11222019শুক্র
শুক্রবার, 06 জুন 2014 15:44

হাজারীবাগের ট্যানারি অচিরেই সাভারে স্থানান্তর হবে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হাজারীবাগের ট্যানারি অচিরেই সাভারে স্থানান্তরিত হবে। ইতিমধ্যে সাভারে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। চামড়া ব্যবসায়ীদের দ্রুত সেখানে তাদের কারখানা স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ট্যানারি স্থানান্তরে যারা ব্যর্থ হবে তাদের কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবো। ট্যানারি স্থানান্তরের আগে থেকেই সেখানে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে 'বিশ্ব পরিবেশ দিবস এবং ৭ দিন ব্যাপী পরিবেশ মেলা এবং ৩ মাস ব্যাপী জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০১৪'র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি।

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় উন্নত দেশগুলোকে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে বিশ্ববাসীকে আরো সোচ্চার হতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের কোন ভূমিকা নেই। অথচ এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাবের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ। জলাশয় ভরাট না করার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যারা আবাসন ব্যবসা করেন, তারা জলাভূমি ভরাট করতে পারবেন না। বর্তমান সরকারের এমন অবস্থানের কারণে অনেক জমির মালিক আমার ওপর নাখোশ। এটা বোঝা যায় তাদের মালিকানাধীন পত্রিকাগুলো দেখলে। সরকারের বিরুদ্ধে অনেক লেখালেখি হচ্ছে।

তিনি বলেন, রাজধানীতে এখন যে কোন স্থাপনা গড়তে হলে জলাধার রাখতে হবে। তা না হলে কোন স্থাপনা গড়তে দেয়া হবে না। কারণ জলাধার না থাকলে পানি পাওয়া যাবে না। এ চিন্তা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জলাধার না থাকার অসুবিধার উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বসুন্ধরা সিটিতে আগুন লাগার পর আশপাশে জলাধার না থাকায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের সুইমিংপুল থেকে পানি এনে ওই আগুন নেভানো হয়। অথচ পান্থপথেই একটি খাল ছিল। সেটির উপর বক্স কালর্ভাট না করে যদি পরিকল্পিতভাবে তা রক্ষা করা হতো, এ খালের দু'ধারে স্থাপনা গড়ে তোলা হতো তাহলে বসুন্ধরার আগুন নেভাতে আর পানির সমস্যা হতো না।

ঢাকাকে ঘিরে থাকা বুড়িগঙ্গাসহ পাঁচটি নদীর দূষণ রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদীগুলো দখলমুক্ত ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে। ইতিমধ্যে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে। নদী দূষণ রোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুড়িগঙ্গার অবস্থা অত্যন্ত করুণ। এই নদীটিকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এ নদীর উভয় পাড়ে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এতে নদীর গভীরতা বাড়বে এবং অধিক জল ধরে রাখা সম্ভব হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠানে ইটিপি কার্যক্রম অনলাইনে মনিটর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কারণ, লক্ষ্য করা গেছে অনেক প্রতিষ্ঠানই ইটিপি থাকা সত্ত্বেও তা চালুর পরিবর্তে বন্ধ করে রাখে। সরকারি লোকজন পরীক্ষায় গেলেই শুধু তা চালু করা হয়। তিনি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সর্তক করে দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে সরকার এখন বেশ সজাগ। কোন রকম অনিয়ম প্রশ্রয় দেয়া হবে না। তিনি বলেন, ৮১২টি শিল্প কারখানায় ইটিপি স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। ২০১৮ সালের মধ্যে সব কল-কারখানাগুলোয় ইটিপি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বায়ু দূষণের মাত্রা হরাস করার লক্ষ্যে তার সরকার ইতিমধ্যে ২ হাজার ১৪১টি ইট-ভাটাকে আধুনিক প্রযুক্তির ইট-ভাটায় রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল ইট-ভাটাকেই এই আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করতে হবে।

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি নির্ধারিত এ বছরের পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য 'হতে হবে সোচ্চার, সাগরের উচ্চতা বাড়াবো না আর' এটা উপকূলবর্তী দেশের জন্য অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অব ক্লাইমেট চেঞ্জ এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, একদিকে সমুদ্রের পানির স্ফীতি ঘটছে, অন্যদিকে গত বিশ বছরে মেরুঅঞ্চলসহ বিভিন্ন হিমবাহের বরফ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হারে গলছে। এরফলে ছোট ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বহু দেশের ঊপকূলীয় নিম্নাঞ্চল সমুদ্র গর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া শিল্পোন্নত দেশগুলো শত বছর ধরে লক্ষ লক্ষ কোটি টন কার্বন বায়ুমন্ডলে ছেড়েছে। ফলে ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়েছে। বাংলাদেশসহ সমুদ্র উপকূলীয় দেশগুলো বারবার ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছে।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন রেজিলিয়েন্স তহবিল (বিসিসিআরএফ) প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাতটি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে এ পর্যন্ত ১৮৯ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, পরিবেশ, প্রতিবেশ, বন সংরক্ষণ ও উন্নয়নে আমাদের সরকার সকল বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন বন্ধের ব্যবস্থা নিয়েছি। ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য উৎপাদন, আমদানি, মজুদ ও পরিবহনে আইনের প্রয়োগ জোরদার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী গত পাঁচ বছরে পরিবেশ রক্ষায় তার সরকারের ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বর্ণনা দিয়ে বলেন, পরিবেশ আদালত আইনসহ নতুন নতুন আইন প্রণীত হয়েছে। পুরানো আইনগুলো সংশোধন করে যুগোপযোগী এবং আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

 তিনি বলেন, তার সরকার ২০০৯ সালে পরিবেশ অধিদপ্তরের জনবল ২৬৭ থেকে ৭২০ এ উন্নীত এবং ২১টি জেলায় অফিস স্থাপন করেছে। দেশের ৬৪টি জেলাতেই পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিস সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ চলছে।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার জলবায়ু পরিবর্তন কর্ম-কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা ২০০৯ প্রণয়ন করেছে। জলবায়ু ট্রাস্ট আইন ২০১০ পাস এবং এর আওতায় ২০১৩ সালে বাংলাদেশ জলবায়ু ট্রাস্ট নামে সংবিধিবদ্ধ সংস্থা গঠন করা করেছে। তিনি বলেন, বিদেশী অর্থের উপর নির্ভর না করে তার সরকার নিজেদের অর্থেই ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডে বরাদ্দ দিয়েছে। এ ফান্ড থেকে ২৭০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

'জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ২০১৪'র এবারের প্রতিপাদ্য 'অধিক বৃক্ষ অধিক সমৃদ্ধি' অত্যন্ত সময়োপযোগী হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি বনজ, একটি ফলজ ও একটি ভেষজ চারা সংগ্রহ করে তা রোপণের জন্য আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, শুধু চারা রোপণ করলে তা পূর্ণাঙ্গ বৃক্ষে পরিণত হয় না। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা।
ডুবোচরে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডুবোচরে ব্যাপক বৃক্ষরোপের মাধ্যমে আমরা বিশাল এলাকা সুরক্ষা করতে পারি। এ ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, পরিবেশ, প্রতিবেশ, বন সংরক্ষণ ও উন্নয়নে তার সরকার সকল বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়ন বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, তার সরকার পাহাড়, নদী, জলাশয়, জলাভূমি, জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ রক্ষায়ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য উত্পাদন, আমদানি, মজুদ ও পরিবহনে আইনের প্রয়োগ জোরদার করা হয়েছে। বেঁচে থাকার উপকরণ অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিত্সা ও নির্মল পরিবেশ আমরা বৃক্ষ থেকেই পাই।

তিনি বলেন, তার সরকার বন সংরক্ষণ, টেকসই বন ব্যবস্থাপনা এবং বনের কার্বন মজুদ বৃদ্ধির জন্য কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও কার্বন মজুদ বৃদ্ধির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কার্বন বিক্রয় ও পেমেন্ট ফর ইকোসিস্টেম সার্ভিসেস থেকে প্রাপ্ত আয় আরইডিডির সাথে সম্পৃক্ত জনগণ ভোগ করবেন।

তিনি বলেন, জ্বালানিতে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা স্বল্পতম পর্যায়ে আনতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। বসতবাড়িতে সৌর এবং বায়ো-গ্যাস প্লান্ট স্থাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সারা দেশে প্রায় ১৫ লাখ উন্নত প্রযুক্তির চুলা বিতরণ করা হয়েছে, যা মা-বোনদের চিরাচরিত সনাতন চুলার ধোঁয়া থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভূমিকা রাখছে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাণিজ্যিক উত্পাদনের উপর থেকে পাঁচ বছরের জন্য আয়কর মওকুফ করা হয়েছে। তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব অর্থনীতির অংশ হিসেবে সরকার সকল ক্ষেত্রে জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা ও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, উপকূলীয় এলাকায় ও ক্ষতিগ্রস্ত বনাঞ্চলে ব্যাপক বনায়ন ও বৃক্ষরোপণ, পরিবহনে কম দূষণকারী জ্বালানির ব্যবহার ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং দূষণকারীদের অর্থ প্রদান নীতিসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে নতুনভাবে ১ লাখ ৭০ হাজার একর ভূমি সংরক্ষিত বনভূমি হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে যা বন সংরক্ষণে একটি মাইলফলক। উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সবুজ বেষ্টনী সৃজন করা হচ্ছে। জেগে উঠা চরভূমি লিজ প্রদান বন্ধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার হেক্টর চরাঞ্চলে বনায়নের মাধ্যমে নয়নাভিরাম উপকূলীয় বন সৃষ্টি করা হয়েছে। উপকূলীয় বনায়ন প্রক্রিয়ায় বঙ্গোপসাগর থেকে ১ হাজার ২শ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ভূমি দেশের মূল ভূখণ্ডের সাথে সংযোজন করা সম্ভব হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের বন্যপ্রাণী ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে ১৯টি রক্ষিত এলাকার সাথে ১৮টি নতুন রক্ষিত এলাকা ঘোষণা করেছে। এসব এলাকার উন্নয়নে সহ-ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম প্রবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া ১৪টি ইকো-পার্ক, উদ্ভিদ উদ্যান, সাফারি পার্ক পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক এবং চট্টগ্রামে রাসেল এভিয়ারী ইকো-পার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বন ব্যবস্থাপনায় সাফল্যের কারণে বাংলাদেশ ২০১২ সালে ইকুয়েটর পুরস্কার ও ওয়াঙ্গারী মাথাই পুরস্কার এবং আর্থ কেয়ার আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, সামাজিক বনায়ন বাংলাদেশের বন ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ও সাফল্য এনেছে। সামাজিক বনায়নকে উৎসাহিত করার জন্য সরকার এর বিধিমালা সংশোধন করে ৪৫ ভাগ থেকে ৭৫ ভাগ লভ্যাংশ সাধারণ জনগণকে প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে হাজারীবাগের ট্যানারী শিল্প সাভারে স্থানান্তর করা হবে ইনশাল্লাহ। তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গার করুণ দশা প্রধানমন্ত্রী নিজে সরেজমিন পরিদর্শন করে তাকে বাঁচানোর জন্য সার্বিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। এ ব্যাপারে জাপানের সমর্থন ও সহযোগিতাও চেয়েছেন।

পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে আমাদের মতো দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ব্যাপারে এখনই সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে, জনসচেতনা সৃষ্টি করতে হবে। শুধু একটি মন্ত্রণালয় নয়, সকল মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী নিজে এ ব্যাপারে পুরোপুরি সচেতন রয়েছেন এবং পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে যাতে আরেকটি বাংলাদেশ পাওয়া যায় সে ব্যাপারেও প্রধানমন্ত্রী অনেক সচেতন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি পূরণ করার আহ্বান জানান তিনি।

এ বছর ব্যক্তি পর্যায়ে পরিবেশ পদক পেয়েছেন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব এ কে এম হানিফ, যিনি হানিফ সংকেত নামে পরিচিত। বাংলাদেশ টেলিভিশনে তার বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান 'ইত্যাদি' বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া একই ক্যাটাগরিতে এবার পরিবেশ পদক পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. খবির উদ্দিন। প্রতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পরিবেশ পদক ২০১৪ পেয়েছে ঢাকার রুরাল সার্ভিসেস ফাউন্ডেশন (আরএসএফ)। বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড অফ ওয়ার্ল্ভ্র লাইফ কনজারভেশন ২০১৪ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মো. মোস্তফা ফিরোজ, পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মো. বন্দে আলী খান, নাটোরের নলডাঙ্গার মো. জুয়েল রানা ও নটরডেম ন্যাচার স্টাডি ক্লাব। তিরিশটি প্রতিষ্ঠান ও দশটি ক্যাটাগরিতে আলাদাভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার ২০১৩ লাভ করেন। নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার মো. ফজলুর রহমান ২০১৩ সালের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে সেরা উপকারভোগীর পুরস্কার পান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কারের ক্রেস্ট ও চেক তুলে দেন। অনুষ্ঠান শেষে ্রপ্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন প্রন্দ্র  প্রাঙ্গণে একটি বনজ, একটি ফলদ ও একটি ভেষজ গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি বৃক্ষ মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে স্মরণীয় রাখতে স্মারক ডাক টিকিট অবমুক্ত করেন। এ সময় ডাক বিভাগের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন। পরে সেখানে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
   

পড়া হয়েছে 559 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শুক্রবার, 06 জুন 2014 15:50

ফেসবুক-এ আমরা