10242019বৃহঃ
শিরোনাম:
রবিবার, 30 অক্টোবার 2016 20:00

দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে এশীয়মন্ত্রী পর্যায়ে দিল্লি সম্মেলন : আঞ্চলিক নদী ব্যবস্থাপনার দাবি সুশীল সমাজের

< > নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক এশিয়ায় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে গনমানুষের অধিকারের প্রতি সম্মান জানানো এবং আঞ্চলিক নদী ব্যবস্থাপনার দাবির পক্ষে মত দিয়েছে সুশীল সমাজ। আগামী নভেম্বরে ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে এ দাবী জানানো হবে। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ২৩টি সুশীল সমাজ সংগঠন থেকে ৬টি দাবি তুলে ধরা হয়। সংগঠনের নেতারা দাবিগুলো এশিয়ার নেতৃবৃন্দের কাছে তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন। তাদের প্রধান দাবি হলো এ এলাকার দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস করতে আঞ্চলিক নদী ব্যবস্থাপনা। এই সংক্রান্ত যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলাহলো এ্যাকশন এইড, এ্যাকশন লা ফেইম, ব্র্যাক, ক্রিস্টিয়ান এইড, কোস্ট ট্রাস্ট, কনসার্ন ওয়াল্ড ওয়াইড, ডান চার্চ এইড, দিশারী, ডিজাস্টার ফোরাম, দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থা, গণ উন্নয়ন কেন্দ্র, ইসলামিক রিলিফ, লাইট হাউস, নিরাপদ, পিদিম ফাউন্ডেশন, অক্সফাম, প্লান ইন্টারন্যাশনাল, প্র্যাকটিক্যাল একশন, এসএমকেকেএস, এসকেএস ফাউন্ডেশন, টিয়ার ফান্ড এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন। কোস্ট ট্রাস্টের রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ৬টি দাবি তুলে ধরেন ব্র্যাকের পরিচালক নঈম গওহর ওয়ারা। এতে আরও বক্তব্য রাখেন, ডান চার্চ এইডের দেশীয় পরিচালক হাসিনা ইনাম, প্র্যাকটিক্যাল এ্যাকশনের সমন্বয়কারী হালিম মিয়া এবং কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক শওকত আলী টুটুল। আয়োজকদের পক্ষ থেকে নঈম গওহর ওয়ারা ৬টি দাবি তুলে ধরেন, এর মধ্যে রয়েছে সরকারগুলোকে গণমানুষের কথা শুনতে হবে এবং নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনার কথা বিবেচনা করতে হবে, সাইক্লোন এবং মৌসুমী জোয়ার ভাটা, লবণাক্ত পানির প্রবেশ থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য সরকারসমূহকে বিভিন্ন অতি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ করতে হবে। শহর এলাকার দরিদ্র মানুষের জন্য ও আবাস গৃহ স্থাপন করতে হবে। বাংলাদেশের মতো জলবায়ু বিপন্ন দেশগুলোর, যারা জলবাযু পরিবর্তনের জন্য দায়ী নয় তারা উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে এক্ষেত্রে সহায়তা পাওয়ার অধিকার রাখে, সব সরকারকে জলবায়ু তাড়িত বাস্তচ্যুতদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দিতে হবে, সব সরকারকে জাতিসংঘের নীতি কাঠামোর আওতায় তার অভ্যন্তরীণ ও আন্ত সীমান্ত বাস্তচ্যুতদের সমস্যা সমাধানে নীতি প্রণয়ন করতে হবে, পুনস্থানান্তর এবং পুনর্বাসনের জন্য আঞ্চলিক দিক-নির্দেশনা প্রণয়ন করতে হবে, আন্ত:রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে বিশেষ দুর্যোগে নিয়োগের জন্য বিশেষ বাহিনী বা সংস্থা তৈরি রাখতে হবে, সেনদাই কাঠামো বাস্তবায়ন এবং পরীবিক্ষণের ক্ষেত্রে জাতীয় এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে, বিশেষ করে স্থানীয় কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে হবে, স্থানীয় এবং জাতীয় এনজিওগুলোকে প্রধান্য দেওয়ার বিশ্ব মানবিকতা সংক্রান্ত সম্মেলনের আহ্বানকে গুরত্ব দিতে হবে। হাসিনা ইনাম বলেন, দিল্লির এই সম্মেলনে ২২জন মন্ত্রী অংশ নিচ্ছেন, তাই এই সম্মেলনটি খুবই গুরত্বপূর্ণ। এই সম্মেলন বড় দেশগুলোর উপর আন্ত:সীমান্ত এবং আঞ্চলিক পানি সমস্যা সমাধানে জনমতের চাপ প্রয়োগের একটি সুযোগ। হালিম মিয়া বলেন, বাংলাদেশ আকষ্মিক কিন্তু চলমান বিভিন্ন দুর্যোগে প্রতি বছর মোট জিডিপি’র ২% থেকে ৩% হারাচ্ছে। এ কারণে দেশের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রায় ১৯% ব্যয় হয়। যদি দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের কোন আঞ্চলিক উদ্যোগ থাকতো তাহলে এই অর্থ বাঁচানো সম্ভব হতো। রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, এই অঞ্চলের নেতৃবৃন্দের কাছে সাধারণ মানষের কথাগুলো তুলে ধরার একটি সুযোগ এই সম্মেলন। প্রায় সময়ই এরা সাধারণ মানুষের প্রয়োজন বা দাবির দিকে কর্ণপাত করেন না।
পড়া হয়েছে 554 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: রবিবার, 30 অক্টোবার 2016 20:05

ফেসবুক-এ আমরা