10182019শুক্র
মঙ্গলবার, 24 মে 2016 09:06

বিশ্লেষণ: ইরান-ইসরায়েলকে কিভাবে সামলাবে ভারত?

তেহ্‌রানের সাদাবাদ প্রাসাদে ইরান ও ভারতের দুই নেতা। তেহ্‌রানের সাদাবাদ প্রাসাদে ইরান ও ভারতের দুই নেতা।
< > নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইরান সফরে গিয়ে সে দেশে চাবাহার বন্দর নির্মাণের জন্য এক ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করেছেন। বলা হচ্ছে, মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের সংযোগের ক্ষেত্রে সমুদ্রপথে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে এই চাবাহার বন্দর, যেখানে পাকিস্তানি ভূখন্ড ব্যবহার করার কোনও বাধ্যবাধকতা থাকবে না। ইরানের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী তেহরানে গেলেন। তবে ভারত একই সঙ্গে কীভাবে ইসরায়েল ও ইরান, দুই প্রতিপক্ষ শক্তির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারবে তা নিয়ে পর্যবেক্ষকরা অনেকেই সন্দিহান। তেহরানে সোমবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি আর আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির মধ্যে চাবাহার বন্দর নির্মাণ নিয়ে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, আন্তর্জাতিক সংযোগের ক্ষেত্রে এত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ভারত এর আগে হাতে নেয়নি বললেই চলে। চুক্তিতে সই হওয়ার পর ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, চাবাহার বন্দর ভারত ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতার প্রতীক হয়ে উঠবে, আর মি. মোদি মন্তব্য করেন এই দুই দেশের ‘দোস্তি’ তাদের ইতিহাসের মতোই পুরনো। ইরানের দক্ষিণ উপকূলে ওমান উপসাগরের তীরে এই চাবাহার বন্দরটি কেন ভারতের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ, তা ব্যাখ্যা করে ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রী নীতিন গডকড়ি জানান, “এই চুক্তি আমাদের জন্য ঐতিহাসিক – কারণ এই চাবাহার দিয়ে আমরা সরাসরি আফগানিস্তান, রাশিয়া এমন কী ইউরোপ পর্যন্ত পণ্য পাঠাতে পারব। পাকিস্তানের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার কোনও দরকার পড়বে না।“ “ইরান সরকারের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই আমাদের একটি যৌথ জাহাজ সংস্থা ছিল, সেটিকেও আমরা আবার জিইয়ে তোলার চেষ্টা করছি। চাইছি যাতে ইরান থেকে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথে নিয়ে আসা যায়। ভারত এর মাধ্যমে নানাভাবে উপকৃত হবে।“ পাকিস্তান এই মুহুর্তে তাদের ভূখন্ডের ভেতর দিয়ে ভারতকে আফগানিস্তানে কোনও পণ্য পাঠাতে দেয় না। কিন্তু চাবাহার বন্দর তৈরি হয়ে গেলে সমুদ্রপথে পাকিস্তানকে এড়িয়েই ইরান ও মধ্য এশিয়ার সাথে ভারতের বাণিজ্যপথ খুলে যাবে। এই কারণেই প্রায় ২০ কোটি ডলার খরচ করে ভারত চাবাহারে টার্মিনাল ভবন ও কার্গো বার্থ তৈরি করে দিচ্ছে। চাবাহার ও জাহেদান শহরের মধ্যে ৫০০ কিলোমিটার লম্বা রেলপথ বসাতেও সহযোগিতা করছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির ইরান সফরের মূল ফোকাসটা কোথায়, তা ব্যাখ্যা করে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইরান বিভাগের যুগ্ম সচিব গোপাল বাগলে বলেন, মি. মোদির সফরে জোর দেওয়া হচ্ছে কানেক্টিভিটি আর অবকাঠামো নির্মাণে। সেই সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা আর দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধি করা নিয়েও কথা হবে। ঐ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার রক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার কাঠামোও এই সফরে চূড়ান্ত হবে। তবে এই সফরে যে চাবাহার-জাহেদান করিডর নিয়ে ত্রিপিাক্ষিক চুক্তি হচ্ছে, সেটাই কিন্তু আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রে আসল গেমচেঞ্জার হতে যাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা-পূর্ববর্তী ইরান থেকে ভারত বহু বছর অনেক সস্তায় জ্বালানি তেল পেয়েছে, এমন কী সেই তেলের দাম বাবদ ৬০০ কোটি ডলারেরও বেশি বাকিও রাখতে পেরেছিল। মি. মোদির সফরের ঠিক আগে সেই বকেয়ার কিছুটা মেটানো হয়েছে। কিন্তু এখন নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর কতটা সহজ শর্তে দুদেশের জ্বালানি সহযোগিতা বজায় রাখা যাবে সেটা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সাবেক কূটনীতিক ও কংগ্রেস নেতা মনিশঙ্কর আইয়ারের মতে, ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা অবশ্যই সম্ভব। কিন্তু পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গেও ভারত ঘনিষ্ঠতা রাখবে - দুটো একসঙ্গে বজায় রাখাটা কঠিন। মি. আইয়ারের মতে, ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের নৈতিক সুসম্পর্ক রাখাটা প্রায় অসম্ভব। কারণ আরবদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর মূল শর্তকে ভিত্তি করেই ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম। ``ইসরায়েল তার দেশের ভেতরের আরব জনগোষ্ঠী ও আরব প্রতিবেশীদের সঙ্গে যে আচরণ করছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা অসংখ্য প্রাণহানির জন্য দায়ী।`` তবে এটাও ঠিক, গত দু`বছরে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা অনেক বেড়েছে। গত বছর ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রথমবারের মতো ইসরায়েল সফরও করেছেন। কিন্তু এর পাশাপাশি দিল্লি কীভাবে তেহরানের সঙ্গেও তাদের সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে, সেটা অবশ্যই একটা দেখার বিষয় হবে। < >
পড়া হয়েছে 574 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: মঙ্গলবার, 24 মে 2016 09:15