07142020মঙ্গল
শিরোনাম:
শুক্রবার, 16 অক্টোবার 2015 15:14

ব্রেন টিউমার অপারেশন

ডেস্ক ভারতীয় চিকিৎসক নারায়ণ জানকিরামের আরেকটি পরিচয় তিনি চলচ্চিত্র অভিনেতা। এ পর্যন্ত তিনি চারটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তবে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি এশিয়ার বিখ্যাত একজন এন্ডোসকপিক সার্জন। প্রখ্যাত এই চিকিত্সক এখন বাংলাদেশে। এসেছেন চারদিনের সফরে। রাজধানীর নিউরো সায়েন্সেস ইনস্টিটিউটে এন্ডোসকপিক সার্জারি করে ব্রেইন, চোখ, নাক এবং চোয়ালের টিউমার অপসারণ করছেন। এই অপারেশন মনিটরে দেখছেন দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ নিউরো সার্জন এবং তরুণ চিকিত্সকরা। ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স কক্ষে বসে তারা সরাসরি সার্জারি শিখছে। এমনকি সাধারণ মানুষও মনিটরে দেখেন সরাসরি সার্জারি। এক সময় খুলি খুলে, নাক কিংবা চোয়াল কেটে ব্রেন টিউমার অপারেশন করা হতো। দেশের ৪ থেকে ৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিদেশে গিয়ে এন্ডোসকপিক সার্জারি শিখে এসেছেন। পরে তারা তা দেশে প্রয়োগ করতেন। এন্ডোসকপিক সার্জারি করার সময় সার্জন একটি সরু টিউব নাকের গহ্বরে প্রবেশ করান। ওই টিউবের ভেতরেই রয়েছে ম্যাগনিফাইং লেন্স ও ক্যামেরা। যা দিয়ে টিউমার পরিষ্কার দেখা যায়। এরপর চিকিৎসক দক্ষতার সঙ্গেই টিউমার কেটে বের করে নিয়ে আসেন। এতে ৪ থেকে ৬ ঘন্টা পর্যন্ত সময় লাগে। এন্ডোসকপিক সার্জারি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত। দেশে ধনী-দরিদ্র বহু টিউমার রোগী রয়েছে। নিউরো সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট করার পর সফল অপারেশন এবং সার্জারি হচ্ছে। এই এন্ডোসকপিক সার্জারি চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি যুগান্তকারী ব্যবস্থা। ডা. জোনাকিরাম এই সার্জারিতে বিশ্ব বিখ্যাত। তিনি বিভিন্ন দেশে জটিল অপারেশন করে থাকেন। সকাল ৯টা থেকে রাত দেড় টা পর্যন্ত অপারেশন করে থাকেন। তিনি জানান, অপারেশন করতে তার ভালো লাগে। অপারেশন রক্তক্ষরণ দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, রক্তক্ষরণ আপনাকে অপারেশনের নতুর রাস্তাা দেখিয়ে দেবে। তামাক ব্যবহার, ভেজাল খাদ্যগ্রহণ, ক্যামিক্যালের প্রভাবে এইসব টিউমার হয় বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। জন্মগতভাবেও এটি হতে পারে। নিউরো সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট প্রসঙ্গে ডা. জানকিরাম বলেছেন, এটি এশিয়ার মধ্যে অন্যতম হাসপাতাল। এখানে চারটি অপারেশন থিয়েটার রয়েছে। চিকিত্সকদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। তখন সকল ধরনের সার্জারি এখানে করা যাবে। এটি অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। এটার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি। নিউরো সায়েন্সেস ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ বলেন, এই সার্জারি শেখার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ চিকিত্সা ব্যবস্থায় আরও একধাপ এগিয়ে গেলো। এটা তরুণ চিকিৎসকদের উৎসাহ প্রদানেও বড় ভূমিকা রাখবে। নিউরো সায়েন্সেস ইনস্টিটিউটের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম বলেন, দেশে নিউরো সার্জনরা নিজের চোখে এই সার্জারি দেখে অভিজ্ঞতা অর্জন করলো। এটা অবশ্যই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করলো।
পড়া হয়েছে 598 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শুক্রবার, 16 অক্টোবার 2015 15:24