12082019রবি
বৃহস্পতিবার, 28 নভেম্বর 2019 07:50

ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপন করবে

লিখেছেন 
আইটেম রেট করুন
(0 ভোটসমূহ)
বিশেষ প্রতিনিধি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপিত হবে বিশ্বজুড়ে। আগামী বছর ১৭ মার্চ জাতিসংঘের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো (ইউনাইটেড নেশনস এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন) সদস্যভুক্ত বিশ্বের ১৯৫টি দেশের সঙ্গে যৌথভাবে এ দিবসটি উদযাপন করবে। এ-সংক্রান্ত বাংলাদেশের প্রস্তাব ইউনেস্কোর ৪০তম সাধারণ অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। গতকাল বুধবার ইউনেস্কোর সদর দপ্তর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এই সম্মেলন শেষ হয়। ১২ নভেম্বর এ সম্মেলন শুরু হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রাতে মুজিববর্ষ উদযাপন-সংক্রান্ত এক সভায় এ সুখবর সবাইকে জানান। সম্মেলনে অংশ নেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন সমকালের কাছে এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ প্রস্তাব পাসের ফলে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ইউনেস্কোর সদস্যভুক্ত প্রতিটি দেশে একযোগে পালনের সুযোগ সৃষ্টি হলো। প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দপ্তরেও দিবসটি এখন উদযাপিত হবে। একই সঙ্গে যেসব দেশে বাংলাদেশের মিশন আছে, সেখানেও এ দিবস উদযাপন হবে। সচিব জানান, ইউনেস্কোর এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার কর্মের ও রাজনীতির বিশ্ব স্বীকৃতি মিলল। ইউনেস্কো সাধারণত রাজনীতিবিদদের জন্মশতবার্ষিকী পালনে সম্মত হয় না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকজন রাজনীতিবিদের অন্যতম, যিনি এই বিরল সম্মান লাভ করলেন। এই সম্মান বাংলাদেশের সম্মান। জানা গেছে, প্যারিসে ইউনেস্কোর ৪০তম সাধারণ অধিবেশনে সংস্থাটির সাধারণ পরিষদের সভাপতি আলতে সেনজাইজারের সভাপতিত্বে এবং ইউনেস্কো মহাপরিচালক আঁদ্রে আজুলে এবং বিভিন্ন কমিটি ও কমিশনের চেয়ারপারসনদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত প্লেনারি সেশনে এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশ সরকার এরই মধ্যে ২০২০ সালকে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর ফলে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের সঙ্গে ইউনেস্কোও যুক্ত হওয়ায় আগামী ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ১৭ মার্চ ২০২১ পর্যন্ত মুজিববর্ষ উদযাপনকালে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিম লেও বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন আরও ব্যাপক পরিসরে বিশ্ববাসীকে অবহিত করার সুযোগ সৃষ্টি হলো। বাংলাদেশ ইউনেস্কো কমিশন থেকে জানা গেছে, এ বছরের এপ্রিলে ইউনেস্কো সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ২০৬তম ইউনেস্কো নির্বাহী বোর্ড সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যৌথভাবে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তাব সভার ৪০তম অধিবেশনে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। এরপর ১৪ নভেম্বর ইউনেস্কো সাধারণ সভার চলতি অধিবেশনের প্রোগ্রাম এবং বাজেট সম্পর্কিত সভায় প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সুপারিশসহ প্লেনারি সেশনে পাঠানো হয়। সেখানে ইউনেস্কোর সদস্যভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষা ও সংস্কৃতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের এ বিশাল অর্জনের ঐতিহাসিক মুহূর্তে ইউনেস্কো সাধারণ সভার ৪০তম অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন, বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল মনজুর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। যেভাবে এ সিদ্ধান্ত এলো :ইউনেস্কো শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে। ৫০ বছর বা এর গুণিতক যে কোনো বার্ষিকী যদি ইউনেস্কোর কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট হয়, তাহলে ওই দিবস যৌথভাবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেই হিসেবেই ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী একযোগে উদযাপনের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তাব বিশ্বস্বীকৃতি পেল। এর ফলে ইউনেস্কো বা এর ১৯৫ সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ বা দ্বিপক্ষীয়ভাবে এই দিবসটি উদযাপন করতে পারবে বাংলাদেশ। জানা গেছে, ইউনেস্কো সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী বিশ্বব্যাপী উদযাপনের ব্যাপারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একাধিক যুক্তি তুলে ধরা হয়। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বিশ্বস্বীকৃতির জন্য ২০১৮ সালে কাজ শুরু করে বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন (বিএনসিইউ)। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসাইনের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। যারা বিএনসিইউর সহায়তায় ইউনেস্কোতে উপস্থাপনের জন্য একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে। তবে চলতি বছরের শুরুতে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ডা. দীপু মনি দায়িত্বভার গ্রহণের পর তিনি প্রথম যে ফাইলটি স্বাক্ষর করেন, তা হচ্ছে এই প্রস্তাব। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর গত এপ্রিল মাসে ইউনেস্কোর ২০৬তম বোর্ড সভায় প্রস্তাবনাটি উপস্থাপন করা হয়। তবে এই প্রস্তাবে কমপক্ষে দুটি সদস্য রাষ্ট্রের লিখিত সমর্থনের প্রয়োজন পড়ে। বাংলাদেশের এই প্রস্তাবে ভারত, জাপান, কিউবা, নেপাল ও পোল্যান্ড লিখিত সমর্থন দেয়। ২০৬তম বোর্ড সভায় প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এর পর চলতি মাসের ১২ থেকে ২৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৪০তম জেনারেল কনফারেন্সে এপেক্স কমিশনে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাস হলো।
পড়া হয়েছে 10 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, 28 নভেম্বর 2019 07:57

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা