09232019সোম
মঙ্গলবার, 30 ডিসেম্বর 2014 23:50

মায়ের কাছে যেতে চায় হৃদয়

বাগেরহাট সংবাদদাতা
ছয় মাসেরও বেশী সময় ধরে আইনি হেফাজতে রয়েছে সে। আদালত, পুলিশ, নিরাপত্তা কর্মী সবার কাছে তার একটাই আকুতি, ‘আমাকে নিয়ে চলো, মায়ের কাছে যাবো।’ কিন্তু মায়ের খোঁজ যে মিলছে না!

বাগেরহাট জ্যেষ্ঠ বিচারিত হাকিম আদালত-৩ এর বিচারকের কাছে গত ১৫ সেপ্টেম্বর দেয়া জবানবন্দি অনুযায়ী তার নাম জাকির হোসেন হৃদয়, পিতা নূর ইসলাম। গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মোশাররফপুর গ্রামে। হৃদয়ের দাবি, সে যখন খুব ছোট তখন থেকে তার মা জ্যোৎস্না বেগম বাচ্চু নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে বাগেরহাটের মংলা উপজেলার মাকরডোন গ্রামে এসে বসবাস করছেন।

হৃদয় তার হারিয়ে যাওয়া সেই মাকে খুঁজছে। আদালতকে হৃদয় জানায়, কতিপয় অচেনা ব্যক্তি তাকে নোয়াখালী থেকে মাইক্রোবাসে করে এনে বাগেরহাটের হযরত খান জাহান (র:) এর মাজার এলাকায় ফেলে রেখে গেছে।

গত ২৭ জুন বাগেরহাট সদর থানার ১১৫৮ নং সাধারণ ডায়েরী অনুযায়ী ঐ দিন দুপুরে এলাকাবাসী হযরত খান জাহান (র:) এর মাজার সংলগ্ন সড়কের যাত্রী ছাউনি থেকে হৃদয়কে উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করে। আদালতের নির্দেশে তাকে যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখান থেকে গত ১০ ডিসেম্বর তাকে বাগেরহাট বিভাগীয় নিরাপত্তা হেফাজতখানায় এবং পরে ১২ ডিসেম্বর বাগেরহাট কারাগারে নিরাপত্তা হেফাজতে পাঠানো হয়।

মংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, বাগেরহাট জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত-৩ এর বিচারক মো. নূরুজ্জামান গত ১১ ডিসেম্বর হৃদয়ের মা জ্যোৎস্নাকে নিয়ে আদালতে হাজির হতে আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু মংলা উপজেলার মাকরডোন গ্রামে অনেক খোঁজ করেও বাচ্চু ও জ্যোৎস্না নামে কোন দম্পতির খোঁজ পাওয়া যায়নি।

বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী আজম খান বলেন, ‘শিশুটিকে উদ্ধারের পর আমরা সব থানায় বেতার বার্তা পাঠিয়েছি। কোম্পানীগঞ্জে খোঁজ নিয়েছি। কিন্তু শিশুটির বলা ঠিকানায় তার পরিবারকে পাওয়া যায়নি।’

বাগেরহাট বিভাগীয় নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রের প্রকল্প সমন্বয়কারী আফরোজা খাতুন জানান, হৃদয়ের সাথে তার কথা হয়েছে। হৃদয় বলেছে, তার নানাবাড়ি মংলায়। সেখানে সে মায়ের কাছে ছিল। প্রায় নয় মাস আগে তার মা তাকে নোয়াখালীতে বাবার কাছে পাঠিয়ে দেয়। সেখান থেকে মাকে খুঁজতে এসে সে হারিয়ে যায়। সে শুধু মায়ের কাছে ফিরতে চায়। আফরোজা মনে করেন, বিভিন্ন সময়ে হৃদয়ের দেয়া তথ্যে অসংগতি থাকতে পারে। যে কারণে শিশুটির পরিবারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
পড়া হয়েছে 1049 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বুধবার, 31 ডিসেম্বর 2014 00:00