07232019মঙ্গল
বুধবার, 06 ফেব্রুয়ারী 2019 11:08

নাগরিকত্ব দিয়ে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে হবে- অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

লিখেছেন 
আইটেম রেট করুন
(0 ভোটসমূহ)
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে মঙ্গলবার ইউএনএইচসিআরের বিশেষ দূত হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।  কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে মঙ্গলবার ইউএনএইচসিআরের বিশেষ দূত হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
কক্সবাজার সংবাদদাতা হলিউড অভিনেত্রী ও জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেছেন, ‘বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমরা। তারা বর্তমানে রাষ্ট্রবিহীন অবস্থায় বসবাস করছে। তাদের অবশ্যই নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়েও নিতে হবে।’ মঙ্গলবার কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন শেষে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। জোলি আরো বলেন, মিয়ানমার বাহিনী তাদের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। নারকীয় নির্যাতনের শিকার হয়েই লাখ লাখ রোহিঙ্গা আজ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। নির্যাতিত এই রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্ববাসীর সহায়তা চেয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এত মানুষের আশ্রয় বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তাই আন্তর্জাতিক বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে রোহিঙ্গাদের ভরণ-পোষণসহ অন্যান্য সহযোগিতায়। হলিউড অভিনেত্রী জোলি বলেন, “আমি রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। এক নারী আমাকে বলেছেন, ‘আমাদের এখানেই গুলি করে মেরে ফেলেন, তবুও এখন আমরা ওই দেশটিতে যাব না’। এই নারীর কথায় আমি বুঝতে পেরেছি, সেখানে এখনো পরিস্থিতি ভালো হয়নি। অর্থাৎ সেখানে নিরাপদ পরিবেশ এখনো সৃষ্টি হয়নি। তাই আগে সেখানে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তারপরই সেখানে ওদের ফিরিয়ে দিতে হবে।” এ রকম নিরাপদ পরিবেশ তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই এগিয়ে আসতে হবে বলে জানান জোলি। এর আগে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুতুপালং এক্সটেনশন-৪ ক্যাম্পে পৌঁছান এবং সেখানকার শিক্ষাকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন। পরে কুতুপালং ৩ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি। এই আশ্রয়শিবিরে জোলি নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্দশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। দুপুরে কুতুপালং ৪ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে হোপ ফাউন্ডেশন পরিচালিত হাসপাতাল পরিদর্শন করেন তিনি। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি দুই দিনের সফরে কক্সবাজারে আসেন। গত সোমবার টেকনাফের চাকমারকুল রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেন তিনি। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনে তিনি উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেন। সারা দিন এই রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ব্যস্ত সময় পার করেন তিনি। বুধবার সকালে তিনি ঢাকায় যাবেন। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের দেখতে বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এর আগে অন্তত চারবার তাঁর বাংলাদেশ সফর বাতিল করা হয়। এবার পাঁচ দিনের সফরে এসেছেন তিনি। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
পড়া হয়েছে 72 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শুক্রবার, 15 ফেব্রুয়ারী 2019 13:08