09202019শুক্র
শনিবার, 31 মে 2014 10:11

ডানা ছাড়াই উড়তে জানে

প্রাণী জগতে যারা উড়তে পারে তাদের বলা হয় পাখি। পাখিদের ডানা আছে। সেই ডানা বাতাসে মেলে তারা উড়ে বেড়ায় আকাশে। তবে ব্যাতিক্রমও আছে। ডানা থাকার পরও এমন অনেক পাখি আছে যারা উড়তে পারে না, তেমনি কিছু প্রাণী আছে যারা উড়তে পারে কিন্তু তাদের ডানা নেই। এসব উড়ুক্কু প্রানীদের নিয়ে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র

উড়ু উড়ু সাপ

সাপ হচ্ছে সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী। বুকে ভর দিয়ে চলা ফেরা করে সাপ। সেই সাপকে যদি দেখা যায় বাতাসে ভেসে বেড়াতে তখন ব্যাপারটা কেমন হবে ভাবতেই অবাক লাগে। পৃথিবীতে এমন প্রজাতির সাপ আছে যারা বাতাসে ভেসে পথ পাড়ি দিতে পারে। আর এমন কিন্তু সাপ আমাদের দেশেও দেখতে পাওয়া যায়। এই সাপদের বলা হয়ে থাকে—উড়ুক্কু সাপ। এই উড়ুক্কু সাপ বিশেষ এক কৌশল অবলম্বন করে বাতাসে ভেসে থাকার জন্য। শিকার ধরার জন্য অথবা এক গাছ থেকে অন্য গাছে উড়ে যাওয়ার জন্যই প্রধানত এসব উড়ুক্কু সাপ বাতাসে ভেসে বেড়ানোর কৌশল অবলম্বন করে। তাদের শারীরিক গঠনও একটু আলাদা ধরনের। একটু ব্যতিক্রমী! লেজের শেষ মাথা দিয়ে বিশেষভাবে অনেক জোরে মাটিতে ধাক্কা দেয়। সেই ধাক্কায় যে গতি উত্পন্ন হয় তা ব্যবহার করেই এরা মাথাটাকে শূন্যের দিকে দিয়ে শরীরের ভর টেনে নেয় সামনের দিকে।

গিরগিটি

উড়ুক্কু প্রাণীদের মধ্যে কিন্তু গিরগিটি অন্যতম। এদের চামড়া মোটা, ঠিক যাকে বলে গন্ডারের চামড়ার মতো! মোটা চামড়া আর ভাবলেশহীন ভাবভঙ্গি দেখেই সম্ভবত এদেরকে খানিকটা ডাইনোসরের মতো মনে হতে পারে। এদের বাতাসে ভেসে যাওয়া দেখে অবশ্য সিনেমায় দেখা ডাইনোসরদের ওড়াওড়ির কথাই মনে হয়। তবে এরা কোনো ডাইনোসরের প্রজাতি নয়। গিরগিটি আছে নানা প্রজাতির। তার মধ্যে কয়েকটি প্রজাতি আবার কৌশল করে ভেসে মানে উড়ে বেড়াতে পারে। যেসব গিরগিটি ভেসে ভেসে উড়ে বেড়াতে পারে তারা দৈহিকভাবে কিছু বিশেষত্বের অধিকারী। যে সব গিরগিটিরা বাতাসে ভেসে বেড়ায় তাদের শরীরের দুই পাশে থাকে একটু বাড়তি চামড়া। এই চামড়া অনেকটা পাখির ডানার মতো কাজে দেয়। এই চামড়া আবার উড়ুক্কু গিরগিটিরা ভাঁজ করে লুকিয়ে রাখতে পারে তাদের শরীরের দুইপাশে।

উড়ুক্কু ব্যাঙ

ব্যাঙ আছে নানা প্রজাতির। তার মধ্যে একটা প্রজাতি হচ্ছে 'গেছো ব্যাঙ', গাছে গাছেই থাকে আরকি! এই গেছো ব্যাঙেরা আসলে থাকে ঝোপে-ঝাড়ে, বনে-বাদাড়ে, গাছে গাছে। এরা কিছু বিশেষ ধরনের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়। অন্যান্য ব্যাঙের চাইতে দেখতে এরা অবশ্য একটু কমই বেঢপ আকৃতির হয়। এদের হাত-পা একটু বেশিই লম্বা লম্বা ধরনের আর সেই লম্বা লম্বা হাত-পায়ের সাহায্যে সে ধাক্কা দিয়ে উঠে পড়ে শূন্যে। বাতাসে ভেসে সে এভাবে পাড়ি দিতে পারে অনেকটা পথ। তারপর আবার যেখানে খুশি সেখানে নেমে আসতে পারে নির্বিঘ্নে। আর এর জন্য তার পায়ের নিচে থাকে বিশেষ গ্রন্থি। যার মাধ্যমে সে অনেকটা টিকটিকির মতো যেকোনো জায়গা বেয়ে উঠা-নামা করতে পারে। পারে আকাশ থেকে নেমে আসার সময় গাছের গায়ে লেপ্টে যেতেও।

লেমুর

যেসব প্রাণী ভেসে ভেসে পথ পাড়ি দিতে পারে তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে লেমুর। লেমুর আসলে বানর প্রজাতির প্রাণী। তবে এর দৈহিক গঠনের কারণেই তাকে দেখায় বানর থেকে পুরোপুরিই আলাদা। লেমুরের হাত-পা চারটা আর লেজ একটা। তবে ব্যতিক্রমটা হচ্ছে তার কানের নিচ থেকে ছড়িয়ে দু হাতের কব্জি আর দুই পায়ের গোড়ালি হয়ে লেজের আগা পর্যন্ত একটু বিশাল চামড়া জোড়া দেওয়া আছে। আর এর কারণেই সে বাতাসে ভেসে থাকতে পারে অনেকটা পাখির মতোই।

পেঙ্গুইন

পেঙ্গুইনরা দেখতে অনেকটা পাখির মতো হলেও কিন্তু এরা পাখি নয়। ভারি শরীরের পেঙ্গুইনের ডানা তার দেহের তুলনায় আকারে অনেক ছোট। সংবাদসংস্থা বিবিসি'র একজন ক্যামেরাম্যান কিং জর্জ আইল্যান্ডের ওপর একটি তথ্যচিত্র বানানোর সময় হঠাত্ তার ক্যামেরায় দেখেন— এক ঝাঁক পেঙ্গুইন তাদের ডানা মেলে উড়ে চলেছে আকাশ দিয়ে! গবেষকরা ধারণা করছেন এইসব পেঙ্গুইনরা এভাবে উড়ে অ্যান্টার্কটিকা মহাসাগর থেকে উড়োপথে পাড়ি দিয়ে যায় আমাজনের রেইনফরেস্টে। অবিশ্বাস্য হলেও এ ঘটনা সত্য। একবার ভেবে দেখুন তো বিশাল সেই থলথলে শরীরটা নিয়ে অমন ছোট্ট দুটি ডানা মেলে আকাশ জুড়ে উড়ছে শাদা কালো সব পেঙ্গুইন!

উড়ন্ত কাঠবেড়ালি

কাঠবেড়ালি বিড়াল প্রজাতির প্রাণী হলেও এদের দৈহিক গঠন একেবারেই ভিন্ন এবং এদের বসবাস গাছে। কাঠবেড়ালির লেজ তার শরীরের চাইতে বড় এবং লোমশ। এমন কিছু কাঁঠবেড়ালি আছে যারা বাতাসে ভাসতে পারে। আর এ ক্ষমতা তারা এগাছ থেকে ওগাছে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করে। এ জন্য কাঠবেড়ালিরা কোনো গাছের উঁচু ডাল থেকে লাফিয়ে পড়ে তারপর শূন্যে ভাসতে থাকে। পানিতে নৌকার যেমন দিক নিয়ন্ত্রণ করা হয় বৈঠার সাহায্যে, তেমনি কাঠবেড়ালিরা তাদের মোটা লোমশ লেজটাকে বৈঠার মতোই ব্যবহার করে বাতাসে ভেসে থাকার সময় দিক ঠিক করার কাজে। লেজের মাধ্যমে দিক নির্ণয় করে কিছুদূর গিয়ে কাঠবেড়ালি কাছের যেকোনো স্থানে নেমে আসে। আর এ সময় বেড়ালের মতো কাঠবেড়ালির পায়ের নিচে থাকা নরম মাংসপিণ্ড তাকে সাহায্য করে নির্বিঘেœ নেমে আসার জন্য।

পড়া হয়েছে 505 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শনিবার, 31 মে 2014 10:28

ফেসবুক-এ আমরা