07142020মঙ্গল
শিরোনাম:
বুধবার, 15 জুলাই 2015 10:26

কানাডা থেকে হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে বিমান

নিজস্ব প্রতিবেদক বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স চারটি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে বিদেশি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কঠিন শর্তে ১৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার ঋণ নিচ্ছে। বর্তমান বিনিময় হারের হিসাবে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকার বেশি। ঋণের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ের নন-কনসেশনাল বা অননমনীয় ঋণ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে বিমান। মার্কিন বোয়িং কোম্পানির চারটি বি-৭৮৭-৮ উড়োজাহাজ সরবরাহের পূর্বে পরিশোধ হিসেবে ১ হাজার ৬০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হচ্ছে। কানাডার আর্থিক প্রতিষ্ঠান মারয়ানা প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অফার রেটের (লাইবর) সঙ্গে অতিরিক্ত এক শতাংশ সুদ দিতে হবে। ঋণের লিগ্যাল ফি সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ফি রয়েছে ঋণের শর্তে। ঋণ নেওয়ার মাত্র চার বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ঋণটির আরও কিছু শর্ত রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের সভরেন গ্যারান্টির (সার্বভৌম নিশ্চয়তা) চাওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিমানের বোয়িং কেনার জন্য অন্য একটি ঋণের বিপরীতে সভরেন গ্যারান্টির কিছু শর্ত দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে রয়েছে বিমানকে তার কৌশলগত অংশীদার খোঁজার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। অন্য শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সার্বভৌম নিশ্চয়তার বিপরীতে বিমানকে করপোরেট গ্যারান্টি দিতে হবে। এ ছাড়া এর বিপরীতে পৃথক একটি তহবিল গঠন করতে হবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঋণের গ্র্যান্ট এলিমেন্ট ৩৫ শতাংশের নিচে হলে তা কঠিন শর্তের ঋণ হিসেবে গণ্য হয়। এ ঋণের গ্র্যান্ট এলিমেন্ট খুবই কম। ঋণটির বিপরীতে সব মিলে প্রায় চার শতাংশ সুদ দিতে হবে। বিশ্বব্যাংকের ঋণে ৩৮ বছর এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ২৫ বছর পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। এমনকি চীনের ঋণে ১৬ বছর ঋণ পরিশোধের সুযোগ থাকে। সেখানে বিমানের এ ঋণ চার বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এ কারণে অনমনীয় ঋণ বিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে অনুমোদনে পাঠানো হয়েছে। বিমান কেনায় কঠিন শর্তের ঋণ নিতে নিরুৎসাহিত করার পরও বিমান বাংলাদেশ নতুন ঋণের জন্য নিয়মিত প্রস্তাব দিচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইল হেইউডকে ই-মেইল করা হয়। পরে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষে অর্থ বিভাগের পরিচালক এ এম মোসাদ্দিক আহমেদ জানান, ঋণের প্রস্তাবটি বিমানের কাছে সহায়ক মনে হচ্ছে। এর পরও সরকার জাতীয় স্বার্থের বিপক্ষে গেছে মনে করলে অনুমোদন না দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ইআরডি নিজস্ব কায়দায় ঋণের প্রস্তাব বিশ্লেষণ করতে পারে। সে বিষয়টি এখনও বিমান বাংলাদেশকে জানানো হয়নি। বিমানের তথ্যমতে, চারটি বোয়িং কেনার জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রস্তাব চাওয়া হয়। প্রাথমিক ভাবে আটটি প্রতিষ্ঠান আর্থিক প্রস্তাব দেয়। তিনটি প্রতিষ্ঠানকে প্রাকযোগ্য বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে মারয়ানা প্রাইভেট লিমিটেডের আর্থিক প্রস্তাব তুলনামূলক সহজ শর্তের হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। এ ঋণ নিতে ২০০৬ সালের ক্রয় আইন ও ২০০৮ সালের ক্রয় বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বিমান উড়োজাহাজ ক্রয়ে বছরের পর বছর চড়া সুদের ঋণ নিচ্ছে। বিমানের বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। এর পেছনে মূল কারণ ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ও জবাবদিহিতার অভাব। তিনি বলেন, বিপুল অর্থ দিয়ে উড়োজাহাজ কেনার চেয়ে সংস্কারে মনোযোগ দিতে হবে। এতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় কমবে। ২০০৮ সালে ৮ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে আটটি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে চারটি বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর ও চারটি বোয়িং-৭৮৭-৮ (ড্রিমলাইনার) উড়োজাহাজ। পরবর্তী সময়ে বোয়িং-৭৩৭-৮০০ মডেলের আরও দুটি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দেয় বিমান। ২০১১ সালের মার্র্চে বিমানের সঙ্গে বোয়িংয়ের প্রাথমিক চুক্তি হয়। একই বছর ২২ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ১০টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি চূড়ান্ত করে বিমান। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম দুটি বোয়িং বিমানের বহরে যুক্ত হয়েছে।
পড়া হয়েছে 685 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বুধবার, 15 জুলাই 2015 10:35