10292020বৃহঃ
শিরোনাম:
রবিবার, 27 সেপ্টেম্বর 2020 22:03

বিমরাডের সেমিনারে তথ্য: করোনা ভাইরাসের আঘাতে ক্ষতির মুখে ৪০ লক্ষ পর্যটন কর্মী

লিখেছেন 
আইটেম রেট করুন
(0 ভোটসমূহ)
নিউজফ্ল্যাশ প্রতিবেদক: ওয়াল্ড ট্রাভেল এন্ড ট্যুরিজমের হিসাব অনুযায়ী এর মতে করোনা ভাইরাসের আঘাতে (কোিভড-১৯) মহামারী ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পে বিশ্বব্যাপী ৫০ মিলিয়ন চাকুরি হ্রাস করতে পারে। এর প্রভাবে এশিয়া অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া ইউনাইটেড ট্যুরিজম ওর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে অনুমান করা হয়েছে যে, ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটকের আগমন ২০ থেকে ৩০ভাগ কমে যেতে পারে। যার ফলে আন্তর্জাতিক পর্যটন রপ্তানি খাতে ৩০০ থেকে ৪৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লোকসান হতে পারে। তাছাড়া বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান প্রায় শতকরা তিনভাগ। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প মারাত্মক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে এবং ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন পর্যটন শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৪০ লক্ষ পর্যটন কর্মী। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ মেরিটাইম রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট (বিমরাড) কর্তৃক আয়োজিত এক ওয়েবিনার সেমিনারে আজ এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সমুদ্র ও উপকুলভিত্তিক পর্যটন প্রসারে প্রয়োজনীয় ভবিষ্যত কর্মপন্থা’ শীর্ষক এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী। বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ মহিবুল হক। অনুষ্ঠানে বিমরাডের চেয়ারম্যান সাবেক নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ স্বাগত বক্তব্য ও বিমরাডের উপদেষ্টা রিয়ার এডমিরাল কাজী সারোয়ার হোসেন (অব.) সমাপনী বক্তব্য দেন। বিমরাডের মহাপরিচালক কমডোর কাজী এমদাদুল হক (অব.) সঞ্চালনা করেন। এতে বিমরাড বাংলাদেশে সমুদ্র ও উপকূলভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনা এবং প্রসার শর্ষিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণা কর্মর্কতা হোসনে নাসরিন। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) প্রেসিডেন্ট মোঃ রাফিউজ্জামান ‘সমুদ্র ও উপকূলভিত্তিক পর্যটন প্রসারে প্রতিবন্ধকতা ও কোভিড-১৯ জনিত ক্ষয়ক্ষতি নিরসনে উদ্যোগ এবং পরিকল্পনা এবং কোভিড-১৯ জনিত ক্ষয়ক্ষতিসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা নিরসনে গৃহীত সরকারী পদক্ষেপ ও প্রণোদনা এবং ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ । এছাড়া পর্যটন শিল্প বিকাশে অবকাঠামো উন্নয়ন, সেবার মান বৃদ্ধিকরণ এবং সর্বোপরি পর্যটন দেশ হিসাবে ব্রান্ডিং উন্নয়নের বিষয়েও অনুষ্ঠানে গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে বক্তারা বলেন, করোনা ভাইরাসের এর ফলে গভীর সংকটে নিপতিত পর্যটন শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখাই হচ্ছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তারা বলেন, পর্যটক বিশ্লেষকদের মতে কোভিড-১৯ উত্তরকালে বিশ্বে যে কয়েকটি খাতের অধিকতর উন্নতি ঘটবে তার মধ্যে পর্যটন খাত অন্যতম। আবার এ কথাও এখন বলা হচ্ছে যে, এখন থেকে আগামী দুবছর লং হাউল ট্যুরিজম নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ ট্যুরিজম এর উত্থান অনেকটাই অবশ্যম্ভাবী। সে লক্ষ্যে আমাদেও অভ্যন্তরীণ ট্যুরিজমে আগ্রহীদের জন্য নতুন নতুন পর্যটন আকর্ষণ চিহ্নিত করা এবং সেগুলোতে সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা একান্ত প্রয়োজন। তার পাশাপাশি বিপণন এবং প্রচারের কাজটি যদি অধিকতর দক্ষতার সাথে করা যায় তাহলে আমাদের পর্যটন খাত আবারও ঘুড়ে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। এদিকে বক্তারা বলেন, যেকোন দেশের আর্থসামাজিক এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়নে পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব অপরসীম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশ। এখানে রয়েছে বৈচিত্রময় পাহাড়, দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, নৈসর্গিক সৌন্দর্যময় কোরালদ্বীপ, জীববৈচিত্র্যে ভরা সুন্দরবন আছে বিস্তৃত বন্যজীবন। পর্যটন শিল্পের সব উপাদান থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এখনো পর্যটন দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করতে সামর্থ্য হয়নি। আলোচকরা আশা করেন, বিভিন্ন ধররের সভা সেমিনারের মাধ্যম দেশের সমুদ্র ও সমুদ্র উপকুল ভিত্তিক পর্যটন শিল্পের আকর্ষণসমূহকে ব্যাপকভাবে প্রচার, সমুদ্রের অনিন্দ্য-রূপ ও সৌন্দর্যকে ভিত্তি করে পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ এবং উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত হিসাবে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধকরণে ভূমিকা রাখবে।
পড়া হয়েছে 24 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: রবিবার, 27 সেপ্টেম্বর 2020 22:11

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা