09212019শনি
বুধবার, 07 ফেব্রুয়ারী 2018 20:26

'ভারসাম্যহীন' তরুণীকে পুলিশের মারধরের ভিডিও ভাইরাল

নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক তরুণীর পরনে লাল-নীল-গোলাপী রঙের পায়জামা ও নীল গেঞ্জি। সঙ্গে বড় একটি কালো ব্যাগ। দিনের বেলায় রাস্তার ওপর তাকে অমানবিকভাবে মারধর করছেন দুই পুলিশ সদস্য। তাদের সহায়তা করছেন এক ট্রাফিক কনস্টেবল। তরুণীকে দেখে 'মানসিক ভারসাম্যহীন' বলে মনে হয়। এমনই একটি ভিডিও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আর ভিডিওটি দেখে তীব্র ক্ষোভ ও ধিক্কার জানিয়েছেন বহু মানুষ। ভিডিওটির সূত্র ধরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গুলিস্তানের অলিম্পিক ভবনের সামনের রাস্তায় বুধবার এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। পরে ওই তরুণীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে নির্যাতনকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান সমকালকে বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির যাতায়াতের সময় বড় একটি ব্যাগ নিয়ে সড়ক বিভাজকে অবস্থান করছিলেন ওই তরুণী। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে সরে যেতে বলা হয়। কিন্তু তিনি সরতে না চাওয়ায় জোর করে তাকে সরিয়ে দেয় পুলিশ। তরুণীকে মারধর করা হয়নি বলেও দাবি করেন পুলিশের এ কর্মকর্তা। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, একজন পুলিশ কর্মকর্তা মেয়েটিকে রাস্তায় ফেলে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করছেন। তার হাতে ওয়াকিটকি, মুখে লম্বা দাড়ি। ওই কর্মকর্তার প্যান্ট আঁকড়ে ধরেছেন তরুণী। বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরা আরেক পুলিশ সদস্য তরুণীকে টেনে-হিঁচড়ে সরানোর চেষ্টা করছেন। কাছেই একটি মুখ খোলা কালো ব্যাগ। তাতে কিছু কাপড় দেখা যাচ্ছে। এ ঘটনার সময় কোথাও থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসছিল। পথচারীদের কেউ সম্ভবত মোবাইল ফোনে ভিডিওটি ধারণ করেন। ভিডিওর শেষ দিকে এক পুলিশ সদস্য তার দিকে তেড়ে যান এবং জিজ্ঞেস করেন, 'এই মিয়া, ব্যাপার কী, আপনার সমস্যা কী?' জবাবে ক্যামেরার পেছনে থাকা ব্যক্তি বলেন, 'আপনারা মারতেছেন, আমি ভিডিও করতেছি।' এরপর পুলিশ সদস্য বলেন, 'এই মিয়া, আপনি কি পাগল নাকি?...যান, যান।' এ পর্যায়ে পুলিশের একাধিক সদস্য ক্ষিপ্ত হয়ে উচ্চকণ্ঠে তাকে বকুনি দেন। ঘটনাস্থলটি ট্রাফিক পুলিশের পূর্ব বিভাগে পড়ে। এই বিভাগের উপ-কমিশনার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান সমকালকে বলেন, সেখানে মূলত পুলিশের প্রো-রক্ষা বিভাগের সদস্যরা ছিলেন, আর ছিলেন ট্রাফিকের একজন কনস্টেবল। তিনি মারধর করেননি। 'পাগলী টাইপ' মেয়েটি সড়ক বিভাজকে শুয়েছিলেন বলেও জানান এ কর্মকর্তা। 'ডেসপারেটলি সিকিং ঢাকা (ডিএসডি)' ও 'ড্রিফট কিং' নামের দুটি ফেসবুক পৃষ্ঠা থেকে মূলত ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওটি অন্তত অর্ধলক্ষবার শেয়ার করা হয়। তবে পরে সন্ধ্যায় দেখা যায়, ড্রিফট কিং পৃষ্ঠাটি আর খুলছে না। নিজেদের টাইমলাইনে যারা ভিডিওটি শেয়ার করেছিলেন, তাদের অনেকেই পরে ভিডিওটি পাননি।
পড়া হয়েছে 316 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বুধবার, 07 ফেব্রুয়ারী 2018 20:29