11232019শনি
মঙ্গলবার, 05 মে 2015 08:18

বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি চান উদ্যোক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদেশে বিনিয়োগের জন্য অনুমতি চেয়েছেন উদ্যোক্তারা। গতকাল সোমবার ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) প্রেসিডেন্ট হাফিজুর রহমান খান বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের উদ্যোক্তাদেরকেও বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া প্রয়োজন। এতে দেশের উন্নতির পথ প্রশস্ত হবে। রাজধানীর ডেইলি স্টার সম্মেলন কক্ষে আইবিএফবি আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ফ্যাকাল্টি ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, সাবেক সভাপতি আনিসউদ্দৌলা, সাবেক সচিব সোহেল আহমেদ চৌধুরী, ড. এ এফ মতিউর রহমান, বিনিয়োগ বোর্ডের সদস্য নভোশ চন্দ্র মণ্ডল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক সুকোমল সিংহসহ আরও অনেকে।
 
প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় আমাদের বিদেশে বিনিয়োগ করার প্রবণতা খুবই কম। অথচ অবৈধভাবে ঠিকই বিদেশে মূলধন যাচ্ছে। বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি না থাকায় দেশের উদ্যোক্তারা অন্য দেশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে বিদেশে বিনিয়োগ করার সুযোগ দেয়া প্রয়োজন। ইতিমধ্যে অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। তবে আমাদের উদ্যোক্তারা বিদেশে বিনিয়োগ করলে দেশের রিজার্ভ, মূলধনী হিসাবে (ক্যাপিটাল ব্যালেন্স অ্যাকাউন্ট) এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারের উপর কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সে বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে।
 
ড. মশিউর রহমান বলেন, বর্তমানে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। তাছাড়া আমদানি যা হচ্ছে তা ঠিকভাবে বাড়লে রিজার্ভ কমে যাবে। ফলে অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে যে পরিমাণ বিদেশি উদ্যোক্তাদের যে পরিমাণ বিনিয়োগ আনা দরকার তা কিভাবে আনা যায় সে ব্যাপারে সরকারকে ভাবতে হবে। আর আমাদের উদ্যোক্তারা কোথায় বিনিয়োগ করবেন কিংবা কোথায় বিনিয়োগ করলে তাদের জন্য লাভ হবে সেটা তারা ভাববেন। সরকার তাদেরকে বিদেশে বিনিয়োগ থেকে সরিয়ে রাখা উচিত হবে না। তিনি আরও বলেন, বিদেশে বিনিয়োগ করলেই আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা চলে যাবে এমনটা ভাবা ঠিক হবে না। কারণ এর মাধ্যমে লভ্যাংশ আকারে বৈদেশিক মুদ্রা ফিরেও আসবে।
 
অনুষ্ঠানে সাবেক সচিব ড. এ এফ মতিউর রহমান বলেন, বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি দেয়ার আগে আমাদেরকে ভাবতে হবে আমরা কি এখনও উন্নত দেশে পরিণত হয়েছি কিনা। যেখানে আমাদের দেশেই বিনিয়োগের চাহিদা রয়েছে সেখানে বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি দেয়া কতটা যুক্তিযুক্ত তাও ভেবে দেখা প্রয়োজন। বিনিয়োগ বোর্ডের সদস্য নভোশ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি দেয়ার এখনই সময় নয়। অন্তত ৮ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করা যেতে পারে। অন্যথায় আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি, রিজার্ভ এবং গোটা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
 

এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আনিসউদ্দৌলা বলেন, আমাদের দেশে গ্যাস, বিদ্যুত্ ও অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। এজন্যই আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এখন পর্যন্ত ৮ শতাংশে উন্নীত হয়নি। বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি দেয়া হলে উদ্যোক্তারা প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়তা করতে পারবেন। এমসিসিআইয়ের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, বিদেশে বিনিয়োগ করার অনুমতি দেয়ার অনেক যৌক্তিক কারণ রয়েছে। বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হলে বিভিন্ন দেশে আমাদের ব্র্যান্ড তৈরি সহায়ক হবে। অন্য দেশের প্রযুক্তি ও দক্ষতা ব্যবহারে আমাদের বেশি সুযোগ থাকবে। দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে। তাছাড়া শুধু ভারত নয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা লাভবান হতে পারব
পড়া হয়েছে 464 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: মঙ্গলবার, 05 মে 2015 08:23