11232019শনি
শনিবার, 02 মে 2015 09:47

কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্যায় আচরণে সতর্ক করলেন গভর্নর

নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে ইস্তফা, বরখাস্ত বা অপসারণ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে দায়দেনা আদায়েও জটিলতা সৃষ্টি, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বা পদোন্নতি স্থগিত করার নানা অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এসেছে।

এসব অভিযোগের অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অন্যায় বা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এতে অনেক ভালো কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের ব্যাংকিং ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় লিখিত বক্তব্যে কথাগুলো বলেন তিনি।

ড. আতিউর আরো বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরির ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমন অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে যে কোনো রকম কারণ দর্শানো ছাড়াই ব্যাংক তার কর্মীকে অপসারণ করতে পারবে- এমন অমানবিক বিধি বা ধারা ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিমালায় সংযুক্ত করা হয়েছে। ড. আতিউর রহমান জানান, সন্ধ্যা ৬টায় কার্যদিবস শেষেও কর্মকর্তা-কর্মচারী, এমনকি নারী কর্মীদেরও কাজের নামে অহেতুক অফিসে আটকে রাখা হচ্ছে, যা মানবিক ব্যাংকিংয়ের পরিপন্থী। আরো অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, ব্যাংকগুলো সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অযৌক্তিকভাবে আমানত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা চাপিয়ে দিচ্ছে।

এর ফলে তাদের মনোযোগ গ্রাহককে ব্যাংকিংসেবা প্রদানের পরিবর্তে আমানতের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। এ জন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হচ্ছে। গভর্নর বলেন, ব্যাংকগুলো তাদের বার্ষিক বাজেট নির্ধারণের সময় ব্যবসায়ের যথাযথ উন্নতির দিকে নজর না রেখে সামর্থ্যের চেয়ে অধিক মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরাও পর্ষদকে সন্তুষ্ট করতে এ ধরনের অযৌক্তিক মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা মেনে নেন।

পড়া হয়েছে 578 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শনিবার, 02 মে 2015 09:56