06022020মঙ্গল
শনিবার, 04 এপ্রিল 2020 20:03

দুটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর বরিশালে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ: ৭ পুলিশসহ আহত ২০

বরিশাল ব্যুরো: বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, বসতবাড়িতে হামলা-ভাংচুর লুটপাট হয়েছে। শনিবার দুপুরে ও বিকালে দুই দফার এ সহিংস ঘটনায় ৭ পুলিশসহ উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছেন। ভাংচুর করা হয়েছে ১০/১২টি মোটরসাইকেল। উত্তর বিজয়পুর এলাকায় একটি ডোবা বালু দিয়ে ভরাট করার কর্তৃত্ব নিয়ে এ সংঘর্ষের সুত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পারলেও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলা আওয়ামীলীগের নির্বাহী সদস্য ডি কোঅপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ (কার্লভ) নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক রাশেদুজ্জামান ঝিলাম (৪৫) উত্তর বিজয়পুর এলাকায় মৌরি ক্লিনিকের পাশে একটি ডোবা ক্রয় করেছেন। স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ড পৌর কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামীলীগের আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতিকুর রহমান শামীমকে দিয়ে তিনি ডোবা বালু দিয়ে ভরাট করান। বালু ভরাটের কাজটি না পেয়ে ক্ষিপ্ত হন একই এলাকার বাসিন্দা গৌরনদী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি সুমন মাহমুদ। উপজেলার টরকি বন্দরে ঝিলামের বাসায় শনিবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে সুমন মাহমুদের নেতৃত্বে ১০/১২ জন যুবক গিয়ে ঝিলাম ও তার স্ত্রীকে মারধর ও বাসার আসবাবপত্র ভাংচুর করে। পাল্টা হামলা হিসাবে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর আতিকুর রহমান শামিম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সান্টু ভূইয়া ও সাধারন সম্পদক লুৎফর রহমান দ্বীপের নেতৃত্বে প্রথমে সুমন মাহমুদের শ্বশুর বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পরে সুমন বাসায় গিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। সুমন মাহমুদ তার লোকজন নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলে দুপক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে গৌরনদী থানার ওসি গোলাম সরোয়ারসহ ৭ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। রাশেদুজ্জামান ঝিলাম অভিযোগ করে বলেন, শনিবার বিকেল পৌনে তিনটায় ছাত্রলীগ নেতা সুমনের নেতৃত্বে ১০/১২ জন সন্ত্রাসী তার বাসায় গিয়ে কেন তার লোকজনকে দিয়ে বালু ভরাট কাজ দেয়া হয়নি জানতে চান। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তার ওপর হামলা চালিয়ে পিটিয়ে আমাকে রক্তাক্ত জখম করে। তাকে রক্ষায় স্ত্রী শারমিন জাহান (৪০) এগিয়ে এলে তাকেসহ সন্তানদের মারধর করে বাসায় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ অভিযোগ অস্বীকার করে সুমন মোল্লা বলেন, বালু ভরাট নিয়ে বিরোধ হলে রাশেদুজ্জামান বিষয়টি মিমাংসার কথা বলে তাকে বাসায় ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে তার ওপর হামলা চালানো হয়। পরে রাশেদুজ্জামানের চাচাতো ভাই উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জোবায়েরুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫০/৬০ সন্ত্রাসী তার বাড়িতে হামলা করে বসতঘর ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় তার মা মিনারা বেগম (৫০) ও সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেনকে (৩৬) পিটিয়ে আহত করে হামলারীরা। সুমনের শ্বশুর টি এ্যান্ড মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক জাকির হোসেন (৪৮) অভিযোগ করে বলেন, বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জোায়েরুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪০/৫০ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে সুমনকে খুজতে থাকে। তাকে না পেয়ে বাড়ি ভাঙচুর করে। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জোবায়েরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সুমন মাহমুদের সঙ্গে তার কোন বিরোধ নেই। হামলার ঘটনার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা নেই। গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ছরোয়ার বলেন, হামলা ও সংঘর্ষের খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পড়া হয়েছে 38 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শনিবার, 04 এপ্রিল 2020 21:00