11242020মঙ্গল
শিরোনাম:
বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবার 2020 16:24

বেগমগঞ্জে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলা ছিল

লিখেছেন 
আইটেম রেট করুন
(0 ভোটসমূহ)
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলার প্রমান পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় এএসপি (বেগমগঞ্জ সার্কেল), বেগমগঞ্জ থানার ওসি, এএসআই, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার ও চৌকিদারের অবহেলা ছিল। প্রতিবেদনে ওই ঘটনায় নির্যাতিতার স্বামী ও ভাশুরের (স্বামীর বড় ভাই) আচরণ সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির হাইকোর্টে দাখিল করা প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের মাধ্যমে এ প্রতিবেদন গতকাল বৃহষ্পতিবার আদালতে দাখিল করা হয়। ওই প্রতিবেদনে প্রধান অভিযুক্ত দেলোয়ারকে ঘটনার মাস্টার মাইন্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে অবহেলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এদিকে বিটিআরসির পক্ষ থেকে হাইকোর্টকে জানানো হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) থেকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বিটিআরসিকে ফুটেজ সরানোর কথা ই-মেইলের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে। আদালতের নির্দেশনা মেনে ভিডিও’র একটি কপি সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর একটি কপি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমাও দেওয়া হয়েছে। গতকাল লিখিতভাবে এ তথ্য আদালতকে জানিয়েছে বিটিআরসি। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে গতকাল বৃহষ্পতিবার এসব প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। আদালত এবিষয়ে আগামী ২৯ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। নোয়াখালীর অতিরিক্তি জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন কমিটির প্রতিবেদন আদালত পাঠ করেন। আর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রন কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য আদালতকে জানান আইনজীবী ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই রাকিব। এসময় আদালতে যুক্ত ছিলেন বিষয়টি আদালতের নজরে আনা আইনজীবী অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না ও আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। এর আগে হাইকোর্ট গত ৫ অক্টোবর এক আদেশে ওই ঘটনায় কার অবহেলা তা অনুসন্ধানে নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেন। কমিটির অপর দুই সদস্য ছিলেন নোয়াখালী জেলা সমাজ সেবা অফিসার এবং চৌমুহনী সরকারী এস এ কলেজের অধ্যক্ষ। এ কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এ নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। গত ২ সেপ্টেম্বরের এই ঘটনার ভিডিও ৪ অক্টোবর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক একজন নারীকে বিবস্ত্র করে মারধর করছে। তাদের একজন পা দিয়ে ওই নারীর মুখ চেপে ধরেছে। বার বার আকুতি জানানোর পরও তার ওপর নির্যাতন থামেনি। এরপর ওই নারীকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় স্থানীয় পুলিশ। পাশাপাশি এ ঘটনায় নির্যাতিতা নারী একটি মামলা করেন। নারী নির্যাতনের ওই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন গত ৫ অক্টোবর আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না ও আব্দুল্লাহ আল মামুন আব্দুল্লাহ আল মামুন। এরপর আদালত আদেশ দেন।
পড়া হয়েছে 10 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবার 2020 17:01

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা