04222018রবি
শনিবার, 14 এপ্রিল 2018 09:30

ঋণের সুদ এক অঙ্কে নামাতেই হবে-প্রধানমন্ত্রী

লিখেছেন 
আইটেম রেট করুন
(0 ভোটসমূহ)
নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক ব্যাংকঋণের সুদের হার ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে ব্যাংক মালিকদের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দেশে বিনিয়োগের স্বার্থে সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে অর্থাৎ ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতেই হবে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের পরিবার ও আহতদের গতকাল শুক্রবার আর্থিক সহায়তা দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ওই অনুষ্ঠানে বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১৬৩ কোটি টাকা দেন মালিকরা। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী মালিকদের ঋণের সুদহার কমাতে বলেন। সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসের তথ্য মতে, প্রধানমন্ত্রী ব্যাংক মালিকদের বলেছেন, ‘আমি আপনাদেরকে সুদের হার কমানোর কথা বলতে চাই। না হলে দেশে বিনিয়োগ সম্ভব নয়। এটিকে (ঋণের সুদহার) অবশ্যই সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে হবে।’ এক মাসের মধ্যে সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা গতকাল ব্যাংক মালিকদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আপনাদের উত্থাপিত সব সমস্যার সমাধান করেছি। এখন আপনাদেরকে অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে।’ ঋণের সুদহার এক মাসের মধ্যে সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে দিয়েছিলেন ব্যাংক মালিকরা। তাঁদের ওই প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতেই সরকারি আমানতের ২৫ শতাংশের বদলে ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া মুদ্রানীতিতে ঘোষিত নগদ সংরক্ষণ অনুপাত বা সিআরআর ৬.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫.৫ শতাংশ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বেসরকারি ব্যাংকগুলো প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ফেরত পেয়েছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো এখনো সুদের হার কমাচ্ছে না। গত ১ এপ্রিল সোনারগাঁও হোটেলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পক্ষে এসব সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় বলেছিলেন, ‘ব্যাংক মালিকরা আমাকে কথা দিয়েছেন। এক মাসের মধ্যেই তাঁরা ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনবেন। তাঁরা নিজেরাই এ ঘোষণা দিয়েছেন।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল গণভবনে ২১ আগস্টে নিহত ও আহতদের স্বজনদের মাঝে অনুদানের চেক তুলে দেন। ছবি : বাসস ব্যাংক মালিকরাও ঋণের সুদহার কমে আসবে বলে জানিয়েছিলেন সেদিন। তবে এক মাসের মধ্যে কমবে কি না সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি তাঁরা। ব্যাংকগুলো ‘অন্যায়ভাবে’ ঋণের সুদহার বাড়িয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকঋণের সুদের হার বাড়ার কোনো কারণ নেই। ঋণের সুদহার বাড়ানোটা অন্যায় হয়েছে। নির্বাচনের বছর হওয়ায় যাদের কাছে টাকা আছে, তাদের কেউ কেউ ব্যাংকে টাকা রাখছে না। ঋণের সুদহার হঠাৎ করে ৪ শতাংশ বাড়ার কারণে গত বৃহস্পতিবার সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরামর্শক কমিটির সভায় অর্থমন্ত্রীর সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা। দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘কয়েক মাস আগে ৮, ৯ ও ১০ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়েছি। এখন ব্যাংক থেকে চিঠি দিয়ে বলা হচ্ছে যে ওই ঋণের সুদহার আরো ৪ শতাংশ বাড়াতে হবে। যখন ঋণ নিয়েছি, তখন আমাদের সুদহার ছিল ৪, ৫ বা ৬ শতাংশ। তার সঙ্গে স্প্রেড যুক্ত করে ব্যাংকঋণের সুদহার নির্ধারণ করেছে। তাহলে এখন সেই ঋণের সুদ কোন যুক্তিতে বাড়াচ্ছে ব্যাংকগুলো? ঋণ দেওয়ার পর ব্যাংক কোনো যুক্তিতেই ঋণের সুদহার বাড়াতে পারে না।’ বিষয়টি অর্থমন্ত্রীকে দেখার অনুরোধ করেন তিনি। সিআরআর কমানো এবং সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সিদ্ধান্ত হওয়ার সময় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যাংক মালিকদের প্রতিনিধি হয়ে বৈঠক করেন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ। ব্যবসায়ীরা ঋণের চড়া সুদ নিয়ে সমালোচনা করার পর তিনি বলেন, ‘ব্যাংক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বসেছি। আশা করছি, তারল্য সংকট ও ঋণের সুদহার সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।’ এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর একান্ত চেষ্টায় ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নেমে এসেছিল। কিন্তু এখন ব্যাংকে গিয়ে ব্যবসায়ীরা কোনো ঋণই পাচ্ছেন না। ঋণের সুদহার গত ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ শতাংশ বেড়ে গেছে। ব্যাংক খাতে যে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে, তা রোধ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি বাড়ানো দরকার। না হলে দেশে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টিও বাধাগ্রস্ত হবে।’
পড়া হয়েছে 7 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শনিবার, 14 এপ্রিল 2018 09:34