08232019শুক্র
মঙ্গলবার, 05 মে 2015 23:32

সুন্দরবনে এবার ৫০০ টন সার নিয়ে জাহাজডুবি

ডুবে যাওয়া জাহাজ 'জাবালে নূর' ডুবে যাওয়া জাহাজ 'জাবালে নূর'
শরণখোলা থেকে সংবাদদাতা

শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারডুবির বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই সুন্দরবন এলাকায় এবার ৫০০ টন সার নিয়ে একটি জাহাজ ডুবে গেছে ।
 
গত ৩ মে বিকেলে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা নদের মরাভোলা বিমলের চর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সুন্দরবনে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
দুর্ঘটার পর থেকে জাহাজের মাস্টার ও নাবিকরা পলাতক।
 
বনবিভাগের কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেসার্স আল এহসান শিপিং লাইন্সের জাহাজ 'জাবালে নূর' (এম-৬৯৪৩) পাঁচশ' মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) গত ২ মে মংলার হারবাড়িয়া থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীর উদ্দেশে রওনা হয়। জাহাজটি শরণখোলা রেঞ্জে ভোলা নদের বিমলের চর এলাকায় বিপরিত দিক থেকে আসা একটি জাহাজকে জায়গা দিতে  গিয়ে ডুবোচরে আটকা পড়ে। পরে ঢেউয়ের আঘাতে জাহাজটির তলা ফেটে যায়। এরপর আস্তে আস্তে জাহাজটির বেশিরভাগ অংশ পানিতে ডুবে যায়। এতে জাহাজের সার পানিতে মিশতে থাকে এবং আশপাশের পানি লাল হয়ে যায়।
 
মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, 'জাবালে নূর' প্রায় পুরোটা পানিতে তলিয়ে গেছে। সার গলে সুন্দরবনের নদী ও খালের পানিতে ছড়িয়ে পড়ছে। পানি লাল হয়ে যাচ্ছে।
 
এদিকে জাহাজটি উদ্ধারে এরইমধ্যে মংলা থেকে এমবি নূসরাত-ই-হক ও এমবি তছির উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তবে জোয়ারের পানির চাপ ও স্রোত বেশি থাকায় উদ্ধারকারী জাহাজ দুটি ডুবে যাওয়া জাহাজের কাছে যেতে পারেনি, কিছু দূরে নোঙর করে রয়েছে।
 
উদ্ধাকারী জাহাজ নুসরাত-ই-হকের মাস্টার আব্দুল মালেক জানান, স্রোত কমলে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হবে।
 
তিনি জানান, ডুবে যাওয়া জাহাজটি প্রথমে চরে আটকে যাওয়ার খবর শুনে তার মালিক মো. নূরুল হক সেটি উদ্ধারের জন্য সোমবার সকালে তাকে ঘটনাস্থলে পাঠান। কিন্তু উদ্ধার কাজ শুরু করার আগেই ঢেউয়ের আঘাতে জাহাজটি মাঝখান ফেটে পানিতে ডুবে যায়।
 
সুন্দরবনে এবার ৫০০ টন সার নিয়ে জাহাজডুবি
সার গলে পানি লাল হয়ে যাচ্ছে
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা বনবিভাগের শরণখোলা স্টেশনের সহকারী স্টেশন কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, 'ডুবে যাওয়া জাহাজে ৫০০ টনের মতো লাল এমওপি সার রয়েছে। জাহাজটির পিছনের অংশ ছাড়া সম্পূর্ণটাই পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। পানিতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে জাহাজের সার।'
 
তার আশঙ্কা জাহাজটিতে সংরক্ষিত তেলও পানিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।  
 
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, 'সারের রাসায়নিক বিষক্রিয়ায় বিরল প্রজাতির ডলফিন, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও  অন্য জলজ প্রাণির মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।'
 
একই আশঙ্কা করছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রো টেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর সরদার সরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'সার গলে পানির গুণগত মান ও  জলজ প্রাণির মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।'
 
অন্যদিকে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, 'ডুবে যাওয়া জাহাজের সারের বিষক্রিয়ায় গাছপালার চেয়ে জলজ প্রাণির বেশি ক্ষতি হতে পারে।'
 
তিনি জানান, জাহাজটি উদ্ধারে চেষ্টা চলছে বলে তাকে মালিক পক্ষ জানিয়েছে। তবে গলিত সার পানিতে ফেলা হলে জাহাজটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
অনেক চেষ্টা করেও মেসার্স আল এহসান শিপিং লাইন্সের কারো সাথে এ দুর্ঘনার বিষয়ে এখনো কথা বলা সম্ভব হয়নি।
 
উল্লেখ, গত ৯ ডিসেম্বর চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীতে ফার্নেস তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘সাউদার্ন স্টার সেভেন’ ডুবে যায়। ট্যাঙ্কারের তেল সুন্দরবনের নদ-নদীতে মিশে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
 
সেই থেকে এক মাস সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকে। ওই ঘটনার ৫ মাসের মাথায় সুন্দরবনে সারবাহী জাহাজডুবির ঘটনা ঘটল।
পড়া হয়েছে 671 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: মঙ্গলবার, 05 মে 2015 23:50

ফেসবুক-এ আমরা