09232019সোম
বুধবার, 28 আগস্ট 2013 11:43

মারের মুখে মাদারিপুরে যৌনপল্লি উচ্ছেদ

বাংলাদেশের অনেকগুলো যৌনপল্লি জোর করে ভেঙে দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের অনেকগুলো যৌনপল্লি জোর করে ভেঙে দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের মাদারিপুর শহরে বহু বছরের পুরোনো একটি যৌনপল্লির শত শত কর্মীদের মঙ্গলবার উচ্ছেদ করা হয়েছে। যৌনকর্মীদের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ সত্বেও ব্যাপক মারধর ও লুটপাট করে প্রায় ৫০০ যৌনকর্মীসহ তাদের সন্তানদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।

মূলত জমি দখলের জন্য এই আক্রমণ হতে পারে বলেও তারা অভিযোগ করছে।

তবে এই পল্লি উচ্ছেদের দাবিতে আন্দোলনরত ইসলাহে কওম পরিষদ নামের একটি সংগঠন বলছে, অসামাজিক কর্মকান্ড বন্ধ করে যৌনকর্মীদের চলে যাওয়ার বিষয়ে বলতে গেলে তারা আক্রমণের মুখে পড়ে।

উচ্ছেদ হওয়া যৌনকর্মীরা বলছেন, পুরান বাজার এলাকায় একসময় লঞ্চঘাট ছিল আর এর পাশে শত বছরের পুরোনো এই যৌনপল্লিতেই তাদের জন্ম। এখানকার জমির বৈধ মালিকও তারাই – এমন দাবি করে তারা বলছেন, গত দু'বছর ধরে একটি গোষ্ঠী তাদের উচ্ছেদের জন্য চেষ্টা করছে। পরে তারা উচ্চ আদালতের নির্দেশনা নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন।

কিন্তু সেই নির্দেশনা সত্বেও তাদেরকে এ মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়ে চলে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু আজ হঠাৎ এমনটা ঘটবে তা বুঝতেই পারেনি কেউ।

২০১০ সালে বাংলাদেশের আদালত যৌনকর্মীদের পেশার স্বীকৃতি দিয়েছে।

২০১০ সালে বাংলাদেশের আদালত যৌনকর্মীদের পেশার স্বীকৃতি দিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে যৌনকর্মীদের একজন জানান, ''হুজুররা আইসে কালকের ভিতরে এ জায়গা ছেড়ে চলে যেতে বলে। তো আমরা বলি আমরা কোথায় যাবো? আমাদের জন্ম এখানেই, আর যাওয়ারও কোন জায়গা নেই। আমাদের জুলুম করে বের করে দিয়েন না। আমাদের বরং গুলি করে মাইরা মেরে ফেলেন। কিন্তু তারপরই তারা মার শুরু করে।''

''এমন মারের মুখে সবাই কোন রকমে পালাইছে। ঘরবাড়ি ভাংচুর করে সব লুটে নিয়ে গেছে। সব শ্মশান হয়ে গেছে।''

তিনি জানান, পুনর্বাসনের কথা মুখে বারবার বলা হলেও সুনির্দিষ্ট কোন কিছু কখনোই করা হয়নি। বরং জমি দখলের উদ্দেশ্যে এই উচ্ছেদ করা হয়েছে। এই ঘটনায় শিশুসহ অসংখ্য কর্মী আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।

তবে এই যৌনপল্লি উচ্ছেদের দাবিতে বেশ কয়েকবছর ধরেই আন্দোলনকারী ইসলাহে কওম পরিষদের সভাপতি মাওলানা শরীফ মজিবুল হক অভিযোগ করেন যে এরা শহরকে অপবিত্র করছে। সমাজের যুব সম্প্রদায়কে ধ্বংস করতেছে।

মি. হক বলেন, আজকের ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের লোকজন অসামাজিক কাজ বন্ধের কাজে গেলে তাদের সাতজন যৌনকর্মীদের আক্রমনে আহত হন।

তিনি বলেন, কাউকে কোন আঘাত করা হয়নি, বরং শান্তিপূর্ণভাবে প্রশাসনের উপস্থিতিতে তাদের বের করে দেয়া হয়েছে। কাউকে মারধর বা লুটপাট করতে দেয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

তবে প্রশাসনের পক্ষে বলা হচ্ছে ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি ছুঁড়েছে।

মাদারিপুরের জেলা প্রশাসক মো নূর উর রহমান বলেন, ''এই পল্লিটির অনুমোদনের বিষয়ে কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। বিভিন্ন বাড়ির মালিক আছে তারা ভাড়া দিয়ে এটা চালান।''

''ওখানে সকালবেলা কিছু বাড়িওয়ালা তাদের ভাড়াটিয়াদের চলে যেতে বলে। এটা নিয়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এর জের ধরে বাইরে থেকে অনেক লোক পতিতাপল্লিতে ঢুকে পড়ে ভাঙচুর চালান। কিছু লুঠতরাজও হয়েছে।''

মি. রহমান জানান, তাদের হিসাব অনুযায়ী এই পল্লিতে প্রায় ৩০০ যৌনকর্মীর বাস ছিল। এই যৌনকর্মীদের পুনর্বাসনে কি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে মি. রহমান বলেন, সেখানে হামলার ঘটনার পর প্রবল বৃষ্টির মাঝে যৌনকর্মীরা ছড়িয়ে পড়েছে এবং কেউই এখনো তার সাথে কোন যোগাযোগ করেনি।

তবে যৌনকর্মীদের জমি দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি তার অজ্ঞাত হলেও অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হবে।

 

পড়া হয়েছে 1009 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বুধবার, 28 আগস্ট 2013 11:53