07232019মঙ্গল
শুক্রবার, 01 মার্চ 2019 19:42

একুশে পদকজয়ী পলান সরকার আর নেই

বাঘা (রাজশাহী) সংবাদদাতা গ্রামের পথে ঘুরে ঘুরে আর বই বিলি করবেন না পলান সরকার। বই আর পৃথিবীর মায়া ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি। শুক্রবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। পলান সরকারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ছেলে স্থানীয় খাগড়বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হায়দার আলী। তার বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। বার্ধক্যজনিত কারণে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন তিনি। পলান সরকারের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের বাউশা পূর্বপাড়া গ্রামে। নিজের টাকায় বই কিনে পাঠকের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতেন পলান সরকার। বইপড়ার এমন আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য তাকে ২০১১ সালে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। দেশের জাতীয় দৈনিকগুলোতে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়। তাকে নিয়ে ‘সায়াহ্নে সূর্যোদয়’ নামে একটি নাটক তৈরি হয়েছে। পলান সরকারের আসল নাম হারেজ উদ্দিন। তবে দেশব্যাপী তিনি পলান নামেই পরিচিতি পেয়েছেন। ১৯২১ সালে জন্ম নেয়া এই বই পাগল গুণী ব্যক্তিটি প্রথম দিকে স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিলি শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধা তালিকায় ১ থেকে ১০ ক্রমিক নম্বরদের তিনি একটি করে বই উপহার দিতেন। তবে এর কিছু দিন পর থেকে সবাইকে বই দেয়া শুরু করেন। এভাবে পায়ে হেঁটে একটানা ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে বই বিলি করেছেন পলান সরকার। ৬ ছেলে ও ৩ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন পলান সরকার। পলান সরকারের মৃত্যুতে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সাংসদ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এছাড়া বাঘা উপযজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা, উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দীন লাভলু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শফিউর রহমান শফি, বাউসা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। শনিবার সকাল ১০টায় স্থানীয় হারুন-অর-রশিদ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক গোরস্থানে পলান সরকারকে দাফন করা হবে বলে জানান পলান সরকারের ছেলে হায়দার আলী।
পড়া হয়েছে 61 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শুক্রবার, 01 মার্চ 2019 19:56