10182019শুক্র
শুক্রবার, 19 মে 2017 08:00

চিকুনগুনিয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই

ডা. এম আব্দুল্লাহ ডা. এম আব্দুল্লাহ
গত কয়েক মাস যাবত্ রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ ভাইরাস জ্বর মনে হলেও রোগটি আসলে চিকুনগুনিয়া। লক্ষণ ডেঙ্গু জ্বরের মতোই। লক্ষণ সমূহ: চিকুনগুনিয়ার মূল উপসর্গ হলো জ্বর এবং অস্থিসন্ধির ব্যথা। জ্বর অনেকটা ডেঙ্গু জ্বরের মতোই। দেহের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে প্রায়ই ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠে যায়, তবে কাঁপুনি বা ঘাম দেয় না। জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে মাথা ব্যথা, চোখ জ্বালা করা, গায়ে লাল লাল দানার মতো র্যাশ, অবসাদ, অনিদ্রা, বমি বমি ভাব ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা হয়, এমনকি ফুলেও যেতে পারে। চিকিত্সা: অন্যান্য ভাইরাস জ্বরের মতো এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিত্সা নেই। এর চিকিত্সা মূলত রোগের উপসর্গগুলোকে নিরাময় করা। রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে এবং প্রচুর পানি বা অন্যান্য তরল খেতে দিতে হবে। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধই যথেষ্ট, এর সঙ্গে সঙ্গে পানি দিয়ে শরীর মুছিয়ে দিতে হবে। প্রতিরোধ: চিকুনগুনিয়া জ্বরের কোনো প্রতিষেধক নেই, কোনো ভ্যাক্সিন বা টিকাও নেই। তাই রোগ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো এডিস মশা প্রতিরোধ। এডিস মশার উত্পত্তিস্থল ধ্বংস করা এবং মশাকে নির্মূল করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। বাসাবাড়ির আশেপাশে যেখানে পানি জমে থাকতে পারে, তা সরিয়ে ফেলতে হবে এবং নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। তবে জেনে রাখা ভালো এডিস মশা মূলত দিনের বেলা এবং ঘরের বাইরেই বেশি কামড়ায়। রোগটি নতুন হলেও এতে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। এতে কেউ মারা যায় না। হয়তো বা কিছুদিন ভোগান্তি বাড়ায়।
পড়া হয়েছে 444 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শুক্রবার, 19 মে 2017 08:06