10242019বৃহঃ
শিরোনাম:
রবিবার, 21 ডিসেম্বর 2014 08:27

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারে গণমাধ্যম সেমিনারে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে জনসাধারণকে সহজ ভাষায় বোঝানোর মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, এক্ষেত্রে গণমাধ্যম অন্যতম ভূমিকা পালন করতে পারে। জনগণ যেন দক্ষতার সঙ্গে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন তাও নিশ্চিত করা সম্ভব। তৃণমূল পর্যায়ের জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি এড়াতে হলে পুরো প্রশাসনকে পরিবেশ নিয়ে সক্রিয়ভাবে ভাবতে হবে। গণমাধ্যম সামনে থেকে প্রশাসনের উপর চাপ প্রয়োগ করতে পারে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর কাওরান বাজারে দ্য ডেইলী স্টার ভবনে ‘দ্য মিডিয়া এলায়েন্স’ আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন রোধে জনসচেতনতা-বাংলাদেশে গণমাধ্যমের কার্যকরী ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম, ডেভেলপমেন্ট মিডিয়া লিমিটেড, বাংলাদেশ এনজিও নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন -এর যৌথ আয়োজনে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে এশিয়া অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা  সভা অনুষ্ঠিত হয় হংকং, সিঙ্গাপুর, ম্যানিলা, হ্যানয় এবং ব্যাংককে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় ষষ্ঠ আয়োজন। বাংলাদেশে কিভাবে সামাজিক, মানবিক, পারিবেশিক এবং টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে গণমাধ্যম ভূমিকা রাখতে পারে তা সেমিনারে আলোচিত হয়।

কীভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে সচেতনতা বৃদ্ধি কর্মকান্ডে আরো বেশি অংশগ্রহণ করানো যায়, তা নিরীক্ষা করার জন্য স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে জাতীয় পর্যায়ে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। কীভাবে উন্নয়ন সংস্থা, বহুজাতিক সংস্থা, এনজিও এবং ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে একত্রে সহযোগিতার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনকে মোকাবেলার লক্ষ্যে শক্তিশালী বাণিজ্যিক সামাজিক দায়বদ্ধতার মধ্যদিয়ে টেকসই উন্নয়নকে আরো গতিশীল করতে পারে, সেটিও আলোকপাত করেন বক্তারা।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো শিশুদের অপুষ্টি, যার ফলে দেশজুড়ে বিশালসংখ্যক মানুষ স্বাস্থ্যহীনতায় ভুগে থাকেন। কিন্তু এই পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব। মানুষ যেন পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারেন, সেজন্য তাদের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। আর এই কাজে মুখ্য ভূমিকা গণমাধ্যমেরই।’

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা বিষয়ক সেমিনারটিতে বিসিএএস’র নির্বাহী পরিচালক ড. এ আতিক রহমান জলবায়ু পরিবর্তনে মানবজীবনে ১২ ধরনের প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন। এসব প্রভাবের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়, বৃষ্টি ও বন্যা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এবং পরিবেশ বিজ্ঞানীরা এর ওপর কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

নগর পরিকল্পনাবিদ খন্দকার নিয়াজ রহমান বলেন, সারাবিশ্বের যেকোনো মানুষেরই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে চিন্তা করার অধিকার রয়েছে। এ সময় তিনি সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বলে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিকোণের সঙ্গেও ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নতুন ভূমিও জেগে ওঠে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি-বেলা’র নির্বাহী প্রধান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সেমিনারটিতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক কাজী আখতার আহমেদ। অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাপা’র সম্পাদক আবদুল মতিন, ইরেশ যাকের, এসএটিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক সাইফুল হুদা, বাংলা ট্রিবিউনের প্ল্যানিং এডিটর সাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, রেডিও টুডের বার্তা সম্পাদক সেলিম বাশার, চ্যানেল আইয়ের বার্তা সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নিউজনেক্সট বিডির সম্পাদক নজরুল ইসলাম।

পড়া হয়েছে 1048 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: রবিবার, 21 ডিসেম্বর 2014 08:31

ফেসবুক-এ আমরা