01262022বুধ
শিরোনাম:
বুধবার, 04 ফেব্রুয়ারী 2015 12:14

রফতানির ৫০০ কোটি টাকা দেশে আনেনি সোনালী ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
পরেও সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে রফতানি করা প্রায় পাঁচশ' কোটি টাকা দেশে আসেনি। বিল দীর্ঘদিন ধরেই মেয়াদোত্তীর্ণ রয়েছে। ৬৬০ কোটি টাকার সমপরিমাণ আমদানির বিল অব এন্ট্রি সংগ্রহ করেনি ব্যাংক। এছাড়া অনিয়ম করে চার রফতানিকারককে দেওয়া নগদ সহায়তার ৪২ লাখ ১৪ হাজার টাকা ফেরত না আসা, আড়াই লাখ ইউরো জালিয়াতিতে দায়ীদের শাস্তি না দেওয়াসহ সোনালী ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বাণিজ্যে বিভিন্ন অনিয়ম উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিদর্শনে। উত্থাপিত অনিয়মের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে গত ২৯ জানুয়ারি সোনালী ব্যাংকের এমডিকে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরিদর্শনটি চালানো হয় গত বছরের জুনভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে।


তবে সোনালী ব্যাংকের এমডি প্রদীপ কুমার দত্ত সমকালকে বলেন, রফতানিতে ৫শ' কোটি টাকা অপ্রত্যাবাসিত থাকা বা আমদানির বিল অব এন্ট্রি যথাসময়ে সংগ্রহ না করার বিষয়টি তার জানা নেই। সব নিয়ম মেনেই তারা ব্যাংকিং করছেন। এরপরও কাজ করতেগিয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু ত্রুটি হয়ে যায়। যা পরে শোধরানোর চেষ্টা করা হয়। তবে জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া আড়াই লাখ ইউরো তারা উদ্ধার করতে পারেননি। ওই ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সে সময়ই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনে পাওয়া তথ্য মতে, সোনালী ব্যাংকের ২১টি এডি শাখায় এক হাজার ১৯৪টি রফতানির বিলের বিপরীতে ৬ কোটি ২৯ লাখ ডলার দীর্ঘদিন ফেরত আসেনি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য ৪৯১ কোটি টাকা। বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রয়ণ নীতিমালা অনুযায়ী রফতানি বিল ফেরত না এলে গ্রাহকের পাশাপাশি ব্যাংককেও দায় নিতে হয়। তা সত্ত্বেও এক্ষেত্রে ব্যাংকের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ ছিল না বলে মনে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অপ্রত্যাবাসিত এসব রফতানি বিল ফেরত আনার সর্বাত্মক চেষ্টার পাশাপাশি ভবিষ্যতে রফতানি মূল্য যথাসময়ে ফেরত আনতে সোনালী ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ।

পরিদর্শনে আরও দেখা গেছে, সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ের গ্রাহক প্রতিষ্ঠান মেসার্স পদ্মা পলিকটন ফেব্রিক্স, গোমতি টেক্সটাইল ও গ্রামটেক নিট ডাইং ফিনিশিং অ্যান্ড গার্মেন্টসকে ২৫টি কেসের বিপরীতে বিধিবহির্ভূতভাবে ৪১ লাখ ২৯ হাজার ৫১৫ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ করপোরেট শাখার গ্রাহক মেসার্স কুশিয়ারা নিট কম্পোজিট ইন্ডাস্ট্রিকে ৬টি কেসের বিপরীতে বিধিবহির্ভূত নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে ৮৪ হাজার ৪১৫ টাকা। বিধিবহির্ভূত নগদ সহায়তার এসব অর্থ গ্রাহক থেকে আদায় করে সরকারি হিসাবে জমা দিতে বেশ আগেই নির্দেশনা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এখন পর্যন্ত তা কার্যকর না হওয়ায় শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।নিয়ম অনুযায়ী, আমদানি পণ্য দেশে আসার পর বিল অব এন্ট্রির কপি ব্যাংককে সংগ্রহ করতে হয়। তবে সোনালী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার ৪৮৩টি মেয়াদোত্তীর্ণ আমদানি বিলের বিপরীতে ৮ কোটি ৪৬ লাখ ডলার সমপরিমাণ ৬৬০ কোটি টাকার বিল অব এন্ট্রির সময়সীমা চার মাস পার হলেও তা সংগ্রহ করা হয়নি। এসব মেয়াদোত্তীর্ণ বিল সংগ্রহ করে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনালী ব্যাংকের ১৪টি শাখায় পিএডি (পেমেন্ট এগেইনস্ট ডকুমেন্ট) খাতে ১০ কোটি ২৯ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে সাত কোটি ২৮ লাখ টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে ১৭টি শাখার ২৯ কোটি টাকার বিশ্বাসের ঋণ বা এলটিআর বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৮১ লাখ টাকা। এছাড়া ব্যাংকের প্রতিদিনের বৈদেশিক মুদ্রার এক্সচেঞ্জ পজিশন পরবর্তী দিবসে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানানোর নিয়ম থাকলেও সোনালী ব্যাংক তা পালনে ব্যর্থ হয়ে আসছে।

সোনালী ব্যাংকের শিল্প ভবন করপোরেট শাখায় প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থা থেকে আড়াই লাখ ডলার চুরি হয় ২০১৩ সালের ৬ জুন। তার তিন দিনের মাথায় আরও আড়াই লাখ ইউরো চুরির চেষ্টা হয়। তবে ইউরো হিসাবে পর্যাপ্ত স্থিতি না থাকায় শেষ পর্যন্ত ব্যাংক পরের ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য এক বিভাগের পরিদর্শনে বিষয়টি ধরা পড়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও অর্থ উদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ব্যাংক তা পালন করেনি। এখন সে বিষয়ে সর্বশেষ কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তাও জানাতে বলা হয়েছে।

পড়া হয়েছে 788 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বুধবার, 04 ফেব্রুয়ারী 2015 12:26

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা