08242017বৃহঃ
শুক্রবার, 11 আগস্ট 2017 00:03

কুষ্টিয়ায় গাছে বেঁধে শিশু নির্যাতন

কুস্টিয়া সংবাদদাতা কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মোবাইল ফোন চুরির অপবাদে আমগাছের সঙ্গে বেঁধে দুই শিশুকে নির্মমভাবে পিটিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় শিশু নির্যাতনের এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে। নির্যাতিত শিশু জুয়েল চরমণ্ডলপাড়া গ্রামের সিরাজুলের ছেলে এবং আসিফ একই এলাকার নিশানের ছেলে। এ ঘটনায় কুষ্টিয়াজুড়ে তোলপাড় চলছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও দুই শিশুর পরিবার সূত্র জানায়, ৪-৫ দিন আগে কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ার চরমণ্ডলপাড়া এলাকার রূপালী নামে এক মহিলার মোবাইল ফোন চুরি হয়। ওই ঘটনায় একই এলাকার ৭ বছরের শিশু জুয়েল ও আসিফকে সন্দেহ করে রূপালী। বুধবার বিকালে একই এলাকার প্রভাবশালী তানজিল ও মীর আক্কাস ওরফে মিরু শিশুদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তানজিলের শ্বশুর বাড়ির সামনে আমগাছের সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। দুই শিশু মোবাইল ফোন চুরির কথা অস্বীকার করলেও তাদের মারপিট করা হয়। পরে শিশু আসিফের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নিয়ে আসিফকে ছেড়ে দেয় তারা। বেধড়ক মারপিটে শিশু জুয়েল গুরুতর আহত হয়ে পড়লে সন্ধ্যায় তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক মেডিকেল অফিসার হুসাইন মহম্মদ শিহাব জানান, শিশুটির শরীরের কয়েকটি স্থানে চাপা রক্ত জমাট বাধার চিহ্ন রয়েছে। চাপড়া ১নং ওয়ার্ডের সদস্য নুর মহম্মদ জানান, নির্যাতনের ভিডিওটি বুধবার রাতেই দেখেছি। এ ব্যাপারে নির্যাতিত ওই শিশুর পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেয়ার কথা বলা হয়েছে। কুমারখালী থানা পুলিশ এ ঘটনার অন্যতম হোতা ছেঁউড়িয়ার চরমণ্ডলপাড়ার তানজিল ও তার শাশুড়ী রোকেয়া খাতুনকে বুধবার রাতেই গ্রেপ্তার করে। তবে এ ঘটনার অপর হোতা মীর আক্কাস ওরফে মিরুকে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। গতকাল দুপুরে পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত দুই জনকে আদালতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল খালেক জানান, নির্যাতিত শিশুর পরিবার মামলা করতে চাননি। আমরা তাদের থানায় ডেকে নিয়ে মামলা করিয়েছি। নির্যাতিত শিশু জুয়েলের বড় ভাই রবজেল খান বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় এ ঘটনায় গতকাল তানজিল, রোকেয়া খাতুন ও মীর আক্কাস ওরফে মিরুকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। এলাকাবাসী এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পড়া হয়েছে 17 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শুক্রবার, 11 আগস্ট 2017 00:11