02172019রবি
রবিবার, 10 ফেব্রুয়ারী 2019 19:16

উপজেলাভিত্তিক মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী

লিখেছেন 
আইটেম রেট করুন
(0 ভোটসমূহ)
বিশেষ প্রতিনিধি তৃনমূল পর্যায় থেকে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ণ করে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাষ্টার প্ল্যান করলে কাজ করলে মানুষের কাছে দ্রুত সেবা পৌছে দেওয়া সম্ভব। রোববার সকালে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, সচিব এসএম গোলাম ফারুক এবং মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যত্রতত্র ভবন, রাস্তা ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ রোধ এবং কৃষি জমি রক্ষার লক্ষ্যে সকল উপজেলা সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।এজন্য একটি মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে প্রণয়ণ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘জনগণের অর্থ সাশ্রয় ও কৃষি জমি রক্ষায় উপজেলাগুলোতে অপরিকল্পিত উন্নয়ন অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং রাস্তা ও চলাচলের পরিকল্পিত হতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাস্টার প্ল্যানের লে-আউটে আবাসন, হাসপাতাল, মার্কেট, স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠ, কৃষি-খামার, শিল্প কারখানা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে। আমরা যদি যথাযথভাবে এটি করতে পারি, তাহলে জনগণ এটি গ্রহণ করবে। ৬০টি জেলা গঠনে বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে বঙ্গবন্ধু প্রতিটি জেলাকে একটি প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে তৈরি করেন। ‘যাতে তৃণমূল পর্যায় থেকে আমরা উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারি।’ শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে এবং সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে স্থানীয় জনগণের চাহিদা পূরণে সরকার পৃথকভাবে প্রতিটি জেলায় উপজেলায় বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন করছে। এতে প্রতিটি উপজেলার আকার, জনসংখ্যা এবং ভৌগলিক সম্ভাবনা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের ১০ বছরে দেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল।’ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গ্রাম এলাকায় সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, জনস্বাস্থ্য এবং উন্নত মানের সড়কের ব্যবস্থা থাকতে হবে। দেশের উন্নয়নে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালীকরণ, তাদের স্থানীয় সরকার উন্নয়ন উদ্যোগে সম্পৃক্ত করা এবং সব উন্নয়ন টেকসই করার লক্ষ্যে তাঁর সরকার প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ করতে চায়। তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছি এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে। এলজিআরডি মন্ত্রণালয় যদি যথাযথভাবে কাজ করে তাহলে আমরা ব্যাপক আকারে দারিদ্র নিরসন করতে সক্ষম হবো।’ এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে যদি আমরা দারিদ্র্যমুক্ত করতে পারি তাহলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে। সংবিধান লংঘনকারীদের কারণে দেশ বারবার পিছিয়ে গেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা ক্ষমতায় এসে দেশের উন্নয়ন বাদ দিয়ে নিজেদের উন্নয়ন নিয়ে ব্যস্ত ছিল। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ না করে, তারা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। নিজেরা সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।’ দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধিশীল করতে সরকারি কর্মকর্তাদের নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে আরো বেশি পরিশ্রম করারও আহ্বান প্রধানমন্ত্রী।
পড়া হয়েছে 10 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: রবিবার, 10 ফেব্রুয়ারী 2019 19:24