12132017বুধ
শনিবার, 30 সেপ্টেম্বর 2017 10:42

প্রধান আসামি আক্কাছ গ্রেপ্তার

আক্কাছ আক্কাছ
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক ময়মনসিংহের গৌরীপুরে চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বেঁধে কিশোর সাগরকে পিটিয়ে হত্যার মামলার প্রধান আসামি আক্কাছ আলী ওরফে আক্কা (৪০) অবশেষে ধরা পড়েছেন। গতকাল শুক্রবার ভোরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা। র‌্যাব জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আক্কাছ আলী কিশোর সাগর হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। এর আগে এ মামলায় রিয়াজ উদ্দিন (৩০) ও ফজলুর রহমান (৪০) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা দুজনই জেলহাজতে আছেন। আক্কাছ আলীকে নিয়ে এ মামলায় তিনজন গ্রেপ্তার হলো। আক্কাছকে গ্রেপ্তার করার পর গতকাল বিকেলে ময়মনসিংহে র‌্যাব কার্যালয়ে র‌্যাব-১৪-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শরিফুল ইসলাম জানান, আক্কাছ আলী ওরফে আক্কাকে গ্রেপ্তারের জন্য ঘটনার পর থেকেই চেষ্টা চালাচ্ছিল র‌্যাব। কিন্তু আক্কাছ সব সময়েই স্থান পরিবর্তন করে চলছিলেন। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অবস্থান নিশ্চিত হয়ে শেষে গতকাল ভোরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শম্ভূপুর লেভেলক্রসিং এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ভৈরব হয়ে সিলেটের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আক্কাছকে গ্রেপ্তার অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের ভৈরব ক্যাম্পের কম্পানি কমান্ডার মেজর শেখ নাজমুল আরেফিন পরাগ এবং ভারপ্রাপ্ত কম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজ্জাদ হোসেন। গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের চরশ্রীরামপুরে আক্কাছ আলীর মালিকানাধীন গাউছিয়া মত্স্য প্রজননকেন্দ্রের একটি পানির মোটর চুরির অভিযোগ এনে গত সোমবার ভোরে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয় কিশোর সাগরকে। পরদিন মঙ্গলবার তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই সাগরের বাবা শিপন মিয়া গৌরীপুর থানায় আক্কাছ আলী, তাঁর ভাই জুয়েল মিয়া, কাইয়ূম, হাসু, সোহেল ও সাত্তারের নাম উল্লেখসহ অজানা আরো পাঁচজনের নামে একটি হত্যা মামলা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কিশোর সাগরকে হ্যাচারির মালিক আক্কাছ আলী নিজ হাতে পেটান এবং পরে কর্মচারী ও ভাইদের পেটানোর নির্দেশ দেন। এলাকাবাসী জানায়, নব্য ধনী আক্কাছ আলী এলাকায় কাউকেই পাত্তা দিতেন না। ছোটখাটো বিষয়েও তিনি এলাকার নিরীহ লোকজনকে যখন-তখন নির্যাতন করতেন। এদিকে সাগর হত্যা মামলাটি গৌরীপুর থানা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গৌরীপুর থানার ওসি দেলোয়ার আহমেদ গতকাল বলেন, মামলাটি এখন থেকে জেলা ডিবি পুলিশ তদন্ত করবে।
পড়া হয়েছে 30 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শনিবার, 30 সেপ্টেম্বর 2017 10:51