10222019মঙ্গল
বৃহস্পতিবার, 11 ডিসেম্বর 2014 09:18

হুমকিতে ইরাবতী ডলফিন

ডেস্ক

সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলের ট্যাঙ্কার দুর্ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া তেলের কারণে সেখানকার পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীটির অন্তত পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পানিতে এবং দু'পারে তেলের স্তর ভাসতে দেখা গেছে। তেলের কারণে এ নদীতে বিরল প্রজাতির ইরাবতী ডলফিনসহ বিভিন্ন প্রজাতির ডলফিনের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া সুন্দরবনের গাছপালা ও অন্যান্য প্রাণীর ওপরও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। পরিবেশ গবেষক এবং বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন এ আশঙ্কার কথা। গতকাল বুধবার বিবিসি এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।হুমকিতে ইরাবতী ডলফিন

সুন্দরবনের দক্ষিণাঞ্চলের এ স্থানকে সরকার ২০১১ সালে ডলফিনের জন্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করে। গবেষকরা জানিয়েছেন, কমপক্ষে ৬ হাজার ইরাবতী ডলফিন বাস করে এই অভয়াশ্রম এলাকায়। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং ডলফিন সংরক্ষণ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুন্দরবনের পূর্বদিকের চাঁদপাই রেঞ্জের কাছে এই দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে বিশ্বের বিপন্ন প্রজাতিরইরাবতী ডলফিন। বন সংরক্ষক তপন কুমার দে ইরাবতী ডলফিনের সঙ্কটে পড়ার আশঙ্কা জানিয়ে বিডি নিউজকে বলেন, 'ডলফিনের বৈশিষ্ট্য হলো, এরা প্রতি ২০-২৫ মিনিট পর শ্বাস নেওয়ার জন্য গভীর পানি থেকে উঠে আসে। ফার্নেস অয়েলের ঘনত্ব মবিল ও ডিজেলের মতো। ফলে পানির উপরস্তরে ছড়িয়ে থাকা তেলের জন্য অক্সিজেন নিতে সমস্যা হবে তাদের। এটা ইরাবতী ডলফিনের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয়।'

ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম এ দুর্ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব পুরো সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থানে (ইকোসিস্টেম) পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ছড়িয়ে পড়া তেল ভারী না হালকা তা এখনও নিশ্চিত নন জানিয়ে তিনি বলেন, 'হালকা হলে এ তেল দ্রুত আশপাশের নদীতে ছড়িয়ে পড়বে। ভারী হলেও তা নদীর নিচে অবস্থান করে বিস্তার ঘটাবে।'তিনি বলেন, 'এটা প্রাণীর লিভার ফাংশনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। ধীরে ধীরে তা অকেজো হয়ে যাবে। পাশাপাশি আশপাশের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, নদী-খালের পাড়ে এসে যেসব প্রাণী পানি পান করে, তাদের ওপরও প্রভাব পড়বে।'

পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী আরও দুটি জাহাজ পাঠিয়েছে। এ ছাড়া দুটি জাহাজ আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছে। বাকি দুটি জাহাজ শিগগিরই পৌঁছে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নৌবাহিনীর জাহাজগুলো পানি থেকে তেল পৃথক করার মতো রাসায়নিক সরঞ্জাম নিয়ে যাচ্ছে। তবে সেটা কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, সে ব্যাপারে তাদের খুব একটা অভিজ্ঞতা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পড়া হয়েছে 911 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, 11 ডিসেম্বর 2014 09:28

ফেসবুক-এ আমরা