11152019শুক্র
মঙ্গলবার, 26 ফেব্রুয়ারী 2019 19:00

প্রযুক্তির অপরাধ ঠেকাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশের বিচার বিভাগ পর্যাক্রমে ই-জুডিশিয়ারির সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে। তবে এই প্রযুক্তির অপরাধ ঠেকাতে এবং সাইবার ক্রাইম মোকাবিলা করার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে।’ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের সলিসিটর ভবনে ই-ফাইলিং সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বিচার বিভাগের আসল উদ্দেশ্য হলো বিচারপ্রার্থী জনগণের কাছে তড়িৎ বিচার পৌঁছে দেওয়া। আমরা যদি তা না পারি কিংবা সুষ্ঠু বিচার করতে না পারি তাহলে সেটা হবে বিচার বিভাগের ব্যর্থতা। এটি হলে জনগণ বিচার বিভাগের কাছে আসবে না এবং স্ট্রিট জাস্টিস প্রথা চালু হয়ে যাবে। তিনি বলেন, যেটা জিয়াউর রহমান, এরশাদ এবং খালেদা জিয়ার আমলে চালু হয়েছিল। কারণ ওনারা বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের ব্যাপারে একটি এফআইআরও করতে দেননি। আনিসুল হক বলেন, ‘প্রযুক্তির সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়, সলিসিটর আজ সংযুক্ত হলো। এই প্রযুক্তির সঙ্গে যদি আমরা সংযুক্ত না হতাম তাহলে কিন্তু পিছিয়ে থাকতাম। পিছিয়ে থাকলে বিচার প্রার্থীদের কাছে তরিৎ বিচার পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হতো না। সুষ্ঠু বিচার যদি আমরা পৌঁছে দিতে না পারি, তাহলে সেটা হবে বিচার বিভাগের ব্যর্থতা। আর এতে জনগণ বিচার বিভাগের কাছে আসবে না।’ আইন মন্ত্রণালয় ও বিচার বিভাগের ওপর ন্যায় বিচার নির্ভর করে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ই-জুডিশিয়ারির একটা ধাপ ই-ফাইলিং চালু হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় খুব ধীর গতিতে এই প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে এই কারণে যে আইনের বিষয়গুলি সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে পারব কি না সেটা আগে আমাদের শিখতে হবে। আমাদের হয়তো কিছুটা সময় লাগবে। আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগুচ্ছি।’ আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশের বিচার বিভাগ পর্যাক্রমে ই জুডিশিয়ারি সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে। তবে এই প্রযুক্তির কিছু বিড়ম্বনাও আছে। সেই কারণে আমাদেরকে সতর্কতার সঙ্গে এগুতে হবে। যেমন হ্যাকিং। এসব সাইবার ক্রাইম মোকাবিলা করার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি করা হয়েছে।’ আগামী এক মাসের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও সলিসিটর অফিস সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানান। এর আগে আইনমন্ত্রী ই-ফাইলিং পদ্ধতি উদ্বোধন করেন। এর আগে গতকাল সকালে সচিবালয়ে নিউইয়র্ক স্টেট গভর্নরের ২৫ সেপ্টেম্বরকে ‘বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ডে’-এর ঘোষণাপত্র হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ১০০ শতাংশ সরকারি আইন কর্মকর্তা (পিপি/ জিপি) নিয়োগ করা হয় রাজনৈতিক কোটায়। সরকার প্রাথমিকভাবে ৩০ শতাংশ আইন কর্মকর্তা বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগের চিন্তাভাবনা করছে। বাকি ৭০ শতাংশ নিয়োগ করা হবে রাজনৈতিক কোটায়। তিনি বলেন, ‘জিপি/পিপিদের বেতন ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবটি সক্রিয় বিবেচনায় আছে। আশা করছি আগামী ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের ১ জুলাই থেকে তা কার্যকর হবে। এজন্য বাড়তি ২৬৭ কোটি টাকা লাগবে। অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘প্রযুক্তির ব্যবহারে অনেক কিছুই পাল্টে গেছে। বিচার বিভাগেও দুর্নীতি আছে এটা সাংবাদিকরা ও বিভিন্ন এনজিওরা বলে থাকে। আমিও বলি। দুর্নীতির রোগ আছে এটা লুকিয়ে লাভ নেই। এই দুর্নীতির রোগ কীভাবে মুক্তি পাবে, সেই চেষ্টা করতে হবে। আজকে যে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে সেটা হলো এই রোগমুক্তির প্রাথমিক পদক্ষেপ।’ অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এই প্রযুক্তির ফলে ফাইল লুকিয়ে রাখা, ফাইল গায়েব করার হাত থেকে আমরা হয়তো মুক্তি পাব। আরেকটা জিনিস হলো জবাবদিহিতা। কার কাছে ফাইলটা গেল, কে কী কাজ করলেন, এটাও ভবিষ্যতে দেখা হবে। এই যে প্রযুক্তির যুগে আমরা প্রবেশ করেছি। এটা সম্ভব হয়েছে এই সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির জন্য।’ অ্যাটর্নি জেনারেল আরো বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে এটি অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসসহ অন্যান্য জুডিশিয়াল অফিসেও চালু হবে। সব থেকে বড় কথা হলো প্রতারণা করে অনেকেই জামিন নিয়ে যায়। হাইকোর্টে জজ সাহেবরা স্বাক্ষর করেন নাই অথচ তার সার্টিফাইট কপি দেখিয়ে জামিন নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে যদি সবখানে ই-ফাইলিং পদ্ধতি চালু হয়ে যায় তাহলে জালিয়াতি করতে পারবে না। এর ফলে গণতান্ত্রিক হবে আমাদের বিচার বিভাগ। অনেক স্বচ্ছতা আসবে।’ এ সময় তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসসহ সলিসিটর ভবনটি সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত আনার জন্য আইনমন্ত্রীকে বলেন। আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন সলিসিটর জেসমিন আরা, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব প্রমুখ।
পড়া হয়েছে 203 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: মঙ্গলবার, 26 ফেব্রুয়ারী 2019 19:06