08232019শুক্র
মঙ্গলবার, 14 মার্চ 2017 23:28

'একুশের' মায়ের সন্ধান মিলেছে!

ফাইল ছবি ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা জন্মের পর শিশুটিকে ফেলে যাওয়া হয় ডাস্টবিনে। সেখান থেকে উদ্ধার করা সেই হতভাগা শিশু 'একুশের' মায়ের খোঁজ পাওয়া গেছে! তার নাম লিপি আক্তার; যিনি নিজেও ১৭ বছরের কিশোরী! নাম জানা গেলেও লিপির ঠিকানা এখনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তবে কোন হাসপাতালে, কীভাবে এ শিশুর জন্ম হয় তার বিস্তারিত উঠে এসেছে পুলিশের তদন্তে। এ ঘটনায় লিপি আক্তারের নাম উল্লেখ করে ঠিকানা অজ্ঞাত দেখিয়ে অবৈধ গর্ভপাত ও একুশকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে একটি মামলা করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম নগরীর কর্নেলহাট এলাকার 'লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের' পাশের ডাস্টবিন থেকে গত ২০ ফেব্রুয়ারি উদ্ধার করা হয় শিশু একুশকে। এর আগের দিন রাত পৌনে ১০টায় এ হাসপাতালে শিশুটির জন্ম দেন লিপি নামের ওই কিশোরী। হাসপাতালের দুই চিকিৎসক, তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। নগরীর আকবর শাহ থানা পুলিশ দুই চিকিৎসক ও 'লাইফ কেয়ার হাসপাতালের' তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় চার ব্যক্তির জবানবন্দি ১৬১ ধারায় রেকর্ড করেছে। এ ঘটনায় উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম চট্টগ্রামের বিশেষ শিশু আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। আগামী ২২ মার্চ পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন ও একুশকে দত্তক নিতে ১২টি আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। আকবর শাহ থানার এসআই নুরুল আলম বলেন, 'শিশু একুশকে যে ডাস্টবিনে পাওয়া গেছে তার পাশের লাইফ কেয়ার হাসপাতালকে কেন্দ্র করে তদন্ত চালানো হয়। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে শিশু একুশের মা ১৭ বছরের কিশোরী লিপি আক্তার। কিন্তু এখনও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা উদ্ধার করা যায়নি।' এ ঘটনায় সোমবার রাতে থানার ওসি আলমগীর মাহমুদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন বলেও জানান এসআই নুরুল আলম। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশু একুশকে যে দিন ডাস্টবিনে পাওয়া যায় তার আগের দিন লিপি আক্তার নামের এক গর্ভবতী কিশোরী লাইফ কেয়ার হাসপাতালে এসেছিলেন। তিনি সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে আলট্রাসনোগ্রাফিও করান। কিন্তু হাসপাতালে লিপি তার পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা দেননি। জন্মের পর শিশুটিকে ডাস্টবিনে ফেলে হাসপাতাল ত্যাগ করেন তিনি। পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় জবানবন্দিতে ডা. মজিবুল হক সিরাজী বলেন, 'নগরীর কর্নেলহাট নুরুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের আলিফ মেডিকেল হলে নিয়মিত রোগী দেখছিলাম। গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে খুব খারাপ অবস্থায় এক গর্ভবতী রোগী আমার কাছে আসেন। তার নাম লিপি আক্তার। বয়স ১৭ বছর বলে জানান। রোগীর খারাপ অবস্থা দেখে তাকে আলট্রাসনোগ্রাফি করতে পরামর্শ দিয়ে পাশের লাইফ কেয়ার সেন্টারে টোকেন দিয়ে পাঠিয়ে দিই। এ সময় রোগীর সঙ্গে দুই নারী ও একজন পুরুষ ছিলেন। রাত সাড়ে ৯টায় আলট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্টে ইনকমপ্লাইট অ্যাবরশন (Incomplite Abortion) দেখতে পাই। এর কিছু পর আর সেই রোগীকে হাসপাতালে দেখতে পাইনি।' লাইফ কেয়ারের আরেক চিকিৎসক ডা. সরোয়ার কামাল পাশা জবানবন্দিতে বলেন, 'ডা. মজিবুল হক সিরাজী গুরুতর অসুস্থ এক মহিলা রোগীকে আলট্রাসনোগ্রাফি করতে লাইফ কেয়ার হাসপাতালে পাঠান। লিপি আক্তার নামের ওই রোগীকে আলট্রাসনোগ্রাফি করানো হয়। কিন্তু এর আগে রোগী একটি কক্ষে ও বাথরুমে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেছিলেন। এ সময় রোগী তার নবজাতককে জানালা দিয়ে হাসপাতালের বাইরে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে থাকতে পারেন।' তিনি আরও বলেন, 'প্রেসক্রিপশনে শুধু রোগীর নাম লিপি আক্তার, বয়স ১৭ বছর লেখা ছিল। তাদের ফোন নম্বর চাইলে তারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না বলে রিসেপশনে জানান।' দুই চিকিৎসক ছাড়াও হাসপাতালের রিসেপশনিস্ট নাহিদা আক্তার, পিয়ন সাগর চন্দ্র নাথ, মার্কেটিং কর্মকর্তা মিনহাজুল আবেদীন, স্থানীয় মনোয়ারুল আলম চৌধুরী নোবেল, শাহ আলম মমিন চৌধুরী, আবু তৈয়ব, সাব্বিরুল আলম চৌধুরীর জবানবন্দি ১৬১ ধারায় রেকর্ড করেছে পুলিশ। এদিকে, শিশু একুশকে দত্তক দেওয়ার কথা বলে আদালতপাড়ায় প্রতারণা শুরু করেছে একটি চক্র। চক্রটি নিঃসন্তান দম্পতিদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিশু আদালতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোর্ট পুলিশের এএসআই (জিআরও) মো. মনির জানান, 'শিশু একুশকে দত্তক পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অনেকে অর্থ লেনদেন করছেন বলে তথ্য পাচ্ছি। শুনানির সময় বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হবে।' এসআই সাইফ উদ্দিন বলেন, 'একটি প্রতারক চক্র একুশকে নিয়ে বাণিজ্য শুরু করেছে। তাই নিষ্পাপ শিশুটিকে দত্তক নিতে নিজেই আবেদন করেছি।'
পড়া হয়েছে 443 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, 16 মার্চ 2017 08:53