12092019সোম
সোমবার, 29 সেপ্টেম্বর 2014 08:06

কোরবানির পশুতে পথে পথে চাঁদাবাজি

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বন্দরনগরীতে শনিবার পশুরহাট বসতে শুরু করেছে। নগরীর ছয়টি অস্থায়ী ও দু’টি স্থায়ী হাটে প্রচুর পশুর সমারোহ ঘটিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে প্রথম দু’দিনে বেচাকেনা তেমন হয়নি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে বাজার জমে উঠবে সেইসাথে পশুর আমদানিও বাড়বে। এবছর কোরবানির হাটে পশুর কোনো সঙ্কট হবে না বলে তারা আশাবাদী।
তবে পশু সঙ্কটের আশঙ্কা না থাকলেও পথে পথে চাঁদাবাজি এবং বাজারগুলোতে নিয়ন্ত্রণহীন ‘খুঁটি বাণিজ্যের’ কারণে এবার গরু-ছাগলের দাম ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আসা গরু ব্যবসায়ীরা ইত্তেফাকের কাছে অভিযোগ করেন, পথে পথে চাঁদাবাজি এবং নগরীর বিভিন্ন হাটে ‘খুঁটির ভাড়া’ আগের তুলনায় এবার অনেক বেড়ে যাওয়ায় কোরবানির পশুর দামের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গরু নিয়ে আসার সময় মহাসড়কগুলোতে দফা দফায় চাঁদা দিতে হয়। নগরীতে প্রবেশের পরও চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। দূর-দূরান্ত থেকে আনা গরু জোর করে নিজেদের হাটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ওত পেতে থাকা ইজারাদারদের এজেন্ট ও সন্ত্রাসীরা। গরু ব্যবসায়ীরা যেতে না চাইলে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। নগরীর সিটি গেট, ফকিরহাট, কর্নেল হাট, একে খান মোড়, অলঙ্কার মোড়, সিমেন্ট ক্রসিং, ইপিজেড মোড়, জিইসি মোড়সহ কয়েকটি স্থানে সংঘবদ্ধ চক্রকে চাঁদা দিতে হচ্ছে গরু ব্যবসায়ীদের। চক্রটির সাথে বাজারের ইজারাদারদের যোগসাজশ রয়েছে। নিজেদের বাজারে গরু ব্যবসায়ীদের নিয়ে যেতে পারলে ঐ চক্রটিকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দেন ইজারাদাররা। প্রতিটি গরুর জন্য ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত জোর করে আদায় করা হচ্ছে।
অন্যদিকে এবছর বিভিন্ন হাটে গরুর খুঁটির (স্থানীয় ভাষায় ‘খাইন’) ভাড়াও আগের তুলনায় অনেক বাড়ানো হয়েছে। একেকটি খাইনে ৯ থেকে ১৫টি গরু রাখা যায়। প্রতিটি খাইনের জন্য ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। এই হারে প্রতিটি গরু হাটে রাখার খরচই পড়ছে গড়ে কমপক্ষে চার হাজার টাকা। চাঁদাবাজি ও খুঁটির অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে গরুর দাম এবছর কোথায় গিয়ে ঠেকে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা। কর্ণফুলী গরু বাজারের ইজারাদার মো. আবদুর রহিম সওদাগর বলেন, অলঙ্কার ও সিটি গেট এলাকায় গরু ব্যবসায়ীদের জোর করে অন্য বাজারে নিয়ে যাচ্ছে। যেতে না চাইলে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। অথচ নিয়মানুযায়ী গরু ব্যবসায়ীদের যে কোনো বাজারে যাওয়ার অধিকার আছে। পথে পথে চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গরু ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছে এ অভিযোগ করেছেন।  আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
একই অভিযোগ করেছেন স্টিল মিল বাজারের ইজারাদার মো. ইকবাল। তিনি বলেন, সিমেন্ট ক্রসিং এবং ইপিজেড এলাকায় জোর করে গরু ব্যবসায়ীদের অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া পতেঙ্গা বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে এবং নাজিরপাড়ায় স্থানীয় কিছু লোক বাজার বসানোর জন্য খুঁটি গেড়েছে। এসব বিষয়ে আমরা চসিকে অভিযোগও দিয়েছি। গরু ব্যবসায়ীরা বলেন, চাঁদাবাজদের উৎপাত এবং খাইনের দাম নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে গরুর দাম বাড়ানো ছাড়া তাদের আর উপায় থাকবে না।
গত শনিবার থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন নগরীর অস্থায়ী ছয়টি ও স্থায়ী দু’টি হাটে পশু কেনাবেচা শুরু হয়েছে। অস্থায়ী হাটগুলো হচ্ছে কর্ণফুলী গরুর বাজার (নূর নগর হাউজিং), সল্টগোলা রেলক্রসিং সংলগ্ন বাজার, স্টিলমিল বাজার, কমল মহাজন হাট, পতেঙ্গা সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ (কাঠগড়) এবং পোস্তার পাড় স্কুল মাঠের অস্থায়ী ছাগল বাজার। নগরীর স্থায়ী পশুর হাট সাগরিকা বাজার এবং বিবিরহাটে বেচাকেনা শুরু হয়েছে।

পড়া হয়েছে 1018 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: সোমবার, 29 সেপ্টেম্বর 2014 08:26