে চাই না।’’ বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, হাসিনার নিশানায় তিস্তার জল। বস্তুত তিস্তার জলবন্টনে মমতা এখনও গররাজি। তাঁর আশঙ্কা, তিস্তার জল ভাগাভাগি হলে রাজ্যের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যদিও হাসিনা যে সমস্ত কিছুর পরেও আশাবাদী, সে কথা তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। মুজিব হত্যার প্রসঙ্গে টেনে তিনি জানান, দুঃসময়ে বারংবার পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত।মুজিবের হত্যার পর পরিবারের যাঁরা বেঁচে ছিলেন, তাঁদের আশ্রয় দিয়েছিল ভারত।কিন্তু ‘এখনও কিছু বাকি রয়েছে’ বলে কী বোঝাতে চাইলেন হাসিনা? তা নিয়েই এখন দু’দেশে আলোচনা তুঙ্গে। সকলেই নিশ্চিত, সেটা তিস্তার জলবন্টন।হয়তো বিষয়টা আগামিকালমমতার সঙ্গে বৈঠকেউঠবে। আনন্দবাজার

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা