10192018শুক্র
সোমবার, 06 আগস্ট 2018 18:52

সড়ক পরিবহন আইনের শর্তসাপেক্ষে থাকছে মৃত্যুদন্ডের বিধানও

লিখেছেন 
আইটেম রেট করুন
(0 ভোটসমূহ)
বিশেষ প্রতিনিধি বেপরোয়া যান চলাচল বা অবহেলাজনিত কারণে সড়কে কারও মৃত্যু হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদন্ডের বিধান রাখা হলেও শর্তসাপেক্ষে মৃত্যুদন্ডের কথাও বহাল রেখে সড়ক আইনের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে কেউ ইচ্ছা করে বাস চাপা দিয়ে কাউকে হত্যা করলেই কেবল মৃত্যুদন্ডের এ ধারাটি প্রযোজ্য হবে। সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। আলোচ্য সূচীতে না থাকলেও বিশেষ বিবেচনায় প্রস্তাবটি (সম্পূরক এজেন্ডা) উত্থাপন করা হয়েছে। গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে যে নয়টি দাবি জানিয়েছে তাদের মধ্যে প্রথমেই ছিল ‘বেপোরোয়া ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই শাস্তির সংবিধানে সংযোজন করতে হবে।’ সরকার এই নয় দাবি মেনে নেয়ার কথাও বলেছে। আর আইনে এই বিষয়টি সংযোজন থাকলেও তা পুরোপুরি নির্ভর করছে পুলিশের ওপর। বাহিনীটি পুলিশ তদন্ত করে যদি মনে করে এটি হত্যা, তাহলেই দন্ডবিধিার ৩০২ ধারায় বিচার হবে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘মোটরযান দুর্ঘটনায় আহত বা প্রাণহানি হলে পেনাল কোড অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তবে শর্ত থাকে যে, পেনাল কোডে যা কিছু থাকুক না কেন অবহেলাজনিত কারণে গুরুতরভাবে আহত বা প্রাণহানি হলে পাঁচ বছরের কারাদন্ড বা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে।’ এর সাথে ৫ লাখ টাকার জরিমানা করার বিধানও আইনে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন আইনে মোটরযান মালিককে ২০০৬-এর শ্রম আইন অনুসারে মোটরযান চালকের সঙ্গে লিখিত চুক্তি করতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া ও চুক্তি ছাড়া কেউ গাড়ি চালাতে পারবে না। চালককে কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস ও ২১ বছর বয়সী হতে হবে। আর নিজের গাড়ি চালালে বয়স ১৮ বছর হতে হবে। নতুন এই আইনে বেপরোয়াভাবে বা অবহেলা করে গাড়ি চালানোর কারণে কেউ গুরুতর আহত বা নিহত হলে মামলা হবে দন্ডবিধির ৩০৪ (খ) ধারায়। এই ধারায় সাজা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদন্ড বা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা। এর আগে এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদন্ডের বিধান ছিল। ২০১৭ সালের মার্চে নীতিগত অনুমোদন হওয়া খসড়ায় গুরুতর আহত বা প্রাণহানির জন্য সর্বোচ্চ সাজা ছিল তিন বছরের কারাদন্ড। এখন সব শ্রেণির সর্বসম্মত মত অনুযায়ী পাঁচ বছর করা হয়েছে, অর্থদন্ডের বিষয়ে সীমা দেওয়া নেই। এ সময় সড়ক পরিবহন বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ডে দুর্ঘটনা যদি উদ্দেশ্যমূলক হিসেবে প্রমাণিত হয় তাহলে তা দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় (হত্যা, সর্বোচ্চ শাস্তি ) মৃত্যু দন্ড দেওয়া যাবে। আর চালকের কারণে প্রণহানি হয়ে থাকলে ৩০৪ (বি) ধারা অনুযায়ী সাজা দেওয়া হবে। তদন্ত কর্মকর্তাই ঠিক করবেন- অপরাধ কোন ধারায় যাবে।’
পড়া হয়েছে 35 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: সোমবার, 06 আগস্ট 2018 18:59