11192018সোম
রবিবার, 01 অক্টোবার 2017 09:52

প্রথমার্ধে জিএসপি ফিন্যান্সের মুনাফা প্রবৃদ্ধি ৪২.৭৫%

নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক সুদ আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের সুবাদে ২০১৭ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে জিএসপি ফিন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের মুনাফায় উচ্চপ্রবৃদ্ধি হয়েছে। জানুয়ারি-জুন সময়ে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির কর-পরবর্তী মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রায় একই হারে বেড়েছে দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) মুনাফাও। কোম্পানিটির কর্মকর্তারা বলছেন, বছরের প্রথমার্ধে জিএসপি ফিন্যান্সের ব্যবসা ভালো হয়েছে। এ সময়ে বিভিন্ন ধরনের ঋণের বিপরীতে সুদ বাবদ আয় আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে। পাশাপাশি খরচ নিয়ন্ত্রণের ফলে কোম্পানির পরিচালন ব্যয় কমেছে। তাছাড়া খেলাপি ঋণও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল, যে কারণে সঞ্চিতি খুব একটা বাড়াতে হয়নি। সব মিলিয়েই কর-পরবর্তী মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৭ হিসাব বছরের প্রথম ৬ মাসে জিএসপি ফিন্যান্সের নিট সুদ আয় দাঁড়িয়েছে ৩০ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ২৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে সুদ আয় বেড়েছে ২৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। বিনিয়োগ, কমিশন, এক্সচেঞ্জ, ব্রেকারেজ ও অন্যান্য আয় মিলিয়ে প্রথমার্ধে কোম্পানির পরিচালন আয় দাঁড়িয়েছে ৩৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আগের বছরের তুলনায় পরিচালন আয় বেড়েছে ২৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। পরিচালন আয় বাড়ানোর পাশাপাশি আলোচ্য সময়ে ব্যয় কমিয়ে আনতেও সক্ষম হয়েছে জিএসপি ফিন্যান্স। ২০১৬ হিসাব বছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় ২০১৭ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানির পরিচালন ব্যয় কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে থাকায় চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে সঞ্চিতি সংরক্ষণের চাপও তেমন বাড়েনি। জানুয়ারি-জুন সময়ে ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকার সঞ্চিতি রাখতে হয়েছে কোম্পানিটিকে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। তবে আয় বাড়ার কারণে কর বাবদ সঞ্চিতির পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৪৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা হয়েছে। ২০১৭ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কর পরিশোধের পর ১৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছে জিএসপি ফিন্যান্সের, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৩১ পয়সা, যা আগে ছিল ৯৩ পয়সা। এদিকে, চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও (এপ্রিল-জুন) কোম্পানির সুদ আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং পরিচালন আয় ৩৭ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে। এর পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় কমেছে ২ দশমিক ১১ শতাংশ। ফলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫ কোটি টাকা। এ সময়ে ইপিএস হয়েছে ৬৯ পয়সা, যা আগে ছিল ৪৮ পয়সা। সর্বশেষ ২০১৬ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ২২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় জিএসপি ফিন্যান্স। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ৩০ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিট মুনাফা করে জিএসপি ফিন্যান্স। ইপিএস হয় ২ টাকা ৮৭ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ১ টাকা ৯০ পয়সা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সর্বশেষ ২৮ টাকা ৬০ পয়সায় জিএসপি ফিন্যান্সের শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে এ শেয়ারের দর ১৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩৮ টাকা ৩০ পয়সায় মধ্যে ওঠানামা করে। ২০১২ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত জিএসপি ফিন্যান্সের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১০৪ কোটি ৬৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। রিজার্ভ ১৫০ কোটি ২৫ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে বর্তমানে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে ৪৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ, প্রতিষ্ঠান ১৫ দশমিক ৪৪, বিদেশী ৪ দশমিক ২২ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ৩৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ শেয়ার।
পড়া হয়েছে 214 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: রবিবার, 01 অক্টোবার 2017 10:00
এই ক্যাটাগরিতে আরো: « অবশেষে দর সংশোধন