08262019সোম
রবিবার, 17 ডিসেম্বর 2017 20:02

শীতে কাঁপছে উত্তরের জনপদ

রংপুর সংবাদাতা প্রচণ্ড শীতে কাহিল হয়ে পড়েছে উত্তরের মানুষ। পৌষের শুরুতে শুরু হয়েছে হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা। ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে জনপদ। কুয়াশার ব্যাপকতায় সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনগুলো চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। ছবিটি গতকাল রংপুরের বদরগঞ্জ থেকে তোলা। অভাবের মাস বলে পরিচিত আশ্বিন-কার্তিকের ধকল কেটে উঠতে না উঠতেই গরিবের ঘরে শীতের হানা যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাতের বেলায় তীব্র শীত জেঁকে বসায় রংপুরের চরাঞ্চলসহ তিস্তার কূলবর্তী গ্রামগুলোতে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। হিমেল হাওয়ায় ঠাণ্ডাজনিত রোগে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ আরো চরমে। রংপুর অঞ্চলে ক্রমান্বয়ে নিচে নামছে তাপমাত্রা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে প্রকৃতি। গতকাল শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত এই অঞ্চলে ঘন কুয়াশায় সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। দামও বেশি নিচ্ছে দোকানদাররা। গ্রাম-শহর সর্বত্রই উপচে পড়া ভিড় দেখা যায় শীতবস্ত্রের কাপড়ের দোকানগুলোতে। শুধু রংপুর শহরেই প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে কয়েক লাখ টাকার গরম কাপড়। তিস্তার চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা গেছে অভাবী মানুষের দুর্ভোগের চিত্র। নদীপারের হিমেল হাওয়ায় গায়ে কম্বল জড়িয়ে থাকা যেখানে দুঃসাধ্য, সেখানে চরাঞ্চলের মানুষ গায়ে শুধু একটা গেঞ্জি বা লুঙ্গি জড়িয়ে আছে। আর নারীদের সম্বল শুধু কাপড়ের আঁচল। গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর চুলায় ভাতের হাঁড়ি বসিয়ে আগুনের কাছে বসে ছিলেন আলাল চরের শেফালী খাতুন। ’ শীত নিবারণে রংপুরে শীতের কাপড়ের মার্কেটগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। শহরের স্টেশন বাজার পুরাতন কাপড়ের মার্কেট, শাহ মো. সালেক মার্কেট, শাহ জামাল মার্কেট, সুরভি উদ্যানের পাশে ফুটপাতের মার্কেট, হনুমানতলা মার্কেটে সবচেয়ে বেশি কাপড় বিক্রি হয়। এই কয়েকটি মার্কেটে ছোট-বড় প্রায় ৫০০টি দোকান রয়েছে। শীতকে কেন্দ্র করে ঢাকা থেকেও অনেকে এখানে ব্যবসা করতে আসে। এ ছাড়া শহরতলির সাতমাথা, মাহীগঞ্জ, চকবাজার, মডার্ন মোড়ে শীতের কাপড়ের অনেকগুলো মার্কেট রয়েছে। শহরের বাইরের দেউতি, সৈয়দপুর, বড় দরগাহ, নব্দীগঞ্জ, হারাগাছ ও পাগলাপীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এসব বাজারে পুরনো কাপড়ের ক্রেতা বেশি। নতুন কাপড়ের চেয়ে পুরনো কাপড়ের চাহিদা বেশি বলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। বিদেশি পুরাতন শীতের কাপড়ের দাম তুলনামূলক কম। তা ছাড়া এই কাপড়গুলো দেখতে সুন্দর, মানসম্পন্ন ও টেকসই হওয়ায় ক্রেতাদের এসব কাপড়ে আগ্রহ বেশি। পুরাতন শীতবস্ত্রের দাম গতবারের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও নতুনের চেয়ে তুলনামূলক কম দাম বলে শহর কিংবা গ্রামের সব শ্রেণির মানুষ ফুটপাত থেকে শীতের পোশাক কিনছে। এদিকে হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়ে এবার শীতের দেখা মিলেছে একটু দেরিতে। তবে ক্রমেই বাড়ছে শীতের প্রকোপ। সন্ধ্যা নামতেই শুরু হয় ঘন কুয়াশা। সেই কুয়াশা থাকে দুপুর পর্যন্ত। কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের হিমালয় থেকে ধেয়ে আসে হিমেল হাওয়া। গত শুক্রবার থেকে উত্তরের এই জেলায় শীতের প্রকোপ বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। দুপুর পর্যন্ত দেখা মিলছে না সূর্যের। ঘন কুয়াশায় ধূসর হয়ে যাচ্ছে চারপাশের প্রকৃতি। দিনের বেলায়ও যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাফেরা করছে। দুপুরে সূর্যের দেখা মিললেও তাতে নেই উত্তাপ। আবার বিকেল গড়াতেই কুয়াশা পড়তে শুরু করে। রাতে ঠাণ্ডা আরো বেড়ে যায়। রাতভর টুপটাপ শব্দে চলে কুয়াশাপাত। এ সময় তাপমাত্রা আরো কমে আসে। রাতের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চালাতে হিমশিম খাচ্ছে চালকরা। সকালে বিস্তীর্ণ এলাকা, মাঠঘাট ছেয়ে যায় ঘন কুয়াশায়। শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে শীত একটু বেশি অনুভূত হচ্ছে। রাত ৮টার পরেই ফাঁকা হয়ে যায় গ্রামের হাট-বাজারগুলো। সাধারণ মানুষ এখন শীত নিবারণের জন্য ছুটছে নতুন ও পুরনো গরম কাপড়ের দোকানে। লেপ-তোষকের দোকানেও ভিড় বেড়েছে। তবে শীতবস্ত্রের অভাবে নিম্ন আয়ের মানুষ বেশ দুর্ভোগে পড়েছে। কেউ কেউ খড়কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। সরকারিভাবে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল আলীম খান ওয়ারেশী বলেন, ‘সরকারিভাবে আমরা জেলার দুস্থ শীতার্তদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিরতণ শুরু করেছি। এরই মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভাকে ৩৭৫টি করে শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য দেওয়া হয়েছে। তবে তা এ জেলার বিপুল পরিমাণ শীতার্তদের বিপরীতে খুবই সামান্য।
পড়া হয়েছে 325 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: রবিবার, 24 ডিসেম্বর 2017 09:32