12152019রবি
মঙ্গলবার, 03 অক্টোবার 2017 20:15

ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পাশ করার সহজ ১০ পরামর্শ

মো: জুলকার নাঈম ব্যাংকিং ডিপ্লোমা একটি প্রফেশনাল কোর্স। ব্যাংকিং সেক্টরকে যাঁরা ক্যারিয়ার হিসেবে নিয়েছেন, তাঁদের জন্য ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পাস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা এখনও Banking Diploma শেষ করেননি তাদের উচিৎ Banking Diploma শেষ করার জন্য উঠে পড়ে লাগা। প্রায় সব ব্যাংকেই ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পাস করলে মেলে এককালীন আর্থিক পুরস্কার। এছাড়া ব্যাংকিং ক্যারিয়ারকে সামনের দিকে এগিযে নিয়ে যাবার জন্য Banking Diploma খুবিই গুরুত্বপূর্ন বিষয়। Banking Diploma ব্যাক্তিগত ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করবে, যে কোন ব্যাংকে মূল্যায়ন পাবেন, এটা আপনার মেধার স্বীকৃতি, এটাকে হেলাফেলা করা কোনভাবেই বুদ্ধিদিপ্ত কাজ হবে না। ব্যাংকিং ডিপ্লোমার জন্য দুই পার্টে (ধাপ) ৬+৬=১২টি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। বছরে দুবার (সাধারণত জুন ও ডিসেম্বর) পরীক্ষা হয়, যার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় সাধারণত এপ্রিল ও সেপ্টেম্বরে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (আইবিবি)। ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষার বিষয়সহ পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস পাওয়া যাবে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে (www.ibb.org.bd) । প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা পাস নম্বর ৫০। ১) প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর নিজের প্রাক্টিকাল ব্যংকিং কাজের সাখে মিলিয়ে উত্তর দেবার চেষ্টা করুন। প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর না দিলে পাশ করা কঠিন, তাই সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিন সমান সময় ভাগ করে। ২) বাংলা বা ইংরেজি যেকোনো মাধ্যমেই পরীক্ষায় উত্তর করা যায়। তবে ইংরেজি মাধ্যমে উত্তর করলে বেশি নম্বর পাওয়ার সমভাবনা থাকে। ৩) বিগত বছরের কিছু প্রশ্ন যেগুলা আসতে পারে সেগুলো ঘেটে ঘেটে নোট বানাবেন যাতে খাতার presentation অন্যদের থেকে ভিন্ন হয়। আইবিবি এর ওয়েবসাইটে কিছু রিডিং মেটেরিযালস আছে সেগুলো পড়তে পারেন। ৪) খাতা পরিষ্কার রাখা। শুধু শুধু বেশি পাতার জন্য অনেক ফাক করে লিখে বা এক পৃষ্ঠায় কয়েকটা মাত্র লাইন লিখে কোন লাভ নাই। ৫) ব্যাংকিং ডিপ্লোমায় সহজে পাস করার জন্য বিগত সালের প্রশ্ন সমাধান করতে হবে। বিগত সালের প্রশ্ন সমাধান করতে পারলেই ৫০ শতাংশ প্রশ্ন কমন পাবার সম্ভাবনা থাকে। ৬) প্রশ্নের উত্তরের প্রতিটা পয়েন্ট হাইলাইট করে দেওয়া। ৭) কিছু বিষয় আছে ডায়াগ্রাম রিলেটেড, সে সব প্রশ্ন ডায়াগ্রাম অবশ্যই দিবেন যেগুলা প্রশ্নে বলে দেওয়া থাকবে না। এই সব প্রশ্নে ডায়াগ্রাম না দিলে আপনি যাই লিখেন ২০% এর বেশি নম্বর পাবেন না। ৮) সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেটা হল উদাহরণ। প্রতিটা প্রশ্নের সাথে ব্যাংকের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার উদাহরণ। এটা কোন বইয়েই থাকে না, কেউ দেখে দেয় না,কিন্তু এটা হাইলাইট করে দিতে হয়। তাই সবকিছু নিজের ভাষায় লেখার চেষ্টা করুন। ৯)Through The Point লিখা। আপনি বিষয় সম্পর্কে জেনে নিজের ভাষায় লিখবেন। বইয়ের ভাষায় (কপি) লিখে লাভ নাই। যারা আপনার খাতা দেখছেন তারা বিষয়টা বুঝতে পারেন। ১০) একটি প্রশ্নের ভেতরে ক, থ, গ ভাগ থাকলে অবশ্যই প্রশ্নের উত্তর শেষ করে অন্য প্রশ্নের উত্তর দিন। ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় পাসের কোনো বয়স নেই। তবে চাকরির শুরুর দিকে পাস করাই বুদ্ধিমানের কাজ। বয়স ও চাকরিজীবন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ততা বাড়ে, বাড়ে জটিলতা। তাই পরীক্ষায় পাস করাও কঠিন হয়ে যায়। তাই প্রথম দিকেই ব্যাংকিং ডিপ্লোমা শেষ করাই শ্রেয়। উপরোক্ত বিষয়গুলো একটু খেয়াল রাখলেই খুব সহজে আপনি ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পাশ করতে পারবেন। ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পাশের মাধ্যমে আপনার ব্যাংকিং ক্যারিয়ার হয়ে উঠবে সাফল্যমন্ডিত।
পড়া হয়েছে 773 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: মঙ্গলবার, 03 অক্টোবার 2017 20:43