12052019বৃহঃ
শুক্রবার, 04 মে 2018 11:50

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হ্রাস পাচ্ছে দিন দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একে অপরের পরিপূরক-মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। কিন্তু তারা মনে করেন, বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। এ জন্য বিভিন্ন আইন প্রণয়নেরও সমালোচনা করেন তারা। ৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় এমন অভিমত উঠে আসে। 'ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা; গণমাধ্যম, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন' প্রতিপাদ্য নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, সরকার গণমাধ্যমের সংকোচনে বিশ্বাসী না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করে কোনো আইন সরকার করবে না। গণমাধ্যমের প্রতিপক্ষ সরকার নয়। আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমীন বলেন, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যম হুমকির মুখে রয়েছে। দিনে দিনে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, সহসভাপতি আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া প্রমুখ। আলোচনা সভায় 'গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বা মুক্ত আত্মার ডানা মেলা' শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায় এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হারুন হাবিব। মূল প্রবন্ধে সোহরাব হাসান বলেন, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এই দুটি অভিধার মধ্যে কোনো বিরোধ থাকার কথা নয়। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে এ দিবসটি পালিত হয়। এদিকে বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে 'বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: শঙ্কা ও উত্তরণের উপায়' শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমীনের সভাপতিত্বে ওই সেমিনারেও প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। এসময় বক্তারা বলেন, সম্প্রতি গণমাধ্যম সংক্রান্ত যেসব আইন নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হলো তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ও জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। অতীতে বিশেষ ক্ষমতা আইন গণমাধ্যমসেবীদের জন্য একটি আতঙ্ক ছিল। প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনের সুপারিশ মোতাবেক ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ৩ মে তারিখটিকে 'ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে অথবা বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এরপর থেকে বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকরা এ দিবসটি পালন করে আসছে। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মৌলিক নীতিমালা অনুসরণ, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মূল্যায়ন, স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ প্রতিহত করার শপথ গ্রহণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ক্ষতিগ্রস্ত ও জীবনদানকারী সাংবাদিকদের স্মরণ ও তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয় এই দিবসটিতে।
পড়া হয়েছে 312 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: রবিবার, 06 মে 2018 17:19