09202019শুক্র
বৃহস্পতিবার, 11 ফেব্রুয়ারী 2016 10:01

এবার প্রযোজকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি ঈশানার

< > বিনোদন প্রতিবেদক শিডিউল ফাঁসানো ও শুটিং সেটে প্রযোজক মারুফ খান প্রেমকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন নাট্যাভিনেত্রী ঈশানা- এমন অভিযোগ এনে সিএমএম আদালতে মানহানির মামলা করেন ওই প্রযোজক। সমপ্রতি এ খবরে ঢাকার শোবিজে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে কথা ওঠে নানা মহলে। এ মামলা করেই প্রযোজক প্রেম বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে পুরো বিষয়টি খোলাসা করে বলেন এবং সে সঙ্গে চলতি সপ্তাহের রোববারের মধ্যেই মামলার সব কাগজপত্র ঈশানার হাতে পৌঁছে যাবে বলে জানান দেন। তবে গতকাল এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত কোনো কাগজপত্র হাতে পাননি বলে জানান ঈশানা। এমনকি মামলার বিষয়টি নিয়ে মোটেও শঙ্কিত নন বলে জানান তিনি। বরং প্রযোজকের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও যৌন হয়রানির মামলা করবেন বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে ঈশানা মানবজমিনকে বলেন, প্রযোজক প্রেম আমার বিরুদ্ধে কী মামলা করেছেন সেটা আমার জানা নেই। আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা পৌঁছায়নি। আর এ নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথাই নেই। কারণ আমি ‘সহযাত্রী’ নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে যে হয়রানির শিকার হয়েছি তেমন আর কখনোই ফেস করিনি। আমি অভিনেত্রী। আমার কাজ নাটকের শুটিংয়ে অংশ নেয়া। আমি ঠিকঠাক শুটিং করেছি। কিন্তু প্রযোজক প্রেম প্রতিনিয়ত আমাকে ডিস্টার্ব করেছে। এ নাটকে অভিনয় করতে হলে তার সঙ্গে প্রেম করতে হবে। তাকে সময় দিতে হবে। শপিংয়ে যেতে হবে। শুধু তাই নয়, শুটিং সেটে প্রতিদিন এসে বসে থাকতো। আমাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতো। এসব নিয়ে আমি খুব বিব্রত হয়েছি। শেষ পর্যন্ত নাটকটির কাজ থেকে আমি সরে এসেছি। সরেও নিস্তার পাচ্ছিলাম না। তার বিরক্ত করা শেষ হচ্ছে না। এখন বলছে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এসব আমার একদম ভালো লাগছে না। আমাকে যেসব নোংরা প্রস্তাব দিয়েছে সেসবের যথেষ্ট প্রমাণ আছে। আর এসব নারী নির্যাতন ও যৌন হয়রানির শামিল বলেই আমি করি। ঠিক করেছি এবার মামলাটা আমাকেই করতে হবে। আর সে প্রস্তুতিই নিচ্ছি। শিগগিরই আমি প্রেমের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা করবো। উল্লেখ্য, গত ৩রা ফেব্রুয়ারি সিএমএম কোর্টে ঈশানার বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন প্রযোজক মারুফ খান প্রেম। মামলার অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, শুটিং সেটে তার অনুপস্থিতিতে অকথ্য ভাষায় ঈশানা তাকে গালাগাল করেছেন। যা শ্রুতিকটু ছিল। আর সেটা গোপনে ধারণ করেছে শুটিং সেটে উপস্থিত থাকা একজন। বিষয়টি প্রযোজক প্রেম অবগত হয়েই এ মানহানির মামলা করেন। জানা যায়, গত ৭ই জানুয়ারি ঈশানা উত্তরায় নীলাঞ্জনা শুটিং স্পটে শুটিং করছিলেন বাংলাভিশনে প্রচার চলতি কায়সার আহমেদ পরিচালিত মেগা ধারাবাহিক ‘সহযাত্রী’ নাটকের। একপর্যায়ে মেকআপ রুমে ঈশানা তার সহশিল্পীসহ কয়েকজনের সামনে নাটকটির প্রযোজক প্রেমকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলেন যা সেখানে উপস্থিত একজন তার মুঠোফোনে রেকর্ড করেন। রেকর্ডকৃত আলাপচারিতা প্রযোজক প্রেম শোনার পর তিনি সব তথ্য প্রমাণাদি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হলে শুটিংস্পটে পুলিশের একজন কর্মকর্তা আসেন বিষয়টির সত্যতা যাচাই করার জন্য। এদিকে ওইদিন শুটিং শেষে ঈশানা বাসায় গিয়ে তার নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসটি ছিল এরকম- ‘একজন প্রডিউসার আমাকে বাজেভাবে হ্যারাসড করেছে! আই ট্রাইড টু প্রটেক্ট মাইসেলফ, আর পরে আমি এই ব্যাপারটা একজন কো-আর্টিস্টের সঙ্গে শেয়ার করেছি, ওই প্রডিউসারকে গালি দিচ্ছি আর সাজেশন চাইছি আমার কী করা উচিত ওই প্রডিউসারের এগেইনস্টে। আনফরচুনেটলি আমি ভুলে গেছিলাম মিডিয়াতে ফ্রেন্ড বলে কিছু নেই। আমার প্রডিউসার এইটা শুনে বলেছে আমি গালি দেয়াতে সে মানহানির কেইস (মামলা) করবে। কারণ ও যে আমাকে হ্যারাসড করছে ওটার কোনো প্রমাণ আমার কাছে নেই। তাই আমি কিছু করতে পারব না! ইন দিস সিচুয়েশান আমার কী করা উচিত? হোয়াট কাইন্ড অব হেল্প আই ক্যান গেট ফ্রম মাই ফ্রেন্ডস, কলিগস, মিডিয়া অ্যান্ড ফ্রেন্ডস... আই রিয়েলি ওয়ান্ট টু নো।’ স্ট্যাটাসটি দেয়ার পর ঈশানা বন্ধু-ভক্তদের অনেকে নানান মন্তব্য করেন। তখন সবাই জানতে চান ওই প্রযোজকের কথা। শেষতক ঈশানা সে নামটি উল্লেখও করেন। এ নিয়ে তখন থেকেই তাদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি সবার নজরে এলে সংবাদ শিরোনামেও পরিণত হয়। এখন দেখার পালা ঈশানা ও প্রেমের এ দ্বন্দ্ব কোথায় গিয়ে ঠেকে। < >
পড়া হয়েছে 486 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, 11 ফেব্রুয়ারী 2016 10:10