09222018শনি
শিরোনাম:
শুক্রবার, 04 মে 2018 11:55

মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যেতে হবে

লিখেছেন 
আইটেম রেট করুন
(0 ভোটসমূহ)
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যেমন অভিযান চালিয়ে সাফল্য এসেছে, মাদকের বিরুদ্ধেও তেমন অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখতে র‌্যাবের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদর দপ্তরে র‌্যাবের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ নির্দেশ দেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি র‌্যাবকে অনুরোধ করব, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যেমন আমরা অভিযান চালিয়ে সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি, তেমনি এখন মাদকের বিরুদ্ধেও এই অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘মাদক যারা তৈরি করে, যারা বিক্রি করে, যারা পরিবহন করে এবং যারা সেবন করে সকলেই সমানভাবে দোষী। এটাই মাথায় রাখতে হবে এবং সেভাবেই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা যাতে এর (মাদক) ছোবল থেকে দূরে থাকতে পারে তার ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে বড় বড় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব সফলতা অর্জন করেছে। সে জন্য ধন্যবাদ—আমি চাই এটা অব্যাহত থাকুক।’ র‌্যাবের পাশাপাশি পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সব বাহিনীর পক্ষ থেকে মাদকবিরোধী অভিযানে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম হলেও এই ধর্মের নাম করে কিছু মানুষকে বিভ্রান্তির পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি কোমলমতি ছেলেরা, উচ্চশিক্ষিত, এমনকি যারা যথেষ্ট অর্থশালী, সম্পদশালী পরিবারের সদস্য তারাও এই বিভ্রান্তির বেড়াজালে পড়ে যায়। তাদের ভেতর একটা ধারণা জন্মে যায় যে তারা মানুষ হত্যা করতে পারলেই নাকি একেবারে বেহেস্তে চলে যাবে। এই ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের সম্ভাবনাময় অনেক মেধাবী সন্তানরা বিপথে চলে যাচ্ছিল।’ এই বিপথগামীরা দেশে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল তার বিরুদ্ধে র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিভিন্ন বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জঙ্গি দমনে যে কাজগুলো র‌্যাব করেছে, সেটা আরো অব্যাহত রাখা দরকার। কারণ আমরা এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছি যে বাংলাদেশ হবে একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। কোনোমতেই কোনো ধরনের জঙ্গিবাদকে আমরা প্রশ্রয় দেব না।’ তিনি বলেন, ‘এ জন্য গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা থেকে শুরু করে সশস্ত্র বাহিনী, বর্ডার গার্ড, র‌্যাব সকলে সম্মিলিতভাবে এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে যেন বাংলাদেশকে কখনো কেউ জঙ্গির দেশ, সন্ত্রাসের দেশ এই ধরনের অপপ্রচার না দিতে পারে।’ জঙ্গি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে র‌্যাবের চালানো বিভিন্ন অভিযানের জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সুন্দরবনে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে চালানো অভিযানেরও প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ভেজাল পণ্য, চোরাকারবারি, জাল মুদ্রা ও পাসপোর্ট প্রস্তুতকারী এবং অবৈধ ভিওআইপির কারবারের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান তিনি। দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরে এই ধারা অব্যাহত রাখতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দেন সরকারপ্রধান। এ ক্ষেত্রে র‌্যাবের ভূমিকা মনে করিয়ে দিয়ে এই বাহিনীর বিভিন্ন সফলতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার কথাও তিনি তুলে ধরেন। সন্ত্রাস, জঙ্গি ও চরমপন্থী দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, ভেজাল ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে র‌্যাব অগ্রণী ভূমিকা পালন করে বলে তিনি জানান। দেশের এই ‘এলিট ফোর্সকে’ আধুনিক ও ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব র‌্যাব সদস্য আত্মত্যাগ করেছেন তাঁদের স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে রাজধানীর উত্তরা আশকোনা এলাকায় র‌্যাবের স্থায়ী সদর দপ্তর কমপ্লেক্স নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন শেখ হাসিনা। এর আগে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছলে র‌্যাবের একটি সুসজ্জিত বাহিনী তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। ২০০৪ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে এলিট ফোর্স হিসেবে র‌্যাবের আত্মপ্রকাশ ঘটে। বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের ডেপুটেশনের মাধ্যমে এই বাহিনীতে পদায়ন করা হয়। সূত্র : বাসস
পড়া হয়েছে 47 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শুক্রবার, 04 মে 2018 12:18

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা