09212018শুক্র
শিরোনাম:
বৃহস্পতিবার, 13 সেপ্টেম্বর 2018 16:41

বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষার মান দেখতে হবে- প্রধানমন্ত্রী

লিখেছেন 
আইটেম রেট করুন
(0 ভোটসমূহ)
বিশেষ প্রতিনিধি বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এসব বিষয় মনিটর করবে। কারণ বেসরকারি খাতে এখন অনেক মেডিকেল কলেজ গড়ে উঠছে। কিন্তু সেগুলোতে পড়াশোনাটা কেমন হচ্ছে তা আমাদের দেখতে হবে। সেখানে প্রকৃত ডাক্তার গড়ে উঠছে কিনা সেটা আমাদের দেখা দরকার। বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও কনভেনশন সেন্টার, ডায়াগনস্টিক ও অনকোলজি ভবন এবং ডক্টরস’ ডরমেটরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, যাতে একটা মান সম্মত শিক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করা যায় সে ব্যবস্থাটা আমরা করতে চাই। চিকিৎসা সেবার মানউন্নয়ন করতে চাই। আর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তুলতে বহুমুখী পরিকল্পনা আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে রাজশাহীতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। রাজশাহী এবং রংপুরে যে সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে সেগুলোকে এই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এফিলিয়েটেড হতে হবে। চট্টগ্রামে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। চট্টগ্রামে এবং আশপাশের জেলার যে কয়টি মেকিলে কলেজ রয়েছে সেইগুলো এই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এফিলিয়েটেড থাকবে। ঠিক সেইভাবে সিলেটে যে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে তার সঙ্গে সিলেটের সবগুলো মেডিকেল কলেজ এফিলিয়েটেড থাকবে। তিনি বলেন, এখনও যেসব বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নাই সেগুলো বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এফিলিয়েটেড থাকবে, কেবল ঢাকা মেডিকেল কলেজ বাদে। আর ঢাকা মেডিকেল কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এফিলিয়েটেড সেটা ঐভাবেই থাকবে। এর বাইরে যেগুলো নতুন সব সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ যখন ঐ বিভাগে বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে তার সঙ্গে এফিলিয়েটেড হয়ে যাবে। শেখ হাসিনা বলেন, এসব মেডিকেল কলেজে কি পড়াশোনা হচ্ছে, আদৌও সেখানে কোন পড়াশোনা হচ্ছে কি না, সত্যিকার ডাত্তার তৈরী হচ্ছে নাকি রোগী মারা ডাক্তার হচ্ছে সেটা আমাদের দেখা দরকার। তিনি বলেন, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেবল পোষ্ট গ্রাজুয়েট স্টাডি এবং রিসার্চ হবে আর গ্রাজুয়েশনসহ অন্যান্য কর্মকান্ড সব মেডিকেল কলেজে সম্পন্ন হবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেভাবে হয়। প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের বলেন, জনগণের চিকিৎসা সেবার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে। বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা যেন আন্তর্জাতিক মানের হয় সেভাবে কাজ করতে হবে। গবেষণার প্রতি গুরুত্বারোপ করে চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের আরো গবেষণার প্রতি জোর দিতে হবে। মানুষের যাতে রোগ না হয় সে ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নিবেন। আমরা সবধরনের সহযোগিতা করব। তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীদের প্রতি আমি অনুরোধ করব জনগণের চিকিৎসাসেবা প্রদানে নিজেদের উৎসর্গ করবেন। ফলে এই বিশ্ববিদ্যালয় কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে সেন্টার অব এক্সিলেন্সে পরিণত করতে তাঁর সরকারের নানামুখী উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য হাসপাতালের কেবিন ব্লকের উত্তর পাশে ৩ দশমিক ৮৩ একর, বেতার ভবনের ২ দশমিক ৭৬ একর এবং হোটেল শেরাটনের সামনে ২ দশমিক ১৩ একর জমির স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অটিস্টিক শিশুদের ¯œায়ু বিকাশজনিত সমস্যা সমাধানের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরো-ডিসঅর্ডারস অ্যান্ড অটিজম চালু করা হয়েছে। চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মান নিশ্চিতকরণে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগে বৈকালিক স্পেশালাইজড কনসালটেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অচিরেই অন্যান্য বিভাগগুলোতেও এই সার্ভিস চালু হবে বলে আমি আশা করি। এতে করে দেশের মানুষ কমমূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা পেতে সক্ষম হবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে জরুরি বিভাগ চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ হতে এ পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ৩৯ জন চিকিৎসককে ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষ যেন স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্য মাথায় রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ জন্য ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে গরীব মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা এবং ৩০ প্রকার ওষুধ পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশে যাতে আরও বেশি হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে ওঠে সে জন্য হাসপাতালের ও চিকিৎসার বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ওপর ট্যাক্স কমিয়ে দিয়েছি। আমরা চাই চিকিৎসা ব্যবস্থাটা যেন একটা শিল্প হিসেবে গড়ে উঠে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়র সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. কনক কান্তি বড়–য়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব জি এম সালেহ উদ্দিন স্বাগত বক্তৃতা করেন এবং ঢাকাস্থ কোরীয় রাষ্ট্রদূতের পক্ষে চোও মিন জো বক্তৃতা করেন। প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মো. জুলফিকার রহমান অনুষ্ঠানে প্রকল্পের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিদেশি কূটনিতিকবৃন্দ, শিক্ষাবিদ এবং পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
পড়া হয়েছে 5 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, 13 সেপ্টেম্বর 2018 16:49

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা