09212019শনি
শুক্রবার, 08 আগস্ট 2014 11:06

জনগণের জীবনমান উন্নয়নে দাতাদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ-আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে দেশের জনগণের জীবন মান উন্নয়ন করা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আয়তনে ছোট এবং জনসংখ্যায় বড় একটি দেশের পক্ষে এ কাজটি একা করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশ এবং সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে আমরা এ কাজটি করে যাচ্ছি। বন ও বন্যপ্রাণী বিশেষ করে বাঘ রক্ষায় বিশ্বব্যাংক এবং ইউএসএইড-এর সহযোগিতা অবশ্যই ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব বাঘ দিবস-২০১৪ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এসব কথা বলেন।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ। কিন্তু এর জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক বেশি। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এই জনবহুল দেশের পক্ষে একা করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের জনগণের স্বপ্ন পূরণে যেসব দাতাদেশ ও সংস্থা আমাদের সহযোগিতা করছে তাদের আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একটি জনবহুল দেশে বন এবং বন্যপ্রাণী রক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি এমন একটি জেলা থেকে এসেছি যে জেলার সীমানা সুন্দরবন ঘেঁষা। সেখানকার জনগণ কাঠ কাটতে, মাছ ধরতে এবং মধু আহরণে সুন্দরবনে যায়। তাদের অনেকে বাঘের আক্রমণের শিকার হয়ে মারা পড়ে। আবার কেউ আহত হয়ে ফিরে আসে। তবে মানুষের হাতে বাঘ নিহত হবার ঘটনাও কম নয়। আমরা অনেকে বলে থাকি বাঘ হিংস প্রাণী। কিন্তু মানুষ বাঘের চেয়ে আরো বেশি হিংস ।
 
পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনের মতো একটি বন সৃষ্টিকর্তা আমাদের দিয়েছেন। এটি রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। এজন্য আমাদেরকে নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী বিশেষত বাঘ রক্ষায় বিশ্বব্যাংক এবং ইউএসএইড এর প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অন্যান্য দেশ ও সংস্থাও বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী রক্ষায় এগিয়ে আসবে।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও বন উপ মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, শুধু দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে বাঘ রক্ষা হবে না। এজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় বাঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি বলেন, বাঘ রক্ষায় সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সবার আগে দরকার জনসচেতনতা।

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের আবাসিক পরিচালক জোহানস জাট বলেন, বন্যপ্রাণী রক্ষায় বাংলাদেশের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আঞ্চলিক দেশগুলোর সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে বন্যপ্রাণী রক্ষায় বিশেষ কাজে আসবে। তিনি বলেন, বাঘ একটি প্রাণীই নয়, এটি একটি গর্বও বটে। বাঘ রক্ষায় সবাইকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

মূল প্রবন্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম মনিরুল এইচ খান বলেন, গত একশ বছরে বাঘের সংখ্যা ৯৭ ভাগ কমে গেছে। আটটি প্রজাতির মধ্যে ইতিমধ্যে তিনটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু আশার কথা এই যে, বাঘ রক্ষায় সরকার ইতিমধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে অবশিষ্ট বাঘগুলো রক্ষা পাবে।

ওয়াইল্ড কিং বাংলাদেশের প্রধান ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বাঘ এবং মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে অনেক বাঘ মারা পড়ছে। সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে এ থেকে আমরা উত্তরণ লাভ করতে পারি।

প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ ইউনুচ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম এ হান্নান ও টাইগার কনজারভেশন প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক অপরূপ চৌধুরী, ইউএসএইড-এর ডেপুটি কান্ট্রি ডাইরেক্টর কার্ল রস্টেলার, বন সংরক্ষক ড. তপন কুমার দে। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এর আগে সকালে বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।

পড়া হয়েছে 585 বার।

ফেসবুক-এ আমরা